কবিতা


হ’তে হবে মুমিন


-এফ.এম. নাছরুল্লাহ
কাঠিগ্রাম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।


ওযূতে আমার ভেজেনি কনুই
টাখনুতে লাগেনি পানি
মুখমন্ডল আমি ধুয়েছি ঠিকই
কিন্তু সম্পূর্ণ ভেজেনি\
কি করে কবুল হবে ছালাত
টিকিবে ঈমানদারী,
অশুদ্ধ সূরা কালাম যদি
প্রতি রাক‘আতে পড়ি?
মন যদি না হয় পাগলপরা
মুয়ায্যিনের ডাকে,
কেমন করে আমি পড়ব ছালাত
খুশি করব আল্লাহ তা‘আলাকে।
মনটাকে যদি আল্লাহভীরু
নাহি করতে পারি,
কেমন করে আমি অধম
পুলছিরাত দিব পাড়ি?
পেতে নাজাত কর ইবাদত
ছাড় শিরক ও বিদ‘আত,
অাঁকড়ে ধর রাসূলের তরীকা
তবেই পাবে তাঁর শাফা‘আত।
পেতে হ’লে জান্নাত, পড়তে হবে ছালাত
রাসূল (ছাঃ)-এর তরীকা ধরে,
তাঁর আদর্শে হ’তে হবে মুমিন
ইহকাল-পরকালের তরে\


হে মুসলিম


-মুহাম্মাদ আনিছুর রহমান
সারদা, রাজশাহী।


হে মুসলিম! উঠ জেগে সময় নেই ঘুমাবার,
তোমাদের গর্ব করতে খর্ব দুশমনরা সোচ্চার।
ঠান্ডা মাথায় করছে আঘাত হাতিয়ার জাতি ভাই,
বহুদূর বসি কাটিতেছে রশি, বুঝিবার উপায় নাই।
ভাইয়ে ভাইয়ে লাগিয়ে লড়াই, নাম দিয়েছে কত ভিন্ন,
দেখাইয়া লোভ মারিতেছে ক্ষোভ মেধা করেছে শূন্য।
তোমরাই ছিলে প্রভুর জাতি তারাতো ছিল কৃতদাস,
নিজেকে বিলে যেওনা ভুলে পূর্বের ইতিহাস।
সবকিছু বুঝে থাকিও না বসে আপন-আপন ঘরে,
তোমাদেরই সুবাসি ভুলিতেছে হাসি রুদ্ধ কারাগারে।
মান যদি হায় না থাকে ধরায়, তোমাদের কি দরকার বলো,
হে মুসলিম! থেকো না ঘুমিয়ে এবার নয়ন খোল।


স্বার্ণালী সকাল


-ছাবিলা ইয়াছমিন
দেবহাটা, সাতক্ষীরা।


ঘুমের চেয়ে ছালাত ভাল
বলল মুয়াযযিন,
ভোরের আভা উঠলো ফুটে
শুরু হ’ল দিন।
পাখপাখালী মিষ্টি সুরে
গাইছে মধুর গান,
বলছে ডেকে রাত পোহাল
ওঠরে মুসলমান।
যাচ্ছে কেটে নিকষ কালো
গাঢ় অন্ধকার,
নদীর মাঝি ডাকছে যে ঐ
করতে খেয়া পার।
পূর্ব আকাশ রাঙা করে
সূর্যি মামা উঠছে,
কুঞ্জবনে কুসুম কলি
এইতো বুঝি ফুটছে।
শিশির কণা ঘাসের ডগায়
করছে যে ঝলমল,
দূর অজানায় পাড়ি দিল
শ্বেত বলাকার দল।


জবাব চাই


-যাকওয়ান হুসাইন
বগুড়া।


ওরা পায় না খেতে দু’মুঠো ভাত
অথচ ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ,
একদিন ঠিক করবে ওরা
এ দেশের গতিপথ।
সেই সে চালক আজ কেন যে
ফুটপাতেতে রয়,
দেশের সেই ভবিষ্যতের
বিকাশ কেন না হয়।
নেইকো তাদের কাপড়-চোপড়
নেই কো বাসন-কোসন,
ফুটপাত তাদের মূল ঠিকানা
দুঃখই তাদের আপন।
কেউবা টোকাই কেউবা হকার
কেউবা রিক্সা চালায়,
কেউবা আবার বসে বসে
অনাহারে দিন কাটায়।
শিক্ষা বস্ত্র পায় না ওরা
নেইকো বাসস্থান,
পায় না কোথাও সঠিকভাবে
আদর ও সম্মান।
দেশের এমন ফুল কলিরা
করছে নানা কাম,
বাঁচার তরে এই শিশুদের
ঝরছে দেহের ঘাম।
এই শিশুদের যথাযথ
ঠাই কেন আজ নাই?
দেশের যারা মাথা মুন্ডু
তাদের কাছেই জবাব চাই?
***