প্রবন্ধ

মুহাম্মাদ (ছাঃ)-ই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল

আবদুল্লাহ বিন আবদুর রাযযাক
দাওরায়ে হাদীছ (শেষ বর্ষ), দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারত।

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না (বাক্বারাহ ২/২৮৫)। মুহাম্মাদ (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা রাসূলদের মাঝে কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করো না। তিনি আরো বলেন, যে বলে আমি ইউনুস বিন মাত্তা চেয়ে শ্রেষ্ঠ, সে মিথ্যুক- ইত্যাদি হাদীছগুলো দিয়ে অনেকেই আম জনসাধারণের মনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করছে যে, সকল রাসূল মর্যাদাগতভাবে সমান এবং আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মনে করা একটি ভ্রান্ত আক্বীদা (নাউযুবিল্লাহ)

যেহেতু এই দলীলগুলো আপাতদৃষ্টিতে তাদের মতকে সমর্থন করে, সেহেতু অনেকেই এর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তাই পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী আলোচ্য প্রবন্ধে এই আয়াত ও হাদীছগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হওয়া নিয়ে আলোচনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ। 

মুহাম্মাদ (ছাঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল :

সকল নবীর ফযীলত মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, সকল নবীকে এমন কিছু ফযীলত দেয়া হয়েছে, যা অন্য নবীদেরকেও দেয়া হয়েছে। যেমন মূসা (আঃ)-এর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন। তেমনি মি‘রাজে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথেও তিনি কথা বলেছেন। দ্বিতীয়ত, কতিপয় নবীকে এমন কিছু ফযীলত দেয়া হয়েছে, যা অন্য নবীদেরকে দেয়া হয়নি। কিন্তু এই ফযীলত তাঁর অন্য নবীদের উপর শ্রেষ্ঠ হওয়ার প্রমাণ বহন করেনা। এই রকম ফযীলত আমাদের নবীসহ অন্য অনেক নবীকেই দেয়া হয়েছে। যেমন ঈসা (আঃ)-কে বিনা পিতায় সৃষ্টি করা তার জন্য খাছ ফযীলত, যা অন্য নবীদেরকে দেয়া হয়নি।

এজন্য আমি রাসূল (ছাঃ)-এর এই ধরনের ফযীলত নিয়ে আলোচনা করব না। আজকের আলোচনাতে মূলত রাসূল (ছাঃ)-এর ঐ সমস্ত ফযীলতের আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ, যা তাঁর অন্য নবীদের উপর শ্রেষ্ঠ হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

কুরআন থেকে দলীল :

১. মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُوْنَ.

‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মাত, যাদেরকে মানুষদের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজ থেকে বাঁধা প্রদান করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করবে। যদি আহলে কিতাবরা ঈমান আনত তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হ’ত। (অর্থাৎ তারা এই শ্রেষ্ঠ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত)। তাদের মধ্যে কিছু মুসলমান এবং অধিকাংশই ফাসেক’ (আলে ইমরান ৩/১১০)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আমরা রাসূলদের মাঝে পার্থক্য করিনা মর্মে লিখিত একটি বইয়ে বলা হয়েছে যে, এখানে তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মাত বলে শুধু রাসূল (ছাঃ)-এর উম্মাত উদ্দেশ্য নয়, বরং প্রত্যেক উম্মাতের মুমিনগণ উদ্দেশ্য।

আসুন আমরা দেখি সালাফে ছালেহীন এই আয়াতের ব্যাখ্যায় উম্মাত বলতে কোন উম্মাত উদ্দেশ্য নিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই বইয়ে সম্পূর্ণ আয়াত উল্লেখ করা হয়নি। শুধু আয়াতের প্রথম অংশ উল্লেখ করা হয়েছে। যদি আমরা সম্পূর্ণ আয়াত পড়ি এবং আয়াতের আগের ও পিছনের আলোচনা- যাকে আরবীতে সিয়াক ও সাবাক বা পূর্বাপর সম্পর্ক বলা হয়- দেখি, তাহলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে যে, আল্লাহ উম্মাত দ্বারা উম্মাতে মুহাম্মাদীকে বুঝিয়েছেন। কেননা আল্লাহ আয়াতের সাথেই এটা বলেছেন যে, যদি আহলে কিতাব ঈমান নিয়ে আসত তাহলে তাদের জন্য কল্যাণ হত। এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, তারা এই শ্রেষ্ঠ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই আয়াতের পরেই আল্লাহ ইহুদী সম্প্রদায়কে অভিশপ্ত সম্প্রদায় বলেছেন। এর দ্বারাও বুঝা যায় তারা শ্রেষ্ঠ উম্মাত নয়। এর পরেও আমরা হাদীছ ও সালাফে ছালেহীনের ব্যাখ্যা পেশ করব ইনশাআল্লাহ।

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূল (ছাঃ) থেকে একটি হাদীছ বর্ণনা করেছেন। যেখানে স্বয়ং রাসূল (ছাঃ) এই আয়াতের ব্যাখ্যা করছেন এভাবে- إِنَّكُمْ تُتِمُّوْنَ سَبْعِيْنَ أُمَّةً أَنْتُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللهِ ‘তোমরা উম্মতের সংখ্যা সত্তর পূর্ণ করছ। তোমরাই এই সত্তর উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে সম্মানিত’।[1]

এবার আমরা এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সালাফে ছালেহীনের কথা দেখব। এই আয়াত পেশ করার পর ইবনে কাছীর (রহঃ) বলেন,يخبر تعالى عن هذه الأمة المحمدية بأنهم خير الأمم فقال : كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ ‘আল্লাহ তা‘আলা এই উম্মতে মুহাম্মাদিয়া সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তারা সকল উম্মতের মাঝে শ্রেষ্ঠ। তাই তিনি বলেছেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদেরকে মানুষদের জন্য বের করা হয়েছে’।[2] এরপর ইবনে কাছীর (রহঃ) বলেন,

وإنما حازت هذه الأمة قَصَبَ السَّبْق إلى الخيرات بنبيها محمد صلى الله عليه وسلم، فإنه أشرفُ خلق الله أكرم الرسل على الله، وبعثه الله بشرع كامل عظيم لم يُعْطه نبيًّا قبله ولا رسولا من الرسل-

‘এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হচ্ছে, এই উম্মতের রাসূল শ্রেষ্ঠ। কেননা তিনি আল্লাহর সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে সম্মানিত এবং নবীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত। আল্লাহ তাঁকে এমন পূর্ণ শরী‘আত দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যা তাঁর পূর্বে অন্য কোন নবী-রাসূলকে দেননি।[3] ইবনে কাছীর (রহঃ)-এর এই কথা দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এখানে উম্মত দ্বারা উম্মতে মুহাম্মাদিয়া উদ্দেশ্য এবং এর শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণ হচ্ছে, এই উম্মতের নবী (ছাঃ) সকল নবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাসূল।

এরপর ইবনে কাছীর (রহঃ) দলীল হিসাবে একটি হাদীছ পেশ করেন, وَجُعِلَتْ أُمَّتِي خَيْرَ الأمَمِ ‘আমার উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত করা হয়েছে’।[4]

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা শাওকানী (রহঃ) তাঁর বিশ্বসেরা তাফসীর গ্রন্থে বলেন, يَتَضَمَّنُ بَيَانَ حَالِ هَذِهِ الْأُمَّةِ فِي الْفَضْلِ عَلَى غَيْرِهَا مِنَ الْأُمَمِ ‘এই আয়াত উম্মতে মুহাম্মাদিয়া অন্য উম্মতের উপর শ্রেষ্ঠ এই বিষয়ের আলোচনাকে শামিল করেছে’।[5]

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী তাঁর তাফসীরে জালালাইনে এই আয়াতে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, كُنْتُمْ يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ فِيْ عِلْمِ الله تَعَالَى خَيْرَ أُمَّةٍ ‘তোমরা হে উম্মতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর জ্ঞানে শ্রেষ্ঠ উম্মত’।

এই আয়াতের তাফসীরে প্রায় সকল সালাফে ছালেহীন এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ হওয়ার অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন। যেমন, এই উম্মতের সত্তর হাযার মানুষ বিনা হিসাবে জন্নাতে যাবে।[6]

মোদ্দাকথা, উম্মতে মুহাম্মাদী সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। কেননা তাদের নবী সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল। এখন কেউ যদি সালাফে ছালেহীন ও রাসূল (ছাঃ)-এর ব্যাখ্যা থেকে সরে এসে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা প্রদান করে তাহলে তাঁর হিসাব আল্লাহর কাছে।

প্রশ্ন হতে পারে যে, উম্মতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্ঠ হওয়া থেকে কিভাবে সাব্যস্ত করা যায়, মুহাম্মাদ (ছাঃ) শ্রেষ্ঠ রাসূল? এর উত্তরে বলা যায়, উম্মতের শ্রেষ্ঠ হওয়ার সাথে সেই উম্মতের নবীর শ্রেষ্ঠত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই জিনিসটা বুঝার জন্য আমরা কয়েকটি হাদীছ পেশ করতে চাই। মি‘রাজের রাত্রে যখন মুহাম্মাদ (ছাঃ) মূসা (আঃ)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন মূসা (আঃ) কাঁদছিলেন। তাকে কাঁদার কারণ জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, أَبْكِىْ لِأَنَّ غُلاَمًا بُعِثَ بَعْدِىْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِهِ أَكْثَرُ مِمَّنْ يَّدْخُلُهَا مِنْ أُمَّتِىْ- ‘আমি এজন্য কাঁদছি যে, আমার পরে একজন যুবককে নবী হিসাবে প্রেরণ করা হয়েছে যার উম্মত আমার উম্মতের চেয়ে বেশী জান্নাতে যাবে’।[7] এখানে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের সাথে নবীর শ্রেষ্ঠত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তা না হ’লে ইহুদী সম্প্রদায় জান্নাতে কম যাবে এতে মূসা (আঃ)-এর দুঃখ করার কি আছে?

এজন্যই আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) বলেছেন, تَزَوَّجُوا الْوَدُوْدَ الْوَلُوْدَ فَإِنِّىْ مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ ‘তোমরা অধিক সন্তান প্রসবকারী মেয়েকে বিবাহ কর। কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে কিয়ামতের মাঠে গর্ব করব’।[8]

তিনি আরও বলেন, إِنِّىْ مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِى ‘তোমরা পরস্পরে মারামারিতে লিপ্ত হয়ো না। কেননা আমি তোমাদের নিয়ে গর্ব করব’।[9] অন্য হাদীছে স্পষ্ট এসেছে যে, তিনি অন্য নবীদের সাথে গর্ব করবেন।[10]

এজন্যই তো মহান প্রতাপশালী আল্লাহ যখন মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে বলবেন মাথা উঠাও! যা চাওয়ার চাও দেওয়া হবে, তখন তিনি বলবেন, উম্মাতী উম্মাতী।[11] তাঁর উম্মত নিয়ে চিন্তিত হওয়ার এত কি দরকার? এজন্য তিনি উম্মতকে প্রতি আযানের শেষে তাঁর জন্য মাকামে মাহমূদের জন্য দো‘আ করতে বলেন। কেননা মাকামে মাহমূদ পাওয়া যেমন রাসূল (ছাঃ)-এর গর্ব, তেমনি উম্মতের গর্ব। এক কথায় উম্মত ও সেই উম্মতের নবীর শ্রেষ্ঠত্ব পরস্পরে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যখন কুরআন থেকে এই কথা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, উম্মতে মুহাম্মাদী সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। তখন অবশ্যই এটাও প্রমাণিত হয়ে গেল যে, এই উম্মতের নবীও শ্রেষ্ঠ। আর কেনই বা নয়? যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের নেতা তিনি কেন সর্বশ্রেষ্ঠ হবেন না? যদি সর্বশ্রেষ্ঠ না হন তাহ’লে তো তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের নেতা বা নবী হওয়ার যোগ্যতা নেই (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ আমাদের এহেন ভ্রান্ত আক্বীদা থেকে রক্ষা করুন। এরপরেও যদি কারো বুঝে না আসে এবং সে বলতে চায় যে, সকল উম্মত এবং নবী সমান তাহ’লে আপনি তাকে আল্লাহর কাছে দো‘আ করতে বলেন, আল্লাহ যেন তাকে ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের সাথে কিয়ামতের মাঠে উঠান!

এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ হওয়ার আরেকটি সহজ দলীল হচ্ছে, ঈসা (আঃ) যখন আসমান থেকে নামবেন তখন ইমাম মাহদী তাকে ইমামতি করতে বলবেন। কিন্তু তিনি এই উম্মতের সম্মানে ইমামতি করাবেন না।[12] যেখানে একজন নবী এই উম্মতের সম্মানে এরূপ করবেন, তাহ’লে সেই উম্মতের নবী কত মহান হতে পারেন। অতএব এটাই সত্য যে, সকল উম্মতের মাঝে শ্রেষ্ঠ উম্মত উম্মতে মুহাম্মাদী এবং সকল নবীর মাঝে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ (ছাঃ)।

২. রাসূল (ছাঃ)-এর নামে কসম। মহান আল্লাহ দুনিয়ার কোনও মানুষের নামে কসম খান নি একমাত্র আমাদের রাসূল ব্যতীত। তিনি বলেন لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِيْ سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُوْنَ ‘আপনার জীবনের কসম! নিশ্চয়ই তারা আনন্দ-উল্লাসে মত্ত রয়েছে’ (হিজর ১৫/৭২)

এই আয়াতের পর হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, أقسم تعالى بحياة نبيه، صلوات الله وسلامه عليه، وفي هذا تشريف عظيم، ومقام رفيع وجاه عريض- ‘আল্লাহ তার নবীর জীবনের কসম করেছেন। আর এই কসমের মধ্যে রয়েছে মহান সম্মান, উঁচু স্থান এবং সীমাহীন খ্যাতি’।

এরপর ইবনে কাছীর (রহঃ) ইবনে আববাস (রাঃ)-এর তাফসীর নিয়ে আসেন। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

مَا خَلَقَ اللهُ وَمَا ذَرَأَ وَمَا بَرَأَ نَفْسًا أَكْرَمَ عَلَيْهِ مِنْ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَا سَمِعْتُ اللهَ أَقْسَمَ بِحَيَاةِ أَحَدٍ غَيْرِهِ، قَالَ اللهُ تَعَالَى: لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ-

‘আল্লাহ এমন কিছু সৃষ্টি করেননি যে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আমি মহান আল্লাহকে আর কারো জীবনকে নিয়ে (কুরআনে) কসম খেতে শুনিনি মুহাম্মাদ (ছাঃ) ব্যতীত। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, আপনার জীবনের কসম তারা আনন্দ-উল্লাসে মেতে আছে।[13]

আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) এর এই কথা প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নামে শপথ করা তার সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার দলীল এবং ছাহাবীরা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ মাখলূক হিসাবে বিশ্বাস করতেন। 

৩. সকল নবীর কাছ থেকে শপথ গ্রহণ :

মহান আল্লাহ বলেন,

إِذْ أَخَذَ اللهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ-

‘আর যখন মহান আল্লাহ সকল নবীর নিকট থেকে শপথ নিলেন এই বলে যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকটে রাসূল আসবে যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করবেন, তখন অবশ্যই তোমরা তার উপর ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। আল্লাহ বললেন, তোমরা কি স্বীকৃতি দিলে এবং এই কথা মেনে চলার অঙ্গীকার করলে। তারা বললেন, আমরা স্বীকৃত দিলাম। তখন আল্লাহ বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম’ (আলে ইমরান ৩/৮১)

এই আয়াত পেশ করার পর ইবনু কাছীর (রহঃ) রাঈসুল মুফাসসিরীন আবদুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ)-এর বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি বলেন, ما بعث الله نبيا من الأنبياء إلا أخذ عليه الميثاق، لئن بَعَث محمدًا وهو حَيّ ليؤمنن به ولينصرنه، وأمَرَه أن يأخذ الميثاق على أمته: لئن بعث محمد صلى الله عليه وسلم وهم أحياء ليؤمِنُنَّ به ولينصرُنَّه- ‘আল্লাহ এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করেননি যার কাছ থেকে এই শপথ গ্রহণ করেননি। তথা প্রত্যেক রাসূলের কাছে তিনি এই মর্মে শপথ নিয়েছেন যে, যদি আল্লাহ মুহাম্মাদকে প্রেরণ করেন এবং সেই নবী বা রাসূল জীবিত থাকে, তাহলে তারা যেন মুহাম্মাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাকে সাহায্য করে। তাদেরকে এও নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন তাদের উম্মতের কাছ থেকে এই বলে শপথ নেয় যে, যদি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে প্রেরণ করা হয় এবং তারা জীবিত থাকে, তাহলে তারা যেন মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং তাকে সহযোগিতা করে’।[14]

এরপর ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন,

فالرسول محمد خاتم الأنبياء صلوات الله وسلامه عليه، دائما إلى يوم الدين، وهو الإمام الأعظم الذي لو وجد في أي عصر وجد لكان هو الواجب الطاعة المقدَّم على الأنبياء كلهم؛ ولهذا كان إمامهم ليلة الإسراء لما اجتمعوا ببيت المقدس، وكذلك هو الشفيع في يوم الحشر في إتيان الرب لِفَصْل القضاء، وهو المقام المحمود الذي لا يليق إلا له-

‘আর মুহাম্মাদ (ছাঃ) কিয়ামত পর্যন্ত শেষ নবী। তিনিই হচ্ছেন মহান ইমাম যাকে কোনও যুগে পাওয়া গেলে সকল নবীর উপর তার আনুগত্য করা যরূরী। আর এজন্যই মি‘রাজের রাত্রে তিনি তাদের ইমাম ছিলেন যখন তারা বায়তুল মুকাদ্দাসে জমা হয়েছিলেন। অনুরূপই তিনি হাশরের ময়দানে তাদের জন্য আল্লাহকে বিচার শুরু করার সুফারিশ করবেন। আর এটাই মাকামে মাহমূদ, যা তিনি ব্যতীত কারো জন্য শোভা পায় না।[15]

সুতরাং এই আয়াত স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর ঈমান নিয়ে আসার জন্য সকল রাসূলের কাছ থেকে শপথ নেয়াটা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সকল রাসূলের উপর কুল্লী বা সামষ্টিক ফযীলত। এইজন্য রাসূল (ছাঃ) ওমর (রাঃ)-কে বলেছিলেন, যদি আজ মূসা জীবিত থাকত তাহলে তার জন্য আমার আনুগত্য করা ছাড়া তার কোন গত্যন্তর থাকত না।[16]

হাদীছ থেকে দলীল :

১- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ فِى آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِ يَّهِ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ-

১. আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, শেষ যামানায় কিছু মানুষ বের হবে। যারা হবে অল্প বয়সী ও নির্বোধ। তারা সর্বোত্তম কথা বলবে। তাঁরা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কন্ঠনালি অতিক্রম করবেনা। তাঁরা দ্বীন থেকে তেমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর শিখার ভেদ করে বের হয়ে যায়।[17] এই হাদীছে স্পষ্টভাবে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলা হয়েছে।

২. উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ كُنْتُ إِمَامَ النَّبِيِّيْنَ وَخَطِيبَهُمْ وَصَاحِبَ شَفَاعَتِهِمْ غَيْرَ فَخْرٍ ‘আমি কিয়ামতের দিন সকল নবীদের ইমাম বা নেতা হব এবং তাদের মুখপাত্র হব (অর্থাৎ যখন কিয়ামতের মাঠে তারা আল্লাহর সামনে কথা বলতে পারবেন না তখন আমি তাদের পক্ষ থেকে কথা বলব) এবং তাদের জন্য সুপারিশকারী হব।[18] এতে আমার কোন গর্ব নেই। যিনি সকল নবীর ইমাম বা নেতা হবেন তিনি অবশ্যই সকল নবীর মাঝে শ্রেষ্ঠ।

৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ ‘আমি কিয়ামতের মাঠে সকল আদম সন্তানের সরদার হব। আমিই প্রথত্র ব্যক্তি যাকে প্রথমে কবর থেকে উঠানো হবে। আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে প্রথমে শাফা‘আত করবে এবং যার শাফা‘আত প্রথমে গ্রহণ করা হবে’।[19]

সালাফে ছালেহীন এই হাদীছ দ্বারা সকল আদম সন্তানের উপর রাসূল (ছাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। অবশ্য আমরা রাসূলদের মাঝে পার্থক্য করিনা মর্মে লিখিত বইয়ে এই হাদীছের এই বলে জবাব দেয়া হয়েছে যে, কেউ নেতা হলেই তাঁর শ্রেষ্ঠ হওয়া যরূরী নয়। এই অভিযোগের জবাব দু’ভাবে দেওয়া যায়। প্রথম জবাব তো সালাফে ছালেহীন এই হাদীছ থেকে রাসূল (ছাঃ)-এর সকল আদম সন্তানের উপর শ্রেষ্ঠ হওয়ার দলীল গ্রহণ করেছেন।

দ্বিতীয়ত, এরূপই অন্য এক হাদীছে এসেছে, যেখানে রাসূল (ছাঃ)-এর অন্য নবীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

৪. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَبِيَدِى لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلاَ فَخْرَ وَمَا مِنْ نَبِىٍّ يَوْمَئِذٍ آدَمُ فَمَنْ سِوَاهُ إِلاَّ تَحْتَ لِوَائِى- ‘কিয়ামতের মাঠে সকল আদম সন্তানের সরদার আমি হব এবং আমি এটা গর্ব করে বলছিনা ঐ দিন আমার হাতে হবে প্রশংসার ঝান্ডা বা পতাকা। আর ঐ দিন এমন কোনও নবী থাকবে না, যিনি আমার এই ঝান্ডার নিচে সমবেত হবেন না।[20]

এই হাদীছ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সকল নবী সেই দিন মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ঝান্ডার নিচে সমবেত হবেন। এটা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অন্য নবীদের উপর কুল্লী বা সমষ্টিগত ফযীলত। অতএব তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল এবং রাসূলদের সরদার।

৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, بُعِثْتُ مِنْ خَيْرِ قُرُوْنِ بَنِى آدَمَ ‘আমি প্রেরিত হয়েছি আদম সন্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগে’।[21]

৬. আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

إنَّ اللهَ اتَّخَذَ إبْرَاهِيْمَ خَلِيْلاً، وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيْلُ اللهِ، إِنَّ مُحَمَّدًا أَكْرَمُ الْخَلْقِ عَلَى اللهِ، ثُمَّ قَرَأَ : عَسَى أَنْ يَبْعَثَك رَبُّك مَقَامًا مَحْمُودًا-

‘আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের সাথী তথা মুহাম্মাদ (ছাঃ)ও আল্লাহর বন্ধু। নিশ্চয় মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন- আশা করা যায় যে আপনার প্রতিপালক আপনাকে মাকামে মাহমূদ বা সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন স্থান দান করবেন’।[22]

৭- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِىَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِىَ الأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِىَ النَّبِيُّونَ-

৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ৬টি বিষয় দ্বারা আমাকে সকল নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে। ১. আমাকে অল্প ভাষায় অধিক ভাব প্রকাশের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ২. আমাকে সাহায্য করা হয়েছে শত্রুদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করার মাধ্যমে ৩. আমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে। [উল্লেখ্য, গণীমত পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য হালাল ছিলনা]। ৪. পুরো পৃথিবীকে আমার জন্য পবিত্র ও মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। [যা অন্য উম্মতের জন্য ছিলনা] ৫. আমাকে পুরো সৃষ্টির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। [আগের সকল নবীকে নির্দিষ্ট গোত্রের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল এবং তাদের রিসালাত ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য] ৬. আমার দ্বারা নবুঅতের ধারাবাহিকতাকে সমাপ্ত করা হয়েছে।[23]

8- عَن ابْن عبَّاس قَالَ: إنَّ الله تَعَالَى فضل مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَعَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ فَقَالُوْا يَا أَبَا عَبَّاسٍ بِمَ فَضَّله الله عَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: إِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ لِأَهْلِ السَّمَاءِ [وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نجزي الظَّالِميْن] وَقَالَ اللهُ تَعَالَى لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: [إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا لِيَغْفِرَ لَكَ اللهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تأخَّر] قَالُوا: وَمَا فَضْلُهُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ؟ قَالَ: قَالَ اللهُ تَعَالَى: [وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللهُ مَنْ يَّشَاء] الْآيَةَ وَقَالَ اللهُ تَعَالَى لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسلم: [وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا كَافَّة للنَّاس] فَأرْسلهُ إِلَى الْجِنّ وَالْإِنْس-

৮. ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নিশ্চয় মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে নবীগণ ও আসমানবাসী তথা ফেরেশতাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তখন তারা তথা তাঁর ছাত্ররা বলল, হে ইবনে আববাস! কিসের দ্বারা আল্লাহ তাকে আসমানবাসী তথা ফেরেশতাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিলেন? জবাবে তিনি বললেন, আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেছেন, ‘যদি তাদের মধ্যে কেউ বলে যে আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই তাহলে আমি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি দিব। আর এভাবে আমি অত্যাচারীদের শাস্তি দিয়ে থাকি (আম্বিয়া ২১/২৯)। কিন্তু রাসূল (ছাঃ)-এর ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমি আপনাকে মহান বিজয় দান করেছি যাতে করে আল্লাহ আপনার আগের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন’ (ফাৎহ ৪৮/১-২)

তখন তাকে বলা হল, সকল নবীর উপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কি? তিনি বলেন, আল্লাহ অন্য রাসূলদের জন্য বলেছেন, ‘আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর জাতির ভাষায় প্রেরণ করেছি যাতে করে তারা তাদের জন্য আমার বাণী বর্ণনা করতে পারে। আর আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন’ (ইবরাহীম ১৪/৪)। তথা প্রত্যেক রাসূল ছিলেন তাঁর নিজ জাতির জন্য। আর মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সকল মানুষের কাছে প্রেরণ করেছি’ (সাবা ৩৪/২৮)। অতএব তিনি তাকে মানুষ ও জ্বিনের কাছে প্রেরণ করেছেন।[24]

৯- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ إِنَّ اللهَ نَظَرَ فِى قُلُوبِ الْعِبَادِ فَوَجَدَ قَلْبَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ فَاصْطَفَاهُ لِنَفْسِهِ فَابْتَعَثَهُ بِرِسَالَتِهِ-

৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরের দিকে দেখলেন এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অন্তরকে সর্বশ্রেষ্ঠ অন্তর হিসাবে পেলেন। এই  জন্য  তাকে  নির্বাচন  করলেন  এবং  রাসূল  হিসাবে

দুনিয়াতে প্রেরণ করলেন’।[25]

১০. মি‘রাজের রাত্রে যখন মহানবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্য বুরাক নিয়ে আসা হল তখন বুরাক লাফালাফি শুরু করে এবং জিবরীল (আঃ) তাকে বলেন, فَمَا رَكِبَكَ أَحَدٌ أَكْرَمُ عَلَى اللهِ مِنْهُ ‘তুমি মুহাম্মাদের সাথে এরূপ করছ! অথচ ইতিপূর্বে তোমার পিঠে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ আরোহণ করেনি’।[26]

এই হাদীছের ব্যাখ্যায় প্রায় সকল মুহাদ্দিছ একমত পোষণ করেছেন যে, এখানে আমাদের নবীকে অন্য নবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। কেননা বুরাক নবীদের বাহন ছিল। যেমন হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) তাঁর ‘ফাতহুল বারী’তে এই বিষয়ে অনেক বর্ণনা জমা করেছেন। এর মধ্যে ঐ বর্ণনাও আছে যেখানে রাসূল (ছাঃ) বললেন, অতঃপর আমি বোরাককে বায়তুল মুকাদ্দাসের ঐ খুঁটির সাথে বাঁধলাম যার সাথে অন্য নবীরা বাঁধতেন। তথা বোরাক এর আগে অন্য নবীরাও ব্যবহার করেছেন। এছাড়া আরো অনেক বর্ণনা জমা করে বোরাক যে নবীদের আরোহী তিনি তা প্রমাণ করেছেন।[27]

সুতরাং জিবরীল (আঃ)-এর এই কথা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) অন্য নবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। ফালিল্লাহিল হামদ।  

১১. মূলত জান্নাত হচ্ছে মানব জাতির মধ্যে কে আল্লাহর কত প্রিয় বান্দা এবং কত ভাল ও শ্রেষ্ঠ বান্দা তা প্রমাণ হওয়ার অন্যতম জায়গা। এই জান্নাতে আমাদের রাসূলের স্থান সম্পর্কে স্বয়ং মুহাম্মাদ (ছাঃ) বলেন, سَلُوا اللهَ لِىَ الْوَسِيلَةَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا الْوَسِيلَةُ؟ قَالَ : أَعْلَى دَرَجَةٍ فِى الْجَنَّةِ لاَ يَنَالُهَا إِلاَّ رَجُلٌ وَاحِدٌ أَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ- ‘তোমরা আমার জন্য অসীলা চাও। ছাহাবীরা বললেন, অসীলা কি হে আল্লাহর নবী? তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, জান্নাতের সবচেয়ে উঁচু মর্যাদাসম্পন্ন জায়গা। একজন ব্যক্তি ব্যতীত তা কেউ অর্জন করতে পারবে না। আশা রাখি আমিই হব সেই ব্যক্তিটি’।[28]

রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে প্রতিদিন আযানের শেষে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্য এই জায়গা চাইতে বলেছেন এবং এও বলেছেন যে, আমার জন্য আযানের শেষে এই জায়গা চাইবে তাঁর জন্য কিয়ামতে মাঠে শাফা‘আত করা আমার উপর ওয়াজিব।[29]

এই হাদীছ স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, এই জায়গার অধিকারী ব্যক্তি সকল আদম সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানী হবেন এবং তিনি হবেন আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ)।

১২. শাফা‘আতে কুবরা : আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সকল নবীর উপর যে সমস্ত কুল্লী বা সমষ্টিগত ফযীলত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শাফা‘আতে কুবরা।

একটা হচ্ছে প্রত্যেক নবীকে আলাদা আলাদা ফযীলত দেয়া। যেমন ঈসা (আঃ)-কে বিনা পিতায় সৃষ্টি করা। কিন্তু এটা তার সকল নবীর উপর সমষ্টিগত ফযীলত নয়। কেননা এই রকম ফযীলত অনেক নবীকেই দেয়া হয়েছে। কিন্তু একজন নবীর পতাকার নিচে সকল নবী (আঃ)-কে সমবেত করা, তার কর্তৃক সকল নবীর ইমামতি করা এবং তাকে সকল নবীর সরদার বা ইমাম বানানো ইত্যাদি। সকল নবীর উপর তাঁর কুল্লী বা সমষ্টিগত ফযীলত। এই ধরনের ফযীলত শুধু আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আছে। এই রকমই একটি ফযীলত হচ্ছে শাফা‘আতে কুবরা। এই শাফা‘আত সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া’ (বাক্বারা ২/২৫৫)

মহান আল্লাহ এই শাফা‘আত বা সুপারিশ করার অনুমতি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে দিবেন এবং সকল নবীর অপারগতা প্রকাশ করার পর দিবেন। যা তার সকল নবীর উপর সমষ্টিগত ফযীলত। সংক্ষিপ্ত ঘটনা হল।-

হাশরের মাঠে মহান প্রতাপশালী আল্লাহ যখন আসমানকে এক হাতে ও যমীনকে এক হাত নিয়ে হুংকার দিবেন, কোথায় সেই অত্যাচারী রাজা-বাদশাহরা? আর তার একচ্ছত্র মালিকানা ও রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন, ঠিক তেমনি মানুষ যখন আল্লাহর আযাবের ভয়ে ভীত হয়ে যাবে এবং অসহনীয় আযাবে গ্রেপ্তার হবে, কিন্তু কিয়ামতের মাঠ থেকে বাঁচার কোনও পথ খুঁজে পাবেনা। এদিকে আবার বিচার শুরু হচ্ছে না। তখন প্রত্যেক উম্মতের মুমিনগণ একত্রিত হয়ে একজন সুপারিশকারী খুঁজে ফিরবে। যাতে করে তারা এই ভীষণ সংকট থেকে রেহাই পেতে পারে। প্রথমে তারা আদম (আঃ)-এর কাছে গমন করবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাবে। প্রত্যেক নবী নিজেদের ত্রুটি উল্লেখ করে তাদের অক্ষমতার কথা প্রকাশ করবেন। অবশেষে তারা নবী (ছাঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি মানুষকে এই বিপদজনক অবস্থা হতে মুক্ত করার জন্য আল্লাহর আরশের নীচে সিজদাবনত হবেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করবেন। তখন আল্লাহ তাঁকে মাথা উঠিয়ে প্রার্থনা করার অনুমতি দিবেন। তিনি তখন সমগ্র মানুষের হিসাব-নিকাশের জন্যে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাঁর দো‘আ এবং শাফা‘আত কবুল করবেন। এটিই হল মাক্বামে মাহমূদ বা সুমহান মর্যাদা, যা আল্লাহ তাকে দান করেছেন।[30]

১৩. সকল নবীর ইমামতি : সকল নবীর উপর মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আরেকটি সমষ্টিগত ফযীলত হচ্ছে মহান আল্লাহ তাঁকে দিয়ে মি‘রাজের রাত্রে সকল নবীর ইমামতি করিয়েছিলেন। যেমন হাদীছে এসেছে,وَقَدْ رَأَيْتُنِيْ فِيْ جَمَاعَةٍ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ ... فَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَأَمَّمْتُهُمْ ‘আমি আমাকে রাসূলদের জামা‘আতের মধ্যে পেলাম... ইতিমধ্যে ছালাতের সময় হয়ে গেলে আমি তাদের ইমামতি করলাম’।[31]

১৪. ওয়াসিলা বিন আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ اللهَ اصْطَفَى بَنِى كِنَانَةَ مِنْ بَنِى إِسْمَاعِيلَ وَاصْطَفَى مِنْ بَنِى كِنَانَةَ قُرَيْشاً وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِى هَاشِمٍ وَاصْطَفَانِى مِنْ بَنِى هَاشِمٍ- ‘মহান আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্যে থেকে বনী কিনানাকে নির্বাচন করেছেন এবং বনী কিনানার মধ্যে থেকে কুরাইশকে নির্বাচন করেছেন এবং কুরাইশের মধ্যে থেকে বনী হাশেমকে নির্বাচন করেছেন আর আমাকে নির্বাচন করেছেন বনী হাশেম থেকে।[32]

কিন্তু অনেকেই বলতে পারে, এই হাদীছে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ইবারাহীম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়া প্রমাণিত হয় কীভাবে। কিন্তু এই রকম আরো অনেক হাদীছ আছে যেগুলোতে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সকল বনী আদমের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়া প্রমাণ করে। যেমন,

وعن العباس ... فَقَامَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ مَنْ أَنَا؟ قَالُوا أَنْتَ رَسُولُ اللهِ عَلَيْكَ السَّلاَمُ- قَالَ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ إِنَّ اللهَ خَلَقَ الْخَلْقَ فَجَعَلَنِى فِى خَيْرِهِمْ ثُمَّ جَعَلَهُمْ فِرْقَتَيْنِ فَجَعَلَنِى فِى خَيْرِهِمْ فِرْقَةً ثُمَّ جَعَلَهُمْ قَبَائِلَ فَجَعَلَنِى فِى خَيْرِهِمْ قَبِيلَةً ثُمَّ جَعَلَهُمْ بُيُوتًا فَجَعَلَنِى فِى خَيْرِهِمْ بَيْتًا فَأَنَا خَيْرُكُمْ بَيْتاً وَخَيْرُكُمْ نَفْساً-

‘আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (ছাঃ) মিম্বারে উঠে বললেন, আমি কে? তখন ছাহাবীগণ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। আল্লাহ সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করত আমাকে তাদের ভালোদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তাদেরকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন [তথা আরব ও আজম] এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ ভাগের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ গোত্রে স্থান দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন বাড়িতে পৃথক করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ বাড়িতে স্থান দিয়েছেন। অতএব আমি তাদের মধ্যে বাড়ির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ।[33]

বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল :

১. কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব। এই কিতাব যেই মাসে অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। যেই রাতে অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। যেই জায়গায় অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গা। যেই ফেরেশতা নিয়ে এসেছেন তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। যেই নবীর উপর অবতীর্ণ হয়েছে তিনি অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল।

২. মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নবুঅত অন্যান্য রাসূলদের নবুঅতের চেয়ে বৈশিষ্ট্যগতভাবে অনেক মহান। কেননা, মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নবুঅতের দ্বারা অন্য সকল নবীর নবুঅত ও দ্বীনকে মানসূখ বা রহিত করে দিয়েছেন। অন্য দিকে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নবুঅত অন্য কোনও নবীর নবুঅত দ্বারা মানসুখ হবেনা। অন্য নবীদের নবুঅত ছিল নির্দিষ্ট গোত্রের জন্য এবং রাসূল (ছাঃ)-এর নবুঅত সারা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য। আর যিনি এই নবুঅতের অধিকারী তিনি অবশ্যই অন্য সকল নবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। [চলবে]



[1]. তিরমিযী, মিশকাত হা/৬২৮৫, সনদ হাসান।

[2]. ইবনু কাছীর ২/৯৩, আলে ইমরান ১১০ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[3]. ঐ।

[4]. আহমাদ হা/১৩৬১, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৯৩৯।

[5]. ফাৎহুল কাদীর ১/৪২৫, আলে ইমরান ১১০ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[6]. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৯৫।

[7]. বুখারী, মিশকাত হা/ ৫৮৬২।

[8]. আবুদাউদ হা/২০৫০, মিশকাত হা/৩০৯১।

[9]. তিরমিযী হা/২, ইবনু মাজাহ হা/৩৯৪০, ইবনে হিববান হা/৫৯৮৫।

[10]. মুসনাদে আহমাদ হা/১৩৫৯৪।

[11]. বুখারী হা/৪৭১২।

[12]. মুসলিম হা/১৫৬, মিশকাত হা/৫৫০৭, ছহীহাহ হা/২২৩৬।

[13]. তাফসীর ইবনে কাছীর, হিজর ৭২ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[14]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, আলে ইমরান ৮১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[15]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, আলে ইমরান ৮১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[16]. আহমাদ, মিশকাত হা/১৭৭, ইরওয়াউল গালীল হা/১৫৮৯।

[17]. বুখারী হা/৬৯৩০, মুসলিম হা/১০৬৬।

[18]. আহমাদ হা/২১২৮৩; ইবনে মাজাহ হা/৪৩১৪, মিশকাত হা/৫৭৬৮।

[19]. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪১।

[20]. তিরমিযী হা/৩৬১৫, মিশকাত হা/৫৭৬১।

[21]. বুখারী হা/৩৫৫৭, মিশকাত হা/৫৭৩৯।

[22]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হা/৩২৩৪৩; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৮১।

[23]. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪৮ ‘নবীগণের সরদারের ফযীলত’ অধ্যায়।

[24]. হাকেম হা/৩৩৩৫, মিশকাত হা/৫৭৭৩।

[25]. আহমাদ হা/৩৬০০, সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৩৩, সনদ হাসান।

[26]. তিরমিযী হা/৩১৩১, মিশকাত হা/৫৯২০ সনদ ছহীহ।

[27]. ফাতহুল বারী ‘মি‘রাজ’ অধ্যায়, ২/২০৭।

[28]. তিরমিযী হা/৩৬১২, ‘রাসূল (ছাঃ)-এর ফযীলত’ অধ্যায়, মিশকাত হা/৬৫৭, সনদ ছহীহ।

[29]. বুখারী হা/৬১৪, মিশকাত হা/৬৫৯।

[30]. বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৭২, ‘হাওয ও শাফা‘আত’ অধ্যায়।

[31]. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮৬৬, ‘ফাযায়েলে সাইয়েদুল মুরসালীন’ অধ্যায়।

[32]. আহমাদ হা/১৭০২৭, তিরমিযী হা/৩৬০৫।

[33]. মিশকাত হা/৫৭৫৭; তিরমিযী হা/৩৫৩২।

 

 

 

 

 

 

HTML Comment Box is loading comments...