প্রশ্নোত্তর


দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪১) : কবরস্থানে লাশ দাফনের জন্য স্থান সংকুলান না হলে তার উপর মাটি ফেলে সংস্কার করে পুনরায় লাশ দাফন করা যাবে কি?
-শামসুল হক
কাঁঠালপাড়া, পবা, রাজশাহী।
উত্তর : কবরগুলি অতি প্রাচীন হ’লে এবং সেগুলিতে মৃত ব্যক্তিদের কোন চিহ্ন না মিললে সেখানে কবর দেওয়া যাবে। কবর খোড়ার পর যদি কোন হাড়-হাড্ডি পাওয়া যায় তাহ’লে সেগুলো কবরের এক পাশে রেখেই নতুন লাশ দাফন করবে (ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১২৬)

প্রশ্ন (২/৪২) : পিতা স্বীয় জীবদ্দশায় একমাত্র মেয়েকে নিজের সমুদয় সম্পত্তি লিখে দিতে পারবেন কি?
-হাসিবুল ইসলাম
পাবনা।
উত্তর : না। কারণ পিতার মৃত্যুর পূর্বে মেয়ে অংশীদার হয় না। একমাত্র মেয়ে (অন্য কোন সন্তান না থাকা সাপেক্ষে) শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত অর্ধেক সম্পত্তির অধিকারী হবে এবং তা পিতার মৃত্যুর পরে। তবে জীবদ্দশায় তাকে হাদিয়া হিসাবে কিছু দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে অন্য সন্তান থাকলে সকলকে সমপরিমাণ দিতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩০১৯ ‘বখশিষ’ অনুচ্ছেদ ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায় অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩/৪৩) : ভ্রূণ নির্গত হ’লে তার জানাযার ছালাত পড়তে হবে কি?
-শহীদুল ইসলাম
সুরিটোলা, ঢাকা।
উত্তর : কান্নার শব্দ, জীবনের প্রমাণ পাওয়া বা হাঁচি না দিলে জানাযা পড়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন ভূমিষ্ট নবজাতক চিৎকার করবে, তখন তার উপর জানাযা পড়া হবে এবং সে ওয়ারিছ হবে’ (তিরমিযী, হা/১০৪; ইবনু মাজাহ হা/১৫০৮; মিশকাত হা/৩০৫০ ‘ফারায়েয ও অছিয়ত সমূহ’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (৪/৪৪) : আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা এক চাঁদনী রাত্রে যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মাথা আমার কোলে ছিল, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আকাশে যে পরিমাণ নক্ষত্র আছে সেই পরিমাণ কারো নেকী হবে কি? তিনি উত্তরে বলেন, ওমরের নেকী এই পরিমাণ। আমি বললাম, তাহ’লে আবুবকরের নেকী কোথায়? তখন তিনি বললেন, ওমরের সমস্ত নেকী আবুবকরের একটি নেকীর সমান (রাযীন)। উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ? 

-দিদার বখশ
মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত বর্ণনাটি জাল বা মিথ্যা (আলবানী, তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/৬০৫৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৮১০, ১১/১৩৭ পৃঃ)

প্রশ্ন (৫/৪৫) : কোন ছেলে বা মেয়ে সংসার জীবনকে অনীহা করে যদি বিবাহ না করে তাহ’লে তার হুকুম কী?
-সুজনা খাতুন
পলাশী, আলোকছত্র, রাজশাহী।
উত্তর : অনীহা বশতঃ বিবাহ না করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বিরুদ্ধাচরণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে আল্লাহভীরু। আমি ছিয়াম রাখি, ছালাত আদায় করি এবং আমি বিবাহ করেছি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত নয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সামর্থ্যবানদেরকে বিয়ে করার জন্য উৎসাহিত করেছেন (বুখারী, মিশকাত হা/৩০৮০)

প্রশ্ন (৬/৪৬) : মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের করে নিকটবর্তী স্থানে পৃথক জামে মসজিদ তৈরি করলে সে মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? মসজিদে যেরার কাকে বলে জানিয়ে বাধিত করবেন।
-ডাঃ মুহাম্মাদ এনামুল হক
কলেজ বাজার, বিরামপুর, দিনাজপুর।
উত্তর : একই সমাজে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে যে নতুন মসজিদ তৈরি করা হয় এবং যার দ্বারা মুমিন সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি হয়, এ মসজিদকেই ‘মসজিদে যিরার’ বলা হয়। এরূপ মসজিদ তৈরির ক্ষেত্রে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য থাকে না এবং তা তাক্বওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে না। তবে কেউ ফতোয়া না জানার পূর্বে সেখানে ছালাত আদায় করে থাকলে তা পুনরায় আদায় করতে হবে না (তাফসীর কুরতুবী, তওবা ১০৭ আয়াতের ব্যাখ্যা; শায়খ আলবানী, আছ-ছামরুল মুসতাত্বাব, পৃঃ ৩৯৮)

প্রশ্ন (৭/৪৭) : চাকরীর প্রথম বেতন পেয়ে পাড়া প্রতিবেশীকে নিয়ে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রথা সমাজে চালু আছে। এটা কি শরী‘আত সম্মত?
-আব্দুর রাযযাক
শাহনগর, বগুড়া।
উত্তর : এটি শরী‘আত সম্মত নয়। বরং যেকোন আনন্দে সিজদায়ে শুকর আদায় করা সুন্নাত (আবূদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৪৯৪ ‘সিজদায়ে শুক্র’ অনুচ্ছেদ)। তাছাড়া এজন্য আল্লাহ্র রাস্তায় ছাদাক্বা করা আবশ্যক। কা‘ব বিন মালিক (রাঃ)-এর তওবা কবুল হওয়ার সুসংবাদ পেয়ে তিনি খুশী হয়ে ছাদাক্বা করেছিলেন (বুখারী হা/৪৪১৮, ‘যুদ্ধ-বিগ্রহ’ অধ্যায় ৮০ অনুচ্ছেদ ‘হাদীছু কা‘ব বিন মালেক’; তাফসীর ইবনে কাছীর, তওবা ১১৮)

প্রশ্ন (৮/৪৮) : কোন মহিলা ঋতুস্রাবের ব্যথা কিংবা রক্ত আসছে অনুভব করলে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে রক্ত দেখা না গেলে তার ছিয়াম শুদ্ধ হবে কি?
-নাফিসা
তেরখাদা, খুলনা।
উত্তর : তার উক্ত ছিয়াম শুদ্ধ হবে। কেননা তখনও রক্ত দেখা যায়নি (শায়খ উছায়মীন, সুয়ালান ফিল হায়েয ওয়ান নিফাস, পৃঃ ১০)

প্রশ্নঃ (৯/৪৯) : ছালাতের মধ্যে আঙ্গুল ফুটানো যায় না এ মর্মে ছহীহ দলীল জানতে চাই।
-রেযাউল করীম
লক্ষ্মীকোলা, শাহজাহানপুর, বগুড়া।
উত্তর : ছালাতের মধ্যে আঙ্গুল ফুটানো যাবে না। ইবনু আববাস (রাঃ)-এর গোলাম শো‘বা বলেন, আমি ইবনু আববাসের পাশে ছালাত আদায় করছিলাম। আমি আঙ্গুল ফুটালে তিনি আমাকে ছালাতের মধ্যে আঙ্গুল ফুটাতে নিষেধ করেন (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, ইরওয়া হা/৩৭৮-এর ব্যাখ্যা, ২/৯৯ পৃঃ)

প্রশ্নঃ (১০/৫০) : জনৈক আলেম বলেন, ছয় শ্রেণীর লোক বিনা হিসাবে জাহান্নামী হবে। উক্ত ছয় শ্রেণীর লোক কারা? জানিয়ে বাধিত করবেন।
-যিল্লুর রহমান
মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : ইমাম গাযালীর এহইয়াউ উলূমিদ্দীন গ্রন্থে উক্ত বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু বর্ণনাটি যঈফ এবং রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত নয়’ (তাফসীর রাযী, তাফসীর নিযামুদ্দীন নাইসাপুরী, বাক্বারাহ ১০৯)। উক্ত ছয় প্রকার লোক হ’ল, অত্যাচারী শাসক, জাত্যাভিমানী আরব, অহংকারী নেতা, খিয়ানাতকারী ব্যবসায়ী, মূর্খ বস্তিবাসী, হিংসুক আলেম (ইবনুল জাওযী, আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ হা/১৫৬৫; ফেরদৌস দায়লামী হা/৩৩০৯)

প্রশ্ন (১১/৫১) : সবার সম্মতিক্রমে জামে মসজিদ স্থানান্তর করা যাবে কি? প্রচলিত আছে যে, মসজিদ স্থানান্তর করা যায় না। এ কথা কি সঠিক?
-রফীকুল ইসলাম
তানোর রাজশাহী।
উত্তর : প্রয়োজনে মসজিদ স্থানাস্তর করা যায়। ওমর (রাঃ) কূফাবাসীর জামে‘ মসজিদকে ভেঙ্গে শহরের অন্যত্র বানিয়েছিলেন এবং প্রথম মসজিদের স্থানে খেজুর বিক্রেতাদের জন্য বাজার তৈরি করে দিয়েছিলেন (মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ৩১/২১৬)। এমনকি মসজিদের সম্পত্তি কোন উপকারে না আসলে ওয়াকফকৃত জমিও বিক্রি করে অন্য মসজিদে ব্যয় করা যাবে (ঐ, ২১৩)

প্রশ্ন (১২/৫২) : কোন প্রসূতি যদি রামাযানের কতিপয় ছিয়াম ভঙ্গ করে এবং পরবর্তী রামাযান আসার পূর্বে ক্বাযা আদায় করতে না পারে; পরবর্তী বছর সন্তানকে দুধপানের কারণে যদি তার আরো কিছু ছিয়াম ভঙ্গ হয় এবং রামাযান আসার পূর্বে ক্বাযা আদায় করতে না পারে, তাহ’লে তার করণীয় কী?
আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ
ধামরাই, ঢাকা।
উত্তর : উক্ত অবস্থায় যখন তাদের পক্ষে সম্ভব তখন আদায় করবে। এক বা দু’বছর পরেও যদি হয়। কেননা তাদের শারঈ ওযর রয়েছে। কিন্তু যদি কোন মহিলা অবজ্ঞা ও অবহেলা করে, তাহ’লে সে গোনাহগার হবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমার কিছু ছিয়াম ক্বাযা হয়ে যেত, যা পরবর্তী শা‘বান মাসে ছাড়া আদায় করা আমার পক্ষে সম্ভব হ’ত না’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০৩০ ‘ক্বাযা ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)। উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যে, ছুটে যাওয়া ছিয়াম পরবর্তী রামাযান আসার পূর্বেই আদায় করতে হবে। বিশেষ ওযর ব্যতীত তা আদায়ে বিলম্ব করার কোন অবকাশ নেই।

প্রশ্ন (১৩/৫৩) : জনৈক মাওলানা বলেন, রাবে‘আ বছরী হজ্জ ব্রত পালন করার ইচ্ছা করেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি হাঁটতে পারছিলেন না। ফলে অলৌকিকভাবে আল্লাহ কা‘বাকে তার সামনে হাযির করান। অতঃপর তিনি হজ্জ পালন করেন। উক্ত ঘটনার সত্যতা জানতে চাই।
-দুলাল আহমাদ
মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : উক্ত ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট। যাদের সম্পর্কে এ ধরনের মিথ্যা কাহিনী বর্ণনা করা হয়, প্রকারান্তরে তাদেরকেই অপমান করা হয়। অতএব এগুলো বর্ণনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (১৪/৫৪) : মোযার উপর মাসাহ করার হুকুম ও শর্ত কী?
আব্দুর রহমান
শৌলমারী, জলঢাকা, নীলফামারী।
উত্তর : মোযার উপরে মাসাহ করা সুন্নাত (বুখারী হা/১০৬; মুসলিম হা/২৭৪; মিশকাত হা/৫১৮)। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, মোযার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে ৪০টি হাদীছ রয়েছে (শায়খ উছায়মীন, বুহূছুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসাহ আলাল খুফফাইন, পৃঃ ২৫)
মোযার উপর মাসাহ করার ৪টি শর্ত রয়েছে। (১) মোযা ওযূ অবস্থায় পরিধান করতে হবে (বুখারী হা/২০৬)। (২) মোযা পবিত্র হ’তে হবে। অপবিত্রতা থাকলে তার উপর মাসাহ জায়েয নয় (আবুদাঊদ হা/৬৫০ ‘ছালাত’ অধ্যায়)। (৩) মাসাহ করতে হবে হালকা অপবিত্রতা হ’তে, গোসল ওয়াজিবকারী অপবিত্রতা হ’তে নয় (তিরমিযী হা/৯৬ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়)। (৪) মাসাহ হ’তে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। মুক্বীম (বাড়ীতে অবস্থানকারী) একদিন এক রাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৭)

প্রশ্নঃ (১৫/৫৫) : ক্বিয়ামতের মাঠে সর্বপ্রথম কাকে কবর থেকে উঠানো হবে?
-শামীম আহমাদ
 পোরশা, নওগাঁ।
উত্তর : শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)- কে সর্বপ্রথম কবর থেকে উঠানো হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪১ ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (১৬/৫৬) : আমরা মুছাফাহা করার পর বুকে হাত দেই। এই আমলের পক্ষে নাকি কোন দলীল নেই। উক্ত কথা কি সঠিক?
-খায়রুল ইসলাম
রহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : উক্ত কথা সঠিক। মুছাফাহা করার পরে বুকে হাত দেয়া কিংবা হাতে চুমু দেয়া বা মাথা ঝুঁকানো ইসলামী রীতি নয়। বরং এগুলি বিদ‘আতী কাজ। ছহীহ হাদীছে মুছাফাহা করার পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরস্পরের ডান হাত মিলানো।

প্রশ্ন (১৭/৫৭) : সঊদী আরবের ‘ওয়াদিয়ে হানীফ’ নামক নালা দিয়ে পেশাব-পায়খানা ও বর্জ্য পানি বের হয়ে যায়। এসব পানি দেখতে স্বচ্ছ হ’লেও দুর্গন্ধযুক্ত। মরুভূমির ভিতর দিয়ে প্রবাহিত এ নালা কোথাও লেকের আকার ধারণ করেছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের জন্ম হয়। এসব মাছ খাওয়া বৈধ হবে কি?
-হাফেয মশিউর রহমান
রিয়াদ, সঊদী আরব।
উত্তর : রং, স্বাদ ও গন্ধ বিনষ্ট হ’লে সে পানি নাপাক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ‘জাল্লালাহ’ অর্থাৎ ময়লা-আবর্জনা ভক্ষণকারী প্রাণীর গোশত খেতে ও তার দুধ পান করতে এবং তার পিঠে আরোহন করতে নিষেধ করেছেন’ (আবুদাঊদ হা/৩৭৮৬; তিরমিযী হা/১৮২৫; নাসাঈ হা/৪৪৬০)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে এবং ময়লা-আবর্জনা ভক্ষণকারী প্রাণীর পিঠে চড়তে এবং তার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন’ (আবুদাঊদ হা/৩৮১১; নাসাঈ হা/৪৪৫৯)। ঐসব নাপাক খাদ্য ভক্ষণকারী হালাল প্রাণী, যেমন মুরগী, মাছ ইত্যাদিকে উক্ত ময়লা খাদ্য ও পানীয় থেকে কিছু দিন আটকে রেখে পবিত্র খাদ্য ও পানীয় খাওয়ানোর পর তার গন্ধ দূরীভূত হ’লে ও গোশত রুচিকর হয়েছে বলে নিশ্চিত হ’লে তা খাওয়া যাবে। ইবনু ওমর (রাঃ) ময়লা ভক্ষণকারী মুরগী তিনদিন আটকে রেখে তারপর যবহ করে খেতেন’ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, ইরওয়া হা/২৫০৫)। অতএব উক্ত লেক-এর মাছ ধরে কিছুদিন পবিত্র পানিতে রেখে দুর্গন্ধ দূরীভূত হ’লে তা খাওয়া বৈধ হবে।

প্রশ্ন (১৮/৫৮) : পাগড়ী পরা কি সবার জন্যই সুন্নাত? অনেকে চিল্লা দিয়ে পাগড়ী পরা শুরু করে। এ সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-এ টি এম শামসুয যোহা
উপযেলা শাহী কমপ্লেক্স, সাপাহার, নওগাঁ।
উত্তর : পাগড়ী ব্যবহার করা কারো জন্যই সুন্নাত নয়। এটি হ’ল দেশ ও অঞ্চল ভিত্তিক আদত বা অভ্যাস। রসূল (ছাঃ) পাগড়ী পরেছিলেন এ কারণে যে, পাগড়ী পরিধান করা ছিল তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের অভ্যাসগত পোষাক। সে সময়ের আরব মুসলিম ও অমুসলিম সকলে পাগড়ী পরত। তিনি কখনও পাগড়ী (এমনকি টুপি) ব্যবহার করার নির্দেশও দেননি। পাগড়ী পরিধান করার ফাযীলত মর্মে কোন ছহীহ্ হাদীছও বর্ণিত হয়নি (বিস্তারিত দ্রঃ জাল ও য‘ঈফ হাদীছ সিরিজ হা/১২৯, ১৫৯, ৩৯৫, ১২১৭, ১২৯৬, ২৩৪৭, ৩০৫২)। শায়খ উছায়মীন, শায়খ বিন বায এবং সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফাতাওয়া বোর্ড এ মর্মে ফৎওয়া দিয়েছেন যে, পাগড়ী ব্যবহার করা সুন্নাত নয়।

প্রশ্ন (১৯/৫৯) : কোন স্থানে মুসলিম-অমুসলিম উভয় শ্রেণীর লোক থাকলে সেখানে সালাম দেওয়া যাবে কি?
-মাযহারুল ইসলাম
সিঙ্গাপুর।
উত্তর : সালাম দেওয়া যাবে। উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা একটি মজলিসের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজারী ও ইহুদীরা ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদেরকে সালাম দিলেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৩৯ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায় ‘সালাম’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (২০/৬০) : কোন প্রসূতি বা ঋতুবতী মহিলা যদি ফজরের পূর্বেই পবিত্র হয় কিন্তু গোসল করতে না পারে, বরং ফজরের পরে গোসল করে, তাহ’লে তার ছিয়াম সিদ্ধ হবে কি?
শাহীনা আখতার
তারাসী, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।
উত্তর : সিদ্ধ হবে। কারণ তখন সে ঐ অপবিত্র ব্যক্তির মত, যে ছিয়াম রেখেছে কিন্তু ফজরের পূর্বে গোসল করতে পারেনি। আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে সহবাসের পর অপবিত্র অবস্থায় সকাল করতেন এবং ছিয়াম রাখতেন’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০০১ ‘ছিয়াম’ অধ্যায় ৩ অনুচ্ছেদ)। অর্থাৎ তিনি ফজর হওয়ার পরে জানাবাতের গোসল করতেন।

প্রশ্ন (২১/৬১) : কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে তার খাৎনা করা লাগবে কি?
-ওবায়দুল্লাহ
গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা
উত্তর : খাৎনা করা মুস্তাহাব। কেননা এটি ইসলাম ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য স্বরূপ। এটি হ’ল মানুষের ফিৎরত বা স্বভাবজাত পাঁচটি বিষয়ের অন্যতম (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২০ ‘পোষাক’ অধ্যায় ‘চুল অাঁচড়ানো’ অনুচ্ছেদ)। এর মধ্যে যে স্বাস্থ্যগত কল্যাণ নিহিত রয়েছে, সে বিষয়ে সকল স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী একমত। ইবরাহীম (আঃ) ৮০ বছর বয়সে আল্লাহ্র হুকুমে খাৎনা করেছিলেন (বুখারী হা/৩৩৫৬)। জনৈক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বলেন, তুমি কুফরীর চুল ফেলে দাও এবং খাৎনা কর (আবুদাঊদ হা/৩৫৬ সনদ হাসান, ইরওয়া হা/৭৯)। এখানে ‘কুফরীর চুল’ বলতে ঐ চুলকে বুঝানো হয়েছে, যা কুফরীর নিদর্শন হিসাবে গণ্য হয়। এই নিদর্শন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম হ’তে পারে। যেমন এদেশে হিন্দুদের অনেকের মাথায় ‘টিকি’ থাকে বা মাথায় ‘জটা’ থাকে। ইসলাম কবুলের পর এ চুল অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে। এমনকি যদি গোফ লম্বা ও দাড়ি জট পাকানো থাকে, তবে তাও ইসলামী নিয়মে পরিবর্তন করতে হবে। যদি কেউ এসব থেকে মুক্ত থাকেন এবং মাথায় স্বাভাবিক চুল থাকে, তার জন্য মাথা মুন্ডানো যরূরী নয় (দ্রঃ আউনুল মা‘বূদ হা/৩৫২-এর ব্যাখ্যা)

প্রশ্ন (২২/৬২) : মি‘রাজে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে নবীগণের দেখা হয়েছিল। এ দেখা হওয়া কেমন? তাঁরা কি স্ব স্ব স্থানে জীবিত?
-ওমর
গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।
উত্তর : নবীগণের আত্মগুলোকেই স্ব স্ব আকৃতিতে দেখানো হয়েছে (মিরক্বাত ১১/১৪৩ পৃঃ, ‘মি‘রাজ’ অনুচ্ছেদ ১ম হাদীছের ব্যাখ্যা)

প্রশ্ন (২৩/৬৩) : জনৈক বক্তা বলেন, সূরা বাক্বারায় এমন একটি আয়াত আছে যা লিখে ঘুমন্ত স্ত্রীর বুকের উপর দিলে তার জীবনের অপসন্দ কর্মগুলো সব বলে দিবে। আয়াতটি কত নম্বর?
-ফরিজুল ইসলাম
বকচর, সাতক্ষীরা।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। এমন মর্মের কোন আয়াত সূরা বাক্বারায় বা কুরআনের কোথাও নেই।

প্রশ্ন (২৪/৬৪): মাযহাব কী? কখন থেকে মাযহাব চালু হয়েছে? পৃথিবীর সব দেশেই কি মাযহাব আছে?
-আমীনুল ইসলাম
নওগাঁ।
উত্তর : ‘মাযহাব’ শব্দের আভিধানিক অর্থ চলার পথ। পারিভাষিক অর্থ মতবাদ, মতাদর্শ ইত্যাদি। চারজন প্রসিদ্ধ মুজতাহিদ ইমামের ফিক্বহী মতামতকে ইসলামী পরিভাষায় মাযহাব বলা হয়। উক্ত চার ইমামের মৃত্যুর বহু পরে রাজনৈতিক দলাদলির সুবাদে বিভিন্ন মাযহাবের সূত্রপাত হয় এবং মুসলিমগণ নানা দলে ভিন্ন ভিন্ন নামে বিভক্ত হয়ে যায়। মানুষ স্ব স্ব মাযহাবের অন্ধ মুক্বাল্লিদ হয়ে পড়ে এবং ছহীহ হাদীছের নিরপেক্ষ অনুসরণ থেকে অধিকাংশই দূরে চলে যায়। অথচ উক্ত চার ইমামের প্রত্যেকেই বলে গেছেন, ‘যখন তোমরা ছহীহ হাদীছ পাবে, মনে রেখ সেটাই আমাদের মাযহাব’ (শা‘রানী কিতাবুল মীযান (দিল্লী ছাপা) ১/৭৩)। শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী বলেন, ৪র্থ শতাব্দী হিজরীর পূর্বে মুসলমানগণ নির্দিষ্ট কোন একটি মাযহাবের মুক্বাল্লিদ ছিল না (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগ মিসরী ছাপা ১/১১৮)।

প্রশ্ন (২৫/৬৫) : ছিয়াম রাখার পরিবর্তে যে ফিদইয়া দেয়া হয়, তার পরিমাণ কতটুকু এবং কোথায় দিতে হবে?
- নো‘মান
পোরশা, নওগাঁ।
উত্তর : ফিদইয়ার পরিমাণ অর্ধ ছা‘। এই ফিদইয়া ফক্বীর-মিসকীনকে দিতে হবে (বুখারী হা/৪৫১৭ ‘তাফসীর’ অধ্যায় ৩২ অনুচ্ছেদ, বাক্বারাহ ১৯৬)

প্রশ্ন (২৬/৬৬) : প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত টাকার যাকাত দিতে হবে কি? সেখানে সূদ সহ টাকা জমা হয়। এক্ষণে এর যাকাত দিবে কিভাবে?
-রফীকুল ইসলাম
পিলখানা, ঢাকা।
উত্তর : প্রভিডেন্ড ফান্ডে জমাকৃত টাকা নিজের পূর্ণ অধিকারে থাকলে অর্থাৎ যেকোন সময়ে উঠানো সম্ভব হ’লে সূদের টাকা ব্যতীত বাকী টাকার যাকাত দিতে হবে। কারণ যাকাত দেয়ার জন্য নিছাব পরিমাণ সম্পদের পূর্ণ মালিক হওয়া যরূরী।

প্রশ্ন (২৭/৬৭) : নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে তবে কর্য তার চেয়ে বেশী আছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?
-হাসনা হেনা
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : সংসার পরিচালনার জন্য কর্য হয়ে থাকলে প্রথমে কর্য পরিশোধ করতে হবে। কারণ কর্য রেখে সম্পদ সঞ্চিত হয় না। তবে ব্যবসা বা নির্মাণ কাজের জন্য কর্য নিলে প্রথমে যাকাত দিতে হবে তারপর কর্য পরিশোধ করতে হবে।

প্রশ্ন (২৮/৬৮) : প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাঃ যাকির নায়েক বলেছেন, এক মুষ্টি দাড়ির অতিরিক্ত অংশ ছেটে ফেলা যায় (বুখারী)। এর সমাধান জানতে চাই?
-আনীসুর রহমান
পাঁজরভাঙ্গা, নওগাঁ।
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দাড়ি ছাটতেন এ মর্মে কোন ছহীহ হাদীছ নেই। ছহীহ বুখারীতে থাকার প্রশ্নই আসে না। বরং উম্মতের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা হ’ল, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি লম্বা কর, গোঁফ ছোট কর’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বুখারী হা/৫৮৯২; মিশকাত হা/৪৪২১)। তিনি দাড়ি ছাটতেন মর্মে তিরমিযীতে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে তা জাল বা মিথ্যা (যঈফ তিরমিযী হা/২৭৬২; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮৮, ১/৪৫৬ পৃঃ)। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, وَاعْلَمَ أَنَّهُ لَمْ يَثْبُتْ فِيْ حَدِيْثٍ صَحِيْحٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الأَخْذُ مِنَ اللِّحْيَةِ لاَ قَوْلاً ... وَلاَ فِعْلاً ‘জেনে রাখ হে পাঠক! দাড়ি ছাটার পক্ষে রাসূল (ছাঃ) থেকে একটি ছহীহ হাদীছও সাব্যস্ত হয়নি। না তার কথা দ্বারা ... না তার কাজ দ্বারা’ (আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা যঈফাহ ৫/৩৭৬ পৃঃ, হা/২৩৫৫)
উল্লেখ্য, ইবনু ওমর (রাঃ) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশী থাকত, তা কেটে ফেলতেন (বুখারী হা/৫৮৯২, পোষাক’ অধ্যায়-৮০, অনুচ্ছেদ-৬২)। বর্ণনাটি মুসলিমেও আছে বলে উল্লেখ করেছেন। মূলতঃ মুসলিমে নেই।
প্রথমতঃ এটি তার ব্যক্তিগত আমল। অন্য কোন ছাহাবী এমনটি করেছেন মর্মে দলীল পাওয়া যায় না। আর তিনি কাউকে করার জন্য নির্দেশও দেননি। দ্বিতীয়তঃ তিনি শুধু হজ্জ ও ওমরার সময় করেছেন। তৃতীয়তঃ ছাহাবীর আমল রাসূলের আমল নয়। চতুর্থতঃ এটি ব্যাখ্যাগত বিষয় যা স্পষ্ট দলীলের কাছে টিকে না। তিনি হয়ত উক্ত মৌসুমে মাথা কামিয়ে ও দাড়ি ছেটে উভয় নেকী পেতে চেয়েছেন (হজ্জ ২৯; ফাতহ ২৭)। তবে জানা উচিত, উক্ত আয়াত রাসূলের উপরই নাযিল হয়েছে। কিন্তু তিনি দাড়ি ছাটার কথা বলেননি।
এই মতানৈক্যের ঊর্ধ্বে থেকে একনিষ্ঠ মুমিনকে রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতিষ্ঠিত সুন্নাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যা ইবনু ওমরের বক্তব্য দ্বারাই প্রমাণিত হয়। ওমর (রাঃ)-এর আমলের সাথে রাসূল (ছাঃ)-এর আমলের দ্বন্দ্ব হলে ইবনু ওমরকে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি উত্তরে বলেন, أَفَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَقُّ أَنْ تَتَّبِعُوا سُنَّتَهُ أَمْ سُنَّةَ عُمَرَ ‘তোমাদের জন্য রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত অধিক অনুসরণযোগ্য না ওমরের সুন্নাত’ (মুসনাদে আহমাদ হা/৫৭০০; তিরমিযী হা/৮২৪, ‘হজ্জ’ অধ্যায়, ‘তামাত্তু’ অনুচ্ছেদ, সনদ ছহীহ)
শায়খ আলবানী (রহঃ)-কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হ’লে তিনি বলেন, الذي نختاره القبضة والمسألة فيها نظر والأحسن اتباع السنة على كل حال ‘আমরা পসন্দ করি তা হল এক মুষ্টি। তবে উক্ত মাসআলাতে ত্রুটি রয়েছে। কারণ সর্বাধিক উত্তম হ’ল সর্বাবস্থায় রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ করা’ (দুরূসুন লিশ শায়খ আলবানী, পৃঃ ১১)

প্রশ্ন (২৯/৬৯) : আমার পিতা ১০ বছর আগে এক ব্যক্তির নিকট এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১ বিঘা জমি বিক্রয় করেছিলেন। এটা আমি জানি। কিন্তু জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়নি। ইতিমধ্যে আমার পিতা মারা গেছেন। আমার এখন করণীয় কী?
-নযরুল ইসলাম
পাইকপাড়া, কুষ্টিয়া।
উত্তর : এখন করণীয় হচ্ছে যরূরী ভিত্তিতে ক্রেতাকে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়া। যদি বিক্রেতা ঐ জমি ভোগ করে থাকে তাহ’লে ১০ বছর যাবৎ ঐ জমিতে যে শস্য উৎপাদিত হয়েছে, এলাকায় প্রচলিত বর্গার নিয়ম মোতাবেক সেই পরিমাণ ভাগরা ফসল তাকে দিতে হবে অথবা উভয়ের সম্মতিতে ফায়ছালা হবে। অন্যথায় মানুষের হক নষ্ট করা হবে, যা হারাম।

প্রশ্ন (৩০/৭০) : আছর ছালাতের সঠিক সময় জানিয়ে বাধিত করবেন।
-রজব
পবা, রাজশাহী।
উত্তর : বস্ত্তর মূল ছায়ার একগুণ হওয়ার পর হ’তে আছরের ছালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং দু’গুণ হ’লে শেষ হয় (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৮৩)

প্রশ্ন (৩১/৭১) : ঈদগাহে ছালাত শেষে মুছল্লীদের নিকট হ’তে ইমামের জন্য টাকা উঠানো যাবে কি?
-সফিউদ্দীন
পাঁচদোনা, নরসিংদী
উত্তর : ছালাতের পর টাকা উঠনো জায়েয। রাসূল (ছাঃ) ছালাতের খুৎবা শেষে দান করার জন্য বলতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৫২)। ফী সাবীলিল্লাহ টাকা উঠানোর পর তা প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করতে হবে।

প্রশ্ন (৩২/৭২) : জুম‘আর দিন মাথায় পাগড়ী বাঁধা কি সুন্নাত?
-আব্দুল ওয়াজেদ
ধনবাড়ী, টাংগাঈল।
উত্তর : জুম‘আর দিন মাথায় পাগড়ী বাঁধা কোন যরূরী সুন্নাত নয়। রাসূলুল্লাহ  (ছাঃ) বিভিন্ন সময়ে মাথায় পাগড়ী বাঁধতেন। আমর ইবনু হুরায়েছ (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) জুম‘আর খুৎবা দিলেন, তখন তাঁর উপর কাল পাগড়ী ছিল। যার দু’মাথা কাঁধের মাঝে ঝুলছিল (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১১)। জাবের (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিনা ইহরামে যখন কা‘বা গৃহে ঢুকলেন, তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ী ছিল (ইবনু মাজাহ হা/২৮২২)। অতএব এটি কেবল জুম‘আর জন্য খাছ নয়।
পৃথিবীর প্রায় সকল জাতির মধ্যেই ভদ্র পোষাক হিসাবে মস্তকাবরণ ব্যবহার করার প্রচলন ছিল বা এখনো আছে। আরবদের মধ্যেও এ প্রচলন ছিল। মাথার সাথে লেগে থাকা টুপী বা পাগড়ী, শুধু টুপী বা শুধু পাগড়ী বা পাগড়ী ছাড়াই কোন কাপড়ের আবরণ পরিধান করা তাদের অভ্যাসের মধ্যে ছিল, যা এখনো আছে। টুপীকে কালানসুওয়াহ, বুরনুস, কুম্মাহ, পাগড়ীকে ‘এমামাহ’ (عِمَامةِ) , কাপড়ের মস্তকাবরণকে ‘এছাবাহ (عِصَابة) বলা হত। এগুলি যেকোন রংয়ের হ’ত। ইসলাম আসার পর এগুলি নিষিদ্ধ হয়নি। এগুলি ছালাতের জন্য খাছ ছিল না। বরং ছালাতের বাইরেও যেকোন ভদ্র পরিবেশে ব্যবহার করা হ’ত। তেমনি মাথা খুলেও রাখা হ’ত।

প্রশ্ন (৩৩/৭৩) : এক্বামতের শেষে আল্লাহু আকবার কতবার বলবে এই নিয়ে আমাদের এলাকায় মতপার্থক্য বিরাজ করছে। একবার বলবে না দুইবার বলবে? দলীল ভিত্তিক সমাধান চাই।
-ফযলুল হক
ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যেভাবে এক্বামতের শব্দগুলো শিক্ষা দিয়েছেন সেভাবেই বলতে হবে। উক্ত মতপার্থক্যের প্রশ্নই আসে না। যেমন-
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ، حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ، قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ، اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّه.
(আবুদাঊদ হা/৪৯৯)। অতএব শেষে একবার আল্লাহু আকবার বলা যাবে না; বরং দু’বার বলতে হবে। কারণ এটি একটি জোড় বাক্য হিসাবে ‘মার্রাতান’ বলা হয়েছে। একে ভাঙ্গা যাবে না (দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃঃ ৪০)

প্রশ্ন (৩৪/৭৪) : আমি একজন রিক্সা চালক। প্রতি মাসে ৮/১০ দিন ঢাকায় এসে রিক্সা চালাতে হয়। এক্ষেত্রে আমি ছালাত ক্বছর করতে পারি কি?
-আব্দুর রহীম
সিরাজগঞ্জ
উত্তর : পারবেন। কেননা আপনি ঐ সময় মুসাফির (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৩৬ ‘সফরের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৫/৭৫) : এক মহিলার ঋতু সাধারণত ৭ দিনে শেষ হয়। তাই সে সাতদিন পর কুরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য ইবাদত শুরু করে। কিন্তু পরে আবার রক্ত দেখতে পায়। এতে কি তার গোনাহ হবে?
-জুলিয়া
দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
উত্তর : উক্ত অবস্থায় ইবাদত শুরু করাই যরূরী। কারণ নারীদের ঋতু অবস্থায় থাকার সাধারণত সময় হচ্ছে ৬ দিন বা ৭ দিন (বাকীটা প্রদর রোগ)। (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৫৬১ ‘ইস্তিহাযা’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৬/৭৬) : ‘কথার পূর্বেই সালাম’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?
-আযহারুল ইসলাম
পিয়ারপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : তিরমিযী বর্ণিত উক্ত হাদীছটি অন্যান্য সমার্থক হাদীছের কারণে ছহীহ (আলবানী, ছহীহ তিরমিযী হা/২৬৯৯)। আর তা হ’ল যেমন, السَّلاَمُ قَبْلَ السُّؤَالِ، مَنْ بَدَأَ بِالسُّؤَالِ قَبْلَ السَّلامِ فَلا تُجِيْبُوْهُ ‘প্রশ্নের পূর্বেই সালাম। যে ব্যক্তি সালাম না দিয়ে প্রশ্ন শুরু করবে, তোমরা তার উত্তর দিয়ো না’ (ইবনু আদী, ত্বাবারাণী, সনদ হাসান)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, لاَ تَأْذَنُوْا لِمَنْ لَمْ يَبْدَأْ بِالسَّلاَمِ ‘যে ব্যক্তি সালাম দিয়ে শুরু করবে না তাকে অনুমতি দিয়ো না’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৮৮১৬; সনদ হাসান)। এছাড়াও উক্ত মর্মে আরো হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/৮১৬-১৯)

প্রশ্ন (৩৭/৭৭): জনৈক আলেম বলেন, ইসলামী সম্মেলনের মঞ্চে জাগরণী বলা যাবে না। উক্ত দাবী কি সঠিক?
-মফীযুদ্দীন
মহববতপুর, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত দাবী সঠিক নয়। হাস্সান বিন ছাবিত (রাঃ)-এর জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদে একটি মিম্বর তৈরি করেছিলেন ইসলামের পক্ষে কবিতা বলার জন্য (বুখারী, মিশকাত হা/৪৮০৫ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায় ৯ অনুচ্ছেদ; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৪৫৯৫)

প্রশ্ন (৩৮/৭৮) :  পিতা-মাতার নামে কসম খাওয়া যাবে কি? রাসূল (ছাঃ) নিজের পিতার নামে কসম খেয়েছেন (আবুদাউদ)
-আবু রায়হান
মাহমূদপুর, সাতক্ষীরা।
উত্তর : পিতা-মাতার নামে কসম খাওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেছেন তোমাদের বাপ-দাদাদের নামে কসম করতে। যে ব্যক্তি কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহ্র নামে কসম করে, অথবা চুপ থাকে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৪০৭ ‘কসম ও মানত’ অধ্যায়)। আবুদাঊদে বর্ণিত উক্ত হাদীছটি যঈফ (যঈফ আবুদাঊদ হা/৩৮১৭; মিশকাত হা/৪২৬১ ‘খাদ্যসমূহ’ অধ্যায় ২ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৯/৭৯) : তিন রাক‘আত বিতর একটানা পড়া যাবে কি?
-আহমাদ
বিরল, দিনাজপুর।
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘বিতর ছালাত আবশ্যিক (حق)। যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে ৫ রাক‘আত পড়ুক, যে ইচ্ছা করে ৩ রাক‘আত পড়ুক, যে ইচ্ছা করে ১ রাক‘আত পড়ুক’ (ইবনু মাজাহ, দারাকুৎনী হা/১৬২৫, সনদ ছহীহ)। এক্ষণে বিতর কিভাবে পড়বে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হ’লে ইমাম আহমাদ বলেন, বর্ণিত কোনটাতেই সমস্যা নেই। তবে আমি পসন্দ করি প্রতি দু’রাক‘আত অন্তর সালাম ফিরিয়ে শেষে এক রাক‘আত বিতর পড়া। আর স্রেফ এক রাক‘আত বিতর পড়া উচিত নয়, যতক্ষণ না তার পূর্বে কোন নফল ছালাত থাকে (এটা কেবল ফজরের পরে পড়া যায়, যখন বিতর ক্বাযা হয়)। তিনি বলেন, যদি কেউ তিন রাক‘আত একটানা পড়ে, তাতে আমার অন্তরে কোন সংকোচ আসে না। তবে আমার কাছে পসন্দনীয় হ’ল দু’রাক‘আত পর সালাম ফিরানো। কেননা এ বিষয়ে হাদীছগুলি সংখ্যায় অধিক এবং অধিক শক্তিশালী’ (মাসায়েলে ইমাম আহমাদ, মাসআলা নং ৪৪১-৪২; মুগনী ২/৭৮২-৮৪; যাদুল মা‘আদ ১/৩১৯-২০)। তবে ক্বাযী আয়ায বলেন, পূর্বে নফল ছাড়াই কেবল এক রাক‘আত বিতর পড়া মকরূহ নয়। কেননা হাদীছে স্রেফ এক রাক‘আত বিতরের কথা এসেছে (মাসায়েলে ইমাম আহমাদ, মাসআলা নং ৪৪২, টীকা-২, ২/৩১৫ পৃঃ)
তিন রাক‘আত বিতর ছালাতের ক্ষেত্রে দুই রাক‘আত পড়ার পর সালাম ফিরিয়ে অতঃপর এক রাক‘আত পড়বে (আলবানী, ছালাতুত তারাবীহ, পৃঃ ১০৩-৫)। উল্লেখ্য যে, একটানা তিন রাক‘আত পড়ার হাদীছ নির্ভরযোগ্য নয়। তাতে ত্রুটি রয়েছে (ইরওয়া হা/৪২১-এর আলোচনা দ্রঃ)। মাঝে বৈঠক করে মাগরিবের ন্যায় তিন রাক‘আত বিতর পড়তে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন (দারাকুৎনী হা/১৬৩৪, সনদ ছহীহ)। সুতরাং বিতর এক রাক‘আত পড়তেই হবে। অথচ হানাফী মাযহাবে এক রাক‘আত বিতর ছালাতকে ছালাত হিসাবেই গণ্য করা হয়নি। যা ছহীহ হাদীছ সমূহের বিরোধী। অতএব উত্তম হ’ল তিন রাক‘আত বিতর দুই সালামে পড়া। এতে কোন মতভেদ নেই। (মুসলিম শরহ নববী ‘বিতর’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (৪০/৪০) : যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করে না, তার জানাযা পড়তে হবে কি? কারো ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে কিংবা অজ্ঞাত থাকলে করণীয় কি?
-মামূন
দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত তরককারী অথবা ছালাত ফরয হওয়াকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির ও জাহান্নামী। ঐ ব্যক্তি ইসলাম হ’তে বহিষ্কৃত। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান রাখে, অথচ অলসতা ও ব্যস্ততার অজুহাতে ছালাত তরক করে, সে ব্যক্তি কবীরা গোনাহগার। তার জানাযা বড় কোন মুত্তাক্বী আলেম পড়াবেন না (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল, পৃঃ ১৮-২০)। আর যে ব্যক্তির অবস্থা অজ্ঞাত এবং যার ব্যাপারটা অস্পষ্ট ও সন্দেহযুক্ত, তার জানাযা পড়তে হবে।