প্রশ্ন করুন

প্রশ্নোত্তর



দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/২৮১): আদম ও হাওয়া (আঃ)-কে যখন পৃথিবীতে পাঠানো হয় তখন তারা কোন স্থানে অবতরণ করেন?
-শহীদুল্লাহ
রসূলপুর, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : তাঁদেরকে কোথায় অবতরণ করানো হয়েছিল এ মর্মে কোন স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায় না। প্রচলিত বর্ণনা সমূহের ছহীহ কোন ভিত্তি নেই।

প্রশ্ন (২/২৮২): ফরয ছালাতের শেষ বৈঠকে আত্তাহিইয়াতু, দরূদ না পড়ে কেউ যদি ঘুমিয়ে যায়, তাহ’লে তার ছালাত হবে কি?
-ফয়েয
ধামতী, মীরবাড়ী, কুমিল্লা।
উত্তর : এ অবস্থায় সালাম ফিরিয়ে ছালাত সমাপ্ত করলে তার ছালাত হয়ে যাবে। কারণ ছালাত থেকে বের হওয়ার জন্য সালাম ফিরানো আবশ্যক। আর সালামও যদি না ফিরায় তাহলে তার ছালাত হবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ছালাতের তাকবীর বললে সবকিছু হারাম হয়, আর সালাম ফিরালে সবকিছু হালাল হয় (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১২)। তাশাহহুদ ও দরূদ ব্যতীত ছালাত হলেও এগুলি পড়া যরূরী। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এগুলো নিয়মিত পড়তেন।

প্রশ্ন (৩/২৮৩) : অনেকে পবিত্র কুরআনের কসম করে থাকে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? কার নামে কসম করতে হবে?
-নাঈম
চাঁনগাও, নরসিংদী।
উত্তর : আল্লাহর নামেই কসম করতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৪০৭; আবুদাঊদ হা/৩২৪৭-৫১)রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করে সে শিরক করে (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩৪১৯)। তবে পবিত্র কুরআনেরও কসম করা যায়। কেননা কুরআন আল্লাহর কালাম (বুখারী হা/৭৪১৭-এর পূর্বের আলোচনা দ্রঃ)। আল্লাহর ছিফাত সমূহ দ্বারা কসম করা জায়েয। যেমন আল্লাহর ইযযত ও কুদরতের কসম, তাঁর কালামের কসম ইত্যাদি (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : বায়হাক্বী সুনানুল কুবরা ১০/৪১ পৃঃ, সনদ ছহীহ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১৬৭)

প্রশ্ন (৪/২৮৪) : পবিত্র কুরআনে সিজদা কয়টি? এ সিজদা কিভাবে করতে হবে?
- আবু তালিব
হরিরামপুর, বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : কুরআনে ১৫ স্থানে সিজদা আছে। সূরা হজ্জে দুই স্থানে সিজদা রয়েছে। ছালাতের সিজদার মত তাকবীর দিয়ে সিজদা করবে এবং দো‘আ পড়ার পর তাকবীর দিয়ে মাথা উঠাবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৫৯৩০; বায়হাক্বী ২/৩২৫; সনদ ছহীহ, আলবানী, তামামুল মিন্নাহ পৃঃ ২৬৯)

প্রশ্ন (৫/২৮৫) : ফরয ছালাতের এক্বামত হলে সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জাম‘আতে শরীক হতে হয়। কিন্তু ছেড়ে দেয়া সুন্নাত পড়তে হবে কি?
-সজিব
বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : পরে পড়ে নিতে হবে (মুওয়াত্ত্বা মালেক, সনদ মুরসাল ছহীহ, মিশকাত হা/৬৮৭)। তবে পূর্বের ছালাতের জন্য সে পূর্ণ নেকী পাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৮৬)। ফজরের সুন্নাত ক্বাযা হ’লে জামা‘আতে ছালাতের পরেই তা পড়া যাবে (আবুদাঊদ হা/১২৬৭; তিরমিযী হা/৪২২; ইবনে মাজাহ হা/১১৫৪; মিশকাত হা/১০৪৪)

প্রশ্ন (৬/২৮৬) : ছিয়াম পালনকারী মহিলার সূর্য ডোবার পূর্ব মুহূর্তে যদি ঋতু আসে, তাহ’লে তার ছিয়াম নষ্ট হবে কি? নষ্ট হ’লে ঐ ছিয়ামের ক্বাযা করতে হবে কি?
-তিন্নী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর : উক্ত সময়ে ঋতু শুরু হ’লে ছিয়াম বাতিল হবে এবং পরবর্তীতে তাকে ঐ ছিয়াম পালন করতে হবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ঋতু অবস্থায় আমাদেরকে ছিয়াম ক্বাযা করার এবং ছালাত ছেড়ে দেয়ার  আদেশ দেওয়া হ’ত (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩২, ‘ক্বাযা ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)। তবে ছুটে যাওয়া ছিয়ামের সে পূর্ণ নেকী পাবে। কারণ সে নেকীর আশায় ছিয়াম শুরু করেছিল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৩৭৪ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায় ৫ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৭/২৮৭) : ছালাতে দাঁড়ানোর সময় মুছল্লীর দুই পায়ের মাঝে কতটুকু ফাঁক থাকবে?
- আব্দুল খাবীর
কাঞ্চন, নারায়ণগঞ্জ।
উত্তর : কাতারে দাঁড়িয়ে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য অনুযায়ী পায়ে পা ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে যতটুকু ফাঁক রাখার প্রয়োজন হয়, ততটুকু ফাঁক রাখবে (বুখারী হা/৭২৫; আবুদাঊদ হা/৬৬২)। তাছাড়া দুই পায়ের মাঝে জুতা  জোড়া রাখা যায় এতটুকু ফাঁকা রাখার কথা হাদীছে এসেছে (আবুদাঊদ হা/৬৫৪-৫৫, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (৮/২৮৮) : মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান পা আগে ও বের হওয়ার সময় বাম পা আগে দিতে হবে মর্মে কোন ছহীহ দলীল আছে কি?
-দিদার বখশ
খানপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান পা আগে এবং বের হওয়ার সময় বাম পা আগে দিতে হবে (বায়হাক্বী ২/৪৪২; হাকেম ১/২১৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৪৭৮, সনদ হাসান)

প্রশ্নঃ (৯/২৮৯): মুসলমানের পোষাক কেমন হবে? পুরুষ ব্যক্তি লাল পোষাক পরতে পারে কি?
-সোহেল হাজারী
মণিপুর, গাযীপুর।
উত্তর : পোষাকের জন্য চারটি মূলনীতি রয়েছে। যথা- (১) পোষাক পরিধানের উদ্দেশ্য হবে দেহকে ভালভাবে ঢেকে রাখা, যাতে লজ্জাস্থান সমূহ অন্যের চোখে প্রকট হয়ে না ওঠে (২) ভিতরে-বাইরে তাক্বওয়াশীল হওয়া (৩) অমুসলিমদের সাদৃশ্য না হওয়া (৪) অপচয় ও অহংকার প্রকাশ না পাওয়া। এজন্য পুরুষ যেন সোনা ও রেশম পরিধান না করে এবং টাখনুর নীচে কাপড় না রাখে (ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ৩৬-৩৭)। হজ্জের ইহরাম ব্যতীত অন্য সময় লাল রংয়ের পোষাক পরা যাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৭৮৩ ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায় ২ অনুচ্ছেদ)। তবে সাদা পোষাক হ’ল সবচেয়ে পসন্দনীয় পোষাক। সাদা পোষাক পরতে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৩৩৭ ‘পোষাক’ অধ্যায়)

প্রশ্নঃ (১০/২৯০) : জনৈক আলেম বলেন, তিনটি নিষিদ্ধ সময়ে ক্বাযা ছালাত আদায় করা যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? কোন্ কোন্ ছালাত আদায় করা নিষিদ্ধ?
- সোহেল রানা
মনিপুর, গাযীপুর।
উত্তর : সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন ও সূর্যাস্তকালে ছালাত শুরু করা সিদ্ধ নয়। অনুরূপভাবে আছরের ছালাতের পর হ’তে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ফজরের ছালাতের পর হ’তে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোন ছালাত নেই। তবে এ সময় ক্বাযা ছালাত আদায় করা জায়েয আছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত, হা/১০৩৯-৪১, ৪৩; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ৪৫)। তাছাড়া যে কোন সময়ে ক্বাযা ছালাত আদায় করা যায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ছালাত থেকে ঘুমিয়ে গেলে বা ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই ছালাত আদায় করবে (মুসলিম, মিশকাত হা৬৮৪; বুখারী, মিশকাত হা/৬০১, ৬০২)। অনুরূপ তাহইয়াতুল মাসজিদ যেকোন সময় পড়া যাবে (বুখারী হা/৪৪৪; মিশকাত হা/৭০৪)

প্রশ্ন (১১/২৯১) : মসজিদের ইমাম বলেন, তাসবীহ দানা দ্বারা তাসবীহ গণনা করলে কোন নেকী হবে না বরং গোনাহ হবে। সুন্নাত হল আঙ্গুলে তাসবীহ গণনা করা। এ বিষয়ে জানতে চাই।
-আব্দুল আযীয
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আঙ্গুলে তাসবীহ গণনার জন্য আদেশ করেছেন। কেননা ক্বিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং তারা কথা বলবে (আবুদাঊদ হা/১৫০১; তিরমিযী হা/৩৪৮৬, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/২৩১৬)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ডান হাতে তাসবীহ গননা করতে দেখেছি (বায়হাক্বী ২/১৮৭; আবুদাঊদ হা/১৫০২)। উল্লেখ্য, দানা বা কংকর দ্বারা তাসবীহ গণনা করার বর্ণনা যঈফ (আবুদাঊদ হা/১৫০০; তিরমিযী হা/৩৫৬৮; মিশকাত হা/২৩১১; সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৩)

প্রশ্ন (১২/২৯২) : অজ্ঞাত কোন মহিলার লাশ নদীতে বা সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেলে তার জানাযা পড়া যাবে কি?
- আখতার
কানসাট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : মুসলিম প্রমাণিত না হ’লে তার জানাযা করা যাবে না। এমন লাশকে বিনা জানাযায় স্বাভাবিকভাবে দাফন করতে হবে। হযরত আলী তাঁর পিতা আবু তালেবকে তার মৃত্যুর পর রাসূল (ছাঃ)-এর হুকুমে এভাবেই দাফন করেছিলেন (আবুদাঊদ হা/৩২১৪)

প্রশ্ন (১৩/২৯৩) : জিন ও মানুষের জান কবয করেন মালাকুল মউত। কিন্তু অন্যান্য জীব জন্তুর জান কে কবয করেন?
-নাছিরুদ্দীন
বাউসা হেদাতীপাড়া, বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : অনুরূপ একটি প্রশ্নের জওয়াবে ইমাম মালেক (রহঃ) প্রশ্নকারীকে জিজ্ঞেস করেন, তাদের কি প্রাণ আছে? প্রশ্নকারী বলেন, আছে। তখন ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, মালাকুল মউত তাদের জান কবয করে। কেননা আল্লাহ বলেন, اللهُ يَتَوَفَّى الْأَنفُسَ حِيْنَ مَوْتِهَا ‘আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময়’ (যুমার ৩৯/৪২; কুরতুবী, তাফসীর সূরা সাজদাহ ১১)। অন্য আয়াতে এর ব্যাখ্যা এসেছে, تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا ‘তার প্রাণ হরণ করে আমাদের প্রেরিত দূতগণ’ (আন‘আম ৬/৬১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ফেরেশতাগণের মধ্যে মালাকুল মউতের বহু সাহায্যকারী (أعوان) রয়েছে। যারা দেহ থেকে রূহ বের করে আনে। অতঃপর হলকূমের কাছে এলে মালাকুল মউত তা কবয করে (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা আন‘আম ৬২)। আল্লাহ বলেন, হে রাসূল! আপনি বলে দিন যে, মালাকুল মউত তোমাদের জান কবয করে থাকে। যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। অতঃপর তোমরা সকলে তোমাদের পালনকর্তার নিকট ফিরে আসবে’ (সাজদাহ ৩২/১১)। এখানে সেরা সৃষ্টি হিসাবে ‘মানুষ’কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্য সকল সৃষ্টি শামিল রয়েছে। ‘মালাকুল মউত’ আযরাঈল একক ফেরেশতা হ’লেও তার সাহায্যকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ বলেন, فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمْ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ- ‘তাদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করবে...’ (মুহাম্মাদ ৪৭/২৭)। আল্লাহ ফেরেশতাদের অসীম ক্ষমতা দান করেছেন, যা মানুষের ক্ষমতার সঙ্গে তুলনীয় নয়। তারা আল্লাহর কখনো অবাধ্যতা করেন না এবং সর্বদা তাঁর হুকুম পালনে প্রস্ত্তত থাকেন (তাহরীম ৬৬/৬)। মালাকুল মউত অন্যান্য প্রাণীর জান কবয করেন না বলে যে বর্ণনা রয়েছে তা মওযূ বা জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৬৯৩)

প্রশ্ন (১৪/২৯৪) : ছহীহ বুখারীর হাদীছে রয়েছে যে, মৃতকে দাফন করে যখন লোকেরা চলে আসে তখন ঐ ব্যক্তি মানুষের পায়ের জুতার শব্দ শুনতে পায়। কিন্তু আল্লাহ বলেন, তুমি কবরবাসীকে কিছু শুনাতে পার না (ফাতির ২২)। এর সমাধান কী?
 -এমদাদ
সিংগাপুর।
উত্তর : এর সমাধান সুরা ফাতিরে ঐ আয়াতের প্রথমাংশে রয়েছে : আল্লাহ তা‘আলা বলেন: إِنَّ اللَّهَ يُسْمِعُ مَنْ يَشَاءُ وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ  ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে শ্রবণ করান। কিন্তু তুমি কবরবাসীকে শুনাতে সক্ষম নও (ফাতির ২২)। অতএব হাদীছে কবরস্থ ব্যক্তির জুতার আওয়ায শোনার যে বক্তব্য এসেছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৬), তা শুনানোর এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর এবং তিনি যখন চান তখন শুনান। অতএব অন্য কেউ তার ইচ্ছা ব্যতীত যেমন শুনাতে পারবে না, তেমনি তিনি কখন শুনাবেন সেটিও কেউ জানে না ।

প্রশ্ন (১৫/২৯৫) : ছালাতের মধ্যে সূরা বাক্বারাহ শেষে আমরা ‘আমীন’ বলে থাকি। এর দলীল জানতে চাই।
-জয়নাল মাষ্টার
রাজপাট, বাগেরহাট।
উত্তর : সূরা বাক্বারাহ শেষে ‘আমীন’ বলার পক্ষে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে ছাহাবী মু’আয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে মওকূফ সূত্রে একটি বর্ণনা পাওয়া যায় (তাফসীর ইবনে কাছীর, ২৮৬ আয়াত)। এর বর্ণনাকারী আবু ইসহাক্ব ও ছাহাবী মু‘আযের মধ্যে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি থাকায় সনদ মুনক্বাতি‘ অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ‘যঈফ’ (ঐ, মুহাক্কিক্ব)

প্রশ্ন (১৬/২৯৬) : অনেকে বলেন, পুরাতন কবরে লাশ দাফন করলে কবরের আযাব হবে না এবং তার কোন হিসাব-নিকাশও হবে না। কারণ পূর্বে যে ঐ কবরে ছিল সে তো হিসাব দিয়েই দিয়েছে। উক্ত কথাটি কি ঠিক?
- সোহেল হাজারী
তালতলী, মণিপুর, গাযীপুর।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। কেননা এক কবরে একাধিক ব্যক্তির দাফন হ’তে পারে। তাছাড়া প্রত্যেকের হিসাব পৃথক হবে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিই স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে। কেউ কারু বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমরা সবাই তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন ঐসব বিষয়ে যেসব বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে’ (আন‘আম ১৬৪)

প্রশ্ন (১৭/২৯৭) : জনৈক হিন্দু ব্যক্তির আমার কাছে কিছু টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু এখন তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার ঠিকানাও জানা নেই। এ মুহূর্তে আমার করণীয় কী।
-সৈয়দ ফয়েয
ধামতী মীরবাড়ী, কুমিল্লা।
উত্তর : মুসলিম বা অমুসলিম হোই হৌক পাওনাদারকে সাধ্যমত খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য আধুনিক মিডিয়া সমূহ ব্যবহার করতে হবে। ছাহাবী উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) ১০০ স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি একটি থলি পেয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে থলির মালিকের সন্ধানের জন্য পরপর তিনবছর চারদিকে প্রচার করতে বলেন। অতঃপর না পাওয়ায় তাঁকে উক্ত মাল ব্যবহার করার অনুমতি দেন (বুখারী হা/২৪২৬)। যায়েদ বিন খালেদ আল-জুহানী বর্ণিত হাদীছে এসেছে যে, তুমি এক বছর প্রচার কর। না পেলে তুমি তা থেকে খরচ কর। অতঃপর যদি মালিক এসে যায়, তাহ’লে তাকে তা ফেরৎ দাও (বুখারী হা/২৪৩৬)। উক্ত মাল যদি ছাগল ইত্যাদি নষ্টযোগ্য হয়, তবে তা নিজ ব্যবহারে নেওয়া যাবে। তবে নষ্ট হওয়ার পূর্বে মালিক এসে গেলে তাকে তা ফেরৎ দিতে হবে (বুখারী হা/২৪২৭)। ইবনু মাসঊদ ও ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, এক বছর প্রচার করার পর ঐ মাল ছাদাক্বা করে দিবে (ফাৎহুল বারী ৯/৩৪০ ‘তালাক’ অধ্যায়)। ওমর (রাঃ) থেকে চার প্রকার বর্ণনা এসেছে, (১) তিন বছর প্রচার করবে (২) ১ বছর (৩) ৩ মাস (৪) ৩ দিন। ইবনুল মুনযির বলেন, এর দ্বারা তিনি উক্ত মালের উচ্চমূল্য ও নিম্ন মূল্যের তারতম্য বুঝিয়েছেন’ (বুখারী হা/২৪২৬-এর ব্যাখ্যা। ফৎহুলবারী ৫/৯৬)। উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যায় যে, মালের মূল্য ও গুরুত্ব বুঝে সাধ্যমত প্রচার শেষে তা ব্যবহার করা যাবে। অথবা ছাদাক্বা করে দিবে। এরপরেও মালিক পাওয়া গেলে এবং তিনি দাবী না ছাড়লে তাকে তার মাল ফেরত দিতে হবে।

প্রশ্ন (১৮/২৯৮) : ঘর হতে বের হওয়ার সময় দরজা বা চৌকাঠে আঘাত লাগলে বলা হয় এ যাত্রা শুভ হবে না। উক্ত ধারণা কি সঠিক?
-সুরাইয়া
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : এগুলো কুসংস্কার মাত্র। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই, কোন কিছুতে অশুভ নেই, পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই এবং ছফর মাসেও কোন অশুভ নেই। তবে কুষ্ঠরোগী হতে পলায়ন কর যেমন বাঘ হতে পলায়ন কর’। একথা শুনে জনৈক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) তাহ’লে পালের মধ্যে একটা চর্মরোগী উট আসলে বাকীগুলি চর্মরোগী হয় কেন? জবাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তাহ’লে প্রথম উটটিকে চর্মরোগী বানালো কে? (বুখারী, মিশকাত হা/৪৫৭৭-৭৮ ‘চিকিৎসা ও মন্ত্র’ অধ্যায় ‘শুভ ও অশুভ লক্ষণ’ অনুচ্ছেদ-১)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরকী কাজ। তিনি বাক্যটি তিনবার বলেন। আর আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে অশুভ লক্ষণের ধারণার উদ্রেক হয় না। কিন্তু আল্লাহর উপর দৃঢ় আস্থা থাকলে আল্লাহ তা দূরীভূত করে দেন’ (আবু দাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৫৮৪)। অতএব শুভ-অশুভ লক্ষণের উপর নয়, বরং সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।

প্রশ্ন (১৯/২৯৯) : অনেককে ফজরের ছালাতের পর ‘হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম’ ও ‘হুওয়ার রাহমানুর রাহীম’ ১০০ বার করে পাঠ করতে দেখা যায়। এ সম্পর্কে শরী‘আতের দলীল জানতে চাই।
- জাফর
কোলাপাড়া, বগুড়া।
উত্তর : উল্লেখিত বাক্যাংশ দু’টি যথাক্রমে সূরা আলে ইমরান ২ ও বাক্বারাহ ১৬৩নং আয়াতের অংশ। যা নির্দিষ্টভাবে ফজর ছালাতের পর ১০০ বার করে পাঠ করার ব্যাপারে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।

প্রশ্নঃ (২০/৩০০) : খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ)-কে বিষ পান করতে দিলে তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পান করেন। ফলে কোন প্রতিক্রিয়া হয়নি। উক্ত ঘটনাটি কি সঠিক?
-মাওলানা শামসুদ্দীন সিলেটী
রসূলপুর মাদরাসা, নরসিংদী।
উত্তর : ঘটনাটি বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৬/৩৫১ পৃঃ, ১২ হিজরীর বর্ণনা, খালিদ (রাঃ)- কে ইরাক প্রেরণ শীর্ষক আলোচনা দ্রঃ; তারীখে ত্বাবারী ২/৩১৭; তারীখে দেমাশক ৩৭/৩৬৫ প্রভৃতি)। ঘটনাটি খুবই ঈমান বর্ধক এবং তা নিম্নরূপ : ইরাকের সমৃদ্ধ নগরী ‘হীরা’ অবরোধকালে সেখানকার আরব খৃষ্টান নেতা ইবনু বাক্বীলাহ সেনাপতি খালেদের নিকট নীত হন। খালেদ তার থলির মধ্যে একটা বিশেষ কৌটা পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেন? সে বলল, পরাজয়ের আশংকা দেখা দিলে ধূত হবার চাইতে আত্মহত্যা করাকেই আমি অধিক পসন্দ করি’। তখন খালেদ সেটি হাতে নিয়ে বললেন, নির্ধারিত  সময়ের পূর্বে কোন প্রাণীই মরতে পারে না। অতঃপর তিনি বলেন, বিসমিল্লাহি খায়রিল আসমা, রবিবল আরযে ওয়াসসামা, আল্লাযী না ইযাযু’রু মা‘আ ইসমিহী দা-উন, আর রহমা-নুর রহীম’। একথা শুনে অন্য সেনাপতিরা তাঁকে বিরত রাখতে দ্রুত এগিয়ে আসেন। কিন্তু তার আগেই তিনি তা গিলে ফেলেন।
এ দৃশ্য দেখে খৃষ্টান নেতা ইবনু বাক্বীলাহ বলে উঠলেন, হে আরবগণ! তোমাদের মধ্যে একজন বেঁচে থাকলেও তোমরাই বিজয়ী হবে। অতঃপর তিনি হীরাবাসীদের উদ্দেশ্যে বললেন, আজকের চাইতে স্পষ্ট সৌভাগ্যের দিন আমি দেখিনি। অতঃপর তিনি তাদেরকে আহবান করলেন এবং তারা এসে খালেদের নিকট সন্ধি প্রার্থনা করল। এভাবে বিনা যুদ্ধে জয় হ’ল (আল- বিদায়াহ... ৬/৩৫১)। এ ঘটনা সত্য হ’লে এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, বস্ত্তর নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই, আল্লাহর হুকুম ব্যতীত। যে ভাবে ইবরাহীম (আঃ)-এর জন্য আগুন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। যদিও সেটা সকলের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য নয়। কেননা আল্লাহ বলেন, তুমি আল্লাহর নিয়মের কোন ব্যতিক্রম পাবে না (ফাত্বির ৪৩)। ‘তিনি যেটা ইচ্ছা করেন, কেবল সেটাই হয়ে থাকে’ (বুরূজ ১৬)। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই করার ক্ষমতা মানুষের নেই (দাহর ৩০)

প্রশ্ন (২১/৩০১) : অনেক মসজিদে লেখা দেখা যায়, লাল বাতি জ্বললে কেউ সুন্নাতের নিয়ত করবেন না। এভাবে লেখা কি শরী‘আত সম্মত?
-সফিউদ্দীন আহমাদ
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : মসজিদে উক্ত পদ্ধতি চালু করা ঠিক নয়। কারণ কোন ব্যক্তি যদি ছালাত পড়তে থাকে আর জামা‘আতের সময় হয়ে যায় তাহলে সে হাদীছের নির্দেশ মোতাবেক ছালাত ছেড়ে দিয়ে জামা‘আতে শরীক হবে ((মুসলিম, মিশকাত হা/১০৫৮)। এতে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ ছালাতের নেকী পেয়ে যাবে (বুখারী, মিশকাত হা/২৩৭৪)। উক্ত নেকী থেকে বঞ্চিত করে লাল বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা উচিত নয়।

প্রশ্ন (২২/৩০২) : পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে বিবাহ করলে বৈধ হবে কি?
-আযীযুল হক
গন্ধর্ববাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।
উত্তর : পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া কাবীরা গোনাহ সমূহের অন্তর্ভুক্ত (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৫০)। কোন মেয়ে পিতা বা অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত বিবাহ করলে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে (আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩১৩০)। তবে সাবালক ছেলে যদি ঐরূপ বিবাহ করে তাহ’লে তা বাতিল বলে গণ্য হবে না। কিন্তু (নেককার) পিতার অবাধ্যতা করার গোনাহ থেকে সে মুক্ত হবে না।

প্রশ্ন (২৩/৩০৩) : জেনে-শুনে চুরির মাল ক্রয় করা যাবে কি?
-তানভীর
বুড়িচং, কুমিল্লা।
উত্তর : চুরি করা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৮)। জেনে শুনে চুরিকৃত বস্ত্ত ক্রয় করা পাপ কাজের সহযোগিতা করার শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, নেকী ও কল্যাণের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর না (মায়েদাহ ২)

প্রশ্ন (২৪/৩০৪) : প্রচলিত আছে কোন মহিলার ২০টি সন্তান হলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পুনরায় বিবাহ দিতে হবে। উক্ত ধারণা কি সঠিক?
-আব্দুস সাত্তার
খানপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : এটি সামাজিক কুসংস্কার মাত্র।

প্রশ্ন (২৫/৩০৫) : কী কী কারণে কাবীরা গোনাহ হয়।
-আবেজান বেগম
রাজপাট, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।
উত্তর : কবীরা গোনাহ অর্থ মহা পাপ। (১) যার শীর্ষে রয়েছে আল্লাহর সাথে শিরক করা (২) এরপরে ঐসব গোনাহ যার শাস্তি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত। যেমন হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, জুয়া, লটারী, মদ্যপান, মিথ্যা সাক্ষ্য দান ইত্যাদি (৩) যেসব পাপের জন্য আল্লাহ ও রাসূল (ছাঃ) অভিসম্পাৎ করেছেন। যেমন ঘুষ খাওয়া ও দেওয়া, হিল্লা বিয়ে করা (৪) যেসব পাপ মানুষকে অধিকতর বড় পাপে প্ররোচিত করে। যেমন নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, সব ধরনের নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা, মিথ্যা শপথ করা ইত্যাদি (৫) ছগীরা গোনাহ বারবার করা। যেমন কথায় কথায় আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম খাওয়া, দাড়ি শেভ করা ইত্যাদি। কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে কাবীরাহ গোনাহের সংখ্যা ৭ থেকে ৭০০-এর কাছাকাছি। অনুতপ্ত হয়ে তওবা করা ব্যতীত যা মাফ হয় না। নিম্নে বিশেষ কয়েকটি উল্লেখ করা হ’ল :
(১) শিরক করা (২) কবরে সিজদা করা (৩) বিদ‘আত করা (৪) গনক এবং জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করা (৫) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ ও মানত করা (৬) পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া (৭) তাক্বদীরকে অবিশ্বাস করা (৮) ছালাত ও যাকাত পরিত্যাগ করা (৯) অকারণে রামাযানের ছিয়াম পালন না করা (১০) সামর্থ্যবান ব্যক্তির হজ্জ না করা (১১) যুলুম করা (১২) হত্যা করা (১৩) আত্মহত্যা করা (১৪) চুরি করা (১৫) ডাকাতি করা (১৬) জাদু করা (১৭) ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা (১৮) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া (১৯) ওযনে কম দেওয়া (২০) হারাম খাওয়া (২১) খিয়ানত করা (২২) হালালা করা (২৩) বেপর্দা চলা (২৪) যেনা করা (২৫) যিনার অপবাদ দেয়া (২৬) নারীতে-নারীতে ও পুরুষে পুরুষে ব্যভিচার করা (২৭) স্ত্রীর পায়খানার রাস্তায় সঙ্গম করা (২৮) মাসিক অবস্থায় সহবাস করা (২৯) মহিলা পুরুষের বেশ ও পুরুষ মহিলার বেশ ধারণ করা (৩০) পুরুষের রেশমী কাপড় এবং স্বর্ণালংকার পরা (৩১) মদ্য পান করা (৩২) জুয়া খেলা (৩৩) সূদ গ্রহণ, প্রদান এবং তা লেখা ও তার জন্য সাক্ষী হওয়া (৩৪) ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান করা (৩৫) মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা কসম খাওয়া (৩৬) অঙ্গিকার ভঙ্গ করা (৩৭) অহংকার করা (৩৮) পুরুষের কাপড় পায়ের গিটের নিচে পরিধান করা (৩৯) অত্মীয়তা ছিন্ন করা (৪০) শরীয়তের খেলাফ কাজ করা (৪১) রিয়া বা লোকদেখানো আমল করা (৪২) গীবত করা (৪৩) তোহমত দেওয়া (৪৪) অভিশাপ দেয়া (৪৫) দুনিয়ার উদ্দেশ্যে দ্বীন শিক্ষা করা (৪৬) দুনিয়ার লোভে দ্বীন বিক্রি করা (৪৭) বিপদাপদে বা কারো মৃত্যুতে মাথায় ও বুকে আঘাত করা ও চিৎকার করে কাঁদা (৪৮) পেশাব থেকে বেঁচে না থাকা (৪৯) যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা (ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী প্রণীত আল-কাবায়ের গ্রন্থ অবলম্বনে)

প্রশ্ন (২৬/৩০৬) : জনৈক আলেম বলেন, মোযা পরা অবস্থায় প্যান্ট, পায়জামা লুঙ্গী টাখনুর নীচে গেলে কোন সমস্যা নেই। উক্ত দাবী কি সঠিক।
-মনীরুল ইসলাম
মির্জাপুর বাজার, গাযীপুর।
উত্তর : উক্ত দাবী ঠিক নয়। কারণ হাদীছে উক্ত শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। এটা শরী‘আতের নির্দেশকে অমান্য করার অপকৌশল মাত্র। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তিন শ্রেণীর লোকের সাথে আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না; তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। তন্মধ্যে ১ম ব্যক্তি হ’ল অহংকার বশে টাখনুর নীচে কাপড় পরিধানকারী (২) দান করে খোটা দানকারী এবং (৩) মিথ্যা কসম করে পণ্য বিক্রয় কারী (মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৯৫)। অন্য হাদীছে এসেছে, ঐ ব্যক্তি মাটিতে ধসে যাবে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত হয়রান অবস্থায় চিৎকার দিতে থাকবে (বুখারী, মিশকাত, হা/৪৩১৩)। কাজেই পায়ে মোযা থাক বা না থাক কোন অবস্থাতেই টাখনুর নীচে কাপড় পরা যাবে না। অন্যথায় উক্ত হাদীছে বর্ণিত শাস্তির আওতায় পড়ে যাবে।

প্রশ্ন (২৭/৩০৭) : জানাযার ছালাতে দাঁড়ানোর সময় পরস্পরের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে কি? এ সময়ে জুতা পায়ে দিয়ে দাঁড়ানো কি শরী‘আত সম্মত?
- ওমর ফারূক
বিরল, দিনাজপুর।
উত্তর : অন্যান্য ছালাতের ন্যায় জানাযার ছালাতেও কাতার হওয়া যরূরী (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৫২, ৫৭, ৫৮)। উভয় ছালাতে কাতারের হুকুমে কোন পার্থক্যের উল্লেখ নেই। পরিচ্ছন্ন জুতা বা স্যান্ডেল পরে ফরয ছালাত আদায় করা  যেমন জায়েয, তেমনিভাবে জানাযার ছালাত আদায় করাও জায়েয (আবু দাঊদ, হা/৩৮৫-৮৭; মিশকাত হা/৫০৩; তিরমিযী হা/৪০০)

প্রশ্ন (২৮/৩০৮) : জামা‘আতে শরীক হওয়ার সময় যদি দেখা যায় যে, ইমাম সূরা ফাতিহা পড়া শেষ করছেন, তখন ইমামের সাথে আমীন বলবে না আগে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে?
-আব্দুল করীম
আন্ধারিয়া, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : জামা‘আতে শরীক হয়ে আগে ইমামের সাথে ‘আমীন’ বলবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা জামা‘আতে এসে ইমামকে যে অবস্থায় পাবে, সে অবস্থায় ইমামের অনুরূপ করবে’ (আবুদাঊদ হা/৫০৬; তিরমিযী হা/৫৯১; মিশকাত হা/১১৪২; ছহীহুল জামে‘ হা/২৬১)। তাছাড়া হাদীছে এসেছে যে, ইমামের সাথে ‘আমীন’ বললে আগের গোনাহ মাফ হয়ে যায় (বুখারী, মিশকাত হা/৮২৫)

প্রশ্ন (২৯/৩০৯) : বর্তমানে প্রায় মসজিদে দেখা যাচ্ছে যে, মক্কা ও মদীনার ছবিসহ বিভিন্ন ছবি দ্বারা নকশা করা কার্পেট দেওয়া হচ্ছে। এটা কি শরী‘আত সম্মত?
-জিহাদ
নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : বিভিন্ন নকশায় সজ্জিত পোষাক, কার্পেট ও কারুকার্য মন্ডিত মসজিদের দেয়াল ছালাতের মধ্যে মুছল্লীদের একাগ্রতা বিনষ্ট  করে। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা যরূরী। সেগুলো মক্কা-মদীনার হোক বা অন্য কোন স্থানের বা বস্ত্তর হোক তা দেখার বিষয় নয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৭-৫৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদকে সাজ-সজ্জা ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে নিষেধ করেছেন, যেমন ইহুদী-নাছারারা তাদের পথভ্রষ্টতার যুগে করত। তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের অন্যতম আলামত এই যে, মানুষ মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে (আবুদাঊদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৭১৮-১৯; মির‘আত ২/৪২৮)

প্রশ্ন (৩০/৩১০) : তিনি সর্বদা কোন না কোন কাজে রত আছেন (রহমান ২৯)। হে মানুষ ও জিন! আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্য কর্ম মুক্ত হব (রহমান ৩১)। উক্ত আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যা জানতে চাই।
-সৈয়দ ফয়েয
ধামতী, কুমিল্লা।
উত্তর : হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন যে, كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِيْ شَأْنٍ ‘আল্লাহ সর্বদা মহান কর্মে ব্যস্ত’ (রহমান ২৯)-এর ব্যাখ্যা এই যে, তিনি সর্বক্ষণ কারু পাপ ক্ষমা করছেন, কারু বিপদ সরিয়ে দিচ্ছেন, কাউকে উচ্চ সম্মানিত করছেন, কাউকে অপদস্থ করছেন’ (ইবনু মাজাহ হা/২০২ সনদ হাসান)
ইবনু জুরায়েজ বলেন, এর অর্থ سنقضى لكم সতবর আমরা তোমাদের ব্যাপারে ফায়ছালা করব। ইমাম বুখারী বলেন, سنحاسبكم لايشغله شئ عن شيئ ‘সত্বর আমরা তোমাদের হিসাব নেব। কোন কিছুর ব্যস্ততা তাকে অন্য বিষয় হ’তে ভুলিয়ে রাখে না’ (ছহীহ বুখারী, সূরা রহমান-এর তাফসীর দ্রষ্টব্য)। এটি গাফেল লোকদের প্রতি আল্লাহর কঠোর ধমকি বিশেষ।

প্রশ্ন (৩১/৩১১): অনেক মসজিদের মেহরাবের উপরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ লেখা দেখা যায়। এর কারণ কী?
- সফিউদ্দীন আহমাদ
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : মসজিদের মেহরাবের উপরে বা অন্য কোন স্থানে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহ’, ‘মুহাম্মাদ’ বা অন্য কোন আয়াত লেখা শরী‘আত সম্মত নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মসজিদে এসব কিছু লেখা বা কোনরূপ বাড়তি সাজ-সজ্জা না থাকায় মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী ছাহেবে মিরক্বাত এগুলিকে বিদ‘আত’ বলেছেন (মির‘আত ২/৪২৮)

প্রশ্ন (৩২/৩১২) :ছালাতে সালাম ফিরানোর সময় দুই দিকেই ‘ওয়া বারাক্বা-তুহু’ বলা যাবে কি?
-রফীকুল ইসলাম
আলীপুর, সাতক্ষীরা।
উত্তর :  ছালাতে সালাম ফিরানোর সময় শুধু ডান দিকে ‘ওয়া বারাক্বা-তুহু’ যোগ করা যাবে (তামামুল মিন্নাহ, পৃঃ ১৭১)। উল্লেখ্য যে, বলূগুল মারামে (হা/৩১৬) আবুদাঊদের উদ্ধৃতি দিয়ে দুই দিকেই বলার কথা এসেছে। কিন্তু মূল আবুদাঊদে (হা/৯৯৭) এটা নেই। আরো উল্লেখ্য যে, তা ইবনু খুযায়মাতে উক্ত মর্মে যে বর্ণনা এসেছে তার সনদ মুনকার। কেননা আবু ইসহাক্ব নামক রাবী মুদাল্লিস ও দুর্বল (ইবনু খুযায়মাহ হা/৭২৮ টীকা দ্রষ্টব্য)

প্রশ্ন (৩৩/৩১৩) : কোন পিতা বা অভিভাবক সাবালিকা মেয়ের মতামতের বাইরে বিবাহ দিতে পারেন কি?
-মফীযুদ্দীন
কাশেম বাজার, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : পিতা বা কোন অভিভাবক সাবালিকা মেয়ের মতামত ছাড়া বিয়ে দিতে পারেন না (বুখারী, মুসলিম, বুলূগুল মারাম হা/৯২২; বুখারী, মিশকাত হা/৩১২৮)

প্রশ্ন (৩৪/৩১৪) : অধিকাংশ মা ছোট ছেলেমেয়েদের কপালের এক পার্শ্বে কাজলের ফোটা দেয়। এর কোন উদ্দেশ্য আছে কি?
-ওয়াহীদুযযামান
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : ছোট ছেলে মেয়েদের কপালে কোন এক পার্শ্বে কাজলের বা অন্য কোন জিনিষের  ফোটা দেয়ার কারণ সাধারণত দু’টো হতে পারে। (ক) বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ যা মুসলমানের জন্য পরিত্যাজ্য (আহমাদ, আবূদাঊদ হা/৪৩৪৭)। (খ) কোন বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে এরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যা শিরক।

প্রশ্ন (৩৫/৩১৫) : মিথ্যা মামলায় কেউ কারাগারে গিয়ে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা পাবে কি? তিনি কি ৭০ জনকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন?
- সালমান ফারেসী
রংপুর।
উত্তর : উক্ত ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা পাবেন না। তবে অবশ্যই তিনি উত্তম প্রতিদান পাবেন। কিন্তু তিনি যদি আল্লাহর পথে সংগ্রাম করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন এবং নির্যাতন করে বা অন্যায় বিচারে তাকে হত্যা করা হয়, তবে তিনি প্রকৃত শহীদের মর্যাদা পাবেন।
উল্লেখ্য যে, শহীদ ফী সাবীলিল্লাহ ছাড়া আরো ৭ শ্রেণীর মানুষ শাহাদত লাভ করবেন বলে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে সেখানে কারারুদ্ধ ব্যক্তির কথা নেই। তাছাড়া আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করতে গিয়ে জিহাদের ময়দানে যিনি শহীদ হন তিনিই কেবল তার পরিবারের ৭০ জন (ঈমানদার) ব্যক্তিকে জান্নাতে নেবার জন্য সুফারিশ করবেন এবং তা কবুল করা হবে’ (আবুদাঊদ হা/২৫২২)। ছাহেবে ‘আওন বলেন, এর অর্থ তার পরিবারের মূল ও শাখা থেকে ৭০ জন ব্যক্তি। মানাবী বলেন, এখানে ৭০ দ্বারা অসংখ্য বুঝানো হয়েছে, সীমিত সংখ্যা নয় (আওনুল মা‘বূদ হা/২৫০৫-এর ব্যাখ্য দ্রঃ, ৭/১৯৭ পৃঃ)

প্রশ্ন (৩৬/৩১৬) : ওযূ করার পর সূরা ক্বদর পড়ার কোন ছহীহ হাদীছ আছে কি?
-আব্দুর রহমান
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : সূরা ক্বদর পড়া সম্পর্কে যে বর্ণনা এসেছে তা জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৪৪৯)। ওযূ করার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে ‘আশহাদু আল্লা ইলা-হা .. .. ছাড়া আর অন্য কিছু বলা যাবে না (মুসলিম, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৮৯)

প্রশ্ন (৩৭/২৭৭) : যে ব্যক্তি রোযাদারকে পানি পান করাবে তাকে আল্লাহ হাউয কাওছারের পানি পান করাবেন’ এবং ‘যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করাবে আল্লাহ তার গুনাহ সমূহ মাফ করে দিবেন আর জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন’। উক্ত হাদীছদ্বয়ের সনদ সম্পর্কে জানতে চাই।
  -রুবেল
সগুনিয়া, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : রোযাদার কে পানি পান করালে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ মাফ করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন মর্মে হাদীছটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীছটি যঈফ (মিশকাত হা/১৯৬৫; সিলসিলা যঈফা হা/৮৭১)। কিন্ত রোযাদারকে পানি পান করালে হাউয কাওছারের পানি পান করাবেন মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায়না ।

প্রশ্ন (৩৮/২৭৮) : কোন মেয়ের পাঁচ কিংবা ছয়বার মাসিক হ’লে তাকে বিবাহ দেওয়া ফরয হয়ে যায়। এই বক্তব্য কি সঠিক?
 - মাহফূয
চকশিবরামপুর, নওগাঁ।
উত্তর : সমাজে যত কুসংস্কার চালু আছে, এটি তার অন্যতম। এগুলো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

প্রশ্ন (৩৯/২৭৯) : মসজিদে প্রথম জামা‘আত হয়ে গেলে পরের মুছল্লীরা জামা‘আত করে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? এই জামা‘আতের সময় এক্বামত দেওয়া যাবে কি?
 -মুয়াযযেম
সিংগাপুর।
উত্তর : জামা‘আতের পরে আসা মুছল্লীরা এক্বামত দিয়ে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করতে পারবে। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একবার জনৈক মুছল্লীকে একাকী ছালাত আদায় করতে দেখে বলেন, কে আছ এই ব্যক্তিকে ছাদাক্বা দিতে পারে, অর্থাৎ তার সাথে ছালাত আদায় করতে পারে? (আবুদাঊদ হা/৫৭৪ ‘এক মসজিদে দু’বার জামা‘আত করা’ অনুচ্ছেদ-৫৬; মিশকাত হা/১১৪৬)। অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, একজনের সাথে আরেকজন ছালাত আদায় করা অধিক উত্তম একাকী ছালাত আদায়ের চাইতে এবং এক জনের সাথে দু’জন ছালাত আদায় করা আরও উত্তম। এভাবে মুছল্লী সংখ্যা যত বেশী হবে, ততই তা আল্লাহর নিকটে প্রিয়তর হবে’ (আবু দাঊদ হা/৫৫৪ ‘জামা‘আতে ছালাতের ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-৪৮)। এই সময় এক্বামত দিয়ে জামা‘আত শুরু করতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৬৮৪)

প্রশ্ন (৪০/২৮০) : আহাদনামা ও সাত সালাম নামে কোন আমল আছে কি? রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের সাতটি হা-মীম পড়বে তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে ছহীহ দলীল জানাতে চাই।
-আখতার
বৃ-কুষ্টিয়া, বগুড়া।

উত্তর : প্রশ্নে উল্লিখিত বক্তব্য বানাওয়াট। উক্ত মর্মে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। সূরা হা-মীম সাজদাহর ফযীলত সম্পর্কে যে সমস্ত বর্ণনা এসেছে সবই যঈফ ও জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫১১২; যঈফ তিরমিযী হা/২৮৭৯, ২৮৮৮, ২৮৮৯; মিশকাত হা/২১৪৪, ৪৯, ৫০)

HTML Comment Box is loading comments...