সংগঠন সংবাদ

আন্দোলন

যেলা সম্মেলন : জয়পুরহাট

কালাই ১৮ই মার্চ মঙ্গলবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ জয়পুরহাট যেলার উদ্যোগে যেলার কালাই থানা সদরের মঈনুদ্দীন হাইস্কুল ময়দানে যেলা সম্মেলন’১৪ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব মাহফূযুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব।  অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় মুবাল্লিগ শরীফুল ইসলাম, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম, বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব আব্দুর রহীম, দিনাজপুর-পূর্ব যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব আব্দুল ওয়াহ্হাব শাহ প্রমুখ। বিকাল তিনটা থেকে একই ময়দানে অনুষ্ঠিত মহিলা সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ এবং যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক ও আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠী প্রধান মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য যে, রাজশাহী থেকে জয়পুরহাট আসার পথে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ক্ষেতলাল থানা সদরের ‘সানভিউ প্রি ক্যাডেট একাডেমী’র শিক্ষক জনাব তারেক আল-মামূন-এর বাসায় যাত্রাবিরতি করেন। অতঃপর সেখানে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব রওনকুল ইসলাম চৌধুরী টিপু ও নব-প্রতিষ্ঠিত বায়তুর রহমান আহলেহাদীছ জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আনীসুর রহমান সরদার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নতুন আহলেহাদীছগণ তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন। সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে তিনি কালাই আহলেহাদীছ কমপ্লেক্স জামে মসজিদে মাগরিবের ছালাত আদায় করেন। ছালাত শেষে তিনি সমবেত মুছল্লী ও সুধীদের সাথে দীর্ঘ সময় মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত কালাই আহলেহাদীছ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। যাদের কারণে এটা ব্যাহত হচ্ছে তিনি তাদেরকে আহলেহাদীছ-এর আদর্শমূলে ফিরে এসে এ কমপ্লেক্স সুন্দরভাবে আবাদের আহবান জানান। এ সময়ে কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম মুহাম্মাদ সলীমুল্লাহ ও কমপ্লেক্স মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মুযযাম্মিল উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে আমীরে জামা‘আত কালাই কমপ্লেক্সের অন্যতম জমিদাতা জনাব শহীদুল ইসলাম তালুকদারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর মঈনুদ্দীন হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক জনাব আব্দুল মান্নান-এর বাসায় গমন করেন। সেখানে যেলা ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’-র দায়িত্বশীলদের নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি তাদের সাথে যেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং যেলার সর্বত্র ব্যাপকভাবে দাওয়াতী কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান। সম্মেলন শেষে রাতেই আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের নিয়ে রাজশাহীতে ফিরে আসেন।

যেলা সম্মেলন : নওগাঁ

মান্দা ২১শে মার্চ শুক্রবার : ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ নওগাঁ যেলার উদ্যোগে যেলার মান্দা থানাধীন জামদই গতিউল্লাহ আলিম মাদরাসা ময়দানে নওগাঁ যেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় মুবাল্লিগ শরীফুল ইসলাম, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার শিক্ষক মাওলানা রুস্তম আলী, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি আফযাল হোসাইন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে সঞ্চালক ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুল আলম। সম্মেলনে নারী-পুরুষের বিপুল উপস্থিতি সম্মেলনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। মহিলাদের জন্য পৃথক প্যান্ডেলের ব্যবস্থা ছিল। সম্মেলন শেষে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা মসজিদে যেলা দায়িত্বশীলদের নিয়ে সাংগঠনিক সভায় মিলিত হন। তিনি দায়িত্বশীলদেরকে যেলায় সাংগঠনিক কাজ জোরদার করার আহবান জানান। সম্মেলনে পার্শ্ববর্তী চাঁপাই নবাবগঞ্জ যেলা  ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওালানা আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসাইন সহ অন্যান্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, বিরোধীদের চক্রান্তে পুলিশ প্রশাসন হঠাৎ বেলা ১১-টায় এসে সম্মেলন বন্ধ বলে জানিয়ে দেয়। পরে ৪-টার দিকে এসে অনুমতি দেয়। চিহ্নিত এইসব বিরোধীরা দেশের প্রায় সর্বত্র সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি অথবা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে আমীরে জামা‘আতের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চক্রান্ত করে থাকে এবং সেটা প্রায়ই তারা সম্মেলনের দিনই করে থাকে।

সপ্তাহব্যাপী পূর্ববঙ্গ সফরে আমীরে জামা‘আত

গত ২২শে মার্চ শনিবার হ’তে ২৮শে মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী দাওয়াতী সফরে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’  -এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিবের নেতৃত্বে ৩০ জনের একটি দাওয়াতী কাফেলা দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ববঙ্গের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ যেলার বিভিন্ন স্থানে সফর করেন। এ সময়ে সুধী সমাবেশ, ইসলামী সম্মেলন, প্রশ্নোত্তর মজলিস, বৈঠকী আলোচনা, মত বিনিময় সভা ছাড়াও ‘আন্দোলন’-এর পরিচিতি, দাওয়াত, লিফলেট, মাসিক আত-তাহরীক, ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) সহ বিভিন্ন বই-পুস্তক ও প্রচারপত্র ব্যাপকহারে বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী হ’তে তিনটি মাইক্রো যোগে ২২শে মার্চ শনিবার বেলা পৌনে তিনটায় যাত্রা শুরু হয়। এসময়ে আমীরে জামা‘আতের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় মুবাল্লিগ শরীফুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগরী ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ গিয়াছুদ্দীন, সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ নাযিমুদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুবীনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, মহানগনরীর নওদাপাড়া বাজার শাখার অর্থ সম্পাদক সালমান ফারেসী ও ‘আন্দোলন’-এর প্রাথমিক সদস্য আবুবকর; জয়পুরহাট যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাহফূযুর রহমান; বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুর রহীম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রফীকুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক ছহীমুদ্দীন, যেলার শাহজাহানপুর উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আলহাজ্জ রামাযান আলী, জয়ভোগা শাখা সভাপতি আলহাজ্জ মানছূর রহমান, বগুড়া যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি আব্দুর রাযযাক; মেহেরপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর উপদেষ্টা মাওলানা সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ তরীকুযযামান, যেলার গাংণী উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আনীসুর রহমান মোল্লা, গাংণী উপযেলা ‘যুবসংঘে’র সহ-সভাপতি গোলাম আওরঙ্গযেব ও ‘আন্দোলন’-এর প্রাথমিক সদস্য মুহাম্মাদ হেলালুদ্দীন; আমীরে জামা‘আতের কনিষ্ঠ পুত্র ও আল-মারকাযুল ইসলাম আস-সালাফী নওদাপাড়ার দশম শ্রেণীর ছাত্র হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির ও ৫ম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল্লাহ মারযূক্ব আল-সাঈদ। অতঃপর ঢাকা থেকে সঙ্গী হন ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, সহ-সভাপতি মুশাররফ হোসাইন, অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, বেরাইদ এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ বখতিয়ার, অর্থ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম ও প্রাথমিক সদস্য হিরণ মিয়াঁ। বিস্তারিত রিপোর্ট নিম্নরূপ :

২৩শে মার্চ রবিবার :

রাজশাহী থেকে ২২শে মার্চ শনিবার বেলা পৌনে তিনটায় রওয়ানা হয়ে পরদিন বেলা সাড়ে ১২-টায় উক্ত দাওয়াতী কাফেলা দেশের পূর্ব-দক্ষিণ সীমান্ত শহর কক্সবাজারে পৌঁছে। সেখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান কক্সবাজার কোর্টের আইনজীবি জনাব এডভোকেট শফীউল ইসলাম, এডভোকেট সেলিম জাহাঙ্গীর ও ব্যবসায়ী মোমতাযুদ্দীন। অতঃপর তারা ‘সী বীচে’র অনতিদূরে পূর্ব থেকে বুকিংকৃত ‘হোটেল সাইমন ব্লু পার্লে’ পৌঁছেন এবং ছালাত ও খাওয়া-দাওয়া শেষে বিশ্রাম গ্রহণ করেন। এদিকে ঢাকা থেকে ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের’ ফ্লাইট যোগে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে আমীরে জামা‘আত কক্সবাজার বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এডভোকেট শফীউল ইসলাম, আবূদাঊদ চৌধুরী, মুহাম্মাদ সাবের হোসাইন, আমীনুল ইসলাম, আরীফুল ইসলাম, মোমতাযুদ্দীন, ডঃ সাখাওয়াত হোসায়েন প্রমুখ। হোটেলে পৌঁছে তিনি জনাব মোমতাযুদ্দীনের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন।

সী বীচ পরিদর্শন : বিকাল ৫-টায় আমীরে জামা‘আত মহান আল্লাহ তা‘আলার অপূর্ব সৃষ্টি দেখার জন্য সাথীদের নিয়ে সমুদ্র সৈকতে যান এবং বিশবস্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলার মহিমা ঘোষণা করেন। সেখানে ব্যবসায়িক কারণে কক্সবাজারে আগত সিরাজগঞ্জ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আব্দুল ওয়াদূদ-এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। অতঃপর সৈকতেই তাঁরা একত্রে মাগরিবের ছালাত আদায় করেন। সৈকতের ছাতা ও চৌকির ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী যুবকটি সামনে ছাতার পর্দা ও আগে-পিছে চৌকি দিয়ে সুন্দরভাবে ছালাতের ব্যবস্থা করে দেয়। এটাই নাকি তার দেখা মতে সী বীচে প্রথম মাগরিবের জামা‘আত। আমীরে জামা‘আত তাকে নিয়মিত ছালাত আদায়ের নছীহত করেন।

সুধী সমাবেশ : যেলা আইনজীবী ভবনের দোতলার সভাকক্ষে বাদ মাগরিব সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সী বীচ থেকে ফিরে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত উক্ত সুধী সমাবেশে যোগদান করেন এবং সমবেত আইনজীবী ও সুধীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

স্থানীয় সিনিয়র এডভোকেট জনাব মুশতাক আহমাদ -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, কেন্দ্রীয় মুবাল্লিগ শরীফুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশে কুরআন তেলাওয়াত করে আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার ছাত্র হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির ও  ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করে আব্দুল্লাহ মারযূক্ব। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন জনাব এডভোকেট শফিউল ইসলাম। বাদ মাগরিব হ’তে রাত ১১-টা পর্যন্ত একটানা অনুষ্ঠান চলে। সুধীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলে। অনুষ্ঠানস্থলে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অনেকে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শ্রবণ করেন। এ সময়ে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে ‘আন্দোলন’-এর দাওয়াত সম্পর্কিত প্রচারপত্র, লিফলেট ও মাসিক আত-তাহরীক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শ্রোতাদের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত। উল্লেখ্য যে, কক্সবাজারে এটিই ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত প্রথম দাওয়াতী অনুষ্ঠান। সুধী সমাবেশ শেষে তিনি কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলগণ সহ এডভোকেট শফীউল ইসলামের বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। অতঃপর রাত ১২-টায় হোটেলে প্রত্যাবর্তন করেন।

২৪শে মার্চ সোমবার :

সেন্টমার্টিন্স সফর : বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দ্বীপ ‘সেন্টমার্টিন্স’। সাগর বক্ষে এক অনন্য সৃষ্টি। প্রবাল দিয়ে ঘেরা সবুজ শ্যামলে ভরা এ দ্বীপটি সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। চারিদিকে অথৈ পানিরাশির মাঝখানে মহান আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১ কিলোমিটার প্রস্থের ছোট্ট এ দ্বীপটি। এর প্রাচীন নাম ‘জিনজিরা দ্বীপ’। একে ‘নারিকেল জিনজিরা’ও বলা হয়। এখানে সর্বাধিক নারিকেল হয় বলে হয়তবা এ নামকরণ হ’তে পারে। টেকনাফ থানার অন্তর্গত এ দ্বীপের লোকসংখ্যা মাত্র ৮ হাযার। এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা ৩ হাযার। এখানে ২ টি প্রাইমারী স্কুল, ১ টি হাইস্কুল, ৩ টি হেফয খানা ও ১টি কওমী মাদরাসা ও ১৩ টি মসজিদ আছে। এখানে ধান, মরিচ, পেঁয়াজ, তরমুজ ইত্যাদির চাষ হয়। তবে এ দ্বীপের অধিবাসীদের অধিকাংশই পেশায় জেলে। তাদের উপার্জনের প্রধান উৎস হ’ল মৎস্য শিকার। জলোচ্ছ্বাসের সংকেত পেলে দ্বীপবাসীকে অনেক সময় সবকিছু ফেলে পানি পথে ২৮ কিলোমিটার দূরে টেকনাফ চলে যেতে হয়।

২৪শে মার্চ ভোর সাড়ে ৬-টায় কক্সবাজার থেকে রওয়ানা হন এডভোকেট শফিউল ইসলাম সহ আমীরে জামা‘আত ও তাঁর সফরসঙ্গীগণ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তৈরী মেরিন ড্রাইভ সড়ক পথ ধরে। ডানে সাগর ও বামে পাহাড় এ দু’য়ের মাঝখানে পিচঢালা পথ ধরে মনোরম সব দৃশ্য মাড়িয়ে আমীরে জামা‘আতের প্রাইভেটকার ও সাথীদের মাইক্রোগুলো একের পর এক চলতে থাকে কক্সবাজার থেকে ৭৭ কি.মি. দূরে বাংলাদেশের পূর্বসীমান্তের উপযেলা শহর ‘টেকনাফে’র উদ্দেশ্যে। মেরিন ড্রাইভ সড়ক শেষে সরকারী সড়কে পৌঁছে একটি স্থানের বিস্ময়কর দৃশ্য সকলের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করে। সেটা এই যে, পিচঢালা পথের মাঝে বড় বড় গাছের ও বৈদ্যুতিক খুঁটির অবস্থান। ঐগুলিকে বাঁচিয়ে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে অতি সাবধানে গাড়ীগুলিকে অতিক্রম করতে হয়। সম্ভবতঃ সরকারের এক বিভাগের সাথে অন্য বিভাগের সমন্বয় না হওয়ার ফল এটা। দেশের অন্য কোথাও এমন রাস্তা আছে কি-না সন্দেহ। অতঃপর টেকনাফ পৌঁছে সেখান থেকে সকাল ১০-টায় ‘কেয়ারী সিন্দাবাদ’ জাহায যোগে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্ত বরাবর ‘নাফ’ নদীর বুক চিরে তারা এগিয়ে চলেন বঙ্গোপসাগরের দিকে। প্রায় আড়াই ঘন্টা চলার পর বেলা সাড়ে ১২-টায় সেন্টমার্টিন্স পৌঁছলে সেখানে স্থানীয় জনাব আব্দুর রহীম কাফেলাকে অভ্যর্থনা জানান। অতঃপর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে যোহর ও আছর ছালাত জমা ও কছর করে আদায় করেন ও পার্শ্ববর্তী হাসান রেসেঁতারায় সকলে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। অতঃপর কিছু সময় সেন্টমার্টিন্স ঘুরে দেখে পুনরায় ফিরতি জাহাযে ৩-১০ মিনিটে যাত্রা করে বিকাল ৫-২০ মিনিটে টেকনাফ পৌঁছেন।

সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের বহু দোকানে এবং স্থানীয় ও পর্যটকদের মধ্যে এ সময়ে ‘আন্দোলন’-এর পরিচিতি, দাওয়াত, বিভিন্ন লিফলেট ও মাসিক আত-তাহরীক বিতরণ করা হয়। রাজশাহী মহানগর ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুবীনুল ইসলাম ও অর্থ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সেন্টমার্টিন্সবাসীর নিকটে এই দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় সেক্রেটারী জেনারেল তাঁর পূর্ব পরিচিত স্থানীয় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও তাঁকে সংগঠনের দাওয়াত দেন। চলার পথে জাহাযের মাইকে গান শুরু হলে আমীরে জামা‘আত দু’জন কর্মীকে সারেং-এর কাছে পাঠিয়ে নিষেধ করেন। গান বন্ধ করলে পরে আমীরে জামা‘আত নিজে গিয়ে তাঁকে নছীহত করেন এবং মাঝে-মধ্যে পাঁচ মিনিট করে সূরা ইয়াসীন অনুবাদ সহ ক্যাসেট শুনাতে পরামর্শ দেন। এসময় তাকে ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) হাদিয়া দেওয়া হয়। টেকনাফে নামার সময় প্রবীণ সারেং আমীরে জামা‘আতের নিকট পুনরায় দো‘আ চান।

টেকনাফ থেকে ফেরার পথে আমীরে জামা‘আত উখিয়া থানাধীন মুহুরীপাড়া জামে মসজিদে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি দিয়ে মাগরিব ও এশার ছালাত আদায় করেন। অতঃপর কক্সবাজার কোর্টের এডভোকেট জনাব সেলিম জাহাঙ্গীরের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উখিয়া থানা সদরে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি করেন। তিনি এডভোকেট সেলিম জাহাঙ্গীরের ভাগিনা একরাম মার্কেটের মালিক জনাব একরাম ছাহেবের চেম্বারে কিছু সময় বসেন ও তাদের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। আমীরে জামা‘আত এসময়ে জনাব একরাম ছাহেবকে আত-তাহরীক ও ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) বই উপহার দেন এবং উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ১২-২৪ মে ১২ দিন নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ দেওয়ার জন্য উখিয়ায় অবস্থান করেছিলাম এবং ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কর্মীদের নিয়ে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিজ হাতে তাদের সেবা করেছিলাম ও ঘরবাড়ি তৈরী করে দিয়েছিলাম। আমাদের সেবায় মুগ্ধ হয়ে বিদায় বেলায় দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট আবেগভরা কণ্ঠে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, শুধুমাত্র পুলিশ দিয়ে অসহায় শরণার্থী ও তাদের নারীদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব ছিল না। আপনাদের মত দ্বীনদার নিবেদিত প্রাণ ও নিঃস্বার্থ কর্মী বাহিনী সমাজের জন্য সর্বদা প্রয়োজন। আমীরে জামা‘আত বলেন, সেদিনের উখিয়া আর আজকের উখিয়ার মধ্যে দিন ও রাতের পার্থক্য। তিনি বলেন, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বটে, কিন্তু চরিত্র ও আমল-আক্বীদার পরিবর্তন সে তুলনায় একেবারেই ক্ষীণ। তিনি উখিয়ার সর্বত্র আহলেহাদীছ আন্দোলনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানান। অতঃপর সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে রাত সাড়ে ১০-টায় কক্সবাজারে ফিরে আসেন। সেন্টমার্টিন্স সফরে কক্সবাজারের স্থানীয়দের মধ্যে আমীরে জামা‘আতের সফরসঙ্গী ছিলেন, এডভোকেট শফীউল ইসলাম, আবূদাঊদ চৌধুরী, আমীনুল ইসলাম, আরীফুল ইসলাম, মোমতাযুদ্দীন ও দেলোয়ার হোসাইন প্রমুখ।

যেলা কমিটি গঠন : সেন্টমার্টিন্স থেকে ফিরে রাত ১২-টায়  ‘হোটেল সাইমন ব্লু পার্লে’ কক্সবাজারের নতুন আহলেহাদীছ ভাইদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে তাদের নিকট ‘আহলেহাদীছ আন্দোলনে’র লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতি এবং জামা‘আতী যিন্দেগীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। উপস্থিত সকলের আগ্রহে ও সম্মতিতে জনাব এডভোকেট শফীউল ইসলামকে সভাপতি ও আবূদাঊদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে আমীরে জামা‘আতের উপস্থিতিতে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ কক্সবাজার যেলা কমিটি গঠন করা হয়।

২৫শে মার্চ মঙ্গলবার :

বান্দরবান সফর : কক্সবাজারে দু’দিনের ব্যস্ততম সময় কাটিয়ে ২৫শে মার্চ ভোর ৬-টা ২০ মিনিটে আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের নিয়ে পার্বত্য যেলা বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং সকাল সাড়ে ৯-টায় বান্দরবান শহরে পৌঁছেন। অতঃপর পাহাড়ী উঁচু-নীচু পথে চলতে অক্ষম হাইএইচ মাইক্রোগুলো সেখানে রেখে শক্তিশালী ফোর হুইলার হুডখোলা দু’টি পিকআপ স্থানীয় ভাষায় ‘চাঁদের গাড়ী’ ভাড়া করে সকাল ১০-টায় বান্দরবান শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরবর্তী পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ‘নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র’ দেখার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ড্রাইভার দু’জনের একজন পাহাড়ী অমুসলিম এবং অন্যজন বাঙ্গালী মুসলমান। নাম হাসান। দাখিল পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। আমীরে জামা‘আত তার পাশের সীটে বসার পর সে বলল, আমার কি সৌভাগ্য যে, আপনাকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। বিস্মিত হয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি আমাকে চিনলে কিভাবে? জবাবে সে বলে, আপনাকে চিনে না এমন মানুষ বাংলাদেশে আছে নাকি? পথিমধ্যে চিম্বুক পাহাড়ে সকলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। অতঃপর বেলা ১২-টায় নীলগিরি পৌঁছেন। নীলগিরির উচ্চতা হ’ল ২৪০০ ফুট, চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা ১৮০০ ফুট এবং নীলাচলের উচ্চতা ১৬০০ ফুট। নীলগিরি থেকে বান্দরবান পাহাড়ী যেলার প্রকৃত রূপ অবলোকন করা যায়। বর্ষাকালে আকাশ স্বচ্ছ থাকায় এখান থেকে কক্সবাজার ও সমুদ্র দেখা যায়। উঁচু-নীচু পাহাড় আর সবুজে ঘেরা যেলাটির দৃশ্য নয়নাভিরাম। বিশালাকার মাটির পাহাড়গুলি যেন পাথরের চাইতেও শক্ত। হাযার হাযার বছর ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে একইভাবে। মহান আল্লাহর এ এক অপূর্ব সৃষ্টি। এখানকার জীবন যাত্রা খুব কঠিন। লোকসংখ্যা খুব কম। অনেক দূরে দূরে কিছু পাহাড়ী উপজাতির বসবাস। খাদ্য ও পানির সংকট। নীলগিরিতে উঠার সময় টিকেট কাউন্টারে আমীরে জামা‘আতের পরিচয় জানতে পেরে তাঁর সম্মানে দায়িত্বশীল সৈনিকটি দু’জনের টিকেট ফ্রি দেন এবং তাঁকে সহ পিকআপটি একেবারে চূড়ায় উঠতে অনুমতি দেন। অন্যদিকে চূড়ায় সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থিত দূরবীন কেন্দ্রের সৈনিকটি আমীরে জামা‘আতের পরিচয় পেয়ে তাঁকে সসম্মানে ডেকে নিয়ে দূরবীন কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। আমীরে জামা‘আত সেখানে সূরা আম্বিয়া ৩১ আয়াতটি বাংলা অনুবাদসহ লেখা দেখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং সাবেক কেন্দ্রপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নীলগিরি পরিদর্শন শেষে সেখান থেকে ১-১০ মিনিটে তিনি সফর সঙ্গীদের নিয়ে পুনরায় বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৬৯নং পাহাড়ী সড়ক, যা ভূমি হ’তে ২৭০০ ফুট উঁচু সেখানে কিছু সময় থামেন। অতঃপর পথিমধ্যে শৈল প্রপাতে কিছু সময় বিরতি দিয়ে ঝর্ণাধারা দেখে বিকাল সাড়ে ৪-টায় বান্দরবান পেঁীছেন। ফেরার পথে চিম্বুক পাহাড়ে অবস্থিত মসজিদে যোহর-আছর ছালাত জমা ও কছর করে আদায় করেন এবং সেখানে আর্মিদের ক্যান্টিনে দুপুরের ‘তেহারী’ খাবার গ্রহণ করেন। বান্দরবান পৌঁছে পিকআপের ড্রাইভার তাদের প্যাকেজ চুক্তি অনুযায়ী শহরে অবস্থিত বৌদ্ধদের ঐতিহ্যবাহী ‘স্বর্ণমন্দিরে’ নিয়ে যায়। কিন্তু আমীরে জামা‘আত ও সফরসঙ্গীগণ স্বর্ণমন্দিরে প্রবেশ থেকে বিরত থাকেন এবং দ্রুত সেখান থেকে ফিরে আসেন। উল্লেখ্য যে, আমীরে জামা‘আতকে বহনকারী পিকআপের ড্রাইভার হাসান তার নিজের পক্ষ থেকে আমীরে জামা‘আতকে দু’টি পাহাড়ী বেল খরিদ করে হাদিয়া দেয় এবং দো‘আ চায়। আমীরে জামা‘আত তার জন্য দো‘আ করেন। এ সময়ে তাকে ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ও আত-তাহরীক উপহার দিয়ে তার নিকট আহলেহাদীছ আন্দোলনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়।

এভাবে দিনব্যাপী বান্দরবান সফর শেষ করে বিকাল ৫-টায় তারা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে কিছু সময় বিরতি দিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। অতঃপর পটিয়া পৌরসভায় পৌঁছে ছালাতের জন্য সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক সংলগ্ন একটি মসজিদে সবাই মাগরিব ও এশার ছালাত আদায় করেন এবং আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত দরস পেশ করেন। অতঃপর গাড়ীতে ওঠার সময় স্থানীয় জনৈক মুদি দোকানদার আমীরে জামা‘আতকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি আল্লামা ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব নন?’ তার এই প্রশ্ন শুনে সকলে হতবাক। আপনি কিভাবে চিনলেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আপনার অনেক নাম শুনেছি, পত্র-পত্রিকায় আপনার ছবি দেখেছি ও আপনার জন্য দো‘আ করেছি। তিনি আমীরে জামা‘আতের নিকট দো‘আ চান। অতঃপর সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে রাত সাড়ে ৯-টায় তাঁরা চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সী-বীচে পৌঁছেন। এ সময় যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডাঃ শামীম আহসান ও অন্যান্যগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান। অতঃপর আমীরে জামা‘আত হালিশহরে তাঁর নিকটাত্মীয়ের বাসায় গমন করেন এবং কাফেলার অন্যান্য সদস্যগণ দারুচিনি রেষ্টুরেন্টে রাতের খাবার গ্রহণ করে স্থানীয় কাঠঘর নাযিরপাড়া রাজা মিয়াঁ জামে মসজিদে রাত্রি যাপন করেন। উল্লেখ্য যে, অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখান থেকে ঢাকার সাথীরা রাতের কোচে ফিরে যান।

২৬শে মার্চ বুধবার :

সুধী সমাবেশ: অদ্য সকাল ৯-টায় যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে কাঠঘর নাযিরপাড়া রাজা মিয়াঁ জামে মসজিদে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক নতুন আহলেহাদীছ ভাই সুধী সমাবেশে যোগদান করেন। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. শামীম আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে সকাল থেকে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে প্রাণবন্ত আলোচনা রাখেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল ও কেন্দ্রীয় মুবাল্লিগ শরীফুল ইসলাম প্রমুখ। এসময়ে নতুন ভাইদের আহলেহাদীছ হওয়ার প্রেক্ষাপট ও বাধা-বিপত্তির করুণ কাহিনী শুনা হয় এবং তাদেরকে ধৈর্যধারণ করার ও হীনবল না হওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষদিকে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সকলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। উল্লেখ্য যে, এদিন চট্টগ্রাম যেলা সম্মেলনের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু বিরোধীদের চক্রান্তে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় যেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়।

মৌলভীবাজার সফর : চট্টগ্রাম থেকে বিকাল ৪-টায় আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের নিয়ে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘুরে কর্ণফুলী নদীর তীর ধরে বিকাল ৫-টায় চট্টগ্রাম শহর ত্যাগ করেন। অতঃপর ভোররাত সোয়া ৪-টায় মৌলভীবাজারে পৌঁছেন। সেখানে রাত জেগে অপেক্ষমাণ ডা. ছাদেকুন নূর ও ‘যুবসংঘে’র কর্মী মুহাম্মাদ বেলালুদ্দীন তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান। আমীরে জামা‘আতকে ডা. ছাদেকুন নূর নিজ বাসায় নিয়ে যান এবং সফরসঙ্গীদের শহরের সিলেট রোডে ‘হোটেল দিন শোভা’ ও ‘হোটেল পাপড়িকা’য় বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন।  

২৭শে মার্চ বৃহস্পতিবার :

শহরের ‘হোটেল গোল্ডেন ইন’-য়ে সকালের নাশতা সেরে একটি মাইক্রো ও একটি বাস যোগে সকাল ৮-টার দিকে মাধবকুন্ড পানিপ্রপাত দেখার উদ্দেশ্যে আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে কুলাউড়া থানা সদরে বেলা ১১-টা থেকে অনুষ্ঠিতব্য পূর্বঘোষিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য প্রদানের জন্য ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ও আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল নেমে যান।

সুধী সমাবেশ : স্থানীয় কয়েকজন নতুন আহলেহাদীছ ভাইয়ের উদ্যোগে কুলাউড়া থানা সদরের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত ‘ছামী ইয়ামী চাইনিজ-বাংলা রেষ্টুরেন্টে’ পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১-টায় শুরু হয় সুধী সমাবেশ। সিলেট যেলা ‘আন্দোলন’ সাবেক সভাপতি আব্দুছ ছবূর চৌধুরীর পরিচালনায় উক্ত সমাবেশে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ও মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল যোহর পর্যন্ত বক্তব্য রাখেন। বাদ যোহর আমীরে জামা‘আতের বক্তব্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে স্থানীয় ‘তালামীয’ নামক একটি যুব সংগঠনের কয়েকজন যুবক রেষ্টুরেন্টের বাইরে জড়ো হয় এবং একপর্যায়ে লাঠি হাতে মিছিল শুরু করে। এ সময়ে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ‘যুবসংঘে’র কর্মী আব্দুল ক্বাইয়ূম ক্বায়েসের উপর তারা শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে চলে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসি সহ এক প্লাটুন পুলিশ হাযির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতঃপর পুলিশ অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রাইভেট কারে উঠে নিরাপদে চলে যেতে সহায়তা করে। এদিকে পরিস্থিতি আমীরে জামা‘আতকে অবহিত করা হয় এবং তাঁকে কুলাউড়া না থেমে চলে যেতে বলা হয়। উল্লেখ্য যে, কুলাউড়াতে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবূ মুহাম্মাদ সোহায়েল ও তার সাথী কয়েকজন নতুন আহলেহাদীছ। অতঃপর মৌলভীবাজার পৌঁছে ‘এডুকেশন সেন্টার মৌলভীবাজার’ (ইসিএম) সংলগ্ন জামে মসজিদে যোহর ও আছর ছালাত আদায় করে তাঁরা কুলাউড়া থেকে নিয়ে আসা প্যাকেট লাঞ্চ গ্রহণ করেন। আমীরে জামা‘আত ডাঃ ছাদেকুন নূরের বাসায় দুপুরের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। অতঃপর একদিনের ঘটনাবহুল সফর শেষে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের লাখাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য ইসলামী সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে তারা বিকাল সাড়ে ৪-টায় রওয়ানা হন। এ সময় ডাঃ ছাদেকুন নূর, বেলাল ও সিলেটের আব্দুছ ছবূর সহ অন্যেরা দু’টি গাড়ী নিয়ে আমীরে জামা‘আতের সফরসঙ্গী হন।

লাখাই ইসলামী সম্মেলন : মৌলভীবাজার হ’তে বিকালে রওয়ানা হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭-টায় আমীরে জামা‘আত ও তাঁর সফরসঙ্গীগণ মাওলানা মীযানুর রহমান সিলেটীর স্মৃতিধন্য হবিগঞ্জ যেলার লাখাই পৌঁছেন। কিন্তু বিরোধীচক্রের অপপ্রচার ও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার ফলে প্রশাসনিক বাধার কারণে সম্মেলনের প্রধান অতিথি মুহতারাম আমীরে জামা‘আত মঞ্চে আসেননি ও বক্তব্য রাখেননি। স্থানীয় মাওলানা মুছলেহুদ্দীন বিন হরমুজ আলীর সভাপতিত্বে ঐতিহ্যবাহী বটতলা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন, মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, কেন্দ্রীয় মুবাল্লিগ শরীফুল ইসলাম ও ডঃ মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন প্রমুখ।

এ সময়ে আমীরে জামা‘আত সম্মেলন স্থল সংলগ্ন জনাব মাহফূয মিয়াঁর (৮৩) বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেন এবং সম্মেলনের শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ এবং এলাকার নেতৃবৃন্দ তাঁর সাথে মিলিত হন। তিনি সকলকে দ্বীনে হক্বের দাওয়াত প্রদান করেন। এ সময়ে পর্দার অন্তরালে সমবেত মহিলাদের উদ্দেশ্যেও তিনি নছীহত মূলক বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য যে, সম্মেলনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন স্থানীয় ১নং লাখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম।

মৌলভী বাজার ও হবীগঞ্জ যেলা কমিটি গঠন : এ সময়ে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজপুল ইসলাম সম্মেলন সংলগ্ন লাখাই দারুল হুদা ইসলামিয়া মাদরাসায় বসে মৌলভী বাজার থেকে আগত ও হবীগঞ্জের স্থানীয় ভাইদের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে ডা. ছাদিকুন নূরকে আহবায়ক ও আবু মুহাম্মাদ মুমিনকে যুগ্ম-আহবায়ক করে মৌলভী বাজার যেলা আহবায়ক কমিটি এবং মুহাম্মাদ মুছলেহুদ্দীনকে সভাপতি ও মাওলানা জাফর আহমাদকে সহ-সভাপতি করে হবীগঞ্জ যেলা কমিটি গঠন করেন।

রাজশাহী প্রত্যাবর্তন : লাখাই সম্মেলন শেষে রাত ১২-টায় আমীরে জামা‘আত রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং পরদিন ২৮শে মার্চ শুক্রবার সকাল ১০-টায় ছহী-সালামতে দারুল ইমারত নওদাপাড়ায় ফিরে আসেন। ফালিল্লা-হিল হাম্দ।

হাদীছ ফাউন্ডেশন পাঠাগার উদ্বোধন

চাঁদপুর ১১ই মার্চ রোজ মঙ্গলবার : অদ্য বিকাল ৩.০০ টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ চাঁদপুর সদর উপযেলার উদ্যোগে ৭০৭ হাজী মুহসিন রোড নতুন বাজার, যাকির মনযিলে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন পাঠাগার’ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ ছফিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর মজলিসে শূরা সদস্য ও নরসিংদী যেলার উপদেষ্টা অধ্যাপক জালালুদ্দীন ও কুমিল্লা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ মুছলেহুদ্দীন প্রমুখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, আহলেহাদীছ আন্দোলন দুনিয়ার মানুষকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মর্মমূলে জামায়েত করার জন্য ছাহাবায়ে কেরামের যুগ হ’তে চলে আসা একটি নির্ভেজাল ইসলামী আন্দোলনের নাম। এই আন্দোলন সমাজ সংস্কারের আন্দোলন, আত্মশুদ্ধির আন্দোলন। এই আন্দোলনের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হ’ল ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’। যার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে- পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক সাহিত্য রচনা করা এবং তার আলোকে বই-পুস্তক প্রকাশ ও প্রচার করা। অতএব সমাজ সংশোধনের জন্য ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন’ প্রকাশিত বই-পুস্তকের কোন বিকল্প নেই।

‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ কুমিল্লা যেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ হেমায়েত হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানের আহবায়ক হাসান মুহাম্মাদ সোহেল, ইমরান হোসাইন, হোসাইন মুহাম্মাদ রাসেল, মতলব-উত্তর উপযেলাস্থ সুজাতপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক জনাব মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ শরীফ, লক্ষ্মীপুর যেলার ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ আলিমুল হক, মুহাম্মাদ মাহদী হাসান, বাখরপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদের ইমাম জনাব আব্দুস সোবহান, ফরিদগঞ্জ উপযেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব বেলালুদ্দীন, মুহাম্মাদ শওকত, মতলব উপযেলার সাইফুল্লাহ কবীর, হাজীগঞ্জ উপযেলার কাঠালিয়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদের ইমাম মুহাম্মাদ বেলালুদ্দীন প্রমুখ। 

উল্লেখ্য যে, এ সময়ে মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ শরীফকে সভাপতি ও মুহাম্মাদ হেমায়েত হোসায়েনকে সাধারণ সম্পাদক করে ‘আন্দোলন’-এর চাঁদপুর শহর শাখা গঠন করা হয়।

মৃত্যু সংবাদ

‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ চাঁপাই নবাবগঞ্জ যেলার সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক জনাব আফতাবুদ্দীন চেয়ারম্যান (৮৭) গত ৬ই এপ্রিল রবিবার ভোর ৫টায় নবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ পুত্র, ১ কন্যা, আত্মীয়-স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। একই দিন বিকাল ৫-টায় স্থানীয় খালঘাট সেন্ট্রাল ঈদগাহ ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয় এবং পার্শ্ববতী খালঘাট গোরস্থানে দাফন করা হয়। মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের নির্দেশক্রমে তাঁর পক্ষে জানাযার ছালাতে ইমামতি করেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। এতদ্ব্যতীত জানাযার ছালাতে অংশগ্রহণ করেন রাজশাহী মহানগরী ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুবীনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতীফ, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসাইন সহ যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র দায়িত্বশীলবৃন্দ, যেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-ছাত্র, রাজনীতিক সহ বিপুল সংখ্যক মুছল্লী। মরহূম আফতাব চেয়ারম্যান ছিলেন আমীরে জামা‘আতের বহু পুরানো ভক্ত এবং তাঁর কারাবন্দী থাকাকালে তিনি ছিলেন সর্বদা একজন প্রতিবাদী কণ্ঠ।

[আমরা তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।-সম্পাদক]