প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৩৬১) : জামা‘আতবদ্ধ ছালাতে শেষ তাশাহহুদের সময় যোগদান করলে তাশাহহুদ সহ অন্যান্য দো‘আসমূহ পাঠ করতে হবে কি?

-আমীর ফাহদ, দুবাই, আরব আমিরাত।

উত্তর : শেষ তাশাহহুদে যতটুকু সম্ভব ততটুকু পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারিত হন, তাকে অনুসরণ করার জন্য’ (বুখারী হা/৩৭৮; মিশকাত হা/১১৩৯)। তিনি বলেন, যখন তোমাদের কেউ ছালাতে উপস্থিত হবে, তখন ইমাম যে অবস্থায় যা করতে থাকবে, সেও যেন তাই করে (তিরমিযী হা/৫৯১, মিশকাত হা/১১৪২)

প্রশ্ন (২/৩৬২) : কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ কালে প্রচলিত চারটি কালেমা পাঠ করবে কি?

-রেযাউল করীম, কাছনা, তরিটারী, রংপুর।

উত্তর : ইসলাম গ্রহণের সময় কেবল কালেমা শাহাদাত ‘আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহু’ পাঠ করাই যথেষ্ট। ছুমামা বিন উছাল, যিমাদ আযদী প্রমুখ ইসলাম গ্রহণকালে এই কালেমাই পাঠ করেছিলেন (মুসলিম হা/১৭৬৪, ৮৬৮; মিশকাত হা/৩৯৬৪, ৫৮৬০)। বাকী কালেমাগুলি যেকোন সময় পাঠ করা যায়।

প্রশ্ন (৩/৩৬৩) : মসজিদের ইমাম ছাহেব ছাত্রীরা বেপর্দায় চলে এরূপ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। এটা জায়েয হবে কি? এছাড়া যেসব এলাকায় প্রতিবেশী বেপর্দা নারীরা চলাফেরা করে, সেসব এলাকায় বাস করা জায়েয হবে কি?

-আব্দুল ওয়াহেদ, আদমদীঘি, বগুড়া।

উত্তর : সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী না করাই শরী‘আত সম্মত। এতে অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এরপরেও যদি চাকুরী করতে হয়, তাহ’লে উভয়কে কথায় ও কর্মে কঠোরভাবে পর্দা মেনে চলতে হবে। পুরুষ ও নারী সর্বদা পরস্পরে দৃষ্টি নত করে চলবে। নারীকে অবশ্যই তার পুরা দেহ আবৃত করতে হবে এবং এমনভাবে চলতে হবে যেন তার গোপন সৌন্দর্য প্রকাশিত না হয় (নূর ৩০-৩১)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা সমূহের নিকটবর্তী হয়ো না’ (আন‘আম ৬/১৫১)

এলাকায় থেকেই উপদেশের মাধ্যমে বেহায়াপনার মুকাবিলা করতে হবে। লূত (আঃ) তাঁর বেহায়া কওমকে তাদের মধ্যে থেকেই দাওয়াত দিতেন। যেজন্য তাঁর কওম তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছিল, ‘তোমরা এদেরকে তোমাদের শহর থেকে বের করে দাও। এরা বড়ই সাধু থাকতে চায়’ (আ‘রাফ ৭/৮২)

এরপরেও বাধ্যগত অবস্থায় দ্বীন বাঁচানোর স্বার্থে হিজরত করা জায়েয (ফাৎহুল বারী হা/২৮২৫-এর আলোচনা দ্রঃ)

প্রশ্ন (৪/৩৬৪) : বগল বা নাভীর নীচের লোম ছাফ করতে লোমনাশক প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে কি?

-আল-আমীন, ঘোনাপাড়া, জয়পুরহাট।

উত্তর : লোমনাশক প্রসাধনী ব্যবহার করায় কোন দোষ নেই। হাদীছে উভয়স্থানের লোম ছাফ করতে বলা হয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫০)। হাদীছে নাৎফ ও হালাক্ব দু’টি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কষ্টদায়ক নয়, এমন যেকোন পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েয (মির‘আত হা/৩৮২-এর আলোচনা ২/৮০-৮১ পৃঃ)

প্রশ্ন (৫/৩৬৫) : বিবাহের সময় পাজামা-পাঞ্জাবী ও টুপী পরা কি যরূরী? কনের বাড়ীতে গিয়ে বর গলায় মালা ও হাতে ফুল উপহার নিতে পারে কি?

-আমীনুল ইসলাম

বাংলাবান্ধা, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

উত্তর : তাক্বওয়াপূর্ণ পোশাক হিসাবে পাজামা-পাঞ্জাবী ও টুপী পরা উত্তম। কারণ অমুসলিমদের পোষাকের বিপরীতে এগুলি উপমহাদেশে দ্বীনদার মুসলমানদের পোষাক হিসাবে গৃহীত। বরের গলায় মালা দেওয়া, তার হাতে ফুল দেওয়া ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় সামাজিক প্রথা মাত্র। যা থেকে দূরে থাকাই উত্তম। এতদ্ব্যতীত বিবাহকালে প্রচলিত যাবতীয় শরী‘আত বিরোধী রেওয়াজ ও নারী-পুরুষের পর্দাহীন চলাফেরা বন্ধ করা আবশ্যক। 

প্রশ্ন (৬/৩৬৬) : নাম পরিবর্তন করলে নতুন করে আকীকা দিতে হবে কি?

-মাহমূদুল হাসান, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : নাম পরিবর্তন করলে আকীকা দিতে হবে না। রাসূল (ছাঃ) বহু মানুষের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৫৬ ‘শিষ্টাচারসমূহ’ অধ্যায়, ‘নামসমূহ’ অনুচ্ছেদ)। যেমন ওমর (রাঃ)-এর বোন ‘আছিয়ার নাম পরিবর্তন করে তিনি ‘জামীলা’ রেখেছিলেন। কিন্তু  আকীকা করতে বলেননি (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৫৮)

প্রশ্ন (৭/৩৬৭) : রামাযানের ইফতারের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা উদ্বৃত্ত হ’লে তা মসজিদে বা অন্য কোন জনকল্যাণমূলক কাজে লাগানো যাবে কি?

      -আবুল কালাম, আলীপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : উক্ত অর্থ শাওয়াল মাসের নফল ছায়েমদের ইফতারের জন্য রাখা যায়। অথবা ফকীর-মিসকীন বা ইয়াতীমদের মাঝে ব্যয় করা যায়।

প্রশ্ন (৮/৩৬৮) : মসজিদের সামনে বা মেহরাবের সামনে কালেমায়ে ত্বাইয়েবা বা কালেমায়ে শাহাদাত লেখা যাবে কি?

-রায়হানুল ইসলাম

ভাদুরিয়া, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : এগুলি করা যাবে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীকে এরূপ সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে ব্যবহার করা অবমাননার শামিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের  আমলে কোন মসজিদে এগুলি লেখা হ’ত না। মসজিদ জাঁকজমকপূর্ণ করতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন’ (আবুদাঊদ হা/৪৪৮; মিশকাত হা/৭১৮)। উপরন্তু ছালাতের সময় এসব চোখে পড়লে ছালাতের একাগ্রতা বিনষ্ট হয় (বুখারী হা/৩২৯১)। অতএব এসব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৯/৩৬৯) : জনৈক আলেম বলেন, যঈফ হাদীছের বিপরীতে ছহীহ হাদীছ না থাকলে, ঐ যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যাবে। একথা কি ঠিক?

-মোমিনুল ইসলাম

চর বাগডাঙ্গা, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। যঈফ হাদীছ কোন ক্ষেত্রেই আমলযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন, ইবনুল ‘আরাবী, ইবনু হাযম, ইবনু তায়মিয়াহ প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিছগণ সকল ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছ বর্জনযোগ্য বলেছেন (দ্রঃ জামালুদ্দীন ক্বাসেমী, ক্বাওয়াইদুত তাহদীছ;  আশরাফ বিন সাঈদ, হুকমুল ‘আমাল বিল হাদীছিয যঈফ)। শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, ‘যঈফ হাদীছ অতিরিক্ত ধারণার ফায়েদা দেয় মাত্র। তবে এ বিষয়ে সকল বিদ্বান একমত যে,  আহকাম ও ফাযায়েল কোন বিষয়েই যঈফ হাদীছের উপর আমল করা বৈধ নয়’ (তামামুল মিন্নাহ ৩৪ পৃঃ)

প্রশ্ন (১০/৩৭০) : সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা করা বৈধ হবে কি?

-বদরুযযামান, কেঁড়াগাছি, সাতক্ষীরা।

উত্তর : বৈধ হবে না। কারণ রাষ্ট্রীয় স্বার্থ মানেই জনস্বার্থ। আর ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যমে জনস্বার্থের ক্ষতি করা ইসলাম অনুমোদন করে না। ইসলামী রাষ্ট্রে এ ধরনের অপরাধকে চুরির অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে। অন্যদিকে একজন ঈমানদার ব্যক্তি কখনো অন্যের ক্ষতি সাধন করে আপন স্বার্থ হাছিল করতে পারে না (বিস্তারিত দ্রঃ ২য় বর্ষ সেপ্টেম্বর’৯৯ প্রশ্নোত্তর ২২/১২২)

প্রশ্ন (১১/৩৭১) : সূদ আদান-প্রদানকারী ব্যাংক বা বীমা প্রতিষ্ঠানকে বাসা ভাড়া দেওয়ায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-শহীদুল ইসলাম, ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : ব্যাংক বা বীমা প্রতিষ্ঠানকে বাসা ভাড়া দেওয়া যাবে না। এগুলি সরাসরি সূদী কারবারের সাথে জড়িত। আল্লাহ তা‘আলা অন্যায় ও পাপ কাজের সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (মায়েদাহ ৫/২)

প্রশ্ন (১২/৩৭২) : দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হ’লে ছিয়ামের কোন ক্ষতি হবে কি?

-মিনহাজুল ইসলাম, উপশহর, রাজশাহী।

উত্তর : এতে ছিয়াম ভঙ্গ হবে না। কারণ এটি মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়। আর যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তা করার জন্য মানুষকে বাধ্য করা হয়নি। ব্যাপারটি অনিচ্ছায় বমন করার মত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, কারো অনিচ্ছায় বমি  হ’লে ছিয়াম নষ্ট হবে না’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২০০৭; ইরওয়া ৪/৫১ পৃঃ)

প্রশ্ন (১৩/৩৭৩) : সামনা সামনি কেউ প্রশংসা করলে করণীয় কি?

-তাওহীদুযযামান, ঝিকরগাছা, যশোর

উত্তর : সেক্ষেত্রে প্রশংসিত ব্যক্তি নিম্নের দো‘আটি পাঠ করতে পারেন।- اللَّهُمَّ لَا تُؤَاخِذْنِيْ بِمَا يَقُولُوْنَ وَاغْفِرْ لِيْ مَا لاَ يَعْلَمُوْنَ  (আল্লাহুম্মা লা তুআখিযনী বিমা ইয়াকূলূন, ওয়াগফিরলী মা লা ইয়া‘লামূন)। অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তারা যা বলছে সে ব্যপারে আমাকে পাকড়াও কর না এবং যে বিষয়ে তারা জানে না, সে বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করে দাও’। জনৈক ছাহাবী এ দো‘আটি পাঠ করতেন’ (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৭৬১, সনদ ছহীহ)

স্মর্তব্য যে, প্রশংসাকৃত ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে এবং এতে তার কল্যাণের সম্ভাবনা থাকলে প্রশংসা করা যেতে পারে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২৬/১২৪)। তবে সামনে হৌক বা পিছনে হৌক কারো ব্যাপারে অতি প্রশংসা করা উচিৎ নয়। রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে জনৈক ছাহাবী অপর এক ছাহাবীর উচ্চ প্রশংসা করলে তিনি বলেন, আফসোস! তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে (কথাটি তিনি তিনবার বললেন)। অতঃপর বললেন, যদি কারো প্রশংসা করতে হয়, তবে সে যেন বলে, আমি তার ব্যাপারে এমন এমন ধারণা পোষণ করি। কারণ তার প্রকৃত হিসাব আল্লাহ জানেন...(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৭)

প্রশ্ন (১৪/৩৭৪) : ‘হাসবুনাল্লাহ ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল, নি‘মাল মাওলা ওয়া নি‘মান নাছীর’- দো‘আটি কি ছহীহ কি? কোন কোন ক্ষেত্রে দো‘আটি পাঠ করা যায়?

-শহীদুল ইসলাম, কামারপাড়া, মাগুরা।

উত্তর : ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল’-অংশটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। ইবরাহীম (আঃ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হ’লে এবং রাসূল (ছাঃ) (মুশরিকদের হামলা হবে এমন খবর শুনে হামরাউল আসাদে) উক্ত দো‘আটি পাঠ করেন (বুখারী হা/৪৫৬৩; আলে ইমরান ৩/১৭৩)। অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) এ দো‘আটি পাঠ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন (তিরমিযী হা/৩২৪৩; ছহীহাহ হা/১০৭৯)। তবে ‘নি‘মাল মাওলা ওয়া নি‘মান নাছীর’ বাক্যটি আল্লাহর প্রশংসাসূচক কুরআনের আয়াত (আনফাল ৪০; হজ্জ ৭৮), যা কোন দো‘আর সাথে যুক্ত করে পাঠ করায় কোন বাধা নেই। যেকোন দুঃখ, কষ্ট, বিপদ, দুশ্চিন্তায় আল্লাহর উপরে পূর্ণ তাওয়াক্কুল প্রকাশের জন্য উপরোক্ত দো‘আটি পাঠ করা যায়।

প্রশ্ন (১৫/৩৭৫) : আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) যখন কোন যুবককে দেখতেন তখন তাকে রাসূল (ছাঃ)-এর অছিয়ত অনুযায়ী স্বাগত জানাতেন মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?

-নূরুল ইসলাম

সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : হাদীছটির প্রথমাংশ সনদে ও মতনে ছহীহ এবং শেষাংশের খবর ছহীহ। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) যখন কোন যুবককে, অন্য বর্ণনায় কোন ইলমে হাদীছ অন্বেষণকারীকে দেখতেন, তখন তাকে বলতেন, রাসূল (ছাঃ)-এর অছিয়ত অনুযায়ী আমি তোমাকে মারহাবা জানাচ্ছি। রাসূল (ছাঃ) তোমাদের ব্যাপারে আমাদের অছিয়ত করেছেন’ (হাকেম ১/৮৮, হা/২৯৮; যাহাবী সনদ ছহীহ; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৮০)। কিন্তু শেষাংশ তথা- (আমারানা ... আহলুল হাদীছে বা‘দানা) ‘রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে তোমাদের জন্য মজলিস প্রশস্ত করার এবং তোমাদেরকে হাদীছ বুঝাবার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কেননা তোমরা আমাদের পরবর্তী বংশধর এবং তোমরাই আমাদের পরবর্তী আহলেহাদীছ’ অংশটুকুর বর্ণনাসূত্রে আবু হারূণ আম্মারা বিন জুওয়াইন আবাদী ও মুহাম্মদ ইবনু যাকওয়ান আযদী নামক দু’জন অত্যন্ত দুর্বল রাবী রয়েছেন। সেকারণ শেষাংশটুকুর সনদ দুর্বল (তাকরীবুত তাহযীব ১/৪০৮, রাবী নং ৪৮৪০; ১/৭১১; তাহযীবুত-তাহযীব ৭/৪১২, রাবী নং ৬৭০, মীযান ৩/১৭৩, রাবী নং ৬০১৮)। কিন্তু মর্ম এবং খবর ছহীহ। কেননা তখন ছাহাবীগণই ছিলেন হাদীছের ধারক-বাহক ও প্রচারক, তথা আহলুল হাদীছ।

ছাহাবীগণসহ যুগে যুগে আহলুল হাদীছগণই যে ত্বায়েফাহ মানছূরাহ (তিরমিযী হা/২১৯২) বা ফিরক্বা নাজিয়াহ সে ব্যাপারে সালাফে ছালেহীনের মধ্যে কোন মতভেদ নেই। যেমন ‘ত্বায়েফাহ মানছূরাহ’-এর পরিচয় দিতে গিয়ে ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর উস্তাদ ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (রহঃ) বলেছেন, ‘তারা হ’লেন আছহাবুল হাদীছ’ (তিরমিযী হা/২১৯২)। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘তারা হ’লেন আহলেহাদীছ’ (খত্বীব বাগদাদী, মাসআলাতুল ইহতিজাজ বিশ-শাফেঈ, পৃঃ ৪৭, সনদ ছহীহ)। ইমাম ইবনু হিববান ‘ইলম’ অধ্যায়ে উপরোক্ত হাদীছের উপর অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন,ذِكْرُ إِثْبَاتِ النُّصْرَةِ لِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ  ‘ক্বিয়ামত অবধি আল্লাহ কর্তৃক আহলেহাদীছদের সাহায্যপ্রাপ্তি প্রমাণিত হওয়ার বিবরণ’ (ছহীহ ইবনু হিববান, ১/২৬১, হা/৬১)। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, ‘সাহায্যপ্রাপ্ত এই দলটি যদি আছহাবুল হাদীছ (আহলেহাদীছ) না হয়, তবে আমি জানি না তারা কারা’? (হাকেম, মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীছ হা/২, সনদ হাসান)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, ‘আমি যখন কোন ‘আহলেহাদীছ’-কে দেখি তখন যেন রাসূল (ছাঃ)-কেই জীবন্ত দেখি’ (খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীছ, হা/৮৫)। (বিস্তারিত দ্রঃ আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০ ও ২৮০-এর আলোচনা; যুবায়ের আলী যাঈ, ‘আহলেহাদীছ একটি বৈশিষ্ট্যগত নাম’ (মাসিক আত-তাহরীক এপ্রিল-জুলাই ২০১৫)

প্রশ্ন (১৬/৩৭৬) : জনৈক আলেম বলেন, সুন্নাতযুক্ত ফরয ছালাত শেষে সংক্ষিপ্ত দো‘আ পাঠ করতে হবে। আর সুন্নাত বিহীন তথা ফজর ও আছর ছালাতের পর বিস্তারিত যিকির করতে হবে। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-আবুল বাশার, হালিশহর, চট্টগ্রাম।

উত্তর : উক্ত বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। বরং যেকোন ফরয ছালাত শেষে তাসবীহ ও দো‘আ সমূহ সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ করা দু’টিই জায়েয। মুছল্লী সম্ভবপর সকল দো‘আ পাঠ করবে। আর ব্যস্ততা বা গৃহাভ্যন্তরে গিয়ে যিকর-আযকার করতে চাইলে সংক্ষিপ্ত করবে। তবে কমপক্ষে তিনি ‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ...ইকরাম’ বলে উঠে যাবেন (বুখারী হা/৮৪৯; মুসলিম হা/৫৯২; মিশকাত হা/৯৬০)। রাসূল (ছাঃ) কখনো কখনো দীর্ঘ সময় ধরে দো‘আ সমূহ পাঠ করতেন (বুখারী হা/৮৪৪; ছহীহাহ হা/১৯৬, ১০২)।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, প্রত্যেক ফরয ছালাতের শেষে যে ব্যক্তি ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করে, সে নিরাশ হয় না’ (মুসলিম হা/৫৯৬; মিশকাত হা/৯৬৬)। উক্ত হাদীছে প্রত্যেক ফরয ছালাতের কথা বলা হয়েছে, কেবলমাত্র সুন্নাতবিহীন ছালাতের কথা বলা হয়নি। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর হাদীছে বর্ণিত যিকর ও দো‘আ সমূহ পাঠ করবে। তার পরে সুন্নাত ছালাত থাক বা না থাক সেটা ধর্তব্য নয় (ছহীহাহ হা/১০২ আলোচনা দ্রঃ)

প্রশ্ন (১৭/৩৭৭) : জুম‘আর ছালাত আদায়রত অবস্থায় মাইকের লাইন বন্ধ হয়ে গেলে এবং কিছু মুছল্লী ইমাম ছাহেবের আওয়ায শুনতে না পেলে তাদের জন্য করণীয় কি?

-ইউসুফ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : এমতাবস্থায় ইমামের তাকবীর শুনতে পাচ্ছেন এমন কেউ ইমামের পিছে পিছে সশব্দে তাকবীর সমূহ বলবেন। যাতে বাইরের মুছল্লীরা শুনতে পান। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহ’লে তাদের মধ্যে কেউ এগিয়ে গিয়ে ইমামতি করবেন অথবা মাসবূকের ন্যায় প্রত্যেকে একাকী ছালাত আদায় করে নিবেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১২/৩৩১)

প্রশ্ন (১৮/৩৭৮) : প্রত্যেক চার রাক‘আত তারাবীহ ছালাতের পর উচ্চৈঃস্বরে ‘সুবহানা যিল-মুলকি ওয়াল মালাকূতি... আবাদান আবাদা... মালাইকাতি ওয়ার রূহ’ দো‘আ পাঠ করার কোন ভিত্তি আছে কি?

-রূহুল আমীন, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত দো‘আটি ছূফীদের আবিষ্কৃত বানোয়াট দো‘আ মাত্র। মূলতঃ তারাবীহর ছালাতে চার রাক‘আত পরপর পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন দো‘আ নেই। তবে রাসূল (ছাঃ) বিতর ছালাতে সালাম ফিরানোর পর سُبْحانَ المَلِكِ القُدُّوسِ  (সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস) দো‘আটি সশব্দে পাঠ করতেন (আবুদাউদ হা/১৪৩০; মিশকাত হা/১২৭৫)

প্রশ্ন (১৯/৩৭৯) : আমার প্রতিবেশী বন্ধু ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন সন্দেহবাদ আরোপ করে এবং রাসূল (ছাঃ) সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে কটূক্তি করে থাকে। আমার জানা মতে, এরূপ কটূক্তির ক্ষেত্রে কোন তওবার সুযোগ নেই। আর সরকারও এর সমর্থক। এক্ষণে আমি কি তাকে হত্যা করতে পারি?

-আব্দুল হাকীম, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইহূদী হৌক, নাছারা হৌক যে ব্যক্তি ইসলাম কবুল না করে মৃত্যুবরণ করে, সে ব্যক্তি জাহান্নামবাসী হবে’ (মুসলিম হা/১৫৩; মিশকাত হা/১০)। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) সম্পর্কে কটূক্তিকারী ব্যক্তি তওবা না করলে সে অবশ্যই ধর্মত্যাগী ও কাফের (তাওবাহ ৬৫-৬৬)। ছাহাবীগণসহ সর্বযুগের বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত যে ঐ ব্যক্তি কাফের ও মুরতাদ এবং তাকে হত্যা করা ওয়াজিব (ইবনু তায়মিয়াহ, আছ-ছারেমুল মাসলূল ২/১৩-১৬)। তবে তা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণ সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের। যেমন ইহূদী নেতা কা‘ব বিন আশরাফ রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামকে কটূক্তি করে ব্যঙ্গ কবিতা লিখলেও রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত ছাহাবীগণ তাকে হত্যা করেননি (বুখারী হা/৪০৩৭)। এছাড়া মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) ইয়ামনে জনৈক মুরতাদকে সেখানকার গভর্ণরের অনুমতি ক্রমেই হত্যা করেছিলেন (আবুদাঊদ হা/৪৩৫৪)। প্রত্যেকেই যদি দন্ড বাস্তবায়ন শুরু করে, তাহ’লে সমাজে চরম বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে। সেকারণ দন্ড বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট আদালত ও সরকার এ দায়িত্ব পালন করবেন। না করলে তারা কবীরা গোনাহগার হবেন এবং আল্লাহর নিকট কৈফিয়তের সম্মুখীন হবেন (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১৪/৪৪১-৪২)

প্রশ্ন (২০/৩৮০) : বর্তমানে একই দিনে ছিয়াম ও ঈদ পালন করার জন্য কিছু লোকের মাঝে উৎসুক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে এটা সঠিক হবে কি?

-আমজাদুল ইসলাম, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা।

উত্তর : শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটি সঠিক হবে না। কেননা আল্লাহ পাক বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (রামাযানের) এ মাস পাবে, সে যেন ছিয়াম রাখে’ (রাক্বারাহ ১৮৫)। ‘এ মাস পাবে’ অর্থ এ মাসের চাঁদ দেখতে পাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে ছিয়াম রাখ ও চাঁদ দেখে ছিয়াম ভঙ্গ কর। যদি চাঁদ তোমাদের নিকটে আচ্ছন্ন থাকে, তাহ’লে শা‘বান ত্রিশ দিন পূর্ণ করে নাও’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৯৭০ ‘ছাওম’ অধ্যায়, ‘চাঁদ দেখা’ অনুচ্ছেদ)। উপরোক্ত দলীলসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ছিয়াম ও ঈদের জন্য চাঁদ দেখা শর্ত। এক্ষণে এই চাঁদ দেখার বিষয়টি অঞ্চল বিশেষের সঙ্গে সম্পৃক্ত, না আধুনিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন প্রান্তে দু’জন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি  চাঁদ দেখার সংবাদ পেলেই পৃথিবীর সকল দেশের সকল মুমিনের জন্য তা প্রযোজ্য হবে?

এ ব্যাপারে মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত যুক্তি-তর্ক বাদ দিয়ে ছাহাবায়ে কেরামের আমলকে অগ্রাধিকার দেয়াই যথার্থ হবে। কুরাইব (রাঃ) বর্ণিত আছারে এসেছে যে, তিনি সিরিয়ায় রামাযানের ছিয়াম রেখে মাস শেষে মদীনায় ফিরে এখানকার ছিয়ামের সাথে এক দিন কমবেশ দেখতে পান। এ বিষয়ে ইবনু আববাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, তোমরা ওখানে কবে চাঁদ দেখেছিলে? আমি বললাম, শুক্রবার সন্ধ্যায়। তিনি বললেন, আমরা এখানে শনিবারে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি। অতএব এখানে আমরা ছিয়াম চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না ঈদের চাঁদ দেখতে পাব’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমরা ৩০ দিন পূর্ণ করব। তাঁকে বলা হ’ল, মু‘আবিয়ার চাঁদ দেখা ও ছিয়াম রাখা কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন, না। এভাবেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে নির্দেশ দান করেছেন’ (মুসলিম হা/১০৮৭ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়)। ইমাম নববী বলেন, এ হাদীছ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এক শহরের চন্দ্র দর্শন অন্য শহরে প্রযোজ্য নয় অধিক দূরত্বের কারণে (মির‘আত হা/১৯৮৯-এর ব্যাখ্যা ৬/৪২৮ পৃঃ)

উল্লেখ্য যে, সিরিয়া মদীনা থেকে উত্তর-পশ্চিমে এক মাসের পথ এবং প্রায় ৭০০ মাইল দূরত্বে অবস্থিত। সময়ের পার্থক্য মদীনা থেকে ১৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ড পরে। চন্দ্র পশ্চিম দিক থেকে আগে উঠে বিধায় সেখানে মদীনার একদিন পূর্বে চাঁদ দেখা গিয়েছিল। মিশকাতের ভাষ্যকার ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী বলেন, ‘আধুনিক হিসাব মতে পশ্চিম অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলে পশ্চিমাঞ্চলসহ সেখান থেকে অন্যূন ৫৬০ মাইল দূরত্বে পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ঐ চাঁদ গণ্য হবে। আর যদি পূর্বাঞ্চলে চাঁদ দেখা যায়, তাহ’লে পশ্চিমাঞ্চলের অনুরূপ দূরত্বের অধিবাসীদের জন্য উক্ত চাঁদ গণ্য হবে’ (মির‘আত ৬/৪২৯)। জ্যোতির্বিজ্ঞানের উক্ত হিসাব মতে মক্কায় চাঁদ দেখা গেলে আশপাশের ৫৬০ মাইল পর্যন্ত উক্ত চাঁদ দেখতে পাওয়া সম্ভব। অতএব উক্ত দূরত্বের অধিবাসীগণ উক্ত চাঁদের হিসাবে ছিয়াম ও ঈদ পালন করতে পারেন, সারা পৃথিবীর মানুষ নয়।

অতএব দু’জন মুসলিমের সাক্ষ্য ঐ অঞ্চলের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যে অঞ্চলে একই দিনে চাঁদ দেখা সম্ভব (বিস্তারিত দ্রঃ মাসিক আত-তাহরীক প্রশ্নোত্তর জানুয়ারী ২০০৫ প্রশ্ন নং ১/১২১; আগষ্ট ২০১১ প্রশ্ন নং ৩৩/৪৩৩; আগস্ট ২০১৩ প্রবন্ধ, প্রসঙ্গ : সারাবিশ্বে একইদিনে ছিয়াম ও ঈদ; সেপ্টেম্বর’১৩, দরসে কুরআন : নবচন্দ্রসমূহ)

প্রশ্ন (২১/৩৮১) : জনৈক মুফতী লিখেছেন, পৃথিবীতে কোটি কোটি মুসলমানের মধ্যে সামান্য কিছু লোক ছাড়া সবাই কোন না কোন মাযহাবের অনুসারী। আর মুসলমানদের সম্মিলিত দলের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে। এর বাইরের সকলেই জাহান্নামী। একথার সত্যতা আছে কি?

-সিরাজুল ইসলাম, বাঁশদহা বাজার, সাতক্ষীরা।

উত্তর : জামা‘আতের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে (ছহীহুল জামে‘ হা/১৮৪৮, ৮০৬৫)। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। তন্মধ্যে ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে। মাত্র  একটি দল জান্নাতে যাবে। সেটি হ’ল জামা‘আত’ (আহমাদ হা/১৬৯৭৯; আবুদাঊদ হা/৪৫৯৭; ছহীহ তিরমিযী সনদ ছহীহ, তাহকীক মিশকাত হা/১৭২ ‘কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ পৃঃ ৩০)। জামা‘আতের অর্থ অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, যার উপরে আমি ও আমার ছাহাবীগণ আছি’ (তিরমিযী হা/২৬৪১; মিশকাত হা/১৭১)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, ‘হক-এর অনুসারী দলই জামা‘আত। যদিও তুমি একাকী হও’ (ইবনু আসাকির, তারীখ দেমাশক্ব ১৩/৩২২ পৃঃ; সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/১৭৩-এর টীকা নং (৫)। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হ’লে, তিনি বলেন, আবুবকর ও ওমর (রাঃ) হ’লেন জামা‘আত (মিশকাত ১/৬১ পৃঃ টীকা-৫)। উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নিঃশর্ত অনুসারীগণই প্রকৃত অর্থে জামা‘আত। আর তারা হ’লেন ছাহাবায়ে কেরাম, সালাফে ছালেহীন ও তাদের যথাযথ অনুসারী যুগে যুগে আহলুল হাদীছগণ।

প্রশ্ন (২২/৩৮২) : ক্বদরের রাত্রিগুলিতে ইবাদত করার নিয়ম কি?

-ইসহাক, কাঁঠালপাড়া, পবা, রাজশাহী।

উত্তর : (১) দীর্ঘ রুকূ ও সিজদার মাধ্যমে বিতরসহ ১১ রাক‘আত তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ ছালাত আদায় করা (বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮)। (২) একই সূরা, তাসবীহ, দো‘আ বারবার পড়ে ছালাত দীর্ঘ করা (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২০৫, সনদ হাসান; আবুদাঊদ হা/৮১৬; মিশকাত হা/৮৬২)। (৩) অধিকহারে তেলাওয়াত করা (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৩)। (৪) একনিষ্ঠ চিত্তে দো‘আ-দরূদ ও তওবা-ইস্তেগফার করা। ক্বদরের রাতে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দো‘আ ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউভুন তোহেববুল ‘আফ্ওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী’ (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর) (তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৯১) বেশী বেশী পাঠ করা। (৫) তারাবীহ’র ৮ রাক‘আত ছালাত জামা‘আতে আদায় করাই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমামের সাথে জামা‘আতে ক্বিয়ামকারী সারা রাত্রি ছালাত আদায়ের নেকী পেয়ে থাকে’ (তিরমিযী হা/৮০৬, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১২৯৮)। (৬) এ রাতে মসজিদে জামা‘আতের সাথে ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়া। অতঃপর তাসবীহ-তেলাওয়াত শেষে ঘুমিয়ে যাওয়া। অতঃপর শেষ রাতে উঠে তাহিইয়াতুল ওযূ, তাহিইয়াতুল মসজিদ ইত্যাদি শেষে ৩ অথবা ৫ রাক‘আত বিতর পড়া, তেলাওয়াত করা,  দো‘আ-দরূদ পাঠ করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন (২৩/৩৮৩) : ই‘তিকাফ-এর ফযীলত কি? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ই‘তিকাফের পদ্ধতি কি ছিল? মহিলারা কি এ ইবাদতে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

-শহীদুল্লাহ, রসূলপুর, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : ই‘তিকাফ তাকওয়া অর্জন করার বড় মাধ্যম। আল্লাহ বলেন, যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ সমূহে অবস্থান কর ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা কর না। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা (বাক্বারাহ ২/১৮৭)। এতে লায়লাতুল ক্বদর অনুসন্ধানের সুযোগ হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিয়মিত ই‘তিকাফ করেছেন। তবে এ সম্পর্কে বিশেষ কোন ফযীলতের কথা ছহীহ হাদীছে পাওয়া যায় না। ই‘তিকাফের পদ্ধতি হ’ল, ই‘তিকাফ স্থলে সূর্যাস্তের পূর্বে প্রবেশ করবে এবং ঈদের আগের দিন বাদ মাগরিব বের হবে। রাসূল (ছাঃ) রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন (বুখারী হা/২০২৫, মুসলিম; মিশকাত হা/২০৯৭)। আর শেষ দশক বলতে শেষ দশ রাত্রিকে বুঝানো হয় (ফজর ২)। যা ২০ তারিখ সুর্যাস্তের মাধ্যমে ২১ তারিখ শুরু হয় এবং ১লা শাওয়ালের চন্দ্রোদয়ের মাধ্যমে শেষ হয়। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফকারী নিজ বাড়ীতে প্রবেশ করবে না (বুখারী হা/২০২৯)

মহিলাগণ কোন জামে মসজিদে ই‘তিকাফে বসতে পারবেন। রাসূল (ছাঃ)-এর স্ত্রীগণ মসজিদে নববীতে ই‘তিকাফে বসতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২০৯৭)। তাঁর জীবদ্দশাতেও অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা কারণবশতঃ বাস্তবায়ন হয়নি (বুখারী হা/২০৪১; মির‘আত ৭/১৪৩-৪৪, হা/২১১৭ আলোচনা দ্রঃ)। নারীদের জন্য বাড়ীর পাশের জুম‘আ মসজিদে ই‘তিকাফ করা উত্তম (ফাৎহুল বারী হা/২০৩৩-এর আলোচনা)

প্রশ্ন (২৪/৩৮৪) : স্কুল-কলেজের পরীক্ষার কারণে রামাযানে ছিয়াম পালন না করে পরে ক্বাযা করা যাবে কি?

-উম্মে হাবীবাহ, শাজাহানপুর, বগুড়া।

উত্তর : রামাযানের ছিয়াম পালন ইসলামের পাঁচটি ন্তম্ভের অন্যতম (বুখারী হা/৮, মুসলিম হা/১৬)। ইচ্ছাকৃতভাবে যা পরিত্যাগ করা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/২২৫)। এক্ষণে যেসব কারণে ফরয ছিয়াম ক্বাযা করা যায়, পরীক্ষা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। অতএব পরীক্ষার অজুহাতে ছিয়াম ক্বাযা করা হারাম হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/২৪০)

প্রশ্ন (২৫/৩৮৫) : সফর অবস্থায় ছিয়াম পালন করা অথবা ছেড়ে দেওয়া কোনটা উত্তম হবে?

-শফীকুল ইসলাম, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : সফর অবস্থায় কষ্টকর হ’লে ছিয়াম ছেড়ে দেওয়াই উত্তম। আর তা না হ’লে পালন করাই উত্তম হবে। হামযা আসলামী (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে সফরে ছিয়াম রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সফরে ছিয়াম না রাখা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ। যে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য এটা কল্যাণকর হবে। আর যদি কেউ ছিয়াম রাখতে পসন্দ করে, তাহ’লে তাতে কোন গুনাহ নেই (মুসলিম হা/১১২১, মিশকাত হা/২০২৯)। মক্কা বিজয়ের সফরে রাসূল (ছাঃ) ছিয়াম অবস্থায় মক্কার উদ্দেশ্যে বের হন। অতঃপর মক্কার ৪২ মাইল আগে ‘কুরাউল গামীম’ নামক স্থানে পৌঁছে ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলেন (মুসলিম হা/১১১৪, মিশকাত হা/২০২৭)

প্রশ্ন (২৬/৩৮৬) : শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালনের ফযীলত কি? রামাযানের ক্বাযা ছিয়াম থাকলে তা আগে করতে হবে না শাওয়ালের ছিয়াম আগে পালন করতে হবে?

-আব্দুল গফূর, আশাশুনি, সাতক্ষীরা।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রামাযানের ছিয়াম পালন শেষে শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালন করল, সে যেন সারা বছর ছিয়াম পালন করল’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৪৭)। অন্য হাদীছে এক বছরের হিসাব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এভাবে দিয়েছেন যে, ‘রামাযানের একমাস ছিয়াম (১০ গুণ নেকী ধরলে) ১০ মাসের সমান এবং (শাওয়ালের) ছয়টি ছিয়াম দু’মাসের সমান’ (ইবনু মাজাহ হা/১৭১৫; ইরওয়া ৪/১০৭ পৃঃ হা/৯৫০-এর আলোচনা)। এভাবে মোট বারো মাস বা সারা বছর।

শাওয়াল মাসের ছিয়াম আগে করাই কর্তব্য। কারণ শাওয়াল পার হ’লে শাওয়াল মাসের ছিয়াম পালনের সুযোগ থাকে না। আর রামাযানের ক্বাযা ছিয়াম বছরের যেকোন সময়ে আদায় করা যাুয় (বাক্বারাহ ২/১৮৫)। ব্যস্ততার কারণে আয়েশা (রাঃ) তাঁর রামাযানের ছুটে যাওয়া ছিয়াম পরবর্তী শা‘বান মাসে আদায় করতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩০)। তবে ফরযের ক্বাযা যত দ্রুত সম্ভব আদায় করাই উচিৎ (মির‘আত ৫/২৩)

প্রশ্ন (২৭/৩৮৭) : পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য কি কি?

-আসমা, মণিরামপুর, যশোর।

উত্তর : পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের অবশ্য কর্তব্য সমূহ রয়েছে। যেমন (১) তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা (নিসা ৩৬)। তথা কথা-কর্ম, শারীরিক-মানসিক, আর্থিক সকল বিষয়ে অনুগ্রহ ও নম্রতা পাওয়ার সর্বোচ্চ হকদার হ’লেন পিতা-মাতা। আল্লাহ বলেন, তোমরা তাদের সঙ্গে এমন কথা বলো না যেন তারা বিরক্ত হয়ে উহ্ শব্দ করেন’ (ইসরা ২৩-২৪)। (২) তাদের জন্য ব্যয় করা (বাক্বারাহ ২/২১৫; ইবনু মাজাহ হা/২২৯১; আবুদাঊদ হা/৩৫৩০, মিশকাত হা/৩৩৫৪)। (৩) শরী‘আতসম্মত সকল বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা। (বুখারী হা/৭২৫৭, ইসরা ১৭/২৩; লোকমান ৩১/১৪)। (৪) তাদের জন্য দো‘আ করা (ইসরা ১৭/২৩, মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩)। এছাড়া তাঁদের জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে তাঁদের বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি সদাচরণ করা (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১৭) ইত্যাদি।

প্রশ্ন (২৮/৩৮৮) : মানতের পশুর গোশত কিভাবে বণ্টন করতে হবে?

-তাসলীমা যামান, ভাদিয়ালী, সাতক্ষীরা।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বসম’ বা মানত ব্যক্তির নিয়তের উপর নির্ভরশীল’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪১৬)। ইমাম শাওকানী বলেন, ‘মানতকারী ব্যক্তি গুনাহের কাজ ব্যতীত সব ধরনের বৈধ মানত বাস্তবায়নে স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী’ (নায়লুল আওত্বার ১০/২৩১ ‘নযর’ অধ্যায়)। সুতরাং মানতকারী মানতকৃত বস্ত্ত যে স্থানে বণ্টনের নিয়ত করবে, সেখানেই তা বণ্টন করবে। আর নির্দিষ্ট না করলে ফকীর-মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করে দিবে (ফিক্বহুস-সুন্নাহ ৩/১২৩)

প্রশ্ন (২৯/৩৮৯) : বর-কনে বাসর ঘরে জামা‘আতে ২ রাক‘আত ছালাত আদায় করবে কি? করতে হ’লে এর নিয়ম কি?

-আব্দুল হাকীম, তাহেরপুর, রাজশাহী।

উত্তর : আদায় করতে পারে। ছাহাবীগণের কারু কারু আমল দ্বারা এটি প্রমাণিত। উসাইদের দাস আবু সাঈদ বলেন, আমি বিয়ে করলে আবু যার গিফারী, ইবনু মাসউদ ও হুযায়ফা (রাঃ) আমাকে বললেন, তোমার ঘরে যখন তোমার  স্ত্রী প্রবেশ করবে, তখন তুমি দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করবে এবং তার কল্যাণের জন্য দো‘আ করবে ও অকল্যাণ হ’তে আশ্রয় প্রার্থনা করবে (ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৭১৫৩; ইরওয়া হা/৫২৩; আলবানী, আদাবুয যিফাফ পৃ:২২, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বাসরের পূর্বে স্ত্রীকে তার পিছনে দাঁড় করিয়ে জামা‘আত সহ দু’রাক‘আত ছালাত আদায়ের পরামর্শ দেন (ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৭৪৪১; আদাবুয যিফাফ ২২ পৃঃ, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (৩০/৩৯০) : ‘আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন’ একথার কোন শারঈ ভিত্তি আছে কি?

-রাকীবুল ইসলাম, মিঠাপুকুর, রংপুর।

উত্তর : উক্ত বক্তব্যটি আল্লাহর বাণী দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন, তোমার যে কল্যাণ হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। আর যে অকল্যাণ হয়, তা তোমার (আমলের) কারণে হয় (নিসা ৪/৭৯)। অর্থাৎ আল্লাহ সব সময় বান্দার মঙ্গল করেন। কিন্তু বান্দা ভুলক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেই নিজের অকল্যাণ করে থাকে। আল্লাহ তাতে বাধা দেন না বান্দার স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে। তাই যে ভাল কর্ম করবে সে নে‘মত লাভ করবে। আর যে অন্যায় করবে সে বিপদে পতিত হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৮/২৩৯)। তবে এটাও তাক্বদীর অনুযায়ী হয়ে থাকে, যা পূর্বেই নির্ধারিত ছিল।

প্রকৃত ঈমানদারের জন্য ভাল-মন্দ উভয়টিই কল্যাণকর হয়ে থাকে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, মুমিনের ব্যাপারটি কতই না বিস্ময়কর! তার সমস্ত কাজই তার জন্য কল্যাণকর।... যদি তার কোন মঙ্গল স্পর্শ করে, সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তার কোন মন্দ স্পর্শ করে, সে ছবর করে। আর এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়’ (মুসলিম হা/২৯৯৯; মিশকাত হা/৫২৯৭)

প্রশ্ন (৩১/৩৯১) : অনেক প্রাইভেট কোম্পানীতে দাড়ি শেভ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে চাকুরী করা যাবে কি?

-শাকীল, তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : এরূপ কোম্পানী থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ তারা রাসূল (ছাঃ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত বিরোধী নির্দেশ দিচ্ছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা গোঁফ ছাটো ও দাড়ি ছেড়ে দাও এবং এ ব্যাপারে মুশরিকদের বিরোধিতা কর’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২১)

প্রশ্ন (৩২/৩৯২) : মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার জন্য হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে। যেমন মহিলা মাদ্রাসা, যেখানে অভিভাবক বা মাহরাম থাকে না। এভাবে লেখাপড়া করা যাবে কি?

-ফাতেমা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : মহিলা হোস্টেলে যদি পূর্ণ নিরাপত্তা থাকে, সেক্ষেত্রে কোন বাধা নেই (উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১৮০/২৩)

প্রশ্ন (৩৩/৩৯৩) : বিবাহ রেজিষ্ট্রী হওয়ার পর কবুল বলার পূর্বে সহবাস করা জায়েয হবে কি?

-ইসমাঈল, মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : বিবাহের দু’টি রুকন হ’ল ঈজাব ও কবুল (নিসা ১৯)। আর শর্ত হ’ল মেয়ের ওলী থাকা (তিরমিযী; মিশকাত হা/৩১৩০) এবং দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী থাকা (ত্বাবারাণী, ছহীহুল জামে‘ হা/৭৫৫৮)। উক্ত শর্তাদি পূরণের পর রেজিষ্ট্রি হয়ে থাকলে সহবাস বৈধ হবে।

প্রশ্ন (৩৪/৩৯৪) : ঠোটের নীচের লোম কাটা যাবে কি?

-জাহাঙ্গীর আলম, ময়মনসিংহ।

উত্তর : কাটা যাবে না। কেননা বৃদ্ধাবস্থাতেও রাসূল (ছাঃ)-এর ঠোটের নিম্নভাগে উক্ত লোম ছিল। যার কিছু অংশ সাদা ছিল (বুখারী হা/৩৫৪৫-৪৬)

প্রশ্ন (৩৫/৩৯৫) : জনৈক আলেম বলেন, নমরূদ উঁচু টাওয়ারে উঠে আল্লাহর লক্ষ্যে তীর নিক্ষেপ করলে উপর থেকে রক্ত মাখা তীর আল্লাহ আবার ফেরত পাঠান। এ বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?

-ইয়াকূব ইসলাম, ঘোনাপাড়া, জয়পুরহাট।

উত্তর : ইমাম কুরতুবী (রহঃ) স্বীয় তাফসীরে সূরা ইবরাহীম ৪৬ আয়াতের ব্যাখ্যায় উক্ত ঘটনাটি সূত্রবিহীনভাবে উল্লেখ করেছেন। যা ইস্রাঈলী বর্ণনা বলেই অনুমিত হয়। তবে ফেরাঊন আল্লাহকে দেখার জন্য স্বীয় মন্ত্রী হামানকে উঁচু একটি টাওয়ার নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন (কাছাছ ২৮/৩৮; গাফের ৪০/৩৬)। আর ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায় তাদের ধারণা মতে পৃথিবীর সকল জীব হত্যা করার পর আসমানবাসীকে হত্যা করার জন্য আকাশপানে তীর ছুড়বে। তখন তাদের ধারণা সত্যায়নের জন্য উক্ত তীরে রক্ত মিশিয়ে ফেরত পাঠানো হবে। এতে তারা মনে করবে যে, তারা আসমানবাসীকে হত্যা করে ফেলেছে (ইবনু মাজাহ হা/৪০৭৯, ছহীহাহ হা/১৭৯৩)

প্রশ্ন (৩৬/৩৯৬) : গার্মেন্টস, গাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির জন্য ভবিষ্যৎ বিপদের ‘ঝুঁকি তহবিল’ হিসাবে ইসলামী বীমা করা যাবে কি?

-কাওছার, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তরঃ  বীমার ধারণাটাই ইসলামী অর্থনীতির বিরোধী এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির অনুসঙ্গ। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। বীমার মধ্যে কয়েকটি ইসলাম বিরোধী নীতি রয়েছে যথা (১) বীমা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। যেমন- কেউ জীবনবীমা করল এ মর্মে যে, সে মারা গেলে কোম্পানী তার  মৃত্যুর পরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তার সন্তানদেরকে প্রদান করবে। এর শর্ত হচ্ছে সে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বীমা কোম্পানীতে জমা দিবে। এখন সে যদি এক বছর পর মারা যায় তাহ’লে কোম্পানী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর ব্যক্তি লাভবান হবে। আর যদি সে দীর্ঘ দিন জীবিত থাকে, তবে মাসে মাসে অর্থ প্রদান করে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর কোম্পানী লাভবান হবে। অর্থাৎ যিনি মাসে মাসে টাকা জমা দিচ্ছেন তিনি হয় প্রদত্ত অর্থের চেয়ে বেশী পাবেন অথবা কম পাবেন। তিনি লাভ-লোকসানের অনিশ্চয়তার মাঝে ঘুরপাক খাবেন। এটিই জুয়া। যা আল্লাহ হারাম করেছেন (মায়েদাহ ৯০; উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ২৩/১৫৮)

(২) বীমা করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটতেও পারে, নাও পারে। তাছাড়া দুর্ঘটনা কখন ঘটবে ও কি পরিমাণে ঘটবে, তা সবই অজ্ঞাত। ফলে এর মধ্যে প্রতারণা সুস্পষ্ট। আর প্রতারণামূলক ব্যবসা করতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন (মুসলিম হা/১৫১৩ প্রভৃতি)। (৩) নিরাপত্তা দেয়ার মালিক আল্লাহ। তাই ভরসা করতে হবে কেবলমাত্র আল্লাহর উপরে। অথচ এখানে ভরসা করা হচ্ছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর উপর। যা সম্পূর্ণরূপে ছহীহ আক্বীদা বিরোধী। ইসলামী বিধান হ’ল, ব্যক্তির যেকোন দুর্ঘটনায় কিংবা তার অপারগ অবস্থায় সমাজ ও সরকার তার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অতএব এসব থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৩৭/৩৯৭) : গর্ভবতী বা দুর্বল দরিদ্র মহিলারা ছিয়াম পালন করতে এবং ফিদইয়া দিতে সক্ষম না হ’লে করণীয় কি?

-ছাবের আলী মোল্লা

এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, বিদ্যুৎ ভবন, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনী মহিলা পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে (আবুদাঊদ, নাসাঈ; মিশকাত হা/২০২৫)। আর ক্বাযা করতে পারবে না এমন ভয় থাকলে প্রতি ছিয়ামের বদলে একজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করবে (বাক্বারাহ ২/১৮৪)। তবে ইবনে আববাস (রাঃ) গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনী মহিলাদের জন্য এবং দুর্বল বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য ফিদইয়া দিতে বলতেন, ক্বাযা আদায় নয় (আবুদাঊদ হা/২৩১৭, সনদ ছহীহ, বুখারী হা/৪৫০৫)। দৈনিক নিয়মিত মিসকীন না পেলে রামাযান শেষে একদিনে ত্রিশজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো যাবে (ইবনে কাছীর, বাক্বারাহ ১৮৪ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ)। সেটাও না পেলে কোন ইয়াতীমখানায় উক্ত ফিদইয়া পৌঁছে দিবে। ফিদইয়া বা ক্বাযা আদায়ে অক্ষম হ’লে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। 

প্রশ্ন (৩৮/৩৯৮) : হোদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসূল (ছাঃ) মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ কেটে দিয়ে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ লেখার মাধ্যমে নবুঅতের দাবী থেকে সরে এসেছিলেন কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে মক্কা বিজয়ের লক্ষ্যে। বর্তমানে এ লক্ষ্যেই কি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা উচিৎ হবে না?

-গোলাম কাদের

আমিরাবাদ, লোহাগড়া, চট্টগ্রাম।

উত্তর : প্রচলিত গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণের কোন সুযোগ নেই। প্রথমতঃ গণতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অথচ ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ একটি নিরেট কুফরী মতবাদ। ইসলামের সাথে এর আপোষের কোন সুযোগ নেই। দ্বিতীয়তঃ গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি হ’ল- ‘জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস’, আইন রচনার ক্ষেত্রে ‘দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ই চূড়ান্ত’। অর্থাৎ গণতন্ত্রে মানুষকে মানুষের মনগড়া বিধান মানতে বাধ্য করে। পক্ষান্তরে ইসলামী শরী‘আতের মৌল নীতি হ’ল ‘আল্লাহ্ই সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস’ এবং ‘অহি’-র বিধানই চূড়ান্ত’। এখানে মানুষ স্রেফ আল্লাহর বিধান মানে। যার অধীনে সকল মানুষের অধিকার সমান। বস্ত্ততঃ ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ প্রথমে মুসলমানকে ঈমানের গন্ডীমুক্ত করে। অতঃপর গণতন্ত্র তাকে মানুষের গোলাম বানায়। অতঃপর সে আল্লাহর সন্তুষ্টি বাদ দিয়ে ভোটারের মনস্ত্তষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়। যা তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।

তৃতীয়তঃ প্রচলিত রাজনীতির সাথে আপোষ করাকে ‘হোদায়বিয়ার সন্ধি’-র সময় ‘রাসূলুল্লাহ’ শব্দ বাদ দেওয়ার সাথে তুলনা করা নিতান্তই হাস্যকর ব্যাপার। কেননা তাঁকে আল্লাহর রাসূল হিসাবে না মানার কারণেই কুরায়েশদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছিল। তারা এটা মানলে তো আপোষ হয়ে যেত। সন্ধির কোন প্রয়োজন হ’ত না। সেকারণ তিনি ‘রাসূলুল্লাহ’ কেটে ‘মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ’ লিখেছিলেন। এটা লেখাতে তিনি কোন তাগূতী বিধানের সাথে আপোষ করেননি বা নবুঅতের দাবী থেকে সরে আসেননি। অতএব বর্তমানের কুফরী রাজনীতির সাথে আপোষ করার জন্য উক্ত ঘটনাকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করা স্রেফ খোঁড়া অজুহাত মাত্র।

বলা বাহুল্য, প্রচলিত রাজনীতির সঙ্গে আপোষ নয়; বরং জনমত পরিবর্তনের মাধ্যমে একে পরিবর্তন করাই হ’ল প্রকৃত অর্থে ইসলামী রাজনীতি (বিঃদ্রঃ ‘ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন’, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন কি ও কেন?’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ বই)

প্রশ্ন (৩৯/৩৯৯) : আমি ৩ বছর যাবৎ লিবিয়ায় আছি। প্রায় দিন স্ত্রীর সাথে আমার যোগাযোগ হয়। কিন্তু একজন ইমাম ছাহেব আমাকে বলেছেন যে, ১ বছরের বেশী এরূপ পৃথক থাকলে দেশে যাওয়ার পর পুনরায় বিবাহ করে সংসার করতে হবে। এক্ষণে আমার করণীয় কি?

-আব্দুছ ছবূর ইলিয়াস, লিবিয়া।

উত্তর : প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক না দেয় এবং স্ত্রীও যদি ‘খোলা’ না করে, তাহ’লে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এমনকি উভয়ের সম্মতিক্রমে ৩ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হ’লেও তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না’ (হাইআতু কিবারিল ওলামা; আত-ত্বালাকুস সুন্নাহ ওয়াল বিদ‘আহ, পৃঃ ৬২)

প্রশ্ন (৪০/৪০০) : রাসূল (ছাঃ) তায়েফের সফরে নির্যাতিত হওয়ার পর একটি আঙ্গুর বাগানে বসে ‘মযলূমের দো‘আ’ হিসাবে পরিচিত যে দো‘আটি করেছিলেন, তা ছহীহ কি?

-মুবীনুল ইসলাম, সপুরা, রাজশাহী।

উত্তর : দো‘আ করার ঘটনাটি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত (আর-রাহীক্ব পৃঃ ১২৬; ইবনু হিশাম ১/৪২০)। তবে এর সনদ যঈফ (ত্বাবারাণী, যঈফুল জামে‘ হা/১১৮২; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৯৩৩; দ্রঃ সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘তায়েফ সফর’ অধ্যায়)।

 

 

HTML Comment Box is loading comments...