প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/২০১) : আবু সুফিয়ানকে কি ছাহাবায়ে কেরামের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়? তার নামের সাথে ‘রাযিয়াল্লাহ ‘আনহু’ বলা যাবে কি?

-আমীনুল ইসলাম

ইসলামপুর, সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর : আবু সুফিয়ান (রাঃ) একজন বিশিষ্ট ছাহাবী ছিলেন। তিনি মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট ইসলাম কবুল করেন এবং ওছমান (রাঃ)-এর খেলাফতকালে ৩১ হিজরীতে ঈমানের উপর মৃত্যুবরণ করেন। ওছমান (রাঃ) তাঁর জানাযার ছালাত পড়ান এবং বাকী‘ গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সেকারণ তাকে ছাহাবী গণ্য করা এবং নামের শেষে ‘রাযিয়াল্লাহ ‘আনহু’ বলা যরূরী (ইবনু হিশাম ২/৪০৩, মুসলিম হা/১৭৮০; ছহীহাহ হা/৩৩৪১; ইস্তী‘আব রাবী নং ৩০০৫; বিঃদ্রঃ সীরাতুল রাসূল (ছাঃ) ২য় সংষ্করণ, ৫৩০-৫৩২ পৃঃ)।

প্রশ্ন (২/২০২) : জানাযার ছালাতে একদিকে বা উভয় দিকে সালাম ফিরানোর ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?

-যহূরুল ইসলাম, বগুড়া।

উত্তর : অন্যান্য ছালাতের ন্যায় জানাযার ছালাতেও উভয় দিকে সালাম ফিরাতে হয়। আব্দুল্ল­াহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, লোকেরা তিনটি কাজ ছেড়ে দিয়েছে, যেগুলো রাসূল (ছাঃ) করতেন। তার একটি হ’ল, জানাযার ছালাতের সালাম অন্যান্য ছালাতের ন্যায় হওয়া (বায়হাক্বী কুবরা হা/৭২৩৯, সনদ হাসান, আলবানী, আহকামুল জানায়েয, মাসআলা নং ৮৪)। তবে শুধু ডান দিকেও সালাম ফিরানো যায় (দারাকুৎনী হা/১৮৩৯ ও ১৮৬৪; সনদ হাসান, আহকামুল জানায়েয, মাসআলা নং ৮৫)। উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশে উভয়দিকে সালাম ফিরানোর আমলটিই প্রচলিত। তাই এর উপর আমল করাই উত্তম। নইলে ফিৎনা সৃষ্টি হ’তে পারে।

প্রশ্ন (৩/২০৩) : ঈদগাহের মাঠে খেলাধূলা সহ বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি অনুষ্ঠান করা যাবে কি?

-ইউসুফ আলী

কান্তনগর পূর্বপাড়া, নাটোর।

উত্তর : ঈদগাহের মাঠে বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ও অন্যান্য দিবস পালনার্থে কোন অনুষ্ঠান করা বৈধ নয়। কারণ অমুসলিমদের অনুকরণে পালিত এসব দিবসের সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। খেলাধূলা থেকেও দূরে থাকা কর্তব্য। কেননা এতে ঈদগাহের ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।

প্রশ্ন (৪/২০৪) : মৃত ব্যক্তিকে কবরে শোয়ানোর সঠিক নিয়ম কি? চিৎ করে শোয়ানোর কোন বিধান আছে কি?

-দিদার বখশ,

মোহনপুর, রাজশাহী। 

উত্তর : প্রথমতঃ মৃত ব্যক্তিকে পশ্চিম দিকে মুখ করে কবরে রাখা উচিত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘উভয় জীবনে মানুষের ক্বিবলা হচ্ছে কা‘বা’ (আবুদাঊদ হা/২৮৭৫, ইরওয়া হা/৬৯০)। আলবানী (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগ হ’তে অদ্যাবধি এরূপ আমলই হয়ে আসছে (আলবানী, আহকামুল জানায়েয, মাসআলা নং ১০২)। দ্বিতীয়তঃ ডান কাতে শোয়াবে। এ বিষয়ে স্পষ্ট কোন দলীল না পাওয়া গেলেও ঘুমানোর সময় ডানকাতে শোয়ার ব্যাপারে ছহীহ হাদীছ রয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৩৮৪-৮৫)। সম্ভবতঃ এর উপরে ভিত্তি করেই বিদ্বানগণ মাইয়েতকে ডান কাতে শোয়ানোকে উত্তম বলেছেন (আল-মুহাল্লা ৩/৪০৪, মাসআলা ৬১৫)। উছায়মীন (রহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে চিৎ করে রেখে হাত দু’টি বুকের উপর রাখার বিষয়টি আমরা কোন বিদ্বান হ’তে অবগত নই (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃঃ ৪২)

প্রশ্ন (৫/২০৫) : খেলাফতের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আবুবকর (রাঃ) কর্তৃক জনৈকা বৃদ্ধার পরিচর্যার ঘটনাটি কি সত্য?

-ওছমান প্রামাণিক, বগুড়া।

উত্তর : ঘটনাটি প্রসিদ্ধ কিন্তু বিশুদ্ধ নয়। এ মর্মে একাধিক ঘটনা বর্ণিত হ’লেও এর কোনটি ভিত্তিহীন, কোনটির সনদ অত্যন্ত যঈফ। যেমন ইবনু আসাকির তার ইতিহাস গ্রন্থে আবু ছালেহ গেফারীর বর্ণনাসূত্রে এ ঘটনাটি সংকলন করেছেন (তারীখু ইবনু আসাকির ৩০/৩২২)। অথচ তিনি আবুবকর বা ওমর (রাঃ) এমনকি আলী (রাঃ)-এর যুগও পাননি (তাহযীবুত তাহযীব ৪/৫৯)। আরেক বর্ণনাকারী হাজ্জাজ বিন শাদ্দাদ অপরিচিত। ইবনু কাত্ত্বান বলেন, হাজ্জাজ-এর অবস্থা জানা যায় না (তাহযীবুত তাহযীব ২/২০২)। অপর বর্ণনাকারী রিশদীন বিন সা‘দ অত্যন্ত যঈফ। ইমাম নাসাঈ, আহমাদ, ইবনু সা‘দ, আবু হাতেম, আবু যুর‘আ প্রমুখ তাকে যঈফ বলেছেন (তাহযীবুত তাহযীব ৩/২৪০-২৪১)। এছাড়া ইবনু সা‘দ তার ত্বাবাকাতে অনুরূপ একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেটি নিতান্তই যঈফ (ত্বাবাকাতে কুবরা ৩/১৩৮, ৩০/৩২৪; তাহযীবুত তাহযীব ৩/৩২৩-৩২৬)। অতএব আবুবকর (রাঃ) থেকে এরূপ কোন ঘটনার সত্যতা নেই।

প্রশ্ন (৬/২০৬) : স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর কতদিন পর্যন্ত খোরপোষ দেওয়ার শারঈ নির্দেশনা রয়েছে?

-মুনীরুল শেখ, পাকুড়, ঝাড়খন্ড, ভারত।

উত্তর : স্বামী স্ত্রীকে রাজঈ তালাক দিলে ইদ্দতকাল পর্যন্ত খোরপোষ দিবে (নাসাঈ হা/৩৪০৩; ছহীহাহ হা/১৭১১; আল-ইসতিযকার ১৮/৬৯)। আর তালাকপ্রাপ্তা তিন তালাক বায়েন হয়ে গেলে তাকে কোন খোরপোষ দিতে হবে না (মুসলিম হা/১৪৮০; মিশকাত হা/৩৩২৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৫৫১)। তবে স্ত্রী গর্ভবতী হ’লে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তালাক প্রদানকারী স্বামীকে তার খোরপোষের ব্যবস্থা করতে হবে ও দুধ পান করালে তাকে উপযুক্ত মজুরী দিতে হবে (ত্বালাক ৬৫/০৪)। অপর দিকে খোলা‘ প্রাপ্তা নারী কোন খোরপোষ পাবে না (ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৮৮১৪, ১৮৪৯৭)

প্রশ্ন (৭/২০৭) : অনেক মুছল্লীকে দেখা যায়, ইমাম রুকূতে যাওয়ার পর জামা‘আতে যোগ দিয়ে রাক‘আত গণ্য হওয়ার আশায় ইমাম রুকূ থেকে উঠার আগ পর্যন্ত দ্রুত সূরা ফাতিহা পাঠ করে রুকূতে যায়। এরূপ করা শরী‘আতসম্মত কি?

-মুহাইমিন, শেখপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত অবস্থায় ইমামের অনুসরণ করার জন্য সরাসরি তাকবীর দিয়ে রুকূতে যেতে হবে। কারণ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা যখন ছালাতে আসবে আর ইমামকে রুকূ‘ অবস্থায় পাবে, তখন রুকূতে যাবে। আর সিজদা অবস্থায় পেলে সিজদায় চলে যাবে (বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/২৪০৯; ইরওয়া হা/৪৯৬; ছহীহাহ হা/১১৮৮)

প্রশ্ন (৮/২০৮) : চোখ-মুখ ঢেকে ছালাত আদায়ে কোন বাধা আছে কি?

-আব্দুল করীম, ঝিনাইদহ।

উত্তর : চোখ-মুখ ঢেকে ছালাত আদায় করা যাবে না। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাতের মধ্যে মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/৯৬৬; মিশকাত হা/৭৬৪, সনদ হাসান) তবে গায়ের মাহরাম পুরুষ আগমনের সম্ভাবনা থাকলে নারীরা মুখমন্ডল আবৃত করে ছালাত আদায় করবে (ফাতাওয়া মারআতুল মুসলিমা ১/৩১৫)

প্রশ্ন (৯/২০৯) : ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ অংশটুকু কি আযান প্রচলনের শুরু থেকেই ফজরের আযানের সাথে যুক্ত ছিল, না পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছে?

-মুহাম্মাদ তৈমুর রহমান, চাঁপাই নবাবগঞ্জ

উত্তর : এটা পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছে। বেলাল (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, একদা তিনি ফজরের আযান দেওয়ার জন্য রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে আসলেন। তাকে বলা হ’ল যে, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তখন বেলাল (রাঃ) বললেন,الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ (ঘুম থেকে ছালাত উত্তম)। অতঃপর এই শব্দাবলী ফজরের আযানের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হ’ল এবং বিষয়টি এভাবেই সাব্যস্ত হয়ে গেল’ (ইবনু মাজাহ হা/৭১৬, সনদ ছহীহ)। উল্লেখ্য যে, যে কারণেই চালু হৌক না কেন আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের অনুমোদন পাওয়া ব্যতীত তা শরী‘আত হিসাবে গণ্য হয় না। ওমর (রাঃ) ও অন্যান্য ছাহাবীদের প্রস্তাবক্রমে এমনকি কুরআনের কয়েকটি আয়াতও নাযিল হয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে, ছাহাবীগণের কথাই কুরআন বা হাদীছ। অতএব আযানের বিষয়টি রাসূল (ছাঃ)-এর নিয়মিত সুন্নাত হিসাবে গৃহীত।

প্রশ্ন (১০/২১০) : আমরা জানি বিতর ছালাতের পর অন্য কোন ছালাত নেই। এক্ষণে এসময় জানাযার ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-জুয়েল রেযা, কাঁদাকাটি, সাতক্ষীরা।

উত্তর : বিতরের পর কারণবশতঃ যেকোন ছালাত এসময় আদায় করা যেতে পারে। যেমন রাতের শেষ প্রহরে ঘুম না ভাঙ্গার আশংকা থাকলে রাতের প্রথম ভাগে বিতর ছালাতের পর দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করা যায়, যা তাহাজ্জুদের স্থলাভিষিক্ত হয় (দারেমী, মিশকাত হা/১২৮৬; ছহীহাহ হা/১৯৯৩)

প্রশ্ন (১১/২১১) : মুসলিম বা অমুসলিম দেশের সরকার শরী‘আত বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে সে দেশের মুসলিম নাগরিক বা প্রবাসীদের করণীয় কি?

-আবুল কালাম, মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : এক্ষেত্রে কর্তব্য হ’ল (১) উত্তম পন্থায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করা (মুসলিম হা/৪৯, মিশকাত হা/৫১৩৭)। (২) দেশে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য জনমত গঠন করা এবং বৈধপন্থায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো (রা‘দ ১৩/১১)। (৩) বিভিন্ন উপায়ে সরকারকে নছীহত করা (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৬৬)। (৪) সরকারের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করা (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৫৯৯৬)। (৫) সরকারের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকটে কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করা (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১২৮৯)। (৬) প্রয়োজনে হিজরত করা। যেমন রাসূল (ছাঃ) দাওয়াতের প্রথম দিকে যখন মক্কার মুসলিমদের উপর কাফেররা চরম নির্যাতন করছিল, তখন তিনি তাদেরকে পার্শ্ববর্তী ন্যায়নিষ্ঠ খ্রিষ্টান রাজা নাজাশীর হাবশা রাজ্যে তাদেরকে হিজরত করার নির্দেশ দেন (বায়হাক্বী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩১৯০)। (৭) আর মুসলিম সরকারের সুস্পষ্ট কুফরী প্রমাণিত হ’লে, শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা কল্যাণকর হবে কি-না, সে বিষয়ে অবশ্যই দেশের নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম পরামর্শ করে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং মুসলিম নাগরিকগণ তাদের অনুসরণ করবেন। বিদ্রোহ করায় কল্যাণের চেয়ে যদি অকল্যাণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে, তাহ’লে বিদ্রোহ করা যাবে না। বরং ধৈর্যধারণ করতে হবে, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন ফায়ছালা নাযিল হয় (বাক্বারাহ ১০৯, তওবা ২৪)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, শাসকের নিকট থেকে কেউ অপসন্দনীয় কিছু দেখলে যেন সে ধৈর্যধারণ করে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬৭)। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৭২)।‘কেননা তাদের পাপ তাদের উপর এবং তোমাদের পাপ তোমাদের উপর বর্তাবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭৩)। তিনি বলেন, তোমরা তাদের হক দিয়ে দাও। কেননা আল্লাহ শাসকদেরকেই জিজ্ঞেস করবেন তাদের শাসন সম্পর্কে (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৭৫)

প্রশ্ন (১২/২১২) : নওমুসলিম সন্তান অমুসলিম পিতার সম্পদের অংশীদার হ’তে পারবে না। এক্ষণে পিতার মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবে প্রাপ্ত সকল সম্পদ দান করে দিতে হবে কি?

-তাওসীফুর রহমান, ঢাকা।

উত্তর : মুসলিম সন্তান কাফের পিতার সম্পদের অংশীদার হবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৪৩)। তবে বিনা কামনায় প্রাপ্ত সম্পদ পুনরায় ফেরত দেওয়ার বা দান করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন (১৩/২১৩) : রাসূল (ছাঃ) কি কখনো আযান দিয়েছেন? না দিলে তার কারণ কি?

-এস.কে. আযহার, কলিকাতা, ভারত।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর আযান দেওয়ার ব্যাপারে কোন ছহীহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। একবার সফরে তিনি আযান দিয়েছিলেন মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী হা/৪১১; আহমাদ হা/১৭৬০৯; যঈফাহ হা/৬৪৩৪)। রাসূল (ছাঃ) এমনকি খোলাফায়ে রাশেদীন আযান না দেওয়ার বহু কারণ রয়েছে। যেমন (১) রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমাম যিম্মাদার আর মুওয়াযযিন আমানতদার (আবুদাউদ হা/৫১৭; মিশকাত হা/৬৬৩)। তাই রাসূল (ছাঃ) নিয়মিতভাবে আমানত আদায়ে সক্ষম এরূপ ব্যক্তির নিকটে আযান দেওয়ার আমানত অর্পণ করেছিলেন। (২) আযানের মূল উদ্দেশ্য লোকদের কাছে ছালাতের আহবান পৌঁছানো। এজন্য রাসূল বড় বড় ছাহাবীদের বাদ দিয়ে এমনকি যিনি আযানের শব্দগুলো স্বপ্নে দেখেছিলেন তাকে বাদ দিয়ে কণ্ঠস্বর উঁচু হওয়ায় বেলাল (রাঃ)-কে আযানের দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন (আবুদাউদ হা/৪৯৯; ইবনু মাজাহ হা/৭০৬; মিশকাত হা/৬৫০, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (১৪/২১৪) : আমি বিভিন্ন সমস্যার কারণে নবম-দশম শ্রেণীর ছেলে-মেয়েদের একত্রে প্রাইভেট পড়াই। মেয়েরা ওড়না পরে আসে। এভাবে প্রাইভেট পড়ানো আমার জন্য জায়েয হবে কি?

-আনীস খান, দিনাজপুর।

উত্তর : প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের একসাথে পড়াশুনা করা সম্পূর্ণরূপে শরী‘আতবিরোধী কাজ (আহযাব ২৪/৫৩)। এছাড়াও এটি মানুষের স্বভাব ধর্মের বিরোধী এবং পারস্পরিক নীতিবোধের জন্য চরম ক্ষতিকর। আধুনিক বংশধরগণের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হ’ল প্রচলিত সহশিক্ষা। অতএব ছেলে-মেয়েদের পৃথক পৃথকভাবে পড়াতে হবে। মেয়েদের পড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই পর্দার অন্তরাল থেকে পড়াতে হবে যেন তাদের অবয়ব দেখা না যায়। তবে কোনক্রমেই একাকী কোন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে পড়ানো যাবে না। বরং মাহরাম সহ অথবা কয়েকজনকে একসাথে পড়াতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘কোন পরপুরুষ যদি কোন পরনারীর সঙ্গে নির্জনে মিলিত হয়, তাহ’লে সেখানে তৃতীয়জন উপস্থিত হয়, যার নাম শয়তান’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১১৮)

প্রশ্ন (১৫/২১৫) : আমাদের মসজিদের ইমাম ছাহেব প্রত্যেক জুম‘আর দিন ফজরের ছালাতের ২য় রাক‘আতে হাত তুলে দো‘আ করেন। এটা শরী‘আতসম্মত কি?

-ইউসুফ আলী, কান্তনগর পূর্বপাড়া, নাটোর।

উত্তর : বিশেষ কারণবশতঃ কুনূতে নাযেলাহ যে কোন ওয়াক্তেই পাঠ করা যায় (বুখারী হা/৭৯৭; মুসলিম হা/৬৭৮; নাসাঈ হা/১০৭৬)। রাসূল (ছাঃ) দীর্ঘ এক মাস যাবৎ এ দো‘আ পাঠ করেছিলেন (বুখারী হা/১০০২,৪০৯৪; মুসলিম হা/৬৭৭; মিশকাত হা/১২৮৯-৯০)। কিন্তু কোন দিন নির্ধারণ করেননি। অতএব জুম‘আর দিন ফজরের ছালাতে নিয়মিতভাবে এটি পাঠ করা বিদ‘আত। ইমাম নাখঈ, তাঊস, মাকহূল প্রমুখ বিদ্বানগণ জুম‘আর দিনকে কুনূতে নাযেলাহ পাঠের জন্য নির্দিষ্ট করাকে বিদ‘আত বলেছেন (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৫৪৫৫-৫৭)। সুতরাং এভাবে নির্দিষ্ট না করে প্রয়োজনমত যেকোন দিন যেকোন ওয়াক্তে এটা পাঠ করা যাবে।

প্রশ্ন (১৬/২১৬) : নারীদের কসমেটিকস সামগ্রীর ব্যবহার করায় কোন বাধা আছে কি?

-ছাকিব, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা।

উত্তর : নারীরা গৃহাভ্যন্তরে পর্দার মধ্যে নিজেকে সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে কসমেটিকস ব্যবহার করতে পারে (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৪৩)। আয়েশা (রাঃ)-কে বাসর রাতের জন্য সাজানো হয়েছিল (ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৬; আলবানী, আদাবুয যিফাফ, পৃঃ ১৯)। তবে পবিত্রতা ও শালীনতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টিকারী কোন বস্ত্ত যেমন পুরু নেইল পালিশ ব্যবহার করা যাবে না। কেননা ওযূ-গোসলের ক্ষেত্রে দেহের সামান্য কোন স্থান শুকনা থাকলেও পবিত্রতা অর্জিত হয় না (মুসলিম হা/২৪৩, সুবুলুস সালাম হা/৫০)। এছাড়া সুগন্ধিযুক্ত সামগ্রী ব্যবহার করে নারীদের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ (নাসাঈ হা/৫১২৬; সনদ হাসান)

প্রশ্ন (১৭/২১৭) : জনৈক আলেম বলেন, সিজদা দু’প্রকার। সম্মানের সিজদা ও ইবাদতের সিজদা। মানুষ মানুষকে সম্মান দেখিয়ে সিজদা করতে পারে। যেমন ফেরেশতাগণ আদম (আঃ)-কে সিজদা করেছিলেন। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-ডা. আব্দুল্লাহ রোমান, ফুলতলা, বগুড়া।

উত্তর : কথাটি সম্পূর্ণ শরী‘আত বিরোধী। মুহাম্মাদী শরী‘আতে এটি সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে। এভাবে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রতি সিজদা করার দূরতম সম্ভাবনাকেও মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। একবার মু‘আয (রাঃ) খ্রিষ্টানদের দেখাদেখি রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি সম্মানের সিজদা করতে চাইলে তিনি বলেন, তোমরা এটা করো না। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে যদি সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহ’লে স্ত্রীকে তার স্বামীর প্রতি সিজদা করার নির্দেশ দিতাম।... (আহমাদ, ইবনু মাজাহ হা/১৮৫৩; ছহীহাহ হা/১২০৩)। সুতরাং সম্মান ও ইবাদতের সিজদাকে পৃথক করে দেখানোর কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্ন (১৮/২১৮) : একই ঘরে পৃথক বিছানায় পিতা ও প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে অথবা ভাই ও বোন থাকতে পারবে কি?

-মাহমূদুল হাসান, ইশ্বরদী, পাবনা।

উত্তর : পিতা ও পুত্র পারবে। হাদীছে বিছানা পৃথক করতে বলা হয়েছে, ঘর নয় (আহমাদ হা/৬৭৫৬, ৬৬৮৯; মিশকাত হা/৫৭২ ‘ছালাত’ অধ্যায়)। কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক নারী ও পুরুষকে পৃথক পৃথক ঘরে অবস্থান করাই কর্তব্য।

প্রশ্ন (১৯/২১৯) : নববী যুগের ন্যায় ছাদে না দাঁড়িয়ে মাইকের মাধ্যমে আযান দেওয়া যদি বিদ‘আত না হয়, তবে তাসবীহ গণনার ক্ষেত্রে কোন যন্ত্র বা তাসবীহ দানা ব্যবহার করা নিষেধ হওয়ার কারণ কি?

-আহসানুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা।

উত্তর : আযানের মূল উদ্দেশ্য লোকদের কাছে ছালাতের আহবান পৌঁছানো। সেকারণ রাসূল (ছাঃ) উঁচু কণ্ঠস্বরের অধিকারী হওয়ায় বেলাল (রাঃ)-কে আযানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন (আবুদাউদ হা/৪৯৯; ইবনু মাজাহ হা/৭০৬; মিশকাত হা/৬৫০, সনদ ছহীহ)। একই উদ্দেশ্যে সেসময় মসজিদের বাইরে কোন উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হ’ত (আবুদাঊদ হা/৫১৯; ইরওয়া হা/২২৯)। অতএব আযানের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য মাইক ব্যবহার বিদ‘আত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

অন্যদিকে আঙ্গুলের মাধ্যমে তাসবীহ গণনার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ এবং তাসবীহ দানা দ্বারা গণনার ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেমন তিনি বলেন, ‘তোমরা আঙ্গুলের মাধ্যমে তাসবীহ পাঠ কর। কেননা আঙ্গুল সমূহ জিজ্ঞাসিত হবে এবং তারা কথা বলবে’ (তিরমিযী হা/৩৫৮৩; আবুদাঊদ হা/১৫০১-০২; মিশকাত হা/২৩১৬)। একদা ইবনু মাসঊদ (রাঃ) জনৈক মহিলাকে তাসবীহ দানা দ্বারা গণনা করতে দেখে তা নিয়ে ছিঁড়ে দূরে নিক্ষেপ করেন। অতঃপর নুড়ি-পাথর দিয়ে তাসবীহ গণনাকারী জনৈক ব্যক্তিকে পা দিয়ে মৃদু আঘাত করে ধমক দিয়ে বললেন, অগ্রগামী হয়ে পড়েছ, এক অন্ধকারচ্ছন্ন বিদ‘আতে লিপ্ত হয়ে পড়েছ, না-কি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণের চেয়ে বেশী জ্ঞানী হয়ে গেছ’? (ইবনু ওয়াযযাহ, আল-বিদ‘ঊ হা/২১; সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৩-এর আলোচনা দ্রঃ)। অতএব মাইকে আযান দেওয়ার সাথে তাসবীহ গণনার তুলনা করার কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্ন (২০/২২০) : পাঁচবছর পূর্বে স্ত্রীকে এক তালাক দিয়ে রাজ‘আত করেছিল। কিছুদিন পূর্বে উক্ত স্ত্রীকে গর্ভবতী অবস্থায় দুই তালাক দিয়েছে। এক্ষণে পুনরায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে স্বামীর করণীয় কি?

-রফীকুল ইসলাম মোল্লা, শ্রীপুর, গাযীপুর।

উত্তর : পূর্বে প্রদত্ত তালাকটি ধর্তব্য হবে এবং দ্বিতীয় বারের দু’তালাক যদি একই বৈঠকে সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহ’লে এটা এক তালাক হিসাবে গণ্য হবে (মুসলিম হা/১৪৭২-৭৩; আবুদাঊদ হা/২১৯৬)। অতএব মোট দু’তালাক হওয়ায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ায় বাধা নেই (বাক্বারাহ ২/২২৯)। তবে যদি ইদ্দতকাল তথা তালাক প্রদানের দিন থেকে তিন মাস অতিক্রান্ত হয় অথবা গর্ভবতী অবস্থায় তালাক দেওয়ার পর গর্ভ খালাস হয়ে যায়, তাহ’লে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে হবে (বাক্বারাহ ২৩২; তালাক ১; বুখারী হা/৫১৩০)

প্রশ্ন (২১/২২১) : পিতা দ্বিতীয় বিবাহ করে ১৫ বছর পূর্বে আমাদের ছেড়ে চলে যান। এর মধ্যে আমাদের কখনো খোঁজ নেননি বা কোন প্রকার খরচও বহন করেননি। বর্তমানে তার সন্ধান পাওয়া গেছে। এক্ষণে আমরা কি তাকে গ্রহণ করব, না বাড়ী থেকে বের করে দিব?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, মাটিয়ানী, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : পিতাকে আশ্রয় দিতে হবে। পিতা-মাতা সর্বাবস্থায় সদ্ব্যবহার পাওয়ার হকদার (ইসরা ১৪/২৩,২৪)। এমনকি তারা শিরক করার জন্য চাপ দিলে তাদের আনুগত্য করা যাবে না, কিন্তু তাদের সাথে সদাচরণ করতে হবে (লোক্বমান ৩১/১৪-১৫)। আর পিতা তাঁর দায়িত্বে অবহেলার কারণে গোনাহগার হবেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৮৫)

প্রশ্ন (২২/২২২) : পেশাব বা পায়খানা করার পর ওযূ করা যরূরী কি?

-আব্দুল হাই, ভারুয়াখালী, জামালপুর।

উত্তর : ওযূ করা যরূরী নয়। তবে সর্বদা ওযূ অবস্থায় থাকা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক’ (মুসলিম হা/২২৩; মিশকাত হা/২৮১)। তিনি আরো বলেন, ওযূ করার মাধ্যমে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে ছগীরা গুনাহ ঝরে যায় (মুসলিম হা/২৪৫; মিশকাত হা/২৮৪)

একদিন ফজরের পরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বেলালকে ডেকে বললেন, কোন কাজ তোমাকে আমার আগে আগে জান্নাতে নিয়ে যাচ্ছে? কেননা যখনই আমি জান্নাতে প্রবেশ করি, তখনই আমার আগে আগে তোমার গমনের আওয়ায শুনি। জবাবে বেলাল বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আযান দিলেই তার পরে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করি এবং যখনই ওযূ নষ্ট হয় তখনই ওযূ করি এবং মনে করি যেন আমার উপরে আল্লাহর জন্য দু’রাক‘আত ছালাত আবশ্যিক হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ, এজন্যই হ’তে পারে’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩২৬; কাছাকাছি একই মর্মের হাদীছ মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৩২২ নফল ‘ছালাত’ অনুচ্ছেদ)

এমনকি রাতে শোয়ার সময়ও যে ব্যক্তি ওযূ করে শয়ন করে, তাঁর সাথে একজন ফেরেশতা থাকে এবং সে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত দো‘আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে তুমি ক্ষমা কর। কেননা সে ওযূ অবস্থাতেই শয়ন করেছে (ইবনু হিববান হা/১০৫১, ছহীহাহ হা/২৫৩৯)

প্রশ্ন (২৩/২২৩) : রাবে‘আ বছরী সম্পর্কে জানতে চাই।

-ফাহীমা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : তার নাম উম্মে খায়ের রাবে‘আ বিনতে ইসমাঈল আল-‘আদাবী। তিনি আনুমানিক ১০০ হিঃ/৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বছরা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে মাতা-পিতা মারা যাওয়ায় তাকে দাসত্ববরণ করতে হয়। তিনি সংসার বিরাগী ইবাদতগুযার মহিলা ছিলেন। তার সাথে সুফিয়ান ছাওরী, শো‘বা ও হাসান বছরীর মত প্রখ্যাত তাবেঈদের সাক্ষাৎ ঘটেছিল। কথিত আছে যে, তিনি সারা রাত নফল ছালাত আদায় করে কাটিয়ে দিতেন। তবে তার প্রতি ছূফীবাদের যে সম্পর্ক করা হয়, তা পরবর্তীতে সুবিধাবাদী ছূফীবাদীদের অপপ্রচার মাত্র। তিনি ১৮৫ হিঃ/৮০১ খ্রিষ্টাব্দে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। তবে আবুদাউদ সিজিস্তানী তাকে অগ্নিপূজক বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, হয়ত তার ব্যাপারে তার নিকট এমন সংবাদ পৌঁছেছিল, যার কারণে এমন মন্তব্য করেছিলেন। তবে তিনি ছিয়াম পালন ও রাতে নফল ছালাত আদায় করতেন। হাফেয যাহাবী সিজিস্তানীর মন্তব্যের প্রতিবাদ করে তার ব্যাপারে এটা বাড়াবাড়ি এবং অজ্ঞতা বলে আখ্যায়িত করেছেন (যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৮/২৪১-২৪৩; তারীখুল ইসলাম ১১/১১৭-১১৮; ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ১০/১৮৬; ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়া ৪/২৭-৩২)

প্রশ্ন (২৪/২২৪) : পুরুষ ইমামের পিছনে মহিলারা কিভাবে ছালাতে দাঁড়াবে? এছাড়া কেবল দু’জন পুরুষ ও একজন নারী হ’লে কিভাবে জামা‘আত করবে?

-বুলবুল ইসলাম*, জয়পুরহাট।

* [নাম ঠিক করুন (স.স.]

উত্তর : মহিলারা একাকী হৌক বা একাধিক হৌক, পুরুষ ইমামের পিছনে পৃথক কাতারে দাঁড়াবে। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘আমি ও একজন ইয়াতীম ছেলে আমাদের বাড়ীতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছিলাম। আর আমার মা আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছিলেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১১০৮)

প্রশ্ন (২৫/২২৫) : পিতা-মাতার বিচ্ছেদের পর কোন সন্তান পিতা বা মাতা যেকোন একজনের তত্ত্বাবধানে বড় হওয়ার পর উভয়ের সম্পদেই কি সে অংশীদার হবে?

-নাঈম, সোনাতলা, বগুড়া।

উত্তর: বিবাহের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান পিতা-মাতা উভয়ের সম্পত্তির অংশীদার হবে (নিসা ৪/১১)। কার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হয়েছে সম্পদের অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটি ধর্তব্য নয়।

প্রশ্ন (২৬/২২৬) : কৃপণ পিতার সম্পদ থেকে তাকে না জানিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ যেমন পড়াশুনা, পোষাক ইত্যাদি চাহিদা পূরণের জন্য কিছু নেওয়া যাবে কি?

-মতীউর রহমান

কুওয়াতুল ইসলাম মাদ্রাসা, কুষ্টিয়া।

উত্তর : স্ত্রী-সন্তানের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা স্বামী বা পিতার কর্তব্য। সে হিসাবে কৃপণ পিতার সম্পদ থেকে ন্যয়সঙ্গতভাবে কিছু গ্রহণ করা সন্তানের জন্য জায়েয। হিন্দা বিনতে ঊতবা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবু সুফিয়ান একজন অতি কৃপণ ব্যক্তি। আমি তাকে না জানিয়ে তার সম্পদ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে আমার ও আমার সন্তানদের জন্য খরচ করতে পারি কি? উত্তরে রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য যথেষ্ট হয়, এ পরিমাণ সম্পদ ন্যায়সঙ্গতভাবে নিতে পার (বুখারী হা/২২১১; মুসলিম হা/১৭১৪; মিশকাত হা/৩৩৪২)।

প্রশ্ন (২৭/২২৭) : ‘আখেরী চাহার সোম্বা’ কাকে বলে। শরী‘আতে এরূপ কোন দিবসের অনুমোদন আছে কি?

-নাঈমুর রহমান নাঈম।

উত্তর : ‘আখেরী চাহার সোম্বা’ কথাটি ফার্সী। এর অর্থ ছফর মাসের শেষ বুধবার। ইরান, ইরাক, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এটি দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। এর ভিত্তি হ’ল- মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে বুধবার রাসূল (ছাঃ)-এর দেহের উত্তাপ ও মাথাব্যথা খুব বৃদ্ধি পায়। তাতে তিনি বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়তে থাকেন। অতঃপর তাঁর মাথার উপরে পানি ঢালা হ’লে তিনি একটু হালকা বোধ করলে মসজিদে গিয়ে যোহরের ছালাত আদায় করেন এবং মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন’ (বুখারী হা/৪৪৪২; ইবনু হিশাম ২/৬৪৯)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত দিবস ঘটা করে পালন করা হয় এবং সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। অথচ এটি সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আতী প্রথা। ছাহাবায়ে কেরামের যামানায় এরূপ প্রথার কোন অস্তিত্ব ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি এমন কোন আমল করে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী হা/২৬৯৭; মুসলিম হা/১৭১৮; মিশকাত হা/১৪০)

প্রশ্ন (২৮/২২৮) : পরীক্ষার পূর্বরাতে বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্পেশাল সাজেশন পাওয়া যায়, যা থেকে সর্বাধিক সংখ্যক কমন পাওয়া যায়। এসব সাজেশন নেওয়া জায়েয হবে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বরিশাল।

উত্তর : প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে এরূপ সাজেশন দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত ধারণা হ’লে, তা গ্রহণ করা জায়েয নয়। কারণ শরী‘আতে অন্যায় কাজে সাহায্য করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ (মায়েদাহ ৫/২)

প্রশ্ন (২৯/২২৯) : মানুষের নেক আমলের ক্ষেত্রে বলা হয় যে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। এটি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত? ছহীহ হ’লে সকল ফাঁসির আসামী কি জান্নাতবাসী হবে বলে আশা করা যায়?

-রফীকুল ইসলাম, ভালুকা, ময়মনসিংহ।

উত্তর : এটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘সর্বশেষ কর্মের উপর সকল আমল নির্ভরশীল’ (বুখারী হা/৬৪৯৩; মিশকাত হা/৮৩)। আর ফাঁসির আসামী হ’লেই যে তিনি জান্নাতী হবেন তা বলার কোন সুযোগ নেই। বান্দার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর কৃত তওবা আল্লাহ কবুল করেন না। আল্লাহ বলেন, আর ঐসব লোকদের তওবা কবুল হবে না, যারা মন্দ কর্ম করতেই থাকে, যতক্ষণ না তাদের কারু মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং বলে, আমি এখন তওবা করছি (নিসা ৪/১৮)। তবে যদি সত্যিকারের মুসলিম হন এবং খাঁটি হৃদয়ে তওবা করেন এবং আল্লাহ তা কবুল করেন, তাহ’লে তিনি জান্নাতী হবেন ইনশাআল্লাহ। বনু ইসরাঈলদের জনৈক ব্যক্তি একশ’ ব্যক্তিকে হত্যা করে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন (বুখারী হা/৩৪৭০; মুসলিম হা/২৭৬৬; মিশকাত হা/২৩২৭)

প্রশ্ন (৩০/২৩০) : জনৈক পিতা ৪ মেয়েকে বাদ দিয়ে ছেলের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও জমি-জমা লিখে দিয়ে মারা গেছেন। এক্ষণে এর পরিণতি কি এবং তাকে শাস্তি ভোগ থেকে বাঁচানোর উপায় কি?

-ফাহিম মুনতাছির, উত্তরা, ঢাকা।

উত্তর : পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টনে কমবেশী করায় উক্ত পিতা কঠিন গুনাহগার হবেন। ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক পরিমাণ যমীন বেড়ি রূপে পরিয়ে দেওয়া হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৯৩৮)। জেনেশুনে উক্ত সম্পদ ভোগ করলে সন্তানরাও গুনাহগার হবে। এক্ষণে নিজদের বাঁচা ও পিতাকে বাঁচানোর জন্য সন্তানদের অবশ্য কর্তব্য হ’ল, শরী‘আত সম্মতভাবে পুরো সম্পদ হকদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া এবং পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। এর ফলে পিতার উক্ত গোনাহ ক্ষমা হবে ইনশাআল্লাহ (সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৫৯৮; মিশকাত হা/২৩৫৪)।

প্রশ্ন (৩১/২৩১) : সূরা তীন পড়া শেষে ‘বালা ওয়া ‘আলা আনা যালিকা মিনাশ শাহিদীন’ পড়তে হবে কি?

-দাবীরুল ইসলাম, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আহমাদ হা/১৪২১; আবুদাঊদ হা/৮৮৭; মিশকাত হা/৮৬০, আলবানী, আরনাঊত্ব, সনদ যঈফ)

প্রশ্ন (৩২/২৩২) : দুই জন মুছল্লী জামা‘আত শুরু করার পর আরেকজন যোগ দিলে ইমাম সামনে চলে যাবে, না মুক্তাদীরা পিছনে চলে আসবে?

-আব্দুল ওয়াকীল, মালদহ, ভারত।

উত্তর : ইমাম সম্ভবপর পিছনে জায়গা রেখে ছালাত শুরু করবেন, যাতে পরবর্তীতে যোগদানকারী মুছল্লী পিছনে কাতার দিতে পারে। অতঃপর মাসবূক মুছল্লী ইমামের সাথে ছালাতরত মুক্তাদীকে পিছনে টেনে নিয়ে কাতার দিবেন। আর সে যদি অজ্ঞতার কারণে ইমামের পাশেই দাঁড়িয়ে যায়, তবে ইমাম উভয়কে পিছনে ঠেলে দিবেন। জাবের (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাতে দাঁড়ালেন, আর আমি এসে তাঁর বাম দিকে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন। অতঃপর জাববার ইবনু সাখর এসে রাসূল (ছাঃ)-এর বাম দিকে দাঁড়াল। এসময় তিনি আমাদের উভয়ের হাত ধরলেন এবং ঠেলে আমাদেরকে তাঁর পিছনে দাঁড় করিয়ে দিলেন (মুসলিম হা/৩০১০, মিশকাত হা/১১০৭)। আর এসময় ইমাম সামনে যাওয়ার কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে ওযরবশতঃ সামনে যাওয়ায় কোন বাধা নেই (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৮/২২)

প্রশ্ন (৩৩/২৩৩) : কারণবশতঃ এলাকার মসজিদে ছালাত আদায় না করে দূরের কোন মসজিদে আদায় করলে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-এস.কে. আযহার, কলিকাতা, ভারত।

উত্তর : কোন বাধা নেই। বিশেষতঃ অধিক পদচারণা এবং বড় জামা‘আতে ছালাত আদায়ের মাধ্যমে অধিক নেকী লাভের আশায় এরূপ করা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ছালাতের নেকী অর্জনের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তিই সর্বাপেক্ষা  নেকীর ভাগিদার, যে অধিক দূর থেকে আগমনকারী (বুখারী হা/৬৫১, মিশকাত হা/৬৯৯)। তিনি বলেন, একাকী পড়ার চেয়ে দু’জনে, দু’জনের চেয়ে তিন জনে ছালাত আদায় করা উত্তম। এভাবে যত মুছল্লী বেশী হবে, ততই তা আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রিয়তর হবে (আবুদাঊদ হা/৫৫৪, মিশকাত হা/১০৬৬)। মু‘আয (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে মসজিদে নববীতে এশার ছালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিজ এলাকায় এসে পুনরায় উক্ত ছালাতের ইমামতি করতেন (বুখারী হা/৭০১, মিশকাত হা/১১৫০)। অতএব যত্রতত্র মসজিদ নির্মাণ না করে বড় বড় জামা‘আতগুলোকে সম্ভবপর টিকিয়ে রাখা কর্তব্য। তবে আক্বীদাগত কারণে পৃথক মসজিদ নির্মাণে ও দূরে হ’লেও সেখানে যাওয়ায় কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (৩৪/২৩৪) : কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা যায়?

-ইহসানুল হক, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : গীবত করা হারাম (হুজুরাত ৪৯/১২)।এর ক্ষতিকর প্রভাবে ব্যক্তি থেকে সমাজের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে স্রেফ ইছলাহের উদ্দেশ্যে ও নেকীর আশায় জনকল্যাণার্থে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনা করা যায়। যেটা আসলে গীবত নয়। বরং সত্য তুলে ধরা। যেমন (১) অত্যাচারীর অত্যাচার প্রকাশ করার জন্য (২) সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা এবং পাপীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য (৩) হাদীছের সনদ যাচাইয়ের জন্য (৪) মুসলিমদেরকে মন্দ থেকে সতর্ক করার জন্য (৫) পাপাচার ও বিদ‘আত থেকে সাবধান করার জন্য (৬) প্রসিদ্ধ নাম বলে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য (নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, ২৫৬ অনুচ্ছেদ, পৃঃ ৫৭৫; মুসলিম হা/২৫৮৯ ‘গীবত হারাম হওয়া’ অনুচ্ছেদ, নববীর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

প্রশ্ন (৩৫/২৩৫) : পরপর দু’বার গর্ভে সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। তৃতীয়বার যেন এরূপ না হয় সেজন্য শ্বাশুড়ী তাবীয দিয়েছেন। এক্ষণে আমার করণীয় কি? আর সন্তান হারানোর কারণে কি আমার পরকালীন কোন পুরস্কার আছে?

-খোকন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : তাবীয ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় শিরক (আহমাদ হা/১৬৯৬৯; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৯২; মিশকাত হা/৪৫৫৬)। আর আল্লাহ তা‘আলা শিরকের গুনাহ মাফ করেন না (নিসা ৪/৪৮)। অতএব তাবীয ফেলে দিয়ে আল্লাহর প্রতি ভরসা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। সাথে সাথে সন্তান লাভের জন্য যাকারিয়া (আঃ) কর্তৃক পঠিত দো‘আ নিয়মিতভাবে পাঠ করতে হবে। (১) রবিব লা তাযারনী ফারদাওঁ ওয়া আনতা খায়রুল ওয়ারিছীন (হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে (সন্তানহীনভাবে) একাকী ছেড়ে দিয়ো না। আর তুমিই তো সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী- আম্বিয়া ২১/৮৯) (২) রবিব হাবলী মিল্লাদুনকা যুররিইয়াতান ত্বাইয়েবা (হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে তোমার পক্ষ হ’তে একটি পূত-চরিত্র সন্তান দান কর- আলে ইমরান ৩/৩৮)।

সন্তান হারানোর পর আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট থাকলে প্রভূত নেকীর হকদার হবেন। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  বলেছেন, যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায় আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় ফেরেশতাদের বলেন, তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানকে উঠিয়ে নিলে? তারা উত্তর করবে, হ্যাঁ প্রভু। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি তার অন্তরের ধনকে কেড়ে নিলে? তারা বলবেন, হ্যঁা প্রভু। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, এতে আমার বান্দা কি বলল? তারা বললেন, তখন সে আপনার প্রশংসা করল এবং ইন্নালিল্লাহ বলল। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী কর এবং তার নাম দাও ‘বায়তুল হাম্দ’ (তিরমিযী হা/১০২১, মিশকাত হা/১৭৩৬, ছহীহাহ হা/১৪০৮)

প্রশ্ন (৩৬/২৩৬) : ছহীহ বুখারীতে ‘যাব’ নামক প্রাণী খাওয়া হালাল বলা হয়েছে। এর দ্বারা কোন প্রাণী বুঝায়?

-আব্দুর রঊফ, নওগাঁ।

উত্তর : ‘যাব’ (الضَّبُّ) সরীসৃপ জাতীয় বুকে ভর দিয়ে চলা একটি প্রাণী। যার শরীরের চামড়া পুরু ও অমসৃণ। লেজ চওড়া, খসখসে ও অধিক গিটবিশিষ্ট। আরব মরু অঞ্চলে এটি অধিকহারে পাওয়া যায় (আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব)। এটি দেখতে গুই সাপের ন্যায়, তবে গুইসাপ নয়। গুই সাপ আরবী ‘ওয়ারাল’ (الوَرَلُ) নামক প্রাণীর সাথে হুবহু মিলে যায়। যা পানিতে ও স্থলে উভয় স্থানে বসবাস করে এবং বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ, সাপ ইত্যাদি ভক্ষণ করে। আরবরা এটি খায় না (আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব)। তবে যাব-এর সাথে সাদৃশ্যের কারণে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম যাব-এর ন্যায় ওয়ারাল বা গুইসাপ খাওয়াও জায়েয বলেছেন। সাঈদ বিন মুসাইয়িব (রহঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একে হালাল বলেন (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৮৭৪৭)। এছাড়া ইবনু হাযম (রহঃ) এটিকে হালাল প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন (মুহাল্লা ৫/২৫০)। এসব প্রাণী রুচি হ’লে খাবে, না হ’লে খাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) খাননি (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪১১০-১১)। যদিও তিনি প্রথমে নিষেধ করেছিলেন (আবুদাঊদ হা/৩৭৯৬; ঐ, আওনুল মা‘বূদ)

প্রশ্ন (৩৭/২৩৭) : জনৈক মৃত ব্যক্তির পরিবার তার রেখে যাওয়া ইসলামী ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দিয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করে। তারা নিজেরাই যাকাত পাওয়ার হকদার। এক্ষণে তাদের ডিপোজিটকৃত মূল টাকা থেকে যাকাত বের করতে হবে কি?

-সেতাউর রহমান, ইয়াম্বু, সঊদী আরব।

উত্তর : প্রথমতঃ কোন ব্যাংকেই টাকা রেখে লভ্যাংশ ভোগ করা যাবে না। কারণ উক্ত লভ্যাংশ সূদের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়তঃ জমাকৃত সম্পদ নিছাব পরিমাণ হ’লে যাকাত বের করা আবশ্যক। দরিদ্রতা এর জন্য বাঁধা নয়। অতএব আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রেখে উক্ত টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে কোন হালাল ব্যবসা সম্ভব হ’লে নিজে করবে অথবা সেখানে বিনিয়োগ করবে।

প্রশ্ন (৩৮/২৩৮) : সূরা বাক্বারাহ ১৪৮ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-নূরুল ইসলাম, নীলফামারী।

উত্তর : আয়াতটির অর্থ হ’ল, আর প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে পৃথক ক্বিবলা, যেদিকে তারা উপাসনাকালে মুখ করে থাকে। কাজেই দ্রুত সৎকর্ম সমূহের দিকে এগিয়ে যাও (অর্থাৎ কা‘বামুখী হও)। যেখানেই তোমরা থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আল্লাহর নির্দেশে ১৬/১৭ মাস বায়তুল মুক্বাদ্দাসের দিকে ফিরে ছালাত আদায়ের পর বাক্বারাহ ১৪৪ ও ১৫০ আয়াতের মাধ্যমে তাঁকে পুনরায় কা‘বা গৃহের দিকে মুখ করে ছালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে ইহূদীরা বাহানা খুঁজে পায় এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও মুসলমানদের উদ্দেশ্যে নানাবিধ উপহাসমূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। এর প্রতিবাদে অত্র আয়াত নাযিল হয়। যেখানে বলা হয়েছে যে, সকল দিকই আল্লাহর। তিনি স্বীয় বান্দাদের যেদিকে খুশী সেদিকে ফিরে ছালাত আদায়ের নির্দেশ দিতে পারেন। এতে ইহূদী বা অন্য কারো খুশী বা নাখুশীর কিছু নেই। কিন্তু ইহূদীরা অপপ্রচার করছিল যে,  এই মানুষটি তার ধর্মের ব্যাপারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাঁর ক্বিবলার কোন ঠিক নেই। তিনি ইবরাহীমী দ্বীনের অনুসারী বলে দাবী করেন। যদি বায়তুল মুক্বাদ্দাসের দিকে ক্বিবলা ইবরাহীমের দ্বীন হয়, তাহ’লে আবার কা‘বার দিকে ক্বিবলা করা হ’ল কেন? মুনাফিকরাও একই কথা বলতে থাকে। অন্যদিকে কুরায়েশরা, যাদেরকে অত্র আয়াতে ‘যালেম’ বলা হয়েছে, তারা বলতে লাগল, মুহাম্মাদ আমাদের ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরিয়েছে। এবার সে আমাদের দ্বীনে (?) ফিরে আসবে (কুরতুবী, ইবনু কাছীর)। অথচ তাদের এইসব কথার জওয়াব একটাই যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) সর্বাবস্থায় আল্লাহর হুকুমের তাবেদারী করেছেন। তাঁর হুকুমেই তিনি মদীনায় গিয়ে প্রথমে বায়তুল মুক্বাদ্দাসের দিকে মুখ ফিরিয়ে ছালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তাঁর হুকুমেই তিনি কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়েছেন। এখানে আল্লাহর আনুগত্যই মুখ্য। যা প্রকৃত ঈমানদারগণের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অত্র আয়াতে ‘আমার অনুগ্রহ পূর্ণ করে দেই’ অর্থ ক্বিয়ামত পর্যন্ত কা‘বা গৃহকে মুমিনদের জন্য ক্বিবলা নির্ধারণ করা। যাতে বান্দাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেন (কুরতুবী, ঐ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ)

প্রশ্ন (৩৯/২৩৯) : ইরানের বর্তমান সরকার সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ কোন্ দলভুক্ত শী‘আ। তাদের আক্বীদা কি? তাদেরকে মুসলিম বলা যাবে কি?

-শরী‘আতুল্লাহ, নড়াইল।

উত্তর : ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী সহ দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বারো ইমামে বিশ্বাসী ইছনা ‘আশারিয়া ইমামিয়া শী‘আ। নিম্নে তাদের মৌলিক কিছু আক্বীদা তাদের কিতাবসমূহ থেকে বর্ণিত হ’ল।-

(১) তাদের ইমামগণ অতীত এবং ভবিষ্যতের যাবতীয় গায়েবের জ্ঞান রাখে (কুলাইনী, আল-কাফী, হুজ্জাহ অধ্যায় ১/২০৩)। (২) ইমামদেরকে চেনা ও মানা ফরয। ইমামদেরকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফের। তাদের প্রতি রাসূলের আনুগত্যের ন্যায় আনুগত্য পোষণ করতে হবে (আল-কাফী ১/১১০)। এছাড়া ইমামগণ নবীগণের ন্যায় নিষ্পাপ ও তারা যে কোন বস্ত্তকে হালাল বা হারাম ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখেন (ঐ, ২২১, ২৭৮ পৃঃ)। তাদের নিকটে ফেরেশতা যাওয়া-আসা করেন (ঐ, ১৩৫)। (৩) আলী (রাঃ) সহ মাত্র কয়েকজন ছাহাবী ব্যতীত প্রথম তিন খলীফা সহ সকল ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর কাফের হয়ে গেছেন (ঐ, ৮/২৪৫)। (৪) জিবরীল যে কুরআন নিয়ে এসেছিলেন তাতে ১৭ হাযার আয়াত ছিল (ঐ, ২/৬৩৪)। (৫) তাদের নিকটে ‘মুছহাফে ফাতেমী’ রয়েছে, যা কুরআনের চাইতে তিনগুণ বড় এবং তাতে কুরআনের একটি হরফও নেই (ঐ, ১/২৩৯)। (৬) সুন্নীরা জাহান্নামী, তারা কাফের, নাপাক, তাদের জানাযার ছালাত আদায় করা নাজায়েয, তাদের যবেহ করা পশু খাওয়া অবৈধ, তারা ব্যভিচারের সন্তান, তারা বানর এবং শূকর, তাদেরকে হত্যা করা ওয়াজিব (বিহারুল আনওয়ার ৮/৩৬৮-৩৭০,আল-কাফী ১/২৩৯, ৮/১৩৫) (৭) ইমাম ও অলীদের মাযার যিয়ারত করা ফরয। যিয়ারত পরিত্যাগকারী কাফের (কিতাবু কামালিয যিয়ারাহ ১৮৩ পৃঃ)। (৮) হুসায়েন (রাঃ)-এর কবর যিয়ারত করা বিশ বার হজ্জ এবং ওমরাহ করার চেয়েও অধিক উত্তম (ফুরূঊল কাফী ১/৩২৪)। (৯) ইমাম মাহদী দাঊদ (আঃ)-এর পরিবারের বিধান অনুযায়ী পৃথিবী শাসন করবেন (আল-কাফী ১/৩৯৭) (১০) বর্তমান ইছনা ‘আশারিয়া শী‘আদের ইমাম ও ইরানী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনী বলেন, আমাদের ইমামদের মর্যাদা এত উচ্চস্তরের যে, আল্লাহর কোন নিকটবর্তী ফেরেশতা বা প্রেরিত নবী উক্ত মর্যাদায় পৌঁছতে পারেনি’ (আল-হুকূমাতুল ইসলামিয়াহ ৭৫ পৃঃ)। এছাড়া তাঁর অদ্বৈতবাদী কুফরী দর্শনের পক্ষে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সাথে আল্লাহর বিশেষ অবস্থাসমূহ রয়েছে। তিনি আমরা এবং আমরা তিনি’ (শারহু দু‘আইস সাহার ১০৩ পৃঃ) ইত্যাদি।

আহলে সুন্নাত বিদ্বানগণ উপরোক্ত আক্বীদা পোষণকারীদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে একমত। যেমন-

(১) ইমাম মালেক (৯৩-১৭৯ হিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ছাহাবায়ে কেরামকে গালি দেয়, ইসলামে তার কোন অংশ নেই (আবুবকর খাল্লাল, আস-সুন্নাহ ৩/৪৯৩) (২) ইমাম শাফেঈ (১৫০-২০৪ হিঃ) বলেন, আমি প্রবৃত্তিপূজারীদের মধ্যে এদের চাইতে মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী কাউকে দেখিনি’ (আবু হাতেম রাযী, আদাবুশ শাফেঈ ১৪৪ পৃঃ) (৩) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ) বলেন, যারা আবুবকর, ওমর, আয়েশা (রাঃ) ও অন্যান্য ছাহাবীগণকে গালি দেয়, তারা ইসলামের উপর আছে বলে আমি মনে করি না (আবুবকর খাল্লাল, আস-সুন্নাহ ৩/৪৯৩) (৪) ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ) বলেন, আমি জাহমী ও রাফেযী অথবা ইহূদী ও নাছারাদের পিছনে ছালাত আদায় করাকে পরোয়া করি না। তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না, তাদের রোগীদের সেবা করা যাবে না, তাদের সাথে বিবাহ করা যাবে না, তাদের জানাযায় অংশগ্রহণ করা যাবে এবং তাদের যবেহকৃত পশু খাওয়া যাবে না (খালকু আফ‘আলিল ইবাদ ১২৫ পৃঃ)(৫) ৫ম শতকের স্পেনীয় মুজাদ্দিদ ইমাম ইবনু হাযম আন্দালুসী (৩৮৪-৪৫৬ হিঃ) বলেন, কুরআন পরিবর্তনের দাবীদার রাফেযীরা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয়। মিথ্যা ও কুফরীর দিক দিয়ে এরা ইহূদী-নাছারাদের স্থলাভিষিক্ত (কিতাবুল ফিছাল ২/২১৩)(৬) ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেন, যারা ধারণা করে কুরআনের মধ্যে কিছু আয়াতের কমতি রয়েছে বা গোপন করা হয়েছে... তাদের কুফরীর ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। যারা ধারণা করে রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর কয়েকজন ব্যতীত সকল ছাহাবী মুরতাদ হয়ে গেছেন... তাদের কুফরীতেও কোন সন্দেহ নেই। বরং তাদের কুফরীর ব্যাপারে যারা সন্দেহ করে তারাও কাফের (আছ-ছারেমুল মাসলূল ৫৮৬ পৃঃ)(৭) যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হিঃ) বলেন, যারা ছাহাবীগণকে নিন্দা করে এবং গালি দেয়, তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যায় এবং মুসলিম মিল্লাত থেকে খারিজ হয় (কিতাবুল কাবায়ের ২৩৭ পৃঃ)(৮) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (১১১৫-১২০৬ হিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ছাহাবীগণের সবাইকে ‘ফাসেক’ ও অধিকাংশকে ‘মুরতাদ’ হওয়ার আক্বীদা পোষণ করে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করে (আর-রিসালাহ ফির রাদ্দি ‘আলার রাফেযাহ ১৮ পৃঃ)(৯) আব্দুল আযীয দেহলভী (১১৫৯-১২৩৯ হিঃ) বলেন, আমি ইছনা ‘আশারিয়াদের গ্রন্থসমূহ পাঠ করে নিশ্চিত হ’লাম যে, ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই এবং তাদের কুফরী নিশ্চিত (মুখতাছারুত তুহফাহ ইছনা ‘আশারিয়া ৩০০ পৃঃ)(১০) আলবানী (১৩৩৩-১৪২০ হিঃ) বলেন, কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মতের বিরোধী হওয়ার কারণে খোমেনীর বক্তব্যসমূহ প্রকাশ্য কুফরী ও প্রকাশ্য শিরক। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে সেগুলি বা তার কিছু অংশ বর্ণনা করবে, সে ব্যক্তি মুশরিক ও কাফের। যদিও সে ছিয়াম পালন করে, ছালাত আদায় করে এবং ধারণা করে যে সে একজন মুসলিম’ (বিস্তারিত আলোচনা দ্রঃ ড. নাছের বিন আব্দুল্লাহ, উছূলু মাযহাবিশ শী‘আতিল ইছনা ‘আশারিয়াহ)

প্রশ্ন (৪০/২৪০) : জনৈক ব্যক্তি জীবনে অনেক মানুষের টাকা বা অন্য কিছু চুরি করেছে। এখন সে অনুতপ্ত। কিন্তু এখন যদি সে যাদের জিনিস চুরি করেছে তাদের কাছে ক্ষমা চায়, তবে সমাজে বড় ফেৎনা দেখা দিবে। করা না করা অনেক চুরির অপবাদ তার উপর এসে পড়বে। এক্ষণে তার করণীয় কি?

-হাবীবুর রহমান, ইসলামপুর, জামালপুর।

উত্তর : এক্ষেত্রে করণীয় হ’ল, তাদের নিকটে ক্ষমা চাওয়া এবং সম্ভবপর চুরিকৃত জিনিস ফেরত দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি তার কোন ভাইয়ের সম্মান বা অন্য কোন বিষয়ে যুলুম করে থাকে, তাহ’লে সে যেন আজই তার সমাধা করে নেয়। সেদিন আসার আগে যেদিন তার কাছে কোন দীনার ও দিরহাম থাকবে না। সেদিন তার কোন সৎকর্ম থাকলে তা থেকে যুলুম পরিমাণ নিয়ে নেয়া হবে। আর সৎকর্ম না থাকলে মযলূমের পাপসমূহ থেকে নিয়ে উক্ত যালেমের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে’ (বুখারী হা/২৪৪৯, মিশকাত হা/৫১২৬)। এর সাথে সাথে ফেৎনায় না পড়ার জন্য আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করবে। আল্লাহ তার মর্যাদা রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাদেরকে একটি পথ বের করে দেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন’ (তালাক ২-৩)

 

 

HTML Comment Box is loading comments...