সংগঠন সংবাদ

আন্দোলন 

  তাবলীগী সভা

ভোলা, ২০শে ডিসেম্বর’১৪ শনিবার : অদ্য সকাল ১০-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ বরিশাল যেলার উদ্যোগে ভোলা শহরের ওয়েস্টার্ন পাড়া জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব একেএম ফারূকুযযামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক আব্দুল হামীদ।

যশোর ৩০শে ডিসেম্বর’১৪ শুক্রবার : অদ্য সকাল ১০-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ যশোর যেলার উদ্যোগে শহরের ষষ্ঠীতলা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. আ. ন. ম বযলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকবার হোসাইন, কেশবপুর উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি  মুত্তালিব বিন ঈমান প্রমুখ।

মেহেরপুর ১৫ই জানুয়ারী বৃহস্পতিবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ গাংনী থানাধীন তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার উদ্যোগে স্থানীয় আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মাদ আবুল বাশার আব্দুল্লাহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি হাসানুল্লাহ ও এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল লতীফ প্রমুখ।

প্রশিক্ষণ

বামুন্দী, মেহেরপুর ২রা ফেব্রুয়ারী সোমবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ গাংনী থানাধীন বামুন্দী এলাকার উদ্যোগে বামুন্দী বাজার কেন্দ্রীয় আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মাদ বযলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর। অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি হাসানুল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন বামুন্দী-নিশিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জনাব কামারুয্যামান। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বামুন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল আউয়াল।

শৌলমারী, মেহেরপুর ৬ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার : অদ্য সকাল ৯-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ মেহেরপুর যেলার উদ্যোগে শৌলমারী আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। মেহেরপুর সদর থানা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আলহাজ্জ আযীমুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষণ দান করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন ও হাড়াভাঙ্গা ডিএইচ সিনিয়র মাদরাসার ভাইস-প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠানে যেলার সকল শাখা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

‘আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় অফিস স্থানান্তর

নওদাপাড়া, রাজশাহী ১৩ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার : ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ ও সোনামণি-র কেন্দ্রীয় কার্যালয় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী কমপ্লেক্স, নওদাপাড়া, রাজশাহীর পশ্চিম পার্শ্বস্থ ভবনের ২য় ও ৩য় তলা থেকে পূর্ব পার্শ্বস্থ ভবনের ২য় তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার উক্ত অফিস দু’টির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অুনষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর মজলিসে আমেলার সদস্যবৃন্দ, ‘যুবসংঘ’ ও সোনামণি’র কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলবৃন্দ এবং বিভিন্ন যেলা থেকে আগত ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সকলকে পিছনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৭৮-য়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যুবসংঘের পরপর দু’টি সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ঢাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। তাতে নযর পড়ে একটি পরিচিত ইসলামী ছাত্র সংগঠনের। যারা সর্বদা সেখানে বৈঠক করত। তাদের চক্রান্তে প্রশাসনের নির্দেশে যেতে হয় মসজিদের বাইরে রমনা পার্কে ঘাসের উপর। এমনকি যাত্রাবাড়ীতে আহলেহাদীছের কেন্দ্রীয় মাদরাসায় ১৯৮০ সালের পর যুবসংঘের ছেলেদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। তখন তারা পার্শ্ববর্তী মহাসড়কের কালভার্টের নীচে রাতের অন্ধকারে বৈঠক করত। ১৯৮৪-তে রাজশাহীর রাণীবাজার আহলেহাদীছ মাদরাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া অফিস থেকে পরবর্তীতে বের করে দেবার জন্য যুবসংঘের ছেলেদের জন্য টয়লেটে তালা মারা হয়। এমনকি নীচে এসে ওযূ করার ট্যাপ থেকে ইফতারীর জন্য পানি নিতে গেলে হাত থেকে পানির জগ ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে ১৯৮৯ সালের ২১শে জুলাই আহলেহাদীছ যুবসংঘের সাথে তৎকালীন জমঈয়তে আহলেহাদীস একতরফাভাবে ‘সম্পর্কহীনতা’ ঘোষণা করে। এদেশে আহলেহাদীছ আন্দোলনের ইতিহাসে যাকে ‘কালো দিবস’ হিসাবে অভিহিত করা হয়। অতঃপর একই বছর ২৮শে ডিসেম্বর তারা সৃষ্টি করেন যুবসংঘের পাল্টা ‘শুববান’। এভাবে যে ফাটল ও বিভক্তি সেদিন তারা নিজেরা সৃষ্টি করেছিলেন, তা আজও তারা জিইয়ে রেখেছেন নিজেদের স্বার্থেই। যদিও আমাদের পক্ষ থেকে ঐক্য চেষ্টার কোন অভাব তখনও ছিল না আজও নেই, যদি না সেখানে আহলেহাদীছের মৌলিক আদর্শ অক্ষুণ্ণ থাকে।

অতঃপর নওদাপাড়ায় নিজেদের বিল্ডিংয়ে কেন্দ্রীয় অফিস স্থানান্তরের পরেও আমাদের কারাবরণকালে আন্দোলন-এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর এখান থেকে যুবসংঘের অফিস হটানোর জন্য নোটিশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাজশাহী শহর কেন্দ্রিক নয়, রবং গোদাগাড়ী উপযেলার অন্তর্ভুক্ত ঝিনা এলাকাকে কেন্দ্র করেই সর্বপ্রথম ‘ঝিনা সাংগঠনিক যেলা’ গঠিত হয়। যখন মহিষের গাড়ীতে করে এক হাঁটু কাদাপানির মধ্যে আমরা দাওয়াতী সফরে যেতাম।

তিনি বলেন, তোমরা অতীতকে ভুলো না। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত সম্পর্কে হুঁশিয়ার থেকো। অলসতা ও বিলাসিতাকে হারাম করো। আহলেহাদীছ-এর হক আন্দোলনকে শহরে-গ্রামে সর্বত্র ছড়িয়ে দাও। এ আন্দোলনের জন্য ব্যয়িত প্রতিটি মুহূর্ত তোমাদের জন্য পরকালীন পাথেয় হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফ্ফর বিন মুহসিনের অন্যায় কারাবরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন এবং তার আশু মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করেন। অতঃপর তার জন্য আইনী প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সবাইকে জানানো হয়।

‘আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব আব্দুর রশীদ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক ও ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আমীনুল ইসলাম, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রবাসী সংবাদ

সিঙ্গাপুর, ১লা জানুয়ারী বৃহস্পতিবার : অদ্য সকাল সাড়ে ১০-টায় সিঙ্গাপুর জাতীয় সুলতান মসজিদে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সিঙ্গাপুর শাখার উদ্যোগে মাসিক তাবলীগী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। সিঙ্গাপুর ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল হালীম (কুমিল্লা)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী ইজতেমায় বক্তব্য পেশ করেন সিঙ্গাপুর ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মো‘আয্যম হোসাইন (বগুড়া), হাফেয সাইফুল ইসলাম (ময়মনসিংহ), মুহাম্মাদ শামীম (নরসিংদী), আব্দুল লতীফ (সাতক্ষীরা), মুহাম্মাদ শফীক (কুষ্টিয়া), মুহাম্মাদ এমদাদুল হক (গাইবান্ধা), মাযহারুল ইসলাম (পটুয়াখালী), আব্দুল কুদ্দূস (পাবনা), রাকীবুল ইসলাম (মাগুরা) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন আনোয়ার হোসাইন (রাজশাহী), ইমাম হোসাইন (কুমিল্লা), রবীউল ইসলাম (যশোর) এবং মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন (টাঙ্গাইল)। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন যেলার ৩৮ জন সিঙ্গাপুর প্রবাসী ভাই ছহীহ আক্বীদা গ্রহণ করে আহলেহাদীছ হয়ে যান। উক্ত তাবলীগী ইজতেমায় আড়াই শতাধিক কর্মী ও সুধী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন আব্দুল মুক্বীত (কুষ্টিয়া)।

রিয়াদ, সঊদী আরব ২৩ জানুয়ারী শুক্রবার : অদ্য সকাল ৯-টায় রিয়াদের হাইয়েল হাজেম ইস্তেরাহায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ সঊদী আরব শাখার উদ্যোগে এক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সউদী আরব ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ও বাদি‘আ দাওয়া সেন্টারের দাঈ জনাব মুশফিকুর রহমান (রাজশাহী)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সউদী আরব ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি ও আল-কাসিম আল-খাবরা দাওয়া সেন্টারের দাঈ মুহাম্মাদ আখতার মাদানী (নওগাঁ) প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা পেশ করেন সউদী আরব ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও আযীযিয়া দাওয়া সেন্টারের দাঈ জনাব আব্দুল বারী (রাজশাহী) এবং মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আহসান হাবীব (নওগাঁ)। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সময় বিকাল ৫-টায় স্কাইপির মাধ্যমে দারুল ইমারত আহলেহাদীছ, নওদাপাড়া, রাজশাহী থেকে উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য পেশ করেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। অনুষ্ঠানে আল-খাবজী, আল-কাসীম, মদীনা, জেদ্দা, দাম্মাম সহ রিয়াদের বিভিন্ন শাখা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সুধী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন রিয়াদ ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম (টাঙ্গাইল)। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘আন্দোলন’ সঊদী আরব শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল হাই (রাজশাহী), আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করেন প্রচার সম্পাদক সোহরাব হোসাইন (পাবনা) ও দফতর সম্পাদক ফরহাদ হোসাইন (রাজবাড়ী)। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাযী রিয়াযুল ইসলাম মধু (রাজবাড়ী) এবং সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন (কুমিল্লা) প্রমুখ।

মৃত্যু সংবাদ

এডভোকেট সা‘দ আহমাদের ইন্তেকাল : বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কুষ্টিয়া যেলার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট সা‘দ আহমাদ গত ২রা ফেব্রুয়ারী সোমবার ভোর ৫-টায় কুষ্টিয়া শহরের ১০০ ঝিনাইদহ রোডের বাসায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। একই দিন বিকাল ৩-টায় আদালত চত্বরে তার প্রথম জানাযা ও বিকাল ৫-টায় দ্বিতীয় জানাযা শেষে পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার জানাযার ছালাতে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম, কুষ্টিয়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শেখ আমীনুদ্দীন সহ যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র নেতৃবৃন্দ, যেলার পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী, আইনজীবি সহ সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

জীবনী : এডভোকেট সা‘দ আহমাদ ১৯২৭ সালের ১লা মে কুষ্টিয়া যেলার ভেড়ামারায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি ভারতের আলীগড় বিশ্বব্যিালয় থেকে বিকম প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং ১৯৪৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ (অর্থনীতি) প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় এবং এলএলবিতে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। তিনি পাকিস্তান আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। অতঃপর ১৯৫০ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ১৯৫২ সালে আইনজীবী হিসাবে অবিভক্ত কুষ্টিয়া বারে যোগদান করেন। ১৯৫৭ সালে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি অবিভক্ত কুষ্টিয়া যেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পূর্ব পাকিস্তান সরকারের জুট এডভাইজারি বোর্ডের সদস্য, পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স করপোরেশনের ডাইরেক্টর এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুসলিম ছাত্রলীগ, আওয়ামী মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আমলে পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারী বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৫৩, ১৯৫৯ ও ১৯৬২ সালে নিবর্তনমূলক আইনে বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ করেন। অতঃপর আইডিএলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন ও মাওলানা আব্দুর রহীমের মৃত্যুর পর কিছুদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনীর আমন্ত্রণে তিনি ইরান সফর করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি আহলেহাদীছ হন। ২০০৪ সালের ১৪ই এপ্রিল তিনি মুহতারাম আমীরে জামা‘আতকে প্রধান অতিথি করে রিযিয়া সা‘দ ইসলামিক সেন্টারে ‘ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা’র উপরে একটি সফল সেমিনার করেন (দ্রঃ আত-তাহরীক ৭/৮ সংখ্যা, মে ২০০৪)। ২০০৫ সালে আমীরে জামা‘আত গ্রেফতার হ’লে তিনি তাঁর পক্ষে বগুড়া যেলা আদালতে জোরালো এবং দীর্ঘ শুনানী করেন। এছাড়া তাঁর মুক্তির দাবীতে ১৭ই জুন’০৫ তারিখে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে তিনি লিখিত ভাষণ প্রেরণ করেন (দ্রঃ আত-তাহরীক ৮/১০ সংখ্যা, জুলাই ২০০৫)

তিনি শহরের ঝিনাইদহ রোডে প্রতিষ্ঠিত ‘রিযিয়া সা‘দ ইসলামিক সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ৩০শে জুন তিনি উক্ত ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিবের উপর কোর্টে রেজিষ্ট্রিকৃত ডীড-এর মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। মৃত্যুর আগে প্রায় চার বছর তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।

তিনি বেশ কয়েকটি বইয়ের রচয়িতা ছিলেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ’ল- আমার দেখা সমাজ ও রাজনীতির তিন কাল, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর দাওয়াত ও আজকের মুসলমান, ইসলামের অর্থনীতি, সূরা আল-আসরের আলোকে আমাদের সমাজ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সাঃ), ইসলামে মসজিদের ভূমিকা প্রভৃতি।

[আমরা তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।-সম্পাদক]