স্বদেশ-বিদেশ


স্বদেশ

ফৎওয়া বৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিমকোর্ট
সব ধরনের ফৎওয়া নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ফৎওয়াকে বৈধ ঘোষণা করেছেন দেশের সর্বোচ্চ এ আদালত। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন যে, শিক্ষিত ও সমাজের গ্রহণযোগ্য আলেম-ওলামা ফৎওয়া দেবেন। তবে গ্রাম্য শালিশে ফৎওয়ার নামে কাউকে অযথা শাস্তি দেয়া বা কারো সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ গত ১২ মে এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হ’লেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মুহাম্মাদ ঈমান আলী।
ফৎওয়া নিষিদ্ধের প্রেক্ষাপট : ২০০০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নওগাঁ যেলার সদর থানার কীর্তিপুর ইউনিয়নের আতিয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রী শাহিদাকে তালাক দেয়। শাহিদা তার বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ার কয়েক মাস পরে সাইফুল তাকে আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। এতে এলাকায় শালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাহিদাকে তার স্বামী সাইফুলের চাচাতো ভাই শামসুল ইসলামের সঙ্গে হিল্লা বিয়ে দেয়া হয়। পরে সাইফুল তার স্ত্রীকে গ্রহণ করতে অসম্মত হ’লে পুনরায় শালিশ হয়। এতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সদর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে সাইফুল ও শাহিদাকে আবার বিয়ের সিদ্ধান্ত দেন। সেই মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। এ ঘটনাটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হ’লে ঐ বছরই বিচারপতি গোলাম রববানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন। রুলের শুনানী শেষে বিচারপতি গোলাম রববানী ২০০০ সালের ১লা জানুয়ারী সব ধরনের ফৎওয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে ঐ বছরই মুফতী মুহাম্মাদ তৈয়্যব ও মাওলানা আবুল কালাম আযাদ আপিল করেন। ১০ বছর ঝুলে থাকার পর এ বছর ১৪ ফেব্রুয়ারী এটি শুনানীর জন্য আপিল বিভাগে উঠে। আদালত এ শুনানীকালে ৯ জন এমিকাস কিউরি ও পাঁচজন বিজ্ঞ আলেমের মতামত নেন। শুনানীকারী আইনজীবীদের বক্তব্য এবং এমিকাস কিউরি ও আলেমগণের মতামত আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে আপিল বিভাগ আলোচ্য রায় প্রদান করেন।
এনার্জি ড্রিংকসের আড়ালে মাদক বিক্রি
এনার্জি ড্রিংকস নামক পানীয়ের আড়ালে মাদক বিক্রি হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। বৈধতার সনদ নিয়ে অবৈধভাবে এ ধরনের ড্রিংকস অবাধে বাজারে বিক্রি করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বছরে পাঁচ হাযার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। ১৪ শতাংশ পর্যন্ত এ্যালকোহল মিশ্রিত ফেনসেডিলের বিকল্প হিসাবে এসব কোমল পানীয় খেয়ে যুবসমাজ মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে গোটা সমাজে। বর্তমানে বাজারে প্রচলিত এসব এনার্জি ড্রিংকসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- স্পিড, ব্ল্যাক হর্স, বিগবস, শার্ক, টাইগার, রয়েল হর্স ফিলিংস, রেড টাইগার, লায়ন প্রভৃতি।
দেশে তামাক ব্যবহারে বছরে ১২ লাখ লোক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে
দেশে তামাক ব্যবহারে বছরে ১২ লাখ লোক ৮ ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এই খাতে বছরে ৫ হাযার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সুপ্রিমকোর্টের রায়
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে গত ১০ মে এ রায় ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের এ রায় এখন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হ’লেও আগামী দু’টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ ব্যবস্থার অধীনেই হতে পারে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন যে, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী ১০ম ও ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হ’তে পারে। তবে এর সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কোন প্রধান বিচারপতি কিংবা আপিল বিভাগের অন্য কোন বিচারপতিকে জড়ানো যাবে না। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ রেখে সংসদ চাইলে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংস্কার করতে পারবে।
সেমিনারে তথ্য
ফারাক্কা বাঁধে সরাসরি ক্ষতি ১ লাখ ৫৫ হাযার কোটি টাকা
ফারাক্কা বাঁধের কারণে বিগত ৩৬ বছরে বাংলাদেশের ১ লাখ ৫৫ হাযার ৪শ’ কোটি টাকার সরাসরি ক্ষতি হয়েছে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংসসহ পরিবেশের ক্ষতি ধরলে পরোক্ষ ক্ষতির পরিমাণ এর ছয়গুণ হবে। ‘ফারাক্কা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গত ১৭মে বক্তারা এ তথ্য পেশ করেন।
রাজধানীতে ২০ হাযার পথবাসী
খোলা আকাশের নীচে চরম দারিদ্রে্যর মাঝে শুধু রাজধানীতেই দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে ২০ হাযার পথবাসী। ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এরা ১০ বছর বা তারও বেশী সময় ধরে রাস্তায় বসবাস করছে। এদের  অনেকের জন্ম হয়েছে রাস্তাতেই।

বিদেশ

পালিয়ে বিয়ে করার অপরাধে ভারতে পাথর মেরে হত্যা
ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজীব ভার্মা ও রাণু পাল নামের এক যুগলকে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। বর ও কণের বর্ণবৈষম্য থাকায় এ বিয়েতে দুই পক্ষের অভিভাবকেরা বিরোধিতা করে। ফলে তারা পালিয়ে বিয়ে করার একদিন পর গ্রামে ফিরে এলে মেয়েটির পরিবারের নেতৃত্বে উত্তেজিত জনতা তাদের পাথর মেরে হত্যা করে। পুলিশ হত্যার  দায়ে ৮জনকে গ্রেফতার করেছে।
দেনার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে আরো ৬টি ব্যাংক দেউলিয়া
দেনার দায়ে ১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি ব্যাংকে লালবাতি জ্বলেছে। এ নিয়ে এ বছরে মোট ৩৪ ব্যাংকে লালবাতি জ্বলল। গত বছর ৯২ বিলিয়ন ডলার দেনার দায়ে ১৫৭টি ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগের বছর ১৬৯ বিলিয়ন ডলার দেনার দায়ে বন্ধ হয়েছে ১৪০টি ব্যাংক। এ নিয়ে ওবামার আমলে এ পর্যন্ত মোট ৩৩১টি ব্যাংক অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেল।
নিউইয়র্কের ৬ হাযার শিক্ষক চাকরি হারাচ্ছেন
নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ২০১২ সালের জন্য গত ৬ মে ব্যয়সাশ্রয়ী ৬ হাযার ৫৬০ কোটি ডলারের বাজেট ঘোষণা করেছেন। এর ফলে নিউইয়র্কের  ৬ হাযারের বেশী শিক্ষক তাদের চাকরি হারাবেন। বাজেটে অর্থায়ন কমানোর জন্য ব্লুমবার্গ নিউইয়র্ক স্টেট ও ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে অর্থায়ন  হ্রাসকে দায়ী করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১২৮ লাখ কোটি ডলার
আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের পিছু ধাওয়াসহ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১২৮ লাখ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আট হাযার ৬০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে ইরাক যুদ্ধে এবং ৪৪ হাযার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে আফগানিস্তানে। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গুজরাটের দাঙ্গায় মুসলিম নিধনের সুযোগ করে দিতে নির্দেশ দেন নরেন্দ্র মোদি
ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০০২ সালের মুসলিম বিরোধী ভয়াবহ দাঙ্গার সময় দাঙ্গাবাজ হিন্দুদের না ঠেকাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতের সুপ্রিমকোর্টে এফিডেভিটে দেয়া সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছেন। ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জিব ভাট গত ২২ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টে দাঙ্গা সম্পর্কিত মামলায় এ এফিডেভিট দেন। উল্লেখ্য, ঐ ঘটনায় দুই হাযারেরও বেশী মুসলমান নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৭ জনে ১ জন দরিদ্র জীবনযাপন করে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্র  জনগোষ্ঠীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১জন প্রচন্ড দারিদ্রে্যর মধ্যে জীবন-যাপন করে। ৩১ কোটি মার্কিনীর মধ্যে চার কোটি ৭০ লাখই দুঃসহ দারিদ্রে্যর মধ্যে জীবন যাপন করছে। এছাড়া মার্কিন শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে তিনগুণ বেশী দারিদ্রে্যর মধ্যে জীবন কাটায় আফ্রিকান ও লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা। মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর নতুন পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বাবরী মসজিদ মামলার রায় স্থগিত করেছে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদের জমি বিতর্ক মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে সেদেশের সুপ্রিমকোর্ট। বিচারপতি আফতাব আলম এবং বিচারপতি আর এস লোধার ডিভিশন বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের লাক্ষ্ণৌ বেঞ্চের রায়কে বিস্ময়কর আখ্যা দিয়েছে। কারণ এ মামলায় আবেদনকারীদের কোন পক্ষই জমি ভাগাভাগির আবেদন জানায়নি, তা সত্ত্বেও এলাহাবাদ হাইকোর্টের লাক্ষ্ণৌ বেঞ্চ মসজিদের জমিকে তিন ভাগ করে তিন বাদী পক্ষকে দেওয়ার রায় দিয়েছে।
কঙ্গোতে প্রতিদিন ১১০০ নারী ধর্ষিত হচ্ছে
কঙ্গোতে প্রতিদিন এগারো শতাধিক নারী ধর্ষিত হচ্ছে। আমেরিকার ‘জার্নাল অব পাবলিক হেলথ’ নামের এক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সাময়িকীতে জানানো হয়, আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ কঙ্গোতে  ২০০৬ সাল থেকে ২০০৭ টানা এক বছর গবেষণাটি চালানো হয়। এ সময়ে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী চার লাখেরও বেশী নারী ধর্ষিত হয়।
বিশ্বে প্রতি বছর একশ’ কোটি টনের বেশী খাদ্য অপচয় হয়
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত ১১মে বলেছে, প্রতি বছর বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ১৩০ কোটি টন বিনষ্ট অথবা অপচয় হয়। এফএও জানায়, প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্য বিনষ্ট অথবা অপচয় হয় তা বিশ্বে বার্ষিক উৎপাদিত ফসলের অর্ধেকেরও বেশী। অথচ বিশ্বের প্রায় ৯২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধায় ভুগছে। রিপোর্টে আরো বলা হয়, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ভোক্তারা প্রতি বছর ৯৫ থেকে ১১৫ কিলোগ্রাম (২০৯ পাউন্ড থেকে ২৫৩ পাউন্ড) খাদ্য অপচয় করে থাকে। শিল্পোন্নত দেশগুলো প্রতি বছর ৬৭ কোটি টন খাদ্যদ্রব্য বিনষ্ট করে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এর পরিমাণ ৬৩ কোটি টন। অন্যদিকে ধনী দেশগুলো প্রতিবছর ২২ দশমিক ২ কোটি টন খাদ্যদ্রব্য অপচয় করে।

 

মুসলিম জাহান

মিসরের অধিকাংশ মানুষ ইসলামী শাসনের পক্ষে
মিসরের অধিকাংশ নাগরিক দেশটিতে ইসলামী শাসন চায় বলে সম্প্রতি দেশটিতে চালানো এক জনমত জরিপে বলা হয়েছে। আধা-সরকারী ‘আল-আহরাম’ পত্রিকার পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, মিসরের শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চায়। অন্যদিকে শতকরা ২৫ ভাগ মানুষের পছন্দ শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক সরকার। শতকরা মাত্র ৪ ভাগ মানুষ সেক্যুলার শাসন ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছে। এছাড়া শতকরা তিন ভাগ মানুষ মনে করে, মিসরের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সামরিক শাসন যরূরী। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনী মুবারকের পতনের দু’মাসেরও বেশী সময় পরে মিসরে এ জনমত জরিপ চালানো হয়।
ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু
৯/১১-এর হোতা বলে কথিত আল-কায়েদা  নেতা ওসামা বিন লাদেন গত ২রা মে রাতে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে মার্কিন সেনা হামলায় নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ৯০ কিঃমিঃ দূরের সেনাশহর অ্যাবোটাবাদের ঐ দোতলা বাড়িতে গত ৬ বছর ধরে নাকি তিনি বসবাস করে আসছিলেন।  ওসামাকে হত্যার দায়িত্ব পালন করে মার্কিন বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ‘ইউএস নেভি সিল’। বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর শত্রু ওসামাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল দেশটি। অবশেষে গত বছর আগষ্ট মাসে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ উক্ত বাড়িটিকে শনাক্ত করে। তখন থেকে তারা বাড়িটির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল। অতঃপর ২রা মে গভীর রাতে আফগানিস্তান থেকে গোপনে পাকিস্তানী রাডারকে ফাঁকি দিয়ে ৭৯ সদস্যের মার্কিন মেরিন সেনার একটি দল চারটি হেলিকপ্টার নিয়ে অবতরণ করে ঐ বাড়ির আঙিনায়। মার্কিন সূত্র মতে মাত্র ৪০ মিনিটেই বিন লাদেন হত্যা অভিযান শেষ হয়। গুলী করে হত্যা করা হয় বিন লাদেন সহ অন্যদেরকে। এরপর তারা দ্রুত ওসামার লাশ হেলিকপ্টারে করে আফগানিস্তানে তাদের সেনাঘাঁটিতে নিয়ে যায়। অতঃপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে আরব সাগরে মোতায়েন একটি সেনা জাহাযে স্থানান্তর করা হয় এবং বিন লাদেনের অনুসারীরা যাতে লাশকে ঘিরে ‘মাযার’ গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য তার লাশ সাগরে সমাহিত করা হয়।
এদিকে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী নানা জল্পনা-কল্পনার ডানা মেলছে প্রতিনিয়ত।  বের হচ্ছে নিত্য-নতুন তথ্য। ‘পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকায় গত ১২মে "Dead Osama was brought into Abbotabad and killed" শিরোনামে পত্রিকাটির ওয়াশিংটন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেই ওসামাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন বরফ কফিনে ভরা ওসামার লাশ নিয়ে এসে অ্যাবোটাবাদের ঐ বাড়িতে হত্যার নতুন নাটকটি সাজায় যুক্তরাষ্ট্র। ঐ সূত্র মতে, আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটিতে ওসামার লাশ এতদিন সংরক্ষিত ছিল।

মার্কিন সামরিক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সাময়িকী ‘ভেটেরান্স টুডে’র সিনিয়র সম্পাদক গর্ডন ডাফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নকল বিন লাদেনকে হত্যা করেছে। আসল বিন লাদেন বহু বছর আগেই রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এক মার্কিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিন লাদেন মারা যান বলে তিনি দাবী করেন। তিনি আরো বলেন, বিন লাদেনের অনুরূপ চেহারার এক ব্যক্তিকে এতদিন  আটকে রেখে তাকে ২রা মে হত্যা করা হয়। ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী হায়দার মুছলেহী বলেছেন, মার্কিন অভিযানের অনেক আগেই বিন লাদেন রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে তার কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে। বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, আফগানিস্তান থেকে পালাবার অজুহাত তৈরী করা, পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে পারমাণবিক অস্ত্র দখল করা এবং আগামী নির্বাচনে ওবামার জয়ের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

শিশুদের বেশী টিভি দেখা ঝুঁকিপূর্ণ
অস্ট্রেলিয়ার ‘ওয়েস্টমিড মিলেনিয়াম ইনস্টিটিউট’-এর সেন্টার ফর ভিশন রিসার্চ-এর বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৬/৭ বছর বয়সী শিশুরা যদি অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখে তাহ’লে  তাদের পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশী বেড়ে যায়। সিডনির ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাযার শিশুর উপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এসব শিশু গড়ে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা করে টিভি দেখেছে।
শব্দখেকো পর্দা
সম্প্রতি সুইডেনের গবেষকরা হালকা ওযনের এক ধরনের পর্দা উদ্ভাবন করেছেন, যার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হ’ল শব্দ শুষে নেয়ার ক্ষমতা। জানা গেছে, দেয়াল এবং পর্দার মধ্যে ১৫ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রেখে পর্দাটি টানাতে হবে। এর ফলে পর্দাটি শব্দ তরঙ্গ শুষে নিতে পারবে, যা সাধারণ পর্দার চেয়ে পাঁচগুণ বেশী শব্দ নিরোধী। অস্বচ্ছ কিন্তু সহজেই আলোকভেদী গুণের কারণে এই পর্দা বাড়ির জানালা-দরজা ছাড়াও শব্দ প্রবেশ করে এমন সব জায়গাতেই ব্যবহার করা যাবে।
ভিডিও গেমসে আসক্ত শিশুদের মোটা হওয়ার ঝুঁকি
চিলড্রেন্স হসপিটাল অব ইস্টার্ন অল্টারিও রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরিচালিত ‘ভিডিও গেম প্লেইং ইনক্রিজেস ফুড ইনটেক ইন অ্যাডোলেসেল্টস : এ র‌্যানডোমাইজড ক্রসওভার সার্ভে’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ভিডিও গেমস খেলে, তারা অন্য শিশুদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে ১৬৩ কিলোক্যালরি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করেছে। এতে তারা মোটা হচ্ছে,  বাড়ছে রোগের ঝুঁকি। তাছাড়া ভিডিও গেমস খেলার সময় কিশোরদের হৃৎপিন্ডের গতি, রক্তচাপ ও মানসিক কাজের চাপ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় বেশী থাকে। এদিকে সম্প্রতি বারডেম পরিচালিত গবেষণায় রাজধানী ঢাকার উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, হাসপাতালটিতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে যত শিশু আসছে, তার ৮০ ভাগই স্থূলকায়। তাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বইয়ের টাওয়ার!
‘দ্য টাওয়ার অব বাবেল’ নামে ছয়তলাবিশিষ্ট পেঁচানো একটি দৃষ্টিনন্দন টাওয়ার সম্প্রতি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের কেন্দ্রস্থল প্লাজা সান মার্টিনে উন্মোচন করা হয়েছে। টাওয়ারটির প্রতিটি তলার ভিত্তি ইস্পাতে গড়া হ’লেও এর বাইরের দেয়াল তৈরী করা হয়েছে ৩০ হাযার বই দিয়ে। ৮২ ফুট (২৫ মিটার) উঁচু টাওয়ারটি নির্মাণের জন্য পাঠক, গ্রন্থাগার ও ৫০টির মতো দূতাবাস থেকে বইগুলো অনুদান হিসাবে পাওয়া গেছে। বইগুলোর মধ্যে দর্শন থেকে শুরু করে শিশুতোষ সাহিত্য পর্যন্ত রয়েছে। এই টাওয়ারটির নকশাকার হ’লেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী মার্তা মিলুহিন।
শিশুর আচরণে মায়ের দুধের প্রভাব
যেসব শিশু ৪ মাস বা তার বেশী সময় ধরে মায়ের দুধ পান করে তাদের আচরণ ভাল হয়। তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আসক্তি, মিথ্যা বলা এবং চুরি করার মতো প্রবণতা থাকে খুবই কম। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সাম্প্রতিক এক গবেষণার পর এ তথ্য জানিয়েছেন। গবেষকরা তাদের গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন ১০ হাযার ৩৭ জন মা এবং তাদের শিশুদের কাছ থেকে। তারা বলছেন, বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে মা ও শিশুদের মধ্যে সম্পর্কটাও হয় অত্যন্ত সুনিবিড়।