প্রবন্ধ

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের উপায়

শামসুল আলম

বর্তমান পৃথিবীতে যত জটিল ও মারাত্মক সমস্যা রয়েছে, তন্মধ্যে মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্তি হ’ল সবকিছুর শীর্ষে। যুদ্ধবিগ্রহের চেয়েও এটা ভয়ংকর। কারণ কোন যুদ্ধের মাধ্যমে একটি জাতি-গোষ্ঠীকে ধ্বংস করতে চাইলেও একেবারে তা নির্মূল করা সম্ভব নয়; যা কিনা মাদকতার মাধ্যমে সম্ভব। বাংলাদেশ মাদকতার হিংস্র ছোবলে এখন আক্রান্ত এবং দেশটি দ্রুত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ জাতির এখনও হুঁশ হচ্ছে না। অন্যভাবে বলা যায়, আমাদের সমাজ এখন মাদক ক্যান্সারে আক্রান্ত। যার শেষ পরিণতি অনিবার্য মৃত্যু। সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব না হ’লে জাতি ধ্বংসের অতল গহবরে নিমজ্জিত হবে। এ নিবন্ধে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের উপায় আলোকপাত করা হ’ল-

মাদকতা কি?

মাদকাসক্তির সংজ্ঞা বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে দিয়েছেন। এখানে কয়েকটি সংজ্ঞা উল্লেখ করা হ’ল।-

Habitual use of certain narcotic that leads in time to mental and moral deterioration, as well as to delaterious social effects[1] ‘মাদকাসক্তি হচ্ছে অভ্যাসগত চেতনা উদ্রেককারী দ্রব্যের ব্যবহার। যা মানসিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত করে এবং সামাজিক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে’।

১৯৮৯ সালে প্রণীত বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদকাসক্ত বলতে, শারীরিক বা মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বা অভ্যাস বশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারীকে বুঝানো হয়েছে।[2]

এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এভাবে মাদকাসক্তির সংজ্ঞা দিয়েছে, Intoxication detrimental to the individual and the society produced by the repeated consumption of a drug (Natural and synthetic). ‘নেশা বা মাদকাসক্তি এমন মানসিক বা শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যা জীবিত প্রাণী ও মাদকের মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। এ প্রতিক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলো হ’ল, মাদকদ্রব্যটি কমবেশী নিয়মিত গ্রহণের দুর্দমনীয় ইচ্ছা, মাদকদ্রব্য সৃষ্টির ফল বা প্রতিক্রিয়া পাবার তীব্র আকাঙ্খা অথবা মাদকদ্রব্য না থাকার অস্বস্তি এড়ানোর প্রচেষ্টা’।[3]

মাদকাসক্তির বৈশিষ্ট্য : উপরোক্ত সংজ্ঞা থেকে মাদকাসক্তির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।-

(১) এটা একটি অভ্যাসগত চেতনা উদ্রেককারী দ্রব্যের ব্যবহার।

(২) এর ব্যবহার মানুষের মানসিক, শারীরিক ও নৈতিক ক্ষতির কারণ।

মানুষ যেসব মাদকদ্রব্য সেবন করে : পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে মাদকদ্রব্যের সাথে পরিচিত হয়ে তা বিভিন্নভাবে গ্রহণ করে আসছে। কখনও সামাজিক রীতি অনুযায়ী, কখনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, কখনও বা বিয়ে-শাদীতে, কখনও আনন্দ-ফূর্তিতে, কখনও বা ক্লাবে-হোটেলে। আর বর্তমানে এর বিস্তার ঘটেছে প্রকাশ্যে। যা পানির স্রোতের বেগে সমাজের সর্বশ্রেণীর মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে আমাদের সমাজে যে সকল মাদকদ্রব্য বেশী চলছে তা হ’ল- বিড়ি-সিগারেট, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাজা, আফিম, ইয়াবা, প্যাথেড্রিন, মদ, হুইস্কি, তাড়ি, তামাকজাত দ্রব্য ইত্যাদি। এছাড়া অন্যান্য মাদকদ্রব্যগুলোর মধ্যে আছে- কোকেন, ক্যাফেইন, হাশিশ, মরফিন প্রভৃতি।

মাদকের ভয়াবহতা : বিশ্বব্যাপী মাদকের ভয়াবহতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা কল্পনাতীত। আর এ কারণে পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। অন্যদিকে এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা, এমপি-মন্ত্রী এগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সীমান্ত পথ উন্মুক্ত রয়েছে। ভারত, বার্মা প্রভৃতি দেশও এসব নিষিদ্ধ দ্রব্য আমাদের দেশে প্রবেশের সকল কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্তে ১ ডজনেরও বেশী ফেনসিডিল ও মাদক কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। যার উৎপাদিত প্রায় সবটুকুই বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর উদ্দেশ্য হ’ল এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করা। যাতে এদেশকে তাদের করদ রাজ্যে পরিণত করা যায়। মাদকের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোন মন্তব্য করেছেন, ‘যুদ্ধ, মহামারী, দুর্ভিক্ষ এ তিনটির প্রভাবে যত ক্ষতি হয় তা একত্রে যোগ করলেও মাদকে যে ক্ষতি হয় তা অনেক ভয়ংকর’। সরকারী মাদক অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট মাদকাসক্তের ৯০ শতাংশই কিশোর, যুবক ও ছাত্র-ছাত্রী। যাদের ৫৮ ভাগ ধূমপায়ী এবং ৪৪ ভাগ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। মাদকাসক্তদের গড় বয়স এখন ১৩ বছরে এসে ঠেকেছে। আসক্তদের ৫০ শতাংশের বয়স ২৬ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। সেই সাথে বিস্ময়কর তথ্য হ’ল যে, দেশের মোট মাদকসেবীর মধ্যে অর্ধেকই উচ্চশিক্ষিত। দিন-মজুর, রাজমিস্ত্রী, রড মিস্ত্রী, বাস-ট্রাক, বেবী ট্যাক্সী ও রিক্সা চালকদের মধ্যেও বহু মাদকাসক্ত রয়েছে। আর এটা জানা কথা যে, মাদকাসক্তি ও সন্ত্রাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি তামাক সেবীর মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ হ’ল নারী। আবার বাংলাদেশের ৪৩ ভাগ লোক তামাক সেবী।[4]

আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি রিপোর্টে বলা হয়, ধূমপানের অপকারিতায় বছরে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই ৩ লাখ ৪৬ হাযার লোক মৃত্যুবরণ করে। চীনে মারা যায় ১ লাখ ৪০ হাযার। বৃটেনে ৫৫ হাযার, সুইডেনে ৮ হাযার এবং পুরো বিশ্বে ২৫ লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে। আর এক রিপোর্টে বলা হয়, ধূমপানের অপকারিতায় মৃত্যুর হার দুর্ঘটনা ও যুদ্ধ ক্ষেত্রের চেয়ে অনেক বেশী।[5] বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হ’ল মাদকদ্রব্য গ্রহণ। ১৯৯০ সালের হিসাব মতে ঢাকার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের ৭৬৯ জন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে শতকরা ১৩.৬৫ ভাগই ছিল গাড়ী চালক। এরা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ী চালাতে গিয়ে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায়।

মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিক সমূহ :

বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চেয়ে মাদকাসক্তির ভয়াবহতা আরও মারাত্মক ও ভয়ংকর। একটি পরিবারে বা সমাজে অশান্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টির জন্য একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিই যথেষ্ট। মাদকদ্রব্য বিষয়ক বিশিষ্ট এক অমুসলিম গবেষক ‘মার্ক এস গোল্ড’ মদের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক বলতে গিয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।-

১. শারীরিক ক্ষতি : মাদকদ্রব্য সেবনে সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতি হ’ল মানুষের শারীরিক ক্ষতি। যে কারণে একজন মানুষের শরীর ক্রমে ক্রমে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মাদকদ্রব্য সেবনে মানুষ দৈহিক যে সমস্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয় তা হ’ল (১) লিভার প্রসারিত হওয়া (২) মুখমন্ডল ফুলে যাওয়া ও বিকৃত হওয়া (৩) মাদকদ্রব্যের প্রতি সংবেদনশীলতা হরাস-বৃদ্ধি পাওয়া (৪) মুখ ও নাক লাল হওয়া (৫) মুখমন্ডল সহ সারা শরীরে কালশিরে পড়া (৬) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া (৭) বুক ও ফুসফুস নষ্ট হওয়া (৮) স্মরণশক্তি কমে যাওয়া (৯) যৌনশক্তি কমে যাওয়া (১০) চর্ম ও যৌন রোগ বৃদ্ধি পাওয়া (১১) স্ত্রীর গর্ভে ঔরসজাত সন্তান বিকলাঙ্গ বা নানারোগে আক্রান্ত হয়ে জন্ম নেয়া (১২) হঠাৎ চোখে কম দেখা (১৩) নাসিকার ঝিল্লি ফুলে উঠা (১৪) ব্রংকাইটিস রোগ বৃদ্ধি সহ বুকের নানা সমস্যা দেখা দেয়া (১৫) সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাওয়া (১৬) হজমশক্তি হরাস পাওয়া ও খাবারের প্রতি রুচি কমে যাওয়া (১৭) দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা লাগা ও ফ্লুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া (১৮) হঠাৎ শিউরে উঠা (১৯) অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়া (২০) স্মৃতিশক্তির কোষ ধ্বংস করা।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণের ফলে ফুসফুস ও মুখগহবরে ক্যান্সার সহ ২৫ প্রকার রোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে এবং এদের পাশে অধূমপায়ীরা অবস্থান করলে ঐসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রায় ৩০ শতাংশ ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ও ভেজাল খাদ্যের কারণেই মরণব্যাধি লিভার ও ব্লাড ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। যার কারণে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত (২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী)। বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ মাদকের সাথে জড়িত (মে ২০০৭-এর হিসাব মতে)। এক গবেষণায় দেখা যায়, যদি কেউ ১৩টি সিগারেট টানে, তাহ’লে তার ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি সাতগুণ বৃদ্ধি পায়। আর যদি ২০টি সিগারেট টানে তাহ’লে তার ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০ গুণ বেড়ে যায়। জাতিসংঘ স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ধূমপানের ফলে প্রতি সাড়ে ছয় সেকেন্ডে বিশ্বে ১ জন মানুষ মারা যায়।[6]

২. মানসিক ক্ষতি : মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অন্যতম আরেকটি ক্ষতি হ’ল মানসিক ভারসাম্যহীনতা। যে কারণে প্রায় আপনজনকেও চিনতে পারে না। স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মাকেও চিনতে ভুল করে। ফলে পরিবারে অশান্তি নেমে আসে। অন্যান্য মানসিক ক্ষতির দিক হ’ল- (১) স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়া (২) পাগলামী করা (৩) নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা (৪) উদ্বিগ্নতা ও হতাশাগ্রস্ত হওয়া (৩) অমনোযোগিতা (৬) মাথা ঘোরা (৭) অসংলগ্ন কথা বলা (৮) চিত্তবৈকল্য (৯) দৃষ্টিভ্রম হওয়া (১০) অনিদ্রা (১১) নপুংসক হয়ে যাওয়া (১২) খাবারের প্রতি অনীহা (১৩) খিটখিটে মেযাজ ও অলসতা (১৪) আপনজনের প্রতি অনাগ্রহ ও স্নেহ-ভালবাসা কমে যাওয়া ইত্যাদি।

৩. পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতি : মাদকাসক্তের সবচেয়ে একটি বড় ক্ষতি হচ্ছে পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে। কারণ যে পরিবারে মাদকাসক্ত ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে, সে পরিবারে কোন সুখ-শান্তি থাকে না। দিন-রাত সেখানে মারামারি-কাটাকাটি লেগেই থাকে। তার নেশার প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে না পারলে পরিবারের সদস্যদের অলংকার ও টাকা-পয়সা চুরি; সেটা না পারলে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে জোর করে অস্ত্র দেখিয়ে অর্থ নিয়ে তার চাহিদা মেটায়। যদি তাও সম্ভব না হয় তখন সে সমাজে, রাস্তা-ঘাটে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রভৃতি অপকর্ম শুরু করে। সমাজে চলে চরম বিশৃংঙ্খলা ও অশান্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় আতংক। এর দ্বারা আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্ট হয়ে থাকে। এদের দ্বারাই খুন-খারাবীর মত ঘটনা ঘটে থাকে। আর এ সুযোগে অনেকে এ ধরনের লোককে টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনী হিসাবে কাজে লাগায়। বর্তমানে দেশের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামে-গঞ্জেও এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। এখন সন্ত্রাসী, কালোবাজারি, চোরাকারবারি, নেশাখোরদের অত্যাচার চরম পর্যায়ে। কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। জ্ঞানী-গুণী বা সম্মানী মানুষের কোন মান-ইয্যত নেই। যা অত্যন্ত লজ্জাকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪. মাদকাসক্ত নারীর ক্ষতি সমূহ : মাদকাসক্ত নারীর ক্ষতি সম্পর্কে মনোচিকিৎসক ডাঃ ঝুমু শামসুন্নাহার বলেন, মাদক গ্রহণে শারীরিকভাবে নারীরা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন- (১) নারীর প্রজনন ক্ষমতা হরাস পায় (২) অনিয়মিত মাসিক হয় (৩) জরায়ুতে বিভিন্ন প্রকার রোগ হয় (৪) যৌনরোগ দেখা দেয় (৫) অপুষ্ট সন্তান জন্মদান (৬) অনেক সময় ভূমিষ্ঠ সন্তানও মাদকাসক্ত হয়ে জন্মাতে পারে। সম্প্রতি মাদকাসক্তদের মধ্যে এইডস দেখা দিচ্ছে।[7]

৫. অর্থনৈতিক ক্ষতি : মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও সেবনে এখন কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ ব্যবসা অধিক লাভজনক। বিধায় এতে জড়িয়ে পড়ছে নিম্ন থেকে উচ্চ শ্রেণীর মানুষেরা। এক শ্রেণীর মন্ত্রী, এমপি, সরকারী আমলা ও রাজনৈতিক নেতা এই লাভজনক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর কেবল তামাকের কারণেই বিশ্বব্যাপী ২০০ মিলিয়ন ডলার (১৬২০০ বিলিয়ন টাকা) ক্ষতি হয়। ২০০৫ সালের হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে শুধু তামাক ও তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপনে ১ হাযার ৩০০ কোটি ডলারের বেশী ব্যয় হয়। ১৯৮৮ সালে ঢাকার একটি মানসিক হাসপাতালে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, ভর্তিকৃত রোগীদের প্রতি ৬ জনের একজন হেরোইনখোর। এদের শতকরা ৮৫ ভাগের বয়স ৩০-এর কম। হেরোইন সেবীদের শতকরা ৪৫ ভাগ ব্যবসায়ী, ২১ ভাগ ছাত্র, ২০ ভাগ চাকুরীজীবী। এদের দৈনিক সেবনের জন্য ব্যয় হয় ৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। অন্য বর্ণনা মতে, ২০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা ব্যয় হয়। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯৮৩ সালের রিপোর্টে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বে সিগারেট কেনার পিছনে যে অর্থ ব্যয় করা হয়, এর দুই-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করলে বিশ্বে প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা অবশ্যই সম্ভব হবে।[8]

মাদকাসক্তির কারণ সমূহ

মাদকাসক্তি বর্তমানে সবচেয়ে জটিল সমস্যা। একদিনে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অসচেতনতার কারণে এটা এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এখানে মাদকাসক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করা হ’ল।-

(ক) ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব (খ) রাষ্ট্রীয় কঠোর রীতি-নীতির অভাব অথবা দু’মুখো নীতি (গ) মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা (ঘ) আদর্শ বিচ্যুত হওয়া (ঙ) পিতা-মাতার আদর-যত্নের অভাব অথবা অসচেতনতা (চ) বেকারত্ব (ছ) অসৎ সঙ্গ (জ) জীবনে কোন কারণে ব্যর্থতা (ঝ) মাদকদ্রব্য পাচারের ট্রানজিট হওয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশে স্থল, নৌ ও বিমানে বর্তমানে ৩০টি রুটে মাদকদ্রব্য আমদানী ও রপ্তানী হচ্ছে (ঞ) অপসংস্কৃতির জয়জয়কার (ট) শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি ও সেশন জট (ঠ) রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সংশ্লিষ্টতা ও অনৈতিক কর্মকান্ড (ড) সামাজিক অসচেতনতা (ঢ) মাদকতার কুফল সম্পর্কে শিক্ষার অভাব (ণ) প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তা (ত) দেশের সুইপার, উপজাতি শ্রেণী বা দেশে অবস্থানকারী বিদেশী (বিধর্মী) প্রভুদের মাদকতা ব্যবহারের অনুমতি প্রদান প্রভৃতি।

ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকতা :

ইসলামে মদকে হারাম করা হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, সকল প্রকার নেশা জাতীয় বস্ত্তই নিষিদ্ধ। কুরআন ও হাদীছে মদকে خمر (খামার) বলা হয়েছে। এই خمر (খামার) শব্দের অর্থ হ’ল- আবৃত করা, ঢেকে দেয়া, গোপন করা, আচ্ছন্ন করা ইত্যাদি। পারিভাষিক অর্থে ‘খামার’ হ’ল সেই বস্ত্ত, যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে লোপ করে দেয়। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘খামার’ হ’ল সেই বস্ত্ত যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে লোপ করে দেয়’।[9] এ বিষয়ে ওমর ফারূক (রাঃ) বলেন, ‘মদ তাই, যা মানুষের বিবেককে আচ্ছন্ন করে’।[10] জাহেলী যুগে আরব দেশে আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব এ পাঁচটি বস্ত্ত থেকে মদ তৈরী হ’ত।[11] কারো মতে, আঙ্গুরের কাঁচা রস আগুনে জ্বাল দিয়ে ফুটানোর পর তাতে ফেনা সৃষ্টি হ’লে তাকে ‘খামার’ বলা হয়।[12] তবে বর্তমানে এসব বস্ত্ত ছাড়াও বিভিন্ন পদ্ধতিতে মদ ও মদ জাতীয় অনেক কিছু তৈরী করা হচ্ছে। এসবই ‘খামার’ বা নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় বস্ত্তর অন্তর্ভুক্ত।

মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধের প্রেক্ষাপট :

মাদকদ্রব্যের ব্যবহার প্রাচীন যুগ থেকে চালু ছিল। তবে সবচেয়ে বেশী ব্যবহার ছিল জাহেলী যুগে। তৎকালে আরবেরা মদ পান করাকে আভিজাত্যের প্রতীক মনে করত। এই মদে অতি সামান্য পরিমাণ উপকার রয়েছে বটে, তবে ক্ষতিকর দিক অত্যধিক। মদ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে তিন পর্যায়ে চারটি আয়াত নাযিল হয়; সর্বপ্রথম সূরা বাক্বারাহ ২১৯, পরে নিসা ৪৩ ও সর্বশেষে মায়েদাহ ৯০-৯২। উল্লেখ্য, এ আয়াতগুলো দীর্ঘ বিরতির পর অবতীর্ণ হয়। যাতে আরবের লোকেরা এটা পরিত্যাগের জন্য মানসিক প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতে পারে। ইতিমধ্যে ছাহাবীগণ এর ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর দিক রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট প্রকাশ করলেন। একদিন ওমর বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) মদ সম্পর্কে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে মদ সম্পর্কে পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিন’। পরে বাক্বারাহ ২১৯ নং আয়াত নাযিল হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে ডেকে আয়াতটি শুনিয়ে দেন। এরপর ওমর (রাঃ) পূর্বের ন্যায় দো‘আ করেন। অতঃপর সূরা নিসা ৪৩ আয়াত নাযিল হয়। একইভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে ডেকে আয়াতটি শুনিয়ে দেন। কিন্তু ওমর (রাঃ) পূর্বের ন্যায় আবারও দো‘আ করেন। তখন মায়েদাহ ৯০-৯২ আয়াত নাযিল হয়। এ আয়াতদ্বয়ের কথাও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ওমর (রাঃ)-কে ডেকে শুনিয়ে দেন। তখন ওমর (রাঃ) আনন্দচিত্তে বলে উঠলেন, ‘এখন আমরা বিরত হ’লাম’ (অর্থাৎ আর দাবী করব না)।[13] আবু মায়সারাহ বলেন, মদ নিষিদ্ধের আয়াত নাযিল হয়েছিল ওমর (রাঃ)-এর কারণে।[14]

তীবী বলেন, সূরা মায়েদাহর অত্র আয়াতে মদ নিষিদ্ধের পক্ষে ৭টি দলীল রয়েছে। যথা- (১) মদ নাপাক বস্ত্ত (২) এটা শয়তানী কাজ, যা করা নিষিদ্ধ (৩) ‘তোমরা এ থেকে বিরত হও’। আল্লাহ যা থেকে বিরত থাকতে বলেন, তা নিঃসন্দেহে হারাম (৪) ‘যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও’। অর্থাৎ যা থেকে বিরত থাকার মধ্যে কল্যাণ রয়েছে, তা অবশ্যই নিষিদ্ধ (৫) শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায়’। অর্থাৎ যার মাধ্যমে এগুলো সৃষ্টি হয়, তা নিঃসন্দেহে হারাম (৬) এটা আল্লাহর স্মরণ ও ছালাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখে’। যার মাধ্যমে শয়তান এই দুষ্কর্মগুলো করে, তা অবশ্যই নিষিদ্ধ (৭) ‘অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না’? অর্থাৎ আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের যে কাজ হ’তে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে হারাম’।[15]

মদ নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল :

মদ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীছে অনেক দলীল এসেছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ণায়কর সমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার। শয়তান মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও ছালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না’ (মায়েদাহ ৫/৯০-৯১)

অত্র আয়াতদ্বয় নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একজন ঘোষককে তা প্রচারের নির্দেশ দিলেন। তিনি মদীনার অলি-গলি ঘুরে এ কথা ঘোষণা করলেন এবং এ হুকুম সর্বত্র পৌঁছে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি আবু ত্বালহা (রাঃ)-এর ঘরে লোকদেরকে মদ পরিবেশন করছিলাম। তখন মদের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একজন ঘোষককে তা প্রচারের নির্দেশ দেন। ঐ ব্যক্তি এ মর্মে ঘোষণা দিচ্ছিলেন যে, ‘মদ হারাম করা হয়েছে’। তখন আবু ত্বালহা আমাকে বললেন, বেরিয়ে দেখতো কিসের ঘোষণা দেয়া হচ্ছে? আনাস (রাঃ) বললেন, ‘আমি বের হ’লাম এবং এসে বললাম, একজন ঘোষক ঘোষণা দিচ্ছে যে, জেনে রাখ, মদ হারাম করা হয়েছে। এরপর তিনি আমাকে বললেন, যাও এগুলো সব ঢেলে দাও। আনাস (রাঃ) বললেন, সেদিন মদীনা মুনাউওয়ারার রাস্তায় মদের শ্রোত প্রবাহিত হয়েছিল।[16] জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নেশাকর বস্ত্ত হারাম’।[17] অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, প্রত্যেক পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে, তা হারাম।[18] তিনি আরো বলেন, ‘মদ হ’ল সকল অনিষ্টের মূল’।[19] অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যার বেশীতে মাদকতা আসে, তার অল্পটাও হারাম’।[20]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদের সাথে সম্পৃক্ত দশ ব্যক্তিকে লা‘নত করেছেন। (১) মদ প্রস্ত্ততকারী (২) মদের ফরমায়েশ দানকারী (৩) মদ পানকারী (৪) মদ বহনকারী (৫) যার জন্য মদ বহন করা হয় (৬) যে মদ পান করায় (৭) মদ বিক্রেতা (৮) মদের মূল্য ভোগকারী (৯) মদ ক্রয়কারী (১০) যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়।[21]

কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীছ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, ইসলামে মাদকতার কোন স্থান নেই। অথচ বর্তমানে দেশের বাজারে নামে-বেনামে সরকারী লাইসেন্স নিয়ে তরল পানীয় যেমন- হান্টার, টাইগার, শার্ক, স্পীড প্রভৃতি কোমল পানীয় বিক্রি হচ্ছে। পানীয় দ্রব্যের মধ্যে সামান্যতম অ্যালকোহল বা মদের সংমিশ্রণ থাকলে সেগুলোও হারামের অন্তর্ভু&ক্ত হবে। সুতরাং আমাদের উচিত সকল নিষিদ্ধ খাবার বা বস্ত্ত থেকে দূরে থাকা এবং পবিত্র বা হালাল বস্ত্ত ভক্ষণ বা ভোগ করা।

মদ্যপানের শাস্তি : মদ্যপানকে বন্ধ করার জন্য ইসলামে দু’ধরনের শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

১. ইহকালীন শাস্তি : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করে, তাকে বেত্রাঘাত কর। যদি চতুর্থবার পান করে, তবে তাকে হত্যা কর। জাবের (রাঃ) বলেন, পরে অনুরূপ একজন ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আনা হ’লে তিনি তাকে প্রহার করেন। কিন্তু হত্যা করেননি’।[22]

সায়েব বিন ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে এবং আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর যুগের প্রথম দিকে কোন মদ্যপায়ী এলে তাকে আমরা হাত দিয়ে, চাদর দিয়ে, জুতা দিয়ে পিটাতাম। অতঃপর ওমর (রাঃ-এর যুগের শেষ দিকে তিনি ৪০ বেত্রাঘাত করতেন। কিন্তু মদ্যপান বৃদ্ধি পেতে থাকলে তিনি ৮০ বেত্রাঘাত করেন। অন্য বর্ণনায়, লাঠি ও কাঁচা খেজুরের ডাল দ্বারা প্রহার করার কথা এসেছে। এমনকি রাসূল (ছাঃ) নিজে তার মুখে মাটি ছুঁড়ে মেরেছেন বলে উল্লিখিত হয়েছে’।[23]

আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদ্যপানের শাস্তিস্বরূপ মদ্যপায়ীকে জুতা ও খেজুরের ডাল দিয়ে পিটাতেন এবং আবু বকর (রাঃ) চল্লিশ ঘা মেরেছেন।[24]

উপরোক্ত হাদীছগুলো থেকে বুঝা যায়, ইসলামে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের জন্য পার্থিব শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে শাস্তির পরিমাণ নির্ণয় করা আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয়। আদালত মদ্যপায়ীর অপরাধের মাত্রা বুঝে শাস্তির মাত্রা কম-বেশী করতে পারেন।[25] তবে ইসলামী আদালতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হ’ল এসব আসামীকে সংশোধন করা, কোনরূপ নিষ্ঠুরতা না করা। তাকে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাবার সুযোগ দিতে হবে। এতে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে।

২. পরকালীন শাস্তি : মদ্যপানের পরকালীন শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নেশাকর বস্ত্তই মদ এবং প্রত্যেক মাদকই হারাম। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করেছে এবং তা থেকে তওবা না করে মৃত্যুবরণ করেছে, আখেরাতে সে ব্যক্তি তা পান করবে না’।[26] অর্থাৎ সে ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তির জন্য ওয়াদাবদ্ধ যে ব্যক্তি নেশাকর বস্ত্ত পান করে তাকে ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ পান করাবেন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, সেটি কি বস্ত্ত হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের দেহের ঘাম অথবা দেহ নিঃসৃত রক্তপুঁজ’।[27]

মদখোরদের পরিণতি জাহান্নাম। আর সে জাহান্নামের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, لَّا يَذُوْقُوْنَ فِيْهَا بَرْداً وَلَا شَرَاباً، إِلَّا حَمِيْماً وَغَسَّاقاً- ‘সেদিন তারা সেখানে কোনরূপ শীতলতা কিংবা কোন পানীয় পাবে না। ফুটন্ত পানি ও দেহ নিঃসৃত রক্ত ও পুঁজ ব্যতীত’ (নাবা ৭৮/২৪-২৫)। আর খাদ্য হিসাবে তারা পাবে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ও বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত যাক্কূম ফল (ওয়াকি‘আহ ৫৬/৫২) ও বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত শুকনা ‘যরীঘাস’। যা তাদেরকে পুষ্ট করবে না, ক্ষুধাও মিটাবে না’ (গাশিয়াহ ৮৮/৬-৭)

আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একবার মদ্যপান করে, আল্লাহ ৪০ দিন পর্যন্ত তার ইবাদত কবুল করবেন না। এভাবে পরপর তিন দিন যদি সে মদ পান করে ও তিনবার তওবা করে, তবুও আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। কিন্তু চতুর্থবার যদি সে মদ পান করে, তাহ’লে তার ৪০ দিনের ছালাত কবুল হয় না। উপরন্তু তার তওবা কবুল হবে না। এছাড়া পরকালে আল্লাহ তাকে ‘নাহরে খাবাল’ অর্থাৎ জাহান্নামীদের দেহ নিঃসৃত রক্ত ও পুঁজের দুর্গন্ধময় নদী হ’তে পান করাবেন’।[28]

ইমরান বিন হুছাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এরশাদ করেন, এ উম্মতের মাঝে ভূমি ধ্বস, মানুষের আকৃতি বিকৃতি এবং আকাশ থেকে আল্লাহর আযাব অবতীর্ণ হবে। তখন জনৈক মুসলিম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সেটা আবার কখন? রাসূল (ছাঃ) বললেন, যখন গায়ক-গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ্য প্রচলন ঘটবে এবং মদ্যপান বৃদ্ধি পাবে’।[29]

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীছ সমূহ থেকে বুঝা গেল যে, মদ পানকারীদের দুনিয়াতে যেমন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি মৃত্যুর পর কিয়ামতের ময়দানে এক কঠিন বিচারের সম্মুখীন হ’তে হবে এবং জাহান্নামের ভয়াবহ অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হ’তে হবে।

মাদকতা প্রতিরোধের উপায়

বর্তমান সমাজে মাদকতার ব্যাপক প্রসার ঘটছে। দিনে দিনে তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণীর মধ্যে মাদকাসক্তের হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে কয়েক বছর পর দেশে সুস্থ লোক পাওয়া দুষ্কর হবে। বর্তমানে কোন কোন সেচ্ছাসেবী সংগঠন এ বিষয়ে কিছুটা এগিয়ে আসলেও সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। মাদক প্রতিরোধে সরকারকেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজনৈতিক হানাহানি নয়; বরং সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকতার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। এখানে মাদকতা প্রতিরোধে কতিপয় প্রস্তাবনা ও দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হ’ল-

মাদকদ্রব্য প্রতিরোধের উপায় প্রধানত দু’টি। যথা- (১) নৈতিক ও ধর্মীয় (২) রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক।

নৈতিক ও ধর্মীয় উপায়ে মাদকতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা : বাংলাদেশে শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের বসবাস। এখানে ধর্মীয় অনুভূতি ও চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকতা নির্মূল করা সম্ভব। ইসলামী দল, সংস্থার দায়িত্বশীল, মসজিদের ইমাম ও খতীব, ইসলামী জালসা ও সেমিনারে আলোচকদের মাধ্যমে মাদকের দুনিয়াবী ক্ষতি ও পরিণতি এবং পরকালে এর শাস্তি ও ফলাফলের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে বেশী ভূমিকা পালন করতে হবে। এর জন্য জাতীয় বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে ধর্মীয় অনুভূতি সৃষ্টি এবং বিশ্বাস ও আমলের সংশোধনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন আনা যায়, সেটাই হ’ল সর্বোৎকৃষ্ট ও স্থায়ী সংশোধন।

মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে : আজকাল রেডিও, টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকাতে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। বরং যারা মাদক সেবন, মাদক পাচার ও ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের তালিকা ও চিত্র তুলে ধরা এবং তাদের থেকে সাধারণ মানুষকে সাবধান করা যরূরী।

এছাড়া পিতা-মাতা ও মুরুববীরা ছেলে-মেয়েদের কাছে মাদকতার অপকারিতা তুলে ধরতে পারেন। কোন ছেলে এই ভয়াল নেশায় জড়িয়ে পড়লে সমাজের সচেতন সকলের এগিয়ে যাওয়া উচিত এবং তাকে ঐ নেশা থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করাও কর্তব্য।

রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক প্রতিরোধ : কোন দেশের প্রশাসন যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহ’লে প্রশাসনের সামনে অপরাধ কর্মকান্ড হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ অপরাধীরা যখন দেখবে যে, অপরাধ করলে এর কোন প্রতিকার বা শাস্তি হয় না। অথবা বড় জোর থানা পর্যন্ত গেলে কারো ফোনের মাধ্যমে ছাড়া পাওয়া যায়। অথবা কোর্টে গেলে সহজে যামিনে বের হওয়া যায় ও কিছুদিন পর খালাসও পাওয়া যায়। তখন তারা আরো বেপরোয়া হবে। এজন্য মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকতা বন্ধে আমাদের কতিপয় প্রস্তাবনা।-

১. মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও সরবরাহের লাইসেন্স বন্ধ করতে হবে।

২. পুলিশ প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

৩. মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে পৃথক অধিদফতর গঠন করে সংশ্লিষ্টদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

৪. এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত মন্ত্রী, এমপি, আমলা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ও রাজনৈতিক নেতাদের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। পক্ষান্তরে সৎ ও ন্যায়পরায়ণদেরকে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করতে হবে।

৫. মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও মাদকের সাথে জড়িতদের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এজন্য কঠোর আইন যেমন মৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেরূপ  চীন, ইরান, সঊদী আরব প্রভৃতি দেশে এর জন্য কঠোর আইন রয়েছে। বিশেষ করে মাদক চোরাচালানদেরকে এ আইনের আওতায় অবশ্যই আনতে হবে।

৬. সমাজে সাধারণ মাদকাসক্তদেরকে ইসলামী আইনের আওতায় এনে কঠোর ও প্রকাশ্যে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সাথে সাথে সংশোধনেরও ভাল ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. টেলিভিশন, সিনেমা, পত্র-পত্রিকায় এবং স্যাটেলাইটে মাদকতার দৃশ্য, অশ্লীল ছবি সহ সকল অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এর বিপরীতে মাদকাসক্তি থেকে নিরাময়ের উপায় এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো বেশী বেশী তুলে ধরতে হবে।

৮. দেশের সীমান্তসহ মাদক প্রবেশের যতগুলো রুট রয়েছে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

৯. মাদকদ্রব্য নির্মূলের জন্য মাদক নিবারক আইন যরূরী ভিত্তিতে পাস করতে হবে।

১০. বাংলাদেশে সর্বত্র ধূমপান নিষিদ্ধের আইন পাস করতে হবে। ভুটান, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সহ অনেক রাষ্ট্রে ধূমপান নিষিদ্ধ। একই সাথে তামাক উৎপাদন, বিপণন, আমদানী-রপ্তানী, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ এবং এর বিজ্ঞাপন প্রদানসহ সব প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

১১. সামাজিকভাবে মাদকতার ভয়াবহতাকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সম্মিলিত প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে পারলে এ সামাজিক ক্যান্সার নিমিষে দূর করা সম্ভব। এই কমিটি দল, মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমন্বয়ে হ’তে পারে। এদের কাজ হবে সমাজ ও গ্রামের মাদকাসক্তদেরকে বুঝানো। সামাজিক চাপ সৃষ্টি ও ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করা। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেয়া এবং পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

১২. মাদকতা নির্মুলের লক্ষ্যে দেশের সেনাবাহিনীর উপর দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।

পরিশেষে বলব, মাদকতা একটি জাতিকে সহজেই নির্মূল করতে পারে। যেমন হাদীছে এসেছে, ওছমান গনী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা এটি হ’ল সকল নিকৃষ্ট কর্মের উৎস’। মনে রেখো, তোমাদের পূর্বেকার জনৈক ব্যক্তি সর্বদা ইবাদতে রত থাকত এবং লোকালয় থেকে দূরে থাকত। একদা এক পতিতা মেয়ে তাকে প্রলুব্ধ করল এবং তাঁর কাছে তার দাসীকে পাঠিয়ে দিল। সে গিয়ে বলল যে, আমরা আপনাকে আহবান করছি একটি ব্যাপারে সাক্ষী থাকার জন্য। তখন সাধু লোকটি দাসীটির সাথে দেখা করল। যখনই সে কোন দরজা অতিক্রম করত তখনই তা পিছন থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়া হ’ত। এভাবে অবশেষে এক সুন্দরী মহিলার কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হ’ল। যার কাছে একটি বালক ও এক পাত্র মদ ছিল। তখন ঐ মহিলাটি তাকে বলল, আমি আপনাকে সাক্ষী করার জন্য ডাকিনি। বরং ডেকেছি আমার সাথে যেনা করার জন্য। অথবা এই বালকটিকে হত্যা করবেন কিংবা এই এক পেয়ালা মদ পান করবেন। লোকটি তখন মদ পান করল। অতঃপর বলল, আরও দাও। অতঃপর সে মাতাল হয়ে গেল। ফলে সে উক্ত নারীর সাথে যেনা করল এবং ঐ বালকটিকেও হত্যা করল। অতএব তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা মদ ও ঈমান কখনও একত্রে থাকতে পারে না। বরং একটি অপরটিকে বের করে দেয়’।[30]

অতএব আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাদকতা থেকে বেঁচে থাকার এবং এগুলো প্রতিরোধ করার তাওফীক দান করুন- আমীন!



*. শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

[1]. ডঃ মুহাম্মাদ রুহুল আমীন ও মোহাম্মাদ আবু জাফর খান, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্তি সমস্যা : ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম প্রকাশ, মে ২০০৪), পৃঃ ৪।

[2]. মুহাম্মাদ সাইফুল আলম, মাদকদ্রব্য বিষয়ক আইন (ঢাকা : পল্লব পাবলিশার্স, ১৯৯০), পৃঃ ১০।

[3]. মোঃ আব্দুল হালীম মিয়া, স্নাতক সমাজ কল্যাণ পরিক্রমা, (ঢাকা : হাসান বুক হাউস, ২০০০), পৃঃ ৩৯৮।

[4]. মাসিক আত-তাহরীক, ১৫ তম বর্ষ, ১২তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১২, পৃঃ ৮।

[5]. শায়খ মুস্তাফিজুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-মাদানী, হারাম ও কবীরা গুনাহ, (ঢাকা : দারুল ইরফান, জুলাই-২০১১), পৃঃ ২৭০।

[6]. মাসিক কারেন্ট নিউজ, জুলাই ২০০৪, পৃঃ ৫১।

[7]. ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাদক ও তামাক, পৃঃ ৭৩-৭৪।

[8]. তদেব, পৃঃ ২৭০।

[9]. বুখারী হা/৫৫৮৫।

[10]. বুখারী হা/৪৬১৯; মুসলিম হা/৩০৩২; মিশকাত হা/৩৬৩৫।

[11]. বুখারী হা/৩৬৬৯।

[12]. অপরাধ ও শাস্তিমূলক মাসআলা-মাসায়েল (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২০০৬), পৃঃ ৩৬।

[13]. আবুদাঊদ হা/৩৬৭০; তিরমিযী হা/৩০১৯; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৩৪৮; আওনুল মা‘বূদ হা/৩৬৫৩ ‘পানীয় সমূহ’ অধ্যায়।

[14]. কুরতুবী, মায়েদাহ ৯০-এর আলোচনা দ্র.।

[15]. আওনুল মা‘বূদ হা/৩৬৫৩-এর ব্যাখ্যা।

[16]. বুখারী হা/৫৫৮২, ৪৬১৭।

[17]. মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৯ ‘দন্ডবিধি সমূহ’ অধ্যায়।

[18]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৩৭।

[19]. ইবনে মাজাহ, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৫৮০, ‘ছালাত’ অধ্যায়।

[20]. তিরমিযী, আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩৬৪৫।

[21]. তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৭৭৬।

[22]. তিরমিযী হা/১৪৪৪; নাসাঈ, মিশকাত হা/৩৬১৭।

[23]. আবু দাঊদ হা/৪৪৮৭; মিশকাত হা/৩৬২০।

[24]. বুখারী হা/৬৭৭৩; মুসলিম হা/১৭৫৬।

[25]. মাসিক আত-তাহরীক, ১৫তম বর্ষ, ১২তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১২, পৃঃ ১০।

[26]. মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৮।

[27]. মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৯।

[28]. তিরমিযী, মিশকাত হা/৩৬৪৩-৪৪।

[29]. তিরমিযী হা/২২১২।

[30]. নাসাঈ হা/৫৬৬৬; বায়হাক্বী হা/২৮৭-২৮৮।

 

 

 

 

 

HTML Comment Box is loading comments...