স্বদেশ-বিদেশ

স্বদেশ

‘বৃক্ষ মানব’ খুলনার আবুল বাজনদার

খুলনার পাইকগাছা উপযেলা সদরে দেশে প্রথমবারের মত বৃক্ষ মানব নামক বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে। আবুল বাজনদার নামে ২৬ বছর বয়স্ক এই যুবকের আক্রান্ত দুই হাতের তালু ও ১০ আঙুলে গাছের শেকড়ের মতো দেখতে শক্ত অঙ্গ গজিয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত এই ভ্যানচালক। চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে এবং দেশে বিভিন্ন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন উন্নতি হয়নি বরং ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।

এখন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত। হাসপাতালের পরিচালক ড. সামন্ত লাল সেন জানান, গোটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত আবুলসহ তিনজন মানুষের এই রোগ হয়েছে, যা ‘বৃক্ষ মানব’ রোগ হিসাবে পরিচিত। এর আগে ২০০৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় এক বৃক্ষ মানবের শরীরে কয়েকবার অপারেশনের মাধ্যমে তাকে সারিয়ে তোলা হয়েছে। ডেবে কোসওয়ারা নামের ঐ ব্যক্তির শরীরেও গাছের মতো অংশ গজায়। চিকিৎসকরা জানান, এইচপিভি নামক এক প্রকার ভাইরাসের কারণে এই রোগ হয়। অপারেশনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব। তবে তা ব্যয় বহুল।

জুম‘আর খুৎবা নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার!

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মো. আফজাল সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, বাংলা বক্তব্যকালে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টানা হয়। খতীবরা বাংলায় যে ওয়ায করেন, সেখানে যেন তারা আরবী খুৎবার সারমর্মটি বলেন। মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে কুরআন-হাদীছ পরিপন্থী অথবা কোন রাজনৈতিক দলের কথাবার্তা যেন তারা না বলেন, এ ব্যাপারে খতীবদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানান ইফা মহাপরিচালক।

তিনি আরও জানান, খুৎবা আরবীতেই দিতে হবে। এটা মেনডেটরি। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নিয়ম জেনে লাভ নেই, এই উপমহাদেশে ইসলামের শুরু থেকে আরবীতেই খুৎবা দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। তবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে খুৎবার আগে এর সারমর্ম বাংলায় বলতে পারেন। সামাজিক সমস্যাবলীও থাকতে পারে। তবে অবশ্যই রাজনৈতিক কোনও কিছু থাকবে না।

এদিকে দেশের সব মসজিদের খতীব এবং জুম‘আর খুৎবা সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখার জন্য যেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, মসজিদগুলোকে যেন রাজনৈতিক প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা না হয়, সে জন্যই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।

[এটি সরকারের মারাত্মক ভুল পদক্ষেপ হবে। আমরা এ থেকে ফিরে আসার আহবান জানাচ্ছি। ডিজি ছাহেব খুৎবার মর্মই বুঝেন না। তাঁকে জেনে-বুঝে কথা বলার আবেদন জানাচ্ছি’ (স.স.)]

বিদেশ

দাড়ি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

দাড়ি রাখা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? নাকি এটা নানারকম রোগ-জীবাণুর আস্তানা? এ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে। একদল বিজ্ঞানী বলছেন, ক্লিন শেভড পুরুষের চেয়ে দাড়িওয়ালাদের মুখে রোগ-জীবাণু বেশী, এমন কোন প্রমাণ তারা পাননি। যারা দাড়ি রাখেন, তারা এর মধ্যে নানা রোগ-জীবাণু বহন করে চলেছেন এমন ভয় অনেকের মধ্যেই কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা চালানো হয়। তাদের গবেষণার ফল অনেককেই অবাক করেছে। ‘জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে’ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই বেশী রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্টাফ অরিয়াস বলে, যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চাইতে দাড়ি কামানোদের মুখে তিনগুণ বেশী মাত্রায় পাওয়া গেছে। এর কারণ কি? গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ক্ষত হয়, তা  ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরী করে। অন্যদিকে দাড়ি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। দাড়িতে এমন কিছু ‘মাইক্রোব’ আছে, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে।

[ইসলামের প্রতিটি বিধানই মানুষের জন্য কল্যাণকর। অতএব বেশী মাথা না ঘামিয়ে মেনে চলার মধ্যেই মঙ্গল নিহিত (স.স.)]

যোগব্যায়াম বাধ্যতামূলক হ’লে ছালাতও শেখাতে হবে

-মাওলানা সাজ্জাদ নোমানী

‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা সাজ্জাদ নোমানী বিজেপি পরিচালিত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিকদের ওপর হিন্দুত্ব চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। মাওলানা নোমানী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ভারতীয় নাগরিকদের উপর সূর্য নমষ্কার, যোগব্যায়াম, বন্দে মাতরম সঙ্গীত গাওয়া ইত্যাদি বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে মূলতঃ হিন্দু সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪-২৫ ফেব্রুয়ারী ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের পক্ষ থেকে গ্রেটার বোম্বাইয়ের নিকটবর্তী মুম্ব্রা শহরে  ‘বিশ্বাস বাঁচাও, সংবিধান বাঁচাও’ নামে দু’দিন ব্যাপী সম্মেলন করা হবে। এ বিষয়ে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। যদি বিজেপি সরকার ছাত্র এবং সরকারী কর্মীদের হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত যোগব্যায়াম এবং সূর্য নমষ্কার করতে বাধ্য করে, তাহ’লে সরকারকে তাদের ‘ছালাত’ পড়ানোও শেখাতে হবে।

একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতি এবং ধর্মের উপরে হিন্দুত্ব চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন মাওলানা নোমানী।

নতুন আতঙ্ক জিকা ভাইরাস : বিশ্বজুড়ে যরূরী অবস্থা

বিশ্বব্যাপী বিশেষতঃ ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে বর্তমানে যে ভয়াবহ ভাইরাসের তান্ডব দেখা যাচ্ছে তার নাম হ’ল জিকা। এটা একেবারেই অচেনা রোগ। উপসর্গও খুব অস্পষ্ট। ফলে এ রোগে আক্রান্ত হ’লে নির্ণয় করাও সহজ নয়। নিঃশব্দে মস্তিষ্ক শেষ করে দেয় জিকা ভাইরাস, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। এডিস মশা থেকে সাধারণত জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। এছাড়া যৌন সংসর্গের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস ছড়ায় বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর, হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথাসহ নানা ছোটখাটো কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। কিন্তু তা কম সময়ের মধ্যে সেরেও যায়। তবে মূল বিপত্তি ঘটে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে। কারণ মাইক্রোসেফালী বা অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে হাযার হাযার শিশুর জন্মের জন্য এই ভাইরাসটিকেই দায়ী করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ রোগটির কোন প্রতিকার নেই, প্রতিষেধকও নেই।

জিকা ভাইরাস দুই আমেরিকার ২৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দি প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ। ব্রাজিলে ছোট মাথা নিয়ে শিশুর জন্মত্রুটির যে মহামারী দেখা দিয়েছে, তার পিছনেও এই ভাইরাসটিকে দায়ী করা হচ্ছে। শুধু ব্রাজিলেই এই ভাইরাসের কারণে ৪০ হাযার শিশু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হ’লে তাতে গর্ভের শিশুও আক্রান্ত হয় এবং শিশু ছোট মাথা নিয়ে জন্ম নেয়। ফলে এসব শিশুর বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হ’তে পারে।

ল্যাটিন আমেরিকাজুড়ে বিস্ফোরিত হওয়ার পর রোগটি নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে গোটা বিশ্বও। দক্ষিণ আমেরিকার পর সম্প্রতি জিকা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বময় যরূরী অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এডিস মশার বিস্তার ঘটে ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা জঙ্গলে বানরের শরীরে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল। পরে জঙ্গলের নামানুসারে ভাইরাসটির নামকরণ করা হয় জিকা। ১৯৫২ সালে জিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র ভাইরাস হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

গবেষকরা বলছেন, নগরায়ন ও বনাঞ্চল উজাড়ের মতো কার্যক্রম এই ভাইরাসের দ্রুত বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যামি ভিট্রর বলেন, এই ভাইরাসের উত্থান ও বিস্তার সরাসরি পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি বলেন, যখন বন-জঙ্গলের আধিক্য ছিল তখন এ ধরনের রোগ বনের পশু ও মশার মধ্যে চক্রাকারে আবর্তিত হ’ত। মানুষ যখন বনভূমি উজাড় করতে শুরু করে তখন প্রাকৃতিক এই সিস্টেমটি ভেঙে পড়ে এবং মানুষের মধ্যে এসব রোগের সংক্রমণ শুরু হয়। কীটপতঙ্গের স্বাভাবিক আবাস ভেঙে দেয়ার ফলে তারা এখন লোকালয়ে চলে আসছে।

ইউরোপে ১০ হাযার শরণার্থী শিশুকে যৌনকর্মী বানানো হচ্ছে!

অভিভাবকহীন অন্তত ১০ হাযার শরণার্থী শিশু ইউরোপে পৌঁছার পর নিখোঁজ রয়েছে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অপরাধবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ইউরোপোল জানিয়েছে। ইউরোপোলের প্রধান ব্রায়ান ডোনাল্ড জানিয়েছেন, হাযার হাযার শরণার্থী শিশু ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তাদের আর হদিস মিলছে না। কেবল ইতালীতেই ৫ হাযার শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া সুইডেনে খোঁজ নেই আরো ১ হাযার শিশুর। তা হ’লে কি ইউরোপে হারিয়ে যাওয়া ১০ হাযার শরণার্থী শিশুকে যৌনকর্মী বানানো হচ্ছে? কারণ সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘শিশুরা হারিয়ে গেছে’।

ডোনাল্ড আরও জানান, ইউরোপে শরণার্থীদের যে ঢল নামে, তা অবৈধভাবে ব্যবহারের জন্য ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অপরাধী চক্র গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, আমরা জানি না ঐ শিশুরা কোথায়। তবে কিছু তথ্যপ্রমাণ দেখে মনে হচ্ছে ওদের যৌনকর্মী হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে অনেককে পাচারও করে দিচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। কারণ ইতিমধ্যে জার্মানী, হাঙ্গেরী এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন যৌনপল্লীতে ইউরোপোল কিছু নিখোঁজ শরণার্থী শিশুর সন্ধানও পেয়েছে। যাদেরকে কয়েক হাত ঘুরে ঐ পেশায় আনা হয়েছে।

এদিকে শিশুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, শুধু ২০১৫ সালেই ইউরোপে প্রায় ২৬ হাযার শরণার্থী শিশু এসেছে। এছাড়া যে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী গত বছর ইউরোপে প্রবেশ করেছে, তাদের ২৭ শতাংশই শিশু ও কিশোর। ইউরোপে প্রবেশের পর থেকেই তারা অদৃশ্য হয়ে যায়।

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রতিবেদন

৫ বছরে সিরীয় গৃহযুদ্ধে নিহত ৪ লাখ ৭০ হাযার

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এই সংখ্যা জাতিসংঘ ঘোষিত সংখ্যার দ্বিগুণ। এর বাইরে বাস্ত্তচ্যুত হয়েছে ৪৫ শতাংশ সিরীয়। সিরিয়া যুদ্ধে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়ান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের (এসসিপিআর) একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের বিভীষিকায় পড়ে সিরিয়ার জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাযার লোক।

‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিত স্বৈরাচারবিরোধী তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ার সিরিয়াতেও এসে লাগে ২০১১ সালে। ওই বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছরে এই জোয়ারের সামান্যতম কোন সুফল না মিললেও এই সময়ে হতাহত হয়েছে বিরাটসংখ্যক জনগোষ্ঠী। প্রতিবেদন অনুযায়ী আহতের সংখ্যা ১৯ লাখ এবং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৫ হাযার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।

কৃষ্ণগহবরে মিটবে সারা বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা : হকিং

বিশিষ্ট পদার্থবিদ অধ্যাপক স্টিফেন হকিংয়ের মতে, ছোট কৃষ্ণগহবরগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা যায়। তিনি দাবী করেছেন, মহাবিশ্বের পর্বতাকৃতির একটি কৃষ্ণগহবর গোটা পৃথিবীর বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করতে পারে। মহাবিশ্বে অনেক কৃষ্ণগহবর রয়েছে, কিন্তু বিশাল আকৃতির কৃষ্ণগহবর শনাক্ত করা কঠিন। তবে অপেক্ষাকৃত ছোট পর্বতাকৃতির একটি কৃষ্ণগহবর থেকে নিঃসৃত রশ্মি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে এবং পৃথিবীর শক্তির যোগান দেবে। অধ্যাপক হকিং তার এক বক্তৃতায় বলেন, ‘পর্বতাকৃতির একটি কৃষ্ণগহবর প্রায় ১০ মিলিয়ন মেগাওয়াট হারে তেজস্ক্রিয় ও গামা রশ্মি বিচ্ছুরণ করবে, যা সারা বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত হবে। তবে বিশাল ক্ষমতার সঙ্গে বিশাল ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ যদি কৃষ্ণগহবরের ভয়ঙ্কর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহ’লে এটি পৃথিবীর মাঝে ডুবে যেতে পারে। তাই কৃষ্ণগহবর থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে এর শক্তি কাজে লাগাতে হবে।