প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/২০১) : ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যে ইনসুলিন দেওয়া হয়, তাতে শূকরের কোষ থেকে গৃহীত উপাদান রয়েছে। এক্ষণে উক্ত ঔষধ গ্রহণ করা যাবে কি?

-আলী হাসান

সারিয়াকান্দী, বগুড়া।

উত্তর : হারাম বস্ত্ত দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা হারাম বস্ত্ত দ্বারা চিকিৎসা করো না (ছহীহুল জামে‘ হা/১৭৬২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৬৩৩)। তবে নিরুপায় অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে হারাম বস্ত্ত দ্বারা তৈরীকৃত ঔষধ সেবন করা যেতে পারে (সূরা আন‘আম ১১৯)। উল্লেখ্য যে ১৯২২ সালে প্রথম ইনসুলিন আবিষ্কার হয়। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ইনসুলিনের উপাদানসমূহের কিছু অংশ গরু ও শূকরের কোষ থেকে গ্রহণ করা হ’ত। কিন্তু বর্তমানে জেনেটিক কৌশলের মাধ্যমে ন্যাচারাল ইনসুলিন তৈরী করা হয়। সুতরাং ইনসুলিনকে ঔষধ হিসাবে ব্যবহারে কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (২/২০২) : ছাহাবী সালমান ফারেসী (রাঃ) কি অহী লেখক ছিলেন? তিনি কখন, কোথায় এবং কি পরিস্থিতিতে মারা যান? বলা হয়ে থাকে যে, রাসূল (ছাঃ)-এর তিরোধানের পর খিলাফত দাবী করায় ওমর (রাঃ) তাকে হত্যা করেন। তাঁর জীবনী বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আবুবকর ছিদ্দীক, ধানমন্ডি, ঢাকা।

উত্তর : হাফেয শামসুদ্দীন যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হিঃ) তাঁর বিখ্যাত জীবনীগ্রন্থে ৫৩ পৃষ্ঠার দীর্ঘ আলোচনায় বলেন, তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত জ্ঞানী ও দূরদর্শী ছাহাবীগণের অন্যতম। তিনি ৬০টি হাদীছ বর্ণনা করেন। যার মধ্যে ৪টি ছহীহ বুখারী ও ৩টি মুসলিমে এসেছে। তাঁর থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন ইবনু আববাস, আনাস, আবুত তোফায়েল প্রমুখ বিখ্যাত ছাহাবীগণ। তিনি ইরানের ইস্ফাহান নগরীর ‘জাই’ নামক গ্রামে এক অগ্নিপূজক পিতার গৃহে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন। ফলে তাঁকে ঘরের মধ্যে লোহার শৃংখলে আবদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু একদিন শাম (সিরিয়া) থেকে একটি খৃষ্টান ব্যবসায়ী কাফেলা এসেছে জানতে পেরে তিনি গোপনে শিকল ভেঙ্গে তাদের সাথে শামে চলে যান। সেখানে তিনি সেখানকার প্রধান পাদ্রীর সেবক হন। কিন্তু তিনি দেখতে পান যে, পাদ্রী সবাইকে ছাদাক্বা করতে বলেন। অথচ তা জমা হ’লে নিজে আত্মসাৎ করেন। তিনি তা থেকে অভাবগ্রস্তদের দান করেন না। অথচ তাঁর কাছে তখন ৭ কলস সোনা ও রূপা সঞ্চিত ছিল। এতে তিনি বিরূপ হয়ে পড়েন। এসময় পাদ্রী মারা গেলে ভক্তদের তিনি সব বলে দেন। এতে লোকেরা তাকে দাফন না করে তার লাশ শূলে চড়ায় ও পাথর মারতে থাকে। পরে তিনি অন্য পাদ্রীর কাছে গমন করেন। সেখানে তিনি জানতে পরেন যে আখেরী যামানার নবী আগমনের সময় হয়ে গেছে। তিনি তেহামার পাহাড় থেকে বের হবেন ও খেজুর বাগিচার দিকে হিজরত করবেন। তাঁর স্কন্ধদেশে নবুঅতের মোহর থাকবে। তিনি হাদিয়া খাবেন। কিন্তু ছাদাক্বা খাবেন না। তুমি সম্ভব হ’লে সেখানে হিজরত কর। ইতিমধ্যে একটি আরব কাফেলা আসে। তিনি তাদের সাথে মদীনায় গমন করেন। কিছুদিনের মধ্যেই রাসূল (ছাঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। অতঃপর তিনি তাঁর লক্ষণসমূহ দেখে চিনে ফেলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন।

তিনি অহি লেখক ছিলেন না। তাঁর বয়সের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ৩৫০ অথবা ২৫০ বছর বেঁচে ছিলেন। জীবনীকার ইমাম যাহাবী বলেন, আমি নিজেও তারীখে কাবীরে একথা লিখেছি। কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, ওটা সঠিক ছিল না। বরং এটাই সঠিক যে, তাঁর বয়স মাত্র ৮০ অতিক্রম করেছিল। সম্ভবতঃ ৪০ বছর বা তার কম বয়সে তিনি হেজায আগমন করেন। তিনি ওমর (রাঃ) কর্তৃক ১৬ হিজরীতে মাদায়েন বিজয়ে প্রেরিত সেনাদলের আমীর ছিলেন। ৩৫ বা ৩৬ হিজরীর প্রথম দিকে তিনি ওছমান (রাঃ)-এর খেলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ১/৫০৫-৫৫৭)। খেলাফত দাবী করায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল এই বক্তব্য ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন (৩/২০৩) : জনৈক ব্যক্তি ইমাম হওয়ায় যুবতী মেয়েদেরকে বাধ্য হয়ে পড়াতে হয়। এক্ষণে কিভাবে পড়ালে শরী‘আত সম্মত হবে?

-যিল্লুর রহমান

পাকুড়, ঝাড়খন্ড, ভারত।

উত্তর : পুর্ণরূপে পর্দা করে মাহরাম সহ অথবা কয়েকজনকে এক সঙ্গে পড়ালে শরী‘আত সম্মত হবে। কিন্তু কোন যুবতী মেয়ে পর্দা করলেও তাকে মাহরাম ব্যতীত একাকী পড়ানো যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘কোন পরপুরুষ যদি কোন পরনারীর সঙ্গে নির্জনে মিলিত হয়, তাহ’লে সেখানে তৃতীয়জন উপস্থিত হয়, যার নাম শয়তান’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১১৮, সনদ ছহীহ)।  

প্রশ্ন (৪/২০৪) : আমি একটি মসজিদে বড় অংকের সহযোগিতা করি। কিন্তু সেখানে মীলাদ-ক্বিয়ামসহ যাবতীয় বিদ‘আতী কার্যক্রম হয়ে থাকে। এক্ষণে উক্ত অর্থদানের জন্য কোন নেকী অর্জিত হবে কি?

-আবুবকর, পাংশা, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করবেন (বুখারী হা/৪৫০; মুসলিম হা/৫৩৩)। সুতরাং এ উদ্দেশ্যে দান করে থাকলে তা নেকীর কাজ হিসাবে গণ্য হবে। কিন্তু মীলাদ-ক্বিয়ামসহ বিদ‘আতী কর্মকান্ডকে উদ্দেশ্য করে দান করা হ’লে, গুনাহের কাজে সহযোগিতা বলে গণ্য হবে (মায়েদাহ ২)। এ সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব না হ’লে দান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অতএব দান করার পূর্বে সবকিছু যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন (৫/২০৫) : শরী‘আত নির্ধারিত দন্ড যেমন ১০০ বেত্রাঘাত, হস্তকর্তন ইত্যাদি শাস্তি দুনিয়াতে হয়ে গেলে পরকালে আল্লাহ তা‘আলা কি পুনরায় শাস্তি দিবেন?

-শরীফ আহমাদ

আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা।

উত্তর : ইসলামী আদালত কর্তৃক উক্ত দন্ড কার্যকর হ’লে  পরকালীন শাস্তির জন্য তা কাফফারা হয়ে যাবে (বুখারী হা/১৮; মুসলিম হা/১৭০৯; মিশকাত হা/১৮)

প্রশ্ন (৬/২০৬) : কোন অমুসলিম বন্ধুর বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে কি?

-আব্দুল্লাহ ফারুক, ঢাকা।

উত্তর : সামাজিক কারণে অমুসলিমদের দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না (বাক্বারাহ ১৭৩)। তবে যেহেতু তাদের অনুষ্ঠানে অনৈসলামিক কার্যকলাপ হয়ে থাকে তাই এরূপ অনুষ্ঠানে যাওয়া বিরত থাকাই উচিত। উল্লেখ্য যে, তাদের সঙ্গে আন্তরিক বন্ধুত্ব স্থাপন করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন (আলে ইমরান ২৮)

প্রশ্ন (৭/২০৭) : রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের পাশে ঈসা (আঃ)-এর কবরের স্থান সংরক্ষিত রয়েছে মর্মে কোন হাদীছ আছে কি?

-মুহাম্মাদ আলী ছিদ্দীকী

টিএন্ডডি কলোনী, মতিঝিল, ঢাকা।

উত্তর : উক্ত মর্মে যে সমস্ত বর্ণনা পাওয়া যায়, তার সবগুলোই যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/৬৫৬২; তিরমিযী হা/৩৬১৭; মিশকাত হা/৫৭৭২, ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (৮/২০৮) : বাস বা ট্রেনে যেখানে ছালাতের কোন স্থান নেই এবং ক্বিবলা কোন্ দিকে তাও জানা যায় না। এরূপ অবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে কি? এছাড়া ছালাতের সময় অবশিষ্ট থাকতেই গন্তব্যে পৌছানোর সম্ভাবনা থাকলে গাড়িতে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-মাছূম, টোকিও, জাপান।

উত্তর : পরিবহনে ক্বিবলামুখী না হ’লেও চলবে (বাক্বারাহ ২/২৩৮; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, ইরওয়া হা/৫৮৮; ইবনু মাজাহ হা/১০২০)। অবশ্য ক্বিবলামুখী হয়ে ছালাত শুরু করা বাঞ্ছনীয় (আবুদাঊদ হা/১২২৪-২৮; নায়ল ২/২৯১ পৃঃ)। ছালাতের সময় অবশিষ্ট থাকতেই গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব হলে সেখানে গিয়ে ছালাত আদায় করবে (বুখারী হা/৪০০)। অথবা দুই ওয়াক্তের ছালাত জমা তাক্বদীম কিংবা জমা তাখীর করবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মির‘আত হা/১৩৪৮-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ, ৪/৩৯৬ পৃঃ; বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১৪০, ১৮৮)

প্রশ্ন (৯/২০৯) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট সুন্নাত ছালাতের প্রতি রাক‘আতেই কি অন্য সূরা মিলাতে হবে? না প্রথম দু’রাক‘আতে মিলালেই যথেষ্ট হবে?

-মুহাম্মাদ আদনান

 সেন্ট্রাল রোড, রংপুর।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, কোন ছালাত সিদ্ধ নয় সূরা ফাতিহা ব্যতীত। অতঃপর অন্য একটি সূরা’ (মুসলিম হা/৩৯৪, মিশকাত হা/৮২২)। যেকোন ছালাতে ক্বিরাআতের এটাই হ’ল সাধারণ নিয়ম। তবে ফরয ছালাতগুলির শেষ দু’রাক‘আতে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। যেমন যোহর ও আছরের ছালাতে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৮২৮)। এক্ষণে সুন্নাত-নফল সম্পর্কে পৃথকভাবে যেহেতু কিছু বর্ণিত হয়নি, সেহেতু  প্রতি রাক‘আতেই সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা মিলাতে হবে। 

প্রশ্ন (১০/২১০) : হায়েযের রক্ত বন্ধ হওয়ার পর সহবাস করার জন্য গোসল কি আবশ্যক হবে? না ওযু বা কেবল পরিচ্ছন্ন হওয়ার মাধ্যমেই পবিত্রতা অর্জন করা যাবে?

-আবুল হোসায়েন মিয়া

কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ।

উত্তর : হ্যাঁ গোসল আবশ্যক হবে (বাক্বারাহ ২/২২২, দ্রঃ তাফসীর কুরতুবী)। তার পূর্বে সহবাস করা জায়েয নয়।

প্রশ্ন (১১/২১১) : যে সকল ছাত্র-ছাত্রী বাইরে পড়াশুনা করে, অথবা প্রবাসে থাকে, তারা কয়েকদিন বা কয়েকমাসের জন্য বাড়িতে আসলে ছালাত ক্বছর করতে পারবে কি?

-আমীনুল ইসলাম

কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।

উত্তর : সাময়িকভাবে অবস্থান করলে পারবে। কেননা মুক্বীম হওয়ার জন্য সর্বদা নিজের বর্তমান আবাসস্থলটিই ধর্তব্য, পূর্বের আবাসস্থল বা পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজনের আবাসস্থল নয়। রাসূল (ছাঃ) মদীনা থেকে মক্কায় হজ্জব্রত পালন করতে যেয়ে কছর করেছিলেন, যদিও তিনি পূর্বে মক্কারই অধিবাসী ছিলেন।

প্রশ্ন (১২/২১২) : আহলেহাদীছ আক্বীদায় বিশ্বাসী হয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলিকে সমর্থন করা কি শরী‘আতসম্মত হবে?

-আহমাদ

 চৌমুহনী, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : যে কোন কথা, কর্ম ও ইবাদত ইসলামী আক্বীদা-বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তার বিরোধিতা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য। প্রচলিত গণতন্ত্র সেরূপ একটি বিষয়।

প্রশ্ন (১৩/২১৩) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, পৃথিবী একদিন মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। সেদিন ইহুদীরা প্রাণের ভয়ে গাছের আড়ালে লুকালে গাছও তাদেরকে ধরিয়ে দিবে। তবে একটি কাঁটাযুক্ত গাছের আড়ালে লুকালে তারা বেঁচে যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

-ওমর ফারূক

মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক। তবে বেঁচে যাবে এ কথা নেই বরং উক্ত গাছটি তার পিছনে ইয়াহূদী লুকিয়ে থাকার বিষয়টি গোপন রাখবে (বুখারী হা/২৯২৫, মুসলিম হা/২৯২২; মিশকাত হা/৫৪১৪)। কাঁটাদার এই বৃক্ষটির নাম গারক্বাদ, যা সাধারণতঃ ফিলিস্তীনে হয়ে থাকে। ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে এখানে দাজ্জাল ও ইহুদীদের হত্যা করা হবে (নববী, শরহে মুসলিম)। উল্লেখ্য যে, মদীনার বাক্বী‘ গোরস্থানে গারক্বাদ নামে রাসূল (ছাঃ)-এর সময়ে যে বৃক্ষগুলি ছিল, বর্তমানে তার কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু ঐ বৃক্ষের দিকে সম্বন্ধ করেই স্থানটিকে ‘বাকী‘ গারক্বাদ’ বলা হয়। এখানে ফাতেমা (রাঃ)-এর কবর থাকায় শী‘আরা একে ‘জান্নাতুল বাক্বী‘ বলে। যা বলা অন্যায়।

প্রশ্ন (১৪/২১৪) : জনৈক ব্যক্তি বিকাশ এবং ডাচ বাংলার মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট। গ্রাহক থেকে প্রতি ১০০০ টাকায় ২০ টাকা নগদ আদায় করে। এই ২০ টাকা সে, ব্যাংক ও সিম  কোম্পানীর মাঝে সয়ংক্রিয় ভাবে ভাগ হয়ে যায়। এক্ষণে উক্ত লভ্যাংশ সূদের অন্তর্ভুক্ত হবে কি?

-মাছূম ইকবাল

বাতামারা, বোরহানুদ্দীন, ভোলা।

উত্তর : উক্ত লভ্যাংশ সূদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা পারিশ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত। এটি টাকার বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করা নয়। সুতরাং তা গ্রহণে বাধা নেই।

প্রশ্ন (১৫/২১৫) : বুখারীর ৩৮৪৯ নং হাদীছ রয়েছে, জাহেলী যুগে কিছু বানর একটি বানরকে ব্যভিচারের কারণে হত্যা করেছিল। এর দ্বারা অনুমিত হয় যে পশুদের মাঝেও রজমের বিধান রয়েছে। হাদীছটির বোধগম্য ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-গোলাম মুক্তাদির, বি.কে.রায় রোড, খুলনা।

উত্তর : এটি রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ নয়। বরং আমর ইবনু মায়মূন আবু আব্দুল্লাহ কূফী (মৃ : ৭৪ হিঃ) নামক একজন জ্যেষ্ঠ তাবেঈ কর্তৃক বর্ণিত ‘আছার’। ইমাম বুখারী ‘আনছারগণের মর্যাদা’ অধ্যায়ের ২৭ নং অনুচ্ছেদে নবুঅতপূর্ব যুগের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনার মধ্যে এ ঘটনাটি এনেছেন। তীক্ষ্ণ ধীসম্পন্ন প্রাণী বানরের মধ্যে যে অন্য প্রাণীসমূহের চাইতে অধিকতর সতর্কতা ছিল, ঘটনাটি তার অন্যতম প্রমাণ। যেমন ঘোড়া সম্পর্কেও অনুরূপ ঘটনা জানা যায়। যে নিজের মায়ের উপর অপগত হয়ে তাকে চিনতে পারায় নিজের লিঙ্গ নিজে কামড়ে ছিন্ন করে ফেলে (ফৎহুল বারী)। এর মাধ্যমে ‘রজম’টাই যে ব্যভিচারের স্বাভাবিক দন্ড, সেটাও প্রমাণিত হয়। এ ঘটনার মধ্যে মানুষের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

প্রশ্ন (১৬/২১৬) : জনৈক তাবলীগী ভাই বললেন, সরাসরি মন্দকর্মের বিরোধিতা করা থেকে বিরত থেকে মানুষকে শুধু ভালো কাজের দাওয়াত দিতে হবে, তাহ’লে তারা এমনিতেই মন্দকাজ ছেড়ে দিবে। উক্ত বক্তব্য গ্রহণযোগ্য কি?

-আমীনুল ইসলাম, আত্রাই, নওগাঁ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ কুরআন ও হাদীছে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করতে মুসলমানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে (আলে ইমরান ১১০, তাওবাহ ৭১, লোকমান ১৭, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১৪০)। বরং নিষেধ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ (মায়েদাহ হা/৭৮-৭৯)। এর পরিণতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যখন লোকেরা তাদের মধ্যে কোনরূপ অন্যায় হ’তে দেখে অথচ তার প্রতিরোধ করে না, আল্লাহ তার শাস্তিস্বরূপ তাদের সকলের উপর গযব পাঠিয়ে দেন (আহমাদ, তিরমিযী হা/৪০০৫, মিশকাত হা/৫১৪২, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (১৭/২১৭) : জনৈক আলেম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা চারটি বস্ত্ত নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। অন্যগুলোকে তার নির্দেশে আপনা আপনি হয়েছে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

-আমীনুল হক, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা চারটি বস্ত্ত তাঁর নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, (১) আরশ (২) কলম (৩) আদম (৪) জান্নাতু ‘আদন। অতঃপর যাবতীয় সৃষ্টিকে লক্ষ্য করে বলেন, হয়ে যাও, ফলে তা হয়ে গেছে। (হাকেম হা/৩২৪৪, মুখতাছারুল ‘উলূ ১/৭৫, আলবানী সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (১৮/২১৮) : যুলক্বারনাইন কে ছিলেন? তাঁর বিস্তারিত পরিচয় জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মাসঊদুর রহমান

শাখারীপাড়া, নাটোর।

উত্তর : পবিত্র কুরআনে সূরা কাহফের ৮৩ থেকে ১০১ নং আয়াতে বর্ণিত যুলক্বারনাইন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় হ’ল : তিনি একজন সৎ ও ন্যায়পারায়ণ বাদশাহ ছিলেন এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দেশ সমূহ জয় করেছিলেন। এসব বিজিত দেশে তিনি ন্যায়বিচার কায়েম করেছিলেন। আল্লাহ পাক তাঁকে সব ধরনের সাজ-সরঞ্জাম দান করেছিলেন। যুলক্বারনাইন পৃথিবীর তিন প্রান্ত অর্থাৎ প্রাচ্য, পাশ্চাত্য এবং উত্তরে পর্বতমালার পাদদেশ পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখানে দু’পর্বতের মধ্যবর্তী গিরিপথকে তিনি একটি সুবিশাল লৌহ প্রাচীর দ্বারা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে ইয়াজূজ ও মাজূজের লুটতরাজ থেকে সে এলাকার জনগণ নিরাপত্তা লাভ করেছিল (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ২/১০৩)। তবে তিনি নবী ছিলেন না (সিলসিলা ছহীহাহ হা/২২১৭, ছহীহুল জামে‘ হা/৫৫২৪)

প্রশ্ন (১৯/২১৯) : মাগরিবের ছালাত না আদায় করা অবস্থায় এশার জামা‘আতের সাথে মাগরিব আদায় করা যাবে কি? যদি করা যায় তবে তা কিভাবে আদায় করতে হবে?

-আব্দুল হান্নান

বুড়িচং, কুমিল্লা।

উত্তর : এশার জামা‘আত চলা অবস্থায় উপস্থিত হলে আগে এশা পড়ে নিবে। তারপর মাগরিব আদায় করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হয়, তখন ঐ ফরয ছালাত ব্যতীত অন্য কোন ছালাত নেই (মুসলিম, মিশকাত হা/১০৫৮, মির‘আত হা/১০৬৫-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, যদি কেউ আছর আদায় না করে মসজিদে এসে দেখে যে, মাগরিবের জামা‘আত শুরু হয়েছে, তাহলে সে জামা‘আতের সাথে মাগরিবের ছালাত আদায় করবে। এ ব্যাপারে সকল বিদ্বান একমত (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/১০৬)

প্রশ্ন (২০/২২০) : কুরআন ও হাদীছে ইহুদী-খ্রিষ্টান সহ অন্যান্য বিকৃত ধর্ম বিশেষ করে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কিছু বলা হয়েছে কি? এসব ধর্মগুলো কি আসমানী কিতাব ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে?

-এনামুল হক, উত্তরা, ঢাকা।

উত্তর : আল্লাহ বলেন, আমরা অবশ্যই প্রত্যেক জনপদে রাসূল পাঠিয়েছি এই দাওয়াত দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং ত্বাগুত থেকে বিরত হও (নাহল ৩৬)। তিনি বলেন, অতঃপর তাদের পরবর্তী বংশধররা আসে, যারা ছালাত বিনষ্ট করে এবং প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে যায়। ফলে তারা দ্রুত পথভ্রষ্ট হয় (মারিয়াম ৪৯)

উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যায় যে, যুগে যুগে আল্লাহ বিভিন্ন জনপদে নবী পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানুষ তাঁদের অবাধ্যতা করেছে। ফলে মূল ইলাহী ধর্ম বিকৃত হয়ে মানুষের মনগড়া ধর্মই এখন অবশিষ্ট রয়েছে। যা হিন্দু-বৌদ্ধ, ইহুদী-খৃষ্টান ইত্যাদি নামে অভিহিত হয়েছে। ‘ইসলাম’ আসার পরে বিগত সকল ইলাহী ধর্ম বাতিল হয়ে গেছে। ‘ইসলাম’-ই এখন ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম (আলে ইমরান ১৯)। অন্যান্য ধর্মে যেসব কল্যাণময় উপদেশ পাওয়া যায়, তা বিগত ইলাহী ধর্মসমূহ থেকে গৃহীত হওয়াটা বিচিত্র নয়। কুরআনে আহলে কিতাব হিসাবে ইহুদী ও নাছারাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। তারা হযরত মূসা ও ঈসা (আঃ)-এর অনুসারী ছিলেন। তাদের নিকটে আল্লাহর কিতাব তাওরাত ও ইঞ্জীল এসেছিল। কিন্তু তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বিকৃত করে ফেলে (বাক্বারাহ ৭৯, নিসা ৪৬ প্রভৃতি)। ফলে তারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়ে যায় (ফাতিহা ৭)। উক্ত কিতাবদ্বয়ের অস্তিত্ব দুনিয়া থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হিন্দুদের সম্পর্কে কুরআনে কিছু বলা হয়নি। তবে তাদের ধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে (আন‘আম ৭৪ প্রভৃতি)

প্রশ্ন (২১/২২১) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি লায়লাতুল ক্বদরে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করল, তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হবে। বক্তব্যটির সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-ইসমাঈল

 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন (২২/২২২) : নবী-রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান কে?

 -লোকমান মন্ডল

ধুরইল, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : সকল নবী এবং রাসূলগণ মর্যাদাবান এবং আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দা। নবী ও রাসূলগণের মধ্যে কাউকে আমরা পার্থক্য করি না (বাক্বারাহ ২৮৫)। তবে বৈশিষ্ট্য এবং মর্যাদার দিক থেকে আল্লাহ তাদের একে অপরের উপর মর্যাদা দান করেছেন (বাক্বারাহ ২৫৩)। যেমন মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার সাথে সরাসরি কথা বলতেন। ঈসা (আঃ) মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন ইত্যাদি। নবীগণের মধ্যে উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)। অতএব তিনিই সবচেয়ে মর্যাদাবান। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন সকল আদম সন্তানের সরদার হব, আমিই সর্বপ্রথম কবর থেকে উঠব। আর আমিই হব প্রথম সুফারিশকারী এবং আমারই সুফারিশ গ্রহণ করা হবে (মুসলিম হা/২২৭৮)। আর তাঁর অনুসারীর সংখ্যা হবে সেদিন সবচেয়ে বেশি (মুসলিম হা/১৯৬)। তিনিই মে‘রাজের সফরে নবীগণের ইমামতি করেছিলেন (মুসলিম হা/১৭২ ‘ঈমান’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (২৩/২২৩) : প্রথম তাশাহহুদে জামা‘আতে শরীক হওয়ার পর ইমাম যখন ৩য় রাক‘আতের জন্য উঠে দাঁড়াবেন, তখন কি ইমামের সাথে রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতে হবে? এরপর মাসবূক একাকী যখন স্বীয় ৩য় রাক‘আত শুরু করবে তখন কি পুনরায় রাফ‘উল ইয়াদায়েন করবে?

-আহমাদুল্লাহ, মাদারটেক, ঢাকা।

উত্তর : মাসবূক দুই স্থানেই রাফ‘উল ইয়াদায়েন করবে। প্রথমটি হবে ইমামের অনুসরণ, আর পরেরটি তার নিজ হিসাব অনুযায়ী ৩য় রাক‘আতের জন্য (বুখারী হা/৮৬৬, মুসলিম হা/৬০২)। মূলতঃ ছালাতের মধ্যে কয়বার রাফঊল ইয়াদায়েন করতে হবে তা ধর্তব্য নয়। বরং যে যে স্থানে করার নির্দেশ রয়েছে সেখানেই রাফঊল ইয়াদায়েন করতে হবে।

প্রশ্ন (২৪/২২৪) : ছালাত অবস্থায় হাঁচি দিলে কি আল-হামদুলিল্লাহ পাঠ করতে হবে? পাশের মুক্তাদী কি এর উত্তর দিতে পারবে?

-ইউসুফ, জগতপুর, কুমিল্লা।

উত্তর : হাঁচি দাতা আল-হামদুলিল্লাহ পড়বে। কিন্তু পাশের মুক্তাদী তার উত্তর দিবেনা। কেননা উত্তর প্রদানের ব্যাপারে কোন দলীল পাওয়া যায় না (আবুদাউদ হা/৭৪৭, তিরমিযী হা/৪০৪, মিশকাত হা/ ৯৯২)      

প্রশ্ন (২৫/২২৫) : কুরআনের উপর হাত রেখে হলফ করা শরী‘আত সম্মত কি?

-সফিউদ্দীন আহমাদ

পাঁচদোনা, নরসিংদী।

উত্তর : কুরআনের উপর হাত রেখে হলফ করা শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ এর দ্বারা শপথকারীর মনে আল্লাহর চাইতে কিতাব বেশী গুরুত্ব পায়। তাছাড়া এ মর্মে কোন ছহীহ বা যঈফ হাদীছ পাওয়া যায় না। মুলতঃ শপথ কেবল আল্লাহর নামেই করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি শপথ করতে চায় সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে’ (বুখারী হা/৩৬২৪, মুসলিম হা/১৬৪৬; মিশকাত হা/৩৪০৭)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল’ (তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবুদাউদ হা/৩২৫৩)। 

প্রশ্ন (২৬/২২৬) : মুসলমান নারী-পুরষের নামের পূর্বে ‘মুহাম্মাদ’ ও ‘মুসাম্মাৎ’ লেখা হয় কেন? এটি শরী‘আতসম্মত কি?

-নূরুযযামান, শঠিবাড়ী, রংপুর।

উত্তর : মুসলমান পুরুষের নামের আগে মুহাম্মাদ এবং মেয়েদের নামের আগে মুসাম্মাৎ লেখা বা বলার নিয়ম নবী করীম (ছাঃ), ছাহাবা ও তাবেঈনের যুগে ছিল না। এমনকি আরব দেশগুলোতে এখনও নেই। এই নিয়মটি ভারত উপমহাদেশেই বেশী প্রচলিত। তবে এরূপ করাতে কোন আপত্তি নেই। কেননা যতদূর জানা যায়, বৃটিশ ভারতে হিন্দুরা যখন ঢালাওভাবে হিন্দু-মুসলমান সবার নামের আগে শ্রী, শ্রীযুক্ত (যা তাদের নিকট সম্মান সূচক শব্দ) ইত্যাদি ব্যবহার করতে শুরু করে এবং রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে ঐ শব্দগুলি যখন হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলমানদের নামের শুরুতে বসানো ব্যাপকতা লাভ করতে থাকে, তখন মুসলামানগণ নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার নিমিত্তে তাদের নামের শুরুতে পুরুষদের নামের আগে শ্রী প্রভৃতির পরিবর্তে ‘মুহাম্মাদ’ ও মহিলাদের নামের আগে শ্রীমতী-এর পরিবর্তে ‘মুসাম্মাৎ’ চালু করেন।

‘মুহাম্মাদ’ বসিয়ে নিজেকে নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অনুসারী মুসলিম পরিচয় দেওয়া হয়। আর মুসাম্মাৎ-এর অর্থ হ’ল ‘নাম রাখা হয়েছে’। এই আরবী শব্দটিও মহিলার মুসলিম  হওয়ার সংকেত বহন করে।

অতএব আহমাদ ও আবুদাঊদ বর্ণিত হাদীছ ‘যে ব্যক্তি যে কওমের সদৃশ হবে, সে ব্যক্তি সেই কওমের অন্তর্ভুক্ত গন্য হবে’ (মিশকাত, ‘পোষাক’ অধ্যায়, হা/৪৩৪৭, সনদ হাসান) এবং বুখারী ও অন্যান্য বর্ণিত হাদীছ ‘মুশরিকদরে বিপরীত কর’ অন্য বর্ণনায় ‘আহলে কিতাব ইহুদী-নাছারাদের বিপরীত কর’ (বুখারী ‘পোষাক’ ও ‘আম্বিয়া’ অধ্যায়; মুসলিম, ‘পবিত্রতা’ ও ‘পোষাক’ অধ্যায়; নাসাঈ ‘সৌন্দর্য’ অধ্যায় প্রভৃতি) এর আলোকে হিন্দুদের শ্রী-এর বিপরীতে মুসলামানদের ‘জনাব’ এবং শ্রীযুক্ত ও শ্রীমান-এর বদলে মুসলমানদের ‘মুহাম্মাদ’ এবং শ্রীমতী-র বদলে ‘মুসাম্মাৎ’ ইসলামী স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় হিসাবে বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন (২৭/২২৭) : আমাদের এলাকায় লোকজন প্রতি শুক্রবারে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে পূরণের জন্য মসজিদে জিলাপী, মিষ্টি, বিরিয়ানী ইত্যাদি বিতরণ করে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত?

-অন্তর আহমাদ

চারপাকের দই, মাদারগঞ্জ, জামালপুর।

উত্তর : এগুলি শরী‘আত পরিপন্থী কাজ এবং বিদ‘আতপন্থীদের আবিষ্কৃত রসম-রেওয়াজ মাত্র, যা অবশ্যই বর্জনীয়। কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একমাত্র আল্লাহর নিকটেই চাইতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কিছু চাইলে স্রেফ আল্লাহর নিকটেই চাও (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৩০২)। আর ভাল উদ্দেশ্য পূরণ হ’লে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে (মুসলিম হা/২৯৯৯; মিশকাত হা/৫২৯৭)

[আপনার নাম ‘অন্তর’ বাদ দিয়ে স্রেফ ‘আহমাদ’ রাখুন (স.স.)]। 

প্রশ্ন (২৮/২২৮) : ‘আশেকে রাসূল’ বলতে কি বুঝায়? বর্তমান প্রচলিত ‘আশেকে রাসূল’ সম্পর্কে জানতে চাই।

মুস্তাফীযুর রহমান -

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : ‘আশেকে রাসূল’ ‘ঢাকা’র পথভ্রষ্ট দেওয়ানবাগী ছূফীদের আবিষ্কৃত একটি বিদ‘আতী পরিভাষা। যা দ্বারা তারা রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি তাদের অধিক ভালবাসা যাহির করে থাকে। ‘ইশক্ব’ আরবী শব্দ। এর দ্বারা নারী ও পুরুষের মধ্যকার অবৈধ প্রেম বুঝানো হয়। বস্ত্ততঃ প্রকৃত রাসূলপ্রেমিক তিনিই, যিনি রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতকে যথাযথভাবে অনুসরণ করেন (আলে ইমরান ৩১) এবং সকল প্রকার শিরক ও বিদ‘আত হ’তে বিরত থাকেন।

প্রশ্ন (২৯/২২৯) : দেশে প্রচলিত ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বীমা কোম্পানীগুলি কি সূদমুক্ত?

-আব্দুর রহমান, রাজপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : বীমার ধারণাটাই ইসলামী অর্থনীতির বিরোধী এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির অনুসঙ্গ। তাছাড়া কোন বীমা কোম্পানীই সূদমুক্ত নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৩০/২৩০) : চেয়ারে বসে ছালাত আদায়ের ব্যাপারে শরী‘আতের নির্দেশনা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আব্দুর রশীদ

বাগডাঙ্গা, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : যে ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম, কিন্তু রুকূ-সিজদায় অক্ষম, সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছালাত শুরু করবে এবং ইশারায় রুকূ করবে। অতঃপর বসে সিজদা করবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর জন্য বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় কর (বাক্বারাহ ২৩৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ছালাত দাঁড়িয়ে আদায় কর, না পারলে বসে, না পারলে পার্শ্বদেশের উপর ভর দিয়ে আদায় কর (বুখারী হা/১১১৭, মিশকাত হা/১২৪৮)। তিনি বলেন, দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা উত্তম। যে ব্যক্তি বসে ছালাত আদায় করে, সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছালাত আদায়কারীর অর্ধেক নেকী পাবে। আর যে ব্যক্তি শুয়ে ছালাত আদায় করে, সে বসা ব্যক্তির অর্ধেক নেকী পাবে (বুখারী ১১১৫-১৬, মিশকাত হা/১২৪৯)। এখানে বসার কথা এসেছে, যার অর্থ যেভাবে বসলে মুছল্লী স্বস্তি পাবে। সেটা চেয়ারেও হ’তে পারে, খাটেও হ’তে পারে। মাটিতেও হ’তে পারে। ক্বিয়াম হ’ল ছালাতের অন্যতম প্রধান রুকন। অতএব সক্ষম থাকলে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করবে ও বাকীগুলি ইশারায় আদায় করবে। রুকূ-সিজদায় অক্ষম হওয়ার কারণে ক্বিয়াম পরিত্যাগ করা যাবে না। যেমন সক্ষম থাকলে ক্বিরাআত পরিত্যাগ করা যাবে না (মুগনী ১/৭৭৮)

প্রশ্ন (৩১/২৩১) : গর্ভবতী নারী হাঁসের গোশত খেলে সন্তানের কন্ঠ হাঁসের কন্ঠের মত হবে। ছাগলের গোশত খেলে ছাগলের মত হবে। উক্ত ধারণা কি সঠিক?

-মীযান, সৌদী আরব।

উত্তর : এগুলো ভিত্তিহীন কথা। আল্লাহ বলেন, তিনি স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী মায়ের গর্ভে তোমাদের আকৃতি গঠন করেন (আলে ইমরান ৬)

প্রশ্ন (৩২/২৩২) : দৃষ্টির হেফাযত করা এক হাযার নফল ছালাতের চেয়ে উত্তম। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

-দীদার বখশ

খানপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। আল্লাহ তা‘আলা সকল মুমিন পুরুষ ও নারীকে স্ব স্ব দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন (নুর ৩০-৩১)

প্রশ্ন (৩৩/২৩৩) : মসজিদে বারান্দায় আকীকার পশু যবেহ করা যাবে কি?

-আব্দুছ ছামাদ, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : বরকতের আশায় করলে এটা বিদ‘আত হবে। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

প্রশ্ন (৩৪/২৩৪) : আলু, মরিচ, শাক-সবজি প্রভৃতির যাকাত দিতে হবে কি?

-আব্দুল লতীফ, বিরল, দিনাজপুর।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘শাক-সবজিতে কোন যাকাত (ওশর) নেই’ (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, ছহীহুল জামে‘ হা/৫৪১১; মিশকাত হা/১৮১৩)। তবে এসবের ব্যবসার অর্থ যদি নিছাব পরিমাণ হয়, তবে উক্ত অর্থের যাকাত দিবে।

প্রশ্ন (৩৫/২৩৫) : জিনের আছরগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য শরী‘আত সম্মত চিকিৎসা কী?

-মুহিববুল্লাহ, হাটহাযারী, চট্টগ্রাম।

উত্তর : জিনের আছর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন (১) আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম’ পাঠ করা (আ‘রাফ ৭/২০০, বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৪১৮)। (২) নাস ও ফালাক সুরাদ্বয় পাঠ করা (তিরমিযী হা/২০৫৮)। (৩) আয়াতুল কুরসী পাঠ করা (বুখারী হা/২৩১১)। (৪) সূরা বাক্বারাহ তেলাওয়াত করা (মুসলিম হা/৭৮০, মিশকাত হা/২১১৯) অথবা সূরা বাক্বারাহর শেষের দুইটি আয়াত বেশী বেশী পাঠ করা (তিরমিযী হা/২৮৮২, মিশকাত হা/২১৪৫)

প্রশ্ন (৩৬/২৩৬) : রাস্তায় পড়ে পাওয়া টাকার মালিক পাওয়া না গেলে করণীয় কি? জনৈক আলেম বলেছেন, তার দ্বিগুণ দান করতে হবে।

-মিলন, বকচরা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : উক্ত আলেমের বক্তব্য সঠিক নয়। একবছর যাবৎ খোঁজ করতে হবে। মালিক না পাওয়া গেলে হিসাব রেখে ভোগ করা যাবে। অতঃপর কখনো মালিক পাওয়া গেলে সেটি বা সমমূল্যের বস্ত্ত তাকে ফেরত দিবে (বুখারী হা/৯১, মুসলিম হা/১৭২২, মিশকাত হা/৩০৩৩)

[আপনার নাম পরিবর্তন করে আরবীতে সুন্দর নাম রাখুন (স.স)]।

প্রশ্ন (৩৭/২৩৭) : আমাদের মসজিদের মুতাওয়াল্লী ছাহেব নিজেকে ‘আমেলীন দাবী করে যাকাতের ৮ ভাগের ১ ভাগ গ্রহণ করেন। অথচ তাকে কেউ নিয়োগ দেয়নি। এক্ষণে আমেলীন কাকে বলে, তাকে নিয়োগ দিবে কে এবং তার কাজ কি?

-ক্বাযী আসাদুযযামান

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

উত্তর : ‘আমেলীন’-এর পারিভাষিক অর্থ ইসলামী সরকার কর্তৃক যাকাত ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত কর্মকর্তাগণ। যারা যাকাত আদায়, বণ্টন ইত্যাদি বিষয় তদারকি করেন। গ্রামের মসজিদের মুতাওয়াল্লী উক্ত স্তরের ব্যক্তি নন। তিনি গ্রামের মুসলমানদের ও যাকাতদাতাদের প্রতিনিধি। তিনি তাঁর কমিটির পরামর্শমতে গ্রামের যাকাতসমূহ আদায় ও বণ্টন ব্যবস্থা তদারকী করেন। তিনি কারো কর্মচারী বা কর্মকর্তা নন। এমতাবস্থায় তিনি কুরআনে বর্ণিত ‘আমেলীন’ শ্রেণীভুক্ত নন। সূরা তাওবার ৬০ আয়াতে যাকাত বণ্টনের ৮ টি খাত বর্ণিত হয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে, যাকাতকে আট ভাগেই ভাগ করতে হবে। বরং এর অর্থ হ’ল, বর্ণিত আটটি খাতের বাইরে যাকাত বণ্টন করা যাবে না। এর মধ্যে যে কয়টি খাত পাওয়া যাবে সেই কয়টি খাতে যাকাত বণ্টন করতে হবে (নববী, শারহুল মুহাযযাব ৬/১৮৫, ফাতাওয়া উছায়মীন ১৮/৩৬৯)। উল্লেখ্য যে, ওশর ও যাকাতের মাল ওযন ও পরিমাপের জন্য মজুরী যাকাতদাতা বহন করবে (মুগনী ২/৪৮৮ মাসআলা নং ১৭৭৫; ফাতাওয়া বিন বায ১৪/২৫৮)

প্রশ্ন (৩৮/২৩৮) : নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কাদেরকে যাকাত-ফিতরার অর্থ প্রদান করা যায় এবং কাদেরকে যায় না?

 -মুহসিন কামাল

পূর্ব রাজারবাগ, ঢাকা।

উত্তর : নিকটাত্মীয় বলতে নিজের স্বামীও যদি অভাবী হন, তবে তাকে আগে দিতে হবে। তারপর তার ভাই-বোন, মামু-চাচা প্রমুখ। নিকটাত্মীয়কে প্রদানের মাধ্যমে দ্বিগুণ নেকী হয়। ছাদাক্বার নেকী ও আত্মীয়তাসম্পর্ক বজায় রাখার নেকী’ (বুখারী হা/১৪৬৬, মুসলিম হা/১০০০; মিশকাত হা/১৯৩৪-৩৫)

প্রশ্ন (৩৯/২৩৯) : আমার সন্তান ৪২ দিনের মাথায় ইন্তেকাল করেছে। এক্ষণে সে কি জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্ত থাকবে এবং হাদীছ অনুযায়ী পরকালে তার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে দিতে বাধ্য থাকবেন?

-তানভীর হাসান

 ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : মুসলিম পিতার মৃত শিশুসন্তান জান্নাতী হবে ইনশাআল্লাহ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, প্রত্যেক মানব সন্তান ফিৎরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৯০; রূম ৩০)। এছাড়া বালেগ হওয়ার পূর্বে শরী‘আতের কোন বিধান তার উপর প্রযোজ্য হয় না (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩২৮৭)।  ছহীহ হাদীছের ভাষ্য অনুযায়ী উক্ত সন্তান তার পিতা-মাতার জামা ধরে টানতে থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন (মুসলিম হা/২৬৩৫)। তবে সেজন্য পিতা-মাতাকেও ফিৎরাত তথা ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করতে হবে। কেননা জান্নাতে প্রবেশের প্রথম শর্তই হ’ল ঈমান (মুসলিম হা/২৬, মিশকাত হা/৩৭)। মূলতঃ আল্লাহর রহমতেই পিতা-মাতা জান্নাতে যাবে। সন্তানের জামা ধরে টানাটাও আল্লাহর নির্দেশমতে হবে। কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।

প্রশ্ন (৪০/২৪০) : ছহীহ বুখারীতে কি কোন যঈফ হাদীছ রয়েছে? শায়খ আলবানী (রহঃ) ছহীহ বুখারীর ১৫টি হাদীছকে ত্রুটিযুক্ত বা দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-হুমায়ূন, বংশাল, ঢাকা।

উত্তর : কেবল শায়খ আলবানী নন প্রথম যুগের বেশ কিছু মুহাদ্দিছ এ বিষয়ে ছহীহ বুখারীর কতিপয় হাদীছ সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক ইমাম দারাকুৎনী (৩০৬-৩৮৫ হিঃ) ছহীহ বুখারীর ৭৮টি এবং বুখারী ও মুসলিমের মিলিতভাবে ৩২টি হাদীছের উপর সমালোচনা করেছেন। এসব সমালোচনার উত্তরে বিভিন্ন গ্রন্থ লিপিবদ্ধ হয়েছে। ছহীহ বুখারীর ভাষ্যকারগণের প্রত্যেকেই সংক্ষেপে বা বিস্তারিতভাবে এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ ভাষ্যকার হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (৭৭৩-৮৫২হিঃ) ফাৎহুল বারীর ভূমিকা ‘হাদীয়ুস সারী’তে এইসব সমালোচনার একটি একটি করে বিস্তারিতভাবে জবাব দিয়েছেন (হাদীয়ুস সারী মুক্বাদ্দামা ফাৎহুল বারী ৮ম অনুচ্ছেদ ৩৬৪-৪০২)

আলোচনার শেষে উপসংহারে তিনি বলেন, সমালোচিত প্রত্যেকটি হাদীছই দোষযুক্ত নয়। বরং অধিকাংশের জওয়াব পরিষ্কার ও দোষমুক্ত। কোন কোনটির জওয়াব গ্রহণযোগ্য এবং খুবই সামান্য কিছু রয়েছে যা না বুঝে তাঁর উপর চাপানো হয়েছে। আমি প্রত্যেকটি হাদীছের শেষে এগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেশ করেছি’ (মুক্বাদ্দামা ৪০২ পৃঃ)

তিরমিযীর ভাষ্যকার শায়খ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের বলেন, ‘ছহীহ বুখারীর যে সব হাদীছ সমালোচিত হয়েছে তার অর্থ হ’ল সেগুলো ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ  স্তরে পৌঁছেনি। তবে হাদীছটি স্বীয় অবস্থানে ছহীহ। তিনি বলেন, মুহাক্কিক ওলামায়ে হাদীছ-এর নিকটে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, ছহীহ বুখারী ও মুসলিমের প্রতিটি হাদীছই ছহীহ। এ দু’টি গ্রন্থের কোন একটি হাদীছ দুর্বলতা বা ত্রুটিযুক্ত নয়। ইমাম দারাকুৎনীসহ মুহাদ্দিছগণের কেউ কেউ যে সমালোচনা করেছেন তার অর্থ হ’ল তাঁদের নিকট সমালোচিত হাদীছসমূহ ইমাম বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারেনি। তবে সাধারণভাবে হাদীছগুলির বিশুদ্ধতা নিয়ে কেউই মতভেদ করেননি (আল বা‘এছুল হাছীছ, তাহকীক : আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের, পৃঃ ৩৩-৩৪)

শায়খ আলবানীও উছূলে হাদীছের আলোকে ছহীহ বুখারীর ১৫টি হাদীছের সমালোচনা করেছেন তাঁর ‘সিলসিলা যঈফাহ’ গ্রন্থে। উক্ত সমালোচনা হাদীছবিরোধী বা হাদীছে সন্দেহবাদীদের মত নয়। বরং একজন সূক্ষ্মদর্শী মুহাদ্দিছ বিদ্বান হিসাবে। যেমন ইতিপূর্বে অনেক মুহাদ্দিছ করেছেন। যদি এতে তিনি ভুল করে থাকেন তাহ’লেও নেকী পাবেন। আর ঠিক করে থাকলে দ্বিগুণ নেকী পাবেন। তবে তিনি যেসব হাদীছকে যঈফ বলেছেন, সেব্যাপারে ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কেননা দুর্বল রাবীদের বর্ণনা গ্রহণ করার ব্যাপারে তাঁর কতগুলি স্পষ্ট নীতি ছিল। যেমন : (১) দুর্বল রাবীদের সকল বর্ণনাই দুর্বল নয়। (২) উক্ত বিষয়ে অন্য কোন হাদীছ না পাওয়া এবং হাদীছটি বিধানগত ও আক্বীদা বিষয়ক না হওয়া। বরং হৃদয় গলানো ও ফযীলত বিষয়ে হওয়া। (৩) সনদে বা মতনের কোন ত্রুটি দূর করার জন্য বা কোন বক্তব্যের অধিক ব্যাখ্যা দানের জন্য কিংবা শ্রুত বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য সহযোগী হিসাবে  (من المتابعات) কোন হাদীছ আনা’ (ড. মুহাম্মাদ হামদী আবু আবদাহ, জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ে শরী‘আ অনুষদ কর্তৃক আয়োজিত সম্মেলনে পেশকৃত গবেষণাপত্র, ৩৪ পৃঃ)



***