প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/২৮১) : মুসলিম সরকারের শরী‘আত বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সেদেশের মুসলিম নাগরিকদের করণীয় কি?

-কামাল আহমাদ

রিয়াদ, সঊদী আরব।

উত্তর : এক্ষেত্রে কর্তব্য হ’ল (১) বিভিন্ন উপায়ে সরকারকে নছীহত করা (আহমাদ হা/৮৭৮৫; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৪৪২) (২) সকল প্রকার বৈধ পন্থায় প্রতিবাদ জানানো। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের উপরে ভালো ও মন্দ দু’ধরনের শাসক আসবে। যে ব্যক্তি তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে সে দায়িত্বমুক্ত হবে। যে ব্যক্তি তাকে অপসন্দ করবে, সে নিরাপত্তা লাভ করবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তার উপর রাযী থাকবে ও তার অনুসারী হবে (সে গোনাহগার হবে)’ (মুসলিম হা/১৮৫৪; মিশকাত হা/৩৬৭১)। (৩) সরকারের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করা। রাসূল (ছাঃ) দাওস কওমের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করেছিলেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৯৯৬)। (৪) সরকারের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকটে কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করা। ৭০ জন ছাহাবীকে শঠতার মাধ্যমে হত্যাকারী রে‘ল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে রাসূল (ছাঃ) মাসব্যাপী কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করেছিলেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৮৯)

সরকারের সুস্পষ্ট কুফরী প্রমাণিত হলে, শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৬৬)। তবে উক্ত বিদ্রোহ কল্যাণকর হবে কি-না, সে বিষয়ে অবশ্যই দেশের নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম পরামর্শ করে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং মুসলিম নাগরিকগণ তাদের অনুসরণ করবেন। বিদ্রোহ করায় কল্যাণের চেয়ে যদি অকল্যাণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে, তাহ’লে বিদ্রোহ করা যাবে না। বরং ধৈর্যধারণ করতে হবে, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন ফয়ছালা নাযিল হয় (বাক্বারাহ ১০৯, তওবা ২৪)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, শাসকের নিকট থেকে কেউ অপসন্দনীয় কিছু দেখলে যেন সে ধৈর্যধারণ করে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬৭)। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৭২)।‘কেননা তাদের পাপ তাদের উপর এবং তোমাদের পাপ তোমাদের উপর বর্তাবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭৩)। তিনি বলেন, তোমরা তাদের হক দিয়ে দাও। কেননা আল্লাহ শাসকদেরকেই জিজ্ঞেস করবেন তাদের শাসন সম্পর্কে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৭৫)

প্রশ্ন (২/২৮২): কোন পুরুষ গায়ের মাহরাম মহিলাকে অথবা কোন মহিলা গায়ের মাহরাম পুরুষকে সালাম দিতে পারে কি?

-শফীকুল ইসলাম, জলঢাকা, নীলফামারী।

উত্তর : ফিৎনার আশঙ্কা না থাকলে যেকোন পুরুষ যেকোন মহিলাকে সালাম দিতে পারে এবং মহিলাগণও অনুরূপ সালাম বিনিময় করতে পারে। আবু হাশেম থেকে বর্ণিত সাহল ইবনে সা‘দ (রাঃ) বলেছেন, জুম‘আর দিন আমরা খুশী হ’তাম। (আবু হাশেম বলেন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? তিনি বললেন, আমাদের এখানে এক বৃদ্ধা ছিল। সেই বৃদ্ধা এক প্রকার সবজির শিকড় তুলে পাতিলে রাখত এবং যবের কয়েকটি দানা তাতে ঢেলে দিয়ে খাবার তৈরি করত। আমরা জুম‘আর ছালাত শেষ করে ঐ বৃদ্ধার নিকট যেতাম এবং তাকে সালাম করতাম (বুখারী হা/২৩৪৯)। উম্মে হানী (রাঃ) বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন এবং ফাতিমা (রাঃ) তাকে কাপড় দিয়ে পর্দা করছিলেন। অতঃপর আমি তাকে সালাম দিলাম (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৯৭৭)। আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদল মহিলার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদেরকে সালাম করলেন (আবুদাঊদ হা/৫২০; তিরমিযী হা/২৬৯৮, মিশকাত হা/৪০০)। অত্র হাদীছ সমূহ প্রমাণ করে যে, মহিলা ও পুরুষ একে অপরকে সালাম দিতে পারে। তবে ফিৎনার ভয় থাকলে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে (ফাৎহুল বারী ১১/৩৪ পৃঃ)

প্রশ্ন (৩/২৮৩): দ্বীনের সকল হুকুম অনুসরণ করেও যদি কেউ বিদ‘আতী রসম-রেওয়াজ পরিত্যাগ না করে তবে তার ইবাদত কতটুকু ফলপ্রসু হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মোবাশ্বের ইসলাম, পরীবাগ, ঢাকা।

উত্তর : এমতাবস্থায় তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না। আলী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বিদ‘আত সৃষ্টি করে অথবা কোন বিদ‘আতীকে আশ্রয়  দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয ও নফল কোন ইবাদত কবুল করা হবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/২৭২৮)। অতএব সকল প্রকার শিরক ও বিদ‘আত পরিহার করা একান্তভাবে যরূরী।

প্রশ্ন (৪/২৮৪) : মানুষের নামের শেষে বা শুরুতে জাহান শব্দ ব্যবহার করা যাবে কি?

-মু‘তাছিম বিল্লাহ

ইসলামপুর, জামালপুর।

উত্তর : ভাবার্থে হ’লেও ‘শাহজাহান’ (পৃথিবীর বাদশাহ) ইত্যাদি নামে অহংকার প্রকাশ পায়। অতএব এসব নাম পরিত্যাজ্য। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপসন্দনীয় নাম হ’ল বাদশাহর বাদশাহ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৭৫৫)

প্রশ্ন (৫/২৮৫) : আমি দুই সন্তানের জননী একজন অসহায় বিধবা। সন্তানের ভরণ-পোষণের জন্য আমাকে বাইরে কাজ করতে হয় এবং বাজারে যেতে হয়। এগুলি কি শরী‘আতসম্মত হচ্ছে?

-রিয়া আক্তার,

নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : যরূরী প্রয়োজনে যে কোন নারী পরিপূর্ণ পর্দা বজায় রেখে বাইরের সকল কাজ করতে পারে (বুখারী হা/৫২২৪, মুসলিম হা/২১৮২)

প্রশ্ন (৬/২৮৬) : রাসূল (ছাঃ) কি কখনো আল্লাহকে দেখেছেন? জনৈক আলেম বলেন, তিনি তাকে স্বপ্নে সোনার জুতা পরিহিত একজন যুবকের আকৃতিতে দেখেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মাসঊদুর রহমান

শাখারীপাড়া, নাটোর।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) কখনো আল্লাহকে দেখেননি। বরং তাঁর ‘নূর’ দেখেছেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৫৯)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ...যে ব্যক্তি বলে যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) স্বীয় পালনকর্তাকে দেখেছেন সে মিথ্যা বলে। অতঃপর তিনি দেখতে না পারার প্রমাণে দলীল পেশ করে বলেন, ‘কোন চোখ তাঁকে দেখতে পারে না। বরং তিনি সকল চোখকে দেখতে পান (আন‘আম ১০৩)। তারপর পাঠ করলেন, অহীর মাধ্যমে বা পর্দার আড়াল থেকে ব্যতীত আল্লাহর সাথে কথা বলা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় (শূরা ৫১; মুসলিম হা/১৭৭, তিরমিযী হা/৩০৬৮)। রাসূল (ছাঃ) স্বপ্নে আল্লাহকে সোনার জুতা পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন মর্মে বর্ণিত হাদীছটি মওযূ‘ বা জাল (যঈফাহ হা/৬৩৭১)

 

প্রশ্ন (৭/২৮৭) : ৭ দিনে মাথার চুল ন্যাড়া করে ওই চুলের সমপরিমাণ রূপা ছাদাক্বা করার হাদীছটি কি ছহীহ? এক্ষেত্রে রূপাই ছাদাক্বা করতে হবে না সমপরিমাণ অর্থ দিলেই যথেষ্ট হবে?

-ইয়াজুদ্দীন

সাগরদীঘি, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘হাসান’ (তিরমিযী, আলবানী, মিশকাত হা/৪১৫৪)। রূপার পরিবর্তে তার মূল্য দান করলেই যথেষ্ট হবে (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৭/৪৯৫)। 

প্রশ্ন (৮/২৮৮) : কোন প্রয়োজন পূরণার্থে জালালী খতম আমাদের এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ইমামগণকে এজন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থও প্রদান করা হয়। শরী‘আতে এর কোন ভিত্তি আছে কি?

-মছীরুদ্দীন,

চর পাকেরদহ, মাদারগঞ্জ, জামালপুর।

উত্তর : ইসলামে জালালী খতম বলে কিছু নেই। এর জন্য আলেমদেরকে ডাকা ও অনুষ্ঠান করা বিদ‘আত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু আবিষ্কার করল যা তার মধ্যে নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০, ‘কুরআন-সুন্নাহকে অাঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ)। এরূপ খতম পড়ানোর মানত করে থাকলে তা পূরণ করতে হবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন পাপের কাজে মানত পূর্ণ করা বৈধ নয়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪২৮, ‘নযর’ অনুচ্ছেদ)। সুতরাং এ ধরনের গর্হিত কর্ম হ’তে বিরত থাকা আবশ্যক।

মুমিনের কোন বৈধ চাহিদা পূরণের জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে যে দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করা আবশ্যক, যাকে ‘ছালাতুল হাজত’ বলা হয় (ইবনু মাজাহ হা/১৩৮৫)। এজন্য শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর সালাম ফিরানোর পূর্বে আশু প্রয়োজনীয় বিষয়টির কথা নিয়তের মধ্যে এনে নিম্নোক্ত সারগর্ভ দো‘আটি পাঠ করবে : আল্লা-হুম্মা রববানা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খেরাতে হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আযা-বান্না-র (‘হে আল্লাহ! হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে মঙ্গল দিন ও আখেরাতে মঙ্গল দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হ’তে রক্ষা করুন’)। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অধিকাংশ সময় এ দো‘আটি পড়তেন’ (বুখারী হা/৪৫২২, মিশকাত হা/২৪৮৭)। দো‘আটি সিজদায় পড়লে বলবে, আল্লা-হুম্মা আ-তিনা...। কেননা রুকূ-সিজদায় কুরআনী দো‘আ পড়া জায়েয নয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৭৩, নায়ল ৩/১০৯)

প্রশ্ন (৯/২৮৯) : মূসা (আঃ)-এর চড়ের আঘাতে ‘মালাকুল মউত’-এর চোখ কানা হয়েছিল’-এ বক্তব্য কি সঠিক? সঠিক হ’লে এভাবে আঘাতের কারণ কি ছিল?

-নূরুল ইসলাম

মাকলাহাট, নিয়ামতপুর, নওগাঁ।

উত্তর : ঘটনাটি সঠিক (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৭১৩)। এভাবে আঘাত করার কারণ ব্যাখ্যা করে ইমাম আবু হাতেম ইবনু হিববান (রহঃ) বলেন, অপরিচিত চেহারায় বিনা অনুমতিতে মালাকুল মউত হযরত মূসা (আঃ)-এর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। মূসা (আঃ) ছিলেন অত্যন্ত আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন মানুষ। এজন্য তিনি তাকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। যাতে তার চোখ বেরিয়ে যায়। এটি ছিল মূসা (আঃ)-এর জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। যেমন ইতিপূর্বে জিব্রীল অচেনা চেহারায় ইবরাহীম (আঃ)-এর বাড়ীতে মেহমান হ’লোতান ভয় পেয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার পরিচিত চেহারায় গেলে মুসা (আঃ) মালাকুল মউতকে চিনতে পারেন এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্ত্তত হয়ে যান (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৬২২৩-এর আলোচনা দ্রঃ; আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ ১/৩১৭)

প্রশ্ন (১০/২৯০) : আমি একজন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিবাহ করেছি। বিবাহের সময় যে পূর্বের স্বামীর সাথে তার মেলামেশা হয়নি বলেছিল। জনৈক আলেমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মেলামেশা না হওয়ায় বিবাহের জন্য তিনমাস অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তাই তালাকের দুমাস পরে তাকে বিবাহ করি। বর্তমানে ৯ বছরের বিবাহিত জীবনে আমি দু’সন্তানের জনক। কয়েকদিন পূর্বে স্ত্রী আমাকে জানিয়েছে যে, সে তার পূর্বের স্বামীর সাথে মেলামেশা করেছিল। এখন আমাদের বিবাহ কি বাতিল হয়ে যাবে? এক্ষেত্রে করণীয় কি?

-রমাযান আলী, দোহার, কাতার।

উত্তর : উক্ত বিবাহ বাতিল হবে না। স্ত্রীর এই অন্যায় কর্মের জন্য হালাল বিবাহ হারাম হতে পারে না। কেননা কোন হারাম কাজ কোন হালাল বস্ত্তকে হারাম করতে পারে না (ইরওয়া হা/১৮৮১ আলোচনা দ্রঃ ৬/২৮৮)। আর মেলামেশার বিষয়টি স্ত্রীর স্বীকারোক্তির উপরেই নির্ভরশীল। বিবাহের সময় ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য সেই দায়ী হবে। এজন্য তাকে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করতে হবে এবং আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

প্রশ্ন (১১/২৯১) : কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত লিখিত ওয়ালপেপার দেওয়ালে টানানোর ব্যাপারে কোন বাধা আছে কি?

-আলী হাসান

বিমানবন্দর, সারিয়াকান্দী, বগুড়া।

উত্তর : সৌন্দর্যবর্ধন বা বরকত হাছিলের উদ্দেশ্যে টাঙিয়ে রাখা বিদ‘আত। কেননা এর পক্ষে শরী‘আতে কোন দলীল নেই। বিপদাপদ বা জিনদের অনিষ্টকারিতা হ’তে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর বন্ধ করার জন্য টাঙানো শিরক। কেননা ইষ্টানিষ্টের মালিক কেবলমাত্র আল্লাহ। এছাড়া আরবী হরফে কুরআনের আয়াত লিখে টাঙানো, দেওয়ালে লেখা, আংটিতে বা কড়ি প্লেট ইত্যাদিতে লেখা, গাড়ীর মাথায় আরবীতে আল্লাহ, মুহাম্মাদ, বিসমিল্লাহ ইত্যাদি লেখা সবই প্রদর্শনীমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এসবই ভক্তির নামে সৃষ্ট বিদ‘আত মাত্র। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণের যামানায় এসবের কোন অস্তিত্ব ছিল না। অতএব এ সকল বিদ‘আত অবশ্যই পরিত্যাজ্য (মুসলিম হা/১৭১৮)। তবে এগুলির অনুবাদ মাতৃভাষায় লিখে টাঙানো যায় উপদেশ লাভের জন্য। কেননা আল্লাহ বলেন, তুমি উপদেশ দাও। কারণ উপদেশ মুমিনের উপকার করে (যারিয়াত ৫৫)

প্রশ্ন (১২/২৯২) : সন্তানের হারাম উপার্জন পিতা-মাতার জন্য গ্রহণ করা জায়েয হবে কি? বিশেষতঃ পিতা-মাতা যদি সচ্ছল হয়ে থাকেন।

তরীকুল ইসলাম, সুরিটোলা, ঢাকা।

উত্তর : সন্তানের উপর কর্তব্য হ’ল, সে পিতা-মাতার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। আর সন্তানের সম্পদ মূলত পিতা-মাতারই সম্পদ। হাদীছে এসেছে ‘তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতা-মাতার। নিশ্চয় তোমাদের সম্পদ তোমাদের পবিত্র উপার্জন। কাজেই তোমাদের সন্তানদের উপার্জন হ’তে তোমরা খাও’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৩৫৪, সনদ ছহীহ)। এক্ষণে সন্তান হারাম উপার্জন করলে সে নিজে দায়ী হবে (বাক্বারাহ ৫৭ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ)। এর জন্য পিতা-মাতা দায়ী হবেন না। তবে পিতামাতা হিসাবে তারা তাকে তা থেকে বিরত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। সাধ্য থাকলে সন্তানের উপার্জন বয়কট করবেন।

প্রশ্ন (১৩/২৯৩) : মহিলারা মাঠে কৃষিকাজ করতে পারবে কি?

-আব্দুল লতীফ

রাজপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : নিরুপায় অবস্থায় পর্দার মধ্যে থেকে পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়াই যদি এরূপ কাজ করা সম্ভব হয়, তাহলে করতে বাধা নেই (বুখারী হা/৫২২৪, মুসলিম হা/২১৮২)

প্রশ্ন (১৪/২৯৪) : মসজিদে টাইলস ফিটিংসহ সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-লুৎফর রহমান

গোপালপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : মসজিদকে সৌন্দর্যমন্ডিত করা জায়েয। ওছমান (রাঃ) মসজিদে নববীর সৌন্দর্য বর্ধন করেছিলেন (বুখারী ফাৎহসহ হা/৪৪৬, ১/৬৪৩)। কিন্তু অতিরঞ্জিতভাবে জাঁকজমকপূর্ণ করা যাবে না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, মসজিদ সমূহকে চাকচিক্যময় করে নির্মাণ করার জন্য আমি আদিষ্ট হইনি। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু তোমরা একে জাঁকজমকপূর্ণ করবে যেভাবে ইহুদী-নাছারাগণ করত (আবুদাঊদ হা/৪৪৮; মিশকাত হা/৭১৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের অন্যতম আলামত হ’ল এই যে, লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৭১৯)। টাইল্স নকশাবিহীন এবং দৃষ্টি আকর্ষক না হলে তাতে কোন দোষ নেই। তবে বর্তমানে বিভিন্ন মসজিদে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও কালেমাখচিত এবং মক্কা-মদীনার ছবি সম্বলিত টাইলস বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়। এগুলি অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

প্রশ্ন (১৫/২৯৫) : আমার উপর অন্যায়ভাবে কেউ আক্রমণ করলে আমি কি তাদেরকে প্রতিহত করব না ছবর করব? আমার হাতে তাদের কেউ নিহত হলে ইসলামের দৃষ্টিতে কি আমি খুনী সাব্যস্ত হব?

-আব্দুল্লাহ, আদমদীঘি, বগুড়া।

উত্তর: অন্যায় আক্রমণের শিকার হ’লে প্রতিহত করতে হবে। তবে প্রতিশোধ গ্রহণ না করে ধৈর্য্যধারণ করলে উক্ত ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে উত্তম প্রতিদান লাভ করবে (শূরা ৪২/৩৯-৪৩, ফুছছিলাত ৪১/৩৪)। জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-কে বলল, কেউ এসে আমার মাল জোর করে নিতে চাইলে আমি কি করব? তিনি বললেন, দিবে না। লোকটি বলল, যদি সে আমার সাথে লড়াই করে? তিনি বললেন, তুমিও লড়াই করবে। সে বলল, যদি সে আমাকে হত্যা করে? তিনি বললেন, তুমি শহীদ হবে। সে বলল, যদি আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, তাহ’লে সে জাহান্নামী হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫১৩)

তবে ফিৎনা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়লে সে সময় প্রতিশোধ না নিয়ে ধৈর্য্যধারণ করাই উত্তম। যেমন এমতাবস্থায় করণীয় সম্পর্কে সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, যদি কেউ আমার ঘরে ঢুকে আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়, তখন আমি কি করব? জওয়াবে রাসূল (ছাঃ) বললেন, كُنْ كَخَيْرِ ابْنَىْ آدَمَ তুমি আদমের দুই ছেলের মধ্যে উত্তমটির মত হও’ (আবুদাঊদ হা/৪২৫৭, তিরমিযী হা/২১৯৪; মিশকাত হা/৫৩৯৯)

প্রশ্ন (১৬/২৯৬) : মহিলারা জানাযার ছালাতে এবং কবরে মাটি দেওয়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে কি?

-দিদার বখশ, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : মহিলারা পৃথকভাবে পর্দা বজায় রেখে জানাযার ছালাত পড়তে পারেন। আয়েশা (রাঃ) ও অন্যান্য উম্মাহাতুল মুমিনীন মসজিদে নববীর মধ্যে সা‘দ বিন আবি ওয়াক্কাছ (রাঃ)-এর লাশ আনিয়ে নিজেরা জানাযা পড়েছিলেন (মুসলিম হা/৯৭৩, মিশকাত হা/১৬৫৬) মহিলারা একাকী বা জামা‘আত সহকারে জানাযা পড়তে পারেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৮২)। তবে মহিলাদের কবরে মাটি দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে (বুখারী হা/১২৭৮; মুসলিম হা/৯৩৮)। উম্মে আত্বিয়াহ (রাঃ) বলেন রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে জানাযায় শরীক হ’তে নিষেধ করতেন। তবে এই নিষেধের ব্যাপারে কোন তাকীদ করতেন না’ (বুখারী হা/১২৭৮)। অর্থাৎ তিনি মহিলাদের জানাযায় অংশগ্রহণ করাকে অপসন্দ করতেন (ফাৎহুল বারী, উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রঃ)

প্রশ্ন (১৭/২৯৭) : জুতা-স্যান্ডেল পরার বিধান সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আমানুল্লাহ, সাতক্ষীরা।

উত্তর : জুতা বসে পরা সুন্নাত। কেননা রাসূল (ছাঃ) দাঁড়িয়ে জুতা পায়ে দিতে নিষেধ করেছেন (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৪১৪)। এর ব্যাখ্যায় ছাহেবে ‘আওন বলেন, এর কারণ এই যে, জুতা পরা ও ফিতা আটকানোর প্রয়োজনে মাথা নীচু করতে হয়। তাই উক্ত কষ্টের পরিবর্তে বসে পরার কথা বলা হয়েছে (আওনুল মা‘বূদ হা/৪১৩৫-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ ৭/২৩৫ পৃঃ)। ফিতাবিহীন সাধারণ জুতা-স্যান্ডেল পরা কষ্টকর নয় বিধায় দাঁড়িয়ে পরায় কোন দোষ নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা সহজ কর, কঠিন করো না... (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৭২২)। জুতা পরার সময় ডান পায়ের জুতা আগে পরবে এবং খোলার সময় বাম পায়ের জুতা আগে খুলবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪১০)। তবে এগুলি বাধ্যগত বিষয় নয়। বরং ব্যক্তি তার সুবিধামত সহজ পন্থায় এগুলি করবে।

প্রশ্ন (১৮/২৯৮) :ছাহাবীগণের নামের শেষে (রাঃ) বলা হয়। কিন্তু তেহরান রেডিওতে (আঃ) বলা হয়। এছাড়াও ছহীহ বুখারীতে অনেক স্থানে হযরত আলী ও ফাতেমা (রাঃ)-এর নামের পরে (আঃ) লেখা আছে। এর কারণ কি এবং এরূপ বলা কি শরী‘আতসম্মত?

-আনোয়ার, সাপাহার, নওগা।

উত্তর : ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ভ্রান্ত আক্বীদাসম্পন্ন শী‘আ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তাদের খাত্ত্বাবিয়াহ উপদলের মতে শী‘আদের ইমামগণ সবাই নবী। অতঃপর ইলাহ (শাহরস্তানী, আল-মিলাল ১/১৭৯)। শী‘আদের নিকট আলী (রাঃ) ছিলেন রাসূল (ছাঃ)-এর অছি। তাই তারা আলী সহ তার পরিবারবর্গের নামের শেষে নবীগণের জন্য প্রচলিত শব্দ (আঃ) ব্যবহার করে থাকে। ছহীহ বুখারীসহ কোন কোন হাদীছ গ্রন্থে ফাতেমা ও আলী, হাসান ও হোসায়েন (রাঃ)-এর নামের পরে (রাঃ)-এর পরিবর্তে (আঃ) লেখা হয়েছে। এ বিষয়ে হাফেয ইবনু কাছীর বলেন, এগুলি পরবর্তী হাদীছ লেখকদের মাধ্যমে আগত (তাফসীর ইবনে কাছীর, আহযাব ৪০ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ ৬/৫০০পৃঃ)

প্রশ্ন (১৯/২৯৯) :সন্তান প্রসবের কারণে রামাযান মাসে ছিয়াম পালনে অক্ষম হ’লে পরবর্তীতে তা কিভাবে আদায় করবে? 

-সফীউদ্দীন আহমাদ

পাঁচদোনা, নরসিংদী।

উত্তর : দুগ্ধদানকারিনী মহিলা পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে (আবুদাঊদ, নাসাঈ; মিশকাত হা/২০২৫)। আর ক্বাযা করতে পারবে না এমন ভয় থাকলে প্রত্যেক ছিয়ামের বিনিময়ে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে (বাক্বারাহ ২/১৮৪)। তবে ইবনে আববাস (রাঃ) গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনী মহিলাদের জন্য ফিদইয়া দিতে বলতেন, ক্বাযা আদায় নয় (আবুদাঊদ হা/২৩১৭, সনদ ছহীহ; আলোচনা দ্রঃ ইরওয়া হা/৯১২-৯১৩)। দৈনিক নিয়মিত মিসকীন না পেলে রামাযান শেষে একদিনে ত্রিশজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো যাবে। আনাস (রাঃ) গোশত-রুটি পাকিয়ে একদিনে ত্রিশজন মিসকীনকে ছিয়ামের ফিদইয়া হিসাবে খাইয়েছিলেন (ইবনে কাছীর, বাক্বারাহ ১৮৪ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ)

প্রশ্ন (২০/৩০০) : ঋণদানের ফযীলত কি? আমার বন্ধুকে কিছু টাকা ঋণ দিয়েছিলাম। এক্ষণে তা পরিশোধের পূর্বে আমি কি তার নিকট থেকে কিছু খেতে পারব?

-রাশেদুল ইসলাম, নরসিংদী।

উত্তর : ঋণ প্রদানের ফযীলত সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, দানের নেকী ১০ গুণ। আর ঋণদানের নেকী ১৮ গুণ (বায়হাক্বী, ছহীহাহ হা/৩৪০৭)। এর দ্বারা ছওয়াবের আধিক্য বুঝানো হয়েছে। ঋণ প্রদানের প্রতিদানস্বরূপ গ্রহীতার নিকট থেকে কিছু খাওয়া যাবে না (বুখারী, তারীখ; মিশকাত হা/২৮৩২-৩৩) তবে বন্ধু হিসাবে দাতা ও গ্রহীতার মাঝে পূর্ব থেকে এরূপ সম্পর্ক থাকলে পরস্পরকে খাওয়াতে কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (২১/৩০১) : রুকুর পরে বুকে হাত বাঁধার বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-যাকারিয়া, মেহেরপুর।

উত্তর : রুকু থেকে উঠার পর উভয় হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দেওয়াই সুন্নাতসম্মত। কেননা রুকুর পরে পুনরায় বুকে হাত বাঁধার স্পষ্ট কোন দলীল পাওয়া যায় না। বিখ্যাত ছাহাবী আবু হুমায়েদ সা‘এদী (রাঃ) যিনি ১০ জন ছাহাবীর সম্মুখে রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাতের নমুনা প্রদর্শন করে সত্যায়ন প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সেখানে বলা হয়েছে-فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ اسْتَوَى حَتَّى يَعُوْدَ كُلُّ فَقَارٍ مَكَانَهُ- ‘তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেলেন এমনভাবে যে, মেরুদন্ডের জোড় সমূহ স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৭৯২)

ওয়ায়েল বিন হুজ্র ও সাহল বিন সা‘দ (রাঃ) বর্ণিত ‘ছালাতে বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখার ‘আম’ হাদীছের (মুসলিম, বুখারী, মিশকাত হা/৭৯৭,৭৯৮) উপরে ভিত্তি করে রুকূর আগে ও পরে ক্বওমা-র সময় বুকে হাত বাঁধার কথা বলা হয়। কিন্তু উপরোক্ত হাদীছগুলি রুকূ পরবর্তী ‘ক্বওমা’র অবস্থা সম্পর্কে ‘খাছ’ ভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া বুকে হাত বাঁধার বিষয়টি হাতের স্বাভাবিক অবস্থার পরিপন্থী। এক্ষণে মেরুদন্ড সহ দেহের অন্যান্য অস্থি সমূহকে স্ব স্ব জোড়ে ফিরে আসতে গেলে ক্বওমার সময় হাতকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াটাই ছহীহ হাদীছ সমূহের যথাযথ অনুসরণ বলে অনুমিত হয় (বিস্তারিত দ্রঃ আলবানী, ছিফাতু ছালা-তিন্নবী, পৃঃ ১২০; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১০৭)। তবে স্মর্তব্য যে, উক্ত বিষয়টি ছালাতের মধ্যেকার সুন্নাতের পর্যায়ভুক্ত। অতএব এ বিষয়ে সকল প্রকার বাড়াবাড়ি হ’তে বিরত থাকা কর্তব্য।

প্রশ্ন (২২/৩০২) : রাসূল (ছাঃ)-এর কবর খনন, লাশ চুরির অপপ্রচেষ্টা ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক ঘটনা শুনা যায়। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-ছানাউল হক

গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

উত্তর : এগুলি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) এবং তাঁর দু’সাথী আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর লাশ চুরি করার জন্য পাঁচবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারেই আল্লাহ তা‘আলার অসীম রহমতে তা ব্যর্থ হয়ে গেছে। প্রথম এবং দ্বিতীয়বার চেষ্টা চালিয়েছিল মিসরের শী‘আ রাফেযী শাসক মানছূর বিন নিযার বিন মুঈদ। যে ৪০৮ হিজরীতে নিজেকে মা‘বূদ বলে দাবী করেছিল। তৃতীয়বারে ৫৫৭ হিজরীতে বাদশা নুরুদ্দীন যঙ্গীর শাসনামলে মরক্কোর মুসলিমবেশী দু’জন খ্রিষ্টান সুড়ঙ্গ খননের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের দু’জনকে হত্যা করা হয় (নুরুদ্দীন আবুল হাসান সামহূদী, অফাউল অফা বিদারিল মুছত্বাফা ২/৬৪৮-৫২)। চতুর্থবারে শাম দেশের একদল খ্রিষ্টান মদীনায় আসার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু মুসলিম সৈন্যরা তাদের আটক করে ফেলে (রিহলাতু ইবনুয যুবায়ের ৫৭৮ হিজরীর ঘটনাবলী, ৩৪-৩৫ পৃঃ)।  পঞ্চমবারে চল্লিশ জনের একদল শামীয় শী‘আ রাফেযী রাতের বেলা মসজিদে নববীর বাবুস সালাম দিয়ে আবূবকর ও ওমর (রাঃ)-এর লাশ চুরি করার লক্ষ্যে গর্ত করার যন্ত্রপাতি সহকারে প্রবেশ করলে উছমানী মিহরাবের নিকট মাটি ফেটে যায় এবং যমীন তাদেরকে সব কিছু সহ গিলে ফেলে (অফাউল অফা ২/৬৫৩)

প্রশ্ন (২৩/৩০৩) : স্ত্রীকে ছালাত আদায়, পর্দা সহ শরী‘আত সম্মতভাবে চলার নির্দেশ দিলেও সে তা মেনে চলছে না। এতে স্বামী কি গোনাহগার হবে? এক্ষণে তার করণীয় কি?

-তানহা আযীমা, সিলেট।

উত্তর : এক্ষেত্রে তাকে নছীহত করা ওয়াজিব (ত্বো-য়াহা ১৩২, তাহরীম ৬)। নছীহত করার পর অবাধ্য হলে স্বামী গোনাহগার হবেন না। স্ত্রীকে বারবার উপদেশ দিবে। প্রয়োজনে বিছানা পৃথক করবে। এরপরেও না মানলে তালাক দিবে (তালাক ১)

প্রশ্ন (২৪/৩০৪) : অন্যের নিকট থেকে হারাম অর্থ ঋণ নেওয়া যাবে কি? হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ স্বয়ং হারাম কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মাহী রাহাত, ঢাকা।

উত্তর : বিনা সূদে কর্যে হাসানা হিসাবে অন্যের নিকট থেকে যেকোন অর্থ ঋণ নেওয়া যাবে। হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ কেবল উপার্জনকারীর জন্য হারাম। উপার্জনকারীর নিকট থেকে বৈধ পন্থায় গ্রহণকারী এর জন্য দায়ী হবে না। যেমন রাসূল (ছাঃ) ইহূদীদের সাথে লেনদেন করতেন, যদিও তারা সূদ-ঘুষে অভ্যস্ত ছিল (উছায়মীন, তাফসীর সূরা বাক্বারাহ ৫৭ আয়াত ১/১৯৮)

প্রশ্ন (২৫/৩০৫) : কিয়ামত সংঘটিত হবে মাগরিবের ছালাতের সময়, সেজন্য মাগরিবের ছালাত এগিয়ে দেওয়া হয়েছে’ -এ বক্তব্যের কোন ভিত্তি আছে কি?

-ফয়ছাল, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। তবে জুম‘আর দিনে ক্বিয়ামত হবে মর্মে ছহীহ হাদীছ রয়েছে (আবুদাঊদ হা/১০৪৬, নাসাঈ হা/১৪৩০)

প্রশ্ন (২৬/৩০৬) : মিসওয়াক সহ ছালাত আদায় মিসওয়াক বিহীন সত্তরবার ছালাতে আদায়ের চেয়েও অধিক নেকীপূর্ণ। উক্ত বক্তব্যের কোন ভিত্তি আছে কি?

-নাজমুল হাসান, কুমিল্লা।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছগুলি যঈফ এবং জাল (যঈফুল জামে‘ হা/৩১২৭, ৩১২৮, ৩৫১৯)

প্রশ্ন (২৭/৩০৭) : দু’জন মুসলিম ছেলে-মেয়ে পরস্পরকে গভীরভাবে ভালবাসতো। পরে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক্ষণে তারা কি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে?

-আমীর হামযা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : বেগানা নারী ও পুরুষের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হারাম। তবে পারস্পরিক অবৈধ সম্পর্কের কারণে বিবাহ সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং এখন তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় কোন বাধা নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা ভরণ-পোষণ দানে সক্ষম, তারা বিবাহ কর। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে অধিক অবনতকারী ও গুপ্তাঙ্গের হেফাযতকারী’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩০৮০)

প্রশ্ন (২৮/৩০৮) : শেষ যামানায় হযরত ঈসা (আঃ) আগমন করলে তখন কি তাঁর আনীত শরী‘আত অনুসরণ করতে হবে, না শরী‘আতে মুহাম্মাদীই অনুসৃত হবে?

-সাজেদুল ইসলাম, কালীগঞ্জ, ঢাকা।

উত্তর : আল্লাহ্ তা‘আলা শেষ যামানায় ঈসা (আঃ)-কে নবী হিসাবে নন, বরং ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসাবে প্রেরণ করবেন (বুখারী হা/২২২২, মুসলিম হা/১৫৫)। মুহাম্মাদ (ছাঃ) আগমনের মধ্যদিয়ে পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূলের আনীত শরী‘আত রহিত হয়ে গেছে (তওবা ৯/৩৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যদি আজকে মূসাও জীবিত থাকতেন, তাহলে আমার ইত্তেবা করা ব্যতীত তাঁর কোন উপায় থাকতো না (আহমাদ, মিশকাত হা/১৭৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ঈসা ইবনে মারিয়াম অবতরণ করবেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসাবে। তখন নেতা থাকবেন তোমাদের মধ্য হ’তে’। উম্মতে মুহাম্মাদীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলবেন, তোমরা একে অপরের উপর আমীর হবে। এটি এই উম্মতের জন্য আল্লাহর দেওয়া সম্মান’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫০৬-০৭)। অতএব ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে ঈসা (আঃ) দুনিয়াতে আগমন করে নতুন কোন শরী‘আত আনবেন না। বরং শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) আনীত শরী‘আতেরই অনুসরণ করবেন।

প্রশ্ন (২৯/৩০৯): প্রচলিত পীর ধরার বিষয়টি শরী‘আতসম্মত না হওয়ার কারণ কি? ছহীহ দলীল ভিত্তিক জবাবদানে বাধিত করবেন।

-আরীফুল ইসলাম

ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : মানুষ মূলতঃ পরকালে মুক্তির অসীলা হিসাবে পীর ধরে থাকে এ বিশ্বাসে যে, তারা তাদের জন্য আল্লাহর নিকটে সুফারিশ করবে (যুমার ৩)। যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস করবে, সে বড় শিরকে লিপ্ত হবে, যা মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয় ও তার সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যায় (যুমার ৬৫)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’ (গাফের ৬০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে তখন বল, আমি তার নিকটেই আছি। বান্দা যখন আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেই।  সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে’ (বাক্বারাহ ১৮৬)। আল্লাহ আমাদেরকে সরাসরি তাঁকে ডাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কারু অসীলায় ডাকার নির্দেশ দেননি। এছাড়াও ক্বিয়ামতের দিন কেউ কারু জন্য সুফারিশ করার কোনই ক্ষমতা রাখবে না আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত (বাক্বারাহ ২৫৫)। মুশরিকদের সম্বন্ধে আল্লাহ বলেন, ‘তারা উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্ত্তর, যা না তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে, না পারে কোন উপকার করতে। তারা বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুফারিশকারী মাত্র। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে আসমান ও যমীনের মাঝে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে বিষয়ে তিনি অবহিত নন ’ (ইউনুস ১৮)।

প্রশ্ন (৩০/৩১০) : হযরত আলী (রাঃ) স্বীয় খেলাফতকালে ইলাহ দাবী করায় কয়েকজন যিনদীক্বকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন মর্মে বক্তব্যটির কোন ভিত্তি আছে কি? যদি সত্য হয়, তবে বর্তমানে এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত?

-আব্দুর রাযযাক

কাহারোল, দিনাজপুর।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক (বুখারী হা/৩০১৭, ৬৯২২ তিরমিযী হা/১৪৫৮)। তারা ছিল ইহুদী থেকে আগত রাফেযী শী‘আ সাবাঈ গোষ্ঠীভুক্ত। তারা গোপনে মূর্তিপূজা করত। আলী (রাঃ) তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, আপনি আমাদের রব, খালেক ও রাযেক (পালনকর্তা, সৃষ্টিকর্তা ও রূযিদাতা)। তিনি তাদেরকে সাধ্যমত বুঝান, ধমকান ও হত্যা করার হুমকি দেন। এভাবে চতুর্থবারেও তারা তাদের ঘোষণায় অটল থাকলে এবং তওবা না করলে তিনি তাদেরকে ‘মুরতাদ’ হিসাবে এক বর্ণনায় এসেছে তাদেরকে প্রথমে হত্যা করেন ও পরে গর্তে ফেলে পুড়িয়ে দেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সরাসরি জীবন্ত গর্তে ফেলে পুড়িয়ে হত্যা করেন (ফাৎহুল বারী দ্রঃ হা/৬৯২২-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ ১২/২৮২)

মুরতাদকে পুড়িয়ে হত্যা করার ব্যাপারে ওলামায়ে সালাফের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হযরত ওমর ও ইবনে আববাস (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ পুড়িয়ে মারার বিপক্ষে মত প্রকাশ করেন। চাই সেটা কুফরীর কারণে হৌক কিংবা যুদ্ধ বা হত্যার বদলা হিসাবে হৌক। মুহাল্লাব বলেন, হাদীছে পুড়িয়ে মারার যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা হ’ল করুণা বশে। অতঃপর পক্ষের দলীল হিসাবে রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক উরানীদের উত্তপ্ত লৌহ শলাকা দিয়ে চোখ পুড়িয়ে দেওয়া, হযরত আবুবকর (রাঃ) কর্তৃক ছাহাবীগণের সম্মুখে বিদ্রোহীদের আগুনে পুড়িয়ে মারা, খালেদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) কর্তৃক একদল মুরতাদকে পুড়িয়ে মারা ইত্যাদি ঘটনা পেশ করা হয় (ফাৎহুল বারী হা/৩০১৭-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ ৬/১৭৪)

উপরোক্ত আলোচনায় দু’টি বিষয় প্রতিভাত হয় : (১) এধরনের যেকোন শাস্তি দায়িত্বশীল সরকার আদালতের মাধ্যমে দিতে পারে। অন্য কোন ব্যক্তি বা দল নয়। (২) পাপের ধরন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে। ইসলামী দন্ডবিধি সকল যুগের জন্য প্রযোজ্য এবং কল্যাণকর। এটি মুমিনের জন্য পাপমোচনকারী এবং আখেরাতে উপকারী (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৮)। সর্বোপরি এগুলি  সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান উপায়।

প্রশ্ন (৩১/৩১১) : জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীকে সরাসরি তালাক না দিয়ে কাযী অফিসের মাধ্যমে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিবাহ করেছে। উক্ত তালাক শুদ্ধ হয়েছে কি? উক্ত স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ আছে কি?

-আব্দুর রহমান, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : তালাক শুদ্ধ হয়েছে। তবে তা এক তালাক রাজঈ হিসাবে গণ্য হবে (মুসলিম হা/১৪৭২, আবুদাঊদ হা/২১৯৬)। অর্থাৎ ইচ্ছা করলে ইদ্দতের মধ্যে তাকে ফিরিয়ে নিতে পারবে। আর ইদ্দত অতিক্রান্ত হলে নতুনভাবে বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিবে (দ্রঃ ‘তালাক ও তাহলীল’ বই পৃঃ ৪৯-৫১)

প্রশ্ন (৩২/৩১২) : কোন মহিলা যদি জান্নাতে তার স্বামীর সাথে থাকার ইচ্ছা করে তার জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করা ঠিক হবে কি? নাপাক অবস্থায় দো‘আ-দরূদ সহ কুরআন পাঠ করা যাবে কি?

-রেবেকা সুলতানা

কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : নিরাপদ ও ইসলামী জীবন যাপনের জন্য বিধবা মহিলাদের দ্বিতীয় বিবাহ করাই উত্তম। উপরন্তু কেউ জানে না কে জান্নাতী বা জাহান্নামী হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল (মুসলিম হা/২৮১৬, মিশকাত হা/২৩৭২)। ‘স্ত্রী তার শেষ স্বামীর সাথে জান্নাতে থাকবে’ মর্মে যে হাদীছ (ত্বাবারাণী, বায়হাক্বী, ছহীহাহ হা/১২৮১) বর্ণিত হয়েছে, তার অর্থ এটা নয় যে, দ্বিতীয় স্বামী জান্নাতী না হ’লে স্ত্রী জান্নাতী হবে না। বরং যে স্বামী জান্নাতী হবে, সেই স্বামীর সাথে স্ত্রী জান্নাতে থাকতে পারবে। উভয় স্বামী জান্নাতী হলে স্ত্রী যাকে চাইবে, তার সাথে থাকতে পারবে (হা-মীম সাজদাহ ৩১। আল্লাহ সেদিন বলবেন, তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীগণ জান্নাতে প্রবেশ কর খুশী মনে’ (যুখরুফ ৭০)

নাপাক অবস্থায় দো‘আ দরূদ সহ স্পর্শ না করে কুরআন পাঠ করতে কোন বাধা নেই। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৫৬)

প্রশ্ন (৩৩/৩১৩): সহশিক্ষা রয়েছে এরূপ প্রতিষ্ঠান সমূহে পড়াশুনা করা যাবে কি?

-সাজেদুর রহমান

বালুহাটা, সারিয়াকান্দী, বগুড়া।

উত্তর : প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের একসাথে পড়াশুনা করা সম্পূর্ণরূপে শরী‘আতবিরোধী কাজ। এছাড়াও এটি মানুষের স্বভাব ধর্মের বিরোধী এবং পারস্পরিক নীতিবোধের জন্য চরম ক্ষতিকর। আধুনিক বংশধরগণের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হ’ল প্রচলিত সহশিক্ষা ব্যবস্থা। অতএব সর্বতোভাবে একে পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে। বাধ্যগত অবস্থায় কোন ছেলে বা মেয়েকে যদি এরূপ করতে হয়, তাহলে তাকে পূর্ণ পর্দা ও তাক্বওয়া বজায়  রেখে চলতে হবে। তবে জ্ঞানার্জন থেকে বিরত থাকা যাবে না। কারণ জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য ফরয (ইবনু মাজাহ হা/২২৪, মিশকাত হা/২১৮)। 

প্রশ্ন (৩৪/৩১৪): কি কি কারণে ইবাদত কবুল হয় না।   বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-যাকির আহমাদ

গাড়াবাড়ী কলেজ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : ইবাদত কবুল হওয়ার মৌলিক শর্ত ৩টি : (১) আক্বীদা ছহীহ হওয়া। অর্থাৎ শিরকবিমুক্ত নির্ভেজাল তাওহীদ বিশ্বাসী হওয়া (কাহফ ১১০) (২) তরীকা ছহীহ হওয়া। অর্থাৎ রাসূল (ছাঃ)-এর ছহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া (মুসলিম হা/১৭১৮)। (৩) ইখলাছপূর্ণ হওয়া (যুমার ১১)। এছাড়া হাদীছে খাদ্য-পানীয় ও পোষাক হালাল হওয়াকে ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত বলা হয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬০)

প্রশ্ন (৩৫/৩১৫) : উটের গোশত ভক্ষণ করলে ওযূ নষ্ট হওয়ার কারণ কি?

-সোহাইল আহমাদ

পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : প্রথমতঃ এ ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৫)। অতএব এরূপ কোন নির্দেশের ক্ষেত্রে মুমিন নারী-পুরুষের প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই (আহযাব ৩৬)। দ্বিতীয়তঃ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, উট শয়তান থেকে সৃষ্টি হয়েছে (ইবনু মাজাহ হা/৭৬৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, প্রত্যেক উটের পৃষ্ঠে শয়তান থাকে। সুতরাং তোমরা তাতে আরোহণের সময় বিসমিল্লাহ বল (আহমাদ; ছহীহাহ হা/২২৭১)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ বলেন, উটের গোশত ভক্ষণে মানুষের শরীরে শয়তানী প্রভাব জাগ্রত হয়। এই প্রভাবকে বিনষ্ট করার জন্য রাসূল (ছাঃ) এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/৫২৩)। শায়খ উছায়মীন বলেন, উটের গোশত দেহে স্নায়ুবিক চাপ বৃদ্ধি  করে। ওযূ করার মাধ্যমে তা হরাসপ্রাপ্ত হয় (শারহুল মুমতে‘ ১/৩০৮)

প্রশ্ন (৩৬/৩১৬) : বুখারী হা/৬৪৯৪ অনুযায়ী বর্তমান যুগের চতুর্মুখী ফেতনা থেকে মুক্ত থাকার জন্য মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করে ইবাদত-বন্দেগীতে সময় কাটানোই কি জান্নাত লাভের সর্বোত্তম পন্থা বলে গণ্য হবে না?

-তরীকুল ইসলাম

সুরিটোলা, ঢাকা।

উত্তর : মুসলিম ব্যক্তি চতুর্মুখী ফেতনার মধ্য থেকে তার ঈমান ও দ্বীনকে রক্ষা করতে সক্ষম না হলে এবং নিরুপায় হয়ে মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করে ইবাদাত-বন্দেগীতে সময় কাটিয়ে মারা গেলে রাসূল (ছাঃ)-এর ঘোষণা অনুযায়ী অবশ্যই তিনি জান্নাত লাভে ধন্য হবেন। কিন্তু সামর্থ্য ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব পালন না করে মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করলে কিয়ামতের দিন তাকে এজন্য জবাবদিহি করতে হবে। জনৈক ব্যক্তি এরূপ করতে চাইলে রাসূল (ছাঃ) তাকে নিষেধ করে বলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা গৃহে বসে ৭০ বছর ইবাদত করার চেয়ে উত্তম (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩৮৩০)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! তোমরা অবশ্যই ভালো কাজের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে। নতুবা অনতিবিলম্বে আল্লাহ তা‘আলা নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের উপর আযাব প্রেরণ করবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর নিকট দো‘আ করবে কিন্তু তা কবুল করা হবে না’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১৪০)

প্রশ্ন (৩৭/৩১৭) : আমার তিনটি সন্তানই সিজারের মাধ্যমে হওয়ায় চতুর্থ সন্তান নেওয়া স্ত্রীর জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু অসাবধানতাবশতঃ বর্তমানে সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এক্ষণে এমআর (গর্ভপাত) করা কি জায়েয হবে? কোন কোন আলেম বলেছেন, ৪ মাস অতিক্রান্ত হলে গর্ভপাত করা যাবে না। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-ইদরীস, মিরপুর, ঢাকা

উত্তর : একাধিক অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মতে যদি মায়ের জীবনের জন্য হুমকি থাকে, তাহ’লে গর্ভস্থিত ভ্রূণ ফেলে দেয়া জায়েয। অন্যথায় শরী‘আতের দৃষ্টিতে গর্ভপাত করা হারাম (বাক্বারাহ ২০৫)। তবে চার মাস অতিক্রান্ত হ’লে আল্লাহর উপর ভরসা করে ধৈর্য্যধারণ করাই উত্তম।  

প্রশ্ন (৩৮/৩১৮) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, একদল আলেম ক্বিয়ামতের দিন তাদের নাড়িভুঁড়ির চারপাশে ঘুরতে থাকবে, যারা জনগণকে যা উপদেশ দিত নিজেরা তা মেনে চলত না। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?

-মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম

ইসলামপুর, পাবনা।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে এনে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আগুনে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যাবে। তখন সে ঐ নাড়িভুঁড়ির চতুষ্পার্শ্বে ঘুরতে থাকবে। যেমনভাবে গাধা ঘানির চতুষ্পার্শ্বে ঘুরে থাকে। এহেন অবস্থাদৃষ্টে জাহান্নামবাসীরা তার চারপাশে একত্রিত হবে ও তাকে লক্ষ্য করে বলবে, হে অমুক! তোমার এ কী দশা? তুমি না সর্বদা আমাদেরকে ভাল কাজের উপদেশ দিতে ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে? তখন লোকটি বলবে, আমি তোমাদেরকে ভাল কাজের উপদেশ দিতাম, কিন্তু নিজে তা করতাম না। আমি তোমাদেরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতাম, কিন্তু আমি নিজে সে কাজ করতাম’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৯ ‘সৎ কাজের নির্দেশ’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৯/৩১৯) : দ্বিতীয় সিজদার আগে ও পরে হাত উত্তোলন করা যাবে কি? 

-আনোয়ার পাশা

ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাতের মধ্যে চারটি স্থানে রাফউল ইয়াদাইন বা হাত উত্তোলন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাকবীরে তাহরীমা, রুকূতে যাওয়া, রুকু হ’তে ওঠা এবং দ্বিতীয় রাক‘আতের পর তৃতীয় রাক‘আতে ওঠার সময়। তিনি সিজদার আগে ও পরে হাত উত্তোলন করতেন না (বুখারী হা/৭৩৮)। হযরত আলী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন যে রাসূল (ছাঃ) বসা অবস্থায় কখনো হস্ত উত্তোলন করতেন না (আবূদাউদ হা/৭৪৪, তিরমিযী হা/৩৪২৩)

প্রশ্ন (৪০/৩২০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, হযরত খাদীজা (রাঃ) এবং ফাতিমা (রাঃ)-এর জানাযা পড়া হয়নি। এর সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুজাহিদুল ইসলাম

চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর: খাদীজা (রাঃ)-এর জানাযা পড়া হয়নি কথাটি সঠিক। কারণ তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন হিজরতের তিন বৎসর পূর্বে। আর জানাযার বিধান নাযিল হয়েছিল মদীনায় প্রথম হিজরীতে। ফাতিমা (রাঃ)-এর জানাযা পড়া হয়নি মর্মে কথাটি সঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ইন্তেকালের ৬ মাস পর তিনি মারা যান। তাঁর জানাযা পড়িয়েছিলেন তাঁর স্বামী হযরত আলী (রাঃ) (বুখারী হা/৪২৪০, মুসলিম হা/১৭৫৯)। রাত্রি বেলায় বাক্বীঊল গারক্বাদে তাকে দাফন করা হয় (হাকেম হা/৪৭৬৪)। ফাতেমা (রাঃ)-এর কবর থাকার কারণে শী‘আরা উক্ত গোরস্থানকে জান্নাতুল বাকী‘ বলে, যা ঠিক নয়।



***