সংগঠন সংবাদ


আন্দোলন

যেলা সম্মেলন


স্বাধীনতার মূল চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখুন!


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


মেহেরপুর ৮ এপ্রিল শুক্রবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ মেহেরপুর যেলার যৌথ উদ্যোগে শহরের শামসুযযোহা পার্কে অনুষ্ঠিত যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব জনগণের প্রতি উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, উভয় বাংলার মানুষ বাংলাভাষী হ’লেও এপার বাংলার মানুষ আজ পৃথকভাবে স্বাধীন সত্তা নিয়ে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মূলতঃ তাদের ইসলামী চেতনার কারণে। এই মৌল চেতনা ভুলিয়ে দিতে পারলেই উভয় বাংলাকে এক করে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলা খুবই সহজ হবে। যার ফলাফল হবে আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিলুপ্তি। যা না থাকলে আমরাই বিলুপ্ত হয়ে যাব। তিনি বলেন, ১৯৭১-এর ১৭ই এপ্রিল তারিখে এই যেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম বৈদ্যনাথ তলায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার কায়েম হয়। তাই এদেশের স্বাধীনতা লাভের ইতিহাসে মেহেরপুর যেলা একটি বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ বিদেশী সংস্কৃতি এবং শিরক ও বিদ‘আতের জয়জয়কার চলছে। এমনকি নিবিষ্ট মনে ইবাদতের জন্য মসজিদে যাবেন, সেখানেও শিরকের নিদর্শন শোভা পাচ্ছে। মেহরাবের একদিকে ‘আল্লাহ’ অন্যদিকে ‘মুহাম্মাদ’ অথবা কেবল ক্বিবলার দিকে ‘আল্লাহ’ খচিত সুদৃশ্য টাইল্স লাগানো হচ্ছে। সামনে কা‘বা ঘর বা মসজিদে নববীর ছবি, উপরে কালেমা ত্বাইয়েবার সাথে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ যোগ করে লিখে রাখা হয়েছে। এসবই স্পষ্ট শিরক। তিনি বলেন, স্রষ্টা ও সৃষ্টি কখনো এক হ’তে পারে না। সেকারণ আল্লাহ ও মুহাম্মাদ কখনো একসঙ্গে টাঙ্গিয়ে  রাখা যাবে না। তিনি বলেন, মুসলমান ‘আল্লাহ’ নামক কোন শব্দের পূজা করে না। বরং অদৃশ্য আল্লাহর ইবাদত করে। তিনি বলেন, আক্বীদার পাশাপাশি আমলের ক্ষেত্রে চলছে অগণিত বিদ‘আতযুক্ত আমল। ভাল-র দোহাই দিয়ে আমরা ইসলামকে নিজেদের মন মতো সাজিয়ে নিতেই বরং বেশী তৎপর। অথচ  শিরক বিমুক্ত নির্ভেজাল তাওহীদ বিশ্বাস ও বিদ‘আত মুক্ত ছহীহ সুন্নাহর বাস্তব অনুশীলন ব্যতীত পরকালে নাজাত পাওয়ার উপায় নেই। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ সমাজ সংস্কারের গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সকলকে এই দাওয়াতী কাফেলায় শরীক হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।
স্থানীয় যাদুখালী স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্জ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ড. এ এস এম আযীযুল্লাহ, ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন ও মেহেরপুরের অতিরিক্ত যেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব হোসেন আলী খন্দকার। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, কুষ্টিয়া-পশ্চিম যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ গোলাম যিল-কিবরিয়া, মেহেরপুর যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আবদুল মুমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার।


আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন!


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


টাঙ্গাঈল ২৫ এপ্রিল সোমবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ টাঙ্গাইল যেলার উদ্যোগে ধনবাড়ী থানাধীন কেরামজানী উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে অনুষ্ঠিত যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, ইসলাম ফিৎরাতের ধর্ম। আল্লাহ তা‘আলা আদি পিতা আদম (আঃ)-এর পিঠের ডান পার্শ্বে হাত রেখে সাদা পিপড়ার মত রূহ সমূহকে বের করেন। অতঃপর পিঠের বাম পার্শ্ব থেকে কালো পিঁপড়ার মত রূহ সমূহকে বের করে এনে বনু আদমের নিকট থেকে তাওহীদের সাক্ষ্য নিয়েছিলেন। আমরা সকলেই সেদিন আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি দিয়ে দুনিয়ায় এসেছি। কিন্তু শয়তানী ধোঁকায় আল্লাহর একত্ববাদকে ভুলে আমরা বহুত্ববাদের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিজেদেরকে জাহান্নামের খোরাক বানিয়েছি। আমাদের বাপ-মা বা আমাদের সমাজ আমাদেরকে ইহুদী, নাছারা, অগ্নিপূজক, মূর্তিপূজারী কবর পূজারী, মুশরিক বানিয়ে ফিৎরাতের মূল রূহ তথা ইসলামকে গলা টিপে হত্যা করেছে। ফলে আমরা চলেছি জাহান্নামের পথে। সুতরাং আমাদেরকে সকল শয়তানী পথ ছেড়ে আল্লাহ প্রেরিত অহি-র পথে চলতে হবে। তাহ’লেই মিলবে জান্নাতের পথের ঠিকানা।
টাঙ্গাইল যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব আব্দুল ওয়াজেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় তাবলীগ সম্পাদক আব্দুল হালীম বিন ইলিয়াস। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রায্যাক বিন ইউসুফ, নরিল্যা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আশরাফ ফারূক, শিমলা স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক আল-মামূন, মাওলানা সুরূযুযযামান (সরিষাবাড়ী), আব্দুল্লাহেল কাফী (দিগপাইত) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ ক্বামারুযযামান বিন আব্দুল বারী।


অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস নিয়ে আগমন করেন বিশ্ব মানবতার নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


সাতক্ষীরা ১৪ই মে শনিবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ সাতক্ষীরা যেলার যৌথ উদ্যোগে নগরীর ঐতিহ্যবাহী আব্দুর রাযযাক পার্কে অনুষ্ঠিত যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, মতবাদ বিক্ষুদ্ধ পৃথিবী যখন অশান্তির দাবানলে জ্বলছিল, ঠিক তখনই শান্তির অমীয় বাণী নিয়ে হাযির হন জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনকারী মহামানব, রহমাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মাদ (ছাঃ)। ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই)-এর দাওয়াত সমস্ত ত্বাগূতী শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আরবের শুষ্ক মরুভূমিতে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেয়। মরুচারী আরব জাতি বিশ্ব বিজয়ী শক্তিতে পরিণত হয়। ধরাধাম শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত হয়ে মানবতা পায় মহা সফলতা। তিনি বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ ইসলামের সেই আদিরূপ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, যা মানবতাকে সেই মহা সত্যের আহবান জানায়। তিনি বলেন, আহলেহাদীছ আন্দোলন তাওহীদের কালেমাকে বুকে ধারণ করেই সম্মুখ পানে এগিয়ে চলেছে। এ আন্দোলন মানুষের সার্বিক জীবনকে আল্লাহ প্রেরিত অভ্রান্ত বিধান পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে চায়। অতএব আসুন! আমরা সার্বিক জীবনে এলাহী বিধানের কাছে পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করি। সফলতা একদিন আমাদের পায়ে লুটাবেই ইনশাআল্লাহ।
যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মাদ নযরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ডঃ মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ মুহাম্মাদ রফীকুল ইসলাম ও ডঃ এ.এস.এম. আযীযুল্লাহ, ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন, ‘সোনামণি’ কেন্দ্রীয় পরিচালক ইমামুদ্দীন, বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব আব্দুর রহীম, ‘যুবসংঘ’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ডঃ মুহাম্মাদ আতাউর রহমান প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রবীণ সভাপতি ডাঃ মুহাম্মাদ ইদরীস আলী, মেহেরপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব তারীকুযযামান, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, মেহেরপুর শহর শাখা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি আলহাজ্জ আযীমুদ্দীন বিশ্বাস, একই শাখার অর্থ সম্পাদক আলহাজ্জ আবুল হোসাইন, প্রচার সম্পাদক জনাব রফীকুল ইসলাম ও গাংনী আহলেহাদীছ জামে মসজিদ, মেহেরপুরের সহ-সভাপতি জনাব মোশাররফ হোসাইন প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে মেহেরপুর হ’তে ছয় জনের উক্ত দলটি নিজস্ব গাড়ী যোগে আগের দিন ১৩ মে শুক্রবার সাতক্ষীরা পৌঁছেন। তারা বুলারাটিতে মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের পৈতৃক বাড়ীর শূন্য ভিটা, বাঁকাল ইসলামিক কমপ্লেক্স ও সুন্দরবন সহ সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ পরিদর্শন করেন। অতঃপর সম্মেলনে যোগদান করেন।
এবারের সম্মেলনে উপস্থিতি সংখ্যা ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশী। যেলার বিভিন্ন শাখা ও এলাকা থেকে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, ইঞ্জিন চালিত ভ্যান যোগে হাযার হাযার পুরুষ ও মহিলা যেলা সম্মেলনে যোগদান করেন। মহিলাদের জন্য পৃথক প্যান্ডেল ও প্রজেক্টরের ব্যবস্থা ছিল। মহিলাদের উপস্থিতি প্যান্ডেল ছাড়িয়ে গেলে দু’দফা প্যান্ডেল বৃদ্ধি করতে হয়।
সম্মেলনে ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠী প্রধান মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম ও বাঁকাল দারুল হাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়ার ছাত্র আবু রায়হান ও বুরহানুদ্দীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন যেলা ‘যুবসংঘে’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শাহীদুযযামান ফারূক ও বর্তমান সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। সম্মেলনে দেশের সরকার, প্রশাসন ও জনগণের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত দাবী ও প্রস্তাবনা সমূহ পাঠ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন।-
১. দেশের আইন ও শাসন বিভাগকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে ঢেলে সাজাতে হবে।
২. শিক্ষার নিম্নস্তর হ’তে উচ্চস্তর পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৩. পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য সূদমুক্ত কৃষিঋণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৪. যুব চরিত্র বিধ্বংসী অশ্লীল বই, পত্রিকা, ছবি প্রদর্শন এবং বিদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
৫. এ সম্মেলন দেশের আইন-শৃংখলা বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছে।
৬. এ সম্মেলন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আফগানিস্তান ও ইরাক দখল, ফিলিস্তিনীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং মিসর, লিবিয়া, সিরিয়া সহ মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রের নামে গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং সেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ এবং ও,আই,সির প্রতি জোরালো আহবান জানাচ্ছে।
৭. এ সম্মেলন সরকার ঘোষিত নারী উন্নয়ন নীতিমালা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী ঢেলে সাজাবার আহবান জানাচ্ছে এবং ইসলাম প্রদত্ত নারী অধিকার সমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবী জানাচ্ছে।
৮. এ সম্মেলন বিদেশে নারী গৃহকর্মী না পাঠানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছে।
৯. বিগত ২০০৫ সালে আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সহ অন্যান্য নেতা ও কর্মীদের উপর আরোপিত মিথ্যা মামলা সমূহের অবশিষ্ট মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছে।
উপস্থিত শ্রোতৃমন্ডলী দু’হাত উঁচু করে মুহুর্মুহু তাকবীর ধ্বনি দিয়ে উক্ত প্রস্তাব সমূহের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন।


সুধী সমাবেশ


আল্লাহ প্রদত্ত আমানত সংরক্ষণে সচেষ্ট হউন!


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


গাইবান্ধা-পূর্ব, ৯ মে সোমবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ গাইবান্ধা-পূর্ব সাংগঠনিক যেলার উদ্যোগে যেলার সাঘাটা থানাধীন আমদির পাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, মুনাফিকের অন্যতম আলামত হচ্ছে- আমানতে খেয়ানত করা। আর কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী মুনাফিকদের স্থান হচ্ছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। তিনি বলেন, আমাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এখানকার শিমুলবাড়ী মাদরাসা এবং উক্ত মাদরাসা পরিচালনার জন্য ক্রয়কৃত ২৮ বিঘা জমি ও জুমারবাড়ী নূরা জাহিম হাসপাতাল অত্রাঞ্চলের অধিবাসীদের নিকটে আল্লাহর পবিত্র আমানত। আল্লাহর পক্ষ হ’তে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনাদের। এর সামান্যতম খেয়ানত হ’লে ক্বিয়ামতের দিন বিচারের কাঠগড়ায় অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হ’তে হবে। যারা ঐ জমি বিক্রি করবে এবং যারা খরীদ করবে, উভয়ে খিয়ানতকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি শিমুলবাড়ী মাদরাসা ও জুমারবাড়ী হাসপাতালের বর্তমান বেহাল দশার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এগুলিকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান। তিনি গ্রামে গ্রামে সংগঠন কায়েম করে সম্মিলিতভাবে সর্বত্র পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানান।
যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আহসান আলী প্রধান -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ড. এ.এস.এম. আযীযুল্লাহ, ‘সোনামণি’ কেন্দ্রীয় পরিচালক ইমামুদ্দীন। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আবু তাহের, যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাহবূবুর রহমান, যেলা ‘আন্দোলন’-এর উপদেষ্টা মাওলানা ফজলুর রহমান, স্থানীয় মনছুরহাট হাইস্কুলের শিক্ষক মাওলানা আব্দুল জলীল, জালালিয়া হাফেযিয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফেয আনীসুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব আব্দুর রহীম, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার শিক্ষক জনাব শামসুল আলম প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, ঐদিন বিকালে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় সমাবেশের জন্য পূর্ব নির্ধারিত স্থান বাদিনার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী আমদিরপাড়া জামে মসজিদ ও তৎসংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় যুবকেরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১৮টি মোটর সাইকেলে করে ১২ কিলোমিটার দূরবর্তী সোনাতলা থেকে মুহতারাম আমীরে জামা‘আতকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে যায় এবং রাত ৮-টার দিকে তিনি সেখানে পৌছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও রাত্রি ১১-টা পর্যন্ত পিন পতন নীরবতায় ঠাসাঠাসি বসে কষ্ট করে শ্রোতাগণ সাগ্রহে বক্তব্য শ্রবণ করেন। উল্লেখ্য যে, বায়‘আত ভঙ্গকারী ও বহির্গত সংগঠন হ’তে চিহ্নিত কয়েকজন ব্যক্তি উক্ত অনুষ্ঠান বানচালের জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। সম্মেলনের বিরুদ্ধে তাদের লিখিত আপত্তিকর লিফলেট বিতরণ করার সময় তাদের ভাড়াটিয়া চার জনকে জনগণ ধরে ফেলে এবং পরে লিখিত মুচলেকা ও ক্ষমা ভিক্ষার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আল্লাহ পাকের মেহেরবাণীতে এদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়। ফালিল্লা-হিল হাম্দ।


সার্বিক জীবনে সুন্নাহর পূর্ণ অনুসারী হউন


-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত


নগরঘাটা, সাতক্ষীরা ১৫ মে, রবিবার : অদ্য বাদ যোহর যেলার তালা থানাধীন নগরঘাটা- চোখারকান্দা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রদত্ত প্রধান  অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাতের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ব্যতীত পরকালে নাজাত পাওয়া সম্ভব নয়। অথচ সুন্নাহর নামে চারদিকে চলছে বিদ‘আতের ছড়াছড়ি। যঈফ, জাল ও বানাওয়াট হাদীছকে পুঁজি করে এমনকি স্রেফ কল্পকাহিনী ছড়িয়ে একশ্রেণীর লোক তাদের ব্যবসা জমজমাট রেখেছে। ছহীহ হাদীছের বাণী তাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না। ফলে সাধারণ মুসলমানরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি দানের জন্য পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নির্ভেজাল ও স্বচ্ছ দাওয়াত নিয়ে ময়দানে নেমেছে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, জামা‘আতবদ্ধ প্রচেষ্টা ব্যতীত এককভাবে সমাজ সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি সকলকে ‘আন্দোলন’-এর ইমারতের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি ২০০৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী কারাবরণের পর থেকে মা-বোনদের প্রাণভরা দো‘আ ও তাদের অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগময় কণ্ঠে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দো‘আ করেন। তিনি মা-বোনদেরকে ‘আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা’র অন্তর্ভুক্ত হয়ে সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসার আহবান জানান এবং তাদের সন্তানদেরকে ‘সোনামণি’ ও ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র সদস্য করার আহবান জানান। এই সময় স্থানীয় জনগণের পক্ষ হ’তে অত্রাঞ্চলে আমীরে জামা‘আতের মরহুম পিতা মাওলানা আহমাদ আলীর ও অন্যান্য আলেমদের অবদানের কথা বর্ণনা করা হ’লে তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব তাজুল ইসলাম সরদারের পূর্বামন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে দুপুর ১-৩০ মিনিটে সেখানে উপস্থিত হন। অতঃপর বাদ যোহর আমীরে জামা‘আতের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জামে মসজিদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এ সময়ে মসজিদের সামনে শামিয়ানার নীচে বসে এবং পাশে দাঁড়িয়ে শত শত মুছল্লী এবং মসজিদ সংলগ্ন দু’পাশের বাগানে দাঁড়িয়ে বিপুল সংখ্যক মহিলা আমীরে জামা‘আতের বক্তব্য শ্রবণ করেন। আমীরে জামা‘আতের আগমন উপলক্ষে উক্ত গ্রামে ও আশেপাশে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা সহ তাঁকে স্বাগত জানানো এবং রাস্তার দু’পার্শ্বে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে যুবক-বৃদ্ধ বাচ্চাদের মুহুর্মুহু শ্লোগানে চারিদিকে মুখরিত হয়ে ওঠে। গোটা গ্রামে ও এলাকায় যেন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
সুধী সমাবেশে বক্তব্য শেষে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সফর সঙ্গীদের নিয়ে জনাব তাজুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ীতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। এ সময়ে তাঁর সফর সঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর নযরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ডঃ মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, শূরা সদস্য ড. এ.এস.এম. আযীযুল্লাহ ও অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুর রহীম ও সদস্য আনীসুর রহমান, আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠী প্রধান জনাব শফীকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, সহ-সভাপতি মাওলানা ফযলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুযাফফর হোসাইন সহ যেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও নেতৃবৃন্দ। অতঃপর বিকাল ৪-টার সময় আমীরে জামা‘আত রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং রাত্রি ১১-টায় মারকাযে পৌঁছেন। ফালিল্লাহিল হাম্দ।


এলাকা সম্মেলন


কাকডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ৬ এপ্রিল বুধবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ কাকডাঙ্গা এলাকার উদ্যোগে স্থানীয় বালিয়াডাঙ্গা বাজারে এক ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা ছহীলুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মাদ নযরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. এ এস এম আযীযুল্লাহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন, সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মাওলানা আনোয়ার এলাহী।


কর্মী সমাবেশ


গুরুদাসপুর, নাটোর ৪ মার্চ শুক্রবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ নাটোর যেলার উদ্যোগে গুরুদাসপুর থানাধীন নাজিরপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আলাউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ড. মু হাম্মাদ আলী, সহ-সভাপতি মাওলানা আবুবকর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল আযীয ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহিল কাফী প্রমুখ।
দারুশা, রাজশাহী ৬ মে শুক্রবার : অদ্য বাদ আছর দারুশা বাজার সংলগ্ন দেওয়ানপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে স্থানীয় তাওহীদ পাঠাগারের উদ্যোগে এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাঠাগারের পরিচালক মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব। সমাবেশে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা হ’তে বিপুল সংখ্যক কর্মী যোগদান করেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে সূরা আছরের তাৎপর্য তুলে ধরে সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। এ সময়ে সকলে একমত হ’লে উপস্থিত শ্রোতাদেরকে ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করানো হয়। অতঃপর মাওলানা আযীযুল ইসলামকে সভাপতি ও মুহাম্মাদ সাবিয়ার রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট দারুশা শাখা ‘আন্দোলন’-এর কমিটি এবং মাহফূযুর রহমানকে সভাপতি ও ইয়াহইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্য বিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ দারুশা এলাকা কমিটি গঠন করা হয়।


কর্মী প্রশিক্ষণ


আনন্দনগর, নওগাঁ ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার : অদ্য সকাল ৯-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ নওগাঁ যেলার উদ্যোগে  শহরের উপকণ্ঠে আনন্দনগর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে দিনব্যাপী এক কর্মী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা  ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাষ্টার আনীসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মী প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফারূক আহমাদ, ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. এ এস এম আযীযুল্লাহ এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মাদ হারূণুর রশীদ প্রমুখ।


কমিটি গঠন


বিশ্বরোড মোড়, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, ২২শে এপ্রিল, শুক্রবার : অদ্য বাদ আছর যেলার বিশ্বরোড মোড় সংলগ্ন জনাব আফতাবুদ্দীন চেয়ারম্যানের বাসভবনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ডঃ মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আরীফুল ইসলাম। বৈঠকে অধ্যাপক জগলুল আলমকে সভাপতি ও মুহাম্মাদ আইনুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট শাহ নে‘মতুল্লাহ জামে মসজিদ (বিশ্বরোড মোড়) শাখা গঠন করা হয়।


দায়িত্বশীল বৈঠক


রহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ২২ এপ্রিল শুক্রবার : অদ্য সকাল ৯-টায় যেলার রহনপুর পৌরসভার জালিবাগান হাফেযিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় এক দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ডঃ মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আরীফুল ইসলাম। বৈঠকে যেলা ‘আন্দোলন’ ও যেলা ‘যুবসংঘ (উত্তর)’-এর নেতৃবৃন্দ এবং অত্র মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মসজিদ উদ্বোধন


বাবুডাইং, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ২২ এপ্রিল শুক্রবার : পদ্মার ভাঙ্গনে বাস্ত্তহারা অন্যূন ২০টি পরিবার যেলার সদর থানাধীন বাবুডাইংয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক মাস আগে। সহায় সম্বল বলতে তাদের কিছুই নেই। সর্বস্ব বিলীন হয়ে গেছে পদ্মা গর্ভে। অথচ এক সময় তারাও ছিলেন বিত্তশালী অথবা মধ্যবিত্ত। গত ২২ এপ্রিল শুক্রবার জুম‘আর ছালাত উদ্বোধন উপলক্ষে সেখানে গমন করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ডঃ মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। মসজিদের জন্য নির্ধারিত স্থানে খোলা আকাশের নীচে উপরে শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে সামান্য মাটি ভরাট করে শুরু হয় জুম‘আর ছালাত। মিম্বর হিসাবে কাঠের তিনটি উচু-নীচু পিড়িতে দাঁড়িয়ে প্রস্তাবিত বাবুডাইং আহলেহাদীছ জামে মসজিদের উদ্বোধনী খুৎবা প্রদান করেন তিনি। খুৎবায় তিনি রাসূলের যামানার খেজুর পাতার মসজিদের স্মৃতিচারণ করে যেকোন মূল্যে দ্বীনে হক তথা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের উপর টিকে থাকার জন্য মুছল্লীদের প্রতি আহবান জানান। এ সময়ে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন, ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আরীফুল ইসলাম, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, যেলা ‘যুবসংঘ’ (উত্তর)-এর সভাপতি মুখতার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর শুভাকাংখী সূর্য নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আফতাবুদ্দীন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন তাঁর পুত্র জনাব গোলাম কিবরিয়া।


মারকায সংবাদ


১। আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর ছাত্রদের কৃতিত্ব :
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার ছাত্ররা পূর্বের ন্যায় শতভাগ পাস করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। মোট ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন জিপিএ-৫ (গোল্ডেন), ৫জন জিপিএ-৫ সহ সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা হ’ল-
(১) ইশতিয়াক আহমাদ (নওগাঁ, জিপিএ-৫), (২) সাখাওয়াত হোসাইন (রাজশাহী, জিপিএ-৫), (৩) মুহাম্মাদ আরীফুর রহমান (জামালপুর, জিপিএ-৫), (৪) মুহাম্মাদ সেলিম শহরিয়ার (কুষ্টিয়া, জিপিএ-৫), (৫) মুহাম্মাদ আকমাল হোসাইন (রাজশাহী, জিপিএ-৫), (৬) আসাদুযযামান (গাইবান্ধা, জিপিএ-৫), (৭) আব্দুর রহমান বিন বুরহান (রাজশাহী, জিপিএ-৪.৯৪), (৮) মুহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসাইন (সিরাজগঞ্জ, জিপিএ-৪.৮৮), (৯) মু হাম্মাদ আবু সাঈদ (রংপুর, জিপিএ-৪.৭৫), (১০) মুহাম্মাদ মঈনুদ্দীন (নওগাঁ, জিপিএ- ৪.৭৫), (১১) মুহাম্মাদ রবীনুয্যামান (চাঁপাই নবাবগঞ্জ, জিপিএ-৪.৭৫), (১২) আব্দুল্লাহ (সিরাজগঞ্জ, জিপিএ-৪.৫৬), (১৩) যুবায়ের বিন মুহাম্মাদ (নাটোর, জিপিএ-৪.৫০), (১৪) মুহাম্মাদ শাহ আলম (সিরাজগঞ্জ, জিপিএ-৪.৪৪), (১৫) আব্দুল্লাহ বিন মুযযাম্মিল (রাজশাহী, জিপিএ-৪.২৫), (১৬) মুহাম্মাদ আব্দুল আযীয (নওগাঁ, জিপিএ-৪.১৩), (১৭) শামীম আহমাদ (নওগাঁ, ৩.৫৬), (১৮) ওয়ালিউল্লাহ (রাজশাহী, জিপিএ- ৩.৭৫), (১৯) মুহাম্মাদ ছিফাত আলম (রাজশাহী জিপিএ-৩.৩১)।
২। দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ মাদরাসার ছাত্রদের কৃতিত্ব :
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ মাদরাসা বাঁকাল, সাতক্ষীরার ছাত্ররা পূর্বের ন্যায় শতভাগ পাসের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। মোট ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২জন জিপিএ-৫ সহ সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে। এরা হ’ল-
(১) আখতারুযযামান (রাজাপুর, সাতক্ষীরা; জিপিএ-৫), (২) মুর্তাযা আহসান (বুলারাটি, সাতক্ষীরা; জিপিএ-৫), (৩) ওবায়দুল্লাহ (পাঁচপাড়া, সাতক্ষীরা; ৪.৯৪), (৪) মাকছূদুর রহমান (গড়েরকান্দা, সাতক্ষীরা; ৪.৯৪), (৫) শরীফুল ইসলাম (খড়িবিলা, সাতক্ষীরা; জিপিএ-৪.৮৮), (৬) আবু বকর ছিদ্দীক (বাঁকাল, সাতক্ষীরা; জিপিএ-৪.৮৮), (৭) ফাতিনা ফেরদৌস (বুলারাটি, সাতক্ষীরা; ৪.৮৮), (৮) যাকিয়া সুলতানা (খড়িবিলা, সাতক্ষীরা; ৪.৮১), (৯) আল-সাবা (পশুখালী, সাতক্ষীরা; ৪.৮১), (১০) মুস্তফা কামাল (কাযীরহাট, সাতক্ষীরা; ৪.৭৫), (১১) ছিদ্দীকুর রহমান (ইটাগাছা, সাতক্ষীরা; ৪.৫০), (১২) আযীযুর রহমান (সাতক্ষীরা সদর; ৪.৩৮), (১৩) আসাদুযযামান (ইটাগাছা, সাতক্ষীরা, জিপিএ-৪.১৯), (১৪) দেলোয়ার হোসাইন (সাতক্ষীরা সদর; ৩.৯৪)।


পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান : গত ১৫মে দুপুর ১২-টায় দারুল হাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়া মসজিদে ২০১১ সালে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানের সুপার মাওলানা আহসান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ছাত্রদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও অত্র প্রতিষ্ঠানের মাননীয় সভাপতি প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
হেফয বিভাগের ছাত্র ‘সোনামণি’ সদস্য তাওহীদুর রহমানের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাগরণী পরিবেশন করে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র সোনামণি আলমগীর হোসাইন, রাশেদুযযামান ও হাসীবুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরবী জাগরণী পরিবেশন করে বুরহানুদ্দীন (নবম শ্রেণী), হাবীবুর রহমান (১০ম শ্রেণী), ফরহাদ হোসাইন (৮ম শ্রেণী) ও মাস‘ঊদ রেযা (৮ম শ্রেণী)। আরবী কথোপকথন পরিবেশন করে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আসীফুর রহমান ও সাঈদুর রহমান। ইংরেজী কথোপকথন পরিবেশন করে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র ফরহাদ হোসাইন ও মাস‘ঊদ রেযা এবং আরবী বক্তব্য উপস্থাপন করে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র নাঈমুর রহমান।
পুরস্কার বিতরণ শেষে আমীরে জামা‘আত উত্তীর্ণ ছাত্রদের ধন্যবাদ জানান এবং যারা আশানুরূপ ফল লাভ করতে পারেনি তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময়ে তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে এ বৎসর থেকে ‘আলিম’ খোলার ঘোষণা দেন এবং উত্তীর্ণ ছাত্র ও অন্যান্য এলাকার ছাত্রদের অত্র প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আহবান জানান।