মুসলিম জাহান

মুসলিম জাহান

জোর করে ১৩ হাযার পুরুষের দাড়ি কেটে দিয়েছে পুলিশ

তাযিকিস্তানে ১৩ হাযার পুরুষের দাড়ি কেটে দিয়েছে পুলিশ। একইসাথে সেখানে ধর্মীয় পোশাক বিক্রির দায়ে ১৬০টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশী প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসাবে সরকার এ কাজ করেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের খাতলুন অঞ্চলের পুলিশ প্রধান বাহরুম শরীফযাদা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৭ হাযার মুসলমান নারী ও বালিকাকে হিজাব পরিধান থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারা এ পদক্ষেপকে চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই বলে দাবী করেছে। প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে যাতে তাযিকিস্তানে চরমপন্থার বিকাশ ঘটাতে না পারে, সেজন্য দেশটির সেক্যুলার সরকার অনেক দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে বিয়ের সময় আরবী কোনো শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই প্রেসিডেন্ট এতে অনুমোদন দিবেন। প্রসঙ্গত, বেসরকারী হিসাবে তাযিকিস্তানের ২ হাযারেরও বেশী তরুণ সিরিয়ায় আইএসের হয়ে লড়াই করছে।

[স্বাভাবিক ধর্মীয় বিধান মানতে বাধা দেওয়াটাই মূলতঃ চরমপন্থী কাজ। ধর্ম নিরপেক্ষ সরকারের এই একচোখা নীতি সেদেশে ধর্মীয় চরমপন্থাকে আরও উসকে দিবে। অতএব অবিলম্বে এ থেকে বিরত হৌন (স.স.)]

মোবারকবিরোধী বিপ্লবের পাঁচ বছর : স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে মিসর

মিসরে হোসনী মোবারকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণ-আন্দোলনের পাঁচ বছর পূর্তি হয়েছে গত মাসে। বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মোবারক। কিন্তু আগের চেয়ে নিষ্ঠুর চেহারায় ফিরে গেছে দেশটি। আরও কঠোর স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পড়েছে মিসরবাসী। বিরোধী দলগুলোর ওপর চলছে চরম দমন-নিপীড়ন। ফলে চরমপন্থার উত্থানও হচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

২০১১ সালে রুটি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের দাবীতে লাখ লাখ মানুষ মোবারকের বিরুদ্ধে বিপ্লব শুরু করে। ১৮ দিনের গণ-আন্দোলনে ৩০ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। মুক্তি পায় মিসরবাসী। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বাদ পেতে না পেতেই ২০১৩ সালের জুলাইতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি। সব বিরোধী মতকে দমন করে ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। সিসির বিরোধিতা করায় মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েক শ’ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। হাযার হাযার নেতা-কর্মীকে কারাবরণ করতে হয়েছে। বাদ যায়নি বাম ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোও। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দেশটি পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কায়রোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক গামাল ইদ বলেন, দেশের ভেতরে সংঘাত-সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এখনকার মানবাধিকার পরিস্থিতি হোসনী মোবারক কিংবা মুসলিম ব্রাদারহুডের শাসনামল থেকেও শোচনীয়। অন্যদিকে দমন-নিপীড়নের ফলে দেশটিতে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন, প্রতি আন্দোলন, হানাহানিতে ক্লান্ত অনেক মিসরবাসীই সাফাই গাইছেন সিসির পক্ষেই।