কবিতা

আখেরাতের যাত্রী

সোহেল আহমাদ

সাঘাটা, গাইবান্ধা

নেমে এলো ঘন তম সেই মহা রাত্রি

হুঁশিয়ার হও ওগো ওপারের যাত্রী।

হাতে ছিল লণ্ঠন তৈল শেষ তাহাতে

বহু পথ পাড়ি দেবে তুমি কোন আলোতে।

সংসারে সুখে ছিলে কত মধু মমতা

আজ তুমি একা হলে নেই কোন ক্ষমতা।

ধরণীতে রেখে গেলে সঞ্চিত অর্থ

অসহায় আজ তুমি সব হলো ব্যর্থ।

সেই মলিন আজি দেখে মহাচন্ড

চোখ ফেটে আসে পানি ভিজে দুই গন্ড।

যুগে যুগে ডেকে ছিল সত্যের যাত্রী

নচেৎ আধাঁর হতো হিসাবের রাত্রি।

আজ তুমি কি নেবে আরো তুমি কি চাও

কেনা-বেচা শেষ আজি খালি হাতে চলে যাও!

নেমে এলো ঘন তম সেই মহারাত্রি

হুঁশিয়ার হও ওগো আখেরাতের যাত্রী।

দাওরে যাকাত

মুহাম্মাদ ওবাইদুর রহমান

মহোনপুর, রাজশাহী।

দুনিয়া ছেড়ে সবাই যাবে

থাকবে জমা-জমি,

ধনীর মালে গরীবের ভাগ

আছে সবাই জানি।

মাসের সেরা রামাযান মাসে

গরীবের খবর নাও,

ফরয ভেবে মালের যাকাত

নিঃস্বের মাঝে বিলাও।

ছিয়াম রাখ, যাকাত দাও

কায়েম কর ছালাত,

মৃত্যুর পর পেয়ে যাবে

শান্তির জায়গা জান্নাত।

দুঃখের কথা

মুহাম্মাদ মোবারক হোসেন

রাজশাহী ডিজিটাল প্লাস মডেল স্কুল, রাজশাহী।

বলব কি আর দুঃখের কথা বলতে পরাণ ফাটে

দুঃখ কেন যায় না বেচা ভবের এ বাজার-হাটে?

চোরের মায়ের ডাঙ্গর গলা বাদী ভয়ে পালায়

প্রাণটা বুঝি যায়রে এবার চোরের মায়ের জ্বালায়।

দুর্নীতি করে সন্ত্রাসীরা সাধু প্রাণে মরে

সারা দেশটা ভুগছে আজ দুর্নীতির ভাইরাস জ্বরে।

মাঘের শীতে ঘি জমে, না জমে সরিষার তেল

অসহায় লোকের মাথায় এখন ভাঙ্গে সবাই বেল।

মানী লোকের নাইরে মান ক্ষমতার করে পূজা

আল্লাহকে চেনে না তবু ঈমানদার, রামাযানে নাই রোযা।

সারা বছর নাইরে ছালাত ঈদে প্রথম সারি

ইমাম ছাহেবকে করেন হুকুম পড়ুন তাড়াতাড়ি।

দুঃখিনী মা ভিক্ষা করেন গ্রামের পথে পথে

খোকন-সোনা ব্যস্ত এখন নেতা-নেত্রীর সাথে।

চেনে না সে বাপের কবর নেতার মাযারে ফুল

ফুল কিনতে বিক্রি করে বউয়ের কানের দুল।

দেশের সম্পদ লুটেও তিনি দেশদরদী নেতা

এ নেতার মুখেই শুনা যায় যত ডাহা মিথ্যা কথা।

সত্য কথা যায় না বলা উচিত কথায় ঝাল

উচিত কথা শুনলে নেতার গাল ফুলে হয় লাল।

আমের ছোঁয়া নেইকো তবু নামটি ম্যাংগোজুস

এভাবে আর ঠকবি কত ফিরবে কবে হুঁশ?

গণতন্ত্রের সংজ্ঞা

মাহদী হাবীব।

গণতন্ত্রের অর্থ হল

জনগণের শাসন

যে শাসনের জন্য থাকে

নানা রকম আসন।

জনগণের জন্য সরকার

জনগণের দ্বারা

জনগণের মধ্য থেকে

হবে বাছাই করা।

গণতন্ত্রের এমন তত্ত্ব

বাস্তবতায় গিয়ে

জনগণের ভাগ্য কিনে

নগদ পয়সা দিয়ে।

সূদ-আসলে সেই পয়সা

তুলতে গিয়ে ঘরে

রক্ত চোষে নেতা-নেত্রী

জনগণই মরে।

বিদ্রোহ

আতিয়ার রহমান

মাদরা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

আমি মিথ্যার সাথে ঘোষিয়া বিদ্রোহ এক আল্লাহকে মানি ইলাহ

শত মত পথ দলিয়া মথিয়া চলি রাসূল (ছাঃ)-এর বলা যে রাহ।

হাযার গায়রুল্লাহর বক্ষেতে শক্তি হানে আমার যে তলোয়ার,

মম হুঙ্কারে কাঁপে তাগূতেরা তার কলিজা কাঁপে যে থরথর।

বিদ‘আতীর যারা করে উপাসনা তারা কাঁপে প্রাণ ভয়েতে,

আমার অভিযান থামিবে না কভু চলবে বিশ্ব জয়েতে।

সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে যারা উদিত হ’ল এ ভুবনে,

স্বার্থের প্রদীপে দেখে যারা মুখ মিথ্যার বুলি যবানে।

নিঃস্বের বুকে রেখে পদভার দ্যুলকে গড়িলে স্বর্গ

মানুষের পাঁজর চুষিয়া বানালো গগনচুম্বী দুর্গ।

যাহারা বানালো ধূলার ধরাতে ভয়ের রাজ্য কায়েম করতে ত্রাস,

তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী আমি তাদের করিব নাশ।

তাদের মুখের প্রলোভিত জিব কেটে করি আমি খান খান,

বলিছে যে মুখে মিথ্যার বুলি টুটি তার শত গর্দান।

এক আল্লাহকে ছাড়া কারো কাছে আমি করি নাক কভু নত শির,

তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী আমি যারা আল্লাহর শত্রু ধরণীর।