মুসলিম জাহান

মুসলিম জাহান

ইয়ামনের ঐতিহ্যবাহী দারুল হাদীছ দাম্মাজ মাদরাসার অশ্রুসজল স্থানান্তর

হুতী শী‘আদের দীর্ঘ আড়াই মাস যাবৎ টানা অবরোধের মুখে অবশেষে সরকারের চারদিনের নোটিশে স্থানান্তরিত হ’ল ইয়ামনের ঐতিহ্যবাহী সালাফী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দারুল হাদীছ দাম্মাজ’। প্রায় ১২ হাযার ছাত্র-ছাত্রী ও ৩ হাযার অধিবাসী এখানে বসবাস করত। গত ১৫-১৯ জানুয়ারী’১৪ তারিখে কয়েক’শ গাড়িতে করে পশ্চিম ইয়ামনের ‘হাদীদাহ’ নামক স্থানে এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলে। উল্লেখ্য যে, গত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ থেকে এ পর্যন্ত স্থানীয় হুতী শী‘আদের সাথে দাম্মাজের সালাফীদের সংঘর্ষে শতাধিক লোক নিহত হয়। গত কয়েক দশকে দাম্মাজ জুড়ে সালাফী আন্দোলনের ব্যাপক বিস্তারে হুতী শী‘আরা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সেজন্য বিভিন্ন সময় তারা সালাফীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি এ সংঘর্ষ আবার শুরু হয় এবং তাতে শতাধিক সালাফী ছাত্র ও জনতা নিহত হয়। আহত হয় আরো ৭/৮শ’ মানুষ। অবশেষে ইয়ামনের প্রেসিডেণ্টের আহবানে এবং মাদরাসা ও ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সেখানকার বর্তমান প্রিন্সিপ্যাল শায়খ ইয়াহইয়া আল-হাজূরী এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মাদরাসাটি স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এভাবে দীর্ঘ প্রায় চার দশক যাবৎ দাম্মাজের শী‘আ অধ্যুষিত মাটিতে বিশুদ্ধ ইসলামের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলার পর অশ্রুসজল বিদায় নিতে হচ্ছে দাম্মাজে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৫ হাযারেরও বেশী সালাফী ভাই-বোনকে। প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদেঈ’র স্মৃতি বিজড়িত এই সালাফী প্রতিষ্ঠানটি সারা বিশ্বে সালাফী আন্দোলনের এক বিস্ময়কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল এর ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য ও অবস্থানগত কারণে। প্রায় দেড় হাযার বছর ধরে ইয়ামনের পূর্বাঞ্চলের এই এলাকাটি পুরোপুরি শী‘আ অধ্যুষিত ছিল। ৮০-এর দশকে শায়খ মুক্ববিল তাওহীদ ও সুন্নাত প্রচারের লক্ষ্যে এই অভূতপূর্ব মারকাযটি গড়ে তোলেন। তার মাধ্যমে বহু শী‘আ পরিবার বিশুদ্ধ ইসলামে ফিরে আসে (এ মাদরাসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন- তাওহীদের ডাক, মার্চ-এপ্রিল সংখ্যা ২০১৩ এবং বার্ষিক ক্যালেন্ডার ২০১৩)

সুদানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ইসলাম গ্রহণ

সুদানে নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোসেফ ডি স্টাফোর্ড ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তুরস্কের ওয়ার্ল্ড বুলেটিন এই খবর প্রকাশ করেছে। সংবাদ মাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, ইসলাম গ্রহণ করায় মার্কিন সরকার জোসেফকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। তবে জোসেফ তার পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোসেফের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেনি।

জোসেফ প্রায়ই সুদানের সালাফী সংগঠন ‘আনছারুস সুন্নাহ্’র সদর দফতর পরিদর্শনে যেতেন এবং সেখানকার আলেমদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পদত্যাগের পর পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে তিনি, আমি ও আমার স্ত্রী সুদানের অসংখ্য চমৎকার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে ভাগ্যবান মনে করছি। আমরা আপনাদের এবং আপনাদের চমৎকার দেশকে সব সময় মনে রাখব। যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে ১৯৯৮ সাল থেকেই চার্জ দা অ্যাফেয়ার্স পদমর্যাদার কূটনীতিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ চালিয়ে আসছে। পেশাদার কূটনীতিক জোসেফ ২০১২ সালের জুনে সুদানে পদে নিয়োগ পান।

 

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম হৃৎপিন্ড সংযোজন সম্পন্ন

প্রথমবারের মতো সফলভাবে কৃত্রিম হৃৎপিন্ড সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। একটি ফরাসী প্রতিষ্ঠান ক্যারমেটের তৈরী করা হৃৎপিন্ড ৭৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির দেহে সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে লোকটি আরো পাঁচ বছর বাঁচবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হৃৎপিন্ডটি চলবে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারীর শক্তিতে। এটা দেহের বাইরে ধারণ করা যাবে। এতে জৈব উপাদান ব্যবহার করায় দেহের পক্ষ থেকে একে প্রত্যাখ্যান করার সম্ভাবনা খুবই কম। কৃত্রিম হৃৎপিন্ডটি রোগাক্রান্ত হৃৎপিন্ডের বদলে লাগানো যাবে। আগের কৃত্রিম হৃৎপিন্ডসমূহ সাময়িকভাবে ব্যবহৃত হ’ত। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যে রোগীটির দেহে কৃত্রিম হৃৎপিন্ড লাগানো হয়েছে, তিনি অস্ত্রোপচারের পর সঠিকভাবেই জেগেছেন। কৃত্রিম হৃৎপিন্ডটির ওজন এক কিলোগ্রামেরও কম, যা স্বাস্থ্যবান দেহের হৃৎপিন্ডের চেয়ে তিনগুণ বেশি ওযনবিশিষ্ট।

যান্ত্রিক হাতেও স্পর্শের অনুভূতি

দশ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় হাত হারানো ডেনমার্কের ডেনিস আবো কৃত্রিম হাতটি লাগিয়েই বলে উঠলেন অবিশ্বাস্য! এটা ম্যাজিক! যেন হারানো হাতকে অনুভব করছি! ৩৬ বছর বয়সী আবো বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যার শরীরে রোমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে হাতটি লাগানো হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা তার হাতের ওপরের বাহুর স্নায়ুকোষের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে দিয়েছেন কৃত্রিম হাতটির। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় হাতে ধরে আবো বলতে পারছেন তিনি কোন আকারের জিনিস স্পর্শ করছেন। এটির নমনীয়তাও অনুভব করতে পারছেন তিনি। ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির একদল বিশেষজ্ঞ দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই সফলতা দেখাতে পেরেছেন। রোমে আবোর শরীরে এই কৃত্রিম হাতটি লাগানো হয়েছে।

এই গবেষকদের একজন অধ্যাপক সিলভেস্ত্র মিসেরা বললেন, এটাই প্রথম গবেষণা, কোন ব্যক্তি কৃত্রিম হাত দিয়ে স্পর্শের অনুভূতি পাবেন। যন্ত্র ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনুভূতি পৌঁছে যাবে ঐ ব্যক্তির মস্তিষ্কে। মিসেরার গবেষক দল জানিয়েছে, আবোকে অস্ত্রপচারের সময় তার বাহুতে চারটি  বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে, যা তার কৃত্রিম হাতের আঙ্গুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। আর এর মাধ্যমেই সেটি পৌঁছে যাবে তার মস্তিষ্কে। ফলে তিনি যা ধরবেন তা অনুভব করতে পারবেন।