প্রবন্ধ

মানব জাতির সাফল্য লাভের উপায়

হাফেয আব্দুল মতীন

লিসান্স ও এম.এ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

(৮ম কিস্তি)

১৫. ইলম অর্জন করা :

দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা সবার জন্য আবশ্যক। দুনিয়াতে চলার জন্য ও ইবাদত করার জন্য দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা ফরয। অপরপক্ষে দ্বীনের খেদমত করার জন্য এবং দ্বীনের প্রচার-প্রসারে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। কারণ একজন প্রকৃত আলেম একটি জাতি বা দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। আর কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। ইমাম বুখারী (রহঃ) ছহীহ বুখারীতে ‘কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন করা’ শিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং তার প্রমাণে কুরআনুল কারীমের নিম্নোক্ত আয়াতটি নিয়ে এসেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاعْلَمْ أَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ  ‘সুতরাং জেনে রেখ, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই’ (মুহাম্মাদ ৪৭/১৯)।[1] তিনি আরো বলেন, اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِيْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ- ‘পড়, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিন্ড হ’তে। পড় এবং তোমার প্রতিপালক মহা মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে (এমন জ্ঞান) যা সে জানতো না’ (আলাক্ব ৯৬/১-৫)। মানুষ শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে। এজন্য মহান আল্লাহ যারা জানে এবং যারা জানে না তাদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেন, قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِيْنَ يَعْلَمُوْنَ وَالَّذِيْنَ لاَ يَعْلَمُوْنَ ‘বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান’? (যুমার ৩৯/৯)। যে ব্যক্তি যত বেশী জানবে সে তত বেশী আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করতে সচেষ্ট হবে এবং অহংকার করা থেকে দূরে থাকবে। সাথে সাথে প্রত্যেকটি কাজে আল্লাহকে বেশী-বেশী ভয় করবে। এটাই একজন আলেমের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّمَا يَخْشَى اللهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء إِنَّ اللهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে; আল্লাহ পরক্রমশালী ক্ষমাশীল’ (ফাতির ৩৫/২৮)। তিনি আরো বলেন,شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ وَالْمَلاَئِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ‘আল্লাহ সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোন সত্য মা‘বূদ নেই এবং ফেরেশতাগণ, ন্যায়নিষ্ঠ বিদ্বানগণও (সাক্ষ্য প্রদান করেন) তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়’ (আলে ইমরান ৩/১৮)।

বর্তমানে অনেক আলেম ও সাধারণ মানুষ তাদের সন্তান-সন্ততিকে দ্বীনী ইলম শিক্ষা দিতে চান না। এটা অতি পরিতাপের বিষয় বৈ কি? কেননা দ্বীনী ইলম না থাকলে, দ্বীনের খিদমতে এগিয়ে আসবে কিভাবে? এজন্য মহান আল্লাহ বলেন,وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةً فَلَوْلاَ نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوْا فِي الدِّيْنِ وَلِيُنذِرُوْا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوْا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُوْنَ ‘সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হ’তে এক একটি ছোট দল বহির্গত হয়, যাতে তারা দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করতে পারে, আর যাতে তারা নিজ কওমকে (নাফরমানী হ’তে) ভয় প্রদর্শন করে, যখন তারা ওদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে, যেন তারা সতর্ক হয়’ (তওবাহ ৯/১২২)। সেকারণ কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা সবার জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। এমর্মে রাসূল (ছাঃ) বলেন, طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ  ‘প্রত্যেক মুসলমানের উপর জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরয’।[2]

ইলম অর্জন দ্বারাই ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, يَرْفَعِ اللهُ الَّذِيْنَ آمَنُوْا مِنكُمْ وَالَّذِيْنَ أُوتُوْا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন; তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত’ (মুজাদালাহ ৫৮/১১)।

ইলম অর্জন করা কল্যাণ লাভের উপায়। আল্লাহ যার কল্যাণ চান সে ব্যক্তিই এ পথের পথিক হয়। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِ، ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকেই দ্বীনের ইলম দান করেন’।[3]

ইলম অর্জন করলে জান্নাতে যাবার পথ সহজ হয়। আর যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য পথ চলে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন’।[4] ইলম অর্জনের মাধ্যমে নবীগণের উত্তরাধিকারী হওয়া যায়। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,إِنَّ الْعُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوْا دِيْنَارًا وَلاَ دِرْهَمًا إِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ ‘আলেমগণই হ’লেন নবীগণের উত্তরাধিকারী। নবীগণ দীনার বা দিরহামের উত্তরাধিকারী করেন না। নিশ্চয়ই তাঁরা ইলমের উত্তরাধিকারী করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে বৃহদাংশ গ্রহণ করল’।[5]

ইলম অর্জন করে অপরকে শিক্ষা দিলে, সে অনুযায়ী আমলকারী যে নেকী পাবে, শিক্ষাদাতাও অনুরূপ নেকী পাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا فَلَهُ أَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهِ لاَ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الْعَامِلِ ‘যে ব্যক্তি দ্বীনী ইলম শিক্ষা দিবে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় ছওয়াব পাবে, যে তার উপর আমল করল। কিন্তু আমলকারীর ছওয়াব থেকে একটুকুও কমানো হবে না’।[6]

জ্ঞান অর্জনকারীর উপর আল্লাহ রহম করেন। আর ফেরেশতাগণ, আসমান যমীনের অধিবাসীগণ, পিপিলিকা এমনকি সমুদ্রের মাছও দো‘আ করতে থাকে। হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى أُمَامَةَ الْبَاهِلِىِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِىْ عَلَى أَدْنَاكُمْ. ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِىْ جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوْتَ لَيُصَلُّوْنَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ.

আবু উমাম বাহেলী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর সামনে দু’জন লোকের কথা উল্লেখ করা হ’ল। তাদের একজন আলেম, অপরজন আবেদ। তখন তিনি বললেন, আলেমের মর্যাদা আবেদর উপর ঐরূপ, যেরূপ আমার মর্যাদা তোমাদের সাধারণের উপর। তারপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ রহমত করেন এবং তাঁর ফেরেশতামন্ডলী, আসমান যমীনের অধিবাসী, এমনকি পিপিলিকা তার গর্তে থেকে এবং মাছও কল্যাণের শিক্ষা দানকারীর জন্য দো‘আ করে’।[7]

দ্বীনী ইলম শিক্ষা দিয়ে গেলে মৃত্যুর পরেও তার ছওয়াব পাওয়া যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল ব্যতিক্রম (অর্থাৎ ঐ আমলগুলির ছওয়াব মরণের পরেও পেতে থাকবে)। ঐ তিনটি আমল হ’ল প্রবাহমান দান-ছাদাক্বা, এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দো‘আ করে’।[8] অতএব সবার উচিত সন্তান-সন্ততিদের ছোট থেকেই দ্বীনের সঠিক জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া। দ্বীনী ইলম শিক্ষা লাভ না করলে পৃথিবী অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। ফলে মানুষ দ্বীনী বিষয়ে অজ্ঞদের নিকট থেকে ফৎওয়া নিয়ে গোমরাহ হবে। হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ لاَ يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا، يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا، اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوْسًا جُهَّالاً فَسُئِلُوْا، فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوْا وَأَضَلُّوْا.

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের থেকে ইলম ছিনিয়ে নেন না। বরং দ্বীনের আলেমদের উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে ইলমকে উঠিয়ে নিবেন। তখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে, তাদের জিজ্ঞেস করা হ’লে তারা না জেনে ফৎওয়া প্রদান করবে। এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে’।[9]

১৬. বিনয় ও নম্র হওয়া :

বিনয়ী ব্যক্তিকে সবাই ভালবাসে। ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ এতে নিহিত রয়েছে। সুতরাং আমাদের সবার উচিত বিনয়ী ও নম্র হওয়া। আর শালীনতা বজায় রেখে কথা বলা। প্রয়োজন হ’লে উত্তম কথা বলা নচেৎ বিরত থাকা। মহান আল্লাহ বলেন,وَإِذْ أَخَذْنَا مِيْثَاقَ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ لاَ تَعْبُدُوْنَ إِلاَّ اللهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِيْنِ وَقُوْلُواْ لِلنَّاسِ حُسْناً وَأَقِيْمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلاَّ قَلِيْلاً مِّنْكُمْ وَأَنْتُم مُّعْرِضُوْنَ ‘আর যখন আমরা বাণী ইসরাঈল হ’তে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না। পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে এবং আত্মীয়, অনাথ ও মিসকীনদের সঙ্গে (সদ্ব্যবহার করবে), আর তোমরা লোকের সাথে উত্তমভাবে কথা বলবে এবং ছালাত প্রতিষ্ঠিত করবে ও যাকাত প্রদান করবে; তৎপর তোমাদের মধ্যে হ’তে অল্প সংখ্যক ব্যতীত তোমরা সকলেই বিমুখ হয়েছিলে, যেহেতু তোমরা অগ্রাহ্যকারী ছিলে’ (বাক্বারাহ ২/৮৩)। কাফির ব্যক্তি হ’লেও তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলা প্রয়োজন, যাতে তারা ইসলামের সুমহান আদর্শ দেখে ইসলামে প্রবেশ করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى، فَقُولَا لَهُ قَوْلاً لَّيِّناً لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى- ‘তোমরা দু’জন ফিরাউনের নিকট যাও, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে। তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে’ (ত্ব-হা ২০/৪৩-৪৪)। আললাহ তা‘আলা রাসূল (ছাঃ)-কে সম্বোধন করে বলেন, أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِيْ كُلِّ وَادٍ يَهِيْمُوْنَ ‘তোমার অনুসারী মুমিনদের প্রতি বিনম্র হও’ (শু‘আরা ২১৫)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِيْنَ ‘তুমি মুমিনদের প্রতি বিনম্র হও’ (হিজর ৮৮)। মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন, فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظّاً غَلِيْظَ الْقَلْبِ لاَنْفَضُّواْ مِنْ حَوْلِكَ  ‘আল্লাহর রহমতেই তুমি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছ। অন্যথা যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হ’তে তাহ’লে তারা তোমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত’ (আলে ইমরান ৩/১৫৯)

ভাল কথা ও উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে শত্রুর মন জয় করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,وَلاَ تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلاَ السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِيْ هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِيْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيْمٌ ‘ভাল এবং মন্দ সমান হ’তে পারে না। অতএব মন্দকে উত্তম (ব্যবহার) দ্বারা প্রতিহত কর। ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা রয়েছে, (অচিরেই) সে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত হয়ে যাবে’ (হা-মীম সাজদাহ ৪১/৩৪)। বিনম্র ব্যবহার ও ভদ্র আচরণ সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন-

عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها أَنَّ الْيَهُودَ أَتَوُا النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا السَّامُ عَلَيْكَ. قَالَ وَعَلَيْكُمْ. فَقَالَتْ عَائِشَةُ السَّامُ عَلَيْكُمْ، وَلَعَنَكُمُ اللهُ وَغَضِبَ عَلَيْكُمْ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَهْلاً يَا عَائِشَةُ، عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ، وَإِيَّاكِ وَالْعُنْفَ أَوِ الْفُحْشَ. قَالَتْ أَوَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا، قَالَ أَوَلَمْ تَسْمَعِى مَا قُلْتُ رَدَدْتُ عَلَيْهِمْ، فَيُسْتَجَابُ لِى فِيْهِمْ، وَلاَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ فِىَّ.

আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, একদা একদল ইহুদী রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আস-সামু আলাইকা! তোমার মরণ হোক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমাদের উপর। আয়েশা (রাঃ) বললেন, তোমাদের উপর আল্লাহর লা‘নত ও গযব পড়ুক। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, হে আয়েশা! থামো। নম্রতা অবলম্বন করা তোমার কর্তব্য। রূঢ় ও অশালীনতা বর্জন করো। আয়েশা (রাঃ) বললেন, তারা যা বলেছে তা কি আপনি শুনেননি? তিনি বললেন, আমি যা বললাম, তুমি কি তা শুননি? কথাটি তাদের উপরই ফিরিয়ে দিয়েছি। সুতরাং তাদের ব্যাপারে (আল্লাহর কাছে) আমার কথাই কবুল হবে আর আমার সম্পর্কে তাদের কথা কবুল হবে না’।[10]

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِى الْمَسْجِدِ، فَقَامُوْا إِلَيْهِ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تُزْرِمُوْهُ. ثُمَّ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصُبَّ عَلَيْهِ.

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, একবার এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দিল। লোকেরা উঠে তার দিকে গেল। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তার পেশাব করায় বাধা দিও না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনতে বললেন এবং তাতে ঢেলে দিলেন।[11]

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلاً اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَآهُ قَالَ بِئْسَ أَخُو الْعَشِيْرَةِ، وَبِئْسَ ابْنُ الْعَشِيْرَةِ. فَلَمَّا جَلَسَ تَطَلَّقَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم فِىْ وَجْهِهِ وَانْبَسَطَ إِلَيْهِ، فَلَمَّا انْطَلَقَ الرَّجُلُ قَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ يَا رَسُوْلَ اللهِ حِيْنَ رَأَيْتَ الرَّجُلَ قُلْتَ لَهُ كَذَا وَكَذَا، ثُمَّ تَطَلَّقْتَ فِىْ وَجْهِهِ وَانْبَسَطْتَ إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا عَائِشَةُ مَتَى عَهِدْتِنِى فَحَّاشًا، إِنَّ شَرَّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ شَرِّهِ.

আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ছাঃ)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি লোকটিকে দেখে বললেন, সে সমাজের নিকৃষ্ট লোক ও সমাজের দুষ্ট সন্তান। এরপর সে যখন এসে বসল, তখন নবী করীম (ছাঃ) আনন্দ সহকারে তার সাথে কথা বললেন। লোকটি চলে গেলে আয়েশা (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন তখন তার ব্যাপারে এমন বললেন, পরে তার সাথে আনন্দ চিত্তে সাক্ষাৎ করলেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কখন আমাকে অশালীন দেখেছ? ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে সেই ব্যক্তি, যার খারাপ ব্যবহারের কারণে মানুষ তাকে ত্যাগ করে’।[12]

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, বিনয়ী ও নম্র ব্যক্তিকে যেমন আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন, তেমনি সমাজের সকল মানুষও তাকে পসন্দ করে ও ভালবাসে। তাই পিতা-মাতা, ভাই-বোন, ছাত্র-শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন, সকল মুসলমান, এমনকি অমুসলিমদের সাথেও নম্র ব্যবহার করতে হবে। যাতে অমুসলিমরা মুসলিমদের আচার-ব্যবহার দেখে ইসলাম গ্রহণ করে। বিশেষ করে হকের পথের দাঈদের অবশ্যই বিনয়ী হ’তে হবে। নচেৎ মানুষ তার পাশ থেকে দূরে সরে যাবে।

১৭. সত্যবাদী হওয়া :

সত্যবাদিতা মানুষকে জান্নাতের পথে এবং কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়। পক্ষান্তরে মিথ্যাচার জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। তাই মিথ্যা কথা বলা ও প্রচার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِيْنَ ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো’ (তাওবা ৯/১১৯)। সত্য কথা জান্নাতের পথে নিয়ে যায় এবং মিথ্যা কথা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِى إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِى إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يَكُوْنَ صِدِّيْقًا، وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِى إِلَى الْفُجُوْرِ، وَإِنَّ الْفُجُوْرَ يَهْدِى إِلَى النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ، حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَّابًا.

‘সত্যবাদিতা ব্যক্তিকে নেকীর দিকে পরিচালিত করে আর নেকী তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে অবশেষে ছিদ্দীকের মর্যাদা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহা মিথ্যাবাদী হিসাবে গণ্য হয়’।[13]

মিথ্যাবাদীকে মুনাফিক বলা হয়। তাকে কেউ ভালবাসে না। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন,آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি। যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে, সে ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং তার কাছে আমানত রাখা হ’লে তাতে খিয়ানত করে’।[14] রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, আমি আজ রাতে (স্বপ্নে) দু’জন লোককে দেখলাম। তারা বলল, আপনি যে লোকটির গাল চিরে ফেলতে দেখলেন, সে বড়ই মিথ্যাচারী। সে এমন মিথ্যা বলত যে, দুনিয়ার সর্বত্র তা ছড়িয়ে পড়ত। ফলে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার সাথে এ রকম ব্যবহার চলতে থাকবে’।[15]

১৮. ধৈর্যধারণ করা :

কোন বিপদ-আপদ বা মুছীবতে পতিত হ’লে প্রত্যেকের উচিত হবে ধৈর্যধারণ করা। এই গুণে গুণান্বিত ছিলেন সকল নবী-রাসূল। মুমিনদেরকে নবী-রাসূলগণের গুণে গুণান্বিত হ’তে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوْا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ  ‘হে মুমিনগণ! ধৈর্য অবলম্বন কর, দৃঢ়তা প্রদর্শন কর, নিজেদের প্রতিরক্ষা কল্পে পারস্পরিক বন্ধন মযবূত কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’ (আলে ইমরান ৩/২০০)। পার্থিব জীবনের সকল রোগ-শোক, দুঃখ-যাতনা, বিপদাপদ, ফল-ফসলের ক্ষতি, সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এতে ধৈর্যধারণ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوفْ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الأَمَوَالِ وَالأنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ ‘আর নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং ধন ও প্রাণ এবং ফল-শস্যের অভাবের কোন একটি দ্বারা পরীক্ষা করব এবং ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর’ (বাক্বারাহ ২/১৫৫)। ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের মহান আল্লাহ মহা পুরস্কার দিবেন। তিনি বলেন,إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُوْنَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ ‘ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার অগনিত দেওয়া হয়ে থাকে’ (যুমার ৩৯/১০)। তিনি আরো বলেন, وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُوْرِ ‘আর যে ব্যক্তি (অত্যাচারিত হওয়ার পরও) ধৈর্যধারণ করে ও ক্ষমা করে দেয়, তা অবশ্যই দৃঢ়চিত্ততার কাজ’ (শূরা ৪৩)। মানব জাতি আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে ধৈর্য অবলম্বন করবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا ‘আর তোমার পরিবারবর্গকে ছালাতের আদেশ দাও এবং তাতে নিজেও অবিচল থাক’ (ত্ব-হা ২০/১৩২)

মানুষকে সকল পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহ’লে ইহকাল ও পরকালে সাফল্য লাভ করতে পারবে। আর আল্লাহর ফায়ছালা মেনে নিয়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ  ‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের জন্য ধৈর্যধারণ কর’ (দাহর ৭৬/২৪)। নবী-রাসূলগণের জীবনীর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তাঁরা কতই না বিপদ ও কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। এর পরেও তাঁরা ধৈর্যধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁদের সম্পর্কে বলেন, فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُوْلُوْا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلاَ تَسْتَعْجِل لَّهُمْ  ‘অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর যেমন ধৈর্যধারণ করেছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ এবং তাদের জন্যে (শাস্তি প্রার্থনায়) তাড়াহুড়া করো না’ (আহক্বাফ ৪৬/৩৫)

আর বড় বিপদেই রয়েছে বড় পুরস্কার। রাসূল (ছাঃ) বলেন,عِظَمُ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلاَءِ وَإِنَّ اللهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلاَهُمْ فَمَنْ رَضِىَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السُّخْطُ  ‘অবশ্যই (বান্দার) বড় বিপদে বড় প্রতিদান রয়েছে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়কে ভালবাসলে তাকে পরীক্ষা করেন (বিভিন্ন প্রকার অসুখ-বিসুখ, বিপদ-আপদ দিয়ে)। যদি সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে তাহ’লে তার জন্য সন্তোষ। অপরপক্ষে সে যদি তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তাহ’লে তার জন্য অসন্তোষ’।[16]

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أُنَاسًا مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَسْأَلْهُ أَحَدٌ مِنْهُمْ إِلاَّ أَعْطَاهُ حَتَّى نَفِدَ مَا عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُمْ حِيْنَ نَفِدَ كُلُّ شَىْءٍ أَنْفَقَ بِيَدَيْهِ مَا يَكُنْ عِنْدِى مِنْ خَيْرٍ لاَ أَدَّخِرُهُ عَنْكُمْ، وَإِنَّهُ مَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفُّهُ اللهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ، وَلَنْ تُعْطَوْا عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ.

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদা আনছারদের কিছু সংখ্যক লোক নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট সাহায্য চাইল। তাদের যে যা চাইল, তিনি তাই দিলেন। এমনকি তাঁর কাছে যা কিছু ছিল নিঃশেষ হয়ে গেল। যখন তাঁর দু’হাতে দান করার পর সবকিছু শেষ হয়ে গেল তখন তিনি বললেন, আমার কাছে যা কিছু থাকে, তা থেকে আমি কিছুই সঞ্চয় করি না। অবশ্যই যে নিজেকে চাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, আল্লাহ তাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে, তিনি তাকে ধৈর্যশীলই রাখেন। যে ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী হ’তে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। ধৈর্যের চেয়ে বেশী প্রশস্ত ও কল্যাণকর কিছু কখনো তোমাদেরকে দান করা হবে না’।[17]

রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ- ‘মুমিন ব্যক্তির কাজ-কর্ম অবলোকন করলে খুব আশ্চর্য লাগে। কেননা তার সমস্ত কাজ তার জন্য কল্যাণকর। আর এটি হয়ে থাকে শুধু মুমিনদের জন্য, অন্যের জন্য নয়। যখন সে কল্যাণকর কিছু লাভ করে তখন সে (আল্লাহর) শুকরিয়া আদায় করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যখন কোন বিপদে পতিত হয় তখন সে ধৈর্যধারণ করে। সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়’।[18]

[চলবে]



[1]. বুখারী পৃঃ ১৬।

[2]. ইবনু মাজাহ হা/২২৪, সনদ ছহীহ।

[3]. বুখারী হা/৭১

[4]. বুখারী, ‘ইলম’ অধ্যায় পৃঃ ১৬

[5]. আবু দাউদ হা/৩১৫৭; ইবনু মাজাহ হা/২২৩; তিরমিযী হা/২৬০৬; সনদ ছহীহ।

[6]. ইবনু মাজাহ হা/২৪০, হাসান।

[7]. ছহীহ তারগীব হা/৭৭; মিশকাত হা/২১৩, হাদীছটির শাহেদ সুনানে ইবনু মাজাহ হা/২২৩, সনদ ছহীহ।

[8]. মুসলিম হা/১৬৩১।

[9]. বুখারী হা/১০০; মুসলিম হা/২৬৭৩।

[10]. বুখারী হা/৬৪০১; মিশকাত হা/৪৬৩৮

[11]. বুখারী হা/৬০২৫; মিশকাত হা/৪৯২।

[12]. বুখারী হা/৬০৩২; মিশকাত হা/৪৮২৯।

[13]. বুখারী হা/৬০৯৪; মুসলিম হা/২৬০৭; মিশকাত হা/৪৮২৪

[14]. বুখারী হা/৬০৯৫

[15]. বুখারী হা/৬০৯৬

[16]. তিরমিযী হা/২৩৯৬; ইবনু মাজাহ হা/৪০৩১; সিলসিলাহ ছহীহা হা/১৪৬; মিশকাত হা/১৫৬৬।

[17]. বুখারী হা/৬৪৭০।

[18]. মুসলিম হা/২৯৯৯; মিশকাত হা/৫২৯৭।  

 

 

HTML Comment Box is loading comments...