বিজ্ঞান ও বিস্ময়

বজ্রপাতের সাহায্যে মুঠোফোন চার্জ

যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী বজ্রপাতের সাহায্যে প্রথমবারের মতো মোবাইলের ব্যাটারী চার্জ করেছেন। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় ও মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নকিয়ার গবেষকেরা যৌথ উদ্যোগে ওই পরীক্ষা চালিয়ে সফল হন। তবে ঘরোয়াভাবে এ ধরনের পরীক্ষা চালাতে জনসাধারণকে নিষেধ করে দিয়েছে নকিয়া কর্তৃপক্ষ। কারণ, এতে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষক নিল পালমার বলেন, তারা একটি ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে গবেষণাগারে বজ্রের আলোর ঝলকানি তৈরী করেন এবং তা থেকে শূন্যে ৩০ সেণ্টিমিটার স্থান জুড়ে দুই লাখ ভোল্টের বিদ্যুৎপ্রবাহ চালনায় সমর্থ হন। এ পরীক্ষায় সাফল্যের ফলে বজ্রের মতো প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার দিকে আরেক ধাপ অগ্রগতি হ’ল।

খোঁজ মিলেছে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের!

মানুষের ইন্দ্রিয় পাঁচটি। চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বক। কিন্তু মানুষের আরেকটি ইন্দ্রিয়ও আছে, যাকে গবেষকেরা এতদিন ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে আসছেন। যা দেখা যায় না, ছোঁয়াও যায় না; শুধু অনুভব করা যায়। এর অবস্থান কোথায় এতদিন তাও ছিল অজানা। এবার মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের অস্তিত্বের কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা। নেদারল্যান্ডসের ইউট্র্যাক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা আটজন ব্যক্তিকে নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। এতে প্রত্যেকের মস্তিষ্কের একটি মানচিত্র পান তারা। গবেষকদের দাবী, তারা মস্তিষ্কের যে মানচিত্রটি পেয়েছেন সে অঞ্চলটিই মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি তৈরী করে।

দুর্ঘটনা ঠেকাবে ‘মনোযোগী গাড়ি’

দ্রুতগতিতে ছুটন্ত গাড়িতে চালকের মোবাইলে হঠাৎ কল বেজে উঠলে তার মনোযোগ স্বভাবতই সেদিকে চলে যায়। এরূপ অবস্থাতেই ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এ রকম পরিস্থিতিতে চালকের অসতর্কতার ব্যাপারটি যদি গাড়িটি বুঝতে পেরে গতি কমিয়ে দিত, তাহ’লে বহু দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক এবার বাস্তবেই এ রকম একটি অভিনব গাড়ী তৈরী করেছেন। এই গাড়িতে থাকবে এমন স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা গাড়ি চালনার সময় চালকের মস্তিষ্কের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে এবং মনোযোগ বিঘ্নিত হ’লেই গতিসীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিয়ে দেবে। এছাড়া এ ব্যবস্থা চালকের ঘুম আসা, চোখের নড়াচড়া সহ ১৪ ধরনের গতিবিধি লক্ষ্য করবে।

দেহঘড়ির ‘রিসেট বাটন’ আবিষ্কার

আকাশপথে দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা রাতের পালায় একটানা কাজ করলে চরম ক্লান্তি বা যন্ত্রণায় ভুগতে হয়। এতে মানবদেহের স্বাভাবিক সময়সূচি বা দেহঘড়ির নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এবার মানুষের দেহঘড়ির ‘রিসেট বাটন’ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে অনিয়মিত যাত্রা বা জাগরণের প্রভাবে অনিদ্রা, শারীরিক অবসাদ ও ক্লান্তি ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। সায়েন্স সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবমস্তিষ্কেই ওই রিসেট বাটন রয়েছে। কেউ যখন একটি সময়-মন্ডল থেকে আরেকটিতে (যেমন লন্ডন থেকে বেইজিং) যাবেন, তখন মাত্র এক দিনেই রিসেট বাটনের সাহায্যে তাঁর দেহঘড়ির সময়ও পাল্টে ফেলবে।