স্বদেশ-বিদেশ

স্বদেশ

আমি হজ্জ ও তাবলীগের বিরোধী

-মন্ত্রী লতীফ সিদ্দিকী

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতীফ সিদ্দিকী (৭৬) বলেছেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ্জ ও তাবলীগ জামা‘আতের’।

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর রবিবার বিকালে নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইট্সের একটি হোটেলে নিউইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, এ হজ্জে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজ্জের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সঊদী আরবে গিয়েছে। এদের কোন কাম নেই। কোন প্রডাকশন নেই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে’। তিনি হজ্জের উৎপত্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আব্দুল্লাহররর পুত্র মুহাম্মাদ চিন্তা করল এ জাযিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে? তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটি ব্যবস্থা করল যে, আমার অনুসারীরা প্রতি বছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে’।

মন্ত্রীর এরূপ বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মন্ত্রীপরিষদ থেকে বহিষ্কার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে দাবী আসতে থাকে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন যেলায় কমপক্ষে দুই ডজন মামলা হয়। অতঃপর গত ১২ই অক্টোবর তাকে মন্ত্রীসভা থেকে এবং দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এসব শাস্তির ব্যাপারে এবং বক্তব্য প্রত্যাহার বিষয়ে ফোনে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি প্রবল দাম্ভিকতার সাথে বলেন, আমি ধর্মদ্রোহী। আমি আমার বিশ্বাসে অটল রয়েছি। আগামীতে আরও শক্ত কথা বলব। এজন্য যে শাস্তিই দেওয়া হোক না কেন, আমি তা মাথা পেতে নেব। আমি ধর্মদ্রোহী হব। আমার প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই। তবে সক্রেটিস হওয়ার সুযোগ আছে। জানা গেছে, তিনি এখন কলকাতায় আছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরেক ধর্মদ্রোহী বিতাড়িত নাস্তিক তাসলীমা নাসরীন মমতা সরকারকে কটাক্ষ করে দিল্লী থেকে ওয়েব টুইটারে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন।

অসংলগ্ন, উদ্ভট ও অশালীন কথা বলার জন্য পূর্ব থেকেই নিন্দিত এই মন্ত্রীর উক্ত মন্তব্যের পর তাকে ‘বয়স্ক প্রতিবন্ধী’ বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন। এছাড়া তার পুরো পরিবারেরই ‘পাগলের বংশধর’ হিসাবে পরিচিতি রয়েছে।

১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে মোট ২৬টি মামলা হয়েছে এবং যথাসময়ে আদালতে হাযির না হওয়ায় ১৫ই অক্টোবর তার বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাকে মন্ত্রীপরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে এবং প্রাথমিক সদস্যপদ কেন বাতিল করা হবে না, সে মর্মে টাঙ্গাইলে তার বাড়ীর ঠিকানায় তাকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সরকার বলেছে, তার কোন দায়-দায়িত্ব দল বা সরকার নেবে না।

এমদাদিয়া ও মীনা বুক হাউসের ভুলে ভরা কুরআন বাজারে বিক্রি!

সম্প্রতি সিলেটের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে মুদ্রণ ভুলে ভরা কুরআন শরীফের কপি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিউ এমদাদিয়া প্রকাশনী ৩৭, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ কর্তৃক পরিবেশিত ‘কলিকাতা ছাপা ছহীহ নূরানী কোরআন শরীফ’-এর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য ভুল ছাপা হয়েছে। সবুজ ও খয়েরী রংয়ের প্রচ্ছদের (১৭ নং লেমিনেটিং) কুরআন শরীফের কভারে আবৃত কপির ৪৪১ পৃষ্ঠার ২৩ পারায় সূরা ইয়াসীনের ৫৭ আয়াতে ‘সালামুন ক্বাওলাম মির রবিবর রহীম’ আয়াতের মধ্যে ‘সালামুন’ শব্দের পরে অতিরিক্ত শব্দ ‘আলাম আ‘হাদ’ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে আয়াতের অর্থই বিকৃত হয়ে গেছে।

২৯৪-২৯৫ পৃষ্ঠায় সূরা কাহফ-এর ২১ আয়াতের পরে ২২ আয়াত থাকার কথা থাকলেও ৭টি আয়াত ছেড়ে দিয়ে ২৯ আয়াত থেকে শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ২৩ পারায় সূরা ইয়াসীনের স্থলে অন্য একটি সূরার নাম লেখা হয়েছে।

অপরদিকে মীনা বুক হাউস, ৪৫ বাংলা বাজার ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত (১৭ অফসেট ও ১৭ লেমিনেট) কুরআন শরীফের ২৩৪ পৃষ্ঠায় ১২ পারার সূরা হূদের ৯৩ ও ৯৪ আয়াত পরিবর্তন করা হয়েছে। ৯৩ আয়াতে ‘..আযাবুই য়ুখযীহি ওয়ামান হুয়া-ওয়াল্লাযিনা আমানু’ ছাপা হয়েছে। অথচ এখানে ‘..আযাবুই য়ুখযীহি ওয়ামান হুয়া-কাযিবুন’ হবে। ৯৪ আয়াতে ‘নাজ্জাইনা শুয়াইবান-কাযিবুন ওয়ারতাকিবু ইন্নি মা‘আকুম’ ছাপা হয়েছে। অথচ এখানে হবে- ‘নাজ্জাইনা শুয়াইবাওঁ ওয়াল্লাযীনা আমানু মা‘আহু বিরহমাতিম্মীন্না..।’ এরূপ আয়াত বিকৃত হওয়ার কারণে পবিত্র কুরআনের মৌলিক অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়।

[আমরা উক্ত কুরআন অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবী জানাচ্ছি এবং উক্ত কুরআনের সমস্ত কপি আগুনে পুড়িয়ে নিশ্চিহররন করে দেবার আবেদন জানাচ্ছি। এর পিছনে কোন ষড়যন্ত্র থাকলে তা বের করে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি (স.স.)]

দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত তেল-গ্যাস ছাড়াই চলাচলে সক্ষম বিস্ময়কর গাড়ি!

তেল-গ্যাস ছাড়াই চলবে এমন গাড়ি উদ্ভাবন করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বগুড়ার জনৈক যন্ত্রকৌশলী আমীর হোসেন। পরিবেশবান্ধব এই গাড়ির কয়েকটি মডেল ইতিমধ্যেই চলাচল করছে বগুড়া এবং সিলেট শহরে। আমীর হোসেন উদ্ভাবন করেছেন ইলেকট্রিক টারবাইন সিস্টেমের গাড়ি।

নাম দিয়েছেন ‘রফ-রফ তাহিয়া’, যার প্রকৃত অর্থ হ’ল সুন্দর ও দ্রুততম যান। তাঁর উদ্ভাবিত ৫ আসনের ২৫০ কেজি ওযনের গাড়িটি চলতে তেল-মবিল-গ্যাস কিছুই লাগে না। পরিবেশবান্ধব গাড়িটি আরোহীদের নিয়ে চলতেও পারে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে। গাড়ীটির বিশেষত্ব হ’ল এর চার্জ শেষ হয় না। ব্যাটারী চালিত সাধারণ গাড়ীর চার্জ একসময় শেষ হ’লেও এ গাড়ি চলার সময় একই সঙ্গে ব্যাটারীও চার্জ হয়ে যাবে। ফলে আলাদা করে চার্জ করা লাগবে না। সর্বমোট ২৫ টাকায় চলবে পুরো আট ঘণ্টা।

গাড়িটির গতিশক্তির উৎস হিসাবে রয়েছে ৬০ ভোল্টের একটি ইলেকট্রিক টারবাইন মোটর। মোটরটি চলে একটি কার্বন দিয়ে। টানা ৮ ঘণ্টা চলার পর এই কার্বন ক্ষয় হয়ে যায়। তখন এটি ২ মিনিটে পরিবর্তন করে আবার ২৫ টাকা দামের নতুন আরেকটি কার্বন লাগিয়ে নিতে হয়। ধোঁয়াবিহীন হওয়ার কারণে গাড়িটিকে পরিবেশবান্ধব গাড়ি বলা হচ্ছে। প্রচলিত মোটরযানের মতো এতে জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফাংশন নেই বলে এটি ঝুঁকিমুক্ত।

বর্তমানে ৩টি মডেলে এই গাড়ি বানানো হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি কার এবং একটি বাস। তার নির্মিত মোট ৬টি গাড়ি এখন চলমান রয়েছে। ৫ আসনের গাড়ি নির্মাণে প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা খরচ হ’লেও বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত হ’লে এ গাড়িটি কিনতে খরচ পড়বে মাত্র ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা।

[এইসব দেশী প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন করাই কি জাতির কর্তব্য নয়? (স.স.)]

 

বিদেশ

অ্যান্টিবায়োটিক কম দিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বাড়ছে। গত কয়েক বছরে চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়ার হার বেড়েছে। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে গবেষকগণ সতর্ক করেছেন। যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) সংস্থাটির গবেষকেরা বলছেন, অধিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে গুরুতর সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এটা জানা সত্ত্বেও গত চার বছরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেওয়ার হার ১২ শতাংশ বেড়েছে।

গবেষকগণ সতর্ক করে বলেছেন, চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেওয়ার হার অবশ্যই কমাতে হবে। কারণ এই হার বাড়তে থাকলে তা সরাসরি জীবনঘাতী সমস্যা তৈরি করবে, যা আদৌ নিরাময় করা সম্ভব হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে বিশ্ব অর্থনীতির র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে চীন

অবশেষে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটানা দেড়শ’ বছরের প্রাধান্য হারালো যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মধ্য দিয়ে এই কথিত একক পরাশক্তি দেশটির অর্থনৈতিক আধিপত্যের দিনও শেষ হয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনীতির দেশকে পিছনে ফেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নম্বরে উঠে এসেছে চীন। এর আগে বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দেশ জাপানকে তিন নম্বরে ঠেলে দিয়ে তার জায়গা দখল করার সময়ই অনেক অর্থনীতিবিদ চীনের ব্যাপারে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এর আগে ১৮৭২ সালে ব্রিটেনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৫০ বছর তা এখন হারাল। বর্তমানে চীনের অর্থনীতির মূল্য ১৭ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মূল্য ১৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বলে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আইএমএফের হিসাবে বলা হয়েছে।

আইএমএফ মনে করছে, কয়েক দশক ধরে শিল্পায়নের মাধ্যমে চীনের সম্পদ দ্রুত হারে যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে বিশ্ব অর্থনীতির এ শীর্ষস্থান চীন ধরে রাখতে পারবে।

আইএমএফের হিসাবে, ২০১৯ সালের মধ্যে চীনের অর্থনীতি ২৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। অন্যদিকে সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করবে। অর্থাৎ সে সময়ে আমেরিকার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশী থাকবে চীনের অর্থনীতি। অন্যদিকে চীনের পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সস্তা। পণ্যমূল্যে বিরাজমান এই বৈষম্যে সমতা এনে দুই দেশের অর্থনীতি সংক্রান্ত এই হিসাব দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতির শীর্ষ অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে দেয়ার এ ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে থাকবে।