স্মৃতিকথা

জেল-যুলুমের ইতিহাস

ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন

(৩য় কিস্তি)

(৪) ‘পুলিশি অভিযান আইওয়াশ \ মামলা হয়েছে ৫৪ ধারায় : ড. গালিব কারাগারে জামাই আদরে রয়েছেন : খাবার পত্রিকা সরবরাহ হচ্ছে নিয়মিত’ :

মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সহ কেন্দ্রীয় চার নেতার গ্রেফতারের মাত্র তিন দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ তারিখে দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক ‘যুগান্তর’-এর প্রথম পৃষ্ঠার চার কলাম ব্যাপী লীড নিউজ ছিল এটি। রিপোর্টের উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে- ‘ড. গালিব তাঁর সহযোগীদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টা পরও কোন সুনির্দিষ্ট মামলা না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে। রাজশাহী শহরে গতকাল এটাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। সব মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, জঙ্গি অভিযানের নামে পুলিশের ভূমিকা কি কেবলই আইওয়াশ? যদি তা নাই হবে তাহলে বাংলা ভাইকে কেন গ্রেফতার করা যাচ্ছে না এই প্রশ্নটিও ঘুরে-ফিরে আসছে। ড. গালিব ও তার চার সহযোগীকে গ্রেফতারের পর রাজশাহীর নওদাপাড়ার তার মাদ্রাসা কমপ্লেক্স এখনও পুলিশ ও বিডিআর পাহারা দিলেও কার্যত পুলিশ ও অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর এ বিষয়ে আর কোন তৎপরতা নেই। অন্যদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ড. গালিবসহ তার অন্য সহযোগীরা জামাই আদরে রয়েছেন। প্রতিদিন খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অনায়াসেই তিনি পাচ্ছেন জেলখানার অভ্যন্তরে বসে। এমনকি জেলের অভ্যন্তরে নিত্যদিনের পত্রিকাও পাচ্ছেন’।

‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’(?) এই শ্লোগানে প্রকাশিত জাতীয় এই দৈনিকের রিপোর্টার এখানে গলদঘর্ম হয়েছেন সরকার ও প্রশাসনকে এ কথা বুঝানোর জন্য যে, ড. গালিব একজন জঙ্গী নেতা। তার বিরুদ্ধে কেন এখনো  কোন মামলা হচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, আমীরে জামা‘আত রাজশাহী কারাগারে ছিলেন মাত্র এক রাত। তারপরই তাদেরকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। অথচ রিপোর্টার তিন দিন পর লিখছেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি আছেন জামাই আদরে। রিপোর্টের ভাবভঙ্গিতে মনে হচ্ছে উক্ত রিপোর্টার নিজে তাঁর বিরুদ্ধে ৮/১০টি মামলা দিতে পারলে হয়ত বেশী খুশী হ’তেন। এই হচ্ছে ‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’(?) পত্রিকার তথাকথিত সত্যবচন (?)।

(৫) ‘আহলে হাদিস বাংলাদেশের সাফাই’ :

ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর তৎকালীন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আযীয ও সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর জঙ্গীবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতারকৃত মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সহ নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবী করে পত্র-পত্রিকায় একটি বিবৃতি প্রদান করেন। অথচ এই সহজ-সরল বিবৃতিটিকে ২৭ ফেব্রুয়ারী’০৫ তারিখের দৈনিক ‘ভোরের কাগজ’ পত্রিকা উক্ত শিরোনামে নেতিবাচক ভঙ্গিতে প্রকাশ করে। মনে হচ্ছে, ভোরের কাগজ পত্রিকা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, আহলেহাদীছ আন্দোলন একটি জঙ্গীবাদী আন্দোলন। কাজেই এ আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা নিজেদের আসল রূপ আড়াল করার জন্য সাফাই গাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। ইতিবাচক মানসিকতার রিপোর্টার হ’লে কখনো এভাবে শিরোনাম করা সম্ভব হ’ত না।

(৬) ‘মেয়র মিনুর সার্টিফিকেট : ড. গালিব ও তার সংগঠন জঙ্গি বা রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতায় জড়িত নয়’ :

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র জনাব মিজানুর রহমান মিনু কর্তৃক আমীরে জামা‘আত ও আহলেহাদীছ আন্দোলন সম্পর্কে প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রকে নেতিবাচক ভাবে চিত্রিত করে রিপোর্ট করে ১লা মার্চ তারিখের দৈনিক ‘আজকের কাগজ’ পত্রিকা। রিপোর্টে প্রত্যয়নপত্রটি হুবহু স্বাক্ষর সহ স্কেনিং করে ছাপানো হয়। একই রিপোর্টে সাতক্ষীরা-২ আসনের তৎকালীন এমপি আব্দুল খালেক মন্ডলকেও পৃষ্ঠপোষক হিসাবে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টের সার নির্জাস এই যে, ক্ষমতাসীন দলের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র এবং এমপি কিভাবে ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিবের মত একজন দোষী (?) ব্যক্তির পক্ষে প্রত্যয়ন দিতে পারেন? 

উল্লেখ্য যে, ২০.০৮.২০০৪ তারিখে প্রদত্ত উক্ত প্রত্যয়ন পত্রে বলা হয় যে, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ এদেশে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে নির্ভেজাল তাওহীদভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।...প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক জনদরদী ও দেশপ্রেমিক। তিনি দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেমে-দ্বীন, সুসাহিত্যিক, ওজস্বী বাগ্মী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার (মেয়র) পরিচিত। তার তত্ত্বাবধানে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সংগঠনের মুখপাত্র মাসিক আত-তাহরীক দেশের স্বাধীনতা, ঐক্য ও সংহতির পক্ষে একটি অনন্য সাধারণ গবেষণা পত্রিকা হিসাবে দেশে ও বিদেশে বিপুলভাবে সমদৃত। আমার জানামতে কোন জঙ্গীবাদী ও চরমপন্থী ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনরূপ সম্পর্ক নেই এবং কোন রাষ্ট্রদ্রোহী ও আইন-শৃংখলাবিরোধী সংগঠনের তারা জড়িত নন।’

(৭) ‘গোয়েন্দাদের শত শত প্রশ্নেও টলেননি গালিব’ ‘জেআইসিতে ড. গালিব বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, গোয়েন্দারা বিপাকে’ :

২রা ও ৩রা মার্চের একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় আমীরে জামা‘আতের জেআইসির জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হয়। ২রা মার্চ সিলেট থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক শ্যামল সিলেটে’ শিরোনাম করা হয় ‘গোয়েন্দাদের শত শত প্রশ্নেও টলেননি গালিব’। একই তারিখের দৈনিক ‘যুগান্তর’ রিপোর্ট করেছে- ‘জেআইসিতে ড. গালিব বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, গোয়েন্দারা বিপাকে’। ৩১ শে মার্চের ‘আমার দেশ’ লিখেছে ‘রিমান্ডে মুখ খুলেননি ড. গালিব’। ৩ রা এপ্রিলের দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট করেছে ‘ড. গালিব ও সহযোগীরা মুখ খোলেননি ফের নওগাঁ জেলা কারাগারে’। এরকম বিভিন্ন চটকদার শিরোনাম দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে বাম ও রামপন্থী পত্রিকাগুলি আমীরে জামা‘আত ও আহলেহাদীছ আন্দোলনের গতিকে স্তব্ধ করার জন্য উঠে-পড়ে লাগে।

(৮) ‘অধিকাংশ জাতীয় দৈনিক গরু মেরে জুতা দানের নীতি অনুসরণ করছে, আহলে হাদিসের আত-তাহরীক পত্রিকার সম্পাদকীয়’ :

আমীরে জামা‘আতের গ্রেফতারের প্রাক্কালে মাসিক আত-তাহরীক মার্চ’০৫ সংখ্যার জন্য তাঁর লেখা সম্পাদকীয় ‘মিথ্যাচার ও সাংবাদিকতা’র সমালোচনা করে ৫ই মার্চ’০৫ তারিখের দৈনিক ‘আজকের কাগজে’ আত-তাহরীক-এর ছবি সহ একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। শিরোনাম দেওয়া হয় ‘অধিকাংশ জাতীয় দৈনিক গরু মেরে জুতা দানের নীতি অনুসরণ করছে’।

উল্লেখ্য যে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারী’০৫ তারিখে রাজশাহী মহানগরীর স্বপ্নিল কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের লিখিত বক্তব্য বিকৃত করে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে উদ্দেশ্যমূলক শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ করায় এ বিষয়ে জাতীকে সতর্ক করা এবং সংশ্লিষ্টদের সাংবাদিক সততার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মূলত ‘মিথ্যাচার ও সাংবাদিকতা’ শিরোনামে সম্পাদকীয়টি লেখা হয়। যেখানে দ্ব্যর্থহীনভাবে একথাগুলো উল্লেখ করা হয় যে, ‘...সাংবাদিকতার নীতিমালা কি তবে সুন্দরভাবে মিথ্যা বলা? ভিত্তিহীন বিষয়কে কল্পনার ফানুস দিয়ে অট্টালিকা বানানো? অথচ মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, যা শোনা হয় তাই-ই বর্ণনা করা হয়। কোনরূপ যাচাই-বাছাই ব্যতীত একজনের বিরুদ্ধে কিছু লেখা ও তার চরিত্র হনন করা যদি সাংবাদিকতার আওতাভুক্ত হয়, তবে বলা যায় যে, সাংবাদিকতার চাইতে জঘন্য পেশা বর্তমান যুগে আর কিছু নেই। বাংলাদেশের অধিকাংশ জাতীয় দৈনিক বর্তমানে গরু মেরে জুতা দানের নীতি অনুসরণ করছে। যেমন কারু বিরুদ্ধে নোংরা শিরোনামে দিয়ে অপপ্রচার করা হ’ল। অতঃপর গা বাঁচানোর জন্য কখনও কখনও ভিতরে বা নীচে ছোট করে একটু প্রতিবাদ ছাপিয়ে দিল। এতেই তার সাংবাদিক সততার প্রমাণ দেওয়া হয়ে গেল। অনেক পত্রিকা ওটুকুও ছাপে না। ছাপলেও ভিতরে এমন করে ছাপবে, যেন সহজে কারু নযরে না  পড়ে। ধিক সাংবাদিক সমাজের প্রতি, যারা মিথ্যাকে তাদের পুঁজি হিসাবে গ্রহণ করেছে। সত্যকে বিক্রি করে দুনিয়া অর্জন করছে। ...মানুষের জানমাল ও ইযযত পরষ্পরের জন্য হারাম। অথচ হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই ইযযত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। একজন সম্মানী ব্যক্তির সম্মান ক্ষুণ্ণ করা কিংবা বিনষ্ট করাই যেন এই সব সাংবাদিকতার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিনিময়ে তারা দুনিয়ায় কিছু হাছিল করলেও আখেরাত যে হারাচ্ছেন, এটা সুনিশ্চিত। তথ্য সন্ত্রাসের এই যুগে একটি মিথ্যাকে শতকণ্ঠে বলিয়ে গোয়েবলসীয় কায়দায় সত্য বলে প্রমাণিত করার যে কোশেশ চলছে, তার দ্বারা পাঠক সমাজ সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হবে, সমাজ বিনষ্ট হবে। কিন্তু দেরীতে হলেও চূড়ান্ত বিচারে সত্যই জয়লাভ করবে। এটাই স্বাভাবিক ও চিরন্তন সত্য।’ 

এ হক কথাগুলিতেই তথাকথিত ঐ সাংবাদিকদের গায়ে আগুন ধরে যায়। ফলে আমীরে জামা‘আতের গ্রেফতারের পর এরা তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে বিভিন্ন ইস্যু, যা নিয়ে উদ্ভট কিছু লিখা যায়। কখনো তাঁর ‘দাওয়াত ও জিহাদ’ বই, কখনো ‘ইক্বামতে দ্বীন’ বইয়ের অপব্যখ্যা ও কখনো ‘আত-তাহরীক’-এর লেখনীর সমালোচনায় এরা পঞ্চমুখ হয়েছে। যাচ্ছেতাই শিরোনাম দিয়ে মিথ্যার বেশাতী সাজিয়ে পাঠকআকৃষ্ট কিছু উপহার দেওয়ার অপচেষ্ট চালিয়েছে।

(৯) ‘জঙ্গি গ্রেপ্তার অভিযানকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছে গালিবের পত্রিকা’ :

৫ই মার্চে আজকের কাগজে প্রকাশিত রিপোর্টের সূত্র ধরে দু’দিন পর বাম ঘরানার অন্যতম দৈনিক ‘প্রথম আলোতে’ও একই ধারার রিপোর্ট ছাপা হয়। ‘জঙ্গি গ্রেপ্তার অভিযানকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছে গালিবের পত্রিকা’ শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, ‘ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব ও সহযোগীদের গেপ্তারসহ উত্তরাঞ্চলে জঙ্গি গ্রেপ্তার অভিযানকে ভিনদেশী গোয়েন্দা সংস্থার নীলনকশা বলে উল্লেখ করেছে তার মালিকানাধীন আত-তাহরীক নামের একটি মাসিক পত্রিকা। ওই পত্রিকার চলতি সংখ্যায় (৮ম বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা) মূল প্রবন্ধে ড. গালিবকে গ্রেপ্তারে কতিপয় সরকার বিরোধী পত্রিকা, সরকারের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট ও সাংবাদিকের ভূমিকাকে মুখ্য বলে তাদের নিন্দা করা হয়েছে।’ গোয়েন্দা সংস্থার  একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘ড. গালিবের বাড়ির ঠিকানা থেকেই পত্রিকাটির চলতি সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, ওই সংস্থা সরকারবিরোধী একটি মহলকে হাত করে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের মান-মর্যাদাকে ছোট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে নেমেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে তারা গ্রামের সহজ-সরল লোকদের মাঠে নামিয়ে জঙ্গিবাদের ছাপ লাগিয়ে তাদের দ্বারা পূর্ব প্রস্ত্ততকৃত স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে বিভিন্ন বাম ও সরকারবিরোধী পত্রিকার মাধ্যমে জাতির সামনে প্রকাশ করছে।’ রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘এই পত্রিকার সংস্করণটি সম্পর্কে সরকারীভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পত্রিকাটির বেশকিছু কপি গোয়েন্দা সংস্থা উদ্ধার করে প্রকাশিত প্রবন্ধগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।’

উল্লেখ্য যে, ‘আত-তাহরীক’-এর কোন সংখ্যাই আমীরে জামা‘আতের বাড়ীর ঠিকানা হ’তে প্রকাশ হয়নি। সকল সংখ্যাই রাজশাহীর কেন্দ্রীয় ঠিকানা হ’তে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে এবং আত-তাহরীক-এর কোন একটি সংখ্যাও বন্ধ হয়নি। ফালিল্লা-হিল হাম্দ।

(১০) ‘তদন্ত কর্মকর্তারাই ভক্ত হয়ে গেছে ড. গালিবের’ :

৭ই মার্চ ২০০৫ তারিখের দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় উক্ত শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। রিপোর্টটির সার সংক্ষেপ হচ্ছে- ‘জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেলে (জেআইসি) টানা এক সপ্তাহ জিজ্ঞাসাবাদ করেও আহলে হাদিস বাংলাদেশ-এর আমীর ড. গালিবের কাছ থেকে গোয়েন্দারা জঙ্গি তৎপরতার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র তথ্য বের করতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদের নামে এখন চলছে খোশগল্প। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাদের অনেকেই এখন ভক্ত হয়ে গেছেন ড. গালিবের। অনেক কর্মকর্তাই তার লেখা বই পড়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ড. গালিব দেশের শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দাদের তার মতো করে ইসলামের জন্য জেহাদ ঘোষণার আহবান জানিয়েছেন।’ জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেলের জনৈক কর্মকর্তার বরাতে রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘ড. গালিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে তারা বেকায়দায় পড়েছেন। কারণ তিনি মৃদু ভাষায় গোয়েন্দাদেরকেই তার অনুসারী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন’।

(১১) ‘ড. গালিবের বিরুদ্ধে দায়সারা তদন্ত, দুর্বল অভিযোগপত্র’:

১৬ ই মার্চ ২০০৫ তারিখে উক্ত শিরোনামে দৈনিক ‘প্রথম আলো’র ১ম পৃষ্ঠায় দুই কলামে বিশাল রিপোর্ট ছাপা হয়। এই রিপোর্টে আমীরে জামা‘আতের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করা হ’লেও এগুলোর তদন্ত দায়সারা ভাবে চলছে উল্লেখ করে রিপোর্টার এর জন্য সরকার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরক দায়ী করেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, ‘ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলা দায়ের করা হলেও এগুলোর তদন্ত চলছে দায়সারাভাবে। এসব মামলায় ড. গালিবকে গেপ্তার দেখানো হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ কারার মতো সাক্ষ্য পুলিশের হাতে নেই। তিনটি মামালায় অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করা হলেও তার ভিত্তি খুবই দুর্বল’। 

(১২) ‘সিরাজগঞ্জে ড. গালিবকে জিজ্ঞাসাবাদকালে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণে আহত ১০’ :

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গ্রামীণ বাংকে বোমা হামলা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমীরে জামা‘আতকে তিন দিনের রিমান্ডে সিরাজগঞ্জ আনা হয়েছে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। তিনদিন পার না হতেই আবারও ঘটল বোমা বিস্ফোরণ। শহরের মমতাজ সিনেমা হলে চালানো হয় এই বিস্ফোরণ। এতে মারাত্মক আহত হয় অন্তত দশ জন। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতার চেলা-চামুন্ডারা এর সাথেও যোগসূত্র খোঁজে বেড়ায় আমীরে জামা‘আতের। তিন কলাম ব্যাপী রিপোর্ট ছাপা হয় দৈনিক ‘আমাদের সময়’ পত্রিকায়। শিরোনাম দেওয়া হয় ‘সিরাজগঞ্জে ড. গালিবকে জিজ্ঞাসাবাদকালে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণে আহত ১০’। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় ‘উল্লাপাড়া গ্রামীণ ব্যাংকে বোমা হামলার অন্যতম আসামি আহলে হাদীছ আন্দোলনের প্রধান ড. গালীবকে জিজ্ঞাসাবাদরে জন্য গত মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এই সময় মমতাজ সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়।’

[ক্রমশঃ]

 

 

 

 

 

HTML Comment Box is loading comments...