প্রবন্ধ

খেয়াল-খুশির অনুসরণ

মূল : শায়খ মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ
অনুবাদ : মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
কামিল, এম.এ; সহকারী শিক্ষক, হরিণাকুন্ডু সরকারী
বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিনাইদহ।

(২য় কিস্তি)

খেয়ালখুশির অনুসরণের ক্ষতি :

খেয়ালখুশির ইহকালীন ও পরকালীন বহুবিধ ক্ষতি রয়েছে। যা মানুষকে তার কাংখিত বস্ত্ত লাভে বাধা প্রদান করে এবং আল্লাহর যে নে‘মত সে লাভ করেছে তার কথা বেমালূম ভুলিয়ে দেয়। এজন্যই হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের মনের উপর প্রবৃত্তির খবরদারি থেকে তোমরা সাবধান থেকো। কেননা তার তাৎক্ষণিক ফল হ’ল নিন্দা ও লাঞ্ছনা আর সুদূরপ্রসারী ফল হ’ল দুর্বিষহ অবস্থা। যদি তুমি সতর্কীকরণ ও ভীতি প্রদর্শন দ্বারাও মনকে বাগে আনতে না পারার আশংকা কর, তাহ’লে আশা ও উদ্দীপনার মাধ্যমে তাকে সুযোগ দাও। কেননা যখন কোন মানবাত্মার মাঝে আশা ও ভয়ের সন্নিবেশ ঘটে তখন আত্মা তার অনুগত হয়ে যায়।[1]

খেয়ালখুশির অনুসরণের ক্ষতি সমূহ

পরকালীন ক্ষতি :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,فَأَمَّا مَنْ طَغَى، وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا، فَإِنَّ الْجَحِيْمَ هِيَ الْمَأْوَى، وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى، فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى ‘অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালংঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস। আর যে তার প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং নিজের নফসকে কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখে, অবশ্যই জান্নাত হবে তার ঠিকানা’ (নাযি‘আত ৭৯/৩৭-৪১)

ইমাম শা‘বী বলেছেন, سُمِّىَ الْهَوَى هَوًى لِأَنَّهُ يَهْوِى بِصَاحِبِهِ فِي النَّارِ ‘প্রবৃত্তিকে (হাওয়া) এজন্য হাওয়া নাম রাখা হয়েছে যে সে তার মালিককে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।[2] আবুদ্দারদা (রাঃ) বলেছেন, من كان الأجوفان همه خسر ميزانه يوم القيامة ‘দু’টো পেট যার কামনা-বাসনার কেন্দ্রবিন্দু হবে, ক্বিয়ামতের দিন তার দাঁড়িপাল্লার ওযনে ঘাটতি দেখা দিবে’।[3] দু’টো পেট বুঝাতে তিনি উদরের কামনা এবং লজ্জাস্থানের বাসনাকে বুঝিয়েছেন।

প্রবৃত্তির পূজারীদের তুমি কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে প্রবৃত্তির অনুসরণ হেতু তারা পদদলিত হচ্ছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের সাথে দৌড়ে তারা তাল রক্ষা করতে না পেরে কুপোকাত হয়ে পড়বে। যেমনভাবে তারা দুনিয়াতে প্রবৃত্তির পূজারীদের সাহচর্যে থাকার জন্য ধরাশায়ী হয়েছিল। মুহাম্মাদ ইবনু আবুল ওয়ার্দ বলেছেন, إن لله عز وجل يوما لا ينجو من شره منقاد لهواه وان أبطأ الصرعى نهضة يوم القيامة صريع الشهوة ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াস্তে এমন একদিন আসবে যেদিনের ক্ষতি থেকে প্রবৃত্তির পূজারীরা রেহাই পাবে না। প্রবৃত্তির কাছে ধরাশায়ী ব্যক্তিরাই কিয়ামতের দিন ভূপাতিতদের মধ্যে সবচেয়ে দেরিতে উত্থিতদের কাতারে থাকবে’।[4]

আতা (রহঃ) বলেছেন,مَنْ غَلَبَ هَوَاهُ عَقْلَهُ وَجَزَعَهُ صَبْرَهُ افْتُضِحَ ‘প্রবৃত্তি যার বুদ্ধি-বিবেককে পরাস্ত করেছে এবং তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়েছে, বিচার দিবসে তাকে অপদস্থ হ’তে হবে’।[5] অর্থাৎ বিচারের দিন পরকালীন লোকসান ও জাহান্নামে প্রবেশের দরুন তাকে মহালাঞ্ছনার সম্মুখীন হ’তে হবে।

ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেছেন, اَلْهَوَى يُرْدِيْ، وَخَوْفُ اللهِ يَشْفِيْ، وَاعْلَمْ أَنَّ مَا يُزِيْلُ عَنْ قَلْبِكَ هَوَاكَ إِذَا خِفْتَ مَنْ تَعْلَمُ أَنَّهُ يَرَاكَ ‘প্রবৃত্তি ধ্বংস ডেকে আনে, আর আল্লাহভীতি তা থেকে মুক্তি দেয়। জেনে রেখো, তোমার অন্তর থেকে কামনা-বাসনা তখনই দূর হ’তে পারে যখন তুমি সেই সত্তাকে ভয় করবে, যার সম্পর্কে তুমি জান যে, তিনি তোমাকে দেখছেন’।[6]

খেয়ালখুশি গোমরাহির  দিকে  টেনে  নিয়ে যায় : প্রত্যেক ভ্রান্তির মূলে রয়েছে আন্দায-অনুমান ও খেয়ালখুশির অনুসরণ। পথভ্রষ্টদের সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,إِنْ يَتَّبِعُوْنَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ ‘তারা কেবল অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে’ (নাজম ৫৩/২৩)।

এভাবে আন্দায-অনুমান ও প্রবৃত্তি পূজার কারণে তারা পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়। খেয়ালখুশি ও প্রবৃত্তি শুধু তার অনুসারীকেই পথচ্যুত করে ক্ষান্ত হয় না; বরং অন্যদেরও পথহারা করে এবং সরল পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন,إِنَّ كَثِيْرًا لَيُضِلُّوْنَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ ‘অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞতাবশত নিজেদের খেয়ালখুশি দ্বারা অন্যকে বিপথে চালিত করে’ (আন‘আম ৬/১১৯)। অর্থাৎ তারা অন্যদেরকে তাদের কুপ্রবৃত্তি দ্বারা পথভ্রষ্ট করে।

কুরআনী উপদেশ দ্বারা উপকৃত না হওয়া :

খেয়ালখুশি মানুষকে কুরআন বুঝতে এবং কুরআনের উপদেশ ও হুকুম-আহকামের দ্বারা উপকৃত হ’তে বাধা দেয়। প্রবৃত্তির পূজারীরা তো নবী করীম (ছাঃ)-এর মুখ থেকে সরাসরি কুরআন মাজীদ শুনত, তা সত্ত্বেও তারা তা দ্বারা উপকৃত হ’তে পারেনি। তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّى إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوْا لِلَّذِيْنَ أُوْتُوْا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنِفًا أُوْلَئِكَ الَّذِيْنَ طَبَعَ اللهُ عَلَى قُلُوْبِهِمْ وَاتَّبَعُوْا أَهْوَاءَهُمْ ‘তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা তোমার কথা শোনে। কিন্তু যখন তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায় তখন যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের নিকট গিয়ে বলে, ‘এইমাত্র কী বলল লোকটি?’ মূলতঃ এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে’ (মুহাম্মাদ ৪৭/১৬)।

সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর আদেশ-নিষেধে সাড়া না দেওয়া প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশির অনুসরণের প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيْبُوْا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُوْنَ أَهْوَاءَهُمْ ‘যদি এরা তোমার আহবানে সাড়া না দেয় তাহ’লে জেনে রেখ এরা কেবল নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে’ (ক্বাছাছ ২৮/৫০)।

আলী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেছেন,

إِنَّمَا أَخْشَى عَلَيْكُمُ اثْنَتَيْنِ: طُوْلَ الْأَمَلِ، وَاتِّبَاعَ الْهَوَى، فَإِنَّ طُوْلَ الْأَمَلِ يُنْسِيْ الْآخِرَةَ، وَإِنَّ اتِّبَاعَ الْهَوَى يَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ، وَإِنَّ الدُّنْيَا قَدْ تَرَحَّلَتْ مُدْبِرَةً، وَإِنَّ الْآخِرَةَ مُقْبِلَةٌ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُوْنَ، فَكُوْنُوْا مِنْ أَبْنَاءِ الْآخِرَةِ، فَإِنَّ الْيَوْمَ عَمَلٌ وَلاَ حِسَابَ، وَغَدًا حِسَابٌ وَلاَ عَمَلَ

‘আমি তোমাদের জন্য কেবলই দু’টি জিনিসকে ভয় করি। ১. দীর্ঘ আশা ২. খেয়ালখুশির অনুসরণ। কেননা দীর্ঘ আশা পরকালের কথা ভুলিয়ে দেয়; আর খেয়ালখুশির অনুসরণ হক পথ অনুসরণে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। দুনিয়া ক্রমান্বয়ে পিছনে সরে যাচ্ছে, আর আখিরাত সামনে এগিয়ে আসছে। দুনিয়া-আখিরাত প্রত্যেকেরই সন্তান রয়েছে। সুতরাং তোমরা আখিরাতের সন্তান হও। কেননা আজ শুধুই আমল বা কাজের সুযোগ রয়েছে। কোন হিসাব দাখিল করতে হচ্ছে না। কিন্তু কাল (পরকালে) শুধুই হিসাব দিতে হবে। আমল করার কোন সুযোগ থাকবে না’।[7]

অন্তর নষ্ট করে দেয় এবং অন্তর ও নিরাপত্তার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় :

আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, পাঁচটি জিনিস থেকে দূরে না থাকা অবধি মানুষের অন্তর নিরাপদে থাকে না। (১) শিরক থেকে, যা কি-না তাওহীদের বিরোধী (২) বিদ‘আত, যা সুন্নাহর পরিপন্থী (৩) লোভ-লালসা, যা আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণকারী (৪) অলসতা, যা আল্লাহর স্মরণের বিপরীত (৫) প্রবৃত্তি, যা দ্বীনের মধ্যে মশগূল হওয়া এবং খাঁটি মনে ইবাদত করার পরিপন্থী। এই পাঁচটি বিষয় আল্লাহকে পাওয়ার পথে বাধা। এদের প্রত্যেকটার অধীনে আবার অসংখ্য ভাগ রয়েছে। সেজন্য বান্দাকে সর্বদা আল্লাহর নিকট ‘ছিরাতুল মুস্তাকীম’ বা সরল পথের দিশা লাভের জন্য অবশ্যই দো‘আ করতে হবে। আল্লাহর নিকট বান্দা সরল পথ লাভের জন্য দো‘আ থেকে অন্য কোন কিছুর বেশী মুখাপেক্ষী নয় এবং দো‘আ থেকে অধিক উপকারীও অন্য কিছু নেই।[8]

বিবেক ও বিদ্যা লোপ :

খলীফা মু‘তাছিম একদিন আবু ইসহাক আল-মুছীলীকে বলেছিলেন, হে আবু ইসহাক! যখন প্রবৃত্তি জয়যুক্ত হয় তখন বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়’।[9]

ইবনুল ক্বাইয়িম বলেছেন, আমি আমাদের মহান শিক্ষক ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম,إذا خان الرجل في نقد الدراهم سلبه الله معرفة النقد أونسيه. فقال الشيخ: هكذا من خان الله تعالى ورسوله في مسائل العلم ‘যখন কোন ব্যক্তি দিরহাম খাঁটি না নকল তা যাচাই করতে গিয়ে জোচ্চুরি করে, তখন আল্লাহ তা‘আলা তার থেকে মুদ্রা যাচাইয়ের যোগ্যতা ছিনিয়ে নেন অথবা সে যাচাই পদ্ধতি ভুলে যায়। তিনি শুনে বললেন, এমনিভাবে যে বিদ্যার বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে গাদ্দারি করে তার পরিণতিও একই ঘটে’।[10] সুতরাং জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে যে খেয়ালখুশির অনুসরণ করে আল্লাহ তা‘আলা তার বিবেক ও বিদ্যা ছিনিয়ে নেন।

নিজের অজান্তে ঈমান শূন্য হওয়া :

আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ- وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُوْنَ ‘তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনাও, যাকে আমরা আমাদের নিদর্শন সমূহ দিয়েছিলাম, তারপর সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। পরে শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে সম্পূর্ণ গোমরাহ লোকদের দলভুক্ত হয়ে পড়ে। অথচ আমরা চাইলে তাকে এ নিদর্শনসমূহ দ্বারা উচ্চমর্যাদা দান করতে পারতাম। কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতিই আসক্ত হয়ে পড়ল এবং তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। তার উদাহরণ হচ্ছে কুকুরের মত, তুমি তার উপরে বোঝা চাপালে সে হাঁপাতে থাকে, আবার তুমি তাকে ছেড়ে দিলেও সে হাঁপাতে থাকে। এটা হচ্ছে ঐসকল লোকের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের আয়াত সমূহ অস্বীকার করেছে। সুতরাং এসব কাহিনী তুমি বর্ণনা কর, হয়তবা তারা চিন্তা-ভাবনা করবে’ (আ‘রাফ ৭/১৭৫-১৭৬)।

জনৈক আলিম বলেছেন, চারটি আচরণের মধ্যে কুফর নিহিত। রাগের মধ্যে, কামনা-বাসনার মধ্যে, আসক্তির মধ্যে এবং ভয়-ভীতির মধ্যে। তন্মধ্যে আমি নিজে দু’টো দেখেছি। এক ব্যক্তিকে দেখেছি সে রেগে গিয়ে তার মাকে খুন করে ফেলেছিল। আরেক ব্যক্তিকে দেখেছি প্রেমের টানে খৃষ্টান হয়ে গিয়েছিল।[11]

একবার এক ব্যক্তি কা‘বা ঘর তাওয়াফ করছিল। এ সময় সে একজন সুন্দরী মহিলা দেখে তার পাশে পাশে হাঁটতে থাকে আর বলতে থাকে, আমি তো দ্বীনের প্রেমে দিওয়ানা অথচ সুন্দরের আকর্ষণ আমাকে পাগলপরা করে তুলেছে। এখন আমি এই সুন্দরী আর দ্বীনের মহববতের কীভাবে কি করি? সেই মহিলা তখন বলল, তুমি একটা ছাড় তাহ’লে অন্যটা পাবে।[12] এতেই বুঝা যায়, কামনা-বাসনা আর দ্বীন কখনই একত্রিত হ’তে পারে না।

বিনাশ সাধনকারী :

আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ثَلَاثٌ مُهْلِكَاتٌ شُحٌّ مُطَاعٌ وَهَوًى مُتَّبَعٌ وَإِعْجَابُ الْمَرْءِ بِنَفْسِهِ وَهِيَ أَشَدُّهُنَّ- ‘তিনটি জিনিস ধ্বংস সাধনকারী। (১) প্রবৃত্তি পূজারী হওয়া (২) লোভের দাস হওয়া এবং (৩) আত্ম অহংকারী হওয়া। আর এটিই হ’ল সবচেয়ে মারাত্মক।[13]

ওয়াহহাব ইবনু মুনাবিবহ (রহঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, দ্বীনের উপর চলতে চরিত্রের যে গুণটি সবচেয়ে বড় সহায়ক তা হ’ল দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি বা নির্লোভ জীবনযাপন। আর যে দোষটি মানুষকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে টেনে নেয় তাহ’ল প্রবৃত্তির অনুসরণ। প্রবৃত্তির অনুসরণের একটি হ’ল দুনিয়ার প্রতি আসক্তি। আর দুনিয়ার প্রতি আসক্তির মধ্যে রয়েছে সম্পদ ও সম্মানের প্রতি মোহ। আর সম্পদ ও সম্মানের মোহে মানুষ হারামকে হালাল করে নেয়। এভাবে যখন হারামকে হালাল করে নেওয়া হয় তখন আল্লাহ তা‘আলা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। আর আল্লাহর ক্রোধ এমন রোগ যার ঔষধ একমাত্র আল্লাহর সন্তোষ। আল্লাহর সন্তোষ এমন ঔষধ যে তা পেলে কোন রোগই ক্ষতি করতে পারবে না। আর যে তার রবকে খুশি করতে চায় তার নিজের মনকে নাখোশ করতে হয়। কিন্তু যে নিজের মনকে নাখোশ করতে রাযী নয় সে তার রবকে খুশি করতে পারে না। কোন মানুষের উপর দ্বীনের কোন বিষয় ভারী মনে হ’লে সে যদি তা বর্জন করে তাহ’লে এমন একটা সময় আসবে যখন তার নিকট দ্বীনের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না’।[14]

বান্দার জন্য সামর্থ্যের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া :

ফুযাইল ইবনু ইয়ায (রহঃ) বলেছেন, من استحوذ عليه الهوى واتباع الشهوات انقطعت عنه موارد التوفيق ‘খেয়ালখুশি ও প্রবৃত্তির তাবেদারী যার উপর বিজয়ী হয় তাওফীক বা সামর্থ্যের সকল রাস্তা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়’।[15] খেয়ালখুশির অনুসারী তার জীবনপথে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। সরল পথের দিশা লাভে সে সমর্থ হয় না। কারণ সে হেদায়াত ও তাওফীকের মূল উৎস থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সে তার খেয়ালখুশির অনুসারী হয়ে পড়েছে। কুরআন-সুন্নাহর অনুসারী সে নয়; তাহ’লে সে কী করে সঠিক পথের দিশা লাভে সমর্থ হবে? আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ‘তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেছ, যে নিজের খেয়ালখুশিকে তার প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলা জেনেশুনে তাকে গোমরাহ করে দিয়েছেন? তার কান ও তার অন্তরে তিনি মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখে এঁটে দিয়েছেন পর্দা। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলার পরে কে হেদায়াত দান করবে? তারপরও কি তোমরা কোন উপদেশ গ্রহণ করবে না’? (জাছিয়া ৪৫/২৩)।

আল্লাহর আনুগত্য বিলীন হওয়া :

প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তি নিজেকে অনেক বড় মনে করে। ফলে তার পক্ষে অন্যের আনুগত্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি তার স্রষ্টার আনুগত্যও। কিছু লোককে তো একমাত্র তাদের প্রবৃত্তিই কুফরীতে নিক্ষেপ করেছে। কারণ খেয়ালখুশি তার মনে বাসা বেঁধেছে এবং তার নফসের উপর একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করেছে। ফলে সে খেয়ালখুশির হাতে বন্দী ও তার প্রতারণার শিকার হয়েছে। মানুষের মধ্যে তো দু’টো অন্তর নেই। অন্তর একটাই। হয় সে তার প্রভুর আনুগত্য করবে, অথবা তার নফস, প্রবৃত্তি ও শয়তানের আনুগত্য করবে।

পাপ-পঙ্কিলতাকে তুচ্ছ মনে করা :

প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তির মন কঠোর হয়ে যায়। আর মন যখন কঠোর হয়ে যায় তখন সে গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَّقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوْبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ- فَقَالَ بِهِ هَكَذَا ‘একজন মুমিন তার পাপকে এতটাই ভয়াবহ মনে করে যেন সে একটা পাহাড়ের নিচে বসে আছে, আর সে পাহাড়টা তার উপর ধ্বসে পড়ার ভয় করছে। কিন্তু পাপাচারী ব্যক্তি তার পাপকে তার নাকের উপর বসা মাছির তুল্য মনে করে (যাকে সে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার নাকের উপর হাত নিয়ে ইশারায় তা বুঝিয়ে দিলেন।[16]

দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত চালুর মাধ্যম :

হাম্মাদ ইবনু আবী সালামা বলেন, রাফেযী বা শী‘আদের একজন গুরু- যে কি-না তার ভ্রান্ত মত থেকে তওবা করেছিল, সে আমার নিকট বলেছে, আমরা কোন সভায় জড় হয়ে কোন কিছুকে ভাল মনে করলে আমরা সেটাকে হাদীছ বানিয়ে নিতাম’।[17]

সংকীর্ণ জীবন ও মানুষের সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টির উপলক্ষ :

মানুষের মাঝে যে হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা ও অনিষ্টতার প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়, তার মূলে রয়েছে খেয়ালখুশির অনুসরণ। সুতরাং যে তার খেয়ালখুশির  বিরোধিতা করবে সে তার দেহ-মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আরামে রাখবে। এতে সে নিজেও আরামে থাকবে এবং অন্যকেও স্বস্তিতে থাকতে দিবে। আর যে নিজের খেয়ালখুশির আনুগত্য করে সে অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন যাপন করে। লোকদের সে ঘৃণা করে, লোকেরাও তাকে ঘৃণা করে।

ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেছেন, إقدعوا هذه النفوس عن شهواتها، فإنها طلاعة تنزع إلى شر غاية. إن هذا الحق ثقيل مرىء، وإن الباطل خفيف وبيء، وترك الخطيئة خير من معالجة التوبة. ورب نظرة زرعت شهوة، وشهوة ساعة أورثت حزنا طويلا- ‘তোমরা তোমাদের মনগুলোকে লোভ-লালসা থেকে দূরে রাখো। কেননা তা কৌতূহলী। তা তোমাদেরকে চূড়ান্ত মন্দের দিকে ঠেলে দেয়। নিশ্চয়ই ন্যায় ও সত্য ভারী এবং চোখের সামনে সুস্পষ্ট। আর বাতিল হাল্কা ও ব্যাধিযুক্ত। পাপ পরিহার করা পাপ করার পর তওবা করার প্রবণতা থেকে অনেক উত্তম। আর অনেক দৃষ্টি মনে কামনা-বাসনার বীজ বপন করে। আর এক মুহূর্তের কামনা-বাসনা অনেক সময় দীর্ঘকালীন দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়’।[18]

আবুবকর আল-ওয়ার্রাক বলেছেন, যখন খেয়ালখুশি জয়যুক্ত হয় তখন হৃদয় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আর হৃদয় যখন অন্ধকার হয়ে যায় তখন মন সংকীর্ণ হয়ে যায়। মন যখন সংকীর্ণ হয়ে যায় তখন চরিত্র খারাপ হয়ে যায়। আর চরিত্র যখন খারাপ হয়ে যায় তখন সৃষ্টিকুল তাকে ঘৃণা করতে শুরু করে, আবার সেও তাদের ঘৃণা করতে আরম্ভ করে’।[19]

তারপর মানুষের বয়স বাড়তে বাড়তে যখন সে বার্ধক্যে উপনীত হয় তখন সে খেয়ালখুশির অনুসরণের কুফল হাতে নাতে পেয়ে থাকে। জনৈক কবি বলেছেন,

مَآرِبُ كَانَتْ فِي الشَّبَابِ لِأَهْلِهَا

 عِذَابُ فَصَارَتْ فِي الْمَشِيْبِ عَذَابًا

‘যৌবনে যেসব কাজ-কর্ম ও প্রয়োজন পূরণ ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও মধুময়, বৃদ্ধকালে সেগুলোই আযাব-গযবে রূপান্তরিত হয়েছে।[20]

নিজের উপর শত্রুর খবরদারির সুযোগ তৈরী করে দেওয়া :

শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। আর তার সবচেয়ে হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু তার বিবেক-বুদ্ধি। সে তাকে ফেরেশতাসুলভ কল্যাণের পথের দিশা দেয়। কিন্তু কোন ব্যক্তি যখন তার খেয়ালখুশির অনুসরণ করতে শুরু করে তখন সে নিজেকে নিজ হাতে শত্রুর কাছে সমর্পণ করে এবং তার বন্দিত্ব বরণ করে। এতে নিজের উপর নিজে সহনাতীত মুছীবত, দুর্ভাগ্যের বেড়ি, মন্দ ফায়ছালা এবং শত্রুদের হাসি-তামাশার সুযোগ তৈরী করে নেওয়া হয়।

বলা হয়, যখন তোমার উপর তোমার বিবেক জয়যুক্ত হয় তখন সে তোমার থাকে। আর তোমার খেয়ালখুশি যখন তোমার উপর জয়যুক্ত হয় তখন তা তোমার শত্রুর জন্য হয়ে যায়।[21]

মানুষের দুর্নাম ও সমালোচনা কুড়ান :

খেয়ালখুশির অনুসরণে মানুষের সমালোচনার পাত্র হ’তে হয়। কথিত আছে যে, হিশাম ইবনু আব্দুল মালিক তার জীবনে এই একটি মাত্র কবিতার লাইন ছাড়া কোন কবিতা বলেননি।

إِذَا أَنْتَ لَمْ تَعْصِ الْهَوَى قَادَكَ الْهَوَى

إِلَى بَعْضِ مَا فِيْهِ عَلَيْكَ مَقَالُ

‘যখন তুমি তোমার খেয়ালখুশির অবাধ্য হ’তে না পারবে তখন খেয়ালখুশি তোমাকে এমন কিছুর দিকে চালিয়ে নিয়ে যাবে, যে জন্য তোমাকে অন্যের সমালোচনা শুনতে হবে’।[22]

ইবনু আব্দিল বার্র বলেছেন, তিনি যদি إلى بعض ما فيه عليك مقال (কিছু সমালোচনামূলক কাজের দিকে পরিচালনা করার) স্থলে إلى كل ما فيه عليك مقال (সকল সমালোচনামূলক কাজের দিক পরিচালিত করার) কথা বলতেন, তাহ’লে সেটাই অধিক অর্থপূর্ণ ও সুন্দর হ’ত।[23]

ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেছেন,

إِذَا حَارَ أَمْرُكَ فِيْ مَعْنَيَيْنِ + وَأَعْيَاكَ حَيْثُ الْهَوَى وَالصَّوَابْ

فَدَعْ مَا هَوَيْتَ فَإِنَّ الْهَوَى + يَقُوْدُ النُّفُوْسَ إِلَى مَا يُعَابْ

‘যখন কোন বিষয়ের দু’ধরনের অর্থের কোনটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে তুমি দ্বিধান্বিত হয়ে পড় এবং কোনটা শরী‘আত সম্মত সঠিক অর্থ আর কোনটা খেয়ালখুশির অনুসরণ তা নির্ণয়ে যদি তুমি অক্ষম হও, তাহ’লে তোমার খেয়ালখুশিরটা বাদ দাও। কেননা খেয়ালখুশি মনকে দূষণীয় পথে পরিচালিত করে’।[24]

অপমান-অপদস্থতার কারণ :

মানুষ খেয়ালখুশির অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে অপদস্থতার শিকার হ’তে হয়। ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেছেন,

وَمِنَ الْبَلاَءِ وَلِلْبَلاَءِ عَلاَمَةٌ + أَنْ لاَ تَرَى لَكَ عَنْ هَوَاكَ نُزُوْعُ

اَلْعَبْدُ عَبْدُ النَّفْسِ فِيْ شَهْوَاتِهَا + وَالْحُرُّ يَشْبَعُ مَرَّةً وَيَجُوْعُ

‘বালা-মুছীবতের কিছু লক্ষণ আছে। যেমন- তুমি তোমার খেয়ালখুশির খপ্পর থেকে বের হওয়ার কোন পথ খুঁজে পাবে না। যে লোভ-লালসার দাস সেই প্রকৃত দাস; আর যে কখনো তৃপ্ত, কখনো ক্ষুধার্ত সেই প্রকৃত স্বাধীন’।[25]

জনৈক দার্শনিককে খেয়ালখুশি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেছিলেন, খেয়ালখুশির আরবী هوى শব্দটি هَوَانٌ থেকে আগত। যার অর্থ অপমান-লাঞ্ছনা। আরবী هَوَانٌ থেকে ن বর্ণটি চুরি হয়ে গেছে। একজন কবিও এই অর্থে পংক্তি রচনা করেছেন-

نُوْنُ الْهَوَانِ مِنَ الْهَوَى مَسْرُوْقَةٌ + فَإِذَا هَوَيْتَ فَقَدْ لَقِيْتَ هَوَانَا

هَوَانٌ (অপমান) থেকে نون চুরি/লুপ্ত হয়ে هَوَى (খেয়ালখুশি) হয়ে গেছে। সুতরাং তুমি যখন খেয়ালখুশির অনুসরণ করবে তখন অপমানের শিকার হবে।[26]

আরেক কবি বলেছেন,

وَلَقَدْ رَأَيْتُ مَعَاشِرًا جَمَحَتْ بِهِمْ + تِلْكَ الطَّبِيْعَةُ نَحْوَ كُلِّ تَبَارِ

تَهْوَى نُفُوْسُهُمْ هَوَى أَجْسَامِهِمْ  +  شُغْلاً بِكُلِّ دَنَاءَةٍ وَصَغَارِ

تَبِعُوا الْهَوَى فَهَوَى بِهِمْ وَكَذَا الْهَوَى + مِنْهُ الْهَوَانُ بِأَهْلِهِ فَحَذَارِ

فَانْظُرْ بِعَيْنِ الْحَقِّ لاَ عَيْنَ الْهَوَى  +  فَالْحَقُّ لِلْعَيْنِ الْجَلِيَّةِ عَارِ

قَادَ الْهَوَى الْفُجَّارَ فَانْقَادُوْا لَهُ   +  وَأَبَتْ عَلَيْهِ مَقَادَةُ الْأَبْرَارِ

(১) ‘আমি অনেক জনগোষ্ঠীকে দেখেছি আদত-অভ্যাস তাদেরকে সকল প্রকার ধ্বংসের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছে।

(২) তাদের দেহের চাহিদার অনুকূলে তাদের মন সবরকম নিকৃষ্ট ও হীন কাজ বেছে নিয়েছে।

(৩) তারা খেয়ালখুশির অনুগত হয়েছে, ফলে তা তাদেরকে পতনের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনুরূপভাবে খেয়ালখুশি তার অনুসারীকে লাঞ্ছনার শিকার বানিয়ে ছাড়ে। সুতরাং খেয়ালখুশির অনুসরণ থেকে সাবধান থাক।

(৪) সত্য ও ন্যায়ের চোখ দিয়ে দেখ, খেয়ালখুশির চোখ দিয়ে দেখো না। কেননা দিব্যদৃষ্টির সামনে সত্য ঢাকা পড়ে না।

(৫) খেয়ালখুশি পাপাচারীদের পরিচালনা করে; ফলে তারা তার অনুগত হয়ে যায়। কিন্তু সৎ লোকেরা তার অনুগত হয়ে চলতে রাযী নয়।[27]

[চলবে]



[1]. আল-মাওয়ার্দী, আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন, পৃঃ ২১

[2]. দারেমী হা/৩৯৫, সনদ যঈফ।

[3]. ইবনুল মুবারক, আয-যুহুদ, পৃঃ ৬১২।

[4]. ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়াহ ২/৩৯৫

[5]. ইবনুল জাওযী, যাম্মুল হাওয়া, পৃঃ ২৭

[6]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৮৪১, আবু নু‘আঈম ইস্পাহানী, হিলয়াতুল আওলিয়া ৮/১৮।

[7]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৪৪৯৫।

[8]. ইবনুল ক্বাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফী,  পৃঃ ৫৮-৫৯।

[9]. খতীব বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ ২/৩১১।

[10]. ইবনুল ক্বাইয়িম, রাওযাতুল মুহিববীন, পৃঃ ৪৮০।

[11]. ইবনুল জাওযী, যাম্মুল হাওয়া, পৃঃ ২৪।

[12]. রাওযাতুল মুহিববীন, পৃঃ ৪৭৯।

[13]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৭৪৫, মিশকাত হা/৫১২২; ছহীহ তারগীব হা/৫০, ছহীহাহ হা/১৮০২।

[14]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৫১৬৮।

[15]. রাওযাতুল মুহিববীন, পৃঃ ৪৭৯।

[16]. বুখারী হা/৬৩০৮।

[17]. খতীব বাগদাদী, আল-জামে‘ লি-আখলাকির রাবী, ১/১৩৮।

[18]. জাহিয, আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন, পৃঃ ৪৫৪।

[19]. যাম্মুল হাওয়া, পৃঃ ২৯।

[20]. ইবনুল ক্বাইয়িম, আল-ফাওয়ায়েদ, পৃঃ ৪৬।

[21]. ইবনু আব্দিল বার্র, বাহজাতুল মাজালিস ওয়া উনসুল মাজালিস, পৃঃ ১৭২।

[22]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৯/৩৫২।

[23]. বাহজাতুল মাজালিস ওয়া উনসুল মাজালিস, পৃঃ ১৭১।

[24]. ঐ, পৃঃ ১৭১।

[25]. ইবনু আসাকির, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক ৩২/৪৬৮।

[26]. তাফসীরুল কুরতুবী ১৬/১৬৮।

[27]. ইবনুল জাওযী, আত-তাবছিরাহ ১/১৫৫।

  

 

 

 

 

 


HTML Comment Box is loading comments...