মুসলিম জাহান

 কিং ফায়ছাল পুরস্কার পেলেন ডা. যাকির নায়েক

সঊদী আরবের কিং ফায়ছাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার-২০১৫ অর্জন করেছেন ভারতের জনপ্রিয় ইসলামিক চ্যানেল ‘পিস টিভি’র প্রতিষ্ঠাতা ও ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. যাকির নায়েক। বিশুদ্ধ ইসলামী আক্বীদা-বিশ্বাস প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি এ পুরস্কার পেলেন। গত ৩রা ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালেদ আল-ফায়ছাল এবং কিং ফায়ছাল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আবদুল্লাহ আল-ওছায়মীন এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। ডা. যাকির নায়েক ছাড়াও এ বছর নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে রসায়ন শাস্ত্রে সুইজারল্যান্ডের প্রফেসর ওমর এমওয়ানেস ইয়াগহী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেসর মাইকেল গার্টজেল, ইসলামিক স্টাডিজে সঊদী আরবের ড. আবদুল আযীয বিন আবদুর রহমান কাকী ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক জেফ্রী ইভান গর্ডন এ পুরস্কার লাভ করেন। প্রত্যেক বিজয়ী পুরস্কার হিসাবে পাবেন একটি করে সনদপত্র, ২০০ গ্রাম স্বর্ণ ও ৭ লাখ ৫০ হাযার সঊদী রিয়াল।

ইসলামী শাসন ব্যবস্থা অনুসরণে আচেহ প্রদেশ

আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একটি সুপরিচিত প্রদেশ। সুমাত্রা দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের শেষ প্রান্তে এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এ প্রদেশ অবস্থিত। আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দাহ আচেহ। ইন্দোনেশিয়ার এ প্রদেশের বেশীর ভাগ অধিবাসী ধার্মিক মুসলমান। এখানে প্রাদেশিক সরকার ইসলামী আইন পাস করেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্নপ্রায় দূরবর্তী এ প্রদেশে প্রায় অর্ধকোটি লোকের বসবাস। ২০০১ সাল থেকে এখানে ইসলামী আইন কার্যকর রয়েছে। আইন অনুযায়ী এখানে মদ্যপান, জুয়া খেলা এবং বিবাহ বহির্ভূত দৈহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী বিধান পালনে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রদেশটিতে বিভিন্ন অপরাধ দমনে গত সেপ্টেম্বরে স্থানীয় পার্লামেন্ট একটি নতুন আইন অনুমোদন করে। সে অনুযায়ী এখন ব্যভিচার ও সমকামিতার মত জঘন্য অপরাধের বিচার জনসমক্ষে হয়। ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য স্থানে সমকামিতা অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয় না। কিন্তু এই প্রদেশে সমকামিতার অপরাধে শাস্তি হিসাবে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত করা হয়। এছাড়া সমকামিতায় লিপ্ত যুগলদের গ্রেফতার করতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য এক হাযার গ্রাম স্বর্ণ বা এর সমপরিমাণ ৩৮ হাযার মার্কিন ডলার পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০০৯ সালে ব্যভিচারের অপরাধে পাথর মেরে হত্যার আইন জারী করা হ’লেও পরে তা সংশোধন করে ১০০ বেত্রাঘাত অনুমোদন করে প্রাদেশিক পার্লামেন্ট। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য ইন্দোনেশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাথর মারার আইনটি পাঠানো হয়েছে। ২০১৫ সালে এর সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাদেশিক শরী‘আহ পরিষদের সেক্রেটারী ফায়ছাল আলী বলেন, আইন অমান্যকারীদের সতর্ক করাই জনসমক্ষে বেত্রাঘাতের উদ্দেশ্য। সাধারণ নিয়মে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর অপরাধীদের কারাগারে পুরে রাখার চেয়ে এটি একটি ভিন্ন ধরনের স্বল্প মেয়াদি শাস্তি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব মতে আচেহ প্রদেশে জুয়া খেলা, মদ্যপান ও ব্যভিচারের অপরাধে এ বছর ৪১ জনকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেয়া হয়েছে।

আচেহ প্রদেশের ধর্মীয় পুলিশ এসব অনুশাসন কার্যকর করতে ভূমিকা পালন করে। জুম‘আর ছালাতের সময় দোকানগুলো বন্ধ করা এবং নারীরা যাতে পোশাকনীতি অমান্য না করে সেদিকে খেয়াল রাখে তারা। মেয়েদের জন্য মাথায় ওড়না দেয়া বাধ্যতামূলক এবং আঁটসাঁট পোশাক পরা নিষিদ্ধ।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর সকালে আঘাত হানা সুনামিতে প্রদেশটির প্রায় এক লাখ ৩০ হাযার মানুষ নিহত হওয়ার পর থেকে সেখানকার মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশী ধর্মপ্রাণ। কারণ তাদের বিশ্বাস ঐ সুনামি ছিল আল্লাহর গযব। এই বিশ্বাস তাদেরকে ধর্মের প্রতি গভীর আস্থাশীল করেছে।

[আমরা আচেহ প্রদেশের শাসকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলিকে তাদের অনুসরণের আহবান জানাচ্ছি (স.স.)]

জর্ডানের পাইলটকে পুড়িয়ে মারল ইসলামিক স্টেট

ইরাকের কথিত ইসলামিক স্টেট ‘আইএস’-এর হাতে সম্প্রতি বন্দী হওয়া জর্ডানের পাইলট মু‘আয আল-কাছাছবেহকে জীবিত পুড়িয়ে মেরেছে আইএস। তাদের প্রকাশিত এ হত্যাকান্ডের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, একটি খাঁচার ভিতরে কাছাছবেহ-কে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার পাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে তেল। তারপর সেই তেলে আগুন দেয়া হ’লে খাঁচার ভেতরে ছটফট করতে করতে জীবন্ত অবস্থায় দগ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

উল্লেখ্য, আইএস-এর বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তাতে অংশ নিয়েছিলেন জর্ডানের এই পাইলট। গত ডিসেম্বরে এক অভিযানের সময় সিরিয়ার রাক্কা শহরে তার বিমানটি ভূপাতিত হ’লে সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আইএস। ভিডিওচিত্রটি প্রকাশের পর এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং প্রতিশোধের দাবীতে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে মিছিল করেছে শত শত মানুষ। এছাড়া ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে জর্ডান সরকার ‘দুনিয়া কাঁপানো’ প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

[এভাবে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মেরে শাস্তি দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ (বুখারী)। ইসলামের নামে এই ঘৃণ্য পন্থা অবলম্বন করা ইসলামের অবমাননা ছাড়া কিছুই নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং জিহাদের নামে এসব চরমপন্থী অপতৎপরতা থেকে তওবা করে ইসলামের দাওয়াতী পথে ফিরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি (স.স.)]

শরণার্থীর ভারে ভারাক্রান্ত বিশ্ব

বিশ্বের নানান জায়গায় বৈষম্যবাদী যুদ্ধ, বিশেষ করে উগ্রবাদী, আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী মনোবৃত্তির কারণে সৃষ্ট যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষকে বেছে নিতে হচ্ছে শরণার্থীর জীবন। দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে শরণার্থীর মিছিল। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে যে, বর্তমান বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা এক কোটি ৬৭ লাখ। অপরদিকে অভ্যন্তরীণভাবে ৩ কোটি ৩৩ লাখ লোক উদ্বাস্ত্ত। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন বা আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে অভিবাসীর সংখ্যা ২৩ কোটি ২০ লাখ। প্রতিনিয়ত অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ অভিবাসী। ঐ সংস্থার তথ্য মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শরণার্থীর এ সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশী।