প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪১) : ওযূর সময় কথা বলা যাবে কি? ওযূ করার সময় কথা বললে মাথার উপরে রহমতের চাদর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরেশতারা চলে যায়। একথার কোন ভিত্তি আছে কি?

-সোহেল খান, মুরাদনগর, কুমিল্লা।

উত্তর :  ওযূর সময় প্রয়োজনীয় কথা বলায় কোন দোষ নেই। রাসূল (ছাঃ) ওযূর সময় প্রয়োজনীয় কথা বলেছেন (বুখারী হা/৫৭৯৯, মুসলিম হা/২৭৪)। ওছমান (রাঃ) হ’তে মারফূ‘ সূত্রে ‘ওযূ করার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকলে, উভয় ওযূর মাঝে সংঘটিত ছগীরা গোনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি অত্যন্ত যঈফ (তাহকীক সুনান দারাকুৎনী হা/৩০১, ৩০৪)। এছাড়া ফেরেশতারা চলে যায় একথার কোন ভিত্তি নেই।

প্রশ্ন (২/৪২) : মহিলাদের ব্যাপারে হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হ’ল মাহরাম থাকা। এক্ষণে কোন মহিলা তার ছোট বোন ও ছোট বোনের স্বামীর সাথে হজ্জ পালন করতে পারবে কি?

-মুহাম্মাদ হারূনুর রশীদ

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, চট্টগ্রাম।

উত্তর : সফরের জন্য মহিলাদের সাথে মাহরাম পুরুষ থাকা শর্ত (বুখারী হা/১৮৬২)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) বলেন, মাহরাম ব্যতীত কোন নারী হজ্জ করবে না (বাযযার, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০৬৫)। বোনের স্বামী মাহরাম নয়। অতএব বোন থাকা সত্ত্বেও বোনের স্বামীর তত্ত্বাবধানে হজ্জে গমন করা যাবে না (মাজমূ‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ২১/১৯০)

প্রশ্ন (৩/৪৩) : পিতার অবর্তমানে বড় ভাই পিতার সমতুল্য। এ মর্মে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়েছে কি?

-আবু আমাতুল্লাহ

মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৩৭০)। তবে বড় ভাই অবশ্যই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের মর্যাদা বুঝে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (আবুদাঊদ হা/৪৯৩৯, তিরমিযী হা/১৯২০)

প্রশ্ন (৪/৪৪) : ঈদের ছালাতে ছানা পড়তে হবে কি? যদি পড়তে হয় তবে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো ছানা পাঠের আগে না পরে দিতে হবে?

-আবুল কালাম, সিলেট।

উত্তর : ছানা পড়তে হবে এবং তা তাকবীরে তাহরীমার পর ও অতিরিক্ত তাকবীরের পূর্বে পাঠ করবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন কোন ছালাত আরম্ভ করতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমার পর দো‘আয়ে ইস্তিফতাহ বা ছানা পড়তেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৮১৩, ‘তাকবীরে তাহরীমার পরে পাঠ্য’ অনুচ্ছেদ)। ঈদের ছালাতেও অনুরূপভাবে প্রথম তাকবীরের পর ছানা পাঠ করতে হবে (ইবনু কুদামা, মুগনী, মাসআলা নং ১৪১৬; নববী, আল-মাজমূ‘ ৫/২০; ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/২৪০)

প্রশ্ন (৫/৪৫) : নির্দিষ্ট বছরে হজ্জের নিয়ত করার পর কোন কারণবশতঃ সে বছর তা আদায় করতে না পারলে গোনাহ হবে কি? বা এর জন্য কোন কাফফারা দিতে হবে কি?

-রিফাত হাসান, সঊদী আরব।

উত্তর : শারঈ ওযরবশতঃ বিলম্ব করলে গোনাহ হবে না এবং এর জন্য কোন কাফফারাও দিতে হবে না। তবে যাদের উপর হজ্জ ফরয হয়েছে, তাদের বিলম্ব করা মোটেই ঠিক নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে, সে যেন তা দ্রুত সম্পন্ন করে’ (আবুদাঊদ হা/১৭৩২, মিশকাত হা/২৫২৩ ‘মানাসিক’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (৬/৪৬) : আমার স্বামী স্বেচ্ছায় আমার নামে কিছু জমি লিখে দিয়েছিল। এখন তার নিজ নামে নির্মিতব্য একটি বাড়ির নির্মাণ ব্যয় নির্বাহের জন্য উক্ত জমিটি আমার নিকট থেকে ফেরত নিয়ে বিক্রি করতে চাচ্ছে। এভাবে ফেরত নেওয়া কি তার জন্য ঠিক হবে? আর আমি যদি না দেই সেক্ষেত্রে আমি গোনাহগার হব কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা।

উত্তর : স্বামীর জন্য জোর করে জমি ফেরত নেওয়া যাবে না এবং ফেরত না দিলে স্ত্রী গোনাহগার হবে না। কারণ এটা স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর জন্য হাদিয়া স্বরূপ। আর হাদিয়া ফেরত নেওয়া শরী‘আত সম্মত নয়।রাসূল (ছাঃ) বলেন, পিতা তার সন্তানকে প্রদত্ত দান ফেরত নিতে পারেন। কিন্তু অন্যান্যদের ক্ষেত্রে দান করে ফেরত নেওয়া বমি করে বমি খাওয়ার ন্যায় (আবুদাঊদ হা/৩৫৩৯; মিশকাত হা/৩০২১)। তবে পরিবারের কল্যাণার্থে যদি স্বামী এরূপ উদ্যোগ নিয়ে থাকেন এবং স্বামীর জন্য এ ব্যতীত অন্য কোন উপায় না থাকে, তাহ’লে স্ত্রীর জন্য স্বেচ্ছায় তা বিক্রয়ের জন্য প্রদান করায় কোন দোষ নেই।

প্রশ্ন (৭/৪৭) : জনৈক বক্তা বলেন, এক বালতি গরুর পেশাবে চাদর ভিজিয়ে তা গায়ে দিয়ে ছালাত আদায় করলে ছালাত হয়ে যাবে। একথার কোন সত্যতা আছে কি?

-হাসান হাফীয, আশুলিয়া, ঢাকা।

উত্তর : এভাবে বলা ঠিক হয়নি। তবে যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল, সেসব প্রাণীর পেশাব-পায়খানা পবিত্র। সেটা কাপড়ে লাগলে উক্ত কাপড়ে ছালাত আদায় করা জায়েয। রাসূল (ছাঃ) নিজে ছাগল বাঁধার স্থানে ছালাত আদায় করেছেন এবং অন্যদের অনুমতি দিয়েছেন (বুখারী হা/২৩৪, মুসলিম হা/৩৬০, ৫২৪)। এছাড়া তিনি উটের পেশাব পানের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন (তিরমিযী হা/১৮৪৫)। অন্যদিকে হারাম বস্ত্ত দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন (ছহীহুল জামে‘ হা/১৭৬২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৬৩৩)। অর্থাৎ উটের পেশাব হালাল হওয়ার কারণেই রাসূল (ছাঃ) তা পান করার অনুমিত দিয়েছেন। প্রশ্নে বর্ণিত বক্তব্য দ্বারা উদাহরণ পেশ করা হয়েছে মাত্র। এর অর্থ এটা নয় যে, গরু-ছাগলের পেশাবে কাপড় ডুবিয়ে তা গায়ে দিতে হবে। কেননা এটা রুচি বিরোধী। আল্লাহ বলেন, তোমরা ছালাতের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর’ (আ‘রাফ ৭/৩১)

প্রশ্ন (৮/৪৮) : আমরা জানি যে, আল্লাহ তা‘আলা ১৮ হাযার মাখলূকাত সৃষ্টি করেছেন। একথার কোন দলীল আছে কি?

-মুহসিন হোসাইন, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

উত্তর : মাখলূক্বাতের কোন পরিসংখ্যান কুরআন ও হাদীছে নেই। তবে সালাফে ছালেহীন এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত পেশ করেছেন। যেমন মুক্বাতিল বলেন, মাখলূক্বাতের সংখ্যা ৮০ হাযার। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর মতে ৪০ হাযার, ওয়াহাব বিন মুনাবিবহ (রহঃ)-এর মতে ১৮ হাযার প্রভৃতি। কা‘ব আল-আহবারের মতে, আল্লাহর সৃষ্টির কোন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই (ইবনু কাছীর ১/২৬, তাফসীর সূরা ফাতেহা ‘রববুল আলামীন’-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। মূলতঃ উক্ত বর্ণনাগুলি থেকে অধিক সংখ্যক মাখলূক্বাতের কথাই বুঝানো হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ রববুল আলামীন যে নে‘মত দান করেছেন তা তোমরা গণনা করে শেষ করতে পারবে না’ (নাহল ১৬/১৮)। অতএব মাখলূক্বাতের সংখ্যা আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।

প্রশ্ন (৯/৪৯) : মসজিদে জুম‘আর ছালাতের আগে বা পরে মুছল্লীদের জানার স্বার্থে ইমামের নেতৃত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মাহবূবুর রহমান

ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : ছালাতের পূর্বে এরূপ আয়োজন করা যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর দিন ছালাতের পূর্বে মসজিদে খুৎবা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে একত্রিত হ’তে নিষেধ করেছেন (আবুদাঊদ হা/১০৭৯, ছহীহুল জামে‘ হা/৬৮৮৫, সনদ হাসান)। তবে ছালাতের পরে কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (১০/৫০) : সরকারী চাকুরীতে বাধ্যতামূলকভাবে জিপি ফান্ডে বেতনের একটি অংশ জমা করতে হয় এবং প্রতিবছর সরকার জমাকৃত টাকার সাথে ১২.৫% হারে জমা করে। এক্ষণে সরকার প্রদত্ত অংশটি কি সূদ হিসাবে গণ্য হবে?

-সুজা সরকার

গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

উত্তর : জিপি ফান্ডে জমাকৃত টাকার অতিরিক্ত অংশটি সূদ হিসাবে গণ্য হবে। কেননা সরকার বাৎসরিক জমাকৃত টাকার উপরে চক্রবৃদ্ধিহারে সূদ হিসাবে প্রদান করে থাকে।  অতএব সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বেতনের যে অংশ প্রতি মাসে কেটে নেওয়া হয়, চাকুরী শেষে সেটুকু ব্যতীত অতিরিক্ত গ্রহণ করা জায়েয হবে না। তবে অতিরিক্ত এ অংশটি আলাদা করে নেকীর আশা ব্যতীত সমাজকল্যাণে ব্যয় করা যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘হারাম রূযী দ্বারা পরিপুষ্ট দেহ কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২৭৮৭; ছহীহাহ হা/২৬০৯)

প্রশ্ন (১১/৫১) : বেলাল (রাঃ) আযান দেওয়ার সময় ‘শীন’-কে ‘সীন’ উচ্চারণ করায় কারু আপত্তির জবাবে রাসূল (ছাঃ) বলেন, إن سين بلال عند الله شين  ‘বেলালের সীন উচ্চারণই আল্লাহর নিকটে শীন। এ ঘটনার সত্যতা জানতে চাই।

-আব্দুর রহমান, রাজশাহী।

উত্তর : এটি মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কথা মাত্র। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, ঘটনাটির কোন ভিত্তি নেই (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৭/১০২)। ‘আজলূনীও তাই বলেছেন (কাশফুল খাফা ‘আম্মাশতাহারা মিনাল আহাদীছ ফী আলসিনাতিন নাস হা/১৫২০)। এছাড়া মোল্লা আলী ক্বারী, ‘আমেরী, মুহাম্মাদ তারাবলেসী, আলী হারাবী, সাখাবী সহ বহু মুহাদ্দিছ তাদের মওযূ‘আত তথা জাল হাদীছের সংকলন গ্রন্থসমূহে বর্ণনাটি সংকলন করেছেন।

প্রশ্ন (১২/৫২) : স্ত্রীর জীবদ্দশায় যদি স্বামী মোহরানা পরিশোধ না করেন, তাহ’লে তার মৃত্যুর পর তা পরিশোধ করতে হবে কি?

-হালীমা খাতুন, কাটিয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : স্বামীর জন্য ফরয কর্তব্য হ’ল স্ত্রীর জীবদ্দশায় মোহরানা পরিশোধ করা (নিসা ৪, মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৪৩)। জীবদ্দশায় তা পরিশোধ করা না হ’লে মৃত্যুর পর স্ত্রীর ওয়ারিছদের মধ্যে মোহরানার অর্থ বণ্টন করে দিতে হবে। অতঃপর স্বামী অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অজ্ঞতাবশে কোন মন্দ কাজ করে, অতঃপর যদি সে তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে তিনি (তার ব্যাপারে) ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (আন’আম ৬/৫৪)

প্রশ্ন (১৩/৫৩) : জুম‘আর ছালাতের খুৎবা শুরুর পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করার পর আযান শুরু হয়ে গেলে আযান শোনা ও তার জবাব দেওয়া যরূরী, নাকি আযান চলাকালীন অবস্থায় সুন্নাত ছালাত আদায়ই যরূরী হবে?

-আব্দুস সালাম

দাম্মাম, সঊদী আরব।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা যখন আযান শুনবে, তখন মুওয়াযযিন যা বলে তোমরাও তা বল’ (বুখারী হা/৬১১; মুসলিম হা/৩৮৩)। অতএব আযানের জবাব দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে সংক্ষেপে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করার পর বসে খুৎবা শ্রবণ করাই উত্তম হবে (ইবনু কুদামা, মুগনী ১/৩১১)। আদবের স্বার্থে উক্ত ছালাত খত্বীবের সামনে না পড়ে বারান্দায় পড়ে ভিতরে গিয়ে বসা ভাল হবে।

প্রশ্ন (১৪/৫৪) : আমাদের এলাকার ইমাম ছাহেব একই বৈঠকে জনৈক ব্যক্তিকে দিয়ে তার স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করান। অতঃপর ঐ বৈঠকেই উক্ত মহিলাকে অপর এক পুরুষের সাথে বিবাহ দেন। উক্ত তালাক ও বিবাহ সঠিক হয়েছে কি?

-ডা. মনছূর আলী

ফুলতলা, পঞ্চগড়।

উত্তর : উক্ত তালাক ও বিবাহ দু’টিই শরী‘আতের দৃষ্টিতে অবৈধ হয়েছে। প্রথমতঃ একসাথে তিন তালাক দিলে সেটি এক তালাক হিসাবে গণ্য হবে (মুসলিম হা/১৪৭২-৭৩; আবুদাঊদ হা/২১৯৬, সনদ হাসান)। কেননা তালাকের সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে পৃথক পৃথকভাবে তিন তুহুরে তিনবার তালাক দেওয়া (বাক্বারাহ ২/২২৯তালাক্ব ৬৫/১-২)। দ্বিতীয়তঃ সঠিকভাবে তালাক সম্পন্নের পর ইদ্দত শেষে উক্ত মহিলা অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে (বাক্বারাহ ২/২২৮)। ইদ্দতের মধ্যে বিবাহের কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্ন (১৫/৫৫) : জন্মগতভাবে হিজড়াদের ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি? তারা শরী‘আত অনুযায়ী সকল বিধি-বিধান মেনে চললে কি তারা জান্নাতে যেতে পারবে?

-মনছূর আলী

রাজগড়, দঃ চবিবশ পরাগণা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : জন্মগত হিজড়ারা যদি বিবেকসম্পন্ন হয়, তাহ’লে তাদের উপরে ইসলামের বিধি-বিধান অপরিহার্য। তা পালন করলে তারাও জান্নাতে যাবে ইনশাআল্লাহ। তাই সমাজের একজন সদস্য হিসাবে তাদেরকে ইসলামী জীবন যাপন করতে হবে। লজ্জাস্থান ও শারীরিক গঠন বিবেচনায় তার উপর নারী বা পুরুষের বিধান প্রযোজ্য হবে। আলী (রাঃ) এই বিবেচনাতেই তাদের জন্য সম্পদের অংশ নির্ধারণ করতেন (ইবনু হাজার, তালখীছুল হাবীর হা/১৭২, সনদ ছহীহ)। স্মর্তব্য যে, জন্মগতভাবে হিজড়াদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা অনুচিত। বরং চিকিৎসার মাধ্যমে তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ নারী বা পুরুষে পরিণত করা যেতে পারে।

প্রশ্ন (১৬/৫৬) : ইয়াজূজ-মাজূজ কারা? এদের উৎপত্তি কোথায়? কিয়ামতের কতদিন পূর্বে এরা বের হবে এবং কি কি করবে? কিভাবে এরা ধ্বংস হবে?

-ছালাহুদ্দীন তুহীন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

উত্তর : ইয়াজূজ-মাজূজ পৃথক কোন সম্প্রদায় নয়, বরং তারা আদম (আঃ)-এর বংশধর (বুখারী হা/৪৭৪১ মুসলিম হা/২২২)। মানুষের ঈমান পরীক্ষা করার জন্য এদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা পৃথিবীতে কখন ও কিভাবে আগমন করেছে, এ বিষয়ে বিদ্বানদের মাঝে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তবে তারা অবশ্যই আদম সন্তান ছিল এবং হযরত নূহ (আঃ)-এর পরে পৃথিবীতে তাদের আগমন­ ঘটেছিল (ফাৎহুল বারী ১৩/১৩১ পৃঃ; ‘ইয়াজূজ মাজূজ’ অধ্যায়)। বর্তমানে যুলক্বারনাইন নির্মিত প্রাচীর দ্বারা তারা আবেষ্টিত রয়েছে (কাহফ ১৮/৯৪-৯৮)

এ দু’জাতির বেরিয়ে আসাটা ক্বিয়ামতের দশটি বড় আলামতের একটি (মুসলিম হা/২৮৮০; তিরমিযী হা/২১৮৩; আবুদাউদ হা/৪৩১১)। ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে তাদের বংশধররা আল্লাহর হুকুমে প্রাচীর ভেঙ্গে বেরিয়ে আসবে। তারা সামনে যা পাবে সব খেয়ে ফেলবে। তাদের সাথে কেউ লড়াই করতে সাহস পাবে না। তারা বহু লোককে হত্যা করবে। সমুদ্রের পানি পান করে শেষ করবে। এক সময় বায়তুল মুক্বাদ্দাসের এক পাহাড়ে উঠে তারা হুংকার দিয়ে বলবে, দুনিয়াতে যারা ছিল সব শেষ করেছি, এখন আসমানে যারা আছে তাদের শেষ করব। এই বলে তারা আকাশে তীর ছুঁড়তে থাকবে। আল্লাহ তাদের তীরে রক্ত মাখিয়ে ফেরত পাঠাবেন। এক সময় ঈসা (আঃ) তাদের জন্য বদদো‘আ করবেন। তাতে তারা সবাই একযোগে মারা পড়বে ও লাশ সমূহ পচে দুর্গন্ধ হবে। আল্লাহ তখন শকুন পাঠাবেন। তারা লাশগুলিকে ‘নাহবাল’ নামক স্থানে নিক্ষেপ করবে। মুসলমানেরা তাদের তীর-ধনুকগুলি সাত বছর ধরে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৭৫)

প্রশ্ন (১৭/৫৭) : আমরা আলেমদের নিকটে শুনেছি যে, ছিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতি হ’লে তা ফিৎরা আদায়ের মাধ্যমে কাফফারা হয়ে যায়। এক্ষণে শিশুরা ছিয়াম পালন না করলেও তাদের জন্য ফিৎরা আদায়ের আবশ্যকতার কারণ কি?

-রবীউল ইসলাম

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : ছিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ফিৎরা যে কাফফারা তা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন (আবুদাঊদ মিশকাত হা/১৮১৭)। আর ছোট-বড় সকল মুসলিমকে ফিৎরা দিতে হবে এ কথাও রাসূল (ছাঃ) বলেছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৮১৫)। আলী (রাঃ) বলেন, ‘যদি দ্বীন মানুষের রায় অনুযায়ী হ’ত, তাহ’লে মোযার নীচে মাসাহ করা অধিক উত্তম হ’ত উপরে মাসাহ করার চাইতে’ (আবুদাঊদ হা/১৬২, সনদ ছহীহ)। অতএব যুক্তি নয় বরং রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ অনুসরণের মধ্যেই পরকালীন মুক্তি নিহিত।

প্রশ্ন (১৮/৫৮) : পুরুষের পক্ষ থেকে কোন নারী বদলী হজ্জ পালন করতে পারবে কি?

-সিরাজুম মুনীরা, রাজশাহী।

উত্তর : মুসলিম নারী যেকোন মুসলিম পুরুষের পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারে। বিদায় হজ্জের সময় খাছ‘আম গোত্রের জনৈক মহিলা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে তার অতি বৃদ্ধ পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৫১১)। তবে ঐ মহিলার সাথে মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে।

প্রশ্ন (১৯/৫৯) : সরকারী চাকুরীর বয়স কম হওয়ায় ভবিষ্যতে চাকুরীর সময়কাল বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য সার্টিফিকেটে বয়স কম দেখানোয় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? অনিচ্ছাকৃত বা না জানার কারণে এরূপ হয়ে গেলে তার জন্য করণীয় কি?

-আযীয মিঞা, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : এরূপ কাজ শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ এটি প্রতারণা এবং মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত, যা নিঃসন্দেহে হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তিু প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয় (মুসলিম হা/১০১; মিশকাত হা/৩৫২০)। এক্ষণে এরূপ কাজ করে থাকলে এবং তা পরিবর্তন করা সম্ভব না হ’লে, এজন্য আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

প্রশ্ন (২০/৬০) : জাওনিয়ার সাথে রাসূল (ছাঃ)-এর বিবাহ হয়েছিল কি? তিনি কেন তাকে তালাক দিয়েছিলেন?

-ড. আব্দুল হান্নান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।

উত্তর : জাওনিয়ার  (الجونية)  সাথে রাসূল (ছাঃ)-এর বিবাহ ও তালাকের ব্যাপারে আয়েশা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীছটিই যথেষ্ট। যেখানে তিনি বলেন, জাওনের কন্যাকে যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট (একটি ঘরে) পাঠানো হ’ল। আর তিনি তার নিকটবর্তী হ’লেন, তখন সে বলল, আমি আপনার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি তো মহান সত্তার কাছে পানাহ চেয়েছ। অতএব তুমি তোমার পরিবারের সাথে মিলিত হও (বুখারী হা/৫২৫৪)। অতএব জাওনিয়া বিবাহের পর রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে বসবাসে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তাকে তালাক প্রদান করেন (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : ফাৎহুলবারী, উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা)

প্রশ্ন (২১/৬১) : সুৎরাবিহীন অবস্থায় একজন মুছল্লীর কতটুকু সামনে দিয়ে অতিক্রম করা যাবে?

-রিফাত, বাগিচাগাঁও, কুমিল্লা।

উত্তর : উক্ত অবস্থায় যরূরী প্রয়োজনে মুছল্লীর সিজদার স্থানের বাহির দিয়ে অতিক্রম করা যাবে (বুখারী হা/৫০৯, মুসলিম হা/৫০৫)। উক্ত হাদীছে بين يدي المصلي  দ্বারা মুছল্লীর সিজদার স্থান পর্যন্ত বুঝানো হয়েছে (ইবনু হাজার, ফৎহুলবারী ঐ হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রঃ; ফাতাওয়া ওছায়মীন, মাসআলা নং ৬২৪)। মসজিদ ছাড়া অন্যত্র একাকী ছালাত আদায়কারী মুছল্লী সামনে সুতরা রেখে ছালাত আদায় করবেন (আবুদাঊদ হা/৬৯৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪১)। যদি সুতরা না রেখে ছালাত আদায় করেন, তবে তার সিজদার স্থান পর্যন্ত জায়গার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা যাবে না (বুখারী হা/৫১০; মুসলিম হা/৫০৭; মিশকাত হা/৭৭৬)।  রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোন বস্ত্তকে সম্মুখে রেখে ছালাত আদায় করবে যা তাকে লোকদের থেকে সুৎরা বা পর্দা স্বরূপ হবে, এমন অবস্থায় তার সম্মুখ থেকে যদি কেউ অতিক্রম করতে চায়, তাহ’লে সে যেন তাকে বাধা দেয়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭৭৭ ‘ছালাত’ অধ্যায় ‘সুৎরা’ অনুচ্ছেদ। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য; মির‘আতুল মাফাতীহ হা/৭৮৬-এর ব্যাখ্যা; উছায়মীন, আরকানুল ইসলাম ২/৪৯৩ পৃঃ, প্রশ্নোত্তর সংখ্যা ২৬৭)

প্রশ্ন (২২/৬২) : আমি আমার দাদীর বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছি। অতঃপর গত ২ বছর পূর্বে আমার আপন ফুফুর মেয়ের সাথে আমার বিবাহ হয়েছে। এ বিবাহ সঠিক হয়েছে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত বিবাহ সঠিক হয়নি। কারণ এক্ষেত্রে দাদী দুধ মা হওয়ায় উক্ত মেয়েটি আপনার দুধ বোনের মেয়ে তথা আপন ভাগ্নী হিসাবে গণ্য হবে। যাকে বিবাহ করা হারাম (নিসা ৪/২৩)।  রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর চাচা হামযা (রাঃ) একই মায়ের দুধপান করেছিলেন। সেকারণ হামযার মেয়ের সাথে রাসূল (ছাঃ)-এর বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হ’লে তিনি বলেন, সে আমার জন্য হালাল নয়।  কেননা সে আমার দুধ ভাইয়ের মেয়ে। বংশীয় সূত্রে যে সকল মহিলাকে বিবাহ করা হারাম, দুগ্ধ পান সূত্রেও সেসকল মহিলাকে বিবাহ করা হারাম (বুখারী হা/২৬৪৫; মুসলিম হা/১৪৪৭; মিশকাত হা/৩১৬১)। সে রাসূলের চাচাতো বোন। কিন্তু দুধপানের কারণে ভাতিজী হয়ে গেছে। অনুরূপ ফুফাতো বোন হওয়া সত্ত্বেও দুধপানের কারণে এখন সে আপনার আপন ভাগ্নীতে পরিণত হয়েছে। অতএব উক্ত বিবাহ বিচ্ছিন্ন করা আবশ্যক (বুখারী, মিশকাত হা/৩১৬৯)

প্রশ্ন (২৩/৬৩) : হজব্রত পালনরত অবস্থায় কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি?

-সফীউদ্দীন আহমাদ

পাঁচদোনা, নরসিংদী।

উত্তর : হজব্রত পালনরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। একদা আরাফার মাঠে জনৈক ছাহাবী মুহরিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা তাকে বরই পাতা ও পানি দিয়ে গোসল করাও, তাকে দু’টি কাপড়ে কাফন পরাও, তাকে সুগন্ধি লাগিয়ো না এবং মাথা ঢেকে দিয়ো না। কেননা ক্বিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে’ (বুখারী হা/১২৬৫; মুসলিম হা/১২০৬; মিশকাত হা/১৬৩৭) রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি হজ্জ বা ওমরার উদ্দেশ্যে বের হ’ল। অতঃপর মারা গেল। আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার আমলনামায় হজ্জ বা ওমরার ছওয়াব লিখে দিবেন (আবু ইয়া‘লা হা/৬৩৫৭; ছহীহাহ হা/২৫৫৩)

প্রশ্ন (২৪/৬৪) : অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় করা অথবা সেখানে অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি?

-আমানুল্লাহ, ওয়ান ব্যাংক, ঢাকা।

উত্তর : অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাতে অংশগ্রহণ করা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ। এর মাধ্যমে তাদের বাতিল ধর্মবিশ্বাসকে সমর্থন করা হয়, যা হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন তালাশ করে, তার নিকট থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং এমন ব্যক্তি পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে ইমরান ৩/৮৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। তিনি বলেন, যে আমাদের ব্যতীত অন্যদের রীতি- নীতির অনুসরণ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয় (তিরমিযী হা/২৬৯৫, মিশকাত হা/৪৬৪৯)। তিনি আরো বলেন, শীঘ্রই আমার উম্মতের কিছু দল মূর্তিপূজা করবে এবং মুশরিকদের সাথে মিশে যাবে (ইবনু মাজাহ হা/৩৯৫২, আবুদাঊদ হা/৪২৫২; মিশকাত হা/৫৪০৬)। ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, কাফেরদের বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে উপহার বিনিময়, মিষ্টান্ন বিতরণ, রকমারি খাদ্য তৈরী করা, কাজ বন্ধ রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা মুসলমানদের জন্য হারাম (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৪৬)।    

প্রশ্ন (২৫/৬৫) : পশুর যবেহ করার ব্যাপারে শরী‘আত নির্দেশিত পন্থা কি কি?

-ছালেহ আহমাদ, দেরাই, সুনামগঞ্জ।

উত্তর : (১) ছুরি ভা­­লোভাবে ধার দেওয়া এবং দ্রুত যবহের কাজ সমাধা করা। যেন পশুর কষ্ট কম হয় (মুসলিম হা/১৯৫৫; মিশকাত হা/৪০৭৩)। (২) ক্বিবলামুখী হয়ে যবেহ করা (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৮৫৮৫; আলবানী, মানাসিকুল হাজ্জ, সনদ ছহীহ)। (৩) যবহকালীন সময়ে দো‘আ পাঠ করা (ক) বিসমিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু আকবার (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৫৩) (খ) কুরবানীর পশু হ’লে বলবে, বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা তাক্বাববাল মিন্নী ওয়া মিন আহলে বায়তী (মুসলিম হা/১৯৬৭)

এক্ষণে পশু যবেহ করার সুন্নাতী তরীকা হ’ল- উট দাঁড়ানো অবস্থায় এর ‘হলক্বূম’ বা কণ্ঠনালীর গোড়ায় অস্ত্রাঘাতের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে ‘নহর’ করা এবং গরু বা ছাগলের মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে, বাম কাতে ফেলে ক্বিলামুখী হয়ে ‘যবহ’ করা (সুবুলুস সালাম, ৪/১৭৭ পৃঃ; মির‘আত ২/৩৫১; ঐ, ৫/৭৫ পৃঃ)

প্রশ্ন (২৬/৬৬) : জনৈক আলেম বলেন, বিদায়কালে মুছাফাহা করতে হবে না, কেবল সালাম দিতে হবে। কারণ মুছাফাহা করার হাদীছ যঈফ। এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

-রবীউল ইসলাম

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : বিদায় বেলায় মুছাফাহা করা যাবে। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) যখন কোন ব্যক্তিকে বিদায় দিতেন, তখন তার হাত ধরতেন এবং বিদায় হওয়া ব্যক্তি তাঁর হাত না ছাড়া পর্যন্ত রাসূল (ছাঃ) তার হাত ছাড়তেন না। অতঃপর তিনি দো‘আ করে দিতেন...’ (তিরমিযী হা/৩৪৪২, মিশকাত হা/২৪৩৫)

প্রশ্ন (২৭/৬৭) : জানাযার সময় জনৈক ব্যক্তির লাশ দেখে জনৈক আলেম বললেন, ‘লাশ যিকিরের হালতে রয়েছে’। এছাড়া আরেকজন আলেম বললেন, ‘আজকে আমরা এই মাইয়েতের জন্য জীবনের সমস্ত নেকী দিয়ে দিলাম’। প্রথম কথাটির কোন ভিত্তি আছে কি? এছাড়া ২য় কথাটি বলায় মাইয়েত উপকৃত হবে কি?

-আব্দুল্লাহ

নামো শংকরবাটী. চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য দু’টিই ছহীহ আক্বীদা বিরোধী ও ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন (২৮/৬৮) : কোন অসুস্থ বা মৃত ব্যক্তির অনেক বছরের ক্বাযা ছিয়াম বা ক্বাযা ছালাত তার সন্তান আদায় করে দিতে কিংবা ফিদইয়া দিতে পারবে কি?

-আব্দুল আহাদ, আসাম, ভারত।

উত্তর : অনেক বছরের ক্বাযা ছালাত ও ছিয়ামের জন্য অসুস্থ ব্যক্তি নিজে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। আর মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা অনুতপ্ত হৃদয়ে তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে (যুমার ৩৯/৫৩)। কেননা ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না...’ (বাক্বারাহ ২৮৬)। তবে অসুস্থ অবস্থায় শারীরিক অক্ষমতার কারণে প্রতি ছিয়ামের জন্য একজন মিসকীন খাওয়াতে হবে (বুখারী হা/৪৫০৫ ‘তাফসীর’ অধ্যায় ২৫ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (২৯/৬৯) : যোহর, আছর, মাগরিব একত্রে জমা-ক্বছর করার ক্ষেত্রে অথবা ক্বাযা আদায়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যরূরী কি?

-আব্দুল্লাহ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : সকল ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সুন্নাত। খন্দক যুদ্ধের দিন ব্যস্ততার কারণে আছরের ছালাত ছুটে গেলে রাসূল (ছাঃ) মাগরিবের আযানের পর প্রথমে আছর তারপর মাগরিবের ছালাত আদায় করেছিলেন (বুখারী হা/৯৪৫; মুসলিম হা/৬২৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৮৮৭)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যুদ্ধের ব্যস্ততার কারণে এদিন তিনি রাতের বেলা ধারাবাহিকভাবে আছর থেকে এশা পর্যন্ত ক্বাযা ছালাত আদায় করেছিলেন (আহমাদ হা/১১৬৬২, মুসনাদ আবু ইয়া‘লা হা/১২৯৬, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (৩০/৭০) : স্বামীর নিকট থেকে আমি নববই হাযার টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করেই তাকে ডিভোর্স দিয়েছি এবং পরে চাইলে তা অস্বীকার করেছি। এক্ষণে আমার করণীয় কি? তা ফেরত না দিলে গোনাহগার হ’তে হবে কি?

-মুনীরা খাতুন

কাসেমপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : এরূপ কাজ আত্মসাতের নামান্তর। আর আত্মসাৎকারীর পরিণাম জাহান্নাম’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৯৯৭)।  এক্ষণে টাকা ফেরত দিলে এ গোনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ (বুখারী, মিশকাত হা/৫১২৬)। তাছাড়া স্ত্রী স্বামীকে ডিভোর্স নয়, বরং তার থেকে ‘খোলা’ বা বিচ্ছিন্ন হ’তে পারে। আর এজন্য তাকে স্বামী প্রদত্ত মোহরানা ফেরৎ দিতে হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩২৭৪ ‘বিবাহ’ অধ্যায়, ‘খোলা ও তালাক’ অনুচ্ছেদ)। অতঃপর এক মাস ইদ্দত পালন করে অন্যত্র বিবাহ করবে।

প্রশ্ন (৩১/৭১) : টয়লেটে পশ্চিম বা পূর্ব দিকে ফিরে বসায় কোন বাধা আছে কি? অনেকে এটাকে শরী‘আতবিরোধী বা ক্বিবলার সাথে বেআদবী হিসাবে গণ্য করে। এর কোন ভিত্তি আছে কি?

-ইসরাফীল, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : না। এতে কোন বাধা নেই এবং এটাকে বেআদবী গণ্য করাও ঠিক নয়। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ‘আমি হাফছার বাড়ীর ছাদে কোন কারণে উঠেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ক্বিবলাকে পিঠ করে হাজত সারতে দেখলাম’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৩৫)। জাবের (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে (আবুদাঊদ হা/১৭)। তবে টয়লেটের বাইরে খোলা স্থানে ক্বিবলাকে সামনে বা পিছনে রাখা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘... পায়খানা-পেশাবের সময় তোমরা ক্বিবলাকে সামনে বা পিছনে রাখবে না’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৩৪ ‘পেশাব-পায়খানার শিষ্টাচার’ পরিচ্ছেদ)। একদা ইবনু ওমর (রাঃ) স্বীয় উটকে সামনে রেখে কিবলার দিকে ফিরে পেশাব করলেন এবং এ ব্যাপারে প্রশ্নকারীকে বললেন, খোলা জায়গায় এরূপ করা হ’তে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যখন তোমার আর ক্বিবলার মধ্যে কোন পর্দা থাকবে, যা তোমাকে আড়াল করবে, তখন কোন বাধা নেই (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৩)। সাইয়িদ সাবিক এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ সমূহের সমন্বয় করে বলেন, উন্মুক্ত স্থানে ক্বিবলামুখী বা ক্বিবলার দিকে পিঠ করে  পেশাব-পায়খানা করা নিষিদ্ধ। আর ঘেরাস্থানের মধ্যে জায়েয’ (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৫-২৬ পৃঃ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (৩২/৭২) : পুরুষরা কি পরিমাণ স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবে? শুনেছি তারা সর্বোচ্চ ২ আনা পরিমাণ ব্যবহার করতে পারে। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-রিমোন* আহমাদ

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

* কেবল ‘আহমাদ’ নাম রাখুন (স.স.)।

উত্তর : পুরুষের জন্য সর্বাবস্থায় স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম। একদা রাসূল ডান হাতে রেশম এবং বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেন, এ দু’টি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম এবং নারীদের জন্য হালাল’ (আবুদাউদ হা/৪০৫৭; ইবনু মাজাহ হা/৩৫৯৫; মিশকাত হা/৪৩৯৪)। তিনি আরো বলেন, ‘যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে বিশ্বাস করে সে স্বর্ণ এবং রেশম ব্যবহার করবে না’ (ছহীহাহ হা/৩৩৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৫০৯)। এছাড়া ২ আনা ব্যবহার করতে পারবে যেন কোথাও মারা গেলে সেটা বিক্রি করে কাফনের কাপড় কিনতে পারে মর্মে কোন দলীল নেই। অনুরূপভাবে স্বর্ণের পাত্র বা স্বর্ণ দ্বারা তৈরি কোন আসবাবপত্র যেমন কলম, থালা ইত্যাদি মুসলিম নারী-পুরুষ সকলের জন্য হারাম (বুখারী হা/৫৪২৬; মুসলিম হা/২০৬৭; মিশকাত হা/৪২৭২)

প্রশ্ন (৩৩/৭৩) : ‘মসজিদে দুনিয়াবী কথা বললে ১৭ বছরের ইবাদত বাতিল হয়ে যায়’ মর্মে কোন ছহীহ বর্ণনা আছে কি?

-মাহফূয আহমাদ

সোনারগাঁও, ঢাকা।

উত্তর : এ মর্মে ছহীহ বা যঈফ কোন বর্ণনা নেই। তবে মসজিদে দুনিয়াবী কথা বললে চল্লিশ বছরের আমল বাতিল হয়ে যায় মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (আলবানী, আছ-ছামারুল মুসতাত্বাব ১/৮৩৩; ‘আজলূনী, কাশফুল খাফা হা/২৪৪০; ছাগানী, আল-মাওযু‘আত হা/৪০)। বরং মুছল্লীদের অসুবিধা সৃষ্টি না হ’লে মসজিদে দুনিয়াবী কথা-বার্তা বলা যায়। যেমন জাবের বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে ছাহাবায়ে কেরাম মসজিদে জাহেলী যুগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরস্পর আলোচনা এবং হাসাহাসি করতেন এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তা শ্রবণে মুচকি হাসতেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৪৭)। তবে অন্য মুছল্লীদের মনোযোগ যাতে বিনষ্ট না হয়, সেদিকে গভীরভাবে নযর রাখতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) কোন মুছল্লী ছালাতরত অবস্থায় থাকলে অন্যদেরকে কুরআন পর্যন্ত নিম্নস্বরে তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়েছেন (আহমাদ; মিশকাত হা/৮৫৬, সনদ ছহীহ)। 

প্রশ্ন (৩৪/৭৪) : যেসব পোষাকে মানুষের কোন অঙ্গের যেমন কেবল হাতের ছবি থাকে সেসব পোষাক পরিধান করায় কোন বাধা আছে কি?

-আশফাক হোসাইন, ঢাকা।

উত্তর : যা দেখলে বুঝা যায় যে এটি প্রাণীর অঙ্গ, এরূপ ছবিযুক্ত পোশাক ব্যবহার করা যাবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রাণীর ছবিযুক্ত কোন কিছু বাড়ীতে দেখলে তা বিনষ্ট করে দিতেন (বুখারী, মিশকাত হা/৪৪৯১ ‘ছবিসমূহ’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৫/৭৫) : আল্লাহ বলেন, ব্যভিচারী পুরুষ ব্যভিচারিণী নারী ব্যতীত বিবাহ করে না এবং ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ ব্যতীত বিবাহ করে না’ (নূর ৩)। আয়াতটির সঠিক মর্মার্থ কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান

পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ঢাকা।

উত্তর : উক্ত আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হ’ল, কোন সৎকর্মশীল পুরুষের জন্য কোন ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে তওবা করে। অনুরূপ এর বিপরীত। অর্থাৎ তওবা করলে বিবাহ করা জায়েয। ইমাম আহমাদ বলেছেন, কোন সৎকর্মশীল পুরুষের সাথে কোন ব্যভিচারিণী নারীর বিবাহ শুদ্ধ হবে না, যতক্ষণ না সে তওবা করে। অনুরূপ কোন সতী নারীর সাথে কোন ব্যভিচারী পুরুষের বিবাহ শুদ্ধ হবে না, যতক্ষণ না সে তওবা করে (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা নূর ৩ আয়াত)

প্রশ্ন (৩৬/৭৬) : কবরস্থানে জুতা পায়ে যাওয়া এবং মাটি দেওয়া যাবে কি?

-মামূন, গাংণী, মেহেরপুর।

উত্তর : জুতা পায়ে দিয়ে কবরে মাটি দেওয়া ও কবরস্থানে যাওয়া যাবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১২৬)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জুতা পায়ে দিয়ে ছালাত আদায় করেছেন (আবুদাঊদ, দারেমী, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৭৬৬)। তবে বিলাসী জুতা পরে গর্ব সহকারে কবরস্থানে যাওয়া ঠিক নয়। কেননা রাসূল (ছাঃ) একজন লোককে সিবতী জুতা পরে কবরস্থানে চলতে দেখে বললেন, হে সিবতী জুতাওয়ালা! তোমার ধ্বংস হোক। তুমি তোমার জুতা খুলে ফেল। লোকটি রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে দেখে রাগ বুঝতে পেরে জুতা খুলে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল (আবুদাঊদ হা/৩২৩০)।খাত্ত্বাবী বলেন, এ জুতা পরিধানের মাধ্যমে গর্বভাব সৃষ্টি হয়। সেকারণ রাসূল (ছাঃ) এটাকে অপসন্দ করেছিলেন। কেননা এটা ধনী ব্যক্তিদের জুতা (আওনুল মা‘বূদ শরহ আবুদাঊদ উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রঃ)

প্রশ্ন (৩৭/৭৭) : আপন শ্যালিকার পরিবার কি আত্মীয়ের মধ্যে গণ্য হবে? ২৭ বছর পূর্বে শ্যালিকার বিবাহ থেকে তাদের সাথে সম্পর্ক নেই। এক্ষেত্রে কি আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী হিসাবে গোনাহগার হ’তে হবে?

-সুলতান আহমাদ, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম।

উত্তর : আত্মীয় দু’রকমের। পিতৃ বংশগত ও শ্বশুর বংশগত। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই মানুষকে পানি হ’তে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বিবাহগত সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন’ (ফুরক্বান ২৫/৫৪)। এছাড়া দুগ্ধসম্পর্কীয় আত্মীয়ও রয়েছে। যারা বংশগত আত্মীয়ের ন্যায় (নিসা ৪/২৩)। শ্যালিকা হ’ল শশুর বংশগত আত্মীয়াদের অন্তর্ভুক্ত। অতএব তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪৯২২)। তবে দ্বীনী কারণে সাময়িকভাবে কাউকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭০১)

প্রশ্ন (৩৮/৭৮) : আমার অবিবাহিত মামা ১ বিঘা জমি রেখে মারা গিয়েছেন। তার দাদা ও বোন জীবিত রয়েছে এবং আরেক বোন মারা গেছে। দাদার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে, জীবিত বোনের ১ ছেলে এবং মৃত বোনের ৪ ছেলে রয়েছে। এক্ষণে উক্ত জমি কিভাবে ভাগ হবে?

-মুনীরুল শেখ

মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : পুরো সম্পত্তির মালিক হবেন দাদা। আবুবকর (রাঃ) বলেন, দাদা পিতার ন্যায়। হযরত ওছমান, ইবনু আববাস, ইবনু যুবায়ের (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ একই কথা বলেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আবুবকর (রাঃ)-এর জীবদ্দশায় কোন ছাহাবী এই মাসআলার বিরোধিতা করেননি (বুখারী ‘ফারায়েয’ অধ্যায়-৮৫, অনুচ্ছেদ-৯)

প্রশ্ন (৩৯/৭৯) : মহিলা সমাবেশে পুরুষ বক্তার সালামের জবাব বা পুরুষের কোন প্রশ্নের জবাব মহিলারা সরবে দিতে পারবে কি?

-আবুল কালাম

কমরগ্রাম, বানিয়াপাড়া, জয়পুরহাট।

উত্তর : মহিলা সমাবেশে পুরুষ বক্তার সালামের জবাব মহিলারা নীরবে দিবে (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ২৫/১৬৬)। ফিৎনার আশংকা না থাকলে পুরুষের কোন প্রশ্নের জবাব মহিলারা সরবে দিতে পারে। আয়েশা (রাঃ) বহু ছাহাবীর প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন (তিরমিযী হা/৩৮৮৩; মিশকাত হা/৬১৮৫)

প্রশ্ন (৪০/৮০) : গাছ লাগিয়ে অন্যের জমির ক্ষতি করার শাস্তি সম্পর্কে জানতে চাই।

- আব্দুল কুদ্দূস, নাটোর।

উত্তর : কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গাছ লাগানো তার উপর যুলুমের শামিল। রাসূল (ছাঃ) যুলুম থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫১২৩ ‘অত্যাচার’ অনুচ্ছেদ)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তি যদি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের প্রতি তার সম্মান কিংবা অন্য কোন বিষয়ে যুলুম করে, তবে সে যেন ঐ দিন আসার পূর্বেই যেন তার নিকট হ’তে উহা মাফ করে নেয়, যেদিন তার নিকট দিরহাম ও দীনার কিছুই থাকবে না (অর্থাৎ মৃত্যু বা ক্বিয়ামতের দিনের পূর্বে)। কেননা ক্বিয়ামতের দিন যদি তার নিকট নেক আমল থাকে, তবে তার যুলুম পরিমাণ নেকী নেওয়া হবে। আর যদি তার কাছে নেকী না থাকে, তবে মাযলূম ব্যক্তির গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৮৯৯)

 

HTML Comment Box is loading comments...