প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪১) : কোন কোন ক্ষেত্রে শুকরিয়া সিজদা আদায় করা যায়? রামাযানের ছিয়াম শেষ করতে পারার জন্য শুকরিয়া জানিয়ে এ সিজদা করা যাবে কি? এর জন্য কি ওযূ করা যরূরী?

-শহীদুল ইসলাম, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : যে কোন ভাল সংবাদ শ্রবণে বা কোন নে‘মত প্রাপ্ত হ’লে আল্লাহরর শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে সিজদা করা উত্তম। রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট কোন আনন্দের সংবাদ আসলে অথবা তাঁকে কোন সুসংবাদ প্রদান করা হ’লে তিনি আল্লাহরর শুকরিয়া আদায়ের জন্য সিজদা করতেন (আবুদাউদ হা/২৭৭৪, ইবনু মাজাহ হা/১৩৯৪, সনদ হাসান, ইরওয়া হা/৪৭৪)। ছাহাবী কা‘ব বিন মালেক (রাঃ) তার তওবা কবুল হওয়ার সুসংবাদ শুনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েছিলেন (বুখারী হা/৪৪১৮; মুসলিম হা/৭১৯২)। তবে ছিয়াম শেষ করার কারণে শুকরিয়া সিজদা আদায়ের বিষয়ে কোন আমল পাওয়া যায় না। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) নতুন কোন সুসংবাদের ক্ষেত্রে এরূপ করলেও, নিয়মিত কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে এরূপ করেননি। সুতরাং এরূপ করা থেকে বিরত থাকাই কর্তব্য। উল্লেখ্য যে, এই সিজদা হবে একটি এবং এর জন্য সতর ঢাকা, ওযূ, কিবলা বা সালাম শর্ত নয়। কেননা এটা ছালাত নয়। বরং শুকরিয়া আদায় মাত্র (ওছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৪/৮৯-৯০, ১০৫)

প্রশ্ন (২/৪২) : ছালাত আদায়কালে চুল ঢেকে রাখা কি মহিলাদের জন্য আবশ্যক?

-তাহমীদা

ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

উত্তর : মহিলাদের চেহারা ও দুই হস্ততালু ব্যতীত সর্বাঙ্গ সতর (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৭২ সনদ হাসান ‘পোশাক’ অধ্যায়)।  অতএব ছালাত আদায়কালে মহিলাদের জন্য চুল ঢেকে রাখা আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ওড়না ব্যতীত কোন বালেগা নারীর ছালাত কবূল করেন না। (আবুদাউদ হা/৬৪১; তিরমিযী হা/৩৭৭; মিশকাত হা/৭৬২)। তবে অনিচ্ছাকৃত ও অসাবধানতাবশতঃ এরূপ হয়ে গেলে তা ক্ষমার যোগ্য। আল্লাহ বলেন, তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)

প্রশ্ন (৩/৪৩) : জুম‘আর খুৎবার পর মসজিদে প্রবেশ করলে যোহরের ছালাত আদায় করতে হবে কি?

-আযাদ, সারিয়াকান্দী, বগুড়া।

উত্তর : না। বরং জুম‘আর ছালাত ইমামের সাথে এক রাক‘আত পেলে বাকী আরেক রাক‘আত যোগ করবে’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪১২)। কিন্তু রুকূ না পেলে (যোহরের) চার রাক‘আত পড়বে  (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, বায়হাক্বী ৩/২০৪; সনদ ছহীহ; ইরওয়া ৩/৮২ হা/৬২১-২২)।

প্রশ্ন (৪/৪৪) : ফজরের ছালাতের পর মসজিদে বসে যিকির-আযকার করার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি?

-আব্দুল ওয়াদূদ

নিজপাড়া, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : ফজরসহ যেকোন ফরয ছালাত শেষে মুছল্লী যতক্ষণ স্বীয় স্থানে বসে তাসবীহ-তাহলীল করে, ততক্ষণ ফেরেশতামন্ডলী তার জন্য দো‘আ করতে থাকে এই মর্মে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা কর ও তার উপর রহম কর (বুখারী হা/৪৪৫, মুসলিম হা/৬৪৯; মিশকাত হা/৭০২)।

তবে ফজরের ছালাতের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে তাসবীহ-তাহলীল করা মুস্তাহাব। আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করল এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত মুছাল্লায় বসে থেকে যিকির-আযকার করল। অতঃপর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করল, সে একটি হজ্জ ও ওমরাহরর ন্যায় ছওয়াব পেল। (তিরমিযী হা/৫৮৬; মিশকাত হা/৯৭১)

প্রশ্ন (৫/৪৫) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা না থাকলে ইবাদত কবূল হবে না। এটা কি ঠিক?

-আমীনুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। তবে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মারা গেল, অথচ জিহাদ করল না। এমনকি জিহাদের কথা মনেও আনলো না, সে ব্যক্তি মুনাফেকীর একটি শাখার উপর মৃত্যুবরণ করল’ (মুসলিম হা/১৯১০, মিশকাত হা/৩৮১৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের পরে আর  কোন হিজরত নেই। তবে জিহাদ ও তার নিয়ত বাকী রইল। অতএব যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য আহবান করা হবে, তখন তোমরা বের হবে’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৭১৫, ৩৮১৮)। সুতরাং প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে জিহাদের বাসনা ও শহীদী মৃত্যুর কামনা থাকা যরূরী। অবশ্যই সে জিহাদ হ’তে হবে আল্লাহরর কালেমাকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে প্রকৃত জিহাদ।

বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জিহাদের নামে মুসলমানদের মধ্যে পরস্পরে যে সশস্ত্র সংঘাত চলছে, তা কখনোই জিহাদ নয় (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : ‘জিহাদ ও ক্বিতাল’ বই)

প্রশ্ন (৬/৪৬) : সঊদী আরবে থাকা অবস্থায় নিজের হজ্জ করার পর পরিবারের জীবিত বা মৃতদের পক্ষ থেকে প্রতিবছর হজ্জ করা জায়েয হবে কি?

-আছিফ রেযা

মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

উত্তর : শারীরিক এবং আর্থিকভাবে সক্ষম জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ করা জায়েয হবে না। কেননা আল্লাহ বলেন, আল্লাহরর জন্য লোকদের উপর বায়তুল্লাহরর হজ্জ ফরয করা হ’ল, যারা সে পর্যন্ত যাবার সামর্থ্য রাখে’ (আলে ইমরান ৩/৯৭)। অতএব যারা সামর্থ্যবান তারা নিজেরাই হজ্জ করবে।  আরা যারা সামর্থ্যবান নয়, ঐসকল জীবিত বা মৃত আত্মীয়-স্বজন বা যেকোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ করা যাবে (বুখারী হা/১৮৫২, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৫২৯)

প্রশ্ন (৭/৪৭) : শুক্রবারে হজ্জ হওয়ার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? অনেকে এটাকে ‘আকবরী হজ্জ’ বলে থাকেন। এর ব্যাখ্যা কি?

-আব্দুল্লাহ, ঝিকরগাছা, যশোর।

উত্তর: শুক্রবারে হজ্জ হ’লে তার জন্য বিশেষ কোন ফযীলত নেই। বরং যে বর্ণনার আলোকে এ কথা বলা হয়, সেটি জাল ও ভিত্তিহীন। সেখানে বলা হয়েছে, আরাফার দিন জুম‘আর দিনের সাথে মিলে গেলে তা ৭০টি হজ্জের চেয়েও উত্তম (সিলসিলা যঈফাহ হা/১১৯৩)

ছাহেবে তুহফা হুঁশিয়ার করে বলেন, শুক্রবারে হজ্জ হ’লে তাকে ‘আকবরী হজ্জ’ বলে সমাজে যে ধারণা প্রচলিত আছে, তা ভিত্তিহীন’ (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/২৭ হা/৯৫৮-এর ব্যাখ্যা)

এছাড়া সূরা তওবা ৩ আয়াতে উল্লেখিত ‘হজ্জে আকবার’-এর অর্থ কুরবানীর দিন। কেননা রাসূল (ছাঃ) হজ্জ পালনকালে কুরবানীর দিনকে ‘হজ্জে আকবার’ হিসাবে অভিহিত করেছিলেন (বুখারী হা/১৭৪২, আবুদাঊদ হা/১৯৪৫, মিশকাত হা/২৬৭০)

প্রশ্ন (৮/৪৮) : ব্যভিচারে লিপ্ত হলে স্ত্রীকে তালাক প্রদান করা কি আবশ্যক হয়ে যায়? বার বার সতর্ক করার পরও এরূপ করলে সে ব্যাপারে স্বামীর করণীয় কি?

-হুমায়ূন কবীর, কঙ্গো।

উত্তর : ব্যভিচার কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ বলেন, তোমরা  ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। (ইসরা ১৭/ ৩২)। উক্ত অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে (নিসা ৪/১৯-২০)। আর যদি স্ত্রী তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করে, তাহ’লে তাকে ক্ষমা করে দিয়ে পূর্বের ন্যায় সংসার করবে (আলে-ইমরান ৩/১৩৫)

প্রশ্ন (৯/৪৯) : ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে সামান্য মিথ্যা কথায় কোন যায় আসে না, এটা কি ঠিক? উক্ত টাকা হালাল হবে কি?

-সফীউদ্দীন আহমাদ, নরসিংদী।

উত্তর : ‘ব্যবসার ক্ষেত্রে সামান্য মিথ্যা বলা যায়’ এ নীতি মনগড়া ও ভিত্তিহীন। বরং যে তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করবেন না তাদের একজন সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ)  বলেন, যে মিথ্যা কসমের মাধ্যমে স্বীয় মাল বিক্রয় করে’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ঐ ব্যবসায়ী যে স্বীয় মালের ক্ষেত্রে মিথ্যা কসম করে বলে এর মূল্য ইতিপূর্বে একজন এর চেয়ে বেশী বলেছিল, কিন্তু আমি বিক্রি করিনি (মুসলিম হা/১০৬, মিশকাত হা/২৭৯৫; বুখারী হা/২৩৬৯, মিশকাত হা/২৯৯৫)। রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, ‘যে আমাদেরকে ধোঁকা দিবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২০)। এছাড়া সামান্য হোক আর বেশী হোক মিথ্যা কখনো কোন ব্যাপারে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা মিথ্যা পাপের পথ দেখায়। আর পাপ জাহান্নামের পথ প্রদর্শন করে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৮২৪)। আর হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ পুরা উপার্জনকে হারামে পরিণত করে। উল্লেখ্য যে, সূরা মায়েদাহ ৮৯ আয়াতে বর্ণিত ‘আল্লাহ তোমাদের অনর্থক কসমের ব্যাপারে পাকড়াও করবেন না’-এর অর্থ যা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে করা হয় না (ইবনু কাছীর)। ব্যবসায়ে কসম ঐ পর্যায়ের নয়।  

প্রশ্ন (১০/৫০) : খরগোশের ন্যায় একধরণে প্রাণী ‘বেণীপুশ’ খাওয়া বা ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে উপার্জন করা জায়েয হবে কি?

-যিল্লুর রহমান

হাটগাঙ্গোপাড়া, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : খরগোশের গোশত যেহেতু খাওয়া জায়েয (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪১০৯), সেহেতু এরূপ স্তন্যপায়ী হ’লে এবং  তীক্ষ্ণ দন্তবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী না হলে এটি খাওয়া ও এর ব্যবসা করায় কোন দোষ নেই।

প্রশ্ন (১১/৫১) : যে ব্যক্তি কোন মুত্তাক্বী আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করল, সে যেন স্বয়ং রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করল। এ বর্ণনাটির কোন সত্যতা আছে কি?

-মুখতার

সাভার, ঢাকা।

উত্তর : বর্ণনাটি মওযূ বা জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৩৩৩, তাযকিরাতুল মাওযূ‘আত ১/১৯)

প্রশ্ন (১২/৫২) : শরী‘আতে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে ছহীহ দলীল না পাওয়ার ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছ ও ইজতিহাদের মধ্যে কোনটি অগ্রগণ্য হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

-আব্দুল মান্নান, বগুড়া।

উত্তর : এক্ষেত্রে ইজতিহাদই অগ্রগণ্য হবে। কেননা ইজতিহাদ হ’ল, কোন বিষয়ে কুরআন, ছহীহ সুন্নাহ ও ইজমায়ে ছাহাবার মধ্যে স্পষ্ট সমাধান না পাওয়া গেলে উক্ত মূলনীতিগুলির আলোকে সমাধান দানের সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো। অন্যদিকে যঈফ হাদীছ কোন ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন, ইবনুল আরাবী, ইবনু হযম, ইবনু তায়মিয়াহ প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিছগণ সকল ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছ বর্জনযোগ্য বলেছেন (বিঃ দ্রঃ জামালুদ্দীন ক্বাসেমী, ক্বাওয়াইদুত তাহদীছ;  আশরাফ বিন সাঈদ, হুকমুল ‘আমাল বিল হাদীছিয যঈফ)। শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, ‘যঈফ হাদীছ অতিরিক্ত ধারণার ফায়েদা দেয় মাত্র। তবে এ বিষয়ে সকল বিদ্বান একমত যে, তার উপর আমল করা বৈধ নয়’ (তামামুল মিন্নাহ, পৃঃ ৩৪)। অতএব যঈফ হাদীছ কোন ক্ষেত্রেই দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন (১৩/৫৩) : একজন নারী কতজন পুরুষের সাথে পর্দাবিহীন সাক্ষাৎ করতে পারে এবং কোন কোন পুরুষের সাথে তার বিবাহ হারাম?

-হুমায়ূন বাচ্চু, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : এ বিষয়ে সূরা নূর ৩১ আয়াতে ১০ জন পুরুষের কথা বলা হয়েছে, যাদের সাথে নারী পর্দাবিহীন সাক্ষাৎ করতে পারে। যেমন স্বামী, পিতা (দাদা-নানা, চাচা-মামা), শ্বশুর (জামাতা), পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা (বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয়), ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনীপুত্র, কামনাহীন পুরুষ এবং নারী-অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক’। এতদ্ব্যতীত দুগ্ধসম্পর্কীয় ভাই ও অন্যান্যগণ রক্তসম্পর্কীয় ভাই ও অন্যান্যগণের ন্যায় (বুখারী হা/২৬৪৫, ৫১০৩)। তবে সকলে হারাম হ’লেও তাদের সাথে ব্যবহারে তারতম্য থাকবে। যেমন স্বামী, পিতা, পুত্র, ভ্রাতা এবং অন্যান্যগণ সমান নয়।

প্রশ্ন (১৪/৫৪) : ঋতু বন্ধ করার জন্য ঔষধ ব্যবহারে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-ওমর ফারূক

মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর: বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে ডাক্তারের পরামর্শে শারীরিক কোন ক্ষতি না হ’লে এবং সন্তান ধারণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হ’লে ঔষধ ব্যবহার করে সাময়িকভাবে ‘হায়েয’ প্রতিরোধ করা যায় (ফাতাওয়া বিন বায ‘ছিয়াম’ অধ্যায় ফৎওয়া নং ৫৭; ১৫/২০০ পৃঃ)। তবে এথেকে বিরত থাকাই উত্তম। কারণ ফরয ছিয়াম পালনরত অবস্থায় নারীরা ঋতুবতী হলে রাসূল (ছাঃ) ছিয়াম ছেড়ে দিতে এবং তা পরবর্তীতে ক্বাযা করার নির্দেশ দিতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ঋতু অবস্থায় আমাদেরকে ছিয়াম ক্বাযা করার এবং ছালাত ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেওয়া হ’ত (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩২, ‘ক্বাযা ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (১৫/৫৫) : ইবাদতে কোন আগ্রহ পাই না। এক্ষণে ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনের উপায় কি?

-আব্দুল কুদ্দূস, মেহেন্দীগঞ্জ, বরিশাল।

উত্তর: ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনের প্রধান উপায় হ’ল হৃদয়ে খুশূ-খুযূ সৃষ্টি করা। অর্থাৎ ইবাদত সমূহ এই বিশ্বাস নিয়ে করা যে, বান্দা যেন আল্লাহকে দেখছে। অথবা আল্লাহ বান্দাকে দেখছেন (বুখারী হা/৫০; মুসলিম হা/১০২; মিশকাত হা/২)। এছাড়া আরো কিছু পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন (১) স্বীয় আত্মাকে নিয়মিত ইবাদতে অভ্যস্ত করে তোলা (২) অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত করা (বুখারী হা/৬৫০২) (৩) সালাফে ছালেহীনের সৎকর্মের ঘটনাবলী পাঠ করা (৪) অধিকহারে কুরআন তেলাওয়াত করা এবং তা গভীরভাবে অনুধাবন করা (৫) বেশী বেশী মৃত্যুকে স্মরণ করা (তিরমিযী হা/২৩০৭, মিশকাত হা/১৬০৭) (৬) গুনাহ থেকে দূরে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, (১) যে ব্যক্তির নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছুর চাইতে প্রিয় (২) যে ব্যক্তি স্রেফ আল্লাহরর জন্য কাউকে ভালবাসে এবং (৩) যে ব্যক্তি কুফরীতে ফিরে যাওয়াকে ঐরূপ অপসন্দ করে, যেরূপ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে সে অপসন্দ করে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৮)। আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ঐ ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে যে ব্যক্তি প্রতিপালক হিসাবে আল্লাহরর উপর, দ্বীন হিসাবে ইসলামের উপর এবং রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৯)। এগুলি যে কেউ নিজের মধ্যে উপলব্ধি করবে, সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে।

প্রশ্ন (১৬/৫৬) : সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করায় বিভিন্ন বিদ‘আতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

-তাসনীম আলম, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : বিদ‘আতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, তাকে মেনে নেওয়া বা সহযোগিতা করার শামিল। অথচ আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর, অন্যায় ও পাপের কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ২)। সুতরাং এথেকে দূরে থাকা আবশ্যক। বাধ্যগত কারণে অংশগ্রহণ করলে অবশ্যই হৃদয়ে ঘৃণা পোষণ করতে হবে। তবে সেটা হবে দুর্বলতম ঈমান (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)

প্রশ্ন (১৭/৫৭) : শরী‘আতের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান যুগে ছেলে বা মেয়েকে কত বছর বয়সে বিবাহ দেওয়া উচিত?

-আদনান, গুলশান, ঢাকা।

উত্তর : ইসলামী শরী‘আতে এরূপ কোন বয়সসীমা নেই। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন আছে, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও ... তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দিবেন’ (নূর ২৪/৩২)। ছেলে-মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হ’লে বিয়ে দেয়া উচিত। এদেশে সাধারণত ১৫ বছর বয়স হ’লে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যায়। তাই সন্তান অসৎকর্মে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে যথাসম্ভব দ্রুত বিবাহ দেওয়া উচিত। আর এরূপ সম্ভাবনা না থাকলে বিশেষত ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে পরিবার পরিচালনায় আর্থিক সক্ষমতা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায়। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা বিবাহে সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন... (নূর ২৪/৩৩)

প্রশ্ন (১৮/৫৮) : ঈদগাহের পশ্চিম পার্শ্বের দেওয়ালে মেহরাব ও মিম্বর এবং চার পাশে প্রাচীর নির্মাণ করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মোরশেদ আলী, শাজাহানপুর, বগুড়া।

উত্তর : ঈদগাহে মেহরাব ও মিম্বর করার কোন দলীল পাওয়া যায় না। বরং রাসূল (ছাঃ) ফাঁকা ময়দানে ছালাত আদায় করতেন। আব্দুল্লাহর ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) যখন ঈদের দিন বের হ’তেন তখন একটি বর্শা নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিতেন। অতঃপর সেটিকে তাঁর সামনে পুঁতে দেয়া হ’ত। সেটিকে সুতরা বানিয়ে তিনি ছালাত আদায় করতেন। এমতাবস্থায় লোকেরা তাঁর পিছনে থাকত (বুখারী হা/৪৯৪; মুসলিম হা/৫০১, আবুদাঊদ হা/৬৮৭)। তিনি ঈদের ময়দানে মিম্বর ছাড়াই দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। পরবর্তীতে মারওয়ান ইবনুল হাকাম মদীনার গভর্ণর থাকাকালীন ঈদের ময়দানে মিম্বর তৈরী করেন (বুখারী ১/১৩১)।  ছাহাবী, তাবেঈ ও তাবে‘ তাবেঈদের থেকেও এ মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব ঈদগাহে মেহরাব ও মিম্বর নির্মাণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ঈদগাহ হেফাযতের উদ্দেশ্যে প্রাচীর দেওয়া এবং কিবলার স্থানে চিহরন রাখায় কোন দোষু নেই।

প্রশ্ন (১৯/৫৯) : ফেরেশতাগণ কি মৃত্যুবরণ করবেন? এ ব্যাপারে কুরআন বা হাদীছে কিছু বর্ণিত হয়েছে কি?

-মুহাম্মাদ শামীম, জগদল, পঞ্চগড়।

উত্তর : আল্লাহ বলেন, ..এবং শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে। ফলে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়বে যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত। অতঃপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন সকলে দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে (যুমার ৬৮)। অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, আসমান ও যমীনবাসী সকলে মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর সবশেষে মালাকুল মাউত মারা যাবেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহ বাকী থাকবেন, যিনি চিরঞ্জীব (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা যুমার ৬৮ আয়াত)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, সমস্ত সৃষ্টি মৃত্যুবরণ করবে, এমনকি ফেরেশতারাও। অবশেষে মালাকুল মউতও (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/২৫৯, ১৬/৩৪)

প্রশ্ন (২০/৬০) : কুরবানীর জন্য ক্রয়কৃত বা উক্ত উদ্দেশ্যে পোষা পশুর চাইতে উত্তম পেলে তা পরিবর্তন করা যাবে কি?

-আব্দুল লতীফ

রাজপুর, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : পোষা বা ক্রয় করা কোন পশুকে কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট করলে ও সেই মর্মে ঘোষণা দিলে তা আর বদল করা যাবে না। এটি ওয়াকফের মত। তবে যদি নির্দিষ্ট না করে থাকে, তাহ’লে তার বদলে উত্তম পশু কুরবানী দেওয়া যাবে। কোন কোন বিদ্বান উত্তম পশু ক্রয় করার লক্ষ্যে সেটি বিক্রয় করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন। ছাহেবে মির‘আত বলেন, তারা যে দলীলের ভিত্তিতে একথা বলেন তা আলোচ্য বিষয়ের বহির্ভূত (মির‘আতুল মাফাতীহ ৫/১১৮)

প্রশ্ন (২১/৬১) : মসজিদে আয়ের কোন উৎস না থাকায় নীচ তলা মার্কেট করে উপরে ২ ও ৩ তলা মসজিদ নির্মাণ করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-আব্দুল আযীয, বিরামপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : মসজিদের মান অক্ষুণ্ণ রেখে মসজিদের কল্যাণার্থে তার জায়গায় বা নীচতলায় দোকানপাট তৈরী করা শরী‘আতসম্মত। ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, মসজিদের নীচে দোকানপাট তৈরী করা যায়। তাতে কোন দোষ নেই (ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ৩১/২১৮)। মিয়াঁ নাযীর হুসাইন দেহলভী (রহঃ) বলেন, ‘মসজিদের কল্যাণার্থে নীচে ও উপরে দোকানপাট করা যায় (ফাতাওয়া নাযীরিয়াহ ১/৩৬৭ পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, মসজিদের ঐ সকল দোকানপাটে শরী‘আত বিরোধী কোন প্রকার গান-বাজনা, অশ্লীল ছবি ও অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

প্রশ্ন (২২/৬২) : বর্তমানে প্রচলিত অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা এবং অধিকাংশ চাকরীস্থলেই নারী-পুরুষ একত্রে চাকুরী করে। এক্ষণে এসব স্থানে চাকুরী করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-ছাকিব নূর, মিরপুর-২, ঢাকা

উত্তর : প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের একসাথে পড়াশুনা করা সম্পূর্ণরূপে শরী‘আতবিরোধী এবং এটি মানুষের স্বভাব ধর্মের বিরোধী ও পারস্পরিক নীতিবোধের জন্য চরম ক্ষতিকর। আধুনিক বংশধরগণের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসারের অন্যতম প্রধান কারণ হ’ল বেগানা নারী-পুরুষের এই সহাবস্থান। অতএব সর্বতোভাবে একে পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে। বাধ্যগত অবস্থায় এসব স্থানে চাকুরী করতে হ’লে তাকে পূর্ণ পর্দা ও তাক্বওয়া বজায় রেখে চলতে হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠানে পর্দার বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

প্রশ্ন (২৩/৬৩) : জনৈক ব্যক্তি হাদীছ অস্বীকার করে এবং বর্তমানে নবী হিসাবে কেবল মুহাম্মাদ (ছাঃ)-ই অনুসরণীয় সেটা সে বিশ্বাস করে না। এরূপ ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রাখা বা তার যবেহকৃত পশু খাওয়া হালাল হবে কি?

-ছাবের আলী মোল্লা

এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, বিদ্যুৎ ভবন, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : হাদীছকে এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে শেষনবী হিসাবে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফের। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল’ (নিসা ৪/৮০)। তিনি বলেন, রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত হও’ (হাশর ৫৯/৭)। তিনিই শেষনবী। তাঁর পরে আর কোন নবী নেই। আল্লাহ বলেন, মুহাম্মাদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন। বরং তিনি আল্লাহরর রাসূল ও শেষনবী’ (আহযাব ৩৩/৪০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমার ও নবীগণের উদাহরণ একটি প্রাসাদের ন্যায়, যা সুন্দরভাবে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু একখানা ইটের জায়গা খালি ছিল। আমাকে দিয়ে সেই ইটের জায়গাটি বন্ধ করা হয়েছে এবং আমাকে দিয়েই নবীদের সিলসিলা শেষ করা হয়েছে। আমি সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪৫)। আমার পরে আর কোন নবী নেই (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭৫)। প্রত্যেক নবী স্ব স্ব গোত্রের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু আমি মানবজাতির সকলের প্রতি, অন্য বর্ণনায় সকল সৃষ্টজীবের প্রতি প্রেরিত হয়েছি এবং আমাকে দিয়েই নবীদের আগমন সমাপ্ত করা হয়েছে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪৭-৪৮)

আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা পৃথক বিধান ও পন্থা নির্ধারণ করেছি’ (মায়েদাহ ৫/৪৮)। ‘আর আমরা তোমাকে প্রেরণ করেছি মানবজাতির সকলের জন্য সুসংবাদ প্রদানকারী ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে’ (সাবা ৩৪/২৮)। অতএব শেষনবী আগমনের পরে বিগত সকল নবীর শরী‘আত রহিত হয়ে গেছে (ইবনু কাছীর)। যেমন বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূল (ছাঃ) বলেন, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম করে বলছি, এ উম্মতের কেউ যদি আমার আনীত দ্বীন গ্রহণ ব্যতিরেকে মৃত্যুবরণ করে, সে ইহূদী হৌক বা নাছারা হৌক, অবশ্যই সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে’ (মুসলিম হা/১৫৩, মিশকাত হা/১০)

যেহেতু সে কাফের, অতএব তার যবেহকৃত পশু খাওয়া হালাল হবে না। তবে তার সাথে সামাজিক সম্পর্ক রাখা যাবে।

প্রশ্ন (২৪/৬৪) : কুরবানীর চামড়ার মূল্য ঈদগাহ নির্মাণ কাজে ব্যয় করা যাবে কি? কেউ ব্যয় করে ফেললে তার কোন শাস্তি আছে কি?

-মুখলেছুর রহমান, সাতক্ষীরা।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) কুরবানীর চামড়া ছাদাক্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এর বাইরে তা দান করা বৈধ হবে না (তওবা ৬০, বুখারী, মুসলিম হা/১৩১৭; মিশকাত হা/২৬৩৮)। ঈদগাহ নির্মাণ ছাদাক্বা বণ্টনের খাত সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় (তওবা ৯/৬০)। সুতরাং এ কাজে ছাদাক্বার অর্থ ব্যয় করা যাবে না (ফিক্বহুস সুন্নাহ ‘যাকাত বন্টন’ অধ্যায়, ১/৪৭০ পৃঃ, আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়া ২৩/৩২৯ পৃঃ)। ভুলবশতঃ ব্যয় করে ফেললে আল্লাহরর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং সম্ভব হ’লে সমপরিমাণ অর্থ ছাদাক্বার কোন খাতে ব্যয় করবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ছাদাক্বা পাপ মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়’ (তিরমিযী হা/৬১৪, মিশকাত হা/২৯)।  

প্রশ্ন (২৫/৬৫) : ঈদের ছালাতের পর খুৎবার পূর্বে কুরবানী করা যাবে কি?

-আব্দুল মান্নান, নওগাঁ।

উত্তর : বারা বিন ‘আযেব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ঈদুল আযহার দিন আমরা প্রথম ছালাত দিয়ে শুরু করি। অতঃপর ফিরে আসি এবং কুরবানী করি। এক্ষণে যে ব্যক্তি এটা করল, সে আমাদের সুন্নাতের অনুসরণ করল। আর যে ব্যক্তি তার পূর্বে করল, সে তার নিজের পরিবারের জন্য গোশত পাঠালো। এতে কুরবানীর কোন অংশ নেই’ (বুখারী হা/৯৬৫, মুসলিম হা/১৯৬১, মিশকাত হা/১৪৩৫)। এখানে ছালাত বলতে খুৎবাসহ ছালাত বুঝানো হয়েছে। ইবনু কুদামা বলেন, ছালাত ও খুৎবা সম্পন্ন হওয়ার পরই কুরবানী করা হালাল হবে (মুগনী ৯/৪৫২, মাসআলা নং ৭৮৮৩)। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম কেউ খুৎবার পূর্বে কুরবানী করেছেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব এরূপ কাজ হ’তে বিরত থাকাই কর্তব্য। এক্ষণে যদি কেউ বাধ্যগত অবস্থায় খুৎবার পূর্বে কুরবানী করে, তবে তার বিষয়টি বাধ্যগত বলেই গণ্য হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ১৬)

প্রশ্ন (২৬/৬৬) : ‘একবার মাথাব্যথা হ’লে ৬ মাসের গুনাহ মাফ হয়’- এ বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?

-হাশেম রেযা, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : এ কথা সঠিক নয়। তবে মুমিনের কোন বিপদ-আপদ, দুঃখ-বেদনা বা কোন রোগ-ব্যাধি এমনকি পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হয়ে কষ্ট পেলেও এগুলি দ্বারা তার গুনাহ মাফ করা হয় এবং আল্লাহ তার মর্যাদা উঁচূ (বুখারী হা/৫৬৪১; মুসলিম হা/২৫৭২; মিশকাত হা/১৫৩৭)। যদি সে ছবর করে এবং আল্লাহরর ফায়ছালার উপর খুশী থাকে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৯৭)

প্রশ্ন (২৭/৬৭) : ঋতু অবস্থায় সহবাস করলে শিশু বিকলাঙ্গ হয়- একথা কোন শারঈ ভিত্তি আছে কি?

-আব্দুল হালীম

খিরশিন টিকর, রাজশাহী।

উত্তর : এর কোন শারঈ ভিত্তি নেই। ইহূদীরা বলত, স্ত্রীর পিছন থেকে বা সামনে থেকে সঙ্গম করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়। এর প্রতিবাদে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেন ‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেত স্বরূপ। সুতরাং তোমরা তোমাদের ক্ষেতে যেভাবে ইচ্ছা গমন কর’ (বাক্বারাহ ২২৩; বুখারী হা/৪৫২৮; মুসলিম হা/১৪৩৫; মিশকাত হা/৩১৮৩)। অর্থাৎ যেভাবেই মিলিত হও তাতে সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার কোন কারণ নেই। তবে ঋতু অবস্থায় স্ত্রী মিলন করা নিষিদ্ধ (তিরমিযী হা/১৩৫; মিশকাত হা/৫৫১)

প্রশ্ন (২৮/৬৮) : মসজিদে ঈদের ছালাত আদায় করলে তাহিইয়াতুল মসজিদ পড়তে হবে কি?

-রেযওয়ানুল ইসলাম

তাহেরপুর, রাজশাহী।

উত্তর : ঈদের ছালাতে মসজিদে আদায় করা হলে ছালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা এটা মসজিদের সাথে সম্পর্কিত সুন্নাত, ছালাতের সাথে নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় না করে যেন সে না বসে (বুখারী হা/৪৪৪; মুসলিম হা/৭১৪; মিশকাত হা/৭০৪)। শায়খ বিন বায বলেন (রহঃ) বলেন, ঈদের ছালাত মসজিদে আদায় করলে তার পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত করবে, যদিও তখন নিষিদ্ধ সময় হয়। আর ঈদগাহে তা আদায় করলে তার পূর্বে ও পরে কোন ছালাত নেই (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনু বায ১৩/১৫)। শায়খ উছায়মীনও একই কথা বলেন (শারহুল মুমতে‘ ৫/১৫৩, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওছায়মীন ১৬/১৫৪)

প্রশ্ন (২৯/৬৯) : সূরা হিজরের ৮৭ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-আবুল কালাম, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।

উত্তর : অত্র আয়াতে সূরা ফাতিহাকেই মহান কুরআন বলা হয়েছে (ইবনু কাছীর, কুরতূবী উক্ত আয়াতের তাফসীর দ্রঃ)। এর মাধ্যমে সূরা ফাতিহার উচ্চ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। কারণ আস-সাবউল মাছানী সূরা ফাতিহার একটি নাম (তিরমিযী হা/৩১২৪; আবুদাঊদ হা/১৩১)। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘সূরা ফাতিহা হল সাতটি বারবার পঠিতব্য সূরা এবং মহান কুরআন’ (বুখারী হা/৪৭০৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আল-হামদু’ হ’ল সাতটি বারবার পঠিতব্য সূরা এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে’ (বুখারী হা/৪৭০৩)। কারণ এর মধ্যে ইসলামের মূলনীতি সমূহ শামিল রয়েছে (কুরতুবী)। ক্বাতাদাহ বলেন, একে বারবার পঠিতব্য সূরা এজন্য বলা হয়েছে যে, ‘ফরয হৌক নফল হৌক এটি প্রতি রাক‘আতে পাঠ করা হয় (ইবনু কাছীর)। একারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ঐ ব্যক্তির ছালাত সিদ্ধ নয়, যে ব্যক্তি ছালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮২২)

প্রশ্ন (৩০/৭০) : মহিলারা কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য কোন পুরুষের নিকটে যেতে পারবে কি? এক্ষেত্রে প্রয়োজনে নেকাব খুলে রাখা যাবে কি?

-তহূরা আখতার মায়া

গুহলক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর।

উত্তর : এককভাবে চলবে না। কেননা নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, কোন বেগানা পুরুষ কোন বেগানা মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান করলে তাদের তৃতীয় জন হয় শয়তান (তিরমিযী হা/১১৭১, মিশকাত হা/৩১১৮)। তবে যদি কয়েকজনকে একত্রে পূর্ণ পর্দার ব্যবস্থাসহ পড়ানো হয় এবং তাতে কোন ফেৎনার আশংকা না থাকে তাহলে বাধা নেই (বুখারী হা/১০১; ফাৎহুলবারী ২/৪৬৮, হা/৯৭৮-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। সামনা সামনি নয় বরং পর্দার আড়ালে বসতে হবে। আর সামনাসামনি বসলেও নেকাব রাখা এবং দৃষ্টি নত রাখা আবশ্যক (মুসলিম হা/২১৫৯,  মিশকাত হা/৩১০৪; নূর ৩১)

প্রশ্ন (৩১/৭১) : হানাফী মাযহাবের অনুসারী স্বামী ছহীহ হাদীছের আলোকে আমল করাতে বাধা দিচ্ছেন। এক্ষণে স্ত্রী হিসাবে আমার করণীয় কি?

-শিউলী আক্তার

কুঠিবাড়ী, কমলাপুর, ফরিদপুর।

উত্তর : স্বামী ছহীহ হাদীছের উপর আমল করতে বাধা দিলে স্বামী গোনাহগার হবে। এমতাবস্থায় স্ত্রীর করণীয় হ’ল স্বামীকে সদুপদেশ দেয়া এবং ছহীহ হাদীছের উপর আমল করতে উৎসাহিত করা। আর এক্ষেত্রে রাগান্বিত না হয়ে সাধ্যমত সদাচরণের মাধ্যমে তাকে বুঝানো এবং তার হেদায়াতের জন্য আল্লাহরর নিকট বেশী বেশী দো‘আ করা। এরপরেও না বুঝলে স্বামী স্ত্রীর তার ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে না। কারণ সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায় সৃষ্টির প্রতি কোন আনুগত্য নেই’ (শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/৩৬৯৬)

প্রশ্ন (৩২/৭২) : বৃষ্টির কারণে যোহর-আছর এবং মাগরিব-এশা একত্রে আদায় করা যায় কি?

-নাজমুল ইসলাম

পুঠিমারী, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : বৃষ্টি, অসুস্থতা বা কোন ভয়ের কারণে যোহর-আছর এবং মাগরিব-এশার ছালাত একত্রে জমা করে আদায় করা যায় (বুখারী হা/১১৭৪; মুসলিম হা/১৬৩৩-৩৪)

প্রশ্ন (৩৩/৭৩) : তাহাজ্জুদের ছালাত সর্বনিম্ন কত রাক‘আত আদায় করা যায়?

-তরীকুল ইসলাম, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।

উত্তর : তাহাজ্জুদ ছালাত সর্বনিম্ন বিতর সহ ৫ রাক‘আত পড়া যায় (আবুদাঊদ হা/১৪২২, নাসাঈ হা/১৭১২; মিশকাত হা/১২৬৫)। তবে সর্বোচ্চ ১১ অথবা ১৩ রাক‘আত পড়বে (বুখারী. মুসলিম, মিশকাত হা/১২৫৬; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১২৬৪)

প্রশ্ন (৩৪/৭৪): মসজিদের জমির পিছনের জমিওয়ালারা বের হওয়ার জন্য রাস্তা চাচ্ছে। এমতাবস্থায় মসজিদের জমি বিক্রি বা দান করার মাধ্যমে তা দেয়া যাবে কি?

-শামীম রেযা, মালদহ, ভারত।

উত্তর : মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি কাউকে দান করা যাবে না। তবে প্রয়োজনে বিক্রয় করা যায় অথবা এওয়ায করা যায়। ওমর ফারূক (রাঃ) কূফার পুরাতন মসজিদের স্থানটি বিক্রয় করেন এবং অন্য স্থানে মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর পুরাতন মসজিদের জায়গাটি খেজুর বিক্রয়ের বাজার করা হয় (ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/৩১২ পৃঃ, ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ৩১/২১৭ পৃঃ)। অতএব যারা বের হওয়ার জন্য রাস্তা চাচ্ছে, তারা জমি দান করে থাকলেও তা কিনতে পারবে না (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫৪)। তবে মসজিদের স্বার্থ ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ না হয় এরূপভাবে এওয়ায বা দাতা ব্যতীত অন্যের কাছে বিক্রয় করতে পারবে।

প্রশ্ন (৩৫/৭৫) : জিনের আছর হলে কবিরাজের ঝাড়ফুঁক বা তাবীয নাজায়েয হলেও এর দ্বারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিনের আছর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অন্য দিকে এর আশ্রয় না নিলে চরম বিপদে পড়তে হয়। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

-আব্দুর রশীদ, যশোর।

উত্তর : কুরআন-হাদীছ দ্বারা যারা ঝাড়-ফুঁক করে তাদের চিকিৎসা নেওয়া যাবে (বুখারী হা/৫৭৩৬, ‘চিকিৎসা’ অধ্যায়)। এছাড়া আরো কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। যেমন (১) আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম’ পাঠ করা (আ‘রাফ ৭/২০০, বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৪১৮)। (২) নাস ও ফালাক সূরাদ্বয় পাঠ করা (তিরমিযী হা/২০৫৮)। (৩) আয়াতুল কুরসী পাঠ করা (বুখারী হা/২৩১১)। (৪) সূরা বাক্বারাহ তেলাওয়াত করা (মুসলিম হা/৭৮০, মিশকাত হা/২১১৯) অথবা সূরা বাক্বারাহরর শেষের দু’টি আয়াত বেশী বেশী পাঠ করা (তিরমিযী হা/২৮৮২, মিশকাত হা/২১৪৫)

তবে কোন অবস্থাতেই তাবীয ঝুলানো বা দরজা-জানালায় কাগজে লিখে ঘর বন্ধ করা, খুটি বা লোহা পোঁতা ইত্যাদি করা যাবে না। কারণ তাবীয ব্যবহার করা শিরক। অনুরূপ শিরকী কলেমা দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করাও শিরক (সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৯২ ও ৩৩১; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৫৫২)

প্রশ্ন (৩৬/৭৬) : হজ্জ পালনকালে মীক্বাতের বাইরে গেলে পুনরায় মক্কায় প্রবেশের সময় ইহরাম বাঁধা আবশ্যক কি? ইহরাম ব্যতীত প্রবেশ করলে দম দিতে হবে কি?

-মাহবূব, ঢাকা।

উত্তর : ওমরাহ করার নিয়ত না থাকলে হজ্জ পালনকালে মীক্বাতের বাইরে গেলে মীক্বাত থেকে পুনরায় ইহরাম বাঁধার প্রয়োজন নেই। কেননা রাসূল (ছাঃ) মীক্বাত সমূহ নির্ধারণ করে বলেছেন, এগুলি ঐসব অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য এবং তা অতিক্রমকারী অন্য অঞ্চলের লোকদের জন্য যারা হজ্জ ও ওমরাহ পালনের সংকল্প করে’ (বুখারী হা/১৫২৪; মুসলিম হা/১১৮১; মিশকাত হা/২৫১৬)। ওমরার নিয়তে ইহরাম বিহীন অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করলে তাকে দম দিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত মীক্বাত হ’তে হবে মূল মীক্বাত; ‘তান‘ঈম’ বা ‘জি‘ইর্রানাহ’ নয়। কেননা এগুলি শুধুমাত্র মক্কাবাসীদের ওমরার ইহরাম বাঁধার স্থান। অন্যদের জন্য নয় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৫৫৬, ২৬৬৭; ফাৎহুলবারী হা/১৫২৪-এর আলোচনা; দ্রঃ আত-তাহরীক মে’১৪ ফৎওয়া নং ১/২৪১)

প্রশ্ন (৩৭/৭৭) : মোবাইল সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়, মোবাইল রিপিয়ারিং ইত্যাদি ব্যবসায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মুহাম্মাদ রানা, মক্কা, সঊদী আরব।

উত্তর : এগুলির ব্যবসা ও মেরামত করায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। এর ক্ষতিকর বিষয়টির জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানী ও সরকার দায়ী এবং এটি অনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারী দায়ী হবে। আল্লাহ বলেন, একের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না’ (আন‘আম ৬/১৬৪)

প্রশ্ন (৩৮/৭৮): আমরা জানি, ইউসুফ (আঃ) একজন অমুসলিম শাসকের অধীনে অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যেখানে সূদী কারবার এবং অমুসলিম কালচার থাকা স্বাভাবিক। এ দৃষ্টিকোণ থেকে সূদী ব্যাংক বা এনজিওতে চাকরী করা যাবে কি?

-সাইফুল ইসলাম, রংপুর।

উত্তর : সকল নবীই ছিলেন নিষ্পাপ। অতএব ইউসুফ (আঃ) সম্পর্কে কোনরূপ মন্দ ধারণা করা নিষিদ্ধ। সে সময় সূদী কারবার ছিল কি-না তা জানা যায় না এবং তিনি অমুসলিম কালচারের সঙ্গে আপোষ করেছেন এরূপ চিন্তা করাও গোনাহ। তাঁর দোহাই দিয়ে এযুগে সূদী কারবারে যুক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য কেবল শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আনীত শরী‘আতই অনুসরণীয়। পূর্ববর্তী উম্মতগণের জন্য প্রবর্তিত কোন বিধান মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় নয় (মায়েদাহ ৫/৪৮; মুসলিম হা/১৫৩, মিশকাত হা/১০)।   

প্রশ্ন (৩৯/৭৯) : বর্তমানে আমার ৩০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। আমার স্ত্রী, চার মেয়ে, মা এবং দুই ভাতিজা রয়েছে। শরী‘আত অনুযায়ী কে কত অংশ পাবে?

-আমীনুল ইসলাম, রংপুর।

উত্তর : পুরা সম্পত্তিকে ২৪ ভাগ করে ৩ অংশ পাবে স্ত্রী, ৪ অংশ পাবে মা, ১৬ অংশ পাবে চার মেয়ে এবং বাকি ১ অংশ পাবে দুই ভাতিজা।

প্রশ্ন (৪০/৮০) : স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাই। সাধারণ মানুষের দেখা স্বপ্নের কোন গুরুত্ব আছে কি? খারাপ স্বপ্ন দেখলে করণীয় কি?

-নাঈম ইকবাল রাণা, রাজশাহী।

উত্তর : আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন, যা আল্লাহরর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) দুঃখদানকারী স্বপ্ন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে হয় (গ) মনের মধ্যে উদ্ভূত কল্পনা, যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)

তিনি বলেন, যখন তোমরা কেউ ভালো স্বপ্ন দেখবে, তখন আলহামদুলিল্লাহ পড়বে এবং সে নিজের প্রিয় লোকদের কাছে তা বলতে পারে (বুখারী হা/৬৯৮৫)। তিনি বলেন, ‘তোমরা আলেম এবং হিতাকাংখী ব্যতীত কারো নিকটে স্বপ্ন ব্যক্ত করো না’ (তিরমিযী হা/২২৮০)

আর মন্দ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার থুক মেরে ‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম’ বলবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে (মুসলিম হা/২২৬২, মিশকাত হা/৪৬১৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে দাঁড়িয়ে (দু’রাক‘আত) ছালাত আদায় করবে এবং কাউকে বলবে না। কারণ এই স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করে না (মুসলিম হা/২২৬১-৬৩, বুখারী হা/৭০৪৪; মিশকাত হা/৪৬১৩)

উল্লেখ্য যে, সমাজে খারাপ স্বপ্ন দেখলে বা মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে দান-খয়রাত করার যে প্রথা সমাজে চালু আছে তা বিদ‘আত। এগুলো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। বরং মৃত ব্যক্তির মাগফেরাতের জন্য যেকোন সময় দো‘আ ও ছাদাকবা করা যায় (মুসলিম হা/৯২০, ১৬৩১; বুখারী হা/১৩৮৮; মিশকাত হা/১৬১৯, ১৯৫০)

 

 

 

 

 

HTML Comment Box is loading comments...