কবিতা

 

আলোর প্রার্থনা

সাইফুল ইসলাম

শ্যামপুর, মতিহার, রাজশাহী।

 হে প্রভু! হে মহান সৃষ্টিকর্তা!

আমাদের আলো দাও পথ দেখার জন্য

আরো আলোকিত কর আমাদের সত্তাকে।

আমাদের উপলব্ধিতে আলো নেই

রোজগারে সচ্ছতা নেই।

পৃথিবী জুড়ে দুঃসহ অন্ধকার!

আমাদের আলোর ভীষণ দরকার।

এখানে যারা নিত্যদিনে আলো ফেরি করে

তাদের নিজের ঘরেই জমাট অন্ধকার।

দুনিয়াতে এখন শুধুই কথার বাজার

অপরাধের শাস্তি নেই মন্ত্রী-রাজার।

 হে আমাদের রব!

আঘাতে আঘাতে ছিন্ন মোদের জীবন নৌকার পাল

চরম দুঃখ কেঁটেছে হেথায় সর্বনাশের খাল।

ফাঁকা ভিটায় জমেছে যেন নির্জনতার কালো

তুমি আলো দাও প্রভু, অহি-র নির্মল আলো।

হকের পথে বাধা

আবুল কাসেম

 গোভীপুর, মেহেরপুর।

হকের পথে দাওয়াত দিয়ে

হকের পথে চল

আখেরাতে মুক্তি পাবে

দুনিয়াতে ভাল।

রাসূলের দাওয়াত নিয়েছিল

ছাহাবায়ে কেরামগণ

বাতিল ধর্ম ছেড়ে দিয়ে

ইসলামকে করেছেন গ্রহণ।

হকের পথে কাঁটা আছে

সাবধানেতে যাবে

অসাবধানে গেলে পরে

কাঁটার আঘাত পাবে।

হকের পথে যারা আছে

তারাই খাঁটি মুসলমান

তাদের জন্য এই দুনিয়া

দেখবে যে জাহান্নাম।

তোমরা বুঝি আজব মানুষ

বাতিল ভালবাস

হকের কথা বলতে গেলে

 চোখ টিপে হাস।

মুখের কথায় হয় না ভাল

প্রমাণ কর কাজে

সত্যিই যদি হক বুঝতে

মরতে ভীষণ লাজে।

ছহীহ ছালাত

মুহাম্মাদ রফীকুল ইসলাম

গোপালপুর, রাণীনগর, নওগাঁ।

জায়নামাযের দো‘আ পড়ে মানুষ ছালাতে

জায়নামাযের দো‘আ নেই কুরআন-হাদীছে।

ছালাতের নিয়ত অন্তরে হয়

মুখে পড়ার জন্য নয়।

ছহীহ হাদীছ মতে হাত বাঁধতে হবে বুকে

যঈফ হাদীছ মতে হাত বাঁধে নাভির নীচে।

সূরা ফাতিহা পড়তে হয় প্রতি ছালাতে

হাদীছটা লেখা আছে ছহীহ বুখারীতে।

জোরে আমীন বললে গুনাহ মাফ হয়

ছহীহ হাদীছে থাকলেও তা হানাফী মাযহাবে নয়।

ছালাত শেষে সবাই মিলে করছে মুনাজাত

কেউ ভেবে দেখে না কাজটা বিদ‘আত।

জাল হাদীছের ভিত্তিতে চলছে নবীর ছালাত

এভাবে ছালাত আদায় করে কেউ পাবে না নাজাত।

আসুন সবাই ছহীহভাবে ছালাত আদায় করি

ছহীহ ছালাত আদায় করে জান্নাতী জীবন গড়ি।

কাজের মেয়ে

মুহাম্মাদ শামীম মিয়া

ছোট্ট খুকি কাজের মেয়ে

সোমা তার নাম

কাজ না করলে নেই

এক পয়সা দাম।

এক বেলা খেতে গেলে

দুই বেলা লাগে ডর

মালিকের বউ মানুষ নয়

যেন পশু ভয়ংকর।

একটা ভুল হয়ে গেলে

ঝাটার বাড়ি দরদর

ফাঁস করলেই করবে ছাড়া ঘর।

মার খেয়ে গায়ে আসে জ্বর

রাখে বেঁধে অন্তর।

ওরা তো ছাড়ে না,

মনে মনে বলি আর কত?

চেপে দেয় তার উপর

কষ্টকর ভারী কাজ যত।

কাজের মেয়ে ছোট্ট সোমা

কাকে বলে মনের ব্যথা

অসহায় দরিদ্র তার পিতা-মাতা।

মূর্খ সে জানে না পড়া-লেখা।

ওদের অনেক প্রভাব আছে অনেক টাকা

তাই বলে কি থাকবে না

সোমাদের স্বাধীনতা?