প্রবন্ধ

দ্বীনে হক্ব প্রচারে ‘আত-তাহরীক’-এর ভূমিকা

ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসায়েন

‘আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম’ (আলে ইমরান ৩/১৯)। যা আমরা প্রাপ্ত হয়েছি মানবতার মুক্তির একমাত্র কান্ডারী বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে। যিনি দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুওতী জীবনে নানা লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও যুলুম-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তাঁর উপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করেছেন। বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণের এক পর্যায়ে ছাহাবীগণ সমবেতভাবে যার স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ  ‘শুন! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?’ (অর্থাৎ আমার উপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব কি পালন করেছি?) ছাহাবীগণ বললেন, نَعَمْ  ‘হ্যাঁ আপনি পৌঁছে দিয়েছেন’। রাসূল (ছাঃ) তখন বললেন,   اللَّهُمَّ اشْهَدْ، ثَلاَثًا ‘হে আল্লাহ তুমি সাক্ষ্য থেক। একথাটি তিনি তিনবার বললেন’।[1]

মহান আল্লাহ রাববুল আলামীনও দ্বার্থহীন ঘোষণার মাধ্যমে জগৎবাসীকে ইসলামের পূর্ণাঙ্গতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন এই মর্মে যে, الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْإِسْلاَمَ دِيْنًا ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করে সন্তুষ্ট হলাম’ (মায়েদা ৫/৩)। অতএব পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকে অপূর্ণাঙ্গ মনে করে তাতে নতুনভাবে কিছু সংযোজনের অপচেষ্টা চালানো নিঃসন্দেহে জঘন্য ও ঘৃণিত কাজ। অথচ দুর্ভাগ্যজনক হ’লেও সত্য যে, ভ্রান্ত আক্বীদা ও মনগড়া আমলের ভিড়ে দ্বীনে হক্ব আজ তার আসল অবয়ব হারাতে বসেছে। দেড় হাযার বছর আগের ইসলাম, মক্কা-মদীনার ইসলাম তথা ইসলামের আদি রূপ যেন আজ বিলীন হ’তে চলেছে। জাতির এমনই এক ক্রান্তিলগ্নে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক রচনার সমাহার নিয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা সহ আত্মপ্রকাশ করে আপোসহীন গবেষণা পত্রিকা মাসিক ‘আত-তাহরীক’। যার অর্থ ‘একটি বিশেষ আন্দোলন’। এ আন্দোলন হচ্ছে সমাজ সংস্কারের আন্দোলন, এলাহী বিধানের আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের নিরন্তর আন্দোলন।

১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশের পর থেকে আত-তাহরীক তার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বাণী নিয়মিত ভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করে আসছে। অসংখ্য পাঠক আত-তাহরীক পড়ে বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমলে ফিরে এসেছেন। দিশেহারা পাঠক পেয়েছেন সঠিক পথের দিশা। আলোচ্য নিবন্ধে দ্বীনে হক্ব প্রচারে ‘আত-তাহরীক’-এর ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা পেশ করা হ’ল।- 

দ্বীনে হক্ব কি?

এর অর্থ হচ্ছে ‘সত্য দ্বীন’। অর্থাৎ এলাহী দ্বীন। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে রক্ষিত জীবন বিধান। যে দ্বীনের অনুশীলনই একমাত্র মানুষকে আখেরাতে মুক্তি দিতে পারে। অন্যথায় জাহান্নামের জ্বলন্ত হুতাশনে জীবন্ত পুড়তে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,

وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِيْنَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا وَإِنْ يَسْتَغِيثُوْا يُغَاثُوْا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا-

‘বলুন! হক্ব তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে প্রেরিত; সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক, যার ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করুক; আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছি অগ্নি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে; তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে; এটা নিকৃষ্ট পানীয়; আর জাহান্নাম কতইনা নিকৃষ্ট আশ্রয়’ (কাহাফ ১৮/২৯)

দ্বীনে হক্ব প্রচারে আত-তাহরীক-এর ভূমিকা :

মহান আল্লাহ প্রেরিত ও রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত ‘দ্বীনে হক্ব’ প্রচারে ‘আত-তাহরীক’-এর ভূমিকা অপরিসীম। শিরক-বিদ‘আত সহ যাবতীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আত-তাহরীক সবসময়ই আপোসহীন। কারো লেজুরবৃত্তি ও আপোসকামী মনোভাব কখনো আত-তাহরীক-এর পূত চরিত্রকে কলঙ্কিত করতে পারেনি। নিজের অনাকাঙ্খিত ত্রুটির ব্যাপারেও তাহরীক সোচ্ছার ও সচেতন। সেকারণ অবগতি মাত্রই সে সংশোধনী আকারে পুনরায় তার পাঠকদের সঠিক বিষয়টি জানিয়ে দেয়। আত-তাহরীক তাই নিরপেক্ষভাবে হক্বের লালনকারী। নিম্নে দ্বীনে হক্ব প্রচারে তাহরীকের ভূমিকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরা হ’ল।-

বলিষ্ঠ সম্পাদকীয় :

সম্পাদকীয় এর ইংরেজী হচ্ছে `Editorial'। এর অর্থ হচ্ছে- An article in a publication expressing the opinion of its editor's or publishers. ‘যে নিবন্ধে কোন প্রকাশনার সম্পাদক বা প্রকাশকের মতামত প্রকাশ পায়’। অক্সফোর্ড ডিকশেনারীতে বলা হয়েছে- An important article in a newspaper, that expresses the editor's opinion about an item of news or an issue. ‘কোন পত্রিকার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ, যা কোন সংবাদ বা বিষয় সম্পর্কে সম্পাদকের মতামত প্রকাশ করে’।[2]  

মূলতঃ সম্পাদকীয় হচ্ছে একটি পত্রিকার হৃদপিন্ড (Heart)। হৃদপিন্ড ব্যতীত যেমন দেহ অচল। সম্পাদকীয় বিহীন তেমনি পত্রিকা অচল। সম্পাদকীয়র মাধ্যমেই আদর্শিক স্বাতন্ত্র্য ফুটে ওঠে। সম্পাদকীয় পাঠে যে কেউ পত্রিকার অবস্থান বিচার করতে পারেন। বিশ্লেষণ করতে পারেন প্রকাশকদের মানসিকতা। পরিস্কার হয়ে যায় বাতিলের সাথে উক্ত পত্রিকার আপোসহীনতা অথবা আপোসকামিতা। আত-তাহরীক -এর প্রতিটি সম্পাদকীয় এক্ষেত্রে গুরুত্বের দাবী রাখে। আত-তাহরীক-এর সম্পাদকীয় এর বক্তব্য যেমন আপোসহীন তেমনি এর ভাষাশৈলী চমৎকার। সাহিত্যক দ্যোতনায় রচিত আত-তাহরীক-এর প্রতিটি সম্পাদকীয় পাঠকদের হৃদয় কাড়ে। ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক সংস্কারে আত-তাহরীক-এর সম্পাদকীয় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। আত-তাহরীক-এর বিষয় ভিত্তিক সম্পাদকীয় যেন একেকটি মণিমুক্তা। সমুদ্রের বুক থেকে সংগৃহীত মণিমানিক্য। বৃহত্তর একটি বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সারনির্জাস।

ছহীহ দলীল ভিত্তিক দরস ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ :

মুমিন জীবনের অন্যতম অনুসঙ্গ হচ্ছে দাওয়াত বা তাবলীগ। যা হ’তে হবে স্রেফ এলাহী বিধানের আলোকে। কোন কল্প-কাহিনী বা রায়ের ভিত্তিতে নয়। যে দাওয়াতের সর্বশেষ আসমানী দায়িত্বশীল ছিলেন বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লা-হু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম। তাঁর ইন্তেকালের পরে এ দায়িত্বভার অর্পিত হয় উম্মতের দ্বীনী ইলমে পারদর্শী বিদ্বান ব্যক্তিবর্গের উপরে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লা-হু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম বলেন,  إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ ‘নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীগণের উত্তরাধিকার। আর নবীগণ কোন রৌপ্য বা স্বর্ণ মুদ্রার কাউকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাননি; বরং তাঁরা (দ্বীনী) ইলমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা অর্জন করল, সে পূর্ণ অংশ লাভ করল’।[3] অপরদিকে এই দাওয়াতী কাজ যারা করবেন তাদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ প্রদান করে তিনি বলেন, بَلِّغُوْا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوْا عَنْ بَنِيْ إسْرَائِيْلَ وَلاَ حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ  ‘তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি কথা হ’লেও তা পৌঁছে দাও এবং বনী ইসরাঈলের ঘটনা বর্ণনা করো, এতে কোন দোষ নেই। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপরে মিথ্যারোপ করে সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়’।[4]

উপরোক্ত হাদীছ থেকে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, দাওয়াতী কাজ করতে গিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর নামে কোনরূপ মিথ্যাচার করা যাবে না। জাল-যঈফ হাদীছের ভিত্তিতে দাওয়াত দেওয়া যাবে না। অন্যথায় এই লাভজনক কর্ম করতে গিয়েও নির্মমভাবে নিক্ষিপ্ত হ'’তে হবে বিভীষিকাময় জাহান্নামের অতল গহবরে।

একথা প্রনিধানযোগ্য যে, জাল-যঈফ হাদীছ এবং উদ্ভট কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে দাওয়াত দান রাসূল (ছাঃ)-এর নামে মিথ্যাচার বৈ কিছুই নয়। এতে রাসূল (ছাঃ)-কে অপমান করা হয় এবং খেয়ানতকারী মনে করা হয়। ইমাম মালেক বিন আনাস (রহঃ) বলেন,مَنِ ابْتَدَعَ فِي الْإِسْلاَمِ بِدْعَةً يَرَاهَا حَسَنةً فَقَدْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّداً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، خَانَ الرِّسَالَةَ-  ‘যে ব্যক্তি ইসলামে বিদ‘আত চালু করল এবং এটিকে উত্তম গণ্য করে নিল, সে যেন ধারণা করে নিল যে, নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খিয়ানত করেছেন’।[5]

দাওয়াত যেমন কথা বা বক্তব্যের মাধ্যমে দেওয়া যায় তেমনি লেখনীর মাধ্যমে তথা পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তকের মাধ্যমেও প্রদান করা যায়। বরং মৌখিক দাওয়াতের চেয়ে লেখনীর দাওয়াতই স্থায়ী এবং সর্বাধিক গুরুত্ববহ। অসি যুদ্ধের চাইতে মসি যুদ্ধই অধিক ফলদায়ক। কেননা এর দ্বারা বাতিলের হৃদয়তন্ত্রীতে ঝংকার সৃষ্টি করে। ফলে এক সময় সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে হকের রাজপথে ফিরে আসে।

আর এ কাজটিই নিরবচ্ছিন্নভাবে করে চলেছে মাসিক আত-তহারীক। মানুষের আক্বীদা ও আমলের সংশোধনের ভিত্তিতে সর্বাত্মক সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে ক্লন্তিহীনভাবে এগিয়ে চলেছে আত-তাহরীক। ছহীহ দলীল ভিত্তিক দরসে কুরআন, দরসে হাদীছ ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের অগণিত বাংলাভাষী পাঠকের নিকটে নিরপেক্ষভাবে দ্বীনে হক্ব এর দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছে। জাল ও যঈফ হাদীছ বর্জন করা আত-তাহরীক-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে অনেক লেখকের প্রবন্ধ মানসম্পন্ন না হওয়ায় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। আবার অনেকে তাহরীকে লেখার পদ্ধতি ও মান বিশ্লেষণ করে কলম ধরতেও সাহস পান না। সদ্য মৃত্যুবরণকারী দেশের জনৈক প্রতিথযশা আলেম, যিনি নিজেই একাধিক পুস্তকের রচয়িতা তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আত-তাহরীকে লেখার যোগ্যতা আমাদের নেই। এর রেফারেন্সের যে মান সে তুলনায় আমাদের লেখা চলবে না’। 

বিরুদ্ধবাদীদের কপট লেখনীর জবাব দান :

মহান আল্লাহ বলেন, وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوْقًا  ‘সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত, নিঃসন্দেহে মিথ্যা অপসৃয়মান’ (বানী ইসরাঈল ১৭/৮১)। হক্বের দুর্দন্ড প্রতাপে বাতিল আজ পর্যুদস্ত ও সর্বত্র ধরাশায়ী। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক আপোসহীন লেখনীর তীব্রতায় বাতিল প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেকারণ বিরুদ্ধবাদীদের বিরোধিতা ও শত্রুতার তীব্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকাশ্য জনসভায় গালাগালির পাশাপাশি যোগ হয়েছে বাতিল পন্থীদের উদ্ভট ও বিভ্রান্তিকর লেখনী। যা পাঠে পাঠক মহল পথভ্রষ্ট বা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে পারেন। সেকারণ মাসিক আত-তাহরীক এ ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। হক্বকে হক্ব আর বাতিলকে বাতিল বলার হিম্মত নিয়ে তাহরীক চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে হক্ব ও বাতিলের পার্থক্য। দেখিয়ে দিচ্ছে সঠিক পথের দিশা। তাহরীকের অন্যতম বিভাগ ‘দিশারী’র মাধ্যমে এ জাতীয় বিভ্রান্তিকর লেখনীর দলীল ভিত্তিক জবাব দেওয়া হয়। আর এর ফলে পাঠক মহল প্রকৃত সত্য জেনে ব্যাপকভাবে উপকৃত হ’তে পারে।

শিরক-বিদ‘আতের মূলোৎপাটনে বলিষ্ঠ ভূমিকা

আক্বীদার ক্ষেত্রে শিরকমুক্ত তাওহীদপন্থী এবং আমলের ক্ষেত্রে বিদ‘আতমুক্ত সুন্নাতপন্থী হওয়া ব্যতীত পরকালে মুক্তি লাভের কোন উপায় নেই। শিরক এমন পাপ যা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবে না (নিসা ৪৮, ১১৬)। আর বিদ‘আত এমন আমল, যার ফল হবে শূন্য।[6] অথচ দেশে দেদারসে চলছে শিরক-বিদ‘আত। শিরক-বিদ‘আতের ব্যাপকতায় প্রকৃত তাওহীদ ও সুন্নাতই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ তাওহীদ-শিরক, সুন্নাত ও বিদ‘আতের মধ্যেকার পার্থক্য নিরূপণ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। অনেকে জেনে বিদ‘আত করছে। আবার অনেকে না জেনে বিদ‘আত করে আমল বিনষ্ট করছে। এই জানা অজানা বা ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় করা সকল প্রকারের শিরক ও বিদ‘আতের বিরুদ্ধে মাসিক আত-তাহরীক জন্মলগ্ন থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। আত-তাহরীক-এর বিভিন্ন বিভাগে শিরক-বিদ‘আতের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ লেখনী প্রকাশিত হয়ে আসছে। ফলে পাঠক মহল শিরকী আক্বীদা ও বিদ‘আতী আমল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে তা থেকে মুক্ত থাকতে সক্ষম হচ্ছে।

ছহীহ দলীল ভিত্তিক ফৎওয়া দান :

ফৎওয়া বা ‘প্রশ্নোত্তর বিভাগ’ আত-তাহরীক-এর একটি নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা ও মানব হৃদয়ে জাগ্রত হওয়া হাযারো প্রশ্নের জওয়াব তারা নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানতে চায়। মাসিক আত-তাহরীক কেবল পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকে। এদেশের অধিকাংশ মানুষের ধারণা মানব জীবনের সকল প্রশ্নের উত্তর কেবল কুরআন-হাদীছে পাওয়া যায় না। এ ধারণার বিপরীতে আত-তাহরীক প্রমাণ করেছে যে, যুগ-জিজ্ঞাসার সমাধান কুরআন-হাদীছের মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব।

মাসিক আত-তাহরীক-এর প্রতি সংখ্যায় ৪০টি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে প্রশ্ন বাছাইয়ের পর তা ফৎওয়া লেখকদের নিকটে পাঠানো হয়। সকলের লিখিত জবাব পাওয়ার পর ‘দারুল ইফতা’-এর বৈঠক হয়। সেখানে প্রশ্নোত্তরগুলোর ব্যাপক পর্যালোচনা, যাচাই-বাছাই সম্পন্নের পর সর্বসম্মতিক্রমে যে ফৎওয়াগুলো প্রকাশের অনুমোদন লাভ করে কেবল সেগুলোই আত-তাহরীকে প্রকাশ করা হয়। এভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ৪০টি প্রশ্নোত্তর প্রতি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য যে, আত-তাহরীক-এর ফৎওয়া বিভাগের মাধ্যমে সমাজের ব্যাপক সংস্কার সাধিত হচ্ছে। সমাজে প্রচলিত ভুল ফৎওয়ার কারণে বিভ্রান্ত মানবতা কুরআন-হাদীছ ভিত্তিক সঠিক ফৎওয়া জেনে তাদের আমলী যিন্দেগীকে বিশুদ্ধভাবে ঢেলে সাজাতে সক্ষম হচ্ছে।

পাঠকদের দৃষ্টিতে আত-তাহরীক :  

মাওলানা মাহফূযুর রহমান, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত: ‘হঠাৎ একদিন আমার বড় ছেলে ডাঃ হাবীবুর রহমান মাসিক ‘আত-তাহরীক’ জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী’৯৮ সংখ্যা আমার হাতে তুলে দেয়। খুব মনোযোগ সহকারে পত্রিকা দু’টি পড়ে শেষ করি। পত্রিকা দু’টো আমাকে এতই উদ্বুদ্ধ ও আকৃষ্ট করল, যা প্রকাশের ভাষা আমার নেই। আমি হানাফী মতাবলম্বী হলেও আহলেহাদীছকে শ্রদ্ধা করতাম। তবে অনেক পূর্বে আমি তাদের বিদ্বেষের চোখেও দেখতাম।

আত-তাহরীকের মধ্যে আমার মনোজগতে লুক্কায়িত বহু প্রশ্নের সমাধান খুঁজে পেলাম। তাহরীক মৃত ইসলামকে সঞ্জীবিত করে, ইহকালীন সমস্যা সমূহের মূল্যায়ন করে, পরকালীন মুক্তির পথ দেখায় ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের আহবান জানায়। আত-তাহরীক সত্যিকার অর্থে নির্ভেজাল আদর্শের অবিরাম সামুদ্রিক ঢেউয়ের কল্লোল, যা সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে ছাড়বে। যদি ‘আত-তাহরীক’ আজও না পেতাম, আমার মনে হয় জাহান্নামও আমাকে পোড়াতে ঘৃণা করত। আমার এ অমূল্য জীবনকে ঢেলে সাজানোর জন্য কেউ যদি বৃহৎ অংকের ঋণ দিয়ে থাকে, তবে সেটি হ’ল ‘আত-তাহরীক’।[7]

যহূর বিন ওছমান, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর : ‘বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিদিন অসংখ্য ইসলামী পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কিন্তু এ যাবৎ এমন কোন পত্রিকা পাইনি যা প্রিয়নবী (ছাঃ)-এর সরল-সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে। অবশ্য হৃদয়ে সাময়িক আনন্দ-অনুভূতি সৃষ্টির জন্য অনেক লেখাই প্রকাশিত হয় প্রতিনিয়ত। অথচ পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক লেখা আমাদের দেশে খুবই অপ্রতুল। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক লেখার সমাহার নিয়ে সম্প্রতি একটি খাঁটি ইসলামী দাওয়াতী পত্রিকা বের হয়েছে যার তুলনা দ্বিতীয়টি আর নেই। প্রকৃত আলোর বিস্ফোরণ এই পত্রিকাটির নাম হল ‘মাসিক আত-তাহরীক’। আমি মনে করি প্রতিটি মুমিন নর-নারীর জন্য এই পত্রিকাটি ছিরাতুল মুস্তাক্বীমের পথ দেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দিতে পারবে ছহীহ শুদ্ধ আত্মার খোরাক’।[8]

মাওলানা যিল্লুর রহমান নদভী, হরিরামপুর, দিনাজপুর : ‘মাসিক আত-তাহরীক পাঠ করে আমি কেন বাংলার মাটিতে যাদের অন্তরে বিন্দুর বিন্দু ঈমানী জাযবা আছে তারা সকলেই এক নবজীবন লাভ করেছে। বিশেষ করে আগষ্ট’৯৯ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘হায়াতুন্নবী’ প্রবন্ধটি তাওহীদী মনভাব সম্পন্ন যুবকদেরকে শিরক ও বিদ‘আতের দুর্যোগময় আখড়া থেকে লক্ষ কোটি মাইল দূরে সরিয়ে এনেছে। আর যারা হায়াতুন্নবীতে বিশ্বাসী তাদের মাথায় চরমভাবে বজ্রাঘাত ও এ্যাটমবোম নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ফাসেদ আক্বীদা পোষণকারীগণ তাহরীক পাঠ করে থমকে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে ধরাশায়ী হয়ে হস্তপদ লাফাচ্ছে। আপনাদের এই খেদমত আল্লাহ পাক কবুল করুন এবং পরকালে এর বিনিময়ে জাযায়ে খায়ের দান করুন-আমীন’![9]

মুহাম্মাদ আব্দুছ ছামাদ (ম্যাজিষ্ট্রেট অবঃ), রাজশাহী :  ‘মাসিক আত-তাহরীক পত্রিকাটির আমি একজন নিয়মিত পাঠক ও সৌজন্য কপি প্রাপ্ত ব্যক্তি। ইসলাম ধর্ম নীরব নিথর একটি জড়পদার্থ বিশেষ নয়। এটি একটি চলন্ত অতি বেগবান ও সমস্যা সমাধানের বাস্তব ধর্ম। অতীতে এরূপ আবেগ অনুভূতি নিয়েই জন্ম নিয়েছিল কলিকাতা থেকে মাসিক ‘আহলে হাদীস’ ও পাবনা থেকে মাসিক ‘তর্জুমানুল হাদিছ’ পত্রিকা। যার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে মোহাম্মদ আব্দুল হাকীম (হানাফী) ও মোহাম্মদ বাবর আলী (আহলেহাদীছ) এবং মাওলানা আব্দুল্লাহেল কাফী ছাহেব। আমি মনে করি ‘ইসলাম যেন্দা হোতা হায় হার কারবালা কে বা‘দ’ এ ব্যাখ্যা সত্য নয়। ইসলাম একটা চঞ্চল গতিধারা নিয়ে চলমান পরিপূর্ণ ধর্ম। যার বিকাশ শুরু হয়ে দীর্ঘ ১৪ শত বছর অতিক্রম করে আজও যিন্দাবাদ সর্বস্ব না হয়ে অর্থবাহী এক পূর্ণ ও গতিশীল জীবন ব্যবস্থা। ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সত্যিই এ পথ অনুসরণে তৎপর এবং এ সংগ্রামে তিনি অতীতের জয়ী মুসলিম সেনাপতিদের পথ অনুসরণে কৃতী ব্যক্তিত্ব’।[10]

কুমকুম আখতার খানম, খুরমা, ছাতক, সুনামগঞ্জ : ‘আমার স্বামী সঊদী আরবের জুবাইল শহরে কর্মরত আছেন। তাঁর পরামর্শে আপনাদের প্রকাশিত মাসিক ‘আত-তাহরীক’ আমি এবং আমার দু’ননদ নিয়মিত  পড়ে থাকি। এই পত্রিকার মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে আমরা অনেক অজানা বিষয় জানতে পারছি। বিশেষ করে আক্বীদাগত বিষয় এবং প্রচলিত শিরক-বিদ‘আত সম্পর্কিত আলোচনাগুলি আমাদের কাছে অত্যন্ত ভাল লাগে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ’ল ‘প্রশ্নোত্তর’ পর্ব। এসব কিছু পড়ে আমাদের কাছে যেটা স্পষ্ট হয়েছে, তাহ’ল ছহীহ আক্বীদা ছাড়া কোন আমল বিশুদ্ধ হবে না। আর আমলের ক্ষেত্রে ছহীহ হাদীছ ছাড়া কোন কিছু গ্রহণ করা যাবে না’।[11]

মুহাম্মাদ গোলাম রহমান, তায়েফ, সঊদী আরব : ‘যুগ সন্ধিক্ষণে ‘আত-তাহরীক’ একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ। শিরক-বিদ‘আত সহ যাবতীয় কুসংস্কারের কুহেলিকায় ‘আত-তাহরীক’-এর ষাঁড়াসি অভিযান প্রশংসার দাবী রাখে। আমি আত-তাহরীক কর্তৃপক্ষের উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করছি। আর সাথে সাথে হক্ব পিপাসুদের ‘আত-তাহরীক’-এর হরকতে আন্দোলিত হওয়ার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি’।[12]

মুহাম্মাদ আকবর আলী খাঁন, (অবঃ নৌ-বাহিনীর সদস্য, ভূ-পর্যটক), কানসোনা, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ: ‘আত-তাহরীক’ সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও তাওহীদী পত্রিকার নাম।.. পত্রিকাটি পড়ে এর নানা অঙ্গে বিচরণ করে সত্যিই আমি বিমোহিত হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি তথ্যবহুল সব আলোচনার জন্য।.. আমি মনে করি মুসলমানদের চরম এ দুঃসময়ে কেবল ‘আত-তাহরীক’ই তাদের পাশে বন্ধু হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাদেরকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের পথে পরিচালনা করতে পারে। এমতাবস্থায় পত্রিকাটি যদি বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করা যায়, তাহ’লে বিশ্ব মুসলিম এর থেকে অনেক ফায়দা অর্জন করতে পারবে।

আশা রেখে মনে

দুর্দিনে কভু

নিরাশ হয়ো না তাই,

কোনদিন যাহা

পোহাবে না হায়

তেমন রাত্রি নাই’।[13]

এ. কে. মহিউদ্দীন আহমাদ, হাইলাকান্দি, আসাম, ভারত : ‘আমার পারিবারিক আক্বীদা অনুযায়ী আমি প্রথমে বেরেলভী পন্থী ছিলাম। পরে সংস্কারপন্থী দল হিসাবে দেওবন্দী পীরের কাছে মুরিদ হ’লাম। বই পড়ার খুবই অভ্যাস ছিল। সেহেতু মওলানা আব্দুর রহীমের ‘সুন্নাত ও বিদ‘আত’ বইটি পড়ে বুঝতে পারলাম দেওবন্দী-বেরেলভী সবাই বিদ‘আতী। তখন থেকেই জামায়াতে ইসলামীর বই-পুস্তক পড়া শুরু করলাম এবং তাদের প্রোগ্রামে আসা-যাওয়া করতে থাকলাম। তখন আমার কাছে কেবল জামায়াতে ইসলামীই পূর্ণ মুসলমান দল বলে মনে হ’ল। প্রায় পাঁচ বৎসর জামায়াতে কাজ করার পর ওরা আমাকে ‘রুকন’ হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিল। আমি ব্যস্ততার কারণে কিছু সময় চাইলাম। আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবাণী, তিনি আমাকে হেদায়াতের রাস্তা দেখিয়ে দিলেন। আজ থেকে প্রায় দু’বছর আগে একদিন ইন্টারনেটের মাধ্যমেই পেয়ে যাই ‘আত-তাহরীক’ ও ‘তাওহীদের ডাক’ পত্রিকা। আমার জীবনের সমস্ত কিছুকেই বদলে দিল এই দু’টি পত্রিকা। ভাল করে বুঝতে পারলাম যে, আমি আসল জিনিষের নাগাল পেয়ে গেছি’।[14]

উপসংহার :

যে বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে ‘আত-তাহরীক’-এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল সে লক্ষ্যে ‘আত-তাহরীক’ আজও স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে অগ্রসৈনিকের ন্যায় এগিয়ে চলছে। কোন অবস্থাতেই বাতিলের সাথে আপোস করছে না। স্রেফ এলাহী বিধানের আলোকে দলীল সহ আত-তাহরীক তার দাওয়াতী মিশন অব্যাহত রেখে চলেছে। ফালিল্লা-হিল হামদ। পরিশেষে আত-তাহরীক-এর এই পিচ্ছিল পথের সহযাত্রী সহ সকল শুভানুধ্যায়ীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং বিশ্ব প্রভুর নিকটে এই প্রার্থনা যে, তিনি যেন সকলকে এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান প্রদান করেন, এই হক্ব দাওয়াতী মাধ্যমকে যুগ যুগ  ধরে টিকিয়ে রাখেন এবং নানাবিধ ষড়যন্ত্র থেকে হেফাযত করেন- আমীন!!



[1]. বুখারী ‘বিদায় হজ্জ’ অনুচ্ছেদ নং-৭৭, হা/৪৪০৩

[2]. A.S. Hornby, Oxford Advanced Learner's Dictionary, P. 485.

[3]. আবূদাঊদ হা/৩৬৪৩; তিরমিযী হা/২৮৯৮; মিশকাত হা/২১২ ‘ইলম’ অধ্যায়, সনদ হাসান

[4]. বুখারী, হা/৩৪৬১

[5]. আব্দুল মুহসিন, ফাতহুল কাবিইল মাতীন, ১/৮৬, ৯৮

[6]. কাহফ ১০৩-১০৪; মুসলিম হা/১৭১৮

[7]. আত-তাহরীক, ২য় বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা, মার্চ’৯৯, পাঠকের মতামত, পৃ: ৪৯

[8]. আত-তাহরীক, ২য় বর্ষ ৮ম সংখ্যা, মে’৯৯, পাঠকের মতামত,  পৃ: ৪৫

[9]. আত-তাহরীক, ৩য় বর্ষ ২য় সংখ্যা, নভেম্বর’৯৯, পাঠকের মতামত,  পৃ: ৪৭

[10]. আত-তাহরীক, ৩য় বর্ষ ১০ম সংখ্যা, জুলাই’২০০০ পাঠকের মতামত, পৃ: ৪৯

[11]. আত-তাহরীক, ৪র্থ বর্ষ ৮ম সংখ্যা, মে’২০০১ পাঠকের মতামত,  পৃ: ৪৪

[12]. আত-তাহরীক, ৫ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, অক্টোবর’২০০১ পাঠকের মতামত,  পৃ: ৪৫

[13]. আত-তাহরীক, ৫ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা, মার্চ’২০০২ পাঠকের মতামত, পৃ: ৪৮

[14]. আত-তাহরীক, ১৬তম বর্ষ তয় সংখ্যা, ডিসেম্বর’২০১২ পাঠকের মতামত,  পৃ: ৪৯