প্রশ্ন করুন

প্রশ্নোত্তর



দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৩২১) : সূরা ইবরাহীমের ২৪ নং আয়াতের তাফসীর জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মুজীবুর রহমান
কদমডাঙ্গা, সাপাহার, নওগাঁ।
উত্তর : অনুবাদ : ‘আপনি কি দেখেননি আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? পবিত্র বাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট বৃক্ষের মত, যার মূল সুদৃঢ় ও শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বে বিস্তৃত’ (ইবরাহীম ২৪)
অত্র আয়াতে বর্ণিত كَلِمَةً طَيِّبَةً অর্থ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ (তাফসীর ইবনে কাছীর, উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা)। যা মুমিন নারী-পুরুষের হৃদয়ে পবিত্র বৃক্ষের কান্ডের ন্যায় প্রোথিত থাকে। আর তার শাখা হিসাবে সৎ কর্ম সমূহ আসমানের দিকে উত্থিত হয়। যেমন একটি খেজুর বৃক্ষ।
উল্লেখ্য যে, অনেকে মনে করেন, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’ কালেমা ত্বাইয়েবাহ। আসলে তা কালেমায়ে শাহাদাত বা কালেমাতুত তাক্বওয়া (ছহীহ ইবনে হিববান হা/২১৮, সনদ ছহীহ)। অত্র আয়াত ও পরবর্তী আয়াতের মাধ্যমে তাওহীদী আক্বীদা ও কুফরী আক্বীদার ব্যবহারিক ফলাফল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।


প্রশ্ন (২/৩২২) : ঈদের ছালাতের দু’একদিন আগে ফিৎরা বণ্টন করা যাবে কি?
-মুফীযুদ্দীন
মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : ঈদের ছালাতের আগে ফিৎরা বণ্টন করার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং পরে বণ্টনের প্রমাণ পাওয়া যায় (বুখারী, মিশকাত হা/২১২৩)। তবে ঈদের ছালাতের পূর্বে দায়িত্বশীলের কাছে ফিৎরা জমা করা ওয়াজিব (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৮১৫)। উল্লেখ্য যে, অনেকে হাদীছে উল্লেখিত ‘আদায় করা’ শব্দের অর্থ করেন ‘বন্টন করা’। বরং তা হবে জমা করা। যেমন- 
عن نافع أن ابن عمر كان يبعث زكاة الفطر إلى الذي يجمع عنده قبل الفطر بيومين.
ইবনু ওমর (রাঃ) ঈদের দুই বা একদিন আগে জমাকারীর কাছে ফিৎরা পাঠাতেন (মালেক হা/৩৪৩; ইবনু খুযায়মাহ হা/২৩৯৭, সনদ ছহীহ)। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন,
قلت وهذا يبين أن قوله في رواية البخاري للذين يقبلونها ليس المراد به الفقراء بل الجباة الذين ينصبهم الإمام لجمع صدقة الفطر ويؤيد ذلك ما وقع في رواية ابن خزيمة.
  (ইরওয়াউল গালীল ৩/৩৩৫ পৃঃ)। ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ)ও একই কথা উল্লেখ করেছেন (বিস্তারিত দ্রঃ ফাৎহুল বারী ৩/৪৩৯-৪০, হা/১৫১১-এর ব্যাখ্যা)
যারা মনে করেন ঈদের ছালাতের পূর্বে বণ্টন করা হ’লে গরীবদের সুবিধা হবে। কিন্তু উক্ত মর্মে যে কয়েকটি বর্ণনা এসেছে তা গ্রহণযোগ্য নয় (ইরওয়াউল গালীল হা/৮৪৪, ৩/৩৩২)। উল্লেখ্য যে, ফিৎরা হ’ল জানের ছাদাক্বা, মালের ছাদাক্বা নয়। ঈদের দিন সকালেও যদি কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তার জন্য ফিৎরা আদায় করা ফরয নয়। আবার ঈদের দিন সকালে কোন বাচ্চা জন্ম নিলে তার পক্ষে ফিৎরা আদায় করতে হবে (দ্রঃ মির‘আত ৬/১৮৫)


প্রশ্ন (৩/৩২৩) : কোন বিধর্মী লোক সালাম দিলে তার জবাবে কি বলতে হবে?
-শফীকুল ইসলাম
সদর হাসপাতাল, পাবনা।
উত্তর : কোন বিধর্মী লোক সালাম দিলে উত্তরে শুধু ‘ওয়া আলাইকা’ (وَعَلَيْكَ ) অথবা ‘ওয়া আলাইকুম’ (وَعَلَيْكُمْ ) বলবে (বুখারী, মিশকাত হা/৪৬৩৬-৩৭)


প্রশ্ন (৪/৩২৪) : ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থের ৭৪ এবং ১১৬ নং হাদীছের অনুবাদ জানতে চাই।
-মাকছূদুর রহমান
মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : (১) আয়েশা (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আয়নায় মুখ দেখতেন তখন বলতেন, اللهم كَمَاَحَسَّنْتَ خَلْقِى فَحَسِّنْ خُلُقِى ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যেমন সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করুন’ (ইরওয়াউল গালীল হা/৭৪)
উল্লেখ্য যে, ‘ওয়া হার্রিম ওয়াজহী ‘আলান নার’ মর্মে বাড়তি অংশ যোগ করার কোন ছহীহ হাদীছ নেই (ইরওয়াউল গালীল হা/৭৪)
(২) আবু আইয়ূব আনছারী এবং উম্মে হাবীবা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে সে যেন ওযূ করে’ (আহমাদ, ইরওয়া হা/১১৬, ১১৭; মিশকাত হা/৩৯০)
উক্ত হাদীছে ওযূ বিনষ্ট হওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু অন্য হাদীছে এসেছে যে, এটা শরীরের একটি অংশ মাত্র। যা স্পর্শ করলে ওযূ নষ্ট হবে না (আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩২০)
উভয় ছহীহ হাদীছের সমন্বয় এই যে, যৌন উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করলে ওযূ ভঙ্গ হবে, নইলে নয় (টীকা দ্রঃ মিশকাত হা/৩২০)


প্রশ্ন (৫/৩২৫) : মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করে দো‘আর অনুষ্ঠান করা যাবে কি?
-ওবায়দুল্লাহ
সাতক্ষীরা।
উত্তর : যাবে না। কেননা মৃতের জন্য এরূপ আমল রাসূল (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ থেকে প্রমাণিত নয়। মৃতের জন্য দো‘আ করা ও ছাদাক্বা করা যাবে (বুখারী, মিশকাত হা/১৯৫০; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৯০)। উল্লেখ্য যে, মৃত ব্যক্তির নামে প্রচলিত কুলখানী, চেহলাম, দো‘আর অনুষ্ঠান ইত্যাদি বিদ‘আত।


প্রশ্ন (৬/৩২৬) : গলায় ফাঁস দিয়ে বা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলে তার জানাযা করা যাবে কি?
-সুমাইয়া
গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাভার।
উত্তর : জানাযা করা যাবে। তবে বুযর্গ আলেম ও মসজিদের ইমাম অংশ গ্রহণ করবেন না (যাদুল মা‘আদ ১/৪৯৬)। কারণ এমন ব্যক্তির জানাযা নবী করীম (ছাঃ) নিজে পড়েননি। অন্যকে পড়তে বলেছেন (আবুদাঊদ হা/৩১৮৫; তিরমিযী হা/১০৬৮)


প্রশ্ন (৭/৩২৭) : কোন লোক যদি আমার কোন ক্ষতি করার চেষ্টা করে আমি কি তার জন্য আল্লাহর নিকট লা‘নত করতে পারব? না তার জন্য হেদায়াতের দো‘আ করব?
-হাসনা হেনা
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : যার ক্ষতি করা হয়, সে ক্ষতিকারীর অনুরূপ ক্ষতি করতে পারে (বাক্বারাহ ১৯৪)। তবে ক্ষতি না করে ক্ষমা করে দিয়ে ভাল আচরণ করাই উত্তম (হামীম সাজদাহ ৩৪)। এমনি এক প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তুমি ফিৎনা কালে আদমের উত্তম পুত্রের ন্যায় (হাবীলের ন্যায়) আচরণ কর (প্রতিশোধ নিয়ো না) (আবু দাঊদ হা/৪২৫৭, ৫৯; মিশকাত হা/৫৩৯৯ ‘ফিৎনা’ অধ্যায়)। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) শত্রুদের বিরুদ্ধে লা‘নত করেছেন। তিনি ৭০ জন ছাহাবীকে প্রতারণার মাধ্যমে হত্যাকারী রা‘ল ও যাকওয়ান কওমের বিরুদ্ধে লা‘নত করে একমাস যাবৎ কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করেছেন (মুত্তাফাকব আলাইহ, আবু দাঊদ, মিশকাত হা/১২৮৯-৯০)। তিনি ব্যক্তি স্বার্থে কখনো প্রতিশোধ নিতেন না। তবে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠায় কোন ছাড় দিতেন না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৮১৭)। তিনি বলেন, আমি লা‘নতকারী হিসাবে প্রেরিত হইনি। বরং রহমত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮১২)। অবাধ্য দাওস কওমের বিরুদ্ধে বদ দো‘আ করতে বলা হ’লে তিনি তাদের জন্য দো‘আ করে বলেন, হে আল্লাহ! তুমি দাওস কওমকে হেদায়াত কর এবং তাদেরকে আমার কাছে নিয়ে এসো’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৯৯৬)


প্রশ্ন (৮/৩২৮) : বহু পুরাতন মসজিদের পশ্চিম দেয়াল থেকে শুরু করে উত্তর দিক ঘিরে প্রায় ৫০টি কবর রয়েছে। উক্ত মসজিদে ছালাত হবে কি?
-মহিদুল ইসলাম
আন্ধারিয়াপাড়া, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : উক্ত মসজিদে ছালাত হবে না। মসজিদ স্থানান্তর করতে হবে। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা কবরের দিকে মুখ করে ছালাত আদায় কর না এবং কবরের উপর ছালাত আদায় কর না (সিলসিলা ছহীহাহ হা/১০১৬)। তবে কবরস্থানের জন্য পৃথক প্রাচীর দিয়ে মসজিদকে আলাদা করে নিলে ছালাত বৈধ হবে।


প্রশ্ন (৯/৩২৯) : জুম‘আর সুন্নাত কত রাক‘আত? এই সংখ্যা নিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি রয়েছে। সঠিক রাক‘আত সংখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।
-রিযওয়ান
ঘিওর, মানিকগঞ্জ।
উত্তর : জুম‘আর ছালাতের পূর্বে তাহিইয়াতুল মসজিদ দু’রাক‘আত ব্যতীত নির্ধারিত কোন রাক‘আত সংখ্যা নেই। খুৎবার আগ পর্যন্ত যত রাক‘আত সম্ভব দুই দুই রাক‘আত করে পড়বে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৮২)। খুৎবা শুরুর আগে বা পরে মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাক‘আত তাহিইয়াতুল মসজিদ পড়বে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১১)। জুম‘আর পর চার রাক‘আত সুন্নাত পড়বে (মুসলিম, মিশকাত হা/১১৬৬)। উল্লেখ্য, জুম‘আর আগে চার রাক‘আত পড়া সম্পর্কে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ (ইবনু মাজাহ হা/১১২৯)


প্রশ্ন (১০/৩৩০) : কবরে সওয়াল-জওয়াবের সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সেখানে কিভাবে দেখানো হবে?
-সোহরাব
লাকসাম, কুমিল্লা।
উত্তর : সেখানে রাসূল (ছাঃ)-কে দেখানো হবে বলে কোন প্রমাণ নেই। বরং রাসূল (ছাঃ) সম্পর্কে তার ধারণা ও আক্বীদা কি, প্রশ্নের মাধ্যমে সেটাই যাচাই করা হবে (মির‘আতুল মাফাতীহ হা/১৩১-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)


প্রশ্ন (১১/৩৩১) : জারজ সন্তান প্রতিপালন করা যাবে কি? এজন্য ঐ ব্যক্তি কোন ছওয়াব পাবে কি?
-রফীক আহমাদ
নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
উত্তর : পরিচিত বা অপরিচিত যেকোন জারজ সন্তান পালন করা যাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যভিচারিণী গামেদী মহিলার জারজ সন্তানকে জনৈক ছাহাবীর হাতে দিয়ে তাকে লালন-পালনের জন্য আদেশ করেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫৬২)। কারণ জারজ হওয়ার জন্য সন্তান দায়ী নয়। অতএব তাকে লালন-পালনের জন্য অবশ্যই ছওয়াব রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষ বা নারী যে কোন সৎকর্ম করলে আমরা তার বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদান দেব’ (নাহল ৯৭)


প্রশ্ন (১২/৩৩২) : পিতা ছেলেকে তার পক্ষ থেকে হজ্জ করার জন্য অছিয়ত করে গেলে আগে অছিয়ত পালন করতে হবে না সম্পদ বণ্টন করবে?
-হামীদুল ইসলাম
খানসামা, দিনাজপুর।
উত্তর : আগে পিতার অছিয়ত পালন করবে, তারপর সম্পদ বণ্টন করবে। আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে অছিয়ত বাস্তবায়ন ও কর্য পরিশোধের আদেশ দিয়েছেন (নিসা ১১-১২)


প্রশ্ন (১৩/৩৩৩) : আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কত জায়গায় কুরআনকে হাদীছ বলেছেন?
-আমীনুল ইসলাম
কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।
উত্তর : ১৪টি স্থানে আল্লাহ কুরআনকে ‘হাদীছ’ বলেছেন। যেমন নিসা ৭৮ ও ৮৭, আ‘রাফ ১৮৫, ইউসুফ ১১১, কাহফ ৬, ত্বোয়া-হা ৯, যুমার ২৩, জাছিয়াহ ৬, তূর ৩৪, নাজম ৫৯, ওয়াক্বি‘আহ ৮১, ক্বলম ৪৪, মুরসালাত ৫০ ও গাশিয়াহ ১ (দ্রঃ থিসিস পৃঃ ৩৬)


প্রশ্ন (১৪/৩৩৪) : শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং সেদিন কেউ মারা গেলে বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-আব্দুল বাতেন
স্থলচর, এনায়েতপুর, পাবনা।
উত্তর : উক্ত মর্মে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। তবে কোন মুসলিম ব্যক্তি শুক্রবারে মারা গেলে সে কবরের ফিৎনা হ’তে বেঁচে যাবে মর্মে ছহীহ দলীল রয়েছে (আহমাদ, তিরমিযী হা/১০৯৫, সনদ হাসান; মিশকাত হা/১৩৬৭, ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ)। এখানে ‘ফিৎনা’ বলতে সওয়াল-জওয়াব ও কবরের আযাব বুঝানো হয়েছে। এটি ব্যতিক্রম বা খাছ বিষয়। এর মধ্যে যুক্তির কোন সুযোগ নেই। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, স্থান ও কালের একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে। (দ্রঃ মির‘আত ৪/৪৪০-৪১)


প্রশ্ন (১৫/৩৩৫) : জনৈক ব্যক্তি খুবই আমলদার ছিলেন। তিনি মারা যাওয়াতে অনেকে কষ্টও পেয়েছেন। কিন্তু তিনি ছিলেন একজন গোঁড়া বিদ‘আতী। তার কোন আমল কাজে আসবে কি?
-মহীদুল ইসলাম
সারিয়াকান্দী, বগুড়া।
উত্তর : কোন ব্যক্তির আমল যদি ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক না হয়, তাহ’লে তা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। ‘সেটাকে সুন্দর আমল মনে করলেও ঐব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (কাহফ ১০৩-৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, কেউ যদি এমন কোন আমল করে, যার নির্দেশ আমাদের পক্ষ থেকে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪০)। অতএব বিদ‘আতীর কোন আমল পরকালে কাজে লাগবে না।


প্রশ্ন (১৬/৩৩৬) : বর্তমানে জমি বন্ধক নেওয়া হচ্ছে এভাবে- দশ বা ত্রিশ হাযার টাকা কেউ অন্যের নিকট থেকে নিচ্ছে এক বিঘা বা দুই বিঘা জমি তাকে দিচ্ছে। ঐ টাকা যতদিন ফেরত না দিবে ততদিন সে জমি ভোগ করতে থাকবে। উক্ত পদ্ধতি কি শরী‘আত সম্মত ?
-শাহাদত
চাকলা, গাবতলী, বগুড়া।
উত্তর : উক্ত পদ্ধতি শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ ঋণের বিনিময়ে মুনাফা অর্জন করা সূদের অন্তর্ভুক্ত। যদিও সেটা উভয়ের সম্মতিক্রমে হয়। সেখান থেকে কিছু টাকা ছেড়ে দিলে ‘হালাল’ হবে বলে যে কথা সমাজে চালু আছে সেটিও হীলা বা অপকৌশল মাত্র। কেবলমাত্র টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তার স্বার্থে কোনরূপ লাভ না নিয়ে জমি বন্ধক নেয়া শরী‘আত সম্মত (দ্রঃ ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/১৯৬; বুখারী, মিশকাত হা/২৮৩৩ ‘সূদ’ অনুচ্ছেদ)। জমি তার মালিকের ব্যবহারে থাকবে, যাতে সে তার উৎপন্ন ফসলের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পায়। পক্ষান্তরে জমিটি ঋণদাতার নামে বন্ধকী রেজিষ্ট্রি থাকবে, যাতে তার ঋণের টাকা মার না যায়। ঋণ দেওয়ার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকতে হবে, দুনিয়াবী লাভের নিয়ত রাখা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে? তিনি তাকে দ্বিগুণ ও বহু গুণ প্রতিদান প্রদান করবেন। আল্লাহ রূযী সংকুচিত ও বর্ধিত করে থাকেন। আর তাঁর নিকটেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে’ (বাক্বারাহ ২/২৪৫)


প্রশ্ন (১৭/৩৩৭) : দশ বছর বা পাঁচ বছরের আগাম চুক্তিতে আম গাছের পাতা বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও মুকুল বিক্রি করা হচ্ছে। উক্ত পদ্ধতিতে আম বাগান বিক্রি করা কি বৈধ? অনেকে এভাবে আম বিক্রি করে হজ্জে যাচ্ছেন। তার হুকুম কি হবে?
-শামসুযযামান
বাউসা হেদাতীপাড়া, বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : ফল খাওয়ার উপযোগী না হওয়া  পর্যন্ত ফলদার গাছের ফল ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৮৩৯)। কারণ এতে ধোঁকায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি সম্পদের মালিকানা অর্জনের পূর্বেই তা বিক্রি করার আওতাভুক্ত। পাতা কেনা বা মুকুল কেনা সবই এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত।
হালাল উপার্জন যেহেতু ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত (বাক্বারাহ ১৬৮), তাই হারাম পন্থায় উপার্জন করে সেই টাকা দিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ কবুল হবে না (মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬০)


প্রশ্ন (১৮/৩৩৮) : যদি ছেলে বিদেশে থাকে আর মেয়ে দেশে থাকে, তাহ’লে মোবাইলের মাধ্যমে তাদের বিবাহ বৈধ হবে কি?
-তাসেমুল হক
চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : উভয় পক্ষ পরস্পরে জানাশোনা ও বিশ্বস্ত হ’লে মেয়ের অভিভাবকের উপস্থিতিতে দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষীর সামনে মোবাইলের মাধ্যমে ছেলে সম্মতি প্রকাশ করলে বিবাহ সিদ্ধ হবে (আবুদাউদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১৩০; ইরওয়াউল গালীল ৬/২৪০)। কারণ বিবাহের রুকন হ’ল  ঈজাব ও কবুল, আর শর্ত হ’ল- উভয়ের সম্মতি (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১২৬)। তাই উক্ত রুকন ও  শর্ত পাওয়া গেলে বিবাহ হয়ে যাবে। আর টেলিফোন ও মোবাইলেও তা সম্ভব। তবে  কোনরূপ ধোঁকার আশ্রয় নিলে বিবাহ বাতিল হবে।


প্রশ্ন (১৯/৩৩৯) : দাঊদ (আঃ) এক মহিলার প্রেমে পড়েছিলেন মর্মে মুফাসসিরগণ যে বক্তব্য দিয়ে থাকেন তা কি সঠিক?
-হুমায়ুন কবীর
রংপুর।
উত্তর : উক্ত বিবরণটি মিথ্যা ও বানাওয়াট। ইমাম কুরতুবী ইবনে আরাবীর বরাত দিয়ে এটাকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন (কুরতুবী ১৫/১৬৭ পৃঃ, সূরা ছোয়াদ ২১নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ; নবীদের কাহিনী ২/১৩৬)


প্রশ্ন (২০/৩৪০) : কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আবুবকর (রাঃ)-কে ছিদ্দীক্ব উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
-তামীমুল ইসলাম
 ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।
উত্তর : মি‘রাজের ঘটনা শোনামাত্র সত্য বলে মেনে নেওয়ায় আবুবকর (রাঃ) ছিদ্দীক্ব উপাধিতে ভূষিত হন (হাকেম, বায়হাক্বী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০৬)


প্রশ্ন (২১/৩৪১) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে অর্থ সম্পদ দ্বারা কেউ সহযোগিতা করেছিলেন কি? এ মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় কি?
-ডালিম
কক্সবাজার।
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে অনেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন মক্কা হ’তে মদীনায় আগমন করেন, তখন আবু আইয়ূব আনছারী (রাঃ) তার বাড়ী রাসূল (ছাঃ)-কে অবস্থান করার জন্য দিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার বাড়িতে প্রায় ৭/৮ মাস ছিলেন। অতঃপর মসজিদ ও বাড়ী নির্মিত হ’লে তিনি তাঁর জন্য তৈরীকৃত বাড়ীতে উঠেন (সীরাতে ইবনে হিশাম ১/৪৯৬)


প্রশ্ন (২২/৩৪২) : কোন অমুসলিম ব্যক্তির জন্য মুসলিম হওয়ার আগে কিছু করণীয় আছে কি? কী কাজ করলে সে মুসলিম হতে পারবে?
-আব্দুস সালাম
গাবতলী, বগুড়া।
উত্তর : ইসলাম গ্রহণের নিয়তে শুধু কালেমা শাহাদাত পাঠ করলে মুসলিম হয়ে যাবে। অর্থাৎ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ পাঠ করবে। কালেমা শাহাদাত পাঠের পূর্বে কিছু করার নেই। তবে ইয়ামামাহর নেতা ছুমামাহ্ ইবনু আছাল কালেমা পাঠের আগে গোসল করেছিলেন (বুখারী হা/৪৬২; মিশকাত হা/৩৯৬৪ ‘জিহাদ’ অধ্যায় ‘বন্দীদের হুকুম’ অনুচ্ছেদ-৫)। ক্বায়েস বিন আছেমকে কালেমা পাঠের পর রাসূল (ছাঃ) গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (তিরমিযী হা/৬০৫; মিশকাত হা/৫৪৩)। ইসলাম গ্রহণের পরে গোসল করাকে সেকারণ কিছু বিদ্বান মুস্তাহাব বলেছেন (&ঐ; মির‘আত ২/২৪০-৪১)


প্রশ্ন (২৩/৩৪৩) : কুরআন মজীদের ১ থেকে ৩০ পারা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কে সাজিয়ে দিয়েছেন?
শহীদুল্লাহ
সুরিটোলা, ঢাকা।
উত্তর : কুরআনের সূরা ও আয়াত সমূহের বিন্যাস আল্লাহর হুকুমে জিবরীলের নির্দেশনায় রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক সম্পন্ন হয়েছে। এটি তাওক্বীফী অর্থাৎ অপরিবর্তনীয় বিষয় সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ইজমা রয়েছে। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, প্রতি বছর রামাযানের প্রতি রাত্রিতে জিবরীল (আঃ) আসতেন এবং রাসূল (ছাঃ) তার নিকট কুরআন পেশ করতেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০৯৮)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, বছরে একবার রাসূলের নিকট কুরআন পেশ করা হ’ত। কিন্তু মৃত্যুর বছরে দু’বার পেশ করা হয়। তিনি প্রতি বছর রামাযানে ১০ দিন ই‘তিকাফ করতেন। কিন্তু মৃত্যুর বছরে ২০ দিন ই‘তিকাফ করেন’ (বুখারী, মিশকাত হা/২০৯৯)। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কুরআনের বর্তমান বিন্যাস আল্লাহ কর্তৃক সরাসরি নির্ধারিত। যা সংরক্ষিত ছিল উম্মুল মুমেনীন হাফছা (রাঃ)-এর নিকটে। অতঃপর ওছমান (রাঃ) তাঁর কাছ থেকে নিয়ে সেভাবেই সংকলন করেছেন (বুখারী, মিশকাত হা/২২২১)। সূরা বাক্বারাহ ২৪০ আয়াতটি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে ওছমান (রাঃ) বলেন, لا أغيِّرُ شيئا منه من مكانه ‘কুরআনের কোন কিছুকেই আমি তার স্থান থেকে সরাবো না’ (বুখারী ‘তাফসীর’ অধ্যায়, হা/৪৫৩৬)


প্রশ্ন (২৪/৩৪৪) : কোন্ কোন্ ব্যক্তির জানাযা পড়া যাবে না?
নাছরুল্লাহ
কাটেঙ্গা, তেরখাদা, খুলনা।
উত্তর : যেকোন মুসলিম আহলে ক্বিবলার জানাযা পড়তে হবে (ইবনু মাজাহ ‘আহলে ক্বিবলার জানাযা পড়া’ অনুচ্ছেদ)। আত্মহত্যাকারীর জানাযা রাসূল (ছাঃ) পড়েননি (মুসলিম হা/৯৭৮, পৃঃ ৩০)। অতএব মসজিদের ইমাম বা বুযর্গ আলেম তার জানাযায় শরীক হবেন না। অন্যেরা ছালাত পড়াবেন (নাসাঈ হা/১৯৬৪)। আর এটি ছিল তাঁর পক্ষ হ’তে অন্যকে আদব শিখানোর জন্য’ (ইবনু মাজাহ হা/১৫২৬)।
উল্লেখ্য যে, দু’জনের জানাযা পড়া যরূরী নয়, তবে চাইলে পড়া যায়: শিশু এবং শহীদ। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ওহোদ যুদ্ধের শহীদদের জানাযা পড়েননি (তিরমিযী হা/১০৩৬)। তিনি তাঁর ১৮ মাস বয়সী শিশুপুত্র ইবরাহীমের জানাযা পড়েননি (আবুদাঊদ হা/৩১৮৭)। তবে অন্য হাদীছে শিশুদের জানাযা পড়ার কথা এসেছে (তিরমিযী হা/১০৩১)


প্রশ্ন (২৫/৩৪৫) : জনৈক আলেম বলেন, একদিন খলীফা ওমর (রাঃ) খুৎবা প্রদানকালে একদল কাফের এসে তাকে ৩টি প্রশ্ন করল। (ক) কোন জায়গায় সুর্যের আলো কেবল একবার পড়েছে আর কোনদিন পড়েনি। (খ) ৭জন শিশু তিনদিন বয়সে কথা বলেছে। তারা কারা (গ) একই মায়ের সন্তান জমজ দুই ভাই, একইদিনে জন্ম নেন ও একই দিনে মারা যান। কিন্তু তাদের মৃত্যুর পার্থক্য ১০০ বছর। উক্ত ঘটনা কি সঠিক?
-ওছমান গণী
কানাডা।
উত্তর : উক্ত ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায় না।  তবে ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ৩জন শিশু সন্তান মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় কথা বলেছেন। (১) ঈসা (আঃ) (২) জুরায়েজকে অপবাদ প্রদানকারী মহিলার ব্যভিচারের সন্তান (বুখারী হা/৩৪৩৬)। (৩) আছহাবুল উখদূদের এক মহিলার সন্তান (মুসলিম হা/৩০০৫)। এছাড়া ইউসুফ (আঃ)-এর শিশু সাক্ষী ও ফেরাউনের সাক্ষী ইবনু মাশেত্বাহ কথা বলেছিল মর্মে যে কথা প্রচলিত আছে, তার সনদ যঈফ (যঈফুল জামে‘ হা/৪৭৫৯)


প্রশ্ন (২৬/৩৪৬) : জনৈক বক্তা বলেন, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া দুনিয়াতে জান্নাত দেখেছেন। বক্তার বক্তব্য কি সঠিক?
-ছাদিকুর রহমান
সাতকানিয়া, চট্রগ্রাম।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ফেরাউন আসিয়া (রাঃ)-এর দুই হাত ও দুই পায়ে শক্ত পেরেক পুঁতে রাখত। যখন তার লোকেরা চলে যেত ফেরেশতারা তাকে ছায়া করত। আসিয়া (রাঃ) বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার নিকটে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করুন এবং ফেরাউন ও তার অত্যাচারী সম্প্রদায় থেকে আমাকে মুক্তি দান করুন’। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতের ঘর উন্মুক্ত করে দেন (মুসনাদে আবী ইয়ালা, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৫০৮)


প্রশ্ন (২৭/৩৪৭) বর্তমান আলু ও পিয়াজের আবাদ প্রচুর পরিমাণে হচ্ছে এবং ব্যবসায়ী পণ্য হিসাবেও চলছে। এর ওশর দিতে হবে কি?
-আব্দুর রহীম
নখোপাড়া, বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : এসবের ওশর দিতে হবে না। কেননা যমীন থেকে উৎপাদিত যে সব খাদ্য-শস্য স্বাভাবিকভাবে এক বছর পর্যন্ত থাকে না বরং তার আগেই পচন দেখা দেয়, সেগুলোর ওশর নেই (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৩৪-৩৬)। তবে এগুলির বিক্রয় লব্ধ টাকা যদি এক বছর সঞ্চিত থাকে এবং নিছাব পরিমাণ হয়, তাহ’লে ৪০ ভাগের ১ ভাগ হিসাবে তার যাকাত দিতে হবে (আবুদাঊদ হা/১৫৭৩-৭৪; মিশকাত হা/১৭৯৯)


প্রশ্ন (২৮/৩৪৮) : যদি কোন মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা নির্যাতন করে, আর সে যদি তা পিতাকে জানায় তাহলে গীবত হবে কি?
-তানিয়া আখতার
পাঁজরভাঙ্গা, নওগাঁ।
উত্তর : মেয়ের কোন দোষ না থাকলে সে তার স্বামীকে জানিয়ে তার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবে। যদি সে সমাধান করতে ব্যর্থ হয় এবং তার পক্ষে ধৈর্য ধারণ করা সম্ভব না হয় তাহলে সমাধানের লক্ষ্যে তার অভিভাবককে জানাতে পারবে এবং এর জন্য বিচার প্রার্থী হতে পারবে। অতঃপর উভয় পরিবার মিলে এর সমাধান করবে। বিচারপ্রার্থী হলে তা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ ছয়টি ক্ষেত্রে গীবত হয় না, যার একটি হ’ল অন্যায়ের জন্য বিচার প্রার্থী হওয়া (মুসলিম হা/২৫৮৯ ‘গীবত হারাম হওয়া’ অনুচ্ছেদ, নববীর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। তবে সমাধানের উদ্দেশ্যে না হলে গীবত হয়ে যাবে।


প্রশ্ন (২৯/৩৪৯) : অনেক সন্তান ভালো কাজ করতে চায়। কিন্তু পিতা-মাতা তাতে সন্তুষ্ট হয় না। তখন সন্তানের জন্য করণীয় কী?
আমীর হোসাইন
 শেরপুর, বগুড়া।
উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, সৃষ্টিকর্তার নাফরমানী করে সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না (শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/৩৬৯৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৫২০)। অতএব সন্তান আল্লাহর আনুগত্য করলে পিতা-মাতা তাতে অসন্তুষ্ট হ’লেও কোন সমস্যা নেই। এজন্য সন্তান গুনাহ্গার হবে না। তবে পিতা-মাতাকে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে।


প্রশ্ন (৩০/৩৫০) :  আমাদের গ্রামে একটি নতুন স্কুল তৈরী হয়েছে। তার নাম ইন্টারভিজ। স্কুলের সকল ছাত্র-ছাত্রীর খরচ বহন করবে স্কুল কতৃপক্ষ। এর পরিচালনা কমিটি খ্রীষ্টান। এই স্কুলে মুসলিম ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করতে পারবে কি।
-মীযানুর রহমান
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
উত্তর : যদি খৃষ্টান ধর্মের আক্বীদা-বিশ্বাস কচিকাচাদের শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে সে স্কুলে সন্তানদেরকে পড়তে দেয়া যাবে না। আর কোন গোপন উদ্দেশ্য ছাড়াই তারা ফ্রি পড়াবে, এরূপ কথা বিশ্বাস করা যায় না। অতএব এসব স্কুল থেকে মুসলিম সন্তানদের দূরে রাখা উচিত।


প্রশ্ন (৩১/৩৫১) : বিভিন্ন মসজিদে মাগরিবের ছালাতের পর হালক্বায়ে যিকরের আয়োজন করা হয়। হালক্বায়ে যিকর অর্থ কী? এটা কি সুন্নাত সম্মত?
-সাজীদ, দুবাই।
উত্তর : গোল হয়ে বসে যিকর করাকে হালক্বায়ে যিকর বলা হয়। রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর কিছুদিন পর একশ্রেণীর বিদ‘আতী এই পদ্ধতি চালু করে। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে ইবাদতের যে সকল পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, হালক্বায়ে যিকর তার অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং দলবদ্ধভাবে উচ্চৈঃস্বরে হালক্বায়ে যিকর করা বিদ‘আত (ড. ছালেহ বিন ফাওযান, কিতাবুত তাওহীদ পৃঃ ৭২)
ওমর ইবনু ইয়াহইয়া (রাঃ) বলেন, একদা মসজিদে নববীতে দলবদ্ধভাবে গোল হয়ে বসে যিকর হচ্ছিল। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) এসে খবর দিলে আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) মসজিদে গিয়ে তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা কী করছ? তারা বলল, ‘আমরা তাকবীর, তাহলীল, তাসবীহ ও তাহমীদ গণনা করছি’। তখন তিনি বললেন, আসলে তোমরা তোমাদের গুনাহসমূহ গণনা করছ। এখনো ছাহাবীগণ জীবিত আছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাপড় এখনো অক্ষত আছে। তাঁর পানপাত্র সমূহ এখনো ভাঙ্গেনি। আর এখুনি তোমরা বিদ‘আত শুরু করে দিলে? (দারেমী হা/২০৪, সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২০০৫)
তবে শরী‘আত নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী যিকর করার অনেক ফযীলত রয়েছে। ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসীসহ অন্যান্য দো‘আ সমূহ পাঠ করাকে হাদীছে যিকর বলা হয়েছে (দ্রঃ মিশকাত ‘ছালাতের পর যিকর’ অনুচ্ছেদ)


প্রশ্ন (৩২/৩৫২) : মসজিদ কমিটি মসজিদের ফান্ড থেকে মুসাফির দুস্থদেরকে টাকা দিতে পারে কি?
-আঞ্জুয়ারা বেগম
রাজপাট, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।
উত্তর : মসজিদের সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকলে ঐ ধরনের অন্য কোন মসজিদের কাজে অথবা মুসাফির দুস্থদের সাহাযার্থে ব্যবহার করা যায় (দ্রঃ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ৩১/২১৩)


প্রশ্ন (৩৩/৩৫৩) : অনেকে ছালাতের সালাম ফিরানোর পর মাথায় হাত রেখে দো‘আ পড়ে থাকেন। এর প্রমাণে ছহীহ দলীল জানিয়ে বাধিত করবেন।
-হারূণুর রশীদ
রাণীনগর, নওগাঁ।
উত্তর : মাথায় হাত রেখে দো‘আ পড়ার যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা নিতান্তই দুর্বল (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত, পৃঃ ৪৫১) । শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, উক্ত বর্ণনার সনদে কাছীর নামে একজন রাবী রয়েছে, সে নিতান্ত দুর্বল। ইমাম বুখারী, আবু হাতিম, নাসাঈসহ অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ তাকে অস্বীকৃত রাবী বলে মন্তব্য করেছেন (সিলসিলা যঈফাহ হা/৬৬০)


প্রশ্ন (৩৪/৩৫৪) : আমাদের চল্লিশ বছরের পুরানো মসজিদে এখন মুছল্লী ধরে না। কিন্তু মসজিদ বড় করার মত জায়গাও সেখানে নেই। এমতাবস্থায় উক্ত মসজিদের জায়গা বিক্রি করে অথবা বদল করে অন্যত্র মসজিদ তৈরী করা যাবে কি?
-মুহাম্মাদ তোফাযযল
নারায়ণপুর, পানিহার, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত মসজিদ স্থানান্তর করা যাবে। কুফার মসজিদে রক্ষিত বায়তুল মাল চুরি হওয়ার কারণে আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ (রাঃ) এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খলীফা ওমর (রাঃ)-এর নিকট একটি পত্র লিখেন। তখন ওমর (রাঃ) মসজিদ অন্যত্র স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। এরপর  উক্ত স্থানকে খেজুরের বাজারে পরিণত করা হয় (ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ৩১/২১৬-২০; ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/৩১২-১৩)


প্রশ্ন (৩৫/৩৫৫) : অনেকে বলছেন, হজ্জ-এর ব্যাপারে আহলেহাদীছ ও হানাফীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কথাটা কতটুকু সত্য?
আলতাফ হোসাইন
রসূলপুর, সাতক্ষীরা।
উত্তর : অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ কয়েকটি প্রদত্ত হ’ল : (১) আরাফা ময়দানে অবস্থানকালে তারা যোহর ও আছর জমা করেন না। বরং পৃথকভাবে প্রথম ওয়াক্তে পড়েন। যা ছহীহ হাদীছের বিরোধী (২) তারা তারতীব ওয়াজিব বলেন। অর্থাৎ তাদের মতে ১০ তারিখে মিনায় ফিরে কংকর মেরে কুরবানী করবে। অতঃপর মাথার চুল ন্যাড়া করবে অথবা ছোট করবে। অতঃপর মক্কায় গিয়ে ত্বাওয়াফে যিয়ারত করবে। এতে আগপিছ হ’লে তাকে কাফ্ফারা স্বরূপ একটি কুরবানী দিতে হবে। (৩) তারা হজ্জে ক্বেরানকে হজ্জে তামাত্তুর চাইতে উত্তম বলেন (৪) তারা তানঈম থেকে বারবার বিভিন্ন নামে ওমরা করেন, যা ছহীহ হাদীছের বিরোধী (৫) তারা ঢাকা থেকে ইহরাম বাঁধেন, যা ছহীহ হাদীছের বিরোধী। (৬) তারা অনেকে ১০ তারিখে মক্কায় গিয়ে আর মিনায় ফেরেন না। মক্কাতেই রাত্রি যাপন করেন। যা সম্পূর্ণভাবে নাজায়েয (৭) তারা হজ্জের তাওয়াফ-সাঈ, ওকূফে আরাফাহ, মুযদালিফা, মিনা, কংকর মারা, যমযমের পানি পান করা প্রভৃতির জন্য পৃথক পৃথক নিয়ত পাঠ করেন, যার কোন ভিত্তি নেই। এছাড়া বিভিন্ন ছালাতের বিভিন্ন নিয়ত পাঠের বিদ‘আত তো আছেই (৮) মদীনায় গিয়ে রাসূলের কবরমুখী দাঁড়িয়ে দূর থেকে কান্নাকাটি ও প্রার্থনা করেন, যা স্পষ্টতঃ শিরক (৯) মদীনায় গিয়ে ৪০ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করাকে আবশ্যিক মনে করেন (১০) মদীনা থেকে মক্কায় যাওয়ার সময় যুল-হুলায়ফাতে গিয়ে ছালাত জমা ও কছর করাকে তারা নাজায়েয বলেন। (১১) মদীনায় গিয়ে সাতটি মসজিদে ছালাত আদায় করাকে বড়ই পুণ্যের কাজ মনে করেন। এ ধরনের আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যা ছহীহ হাদীছের বিপরীত এবং যার কারণে হজ্জ কবুল না হওয়ার আশংকা থাকে।


প্রশ্ন (৩৬/৩৫৬) : ইসলামী সম্মেলন প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলাদেরকে দেখানো যাবে কি?
-হাসান
২২০ বংশাল, ঢাকা।
উত্তর : প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলারা বক্তার বক্তব্য দেখতে ও শ্রবণ করতে পারে। ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পুরুষদের নিকট ঈদের খুৎবা প্রদান করার পর মহিলাদের নিকট গমন করেন এবং তাদেরকে ওয়ায-নছীহত করেন ও ছাদাক্বা দিতে বলেন। এ সময় তারা তাদের অলংকার খুলে তা বেলালের হাতে দেন (মিশকাত হা/১৪২৯ ‘ঈদায়নের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)


প্রশ্নঃ (৩৭/৩৫৭) : জাহান্নাম ভর্তি হবে না বলে আল্লাহ তার মধ্যে পা ঢুকিয়ে দিবেন। কিন্তু জান্নাত পূর্ণ হবে, না ফাঁকা থাকবে?
-বদীউযযামান
রংপুর।
উত্তর : জান্নাতীদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর পর জান্নাত ফাঁকা থাকবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা এক ধরনের সৃষ্টি দিয়ে জান্নাত পূর্ণ করবেন (মুসলিম হা/২৮৪৮ ‘জান্নাত’ অধ্যায় ১৩ অনুচ্ছেদ)


প্রশ্ন (৩৮/৩৫৮) : মসজিদের মিম্বর তিন স্তর বিশিষ্ট হওয়ার কোন তাৎপর্য আছে কি? কোন কোন মসজিদে পাঁচ স্তর বিশিষ্টও দেখা যায়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মীযানুর রহমান
সালাফিয়া মাদরাসা, রংপুর।
উত্তর : মিম্বর তিন স্তর বিশিষ্ট হওয়ার বিশেষ কোন তাৎপর্য পাওয়া যায় না। তবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তিন স্তর বিশিষ্ট মিম্বর ব্যবহার করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/১৪১৪; আওনুল মাবুদ হা/১০৭৬ -এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। মু‘আবিয়া (আঃ)-এর খেলাফত কালে মদীনার গবর্নর মারওয়ান আরও তিন স্তর বৃদ্ধি করে মোট ছয় স্তরে উন্নীত করেছিলেন (ফাৎহুল বারী ২/৪৬৩; আওনুল মাবুদ, পৃঃ ২৯৭)


প্রশ্ন (৩৯/৩৫৯) : জনৈক ইসলামী বক্তা টিভিতে আলোচনা করতে গিয়ে বায়হাক্বীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, নবী-রাসূলগণ কবরে ছালাত আদায় করছেন। উক্ত কথার সত্যতা জানতে চাই।
-মুহাম্মাদ ফিরোয খান
মাশাইল, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক (মুসনাদে বাযযার, সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৬২১; মুসলিম হা/৬১০৭; দালায়েলুন নবুওয়াত লিল বায়হাক্বী হা/৬৫৩)। তবে সেটা বারযাখী জীবন, যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। ঐ ছালাত দুনিয়াবী ছালাতের সাথে তুলনীয় নয়।


প্রশ্ন (৪০/৩৬০) : আমার আববা মৃত্যুর পূর্বে আমাকে কিছু জমি দিতে চেয়েছিলেন। তাই সেখানে দোতলা বাড়ী তৈরী করি। কিন্তু দলীল করার পূর্বেই তিনি মারা যান। এক্ষণে আমার সৎ মা ও আত্মীয়-স্বজন তা অস্বীকার করছে। উক্ত বিষয়ে সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-জাহিদুল ইসলাম
মাধবদী, নরসিংদী।

উত্তর : পিতা যদি তার সকল ছেলে-মেয়েকে অনুরূপ জমি দান করে থাকেন, তাহ’লে সৎ মা বা অন্যদের বাধা প্রদান করা ঠিক হবে না। কিন্তু পিতা যদি শুধু এক ছেলেকেই উক্ত জায়গা দিয়ে থাকেন, তাহ’লে কুরআন-হাদীছের আলোকে অংশ মোতাবেক ওয়ারিছদের মাঝে তা বণ্টন করতে হবে। নু‘মান বিন বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার পিতা আমকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে এসে বললেন, আমি আমার এ ছেলেকে একটি গোলাম প্রদান করেছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি কি তোমার সকল ছেলেকে এরূপ দিয়েছ? সে বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তাহলে তুমি তোমার উক্ত ছেলের নিকট হতে গোলামটি ফিরিয়ে নাও (মুসলিম হা/৪১৫৪)

HTML Comment Box is loading comments...