সংগঠন সংবাদ

আন্দোলন 

তাবলীগী ইজতেমা ২০১৫

রাজশাহী ২৬ ও ২৭শে মার্চ বৃহস্পতি ও শুক্রবার : ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর দু’দিনব্যাপী ২৫তম বার্ষিক তাবলীগী ইজতেমা রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া ট্রাক টার্মিনাল ময়দানে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফালিল্লা-হিল হাম্দ। ১ম দিন বিকাল সাড়ে ৪-টায় তাবলীগী ইজতেমা’১৫-এর সভাপতি ও ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব-এর উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর হিফয বিভাগের প্রধান হাফেয লুৎফর রহমান এবং স্বাগত ভাষণ দেন তাবলীগী ইজতেমা’১৫ ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক ও ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল লতীফ।

অতঃপর উদ্বোধনী ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা যারিয়াতের ৫৬ আয়াত উল্লেখ করে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, তাবলীগী ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে আল্লাহর দাসত্বে ফিরিয়ে আনা। কেননা বর্তমান পৃথিবীর সকল হানাহানি কাটাকাটির মূল কারণ হচ্ছে এটাই। একদল মানুষ জীবিত মানুষের দাসত্ব করছে। আরেকদল মানুষ মৃত মানুষের দাসত্ব করছে। আমরা মুসলিম-অমুসলিম জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আল্লাহর সৃষ্টি সকল বনু আদমকে আল্লাহর দাসত্ব করার আহবান জানাই। তিনি বলেন, আমরা মানুষের কথার উপরে কুরআন-হাদীছকে অগ্রাধিকার দেই এবং সেদিকেই মানুষকে আহবান জানাই। তাই যারা আমাদের দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ, তারা সেই হারানো কথাগুলি শ্রবণ করার জন্য নওদাপড়ার ইজতেমায় আসেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ইবাদত হ’তে হবে ইখলাছের সাথে। কোনরূপ রিয়া যেন কারু মনে স্থান না পায়। নেকীর জন্য পরস্পরে প্রতিযোগিতা করুন। একে অপরকে সহযোগিতা করুন ও পরস্পরকে ক্ষমা করুন। এই বলে তিনি আল্লাহর নামে দু’দিনব্যাপী তাবলীগী ইজতেমার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের উদ্বোধনী ভাষণের পর পূর্ব থেকে প্রদত্ত বিষয়বস্ত্ত সমূহের উপর বক্তব্য পেশ করেন মাওলানা রুস্তম আলী (রাজশাহী), ক্বামারুয্যামান বিন আব্দুল বারী (জামালপুর), ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক আব্দুল হালীম (রাজশাহী), ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতার (কুষ্টিয়া), অধ্যাপক মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম (যশোর), মাওলানা সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব (ঢাকা), মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ (চাঁপাই নবাবগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল মান্নান (সাতক্ষীরা), মাওলানা দুর্রুল হুদা (মোহনপুর, রাজশাহী), হাফেয শামসুর রহমান আযাদী (সাতক্ষীরা)।

২য় দিন শুক্রবার বাদ ফজর : দরসে কুরআন, মুহতারাম আমীরে জামা‘আত (দারুল হাদীছ জামে মসজিদ) এবং প্যান্ডেলে মাওলানা আব্দুল খালেক সালাফী (মারকাযের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) ও দরসে হাদীছ, (প্যান্ডেল) মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল (পাবনা)। বক্তব্য (প্যান্ডেল) অধ্যাপক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন (নরসিংদী), অধ্যাপক আকবর হোসাইন (যশোর), মাওলানা আলতাফ হোসাইন (সাতক্ষীরা)।

জুম‘আর খুৎবা :

মুহতারাম আমীরে জামা‘আত (প্যান্ডেলে) এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক  মাওলানা নূরুল ইসলাম (দারুল হাদীছ জামে মসজিদ)।

২য় দিন বাদ আছর থেকে :

অধ্যাপক দুর্রুল হুদা (গোদাগাড়ী, রাজশাহী), ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মাদ নযরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ), অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম (মেহেরপুর), ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (গোপালগঞ্জ), অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (কুমিল্লা), মুযাফফর বিন মুহসিন (রাজশাহী), মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল (পাবনা), মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম (খুলনা), মাওলানা আবুবকর (রাজশাহী) ও অন্যান্য বক্তাগণ।   

দেশের চলমান অবরোধ ও হরতালের সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও মুছল্লীদের ব্যাপক উপস্থিতি তাবলীগী ইজতেমাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বাইরের যেলাগুলি থেকে সর্বমোট ১০৮টি রিজার্ভ বাস, ট্রেনের রিজার্ভ বগি ও ১২টি মাইক্রোবাস ছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় সব যেলা থেকেই ট্রেন, বাস, মাইক্রো, ভটভটি, মটর সাইকেল, সাইকেল, ইজিবাইক ইত্যাদি বিভিন্ন যানবাহন যোগে হাযার হাযার মুছল্লী ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন। সঊদী আরব ও সিঙ্গাপুর সহ অন্যান্য দেশ থেকেও সদ্য দেশে ফেরা অনেক প্রবাসী কর্মী ও সুধী ইজতেমায় যোগদান করেন।

দু’দিনব্যাপী তাবলীগী ইজতেমার বিভিন্ন অধিবেশনে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা সহকারী নূরুল ইসলাম, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক জালালুদ্দীন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন প্রমুখ। তাবলীগী ইজতেমার বিভিন্ন অধিবেশনে কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেয লুৎফর রহমান, আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ, আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির ও মীযানুর রহমান। ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর প্রধান মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম (জয়পুরহাট), যশোর যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক আব্দুস সালাম (যশোর), আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর ছাত্র আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ (বগুড়া), আবু রায়হান (সাতক্ষীরা) ও মুহাম্মাদ এনামুল হক (নওগাঁ) প্রমুখ।

সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)-এর পরিচিতি পেশ :

বহু আকাংখিত ও সদ্য প্রকাশিত নবীদের কাহিনী-৩ সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি শ্রোতাদের সামনে বাদ মাগরিব তুলে ধরেন হাদীছ ফাউন্ডেশন-এর গবেষণা সহকারী নূরুল ইসলাম। বৃহৎ সাইজে ৭২০ পৃষ্ঠার এই অমূল্য গ্রন্থটির (হাদিয়া ৩৮০ টাকা) কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেন, এ যাবত আরবী, উর্দূ ও বাংলা ভাষায় নবীজীবনের উপর প্রাচীন ও আধুনিক যত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, প্রায় সবগুলি থেকে অত্র গ্রন্থে তথ্যাবলী সংযোজিত হয়েছে। সেই সাথে সেগুলির মধ্যে যেগুলি প্রসিদ্ধ ও বড় ধরনের ভুল, সেগুলি অত্র গ্রন্থে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন অনেক তথ্যাবলী সংযোজিত হয়েছে, যেগুলি বিগত সমালোচক ও টীকাকারগণের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। এতদ্ব্যতীত অত্র গ্রন্থে ‘প্রসিদ্ধ কিন্তু বিশুদ্ধ নয়’ এরূপ আড়াই শতাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)-এর সবচেয়ে মূল্যবান  সংযোজন। এ বিষয়ে তিনি উদাহরণ স্বরূপ ৩টি নমুনা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন।

সবশেষে তিনি বলেন, উপরোক্ত কারণ সমূহের প্রেক্ষাপটে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, ‘সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)’ গ্রন্থটি সীরাত গবেষকদের নিকটে অতুলনীয় ও যুগশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসাবে বিবেচিত হবে। আমরা চাই গ্রন্থটি নবীপ্রেমিক সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক এবং মানুষ নবীচরিতের অনুসরণে নিজের জীবন গড়ে তুলুক।

তার ভাষণের পর মুছল্লীদের মধ্যে ‘সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)’ খরিদের হিড়িক পড়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে সব কপি শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতা ও পাইকারগণ অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে যান। অতঃপর সেদিন থেকেই গ্রন্থটি নিয়মিত বাঁধাই হচ্ছে ও নগদ বিক্রি হচ্ছে। ফালিল্লাহিল হাম্দ

১ম দিনের ভাষণ :

প্রথম দিন বাদ এশা রাত পৌনে ৯-টায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সূরা আহযাবের ২১ আয়াত তেলাওয়াত করে রাসূল (ছাঃ)-এর সীরাত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের রাসূল নূরনবী নন, তিনি মানুষ নবী ছিলেন। আমাদের রাসূল পূজনীয় নন, বরং তিনি অনুসরণীয় ছিলেন। আমাদের রাসূল খানকা আর হুজরার সাধক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মানবতার সর্বোচ্চ নমুনা এবং ধর্ম ও কর্মজীবনে সর্বযুগের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শুধু নিজের অনুসারীদের সংস্কার করেননি, বরং পুরা সমাজ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। এজন্য আমরা বলি, তিনি ছিলেন মহা বিপ্লবের মহানায়ক। একই বাজারে তাঁর ও তাঁর চাচা আবু লাহাবের দাওয়াতের হাদীছটি উদ্ধৃত করে আমীরে জামা‘আত বলেন, ভাতিজার দাওয়াত ছিল আল্লাহর দিকে। আর চাচার দাওয়াত ছিল বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা শিরকী সমাজব্যবস্থার দিকে। বিশ্বাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি সেই সমাজে বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ একইভাবে আক্বীদা ও বিশ্বাসের সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের সার্বিক সংস্কারের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মানুষ হত্যা করে মানুষের উপরে দ্বীন কায়েম করা যায় না। তেমনি ব্যালটের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষের রায় নিয়ে দ্বীন কায়েম করা আরেকটি ধোঁকা মাত্র। কারণ অহি-র বিধান অপরিবর্তনীয়। তা কারু ভোটের অপেক্ষা করে না। তিনি বলেন, ব্যালটও নয়, বুলেটও নয় স্রেফ আক্বীদা ও আমলের সংশোধনের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করা সম্ভব। তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বর্তমানে ৪টি দর্শনের সংঘাত চলছে। ১. সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ দর্শন, ২. মডারেট বা শৈথিল্যবাদী দর্শন ৩. ছূফীবাদী দর্শন এবং ৪. আহলেহাদীছ-এর দর্শন। এই চারটি দর্শনের মধ্যে প্রথম তিনটি বাতিল। যা পাশ্চাত্যের অতীব নিকটবর্তী। শেষটাই কেবল সঠিক। যার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য সহ সকল বাতিল শক্তি সর্বদা সোচ্চার। তিনি বলেন, আহলেহাদীছ হকপন্থী দল। যারা কখনো শিরক ও বিদ‘আতের সাথে আপোষ করে না। হক কখনো পরাজিত হয় না, বাতিল চিরদিন পরাজিত হয়। তিনি বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ সর্বদা সর্বত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করতে চায়। পরিশেষে তিনি সকলকে স্ব স্ব আক্বীদা ও আমল সংশোধন করে জান্নাতের পথে ফিরে আসার আহবান জানান।

২য় দিনের ভাষণ :

ইজতেমার ২য় দিন বাদ এশা রাত পৌনে ১০-টায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা হজ্জের ৩৮ আয়াত উল্লেখ করে বলেন, তাওহীদ হ’ল মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বস্ত্ত। তিনি বলেন, শয়তানের দাসত্ব থেকে মাথা ঘুরিয়ে নিয়ে আল্লাহর দাসত্বের শৃঙ্খলে নিজেকে আবদ্ধ করার নাম তাওহীদ। মানুষ তাওহীদপন্থী হ’লে আল্লাহ তাকে সবকিছু থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেন। অর্থাৎ আল্লাহ ঐসব মুমিনদের শত্রুদের প্রতিহত করেন যারা বিশ্বাসঘাতক নয়, অকৃতজ্ঞ নয়। তিনি সূরা আন‘আমের ১২২ আয়াতের আলোকে জীবন্ত ঈমানদার ও মৃত ঈমানদারের পার্থক্য উল্লেখ করে বলেন, মৃত্যু দু’রকম- আত্মিক মৃত্যু ও দৈহিক মৃত্যু। দৈহিক মৃত্যু হ’লে মানুষ কবরে চলে যায়। আর রূহানী বা আত্মিক মৃত্যু হ’লে মানুষ যমীনে হেঁটে বেড়ায়। কিন্তু তার অন্তরে ভাল কিছু প্রবেশ করে না। এ যুগের মৃত অন্তরগুলো তিন ধরনের ধোঁকার মধ্যে আছে। ১. রাজনৈতিক ধোঁকা তথা অধিকাংশ মানুষের সমর্থনের ধোঁকা। ২. সূদী লেনদেনের ধোঁকা ৩. অসীলাপূজার ধোঁকা। এর মাধ্যমে মানুষ মৃত মানুষের পূজা করছে। এসব ধোঁকা থেকে বাঁচার উপায় হ’ল চারটি।- ১. আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করা ২. সর্বত্র ইলম ছড়িয়ে দেওয়া ৩. নেতাদের কল্যাণ কামনা করা ৪. হেদায়াতপ্রাপ্ত মানুষদের জামা‘আতকে অপরিহার্য করে নেওয়া।

সবশেষে তিনি বলেন, আল্লাহ ঐসব মুমিনকে ভালবাসেন, যারা আল্লাহর পথে ঐক্যবদ্ধভাবে সীসাঢালা প্রচীরের ন্যায় সংগ্রাম করে। তিনি সবাইকে অটুট ঐক্য বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাবার আহবান জানান।

ইজতেমার অন্যান্য রিপোর্ট

জুম‘আর খুৎবা :

ইজতেমার ২য় দিন শুক্রবার ইজতেমা প্যান্ডেলে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত এবং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন। এ সময় মহিলা মাদরাসা ও টার্মিনালের পার্শ্ববর্তী পৃথক স্থানে দু’টি মহিলা প্যান্ডেল সহ ট্রাক টার্মিনালের পুরো ময়দানব্যাপী সুবিশাল প্যান্ডেল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। একই মাইক্রোফোনে প্রদত্ত জুম‘আর খুৎবায় সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা হূদ ১১২ আয়াতের আলোকে বলেন, দ্বীনের প্রতি দৃঢ়তা ব্যতীত দুনিয়া ও আখেরাতে কোনরূপ কল্যাণ লাভ সম্ভব নয়। যাতে দৃঢ়তা বিনষ্ট না হয় সেজন্য আল্লাহ পরের আয়াতেই বান্দাকে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন, যার অন্তর যত বেশী আল্লাহর জন্য প্রশস্ত এ দুনিয়ায় তিনি তত বেশী সুখী। আর সুখী জীবন যাপনের জন্য পাঁচটি বস্ত্ত প্রয়োজন। ১. নির্ভেজাল তাওহীদ বিশ্বাস ও আল্লাহর উপরে একান্ত ভরসা। নইলে মানুষ আল্লাহর বদলে সৃষ্টির গোলাম হয়ে যায়। যার কোনই ক্ষমতা নেই। ২. কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান। যা মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত করে। ৩. সকল কাজে আল্লাহর দিকে রুজূ হওয়া ও পূর্ণ অন্তর দিয়ে তাঁকে ভালবাসা। ৪. সংকীর্ণ অন্তর ও কৃপণতা পরিহার করা। কেননা কৃপণতা ও ঈমান কখনো এক অন্তরে স্থান পায় না। ৫. পূর্ণভাবে তাকদীরে বিশ্বাসী হওয়া। যার ফলে মানুষ সুখের দিন দিশা হারায় না এবং দুঃখের দিন নিরাশ হয় না। এ বিষয়ে তিনি কয়েকজন ছাহাবীর দৃঢ়চিত্ততার উদাহরণ পেশ করেন। সেই সাথে সকলকে দুনিয়াবী সংকীর্ণতা পরিহার করে আল্লাহর জন্য প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার আহবান জানান।

যুবসমাবেশ :

ইজতেমার ২য় দিন বেলা সাড়ে ১০-টায় প্রস্তাবিত দারুলহাদীছ বিশ্ববিদ্যালয় (প্রাঃ) জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে পৃথক প্যান্ডেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে ‘যুবসমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, জাহেলিয়াতে ভরা সমাজকে পরিবর্তনের জন্য চাই তাওহীদের আলোই আলোকিত দৃঢ়কল্প একদল যুবক। যারা ইমারতের অধীনে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, ইমারতের প্রতি ভালবাসা ও আল্লাহর নামে আনুগত্যের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যতীত ইসলামী সংগঠন কায়েম হয় না। আহলেহাদীছ যুবসংঘের কর্মী ও কাউন্সিল সদস্যগণ উক্ত  অঙ্গীকারে আবদ্ধ। আমরা দো‘আ করি তারা যেন আমৃত্যু উক্ত অঙ্গীকারের উপরে দৃঢ় থাকেন।

সমাবেশে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর নযরুল ইসলাম বলেন, আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) একদল নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী রেখে গিয়েছিলেন। যারা তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করেছিলেন। ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কর্মীদেরকেও তাঁদের মত রাসূল (ছাঃ)-এর আদর্শ প্রচার-প্রসারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

অতঃপর অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, দফতর ও যুববিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক আকবার হোসাইন, সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন, সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ তাসলীম সরকার, ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক আব্দুল হালীম বিন ইলিয়াস, ‘যুবসংঘ’ ঢাকা যেলা সভাপতি হুমায়ুন কবীর, সাতক্ষীরা যেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামূন, বগুড়া যেলা সভাপতি আব্দুর রাযযাক প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরীফুল ইসলাম। সবশেষে সভাপতি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সুধীমন্ডলী অংশগ্রহণ করেন।

হাফেয শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান :

আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর হিফয বিভাগের ৪জন ছাত্র এবং প্রথমবারের মত মারকাযের মহিলা শাখা মহিলা সালাফিইয়াহ মাদরাসার ৩ জন ছাত্রী এ বছর পবিত্র কুরআন হিফয সম্পন্ন করেছে। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ এশা তাদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান করেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক সালাফী। সনদপ্রাপ্ত ছাত্ররা হ’ল : ১. আব্দুল্লাহ বিন মাকবূল হোসাইন (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) ২. আব্দুল্লাহ বিন শামসুল হক (বগুড়া) ৩. ইউনুস বিন ইমরান (রাজশাহী) ৪. ফিরোয কবীর বিন হাসান আলী (দিনাজপুর)।

সনদপ্রাপ্ত ছাত্রীরা হ’ল : ১. মারিয়াম বিনতে আব্দুর রায্যাক (চাঁপাই নবাবগঞ্জ), ২. জারীন তাসনীম বিনতে শামসুল আলম (যশোর), ৩. তাহসীনা তাবাস্সুম বিনতে সাখাওয়াত হোসাইন (কুমিল্লা)।

জাতীয় গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ :

বিগত বছরের ন্যায় এবারও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ‘জাতীয় গ্রন্থপাঠ’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচিত বই ছিল আমীরে জামা‘আত লিখিত ‘সমাজ বিপ্লবের ধারা’ ‘ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি’ এবং ‘ফিরক্বা নাজিয়াহ’। এতে শীর্ষস্থান অধিকারী তিনজন হ’ল যথাক্রমে আসাদুল্লাহ আল-গালিব (কুষ্টিয়া), শামীম আহমাদ (জয়পুরহাট) ও শাহীন রেযা (চাঁপাই নবাবগঞ্জ)। এছাড়া ৭ জনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও ‘আন্দোলন’-এর সেক্রেটারী জেনারেল।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) প্রদান :

ইজতেমার ২য় দিন বাদ এশা ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মাদ নযরুল ইসলামকে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রণীত সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) হাদিয়া প্রদান করেন মাননীয় লেখক।

মহিলা সমাবেশ :

ইজতেমার ২য় দিন শুক্রবার সকাল ১০-টায় মহিলা সালাফিইয়াহ মাদরাসা ময়দানে মহিলাদের জন্য পৃথক প্যান্ডেলে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, মা-বোনেরাই সন্তান গড়ার কারিগর। তাদের মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে উঠতে পারে। অতএব তাদেরকে তাদের ইহকালীন ও পরকালীন স্বার্থে সংগঠনের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী স্ব স্ব পরিবারকে সুশৃংখলভাবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ তারাই হ’লেন গৃহের দায়িত্বশীল। নিজেকে ও নিজ পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর মূল দায়িত্ব মা-বোনদের। অতএব আপনারা যথাযথভাবে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করে যান।

‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্যা আঞ্জুমান আরার সভানেত্রীত্বে উক্ত মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

বিদায়ী ভাষণ ও দো‘আ :

ইজতেমার ৩য় দিন শনিবার মুহতারাম আমীরে জামা‘আত-এর ইমামতিতে ফজরের জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর তিনি ইজতেমায় আগত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বিদায়ী ভাষণ পেশ করেন। তিনি সবাইকে ছহীহ-সালামতে স্ব স্ব  গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন। অতঃপর বিদায়কালীন দো‘আ ও বৈঠক ভঙ্গের দো‘আ পাঠের মাধ্যমে দু’দিনব্যাপী ২৫তম বার্ষিক তাবলীগী ইজতেমার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সাইকেল আরোহী :

তাবলীগী ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য সুদূর সাতক্ষীরা (অন্যূন ৩২৫ কি.মি. দূর) থেকে সাইকেল যোগে রাজশাহীর নওদাপাড়ায় পৌঁছেন তালা উপযেলাধীন গড়েরকান্দা গ্রামের আব্দুল বারী (৫৮) ও সাতক্ষীরা সদর থানার কাওনডাঙ্গা গ্রামের যয়নাল আবেদীন (৭৫)। সাতক্ষীরা থেকে রাজশাহী পৌঁছতে তার সময় লাগে ২১ ঘণ্টা। তিনি ২০০৪ থেকে প্রতি বছর সাইকেল যোগে ইজতেমায় যোগদান করেন। অপরদিকে আব্দুল বারীর সময় লাগে ১৫ ঘণ্টা। এবার নিয়ে তিনি ১৩ বার বাইসাইকেল যোগে তাবলীগী ইজতেমায় যোগদান করছেন।  

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত :

২৬ মার্চ দুপুর ২-টায় ইজতেমার উদ্দেশ্যে বগুড়া থেকে রাজশাহী গামী রিজার্ভ বাস ব্রেক ফেইল করে নন্দীগ্রাম থানার রণবাঘা নামক স্থানে পার্শ্ববর্তী গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ৪ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। তারা হ’লেন মাহফূযা আখতার (৫৬) লক্ষ্মীকোলা, মহীরুল ইসলাম (২২) বাগবাড়ী, সাইফুল ইসলাম (৪০) ও মুনছেফ আলী (৫০) বাগবাড়ী। এছাড়া বাগবাড়ী ফুরকানিয়া মাদরাসার ৪জন ছাত্রী সামান্য আহত হয়।

আহতদের মধ্যে মহীরুল, সাইফুল ও মুনছেফ আলীকে বগুড়ায় ফেরৎ নিয়ে যাওয়া হয় এবং জিয়া মেডিকেল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে তারা চিকিৎসা নেন। মাহফূযা আখতার ও ৪জন ছাত্রীকে সরাসরি রাজশাহী নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় ছাত্রীরা সুস্থ হয়। কিন্তু মাহফূযা আখতারকে নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যেখানে তার ভগ্ন পা প্লাস্টার করা হয়। অতঃপর ২৮ তারিখে বগুড়ার রিজার্ভ গাড়ীতে বাড়ীতে  পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

ইজতেমার ১ম দিন বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১-টায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার মাহতাবপুর গ্রামের রবীউল ইসলাম (৪২) ও চক দফর গ্রামের ফযলুল করীম (৩৮) অটোতে চড়ে ইজতেমা ময়দানে যাওয়ার পথে তাদের অটোরিক্সাকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে দু’জন গুরুতর আহত হন। রবীউল ইসলামের বাম হাত ভেঙ্গে যায়। সাথে সাথে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ফযলুল করীমকে সেলাই দেওয়া হয়। অতঃপর তাকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রবীউল ইসলামকে পরদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর ২রা এপ্রিল বৃহস্পতিবার রিলিজ দেওয়া হয়। এ সময় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও মারকাযের চিকিৎসক জনাব ডা. সিরাজুল ইসলাম ও সোনামণি পরিচালক আব্দুল হালীম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমীরে জামা‘আত তার জন্য আল্লাহর পথে বিপদগ্রস্ত হওয়ার বিনিময়ে উত্তম জাযা প্রার্থনা করেন। 

 [আমরা আল্লাহর নিকট তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।-সম্পাদক]

ইজতেমায় গৃহীত প্রস্তাব সমূহ :

ইজতেমার ২য় দিন রাতে আমীরে জামা‘আতের ভাষণের পরে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম দেশের সরকারের নিকট নিম্নোক্ত প্রস্তাব সমূহ পেশ করেন এবং উপস্থিত সকলে হাত উচিয়ে সমস্বরে প্রস্তাবসমূহের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন।-

(১) পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে দেশের আইন ও শাসন ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং সূদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।

(২) জাতি বিভক্তির প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দল ও প্রার্থীবিহীন নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

(৩) সকল রাজনৈতিক দলকে জনকল্যাণের স্বার্থে ধ্বংসাত্মক ও দেশের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড হ’তে বিরত থাকতে হবে।

(৪) ৯০% মুসলমানের এই দেশে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া থেকে সরকারকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

(৫) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাসে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ কর্তৃক প্রকাশিত/অনুমোদিত বই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(৬) সহ-শিক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা পৃথক শিফটিং ব্যবস্থা চালু    করতে হবে।

(৭) সাধারণ শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

(৮) মাদরাসার সিলেবাসে আরবী ও ইসলামী বিষয় সমূহের বাইরে অতিরিক্ত সিলেবাসের বোঝা হরাস করতে হবে। বিশেষ করে ২০০ নম্বরের সৃজনশীল ইংরেজী বিষয় বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মেরুদন্ড ধ্বংসকারী সকল নীল নকশা বাস্তবায়ন বন্ধ করতে হবে।

(৯) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সময় সভাপতি হিসাবে স্থানীয় এমপি বা তার প্রতিনিধির পরিবর্তে স্থানীয়    শিক্ষানুরাগী/প্রতিষ্ঠাতা/পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধানকে সভাপতি মনোনয়ন দিতে হবে।

(১০) দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ছবি টাঙ্গানো এবং বিভিন্ন দিবস পালন ও রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন বাধ্যতামূলক     করা চলবে না।

(দ্রঃ দৈনিক ইনকিলাব, ২৯শে মার্চ রবিবার, ৪র্থ পৃষ্ঠা ৩ ও ৪ কলাম ও অন্যান্য পত্রিকা)

যেলা সম্মেলন

আসুন! সৃষ্টির সূচনায় দেওয়া স্বীকৃতি পূর্ণ করি!

-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত

দিনাজপুর, ৪ঠা এপ্রিল শনিবার :  অদ্য বাদ আছর যেলার বিরল থানার ঢেলপীরে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ দিনাজপুর-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত যেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি জনগণের প্রতি সূরা আ‘রাফের ১৭২-৭৩ আয়াত পেশ করে বলেন, প্রত্যেক মানুষই এক আদমের সন্তান। অতএব সবাইকে একত্রিত করে সৃষ্টির সূচনায় আল্লাহ আমাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি কি তোমাদের প্রভু নই? আমরা বলেছিলাম হ্যাঁ’ (আ‘রাফ ৭/১৭২)। যার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ দুনিয়াতে কেবল আল্লাহর দাসত্ব করবে ও তাঁর বিধান মেনে চলবে। কিন্তু আমরা এখন আল্লাহর বিধান ছেড়ে অন্যের বিধান মেনে চলছি। তাঁর দাসত্ব ছেড়ে অন্যের দাসত্ব করছি।

তিনি বলেন, আল্লাহর বিধান রয়েছে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হদীছ সমূহের মধ্যে। এ দুই অভ্রান্ত সত্যের দিকে আমরা মানুষকে আহবান জানাই। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ উক্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ একটি সংগঠনের নাম। আসুন! আমরা সকলে আমাদের সার্বিক জীবনে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের অনুসারী হবার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি এবং সবদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে জান্নাতের পথে আগুয়ান হই।

যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব মুহাম্মাদ আজমালুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব।

কালেমা তাইয়েবার অনুসারী হউন!

-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত

বগুড়া, ১১ই এপ্রিল শনিবার :  অদ্য বাদ আছর যেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন নেসা খেলার মাঠে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ বগুড়া যেলা সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত যেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব জনগণের প্রতি উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি সূরা ইবরাহীম ২৪ আয়াত পেশ করে পবিত্র কালেমা ও অপবিত্র কালেমার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পবিত্র কালেমার অনুসারী মানুষ পবিত্র জীবন লাভ করে। তারা জীবনের সর্বক্ষেত্রে কেবল আল্লাহর দাসত্ব করে। ফলে ইহকালে ও পরকালে তা সফলকাম হয়। পক্ষান্তরে অপবিত্র কালেমার অনুসারী মানুষ অপবিত্র জীবনের অধিকারী হয়। সে জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে শয়তানের দাসত্ব করে। ফলে ইহকালে ও পরকালে সে ব্যর্থকাম হয়। তিনি বলেন, যারা সফল জীবন চায়, তাদেরকে অবশ্যই পবিত্র কালেমার অনুসারী হ’তে হবে। আর তা হ’ল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ। অতএব আসুন! পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে আমাদের সার্বিক জীবন গড়ে তুলি।

তিনি কিছু মানুষের ব্যবসায়িক স্বার্থে আমদানী করা অনৈসলামী সংস্কৃতি ১লা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তি, বর্ষবরণ, বর্ষাবরণ ইত্যাদিকে আবহমান বাংলার সার্বজনীন সংস্কৃতি বলার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ইসলামের অনুসারী সকলকে এসব নষ্ট সংস্কৃতির পিছনে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করার মত পাপকর্ম থেকে দূরে থাকার আহবান জানান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আগামী ১৪ই এপ্রিল বাংলাদেশে ১লা বৈশাখ হ’লেও ভারতে ৩১শে চৈত্র। তারা ও এদেশের হিন্দুরা ঐদিন চৈত্র সংক্রান্তি করবে। আর তথাকথিত মুসলিমরা করবে ১লা বৈশাখ উদযাপন। অথচ বলা হচ্ছে, ১লা বৈশাখ সকল বাঙ্গালীর সার্বজনীন লোকোৎসব। ১৯৬৫ সালে প্রথম ‘ছায়ানট’ ১লা বৈশাখে রমনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে। অতঃপর ১৯৮৪ সালে ১৪ই এপ্রিল ১লা বৈশাখ কিছু বেকার যুবক রমনা পার্কে পান্তা ভাতের দোকান দেয়। তার পর থেকেই শুরু হয় ইলিশ-পান্তার প্রথা। সেই সাথে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা, বাঘ, সাপ, হুতোম পেচা ইত্যাদির বড় বড় মূর্তি বহন, রাস্তায় আল্পনা আঁকা ইত্যাদি অপচয় ও মূর্তি সংস্কৃতির প্রচার। এর মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে, বানর-হনুমান ইত্যাদি পশুর উদ্বর্তিত রূপ হিসাবে মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। যা হ’ল ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’-এর নাস্তিক্যবাদী দর্শন। তাছাড়া সেই সাথে যোগ হয়েছে নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ নিধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের গোপন পাঁয়তারা। অতএব দেশপ্রেমিকরা সাবধান।

যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব মুহাম্মাদ আব্দুর রহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোক্তাদির, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন প্রমুখ। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি আব্দুর রায্যাক, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক আল-আমীন প্রমুখ।

সুধী সমাবেশ

গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা ১১ এপ্রিল শনিবার : অদ্য বেলা ১১-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ গাইবান্ধা-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জ টিএন্ডটি আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. আওনুল মা‘বূদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, ১৯৯৩ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এবারেই প্রথম এর নতুন রূপায়ন ঘটল। এজন্য মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি বর্ষিয়ান সমাজনেতা জনাব নূরুল ইসলাম প্রধান ও তাঁর সহযোগীদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। মসজিদের সাথেই মহিলাদের পৃথক ছালাত ও ওযূ খানার ব্যবস্থা করায় তিনি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। সেই সাথে মসজিদের বেদখলী জমি পুনরুদ্ধার করায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত জনাব নূরুল ইসলাম প্রধানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে অত্র মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, এতদঞ্চলে আহলেহাদীছ আন্দোলনের মারকায হিসাবে এই জামে মসজিদ আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। বর্তমানে এটি গাইবান্ধা-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার মারকায হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। যেলা আন্দোলন-এর প্রধান উপদেষ্টা জনাব প্রধান ছাহেবের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র ছেলেদের মাধ্যমে এখান থেকে নিয়মিত মাসিক আত-তাহরীক ও ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ প্রকাশিত বই-পত্র বিতরিত হয়। ফলে নতুন আহলেহাদীছ ভাইদের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। তিনি সমবেত মুছল্লীদেরকে ইমারতের অধীনে ঐক্যবদ্ধভাবে আহলেহাদীছ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানালে সকলে সমস্বরে তাঁকে সমর্থন দেন। তখন আমীরে জামা‘আত আল্লাহকে তিনবার সাক্ষী রেখে বলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ ভাই-বোনদেরকে প্রতিজ্ঞা পূরণের তাওফীক দাও।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোক্তাদির, জয়পুরহাট যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ মাহফূযুর রহমান এবং মেহেরপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক তরীকুয্যামান প্রমুখ। সবশেষে যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রধান উপদেষ্টা জনাব নূরুল ইসলাম প্রধান সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং যেলা সভাপতি ডা. আওনুল মা‘বূদ দো‘আ পাঠের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী হ’তে সকাল সাড়ে ৭-টায় রওয়ানা হয়ে সাড়ে ১০-টায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত গোবিন্দগঞ্জ পৌঁছেন। সেখানে পৌঁছে প্রথমে মসজিদ কমিটির বৈঠকে মিলিত হন। টিএন্ডটি আহলেহাদীছ জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মুহাতারাম আমীরে জামা‘আতের সভাপতিত্বে মসজিদ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি সূধী সমাবেশে যোগদান করেন।

ইসলামী সম্মেলন

কালদিয়া, বাগেরহাট ১৯শে মার্চ বৃহস্পতিবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ কর্তৃক পরিচালিত আল-মারকাযুল ইসলামী, কালদিয়া, বাগেরহাটের উদ্যোগে এক ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি সরদার আশরাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক জনাব গোলাম মোকতাদির। সম্মেলনে প্রধান আলোচক ছিলেন খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন আমতলী কামিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া ও চিতলমারী আহলেহাদীছ মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা আহমাদ আলী প্রমুখ। সম্মেলনে কৃতি ছাত্রদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।



মারকায সংবাদ

 
 

(১) আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী কমপ্লেক্স, নওদাপাড়া, রাজশাহী : এখান থেকে এবার ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৪-এ ৬ জন ছাত্র ও ৪ জন ছাত্রী সহ মোট ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী বৃত্তি লাভ করেছে। ট্যালেন্টপুলে ৩ জন ছাত্র ও ২ জন ছাত্রী সহ মোট ৫ জন এবং ৩ জন ছাত্র ও ২ জন ছাত্রী সহ মোট ৫ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার ট্যালেন্টপুলে ১ জন ছাত্রী ও সাধারণ গ্রেডে ১ জন ছাত্র সহ মোট ২ জন বৃত্তি পেয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর ১০টি মাদরাসা থেকে এ বছর ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে মোট ১৮ জন ছাত্র-ছাত্রী। তার মধ্যে ১০ জনই মারকায থেকে।

(২) দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ, বাঁকাল, সাতক্ষীরা : এখান থেকে এবার ১১জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করেছে। এদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৮ জন। জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার উক্ত মাদরাসা থেকে ৩ জন ছাত্র বৃত্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ২ জন ও সাধারণ গ্রেডে ১ জন।

(৩) মাদরাসাতুল হাদীছ সাবগ্রাম, বগুড়া : এখান থেকে এ বছর ১৯ জন ছাত্র প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে ১৮ জনই বৃত্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১০ জন ও সাধারণ গ্রেডে ৮ জন।

প্রবাসী সংবাদ

সিঙ্গাপুর ১৯শে ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার :  অদ্য সকাল সাড়ে ১০-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সিঙ্গাপুর শাখার উদ্যোগে জাতীয় সুলতান জামে মসজিদে মাসিক তাবলীগী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। সিঙ্গাপুর শাখা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল হালীম (কুমিল্লা)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী ইজতেমায় বক্তব্য পেশ করেন সাইফুল ইসলাম (ময়মনসিংহ), শহীদুল ইসলাম (দিনাজপুর), মুহাম্মাদ শফীক (কুষ্টিয়া), মো‘আয্যম (বগুড়া), আব্দুল কুদ্দূস (পাবনা), রাকীবুল ইসলাম (মাগুরা), মাযহারুল ইসলাম (পটুয়াখালী), ফযলে রাববী (নোয়াখালী) প্রমুখ। তাবলীগী ইজতেমায় ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন আনোয়ারুল ইসলাম (রাজশাহী), আতাউর রহমান (সিরাজগঞ্জ), আব্দুল লতীফ (সাতক্ষীরা), মুহাম্মাদ জাবেদ (মুন্সিগঞ্জ), ইমাম হোসাইন (কুমিল্লা) ও হাসান (টাঙ্গাইল) প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন আব্দুল মুকীত (কুষ্টিয়া)।

মৃত্যু সংবাদ

(১) ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও কলারোয়া এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি হাফেয মুহাম্মাদ মুহসিনের পিতা মুহাম্মাদ রিয়াযুদ্দীন সরদার (৭৬) (আমীরে জামা‘আতের ফুফাত বোনের ছেলে) গত ২৭শে ফেব্রুয়ারী’১৫ শুক্রবার বেলা ২-টায় বসিরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। উল্লেখ্য, তিনি ঐ দিন স্বীয় কৃষিক্ষেতে পানি সেঁচরত অবস্থায় ব্রেন ষ্ট্রোক করেন। দ্রুত তাকে শাঁড়াপুল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার আরো অবনতি হ’লে বসিরহাট হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন শনিবার বাদ যোহর তার সেজ ছেলে হাফেয মুহাম্মাদ মুহসিন তার জানাযার ছালাত পড়ান। অতঃপর পশ্চিম বঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা যেলার স্বরূপনগর থানার তারালী গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জীবনের শেষ ২৫ বছর তিনি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মসজিদে পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৭ পুত্র, ২ কন্যা, ২৩ পৌত্র-পৌত্রী, নাতি-নাতনী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

(২) ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ চাঁপাই নবাবগঞ্জ-উত্তর সাংগঠনিক যেলার সাবেক সভাপতি মোখতার হোসাইনের পিতা আব্দুল কাইয়ূম (৭৩) গত ১লা এপ্রিল’১৫ বুধবার দুপুর ২-টা ২০ মিনিটে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তিনি ৪ পুত্র, ২ কন্যা, নাতি-নাতনী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তিনি গোপালনগর গ্রামের আহলেহাদীছ জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম তার জানাযার ছালাতে ইমামতি করেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীযানুর রহমান, রাজশাহী মহানগর ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মুবীনুল ইসলাম এবং যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর নেতৃবৃন্দ।

[আমরা তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।-সম্পাদক]