কবিতা


আহলেহাদীছ কি?

মুহাম্মাদ নাজমুল হক

নারায়ণগঞ্জ।

আহলেহাদীছ হ’ল কুরআন ও ছহীহ হাদীছের অনুসারী

আহলেহাদীছ হ’ল নির্ভেজাল তাওহীদের ঝান্ডা উত্তোলনকারী।

আহলেহাদীছ হ’ল ত্বাগূতের বিরুদ্ধে আপোষহীন অহি-র আন্দোলন

আহলেহাদীছ হ’ল হক প্রতিষ্ঠায় বিপ্লবী এক বিস্ফোরণ।

আহলেহাদীছ হ’ল সবদিক ছেড়ে অহি-র পথে থাকা

আহলেহাদীছ হ’ল হকের পথে মানবতাকে ডাকা।

আহলেহাদীছ নয় মতবাদ, একটি পথের নাম

আহলেহাদীছ হ’ল হক প্রতিষ্ঠার নিরন্তর সংগ্রাম।

আহলেহাদীছ হ’ল নিরপেক্ষভাবে কুরআন ও ছহীহ হাদীছ মানা

আহলেহাদীছ হ’ল কুরআন-হাদীছকে শরী‘আতের উৎস জানা।

আহলেহাদীছ হ’ল সার্বিক জীবনে তাক্বওয়া অবলম্বন করা

আহলেহাদীছ হ’ল সৃষ্টিকে স্রষ্টার বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করা।

আহলেহাদীছ হ’ল চরমপন্থা ছেড়ে মধ্যপন্থা ধরা

আহলেহাদীছ হ’ল মতভেদ ভুলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

আহলেহাদীছ হ’ল নির্যাতন সয়েও হকের পথে চলা

আহলেহাদীছ হ’ল সদা-সর্বদা হক কথা বলা।

আহলেহাদীছ নির্ভেজাল এক ইসলামী আন্দোলনের নাম

আহলেহাদীছ হ’ল অহীভিত্তিক সমাজ গঠনের বৈপ্লবিক সংগ্রাম।

তাবলীগী ইজতেমা

মুহাম্মাদ আবুল ফযল খন্দকার

নলডাঙ্গা, নাটোর।

মুসলিম নওজোয়ানরা আজ

আসছে দল বেঁধে ছুটে।

বেদ্বীন কাফিরদের জোট ভাঙ্গতে

আসছে তারা জুটে।

দূর-দূরান্ত থেকে আসছে সবাই

জান্নাতী এই আঞ্জামে

সুর-মিতালী চারিদিকে

সিক্ত আজ মনে-প্রাণে।

তাকবীরের ঐ উঠছে আওয়ায

গগন বিদারী।

ত্বাগূতী রাজ ধ্বংস হচ্ছে

হচ্ছে সত্য বিজয়ী।

শিরক-বিদ‘আত মানবতার

এক মহামরণ যন্ত্রণা।

করো না আপোষ বাতিলের সাথে

হবে না কখনো হীনমনা।

তুমি বিদ‘আতের বিরুদ্ধে অগ্নিবারুদ

কালবৈশাখী ঝড়।

তোমার দাপটে মিথ্যাবাদীদের

কাপে হৃদয় ও অন্তর।

মিথ্যা দলনে তুমি হবে নাকো বিলীন

মুক্তির হাসি সত্যর শশী

জ্বলবে চিরদিন।

তুমি ৯১-এর দাওয়াতী প্রেরণা

হক প্রচারের চেতনা

এ দাওয়াত কবুল করে কামিয়াব হয়েছে

বহু সংস্কারমনা।

সব যালিমের প্রাণ করে খান খান

হবে সতত তোমার জয়

আল্লাহ তোমার সঙ্গে আছেন

করবে না কভু ভয়।

দাওয়াতের ময়দানে নেই

তোমার কোন তুলনা

হক প্রচারে তুমি অমর হও

হে তাবলীগী ইজতেমা!

হায়রে বৈশাখ

মুহাম্মাদ মোমতায আলী খান

ঝিনা, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

বৈশাখে হয় সবে আজব বাঙ্গালী

মেখে রং সেজে সঙ বিচিত্র বর্ণালী।

কেউ হয় বাঘ-সিংহ

কেউবা বিড়াল-কুকুর

জাতির বিবেক কাটছে ধীরে

অতি চালাক ইঁদুর।

আমরা মুসলিম না বাঙ্গালী

কাটেনি আজো দ্বন্দ্ব,

জ্ঞান-পাপীদের কূট-তর্ক জালে

বাড়ছে স্রেফ সন্দ।

সারাবছর খোঁজ থাকে না

বৈশাখে হয় বাঙ্গালী,

পান্তা-ইলিশ খাবার জোশে

করে বৃথা পকেট খালি।

সংস্কৃতির ‘স’ জানে না

লোক সে বড় সংস্কৃতিবান (?)

ইসলামী তাহযীব মানে না

তবুও পরিচয় তার মুসলমান (?)

প্রার্থনা

ইউসুফ আল-আযাদ

বাশাইল, টাংগাইল।

তোমার কাছে দু’হাত তুলে করি মুনাজাত

শান্তি-সুখে কাটে যেন সবারই দিন-রাত।

কেউ যেন রয়না দুঃখে এই ধরণীর বুকে

সবার হৃদয় ভরে দিও তোমার দেয়া সুখে।

থাকতে যেন পারি সবাই সবার সাথে মিলে

তোমার প্রেমের আলো দিও আমার মরা দিলে।

তোমার প্রেমের সুধা দিয়ে সিক্ত কর দিল

প্রেমের ছোঁয়ায় খুলে দিও বন্ধ মনের খিল।

আমার মুখের কথা যেন হয় না কভু তিক্ত

মুখের কথা করে দিও মধু দিয়ে সিক্ত।

মধুর মতো মিষ্টি কর মুখের যত ভাষা,

পূরণ করে দিও প্রভু মনের যত আশা।

আমার মনের মাঝে দিও ফুলের বাগ

হৃদয় হ’তে মুছে দিও সকল কালো দাগ।

মন বাগিচার শাখে শাখে দিও হাযার ফুল

সাহস দিও মনের মাঝে শোধরাতে সব ভুল।

তোমার পথে থাকতে দিও ডাকতে দিও আর

খুলে দিও বন্ধ মনের দ্বার।