স্বদেশ

গোপালগঞ্জ কারাগারের মাদকাসক্তরা ফিরছে সুস্থ জীবনে

গোপালগঞ্জ যেলা কারাগারের মাদকাসক্ত কয়েদীরা সুস্থ জীবনে ফিরছে। গত এপ্রিল’১৫ থেকে গোপালগঞ্জ যেলা কারাগারে মাদকাসক্ত ও অপরাধীকে সংশোধন করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্নভাবে কাউন্সেলিং করে সৎ ভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দীদের অপরাধ জগৎ থেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দেয়ার এ মহতী কার্যক্রম আরম্ভ করেন যেল সুপার দেব দুলাল কর্মকার। সুস্থ জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছে, আমরা মাদক মামলায় যেলা কারাগারে আটক ছিলাম। আমরা কাজ শিখেছি। মাদকের কুফল সম্পর্কে জেনেছি। মাদক পরিহারের কৌশল শিখেছি। কারাগার থেকে বের হয়ে মাদক ছেড়ে দিয়েছি। এখন টেইলারিংসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছি। আরেকজন জানায়, আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন গোপালগঞ্জ যেলা কারাগারের যেল সুপার। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও মাদকমুক্তির কাউন্সেলিং নিয়ে পরিবারের কাছে সুস্থ জীবনে ফিরেছি। 

এ পর্যন্ত ১০০ বন্দীকে এ কার্যক্রমের আওতায় এনে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যেলার দেব দুলাল কর্মকার বলেন, সমাজ বদলাতে হ’লে ও মূল্যবোধের পরিবর্তনের জন্য অপরাধীদের সংশোধন করতে হবে। কেবল শাস্তি নয়, সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।

রাজশাহী পবা উপযেলা এসি ল্যান্ডের ‘মাটির মায়া’

দালালের দেŠরাত্ম্য, ঘুষের ছড়াছড়ি, সেবাপ্রার্থীর প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম অবহেলা, এক টেবিল থেকে আরেক টেবিল ঘোরা, দিনের পর দিন হয়রানি এই হ’ল সারা দেশে ভূমি অফিসগুলির সাধারণ চিত্র। রাজশাহীর পবা উপযেলা ভূমি অফিসও একসময় তা-ই ছিল। কিন্তু সবকিছু বদলে দিয়েছেন একজন শাহাদত হোসেন (৩৬)। কিশোরগঞ্জের অধিবাসী এই সহকারী কমিশনার (ভূমি) দু’বছর আগে রাজশাহীর এই কার্যালয়ে যোগ দেন। সবকিছু দেখে শুরু করেন সংস্কার।

এখন প্রধান ফটকের ডান দিকে একটি টিনশেড ঘর, নাম ‘মাটির মায়া’। তাতে টেবিল নিয়ে বসে আছেন এসি ল্যান্ড স্বয়ং। সেবাপ্রার্থীরা প্রথমেই সরাসরি কথা বলছেন তার সাথে। তিনি শুনছেন, তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন অথবা নির্দিষ্ট কর্মচারীকে ডেকে কাজটা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। দেখে মনে হবে, চিকিৎসক চেম্বারে রোগী দেখছেন ও ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন।

চত্বরে বোর্ডে বিভিন্ন ফি সমূহ এবং জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের নিয়ম-কানুন লেখা রয়েছে। একদিকে হেলপ ডেস্ক থেকে তথ্য সহায়তা দেওয়া হয়। কার্যালয়ের প্রত্যেক কক্ষের ওপরে কর্মচারীর নাম ও কার কাছে কোন সেবা পাওয়া যাবে তা লেখা। প্রতিটি কক্ষে ছোট সাদা বোর্ডে কর্মচারীদের প্রতিদিনের কাজ লেখা। দিন শেষে এসি ল্যান্ড সেগুলো ধরে মূল্যায়ন করেন। একটি বড় ডিসপ্লে বোর্ডে কোন ধরনের মামলার শুনানি কোন দিন, তা লেখা আছে।

আগে যেকোন নথি খুঁজতে দিন পরে হয়ে যেত। বর্তমানে দেড় লাখের মত নথি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে যেকোন নথি এক মিনিটের মধ্যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। মামলার শুনানির তারিখ বাদী ও বিবাদীকে মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মামলার সর্বশেষ অবস্থাও ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে। ফেসবুক পেজেও এসি ল্যান্ডের কাছে যেকোনো সমস্যা জানানো যাবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমাদ বলেন, এটি শাহাদত হোসেনের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এই মডেলটাকে তিনি রাজশাহী বিভাগের সব উপযেলায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে শাহাদত হোসাইন বলেন, বিভাগীয় কমিশনার স্যারের অনুপ্রেরণাতেই তিনি একাজ শুরু করেছেন।

[অসংখ্য ধন্যবাদ উক্ত জেলারকে এবং প্রাণভরা দো‘আ তরুণ এসি ল্যান্ডের জন্য। পরকালীন মুক্তির প্রেরণা নিয়ে যেন তারা এরূপ জনসেবায় উদ্বুদ্ধ হৌন এবং জাতির জন্য আদর্শ হৌন- এই দো‘আ করি (স.স.)]

বিদেশ

রাশিয়ায় সুবিশাল মসজিদের উদ্বোধন করলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত ২৩শে সেপ্টেম্বর  মস্কোয় সুবিশাল একটি মসজিদের উদ্বোধন করেছেন। সম্পূর্ণ বেসরকারী অর্থায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। মসজিদটিতে একত্রে ১০ হাযার মুছল্লী ছালাত আদায় করতে পারবেন। মসজিদটি মস্কোর ক্যাথেড্রল মস্ক ও জুম‘আ মসজিদ নামেও পরিচিত। ১০০ বছরের পুরনো এই মসজিদটি ভেঙ্গে ২০ গুণ বড় আকারে নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, ফিলিস্তীনের প্রেসিডেন্ট মাহমূদ আববাস, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভ, রাশিয়ায় নিযুক্ত বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, বিশ্বের খ্যাতিমান ইসলামী স্কলার ও রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হ’ল ইসলাম। কিন্তু রাজধানী মস্কোতে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ মুসলমানের জন্য মসজিদ রয়েছে মাত্র ছয়টি। তারা আরও নতুন মসজিদ নির্মাণের আবেদন করলে শহরবাসীর বিরোধিতার মুখে পড়েন। অতঃপর পুরানো মসজিদ ভেঙ্গে বৃহৎ আকারে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের পর সোভিয়েত রাশিয়ায় ধর্মকে পরিত্যাগ করা হয়। বিপ্লবের নায়কদের দৃষ্টিতে ধর্ম ছিল জনগণের জন্য আফিম সদৃশ। নাস্তিক্যবাদী সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে ৬০ লক্ষাধিক মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধর্ম নিষিদ্ধ করা হয়। পবিত্র কুরআন কারো কাছে পাওয়া গেলে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হ’ত। কিন্তু মাত্র ৭০ বছরের মাথায় সেখানে সমাজতন্ত্র ব্যর্থ ও বিলুপ্ত হয়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ৬টি মুসলিম রাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো স্বাধীন হয়ে যায়। রাশিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতার সুযোগ দিন দিন বাড়তে থাকে। এ সুযোগে মুসলমানরা জেগে উঠতে শুরু করে। বর্তমানে সেখানে মুসলমানের সংখ্যা বিস্ময়কর হারে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, ৮৩ হিজরীতে এই ভূখন্ড মুসলিম শাসনের আওতায় আনেন উমাইয়া শাসনামলের মুসলিম সেনাপতি কুতায়বা বিন মুসলিম। এ ভূখন্ডে জন্মগ্রহণ করেছেন ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিযী, ইমাম আবুদাউদ (রহঃ) সহ অসংখ্য মনীষী।  

(অস্ত্রের জোরে ইসলামের মূলোৎপাটন যে কখনোই সম্ভব নয় সোভিয়েত ইউনিয়ন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। নাস্তিক্যবাদী ঝড়ে কোটি মুসলমানের জীবন গেলেও ইসলামকে নিভিয়ে দেওয়া যায়নি। ফালিল্লাহিল হামদ (স.স.)] 

গরু কারো মা হ’তে পারে না

 -ভারতের বিচারপতি (অবঃ) কাটজু

ভারতীয় প্রেস কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মার্কেন্ডে কাটজু বলেছেন, গরু একটি প্রাণী মাত্র। আর কোন প্রাণী কখন মানুষের মা হ’তে পারে না। সম্প্রতি গরুর গোশত খাওয়ার অভিযোগে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে মুহাম্মাদ আখলাক নামে এক মুসলিম বৃদ্ধকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার নিন্দা জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। কাটজু বলেন, গোটা বিশ্বের মানুষ গরুর গোশত খায়। শুধু আমাদের দেশেই এটা নিয়ে বিতর্ক হয়। আমি নিজে গরুর গোশত খাই। কই আমার তো কোনও ক্ষতি হয়নি। গরুর গোশত খেলে কেউ খারাপ হয়ে যায় না। আমি ভবিষ্যতেও গরুর গোশত খাব। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দুঃখের ঘটনা হ’ল কেবল গুজবের জন্যই ঐ বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারা হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত। উল্লেখ্য, বহু হিন্দু গরুকে মায়ের দৃষ্টিতে দেখে থাকে। যদিও কথিত এই মাকে তার নিজের ঘরে স্থান না দিয়ে গোয়াল ঘরেই রাখে।

তবে এরূপ নিষ্ঠুরতার পরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দাবী জানিয়ে নিহত আখলাকের ছেলে মুহাম্মাদ সরতাজ এখন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। পিতার নির্মম মৃত্যু এবং ভাই মারাত্মকভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কোন তিক্ততার প্রকাশ না ঘটিয়ে বরং দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের আদর্শ কখনও পরস্পরের সঙ্গে শত্রুতার শিক্ষা দেয় না। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে একটি স্থানীয় মন্দিরে ঘোষণা করা হয়, আখলাকের পরিবার গরুর গোশত খেয়েছে। এরপরই আখলাকের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে টানতে টানতে বের করে নিয়ে যায় প্রায় ২০০ জন বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর পিটিয়ে খুন করা হয় আখলাককে।

[যারা মেরেছে তারা গরুর চাইতে অধম। যাদের কাছে মানুষের চাইতে গরুর মূল্য বেশী, তারা মানুষ নামের অযোগ্য। আমরা ওদের ঘৃণা করি। ভারতের মোদি সরকার গরু সরকার না হয়ে মানুষ সরকার হবেন, এটাই আমরা কামনা করি (স.স.)]