কবিতা



ক্লান্ত পথিক


আতিয়ার রহমান
মাদরা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


ওগো পথিক আর কত রবে
বৃক্ষ ছায়াতে বসি?
ক্ষণিকের তরে মায়াবিনীর এ
ছলনাকে ভালবাসি?
রবে নাকো হেথা যেতে হবে তব
আসল সে ঠিকানায়,
তবে কেন তুমি ক্ষণিকার প্রেমে?
সময় যে বয়ে যায়।
যত পার ভরো মতি ও মানিকে
পাত্র রেখ না খালি,
শ্রান্তির বোঝা সব পায়ে দলে
সম্মুখে যাও চলি।
কাটালে অলসে যেতে হবে শেষে
খালি রেখে দু’টি হাত
ঘোর অমানিশা বেড়ী দেবে আসি
না ফুটিব সুপ্রভাত।
ওগো পথিক! পাবে নাকো হেথা
হৃদয়ের ভালবাসা,
হেথা আছে শুধু ছলনায় ভরা
মিথ্যা পাওয়ার আশা।
যেথা আছে তব আপন নিবাস
ত্বরা পদে সেথা চল
মিথ্যার আবাস চুরমার কর
ক্লান্তি দু’পায়ে দলো।
আপন নিবাসে পৌঁছবে শেষে
দেখিবে নিজের দেশ,
হৃদয়ে জ্বালা রবে না সেথায়
রবে না কষ্ট-ক্লেশ।
***


শেষ নবীজির পথ


আব্দুস সাত্তার মন্ডল
শড়গাছি, পুঠিয়া, রাজশাহী।


শেষ নবীজির পথের পথিক
এই দুনিয়ায় যারা,
শান্তি পাবেন সারা জীবন
হবেন তারাই সেরা।
আলো বাতাস হাসি কান্না
চিরকালের তরে,
আমরা কেহ থাকব না তো
থাকবে সবাই গোরে।
বাপ-দাদা আর পূর্ব-পুরুষ
নেই তো কেহ তাই
দু’দিনের এই দুনিয়াতে
নেইকো কারো ঠাঁই।
***


মানব দানব


মাহফূযুর রহমান আখন্দ
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।
মায়া ভরা জোসনা নদী খাল বিল
বিষে বিষে ভরে গেছে আকাশের নীল
মেঘের মধ্যে শুনি আত্মার ডাক
উড়ে যায় একচালা ঘর।
নদী বন একাকার, ভুট্টার খই
জমে তবু কাদামাটি
পড়ে আছে ঘরে ঘরে কিষাণের মই
আপন চকিতে কেউ, কেউবা আজীবন পর।
ধেয়ে আসে ধ্বংস কান্নার মহোৎসব
লোকালয়ে ফুলকি বিভৎস রোল
মহাকাল কুড়ে খায় শিশুদের পাঠ, নিষ্পাপ বোল।
আপোষের ডাক আসে
আত্মায় জমা রেখে শয়তান আর ভুতসব
মুখ ঢাকা মুখোশে ছায়া ফেলে দয়ার মানব
কলকাঠি তার হাতে স্বরূপে সে হিংস্র দানব।
মিসাইল ফুল খায়, ছড়ায় আবেশ
রক্তের বন্যা আহা বেশ বেশ
মরুভূমি নদী খাল পদ্মার চর
আপন ছবিতে আজ সব যেন পর।
***


ফাঁকি


মুহাম্মাদ সিরাজুদ্দীন
শৌলমারী, জলঢাকা, নীলফামারী।


কথায় ফাঁকি কাজে ফাঁকি
সবখানেতে চলে,
স্বার্থ হাছিল তরে মানুষ
মিথ্যা কথা বলে।
শিক্ষকে দেয় ক্লাসে ফাঁকি
ছাত্র ফাঁকি পড়ায়,
ব্যাংক অফিসে ফাঁকি দিয়ে
কেউবা টাকা কামায়।
ফাঁকি ছাড়া নেই যে কিছু
নেই যে কোন কাজ,
ফাঁকির বলেই চলছে দেখ
মোদের এই সমাজ।

***