মুসলিম জাহান

৩য় দুবাই পিস কনভেনশন ২০১৪ সমাপ্ত

 

গত ১৭-১৯ এপ্রিল ৩য় দুবাই পিস কনভেনশন ২০১৪ দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। দুবাইয়ের শাসক এবং আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ বিন রশীদ আল-মাকতূমের পৃষ্ঠপোষকতায় উক্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি গত ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডা. যাকির নায়েক (ভারত), ইউসুফ এস্টেস (আমেরিকা), শায়খ ইসমাঈল মূসা মেনক (জিম্বাবুয়ে), ড. মুহাম্মাদ ছালাহ (আমেরিকা), ডা. তৌফিক চৌধুরী (বাংলাদেশ), নো‘মান আলী খান (আমেরিকা), আছেম আল-হাকীম (সঊদী আরব), ওয়ালীদ বাসীঊনী (আমেরিকা), আব্দুল বারী ইয়াহইয়া (আমেরিকা), সাঈদ রাযেহ (কানাডা), আহমাদ হামেদ (ভারত)। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম এবং হারামাইনের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট শায়খ আব্দুর রহমান আস-সুদাইস এবং স্বনামধন্য ক্বারী মিশারী বিন রশীদ আফাসী (কুয়েত) ও গত বছর ইসলাম গ্রহণকারী বহুল আলোচিত ইসলাম বিদ্বেষী ডাচ রাজনীতিবিদ আর্নোড ভ্যান ডুর্ন প্রমুখ। মোট ৩৭ জন ব্যক্তি এই সম্মেলনে ইসলাম গ্রহণ করেন। তবে অনুষ্ঠানে ভ্যান ডুর্ন-এর বড় ছেলে আলেকজান্ডার আমিয়েনের ইসলাম গ্রহণ সবাইকে বিস্মিত করেছে।

প্রথমদিনের সভাপতি ইউসুফ এস্টেস (আমেরিকা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সুখ এবং শান্তি দু’টো ভিন্ন জিনিস। পার্থিব অর্জনের মাধ্যমে আমরা সুখী হওয়ার প্রতিনিয়ত যে প্রচেষ্টা চালাই, তাতে আমরা কখনই প্রকৃত সুখী হ’তে পারি না। কারণ একটা চাহিদা পূরণের সাথে সাথে আরেকটি চাহিদা এসে উপস্থিত হয়। এই চাহিদার কোন শেষ হয় না। সুতরাং সুখী হওয়ার মূল বিষয় হ’ল আত্মিক প্রশান্তি। আর এই আত্মিক প্রশান্তি আসে যা আমরা পেয়েছি তার উপর তুষ্ট থাকার উপরে, যা আমরা আকাংখা করি তা অর্জনের উপর নয়।’

উল্লেখ্য, ৩দিন ব্যাপী সম্মেলনে আরব আমিরাত এবং উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রায় ৭০ হাযার শ্রোতা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি সেশনে মহিলাদের বিপুল অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। আলোচনা ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান প্রদর্শনী এবং ছোটদের জন্য বিনোদনের বিশেষ আয়োজন করা হয়।

ইসলামী দন্ডবিধি জারির ঘোষণা দিল ব্রুনাই

পহেলা মে’১৪ থেকে ব্রুনাই দারুসসালামে ১ম পর্বের শরী‘আহ আইন তথা ইসলামী দন্ডবিধি জারির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সুলতান হাসান আল-বালক্বিয়াহ (৬৭)। এক রাজকীয় ঘোষণায় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের অন্যতম সুলতান বালক্বিয়াহ বলেন, মহান আল্লাহর উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ঘোষণা করছি যে, ১লা মে থেকে ইসলামী দন্ডবিধির ১ম পর্ব কার্যকর করা হবে। পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী দন্ডবিধি বাস্তবায়ন শুরু হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জনের থিওরিতে আল্লাহর আইনকে অস্বচ্ছ ও কর্কশ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তাঁর দেয়া আইন স্বচ্ছ ও সুন্দর। অতএব এ ঘোষণা দিতে পেরে আমি মহান আল্লাহর নিকটে শুকরিয়া আদায় করছি। উল্লেখ্য যে, এক বছর আগেই তিনি এ বিষয়ে জনসমক্ষে অবহিত করেছিলেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১লা মে থেকে বিবাহ-বহির্ভূত গর্ভধারণ, জুম‘আর ছালাত না পড়া, অন্য কোন ধর্ম প্রচার ইত্যাদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে। ১২ মাস পর ২য় পর্যায়ে চুরির শাস্তি হাতকাটা, মদ্যপানের শাস্তি ১০০ চাবুক মারা, ব্যভিচারের শাস্তি মৃত্যুদন্ড ইত্যাদি বাস্তবায়ন শুরু হবে। উল্লেখ্য, আগে থেকেই প্রতিবেশী মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে ব্রুনাইয়ে ইসলামী অনুশাসনের প্রয়োগ অনেক বেশী।

ব্রুনাইর সংখ্যাগরিষ্ট মালয় মুসলিমরা দন্ডবিধির পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে। আর অমুসলিমরা এর সমালোচনা করলেও সুলতানের শান্ত থাকার আহবানের পর সবাই থেমে গেছেন।

এদিকে ইসলামী দন্ডবিধির সূচনার সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অফিস। তারা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এরূপ আইন জারি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শরী‘আহ আইনকে অমানবিক ও নির্যাতনমূলক বলে উল্লেখ করেছে।

ব্রুনাই দারুসসালামের বেশীরভাগ মানুষই মালয় মুসলিম। দেশটির ৪ লাখ মানুষের মধ্যে ৬৪ শতাংশ মুসলিম, ১৩ শতাংশ বৌদ্ধ, ১০ শতাংশ খ্রিস্টান। বাকিরা কনফুসিয়ান, তাওবাদ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। ২০১৩ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় ৩৯ হাযার ৩৫৫ মার্কিন ডলার। জনগণ বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা পায়। ব্যক্তিগত আয়করও পরিশোধ করতে হয় না। দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন সূচকে সিঙ্গাপুরের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রুনাই। এখানে প্রতিটি পরিবারের গড়ে তিনটি করে গাড়ি আছে।

রাজতান্ত্রিক ব্রুনাইয়ের সুলতান একাধারে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। বর্তমান সুলতান হাসান আল-বালক্বিয়াহ। ৬০০ বছরেরও বেশী সময় ধরে এ রাজবংশ ব্রুনাই শাসন করছে। এখানে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি আইন সভা আছে। তবে এর সদস্যরা কেবল আইন প্রণয়নে পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেন।

[ধন্যবাদ দেশগুলিকে। অথচ ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা আজও পড়ে আছি জাহেলিয়াতের অন্ধকারে। গুম-খুন-অপহরণ কবলিত বাংলাদেশী নেতাদের এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহবান জানাই (স.স.)]

সঊদী আরবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনী

মধ্যপ্রাচ্যে প্রকাশ্যে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনকারী প্রথম দেশ হওয়ার রেকর্ড গড়ল সঊদী আরব। ২৭ বছর আগে চীন থেকে কেনা ডিএফ-৩ মডেলের এইসব ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মত গত ২৯শে এপ্রিল ইরাক ও কুয়েত সংলগ্ন সঊদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ‘হাফা’র ‘আল-বাতীন’ এলাকায় এক সামরিক কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করা হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,৬৫০ কিলোমিটার। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ২,১৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এবং তা এক থেকে তিন মেগাটন মাত্রার একটি পরমাণু বোমায় সজ্জিত। সামরিক কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষস্থানীয় সঊদী সেনা কর্মকর্তারা এবং সঊদী যুবরাজ ও উপপ্রধানমন্ত্রী সালমান বিন আবদুল আযীয। পাকিস্তানের সেনা প্রধান রাহিল শরীফ ছাড়াও বাহরাইনের রাজা হামাদ এবং আবুধাবীর যুবরাজ শেখ মুহাম্মাদ বিন যায়েদও এই অনুষ্ঠানে সঊদী সেনাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

ইসরাঈলী গোয়েন্দা সংবাদ মাধ্যম এ ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছে, এ ঘটনার মাধ্যমে সঊদী সরকার ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী পরমাণু সমঝোতা ও আলোচনায় মশগুল ওয়াশিংটনের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে। এ ঘটনা এটাও তুলে ধরেছে যে, পরমাণু ক্ষেত্রে সঊদী সরকার এখন কেবল আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং পাকিস্তান ও চীনের সহায়তা নিয়ে সে তার নিজস্ব পারমাণবিক বাহিনী গড়ে তুলেছে।