সংগঠন সংবাদ


আন্দোলন

যেলা সম্মেলন


জনগণ নয়, আল্লাহ্ই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


বগুড়া ২৮ মার্চ সোমবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ বগুড়া যেলার যৌথ উদ্যোগে শহরের ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন নেসা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বগুড়া যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সযত্নে নিজ হাতে সৃষ্টি করে তাঁর ইবাদতের জন্য দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলার সার্বভৌমত্ব তথা তাওহীদকে বিশ্বাসে ও কর্মে ধারণ করে মানুষ দুনিয়াকে সুন্দরভাবে আবাদ করবে এটাই ছিল মানবতার বড় দায়িত্ব। কিন্তু কালের পরিক্রমায় মানুষ মানুষকে সার্বভৌমত্বের আসনে বসিয়েছে। এভাবে শাসন ও বিচার ব্যবস্থার সর্বত্র বৃটিশ বিধান ও নিজেদের কল্পিত বিধান সমূহ চালু রাখার ফলে সমাজে দিন দিন অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সকলকে আল্লাহর একত্ববাদকে বুঝার এবং নিজেদের সার্বিক জীবন আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনার উদাত্ত আহবান জানান।
যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুর রহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রায্যাক বিন ইউসুফ, একই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল খালেক সালাফী, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব, রাজশাহী মহানগর ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব শামসুল আলম, ‘সোনামণি’ কেন্দ্রীয় পরিচালক ইমামুদ্দীন, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মুহাম্মাদ আবুবকর ছিদ্দীক প্রমুখ। সম্মেলনে ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন আল-হেরা শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম।


ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ প্রত্যেক মুসলমানের আবশ্যিক দায়িত্ব


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


মণিরামপুর, যশোর ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ যশোর যেলার যৌথ উদ্যোগে মণিরামপুর থানাধীন চন্ডিপুর হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত যশোর যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন যে, মতবাদ বিক্ষুদ্ধ এই পৃথিবীতে মুসলমানকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে দু’টি দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। সে দু’টি দায়িত্ব হ’ল ন্যায়ের আদেশ দেওয়া ও অন্যায়ের নিষেধ করা। অথচ শ্রেষ্ঠত্বের মালা গলায় পরে মুসলমানরা আজ আল্লাহ প্রেরিত শ্রেষ্ঠ বিধান ছেড়ে দিয়ে নিজেদের রচিত মতবাদ তথা Manmade Law সমূহের মাধ্যমে নব্য জাহেলিয়াতে নিমজ্জিত। ফলে মানুষের সার্বিক জীবন আজ আগ্নেয়গিরির লাভার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। মুসলমানরা যেন আল্লাহর দেয়া ওয়াদার চিরন্তন বাস্তবতার দিকেই এগিয়ে চলেছে। যেমনটি নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন যে, ‘যদি তোমরা অন্যায়ের নিষেধ না কর, এবং হক্বের দাওয়াত না দাও, তাহ’লে অন্য জাতি তোমাদের ঘাড়ে চেপে বসবে অথবা তোমাদের উপর আসবে ব্যাপক গযব’। তিনি সকলকে আহলেহাদীছ আন্দোলনের পতাকাতলে সমবেত হয়ে জামা‘আতবদ্ধ ভাবে সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজে নিষেধ-এর গুরু দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম এবং প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রায্যাক বিন ইউসুফ, সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, যশোর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক মুত্তালিব বিন ঈমান, নামোপাড়া আলিম মাদরাসা রাজশাহীর অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর ছিদ্দীক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ আকবার হোসাইন। মুহতারাম আমীরে জামা‘আত এখানে রাত্রি যাপন করেন এবং বাদ ফজর ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চন্ডীপুর জামে মসজিদে সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অতঃপর তিনি মুছল্লীদের সাথে নিয়ে মাত্র ২১ দিন আগে গাড়ী এক্সিডেন্টে মৃত্যুবরণকারী জনাব মূসা সানা (৯০)-এর কবর যেয়ারত করেন ও তার উত্তরাধিকারীদের সান্ত্বনা প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, গত ১০ মার্চ তারিখে তপশীডাঙ্গা আহলেহাদীছ জামে মসজিদের পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণবাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আহলেহাদীছ মুছল্লীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ইসলামী জালসায় আসার পথে তিনি মসজিদের সন্নিকটে ট্রাক চাপায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।
অতঃপর তিনি স্বীয় সফর সঙ্গীদের নিয়ে যশোর অভিমুখে রওয়ানা হন এবং ইতিপূর্বে ১৯৯৩ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী তপশীডাঙ্গা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে জুম‘আর খুৎবা দেন। ছালাত শেষে তাঁর সাথী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য রাখেন। অতঃপর তিনি সফর সঙ্গীদের নিয়ে ঝিনাইদহ যেলা সম্মেলনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।


কবরের তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে সচেতন হৌন!


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


ঝিনাইদহ ১ এপ্রিল শুক্রবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ ঝিনাইদহ যেলা সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শহরের উজির আলী হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত ২য় বার্ষিক ইসলামী সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় নামিয়ে দিয়েছিলেন একটি গাইড বুক দিয়ে। কিন্তু মানুষের প্রকাশ্য শত্রু শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ বারংবার বিপথে পা বাড়াচ্ছে। মায়ের গর্ভ হ’তে দুনিয়ার আলো-বাতাসে এসে দুনিয়ার মোহজালে আটকা পড়ে কবরের চিরন্তন তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে মানুষ একেবারে গাফেল হয়ে পড়েছে। অথচ তাকে কবরের পরীক্ষায় পাশ করেই তবে জান্নাতের সার্টিফিকেট হাছিল করতে হবে। অন্যথায় চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হ’তে হবে। তিনি সকলকে আল্লাহ প্রেরিত অহি-র বিধান অনুযায়ী জীবন যাপনের মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি হাছিলের উদাত্ত আহবান জানান।
যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাষ্টার ইয়াকূব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম, প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ড. এ.এস.এম. আযীযুল্লাহ, ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মাদ হারূনুর রশীদ।


ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানের নাম


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


বাগেরহাট ৬ এপ্রিল বুধবার : অদ্য বাদ মাগরিব ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ বাগেরহাট যেলার যৌথ উদ্যোগে আল-মারকাযুল ইসলামী কালদিয়া মাদরাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন পরিপূর্ণতা লাভ করেছে সত্য, ন্যায়পরায়ণতা দিয়ে এবং মানব জীবনের থিউরিটিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল সর্বপ্রকারের প্রেসক্রিপশন দিয়ে। ইসলাম Complete code of life-এর নাম। ইহুদী-নাছারাদের ন্যায় নিজেদের স্বার্থে কুরআনী বিধানকে পরিবর্তন বা পরিমার্জনের কোন সুযোগ নেই। হক ও বাতিলের মধ্যে আপোষনামার ছুরি চালিয়ে ইসলামের শত্রুরা হককে যবেহ করতে চায়। যা সূর্যের কিরণকে ঠেকাতে জোনাকির বৃথা আস্ফালন বৈ কিছুই নয়। তিনি সবাইকে সকল প্রকার সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠে নিঃশর্তভাবে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানান।
যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি সরদার আশরাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক জনাব গোলাম মোক্তাদির, প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মাওলানা আহমাদ আলী রহমানী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা যুবায়ের আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক।
উল্লেখ্য যে, উক্ত সম্মেলনের পূর্ব ঘোষিত স্থান ছিল বাগেরহাট শহরের ‘স্বাধীনতা স্কয়ার’। যেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে লিখিত অনুমতিও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সম্মেলনের দিন বিকাল ৫-টায় যেলা প্রশাসক স্থানীয় মুছল্লীদের আপত্তির অজুহাত দেখিয়ে অনুমতি বাতিল করে পুনরায় লিখিত পত্র দেন। ফলে শহরের নিকটবর্তী ‘আন্দোলন’-এর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান আমীরে জামা‘আতের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কালদিয়া মারকাযে তাৎক্ষণিকভাবে খোলা আকাশের নীচে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের এই বৈরী আচরণে বাগেরহাট যেলার আহলেহাদীছ জনগণ দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হন।


সার্বিক জীবনে আল্লাহর বিধান মেনে চলুন!


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


খুলনা ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ খুলনা যেলা সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে নগরীর প্রাণকেন্দ্র হাদীছ পার্কে অনুষ্ঠিত খুলনা যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, মানুষের জন্য একমাত্র কল্যাণ বিধান হচ্ছে আল্লাহ প্রেরিত বিধান, যা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে সংকলিত রয়েছে। এ বিধানের আলোকে সার্বিক জীবন গড়ে তোলা প্রত্যেক মানুষের জন্য একান্তভাবে আবশ্যক। এ বিধানের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তির ফল্গুধারা বয়ে যাবে। আর এর বিরুদ্ধাচরণের ফলে নেমে আসবে এলাহী গযব। বাংলাদেশের শাসকগণের তাই এলাহী বিধানের বিপরীতে কোন বিধান প্রবর্তন ও চালু করা উচিত হবে না। নইলে আল্লাহর রোষানলে পড়ে যে কোন সময় এদেশ কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হ’তে পারে। তিনি আরো বলেন, আহলেহাদীছ আন্দোলন দুনিয়ার মানুষকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মর্মমূলে জমায়েত করার আন্দোলন। এটি কোন মতবাদ নয়, বরং এটি একটি পথের নাম, একটি দাওয়াতের নাম। এ পথ হ’ল জান্নাতের পথ। এ দাওয়াত হ’ল পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দাওয়াত।
যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য, অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, ড. এ এস এম আযীযুল্লাহ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল ও সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, পিরোজপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হামীদ বিন শামসুদ্দীন, জুনারী দাখিল মাদরাসা তেরখাদার সহ-সুপার মাওলানা আব্দুর রহীম প্রমুখ। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক জনাব গোলাম মুক্তাদির।
মাওলানা আব্দুর রঊফের শয্যা পাশে আমীরে জামা‘আত :
খুলনা যেলা সম্মেলন শেষে পরদিন শুক্রবার সকাল ৯-টায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ প্রবীণ আলেম মাওলানা আব্দুর রঊফকে দেখতে শহরের খালিশপুরস্থ তাঁর বাসভবনে গমন করেন। তিনি কিছু সময় তার পাশে থাকেন ও তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। তিনি তাঁর জন্য খালেছ দো‘আ করেন। যাওয়ার পথে তিনি তাঁর উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শহরের গোয়ালখালি আহলেহাদীছ জামে মসজিদের সামনে কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি করেন। অতঃপর মুছল্লীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খালিশপুর গমন করেন। এ সময়ে আমীরে জামা‘আতের সফরসঙ্গী ছাড়াও খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি জনাব গোলাম মোক্তাদির ও ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক খালিশপুরের স্থায়ী নিবাসী কাযী হারুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
চূয়াডাঙ্গায় জুম‘আর ছালাত আদায় :
মাওলানা আব্দুর রউফকে দেখার পর আমীরে জামা‘আত মেহেরপুর যেলা সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা যেলার দামুড়হুদা থানার অদূরে অবস্থিত বায়তুল মামূর জামে মসজিদের ইমাম জনাব ক্বামারুযযামানের আমন্ত্রণে সেখানে গমন করেন এবং জুম‘আর ছালাত আদায় করেন। খুৎবায় তিনি সূরা আছরের আলোকে আহলেহাদীছ আন্দোলনের নির্ভেজাল দাওয়াতের কথা মুছল্লীদের নিকট তুলে ধরেন। ছালাত শেষে আমীরে জামা‘আত উপস্থিত মুছল্লীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অতঃপর মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। এ সময়ে ঝিনাইদহ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাষ্টার ইয়াকুব হোসাইন দফতর সম্পাদক রবীউল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা যেলা ‘আন্দোলন’-এর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।