সংগঠন সংবাদ

আন্দোলন

আমীরে জামা‘আতের সাতক্ষীরা সফর

গত ১৫ই মে সকাল সাড়ে ৬-টায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সাতক্ষীরা যেলা সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে দারুল ইমারত আহলেহাদীছ নওদাপাড়া, রাজশাহী থেকে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বেলা ১২-টা ২০ মিনিটে তিনি সাগরদাঁড়ি ট্রেন যোগে যশোর পৌঁছেন এবং শহরের ষষ্ঠীতলাস্থ টাউন আহলেহাদীছ জামে মসজিদে ‘মে‘রাজের গুরুত্ব ও শিক্ষণীয় বিষয়ে’র উপর জুম‘আর খুৎবা পেশ করেন। 

জুম‘আর ছালাতের পরে তিনি যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি জনাব আবুল খায়েরের বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। অতঃপর বেলা ৩-টায় রওয়ানা হয়ে বিকাল ৫-টায় তিনি সাতক্ষীরা পৌরসভাধীন বাঁকালস্থ দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ কমপ্লেক্সে পৌঁছেন।

যেলা সম্মেলন : সাতক্ষীরা

আল্লাহর গযবকে ভয় করুন!

-আমীরে জামা‘আত

১৫ই মে শুক্রবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সাতক্ষীরা যেলার উদ্যোগে শহরের ঐতিহ্যবাহী আব্দুর রাযযাক পার্কে অনুষ্ঠিত স্মরণকালের বৃহত্তম যেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব জনগণের প্রতি উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন,  সদ্য সমাপ্ত নেপালের ভূমিকম্প কেবল নেপালের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক কঠিন হুঁশিয়ারী সংকেত। একদিকে আমরা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে ও আল্লাহর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহর হক নষ্ট করছি। অন্যদিকে আল্লাহ সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিধানের উপরে হস্তক্ষেপ করে বিপর্যয় সৃষ্টি করছি। তাতে সংকীর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বার্থ উদ্ধার করতে গিয়ে আমরা মৌলিক মানবীয় স্বার্থ বিনষ্ট করছি। যার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হক্কুল ইবাদ নষ্ট হচ্ছে। ‘ওয়াটার টাওয়ার অফ এশিয়া’ খ্যাত হিমালয় পর্বত নিঃসৃত পানি থেকে আমরা বাংলাদেশীরা বঞ্চিত হচ্ছি। অন্যদিকে প্রতিবেশী বড় বড় শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলির কারখানা সমূহ হ’তে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড উদ্গীরণের মাধ্যমে হিমালয়ের বরফ গলাতে ভূমিকা রাখছি। যার মন্দ প্রতিক্রিয়া ভোগ করছি এখন আমরা সবাই। অতএব সবদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে সকলে আল্লাহমুখী হউন! জীবনের সর্বক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ মেনে চলুন! নিজেকে আল্লাহর রহমত পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তুলুন।

যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতার ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ শাহীন প্রমুখ।

দায়িত্বশীল বৈঠক : পরদিন ১৬ই মে শনিবার বাদ আছর বাঁকাল দারুল হাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ সাতক্ষীরা যেলার বিভিন্ন উপযেলা ও এলাকা দায়িত্বশীলগণের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল বৈঠকে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত যোগদান করেন। সেখানে উপস্থিত দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ পেশ করেন।

যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মাদ নযরুল ইসলাম।

রোগীর শয্যাপাশে আমীরে জামা‘আত : ১৭ই মে রবিবার সকাল ৯-টায় আমীরে জামা‘আত যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ জনাব আলহাজ্জ আব্দুর রহমান মাষ্টারকে দেখতে পৌরসভাধীন ইটাগাছা গ্রামে গমন করেন। এ সময়ে তিনি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং সুস্থ্যতার জন্য দো‘আ করেন। সকাল ১০-টায় তিনি সততা ফিসের মালিক একই গ্রামের আলহাজ্জ আইয়ূব হোসাইনের বড় ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত আতীকুযযামানকে দেখতে যান ও তার সুস্থতার জন্য দো‘আ করেন।

অতঃপর বেলা ১১-টায় তিনি সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষা (অবঃ) বদরুননেসা-র আহবানে তাঁর বাসায় গমন করেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৮১ সালের ৭ই জুন সাতক্ষীরা শহরে প্রথম ‘আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা’ কায়েম হ’লে তিনি তার যুগ্ম আহবায়িকা ছিলেন। তখন তাঁর বাসায় নিয়মিত মহিলাদের তা‘লীমী বৈঠক হ’ত। আমীরে জামা‘আত পুনরায় ঐ বৈঠক চালু করার জন্য তাঁর প্রতি আহবান জানান।

অতঃপর সেখান থেকে ফিরে পলাশপোলে তাঁর ভাগিনার বাসায় মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং বিকাল সাড়ে ৪-টায় যশোর থেকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস যোগে রাত ১১-টায় রাজশাহী মারকাযে পৌঁছেন। ফালিল্লাহিল হাম্দ।

আমীরে জামা‘আতের সফরসঙ্গী হিসাবে রাজশাহী থেকে তাঁর সাথে সাতক্ষীরা যান রাজশাহী মহানগরী ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুবীনুল ইসলাম, অর্থ-সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা সহকারী ও আমীরে জামা‘আতের দ্বিতীয় পুত্র আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব, কনিষ্ঠ পুত্র আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির, ‘আন্দোলন’-এর অফিস সহকারী আনওয়ারুল হক ও আত-তাহরীক-এর সার্কুলেশন সহকারী রূহুল আমীন প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গে কেন্দ্রীয় সফর

গত ২৮শে এপ্রিল থেকে ৪ঠা মে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশের পূর্ব-উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি যেলায় সাংগঠনিক সফর করেন। সপ্তাহব্যাপী এই সফরে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের সফর শুরু করেন এবং গাযীপুর, মৌলভী বাজার ও সিলেট যেলার বিভিন্ন এলাকা সফর করেন। বিস্তারিত রিপোর্ট নিম্নরূপ।-

কাযীপুর, সিরাজগঞ্জ ২৮শে এপ্রিল মঙ্গলবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সিরাজগঞ্জ যেলার উদ্যোগে কাযীপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ মুর্তাযার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় তারা জামা‘আতী যিন্দেগীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অতঃপর সেখান থেকে পরদিন ভোরে গাযীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

পিরুজালী, গাযীপুর ২৯শে এপ্রিল বুধবার : গাযীপুর পৌঁছে নেতৃবৃন্দ অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ গাযীপুর যেলার উদ্যোগে যেলার সদর থানাধীন পিরুজালী শিকদার পাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে আয়োজিত তাবলীগী সভা ও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি খায়রুল আনাম, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি হাতেম বিন পারভেয, ময়মনসিংহ যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ আলী প্রমুখ।

মণিপুর, গাযীপুর ৩০শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার : অদ্য বাদ ফজর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ গাযীপুর যেলার উদ্যোগে মণিপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক কর্মী সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় দুই মেহমান ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

জয়দেবপুর, গাযীপুর ৩০শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার : মণিপুর হ’তে রওয়ানা হয়ে নেতৃবৃন্দ বাদ যোহর যেলার জয়দেবপুরস্থ আছিয়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশ যোগদান করেন। মসজিদের মুতাওয়াল্লী ড. ইসমাঈল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে কেন্দ্রীয় মেহমানদ্বয় বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ময়মনসিংহ যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ আলী।

গাযীপুরের বিভিন্ন এলাকা সফর শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিকালের ট্রেন যোগে মৌলভী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে রাত ১১-টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপযেলায় পৌঁছেন। সেখানে যেলা ‘আন্দোলন’-এর যুগ্ম-আহবায়ক আবূ মুহাম্মাদ সোহেল তাদের অভ্যর্থনা জানান।

কুলাউড়া, মৌলভীবাজার ১লা মে শুক্রবার : কুলাউড়া থানা সদরে নবনির্মিত দক্ষিণ মাগুরা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। অতঃপর বাদ জুম‘আ ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ মৌলভী বাজার যেলার উদ্যোগে যেলা ‘আন্দোলন’-এর যুগ্ম-আহবায়ক আবু মুহাম্মাদ সোহেলের সভাপতিত্ব অত্র মসজিদে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য পেশ করেন।

একই দিন বাদ আছর হ’তে এশা পর্যন্ত মৌলভী বাজারের শান্তিবাগে জনাব ছাদিকুন নূর-এর বাড়ীতে অনুষ্ঠিত পৃথক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন ও বক্তব্য পেশ করেন। এই বৈঠকে বেশ কিছু নতুন আহলেহাদীছ ভাই যোগদান করেন।

জৈন্তাপুর, সিলেট ২রা মে শনিবার : মৌলভী বাজার সফর শেষে সিলেট পৌঁছে নেতৃবৃন্দ অদ্য বিকাল ৩-টায় যেলার জৈন্তাপুর থানাধীন সেনগ্রাম মুহাম্মাদিয়া সালাফিইয়াহ মাদরাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও অভিভাবক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল কাবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম সকলকে নির্ভেজাল তাওহীদের ঝান্ডাবাহী এদেশের একক সংগঠন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর দাওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানান।

একই দিন বাদ মাগরিব সেনগ্রাম আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা আন্দোলন’-এর উপদেষ্টা মাস্টার শফীকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন এবং সংগঠনের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন।

‘আন্দোলন’-এর আহবায়ক কমিটি গঠন : পরদিন সকাল ৮-টায় সেনগ্রাম মুহাম্মাদিয়া সালাফিইয়াহ মাদরাসা মসজিদে ‘আন্দোলন’-এর সিলেট যেলা কমিটি পুনর্গঠন উপলক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে অত্র মাদরাসার সুপার জনাব ফায়যুল ইসলামকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন।

কাফাউড়া, গোয়াইনঘাট, সিলেট ৪ঠা মে সোমবার : সপ্তাহব্যাপী সফরের শেষ দিন ৪ঠা মে বাদ যোহর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সিলেট যেলার উদ্যোগে যেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন কাফাউড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে আয়োজিত আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন। যেলা ‘আন্দোলন’-এর আহবায়ক ফায়যুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় মেহমানদ্বয় বক্তব্য পেশ করেন। অনুষ্ঠানে জনাব আফাযুদ্দীনকে সভাপতি করে কাফাউড়া শাখা ‘আন্দোলন’ এবং মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি করে শাখা ‘যুবসংঘ’-এর কমিটি গঠন করা হয়।

সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে নেতৃবৃন্দ সিলেট এসে রাত্রি যাপন করেন। অতঃপর পরদিন ৫ই মে ভোরে ঢাকা কোচ যোগে প্রথমে ঢাকা এবং সেখান থেকে বাস যোগে যশোর ও মেহেরপুরে নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরে আসেন।

কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদকের সফর

উক্ত সফরের অংশ হিসাবে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম মৌলভী বাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট যেলায় পুনরায় সফর করেন। তিনি ২৯শে মে শুক্রবার মৌলভী বাজার যেলার কুলাউড়া থানাধীন দক্ষিণ মাগুরা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন। অতঃপর সেখান থেকে হবিগঞ্জের লাখাই থানাধীন আমানুল্লাহপুর গমন করেন। বাদ মাগরিব আমানুল্লাহপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে কেন্দ্রীয় মেহমানের আগমন উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। লাখাই থানা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল্লাহিল কাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে সুধীবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি ‘আহলেহাদীছ আন্দোলনে’র দাওয়াত তুলে ধরেন এবং নির্ভেজাল এই কাফেলায় যোগদান করে সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন থানা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুছলেহুদ্দীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভী বাজার যেলা ‘আন্দোলন’-এর যুগ্ম-আহবায়ক আবূ মুহাম্মাদ সোহেল, ‘যুবসংঘ’ রাজশাহী কলেজ শাখার অর্থ সম্পাদক আরীফুল ইসলাম, মৌলভী বাজার যেলা ‘আন্দোলন’-এর কর্মী তাওহীদুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসাইন প্রমুখ।

এরপর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক সিলেট গমন করেন। ৩০শে মে শনিবার তিনি কিউসেট ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে যোগদান করেন এবং ‘দুর্যোগ : কারণ ও শিক্ষা’ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। অতঃপর ৩১শে মে তিনি জৈন্তাপুর থানাধীন সেনগ্রাম মুহাম্মাদিয়া সালাফিইয়াহ মাদরাসায় গমন করেন এবং সেখানে সকাল ১০-টায় মাদরাসা সংলগ্ন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন। সিলেট যেলা ‘আন্দোলন’-এর আহবায়ক মাওলানা ফায়যুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর যুগ্ম-আহবায়ক মাওলানা মীযানুর রহমান ও ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় তাবলীগ সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু তাহের। অনুষ্ঠানে অত্র মাদরাসার শিক্ষক মন্ডলী ও ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণবঙ্গে কেন্দ্রীয় সফর

গত ১৪ই মে বৃহস্পতিবার থেকে ১৯শে মে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫দিন দক্ষিণবঙ্গ সফর করেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও রাজশাহী-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার সভাপতি অধ্যাপক দুররুল হুদা ও রাজশাহী মোহনপুর উপযেলা সভাপতি ও স্থানীয় ধুরইল ডি-এইচ কামিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা দুররুল হুদা। এই সফরে তারা পিরোজপুর, বরিশাল, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর যেলার বিভিন্ন এলাকায় গমন করেন। বিস্তারিত নিম্নরূপ।-

সোহাগদল, পিরোজপুর ১৫ই মে শুক্রবার : রাজশাহী  থেকে দুপুরে ট্রেন ধরে খুলনা পৌঁছে সেখানে রাত্রি যাপন করেন। পরদিন সকালে বাস যোগে পিরোজপুর পৌঁছেন। সেখান থেকে ভাড়া হোন্ডা ও নৌকা যোগে স্বরূপকাঠি উপযেলাধীন সোহাগদল পৌঁছেন। অতঃপর শূরা সদস্য জনাব দুররুল হুদা সোহাগদল জামে মসজিদে এবং ভাইস প্রিন্সিপ্যাল  মাওলানা দুররুল হুদা পার্শ্ববর্তী আদর্শ বয়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন। অতঃপর তারা উভয়ে বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ পিরোজপুর যেলার উদ্যোগে সোহাগদল আহলেহাদীছ জামে মসজিদে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগদান করেন। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হামীদের সভাপতিত্বে রাত ১০-টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলে।

উযিরপুর, বরিশাল ১৬ই মে শনিবার : পিরোজপুর হ’তে পরদিন শনিবার বরিশাল পৌঁছে নেতৃবৃন্দ বাদ মাগরিব ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে যেলার উযিরপুর থানাধীন দক্ষিণ মাদারসী আহলেহাদীছ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত তাবলীগী সভায় যোগদান করেন। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জনাব মানছূরুল হক মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় মেহমানদ্বয় বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হামীদ, স্থানীয় মাওলানা আব্দুস সালাম ও ইবরাহীম কাওছার সালাফী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন মুহাম্মাদ মুস্তাফীযুর রহমান।

সদরপুর, ফরিদপুর ১৭ই মে রবিবার : বরিশাল থেকে ফরিদপুর পৌঁছে নেতৃবৃন্দ বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ফরিদপুর যেলার উদ্যোগে যেলার সদরপুর থানাধীন সাড়ে সাতরশি আহলেহাদীছ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগদান করেন। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি জনাব আব্দুছ ছামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে মেহমানদ্বয় ছাড়াও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন পিরোজপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হামীদ। বিশেষ কারণে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা দুররুল হুদা পরদিন এখান থেকে রাজশাহী ফিরে যান।

শরীয়তপুর ১৮ই মে সোমবার : অদ্য ফরিদপুর থেকে নেতৃবৃন্দ শরীয়তপুর পৌঁছে বাদ যোহর যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে যেলার সদর থানাধীন আঙ্গারিয়া গ্রামের জনাব সাঈদ তালুকদারের বাড়ীতে আয়োজিত তাবলীগী সভায় যোগদান করেন। উক্ত তাবলীগী সভায় কেন্দ্রীয় মেহমানগণ জামা‘আতী যিন্দেগীর গুরুত্ব তুলে বক্তব্য পেশ করেন। এ সময়ে তারা বিদ‘আতীদের দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারকৃত যেলা নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য দো‘আ করেন এবং সকলকে সত্যের পথে ধৈর্যধারণের উপদেশ দেন। তাঁরা উপস্থিত ভাইদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

পরদিন কেন্দ্রীয় মেহমানগণ শরীয়তপুর যেলা জজকোর্টে উপস্থিত হন। সেদিন ছিল মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী ‘আন্দোলন’-এর তিন নেতার যামিন শুনানীর ধার্য তারিখ। তারা সেখানে শুনানী ও যামিনের আদেশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। উভয় পক্ষে শুনানী শেষে বিজ্ঞ যেলা জজ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত শরীয়তপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আলাউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ তালুকদারকে যামিনে মুক্তি দেন। ফালিল্লা-হিল হাম্দ।

অতঃপর বাদ যোহর শরীয়তপুর থেকে রওয়ানা হয়ে বরিশাল মোস্তফাপুর থেকে বিকাল ৫-টায় কোচ যোগে রাত সাড়ে ১২-টায় রাজশাহী মারকাযে ফিরে আসেন।

সুধী সমাবেশ

নাচোল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ১লা মে শুক্রবার : অদ্য বিকাল ৪-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ নাচোল উপযেলার উদ্যোগে উপযেলা সদরের পার্শ্ববর্তী মুরাদপুর আল-হুদা দারুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মাদরাসার সভাপতি ও নাচোল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব হাফীযুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক-এর সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক আব্দুল হালীম বিন ইলিয়াস। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন গোমস্তাপুর থানাধীন জালিবাগান ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুহাম্মাদ মুশাররফ বিন আবুল হোসাইন প্রমুখ।

দারুসা, পবা, রাজশাহী ১৫ই মে শুক্রবার : অদ্য সকাল ১০-টায় ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ দারুসা এলাকার উদ্যোগে ও ‘তাওহীদ পাঠাগারে’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দারুসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ সালাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর ও যুববিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আমীনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাকীম আহমাদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পবা উপযেলা ‘যুবসংঘ’-এর প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ রাকীবুল ইসলাম ও ‘যুবসংঘ’-এর কর্মী ফায়ছাল।

বিশ্বনাথপুর, কানসাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৯শে মে শুক্রবার : অদ্য সকাল ৯-টায় বিশ্বনাথপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদ  ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ চাঁপাই নবাবগঞ্জ-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলার উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ইসমাঈল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও রাজশাহী-পশ্চিম যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক দুররুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আরীফুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা পেশ করেন মাওলানা মুনীরুল ইসলাম প্রমুখ।

নওহাটা, পবা, রাজশাহী ৩০শে মে শনিবার : অদ্য বাদ আছর নওহাটা নতুন আহলেহাদীছ জামে মসজিদে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ পবা উপযেলার উদ্যোগে ‘মাহে শা‘বানের গুরুত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর প্রধান আবাসীক শিক্ষক মুহাম্মাদ নযরুল ইসলাম, পবা উপযেলা ‘যুবসংঘে’র সাধারণ সম্পাদক আহমাদুল্লাহ এবং নওহাটা বাজার আহলেহাদীছ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ সালাফী প্রমুখ।

হাদীছ ফাউন্ডেশন প্রেস উদ্বোধন

নওদাপাড়া, রাজশাহী ৫ই জুন, শুক্রবার : অদ্য সকাল ১০-টায় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী কমপ্লেক্স-এর পূর্বপার্শ্বস্থ মসজিদের ২য় তলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন প্রেস’ উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর সচিব অধ্যাপক আব্দুল লতীফ-এর সভাপতিত্বে আত-তাহরীক-এর সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, মাসিক আত-তাহরীক-এর সম্পাদক মন্ডলীর মাননীয় সভাপতি মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব দীর্ঘদিনের কাংখিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় মহান আল্লাহর বারগাহে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের আজ আনন্দের দিন। বিশেষ করে আমার জন্য আরো বেশী আনন্দের দিন এ কারণে যে, আমার জীবদ্দশাতেই এই স্বপ্নটি বাস্তবায়ন হ’ল।

মুহতারাম আমীরে জামা‘আত এই প্রেস মেশিন ক্রয়ে যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন বিশেষ করে দেশীয় জনৈক ডাক্তার ও তাঁর স্ত্রী এবং ‘আত-তাহরীক পাঠক ফোরাম’ রিয়াদ, সঊদী আরব শাখার ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং মহান আল্লাহর নিকটে তাদের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান কামনা করেন। তাছাড়া গত প্রায় দু’মাস যাবৎ উক্ত প্রেস খরীদের কষ্টকর শ্রম যারা দিয়েছেন, তাদের সকলের জন্য তিনি আল্লাহর নিকট উত্তম বদলা প্রার্থনা করেন। এ সময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে এই মর্মে অছিয়ত করেন যে, ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন প্রেস পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক লেখনী প্রকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রেসে শিরক-বিদ‘আত সমর্থিত কোন বই-পুস্তক, লিফলেট এবং প্রাণীর ছবি সংবলিত কোন কিছুই ছাপা হবে না’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী শহরের উল্লেখযোগ্য প্রেস সমূহের মালিক ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে বেঙ্গল প্রেসের মালিক মুশফিকুর রহমান, যার প্রেসে ১৯৯৭ সাল থেকে এযাবৎ আত-তাহরীক ছাপা হচ্ছে, তাঁকে ও আত-তাহরীকের কভার ডিজাইনার সুলতানুল ইসলাম-কে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য যে, বেঙ্গল প্রেসের বর্তমান মালিকের পিতার আমল থেকেই উক্ত প্রেসে আহলেহাদীছ যুবসংঘের সব বই-পত্র ছাপা হ’ত। আর সুলতানুল ইসলাম ছিল যুবসংঘের সাবেক কর্মী এবং তার পিতা মমতাযুদ্দীন ছিলেন হাদীছ ফাউন্ডেশনের সাবেক হিসাব রক্ষক। তিনি বর্তমানে বার্ধক্যজনিত অসুখে শয্যাশায়ী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম এবং মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন প্রমুখ। উল্লেখ্য, কুয়েত থেকে রাজশাহীর বাগমারার হরিপুরে নিজের দানকৃত মসজিদ পরিদর্শনে আগত মেহমান কুয়েত সেনাবাহিনীর সাবেক কর্ণেল আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ আল-উতায়বী তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসার আগে থেকে আমি ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব সম্পর্কে জেনেছি। অতঃপর ঢাকায় নেমে তার আমন্ত্রণ পেয়ে আজকে এই মারকাযে উপস্থিত হ’তে পেরে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। অনুষ্ঠানে ব্যাপক আলেম-ওলামা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে দেখে তিনি অতিশয় আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশে সালাফীদের এত বড় মারকায দেখে বিস্মিত হন এবং এর উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন। তিনি বালক ও বালিকা মাদরাসা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। রাজশাহী পর্যটন মোটেলে তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং মারকায ঘুরিয়ে দেখান আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী-এর শিক্ষক নূরুল ইসলাম ও ড. শিহাবুদ্দীন আহমাদ। তাঁর আরবী বক্তব্যের অনুবাদ করেন ‘এহইয়াউত তুরাছ আল-ইসলামী’ বাংলাদেশ অফিসের সাবেক কর্মকর্তা আকরামুযযামান বিন আব্দুস সালাম। তাঁর বক্তব্য শেষে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত মারকায পরিদর্শনে আসার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচনাপর্ব শেষে আমীরে জামা‘আত সহ উপস্থিত সকলে প্রেস গৃহে গমন করেন। সকলের উপস্থিতিতে তিনি প্রেস মেশিনের ‘স্টার্টবাটনে’ বিসমিল্লাহ বলে চাপ দিয়ে মেশিন চালু করেন। এভাবে আন্দোলন-এর গঠনতন্ত্র ৪র্থ সংস্করণ এবং ‘আত-তাহরীক’ জুলাই’১৫ সংখ্যার কভার পেইজ মুদ্রণ দিয়ে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন প্রেস’-এর আনুষ্ঠানিক ছাপা কাজ শুরু হ’ল। ফালিল্লা-হিল হাম্দ। মেশিন চালুর পর আমীরে জামা‘আত সহ সকলে কিছু সময় দাঁড়িয়ে মুদ্রণ কার্য দেখেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ই মে জার্মানী থেকে সরাসরি আমদানীকৃত বিশ্ববিখ্যাত ‘হাইডেলবার্গ’ কোম্পানীর 'MO-94' মডেলের এই মেশিনটি ঢাকার ‘প্রিন্টমাষ্টার মেশিনারিজ’ থেকে তেত্রিশ লক্ষ টাকায় ক্রয় করা হয়। অতঃপর ১৫ই মে মেশিনটি রাজশাহী আনা হয় এবং নির্ধারিত প্রেস গৃহে স্থাপন করা হয়।

সমাজ সংস্কারে কাযীগণের ভূমিকা অপরিসীম

-আমীরে জামা‘আত

রাজশাহী ১০ই জুন বুধবার : অদ্য সকাল ১১-টায় রাজশাহী যেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাযী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক শহরের মুনলাইট গার্ডেন কম্যুনিটি সেন্টারে কাযীগণের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০১৫ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির ভাষণে কাযীগণের উদ্দেশ্যে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন। যেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাযী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় মদীনাতুল উলূম কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল জনাব মুকাদ্দাসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় যেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার জনাব মেহদী হাসান ও অন্যান্য পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ছাড়াও প্রায় সোয়াশো নিকাহ রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।

‘আল্লাহ ভীতি ও হালাল রূযী’ বিষয়ে ১০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর সহ ৪০ মিনিটের বক্তব্যের শুরুতে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, বিদেশের মাটিতে নানা দল-মতের বিশেষজ্ঞদের সামনে বক্তৃতার সুযোগ হলেও দেশের মাটিতে এরূপ কোন পেশাজীবী সমাবেশে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর আমীর জেনেও আমাকে বক্তৃতার জন্য আহবান করায় আমি সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এ ধরনের সমাবেশে সর্বাগ্রে প্রয়োজন অন্তরকে সংকীর্ণতা মুক্ত করা। আর এজন্য সর্বোত্তম মাধ্যম হ’ল,  আল্লাহভীতি। এ প্রসঙ্গে তিনি কুরআন ও হাদীছ থেকে বহু উদ্ধৃতি পেশ করে বলেন যে, আল্লাহভীতি ব্যতীত মুমিনের কোন আমলই আল্লাহর নিকট কবুল হয় না। হালাল রূযীর জন্য যেটা আবশ্যিক পূর্বশর্ত।

তিনি বলেন, পরিবেশ ও পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে হারামকে হালাল করার বহু অজুহাত আমাদের জানা আছে। কিন্তু প্রকৃত আল্লাহভীরু মুমিন সকল প্রকার অজুহাত ও সন্দেহ মূলক কর্মকান্ড হ’তে দূরে থাকবেন।                         

প্রসঙ্গক্রমে তিনি মুসলিম সমাজে বিবাহ, তালাক, যৌতুক প্রভৃতি বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিবাহের ক্ষেত্রে সাবালিকা মেয়ে ও তার অভিভাবক উভয়ের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু এদেশে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই কোর্ট ম্যারেজ হচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃংখলা। বাড়ছে তালাকের হার। মোহরানাকে এদেশে হালকা বিষয় মনে করা হয়। কারণ সূরা নিসা ৪ আয়াতে যেখানে মোহরানা ফরয করা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মা‘আরেফুল কুরআন প্রভৃতি নামকরা অনুবাদগুলিতে نِحْلَة  অর্থ করা হয়েছে সন্তুষ্টচিত্তে, খুশী মনে। অথচ আরবদের পরিভাষায় نِحْلَة  অর্থ ফরয  (فريضة)। এরপরেও মোহরানা কেবল বিয়ের সময় উচ্চারিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদায় করা হয় না। মৃত্যুর সময় মাফ করিয়ে নেওয়া হয়। ফলে এখন মোহরানার বদলে ‘যৌতুক’ ফরয (?) হয়ে গেছে, যা হারাম। এর বিরুদ্ধে সমাজের সর্বত্র ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা আবশ্যক।

ফিক্বহের কিতাবগুলিতে সুন্নী ও বিদ‘আতী তালাক নামে দু’প্রকার তালাকের কথা বলা হয়েছে। বিদ‘আতের পরিণাম জাহান্নাম। অথচ এক মজলিসে তিন তালাককে তিন তালাক গণ্য করার বিদ‘আতী তালাকই সমাজে চালু আছে। যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে চালু হয়েছে জাহেলী আরবের ফেলে আসা নোংরা হিল্লা প্রথা। যা ধর্মের নামে ব্যভিচার বৈ কিছুই নয়। যদি সুন্নী তালাক চালু থাকত, তাহ’লে আল্লাহ ও রাসূল (ছাঃ)-এর ভাষায় অভিশপ্ত হিল্লা প্রথা এদেশে চালু হ’ত না।

তিনি বলেন, হারাম খাদ্যে গঠিত দেহ কখনো জান্নাতে যাবে না (ছহীহাহ হা/২৬০৯)। অতএব সরকার নির্ধারিত ভাতার বাইরে কিছু গ্রহণ করলে সেটা হারাম হবে। এ ব্যাপারে সকলকে তিনি হালাল রূযী গ্রহণের প্রতি সচেতন থাকার আহবান জানান। তিনি বিবাহ বন্ধনের পবিত্র কাজে নেকী হাছিলের উদ্দেশ্যে সহযোগিতা করার জন্য নিকাহ রেজিষ্ট্রারদের প্রতি আহবান জানান। উল্লেখ্য যে, তাঁর ভাষণের পূর্বেই তাঁর লিখিত ‘তালাক ও তাহলীল’ বইটি সমিতির পক্ষ হ’তে খরিদ করে সকলের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

যুবসংঘ

নওদাপাড়া, রাজশাহী ৭ ও ৮ই মে বৃহষ্পতিবার ও শুক্রবার : গত ৭ ও ৮ মে রোজ বৃহস্পতি ও শুক্রবার ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে যেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের সমন্বয়ে দু’দিন ব্যাপী কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ নওদাপাড়াস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব।

‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, দফতর ও যুববিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আমীনুল ইসলাম, ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জামীলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আরীফুল ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার আব্দুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন এবং সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

মারকায সংবাদ

দাখিল পরীক্ষায় সারা দেশে নওদাপাড়া মাদরাসা সপ্তম

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০১৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় দেশের সেরা ২০টি মাদরাসার মধ্যে ৭ম স্থান এবং রাজশাহী বিভাগের মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করেছে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী’ নওদাপাড়া রাজশাহী।

এ বছর অত্র মাদরাসা থেকে ৩৯ জন ছাত্র ও ১৬ জন ছাত্রী সহ মোট ৫৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে ৩৫ জন জিপিএ-৫ (A+), ১৯ জন A ও ১ জন A- পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। উল্লেখ্য, এদের মধ্যে ৫ জন গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে।

দারুল হাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ, বাঁকাল, সাতক্ষীরা : এ বছর এ মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে ১ জন জিপিএ-৫ (A+), ৫ জন A, ৪ জন A- এবং ১ জন B পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

প্রবাসী সংবাদ

সিঙ্গাপুর, ১লা মে রবিবার : অদ্য সকাল সাড়ে ১০-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ সিঙ্গাপুর শাখার উদ্যোগে জাতীয় সুলতান জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিঙ্গাপুর ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মু‘আযযম হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় বক্তব্য পেশ করেন মুহাম্মাদ শফীক (নরসিংদী), আব্দুল লতীফ (সাতক্ষীরা), মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম (কুষ্টিয়া), রাকীবুল ইসলাম (মাগুরা), মাযহারুল ইসলাম (পটুয়াখালী) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন জুনায়েদ হোসাইন (নরসিংদী), আতাউর রহমান (সিরাজগঞ্জ), রাসেল (কুমিল্লা), মুহাম্মাদ জাভেদ (কুমিল্লা) ও হাসান (টাঙ্গাইল) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন আব্দুল মুকীত (কুষ্টিয়া)। উল্লেখ্য যে, উক্ত অনুষ্ঠানে ২৭ জন ভাই আক্বীদা পরিবর্তন করে নতুন আহলেহাদীছ হন। ফালিল্লাহিল হামদ।

মৃত্যু সংবাদ

(১) রাজশাহী যেলা ‘যুবসংঘে’র সাবেক সভাপতি হুমায়ূন কবীরের পিতা, বগুড়া যেলার নান্দুড়া এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি জনাব আবু তাউয়াব (৬৭) গত ২৭শে এপ্রিল সোমবার বিকাল ৪-টায় মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। পরদিন সকাল ৯-টায় আটমূল সালাফিইয়াহ মাদরাসা ময়দানে তার ১ম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন উক্ত মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল কালাম আযাদ। অতঃপর পার্শ্ববর্তী নান্দুড়া ঈদগাহ ময়দানে বেলা ১১-টায় তার ২য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। ২য় জানাযায় ইমামতি করেন বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব আব্দুর রহীম। জানাযায় যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র কর্মপরিষদ ও অন্যান্য কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। অতঃপর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ পুত্র, ২ কন্যা রেখে যান।

(২) ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ কুমিল্লা যেলার দেবিদ্বার থানাধীন ‘তুলাগাঁও’ এলাকার অর্থ সম্পাদক ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের রসায়ন ২য় বর্ষের ছাত্র স্থানীয় ব্যবসায়ী জনাব আবুল হাশেমের ৩য় পুত্র কাওছার হামীদ (২২) গত ২০শে মে বুধবার সকাল ১১-টায় নিজ বাড়ীতে মটর সংযোগ দিতে গিয়ে কারেন্টের শক খেয়ে হঠাৎ করে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। পরদিন সকাল ৮-টায় তুলাগাঁও দাখিল মাদরাসা ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করে তার ছোট ভাই অত্র মাদরাসার ছাত্র মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান। তার জানাযায় রাজশাহী থেকে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন যোগদান করেন এবং জানাযার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন ও ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন। যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ বিপুল সংখ্যক মুছল্লী তার জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। অতঃপর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

[আমরা তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।-সম্পাদক]