প্রবন্ধ

বিদ‘আত ও তার ভয়াবহতা

মূল : মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন

অনুবাদ : আব্দুর রহীম বিন আবুল কাসেম

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

আপনি এমন সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আশ্চার্যান্বিত হবেন, যারা রাসূল (ছাঃ)-এর নিম্নোক্ত বাণী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। إِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكٌلَّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ ‘ধর্মের নামে নতুন সৃষ্টি হ’তে সাবধান। কেননা প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে নিয়ে যাবে’।[1]

তারা আরো জানে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী كُلَّ بِدْعَةٍ ‘সকল বিদ‘আত’ বাক্যাংশটি পূর্ণাঙ্গতা জ্ঞাপক, ব্যাপক, পরিব্যাপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক অর্থবাচক শব্দ كُلَّ দ্বারা পরিবেষ্টিত। আর যিনি এই ব্যাপক অর্থবাচক শব্দ উল্লেখ করেছেন তিনি (ছাঃ) এর মর্ম ভাল করে জানতেন। তিনি ছিলেন সৃষ্টি জগতের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী এবং সৃষ্টিজগতের মধ্যে সৃষ্টির অধিক কল্যাণকামী। তিনি এমন কোন বক্তব্য দিতেন না, যার অর্থ-উদ্দেশ্য থাকত না। তাই যখন তিনি বলেছিলেন, كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ ‘প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’, তখন তিনি জানতেন যা বলছিলেন। আর তিনি যা বলছিলেন তার অর্থও জানতেন। তাঁর এই বাণী জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ উপদেশ রূপেই তাঁর মুখ থেকে বের হয়েছিল।

যখন উল্লিখিত বাক্যে এই তিনটি বিষয় পূর্ণ হ’ল (১) ইচ্ছা ও কল্যাণ কামনার পূর্ণতা (২) বিবরণ ও বিশুদ্ধতার পূর্ণতা এবং (৩) জ্ঞান ও অবগতির পূর্ণতা, তখন তা প্রমাণ করে যে, সেখানে যে অর্থ হওয়া যথার্থ ছিল তাই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। তাহ’লে এই পূর্ণাঙ্গবাচক শব্দ ব্যবহারের পরেও বিদ‘আতকে তিন প্রকার বা পাঁচ প্রকারে বিভক্ত করা কি ঠিক হবে? এটা কখনোই ঠিক হবে না। আর কিছু আলেম দাবী করে যে, ‘বিদ‘আতে হাসানা’ নামে একটি বিদ‘আত আছে। তাদের এ দাবী দু’টি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়।

(১) কর্মটি আসলে বিদ‘আত নয়, কিন্তু সে এটাকে বিদ‘আত ধারণা করে।

(২) সেটা মূলতঃ বিদ‘আত ও ঘৃণিত বিষয়। কিন্তু সে তার খারাবী সম্পর্কে অবগত নয়।

সুতরাং যে বিদ‘আতকে হাসানা দাবী করা হবে এটাই তার বিপক্ষে উত্তর। এর উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, আমাদের হাতে রাসূল (ছাঃ)-এর মুখনিঃসৃত ধারাল তরবারী সদৃশ্য বাণী كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ ‘প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’থাকা অবস্থায় বিদ‘আতীদের জন্য এ কথা বলার কোন সুযোগ নেই যে, বিদ‘আতের একটা প্রকার হ’ল বিদ‘আতে হাসানাহ। এই ধারাল তরবারীটি রিসালাত ও নবুওয়াতের কারখানায় নির্মিত হয়েছে। কোন দুর্বল কারখানায় নির্মিত হয়নি। আর এ অলংকারপূর্ণ রূপদান করেছেন স্বয়ং নবী (ছাঃ)। সুতরাং যার হাতে এরূপ ধারাল তরবারী আছে, বিদ‘আতে হাসানাহ বলে কেউ তার মুকাবেলা করতে সক্ষম হবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ ‘প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’।

আমি যেন অনুভব করছি যে, আপনাদের অন্তরে একটা প্রশ্ন উঁকি দিয়ে বলছে, সত্যের অনুগামী আমীরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্ত্বাবের ব্যাপারে আপনি কি বলবেন, যখন তিনি উবাই ইবনে কা‘ব ও তামীম আদ-দারীকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা যেন রামাযান মাসে লোকদেরকে তারাবীহর ছালাত জামা‘আতের সাথে পড়ায়। অতঃপর যখন লোকেরা তাদের ইমামতিতে জামা‘আতে তারাবীহ ছালাত আদায় করছিল, তখন তিনি বের হয়ে বলেছিলেন, نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ، وَالَّتِى يَنَامُوْنَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِىْ يَقُوْمُوْنَ ‘এ নতুন পদ্ধতিটি কতইনা সুন্দর! আর যারা এ ছালাত হ’তে ঘুমাচ্ছে তারা এই ছালাতে (বিচ্ছিন্নভাবে) দন্ডায়মানদের থেকে উত্তম’।[2]

দুই ভাবে এর উত্তর প্রদান করা যায়-

(১) কোন মানুষের জন্য কারো কোন কথা দ্বারা রাসূল (ছাঃ) -এর বাণীর বিরোধিতা করা বৈধ নয়। এমনকি নবী (ছাঃ)-এর পরে উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবূবকর, উম্মতের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ওমর, উম্মতের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ওছমান ও উম্মতের চতুর্থ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আলী (রাঃ)-এর উক্তির মাধ্যমেও নয়। তারা ব্যতীত অন্য কারো উক্তির দ্বারাও রাসূল (ছাঃ)-এর উক্তির বিরোধিতা করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَلْيَحْذَرِ الَّذِيْنَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ ‘সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর মর্মন্তুদ শাস্তি’ (নূর ২৪/৬৩)

ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, أتدري ما الفتنة؟ الفتنة الشرك لعله إذا رد بعض قول النبي صلى الله عليه وسلّم أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك ‘তুমি কি জান ফিতনা কি? ফিতনা হ’ল শিরক। সম্ভবত কেউ যখন রাসূল (ছাঃ)-এর কোন হাদীছ প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার হৃদয়ে সৃষ্টি হয় ভ্রষ্টতা। ফলে সে ধ্বংস হয়ে যায়’।[3]

ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلّم وتقولون قال أبو بكر وعمر ‘আশংকা হয় যে, আকাশ থেকে তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করা হবে। আমি বলছি যে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আর তোমরা বলছ, আবূবকর ও ওমর (রাঃ) বলেছেন।[4]

(২) আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, আমীরুল মুমিনীন ওমর (রাঃ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর বাণীকে সম্মান করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক কঠোর ছিলেন। তিনি আল্লাহর নাযিলকৃত দন্ডবিধি সম্পর্কে অবগতির ব্যাপারে প্রসিদ্ধ ছিলেন। এমনকি তিনি আল্লাহর বাণীর নিকট আত্মসমপর্ণকারী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। আর মোহরের সীমা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে অভিযোগ উপস্থাপনকারিনী নারীর ঘটনাটি যদি ছহীহ হয়, যেটি অনেকের কাছেই অপরিচিত ছিল। মহিলাটি আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী দ্বারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَكَيْفَ تَأْخُذُوْنَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُم مِّيْثَاقاً غَلِيْظًا ‘আর কিরূপে তোমরা ওটা গ্রহণ করবে যখন তোমরা একে অপরের সঙ্গে সংগত হয়েছ এবং তারা তোমাদের নিকট হ’তে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়েছে’ (নিসা ৪/২১)

মোহরের সীমা নির্ধারণ করার যে ইচ্ছা ওমর (রাঃ) পোষণ করেছিলেন এ আয়াত শ্রবণ করে তা থেকে বিরত থাকলেন। কিন্তু এ ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে সমালোচনা আছে। তবে বর্ণনার উদ্দেশ্য হ’ল যে, ওমর (রাঃ) আল্লাহর সীমার নিকট আত্মসমপর্ণকারী ছিলেন, সীমালংঘনকারী ছিলেন না। সুতরাং ওমর (রাঃ)-এর ক্ষেত্রে একথা বলা অনুচিত যে, তিনি মানবকুলের সর্দার মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর বাণীর বিরোধিতা করে কোন বিদ‘আত সম্পর্কে বলবেন نعمت البدعة هذه (এটা উত্তম বিদ‘আত)? আর এ বিদ‘আত অর্থ হবে, রাসূল (ছাঃ) كل بدعة ضلالة ‘সকল বিদ‘আত ভ্রষ্টতা’[5] বলে যে বিদ‘আতকে বুঝিয়েছিলেন তা? বরং উচিৎ হবে ওমর (রাঃ) যে বিদ‘আত সম্পর্কে نعمت البدعة (উত্তম বিদ‘আত) বলেছেন তাকে অন্য একটা বিদ‘আতের উপর অবতরণ করানো। অবশ্যই সেটা রাসূল (ছাঃ) كل بدعة ضلالة (প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা) বলে যে বিদ‘আতের কথা বলেছেন তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ ওমর (রাঃ)-এর نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ (এটা কতইনা উত্তম বিদ‘আত) দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন যে, সকল মানুষকে একই ইমামের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করা। কারণ তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আর রামাযান মাসে ক্বিয়ামুল লাইল পালন করার বিধান ছহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ رضى الله عنها أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى ذَاتَ لَيْلَةٍ فِى الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ، ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ، ثُمَّ اجْتَمَعُوْا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ قَدْ رَأَيْتُ الَّذِىْ صَنَعْتُمْ وَلَمْ يَمْنَعْنِى مِنَ الْخُرُوْجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّىْ خَشِيْتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ فَتَعْجِزُوْا عَنْهَا-

‘আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদে এক রাত্রিতে (তারাবীহ) ছালাত আদায় করলেন। তাঁর সাথে কিছু মানুষও ছালাত আদায় করল। অতঃপর পরবর্তী দিনও তিনি তারাবীহ ছালাত আদায় করলেন। এতে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল। অতঃপর ৩য় বা ৪র্থ রাত্রিতে লোকেরা সমবেত হ’ল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদের নিকট বের হ’লেন না। সকাল বেলায় তিনি বললেন, তোমরা যা করেছ আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু তোমাদের উপর ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকা ব্যতীত অন্য কোন কারণ আমাকে তোমাদের নিকট বের হ’তে বাধা দেয়নি। কারণ (ফরয হয়ে গেলে) তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হবে’।[6]

সুতরাং রামাযান মাসে জামা‘আতে তারাবীহর ছালাত আদায় রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত। ওমর (রাঃ)-এর নাম বিদ‘আত বলেছেন এ দৃষ্টিকোণ থেকে যে, যখন রাসূল (ছাঃ) তারাবীহ জামা‘আতে পড়া থেকে বিরত থাকলেন, তখন লোকেরা মসজিদে এসে একাকী, দু’জন মিলে, তিনজন মিলে বা ছোট ছোট বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ছালাত আদায় করছিল। ওমর (রাঃ) তার সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লোকদেরকে এক ইমামের নেতৃত্বে জমা করার কথা ভাবলেন। সুতরাং ওমর (রাঃ)-এর এ কাজটি লোকদের পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে ছালাত আদায় করার দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ‘আত। এটা মূলতঃ বিদ‘আতে ইযাফিয়াহ (স্থান, সময় ও পদ্ধতিগত বিদ‘আত)। এটা সাধারণ নতুন কোন বিদ‘আত ছিল না, যেটিকে ওমর (রাঃ) দ্বীনের মধ্যে সৃষ্টি করেছিলেন। কেননা স্বয়ং রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে এ সুন্নাত বিদ্যমান ছিল। এটা অবশ্যই সুন্নাত। কিন্তু রাসূল (ছাঃ)-এর সময়ে এর প্রচলন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে ওমর (রাঃ) যেই সুন্নাতকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন।

বিদ‘আতীরা ওমর (রাঃ)-এর উক্ত কথার উপর নির্ভর করে এমন কোন ফাঁক-ফোকর পাবে না যার মাধ্যমে তাদের বিদ‘আতী কোন কাজকে ভাল মনে করবে।

কোন প্রশ্নকারী বলতে পারে, এমন কিছু নতুন বিষয় রয়েছে যা মুসলিম সমাজ গ্রহণ করেছে এবং তার উপর আমল করছে। অথচ সেগুলো রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে পরিচিত ছিল না। যেমন মাদরাসা নির্মাণ, গ্রন্থ রচনা প্রভৃতি। এগুলিকে মুসলিম সমাজ ভাল বলে গ্রহণ করেছে ও তার উপর আমল করেছে এবং তারা এগুলোকে উত্তম কাজ হিসাবে গণ্য করেছে। তাহ’লে আপনি এসকল কাজ যার উপর মুসলিম সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং মুসলমানদের নবী ও বিশ্বপ্রতিপালকের নবী (ছাঃ)-এর বাণী كل بدعة ضلالة (সকল বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা)-এর মধ্যে কিভাবে সমন্বয় সাধন করবেন?

উত্তরে আমরা বলব, বাস্তবে এগুলো কোন বিদ‘আতের পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং এটা আইনসিদ্ধ (শরী‘আত সম্মত) কাজের একটা মাধ্যম। আর মাধ্যম সমূহ স্থান ও কালের আবর্তনে ভিন্ন হয়ে থাকে। আর (প্রসিদ্ধ) কায়েদা হ’ল, মাধ্যমগুলোর বিধান উদ্দেশ্যগুলোর মতো হয়ে থাকে। কাজেই শরী‘আত সম্মত বিষয়ের মাধ্যমগুলো বৈধ এবং শরী‘আত বিরোধী মাধ্যমগুলো অবৈধ। বরং হারাম হওয়ার মাধ্যমগুলো হারামই।

আর কোন ভাল কাজ যখন খারাপ বিষয়ের মাধ্যম হবে তখন সেটা খারাপ এবং নিষিদ্ধ। আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী মনোযোগ দিয়ে শুনুন- وَلاَ تَسُبُّواْ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ فَيَسُبُّواْ اللهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ ‘আল্লাহকে ছাড়া যাদেরকে তারা ডাকে তাদেরকে তোমরা গালি দিও না। কেননা তারা সীমালংঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিবে’ (আন‘আম ৬/১০৮)। মুশরিকদের ইলাহগুলিকে গালি দেওয়া সীমালংঘন নয়, বরং সত্য ও উপযুক্ত। কিন্তু আল্লাহকে গালি দেওয়া সীমালংঘন ও যুলুম। কিন্তু মুশরিকদের ইলাহগুলিকে গালি দেওয়ার মত প্রশংসিত কাজ যখন আল্লাহকে গালি দেওয়ার মত ঘৃণিত কাজের কারণ হয়ে গেল, তখন সেটা (বিধর্মীদের উপাস্যকে গালি দেয়া) হারাম ও নিষিদ্ধ হয়ে গেল।

আমি এ দলীল পেশ করলাম এজন্য যে, মাধ্যম সমূহের বিধান হচ্ছে উদ্দেশ্য সমূহের মতো। অতএব মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, ইলম নিবদ্ধকরণ ও গ্রন্থ রচনা যদিও শাব্দিক অর্থে বিদ‘আত এবং এ প্রক্রিয়া বর্তমানের ধাচে রাসূল (ছাঃ)-এর আমলে ছিল না, কিন্তু এটা উদ্দেশ্য নয়; বরং এটা জ্ঞান চর্চার একটা মাধ্যম মাত্র। আর মাধ্যম সমূহের জন্য উদ্দেশ্য সমূহের বিধান প্রযোজ্য।

এ কারণে কোন ব্যক্তি যদি হারাম জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসা বা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। তবে তার ভবন নির্মাণও হারাম সাব্যস্ত হবে। আর যদি কেউ দ্বীনী জ্ঞান শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তবে তার ভবন নির্মাণ বৈধ হবে এবং শরী‘আতসম্মত হবে।

যদি কোন প্রশ্নকারী বলে, আপনি রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছটির জবাবে কী বলবেনمَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئًا  ‘যে ব্যক্তি ইসলামে একটা সুন্দর নিয়ম চালু করল (সুন্দর মৃত সুন্নাতকে জীবিত করল)। তাহ’লে সে নিজে আমল করার জন্য নেকী পাবে এবং যে তার উপর আমল করবে তার নেকীও সে পেতে থাকবে এবং তাদের নেকী হ’তে কোন কমতি করা হবে না’।[7] এখানে سن অর্থ شرع ‘চালু করল’।

উত্তরে বলা যায়, যে রাসূল (ছাঃ) مَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً হাদীছটি বলেছেন, সেই রাসূল (ছাঃ)-ই كل بدعة ضلالة   হাদীছটি বলেছেন। আর এটা অসম্ভব যে সত্যবাদী রাসূল (ছাঃ)-এর মুখ থেকে এমন কথা বের হবে, যা তাঁরই অন্য একটা বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এটাও অসম্ভব যে, কখনো রাসূল (ছাঃ)-এর দু’টি বাণীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিবে। আর এটাও অসম্ভব যে, কখনো দু’টি হাদীছ বিরোধপূর্ণভাবে একই অর্থে ব্যবহৃত হবে। যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আল্লাহর বাণী বা রাসূল (ছাঃ)-এর বাণীর মধ্যে বিরোধ আছে, সে যেন তার দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করে নেয়। কেননা এ ধারণা এসেছে তার হাদীছ বুঝার ব্যর্থতা থেকে বা মনের কুটিলতা থেকে। আল্লাহর বাণী বা রাসূল (ছাঃ)-এর বাণীর মধ্যে বিরোধ হওয়া অসম্ভব ব্যাপার। সুতরাং বিষয়টি যদি এমনই হয় তাহ’লে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, كل بدعة ضلالة مَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً   এ দুই হাদীছের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ  ‘যে ইসলামে প্রবর্তন করল’। অথচ বিদ‘আত ইসলামের কোন অংশ নয়। তিনি আরো বলেছেন, حَسَنَة (সুন্দর)। আর বিদ‘আত কখনো হাসানাহ বা সুন্দর নয়। তাছাড়া সুন্নাত ও বিদ‘আতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এর আরও একটি উত্তর হ’ল مَنْ سَنَّ -এর অর্থ হ’ল যে ব্যক্তি কোন মৃত সুন্নাতকে জীবিত করল (নতুন ভাবে চালু করল)। আর এর উপর ভিত্তি করে বলা যায়, এই সুন্নাতটি আপেক্ষিকভাবে বাড়তি। যেমন যে কোন মৃত সুন্নাতকে জীবিত করলে সেটা আপেক্ষিকভাবে বাড়তি বিদ‘আত হিসাবে গণ্য হবে।

এর তৃতীয় উত্তর হ’ল হাদীছটি বর্ণিত হওয়ার পেক্ষাপট। আর তা হ’ল একটা প্রতিনিধি দলের ঘটনা, যারা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এমন সময় আগমন করেছিল, যখন তারা অর্থনৈতিকভাবে কঠিন সংকটে ছিল। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) তাদের জন্য দান করার আহবান জানালেন। ফলে একজন আনছারী ছাহাবী থলিপূর্ণ চাঁদি হাতে নিয়ে আগমন করলেন, যা ছিল অনেক ভারী। লোকটি থলিটি রাসূল (ছাঃ)-এর সামনে রাখলে আনন্দে তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তিনি আনন্দে বলে ফেললেন, ‘যে ইসলামে একটা সুন্দর নীতিকে প্রবর্তন করল সে তার ছওয়াব পাবে এবং যে আমল করবে তার প্রতিদানও সে পাবে’।[8] এখানে السن -এর অর্থ বাস্তবায়নের দিক থেকে কোন কাজ চালু করা; বিধানগতভাবে শরী‘আতে নতুন কোন আমল প্রবর্তন করা নয়। সুতরাং من سن ... -এর অর্থ দাঁড়াল যে ব্যক্তি বাস্তবায়নের দিক থেকে তার প্রতি আমল করবে; উদ্ভাবন করবে না। কেননা শরী‘আতে নতুন বিধান প্রবর্তন করা নিষেধ।-

হে ভ্রাতৃমন্ডলী! জেনে রাখা উচিত যে, অনুসরণ ও অনুকরণ ততক্ষণ পর্যন্ত যথার্থ হবে না যতক্ষণ না আমলটি ছয়টি বিষয়ে শরী‘আতের অনুকূলে হবে।

১.  السبب বা কারণগতভাবে :

যখন মানুষ আল্লাহর এমন ইবাদত করে, যা এমন কারণের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেটা শরী‘আতের অংশ নয়, তা বিদ‘আত এবং প্রত্যাখ্যাত হবে তার উদ্ভাবনকারীর দিকে। যেমন কিছু লোক রজব মাসের ২৭ তারিখে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করে এ যুক্তিতে যে, এ রাত্রিতে রাসূল (ছাঃ)-কে মি‘রাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অতএব তাহাজ্জুদের ছালাত একটা ইবাদত। কিন্তু যখন এ কারণের সাথে তা মিলে গেল তখন সেটা বিদ‘আত সাব্যস্ত হ’ল। কেননা সে এ ইবাদতের ভিত্তি নির্মাণ করে এক কারণের উপর যা শরী‘আত দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। কারণের ক্ষেত্রে ইবাদত শরী‘আতের অনুকূলে হওয়ার জন্য এ বিবরণটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অনেক বিদ‘আত প্রকাশ পাবে, যেগুলো সুন্নাত না হওয়া সত্ত্বেও সমাজে সুন্নাত বলে গণ্য করা হয়।

(২) الجنس বা ধরনগতভাবে : ধরনের ক্ষেত্রে ইবাদত শরী‘আতের অনুকূলে হওয়া আবশ্যক। যদি মানুষ এমন পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদত করে, যার ধরন শরী‘আত সমর্থিত নয়, তাহ’লে সেটা অগ্রহণযোগ্য। যেমন কোন ব্যক্তি যদি ঘোড়া দিয়ে কুরবানী করে তাহ’লে তার কুরবানী সিদ্ধ হবে না। কেননা সে ধরনের ক্ষেত্রে শরী‘আতের বিরোধিতা করেছে।

(৩) القدر বা পরিমাণগতভাবে : মানুষ যদি ইচ্ছা করে যে তারা ফরয হিসাবে এক ওয়াক্ত ছালাত বৃদ্ধি করবে, তাহ’লে আমরা বলব যে, এটা বিদ‘আত, অগ্রহণযোগ্য। কারণ পরিমাণের ক্ষেত্রে এটা শরী‘আতের বিপরীত। আরো উত্তমভাবে বলা যায়, যদি কোন লোক যোহরের ছালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করে তাহ’লে সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে তা সিদ্ধ হবে না।

(৪) الكيفية বা পদ্ধতিগতভাবে : যদি কোন লোক ওযূ করা শুরু করে এবং প্রথমে দুই পা ধৌত করে, অতঃপর মাথা মাসাহ করে, এরপর দু’হাত ধৌত করে তারপর মুখমন্ডল ধৌত করে, তাহ’লে আমরা বলব, তার ওযূ বাতিল। কেননা সে পদ্ধতির ক্ষেত্রে শারঈ বিধানের বিপরীত করেছে।

(৫) الزمان বা সময় ও কালগতভাবে : যদি কোন ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের প্রথম দিনে কুরবানী দেয় তাহ’লে সময়ের ক্ষেত্রে শারঈ বিধানের বিপরীত হওয়ায় তার কুরবানী গ্রহণীয় হবে না। আমি শুনেছি কিছু লোক যবহের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রামাযান মাসে ছাগল যবেহ করে। এ পদ্ধতিতে এ কাজটি বিদ‘আত। কারণ কুরবানী ও আক্বীকার পশু যবেহ ছাড়া এমন কিছু নেই যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। সুতরাং ঈদুল আযহার যবহের মতো নেকী পাওয়ার বিশ্বাসে রামাযান মাসে যবেহ করলে সেটা বিদ‘আত বলে গণ্য হবে। তবে গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে করলে সেটা বৈধ হবে।

(৬) المكان বা স্থানগতভাবে : কোন ব্যক্তি যদি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ই‘তিকাফ করে, তাহ’লে তার ই‘তিকাফ শুদ্ধ হবে না। কারণ মসজিদ সমূহ ছাড়া অন্য কোথাও ই’তিকাফ বৈধ নয়। যদি কোন মহিলা বলে, আমি বাড়িতে মুছাল্লায় ই‘তিকাফ করব, তাহ’লে স্থানের ক্ষেত্রে শারঈ বিধানের বিপরীত হওয়ায় তার ই‘তিকাফ শুদ্ধ হবে না। উদাহরণত আরো বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কা‘বা তওয়াফ করার ইচ্ছা করে অতঃপর দেখে যে মাতাফ (তওয়াফ করার স্থান) ও তার আশপাশের স্থান লোকে জনাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সে যদি মসজিদের পশ্চাৎভাগে তওয়াফ করা শুরু করে তাহ’লে তার তওয়াফ শুদ্ধ হবে না। কারণ তওয়াফের স্থান হ’ল কা‘বা ঘর। আল্লাহ তা‘আলা তার খলীল ইবরাহীম (আঃ)-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِيْنَ ‘আর আপনি তওয়াফকারীদের জন্য আমার ঘরকে পবিত্র করুন’ (হজ্জ ২২/২৬)

দু’টি শর্তের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া ছাড়া কোন ইবাদত সৎকর্ম হ’তে পারে না। প্রথম শর্ত হ’ল ইখলাছ বা নিষ্ঠা। দ্বিতীয় শর্ত হ’ল আনুগত্য বা অনুসরণ। তবে পূর্বোল্লিখিত ৬টি বিষয় ব্যতীত অনুসরণ যথার্থ হবে না।

আমি এ সকল লোকদেরকে বলব, যাদেরকে বিদ‘আতের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে এবং যাদের উদ্দেশ্য কখনো সৎ হ’তে পারে ও যারা কল্যাণ কামনা করে, যখন আপনারা কল্যাণ কামনা করেন তখন আল্লাহর কসম করে বলছি, সালাফে ছালেহীনের পথের চেয়ে অন্য কোন উত্তম পথের কথা আমাদের জানা নেই।

হে ভ্রাতৃমন্ডলী! আপনারা রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতকে শক্তভাবে মাঢ়ির দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে ধরুন! সালাফে ছালেহীনের রেখে যাওয়া পথে পরিচালিত হৌন এবং সে পথের উপর অটল থাকুন, যে পথের উপর তাঁরা অটল ছিলেন। আর লক্ষ্য করে দেখুন তো, ঐ পথে পরিচালিত হ’লে আপনাদের কোন ক্ষতি হচ্ছে কি না?

আমার যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথা বলা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়ে বলছি, আপনি বিদ‘আতে আসক্ত ব্যক্তিদের অনেককে অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে সাব্যস্ত শারঈ বিধানাবলী ও সুন্নাত বাস্তবায়নে একেবারে দুর্বল-নিথর পাবেন। ফলে যখন তারা এই সমস্ত বিদ‘আতী কাজ হ’তে ক্ষান্ত হয়, তখন সাব্যস্ত সুন্নাত সমূহকে দুর্বলতার সাথে গ্রহণ করে।

এগুলো হৃদয়ে বিদ‘আতের কুপ্রভাবের ফলাফল। আর অন্তরে বিদ‘আতের ভয়াবহতা ব্যাপক এবং দ্বীনের মধ্যে এর ভয়াবহতা বিশাল। যখন কেউ আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে কোন বিদ‘আত উদ্ভাবন করে তখন সে অনুরূপ বা তার থেকে শক্তিশালী সুন্নাতকে ধ্বংস করে দেয়। এমনটাই বলেছেন পূর্ববর্তী কতিপয় আলিম।

কিন্তু মানুষ যখন অনুভব করবে যে, সে একজন অনুসারী, শরী‘আত উদ্ভাবনকারী নয়, তখন এর দ্বারা তার পূর্ণ ভয় ও বিনয়-নম্রতা অর্জিত হবে। অর্জিত হবে প্রতিপালকের প্রতি ইবাদত বা দাসত্ব এবং পরহেযগারদের ইমাম, নবীদের নেতা ও বিশ্ব প্রতিপালকের রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য।

আর আমি ঐ সকল মুসলিম ভাইদের প্রতি কিছু উপদেশ পেশ করছি, যারা বিদ‘আত উদ্ভাবন করে সেটাকে ভাল (حسنة) মনে করে, সেটা আল্লাহর সত্তা, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে হোক বা রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর সম্মানের ক্ষেত্রে হোক, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং বিদ‘আত উদ্ভাবন করা থেকে বিরত থাকে। আর তারা যেন আনুগত্যের উপর তাদের কর্ম সমূহের ভিত তৈরী করে, বিদ‘আতের উপর নয়। নিষ্ঠার উপর, শিরকের  উপর নয়। সুন্নাতের উপর বিদ‘আতের উপর নয়, রহমান তথা আল্লাহর পসন্দের উপর, শয়তানের পসন্দের উপর নয়। আর তারা যেন লক্ষ্য করে এর মাধ্যমে তাদের অন্তরে নিরাপত্তা, জীবনী শক্তি, অন্তরের প্রশান্তি ও (হেদায়াতের) মহা আলোর কতটুকু অর্জিত হ’ল?

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন আমাদেরকে সুপথপ্রাপ্ত এবং সংস্কারক নেতা বানিয়ে দেন, আমাদের অন্তর সমূহকে ঈমান ও জ্ঞানের আলোকে আলোকিত করেন ও আমাদের জ্ঞানকে যেন আমাদের ধ্বংসের কারণ হিসাবে নির্ধারণ না করেন। তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর মুমিন বান্দাদের পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর মুত্তাক্বী বন্ধুদের ও সফলকামীদের দলভুক্ত করেন- আমীন!


[1]. আহমাদ হা/১৭২৭৪, ১৭২৭৫; আবূদাঊদ হা/৪৬০৭; তিরমিযী হা/২৬৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৪২; হাকেম ১/৯৫

[2]. বুখারী হা/২০১০ ‘তারাবীহর ছালাত’ অধ্যায়

[3]. শরহে রিয়াযুছ ছালেহীন, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৭৯; হিওয়ার মা‘আল মালেকী, ১ম খন্ড, পৃঃ ১১৯

[4]. শরহে রিয়াযুছ ছালেহীন, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৭৯; হিওয়ার মা‘আল মালেকী, ১ম খন্ড, পৃঃ ১১৯

[5]. বুখারী হা/২০১০।

[6]. বুখারী হা/২০১২; মুসলিম হা/৭৬১

[7]. মুসলিম হা/১০১৭ ‘যাকাত’ অধ্যায়

[8]. মুসলিম হা/১০১৭ ‘যাকাত’ অধ্যায়