স্বদেশ-বিদেশ

স্বদেশ

পুলিশের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়

-প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে মামলায় প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে প্রতিবেদন দিয়ে থাকে। এতে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়’। গত ১লা জুন গোপালগঞ্জ যেলা জজ আদালতের উদ্যোগে আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পুলিশকে মামলার সঠিক তদন্ত করে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পেতে সহযোগিতা করতে হবে। মামলায় প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ায় মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তাই ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার সময় পুলিশকে আরো যত্নবান হ’তে হবে।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রিতা বিচার প্রত্যাশীদের জন্য কুফল বয়ে আনে। এ কারণে বিচারকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বিচারকাজে অহেতুক কালক্ষেপণ করা যাবে না। এর ফলে মানুষকে অযথা ভোগান্তির শিকার হ’তে হয়। যা দরিদ্র, নারী ও শিশুদের জন্য হয় আরও ক্ষতিকর।

[কথা খুবই সত্য ও বাস্তব। কিন্তু এর জন্য মূলতঃ দায়ী হ’ল দলীয় প্রশাসন ব্যবস্থা। ফলে পুলিশ এখন সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেই সরকারের লোকদের পক্ষে কাজ করাই হ’ল পুলিশের প্রচলিত রীতি। একইভাবে দলীয় আইনজীবী ও দলীয় বিচারকরাও এজন্য দায়ী। পারবেন কি মাননীয় প্রধান বিচারপতি সমস্যার মূল উৎপাটন করতে? (স.স.)]

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্যে ১ পৃষ্ঠায় ৪৮টি বানান ভুল

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনের এক পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে ৪৮টি শব্দের ভুল বানান পাওয়া গেছে। এছাড়া কম্পিউটারে কম্পোজ করা ৩১৩ শব্দের ঐ কপিতে লাইন স্পেসিংয়েও ছিল অসংখ্য ভুল; বেশ কয়েকটি শব্দকে লেখা হয়েছে ভেঙে ভেঙে। লিখিত বক্তব্যে বানান ভুলের বিষয়ে সচিব আবদুল মালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হ’লে তিনি বলেন, এটা আমরা কেউ দেখিনি। এক পাতার লিখিত বক্তব্যে এতগুলো ভুল মন্ত্রণালয়ের দৈন্যদশার চিত্র কিনা- এ প্রশ্নে খানিকটা সময় নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা দৈন্যদশা, ঠিকই দৈন্যদশা’। গত ২২শে মে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে।

[দলীয় কারণে অযোগ্যরাই সরকারী চাকুরী পায় ও দ্রুত পদোন্নতি পায়। উপরোক্ত ঘটনা তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ (স.স.)]

বাকৃবি গবেষকের গবেষণালব্ধ ফলাফল

 স্বল্প সময় ও স্থানে পুষ্টিকর শাক-সবজি

সম্পূর্ণ মাটিবিহীন পাত্রে বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা আঙ্গিনায় একই সাথে শাক-সবজি ও মাছ উৎপাদনের নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ সালাম। গবেষণাগার হিসাবে নিজের বাসার ছাদকে বেছে নিয়ে মাত্র ১০ বর্গমিটার জায়গায় চাষ করছেন স্ট্রবেরী, লেটুস, বেগুন, স্কোয়াশ, টমেটো, ওলকপি, পুদিনা, কলা, আমড়াসহ আরও অনেক শাক-সবজি ও ফল। বাঁশের মাচা তৈরি করে মাটিবিহীন প্লাস্টিকের পাত্রে চাষ করেন ঐ সকল শাক-সবজি। পানি ভাসমান অবস্থায় কোন প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করেই শুধুমাত্র মাছের পানিকে ব্যবহার করেই উৎপাদিত হয় ড. আব্দুস সালামের বাসার শাক-সবজি। এতে করে একদিকে পানির পরিমাণ কম লাগে, অন্যদিকে অপরিষ্কার পানিটি বিভিন্ন ধাপে পরিশোধিত হয়ে পুনরায় ট্যাংকে ফিরে আসে। ঐ পানিতেই থাকে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

একটি প্লাস্টিকের পানির ট্যাঙ্কের উপরের মাথা কেটে পানি দিয়ে পূর্ণ করে তাতে প্রতি ১০ লিটার পানিতে একটি তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দুই বেলা ভাসমান খাবার সরবরাহ করা হয়। এখানে শুধু তেলাপিয়াই নয়, শোল, মাগুর ইত্যাদি মাছও চাষ করা যাবে। মাছের ট্যাঙ্কে যাতে অক্সিজেনের অভাব না হয় তার জন্য একটি বায়ু পাম্পের সাহায্যে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানিকে একটি ছোট্ট পাম্পের সাহায্যে প্রতিটি পাইপের উপর দিয়ে তার মাঝে সরবরাহ করা হয়। এই পদ্ধতিতে মাছের ট্যাঙ্কে অ্যামোনিয়াযুক্ত দূষিত পানি গাছের শিকড়ের মাঝে বসবাসকারী ডি-নাইট্রিফায়িং ব্যাকটেরিয়া প্রথমে অ্যামোনিয়াকে ভেঙ্গে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রো-ব্যাকটর নাইট্রেটে পরিণত করে। এদিকে ঐ মাছের পানি গাছকে পুষ্টি জোগান দেয় এবং পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে।

উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য নিজের বাসার খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ, মরা ও পঁচাপাতা পাত্রে জমা রেখে পচন প্রক্রিয়ায় জৈব সার উৎপাদন করে গাছে সরবরাহ করেন বলে জানান ড. আব্দুস সালাম। ডিমের খোসাকে প্রসেসিং করে পাউডার হিসাবেও স্প্রে করে উপকার পেয়েছেন বলেও তিনি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদ্ধতিটিকে যদি সফল বাস্তবায়ন করা যায়, তাহ’লে আমাদের দেশে আগামী প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সহজ ও টেকসই হবে। শুধু তাই নয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন হরাস পাওয়ায় এ পদ্ধতি আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী হবে।

[ধন্যবাদ  অধ্যাপক  আব্দুস সালামকে। আল্লাহ রূযীর মালিক। তিনি বান্দার রূযীর জন্য আরেক বান্দার মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবন করে দেন। এক সময় মাটি ভাগ-বাটোয়ারার হিসাবে সন্তান জন্ম দানে কম-বেশীর হিসাব করা হ’ত। যাকে ম্যালথুসিয়ান থিওরী বলা হ’ত। তারই রেশ ধরে এখনও আমাদের দেশ সহ কিছু কিছু দেশের নেতারা একটি সন্তানই যথেষ্ট বলে তাদের জনগণের উপর কঠোরতা আরোপ করে থাকেন। ফলে এখন বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর তরুণ কর্মশক্তির অভাবে দেশ ক্রমেই অচল হয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক ছাহেবের উক্ত আবিষ্কারের জন্য সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাচ্ছি। অতঃপর আবিষ্কারক-এর প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা। এর মাধ্যমে সরকার যদি দরিদ্রতার ভয়ে সন্তান কমানোর ফন্দি-ফিকির বাদ দেয়, তাহ’লে সেটাই হবে বড় সফলতা (স.স.)]

বিদেশ

ইসলাম নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেই নিষিদ্ধ!

গত ১৬ই মে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সার্কোজির দলীয় নেতা এবং ভেনেলে শহরের মেয়র রবার্ট শার্ডন হুংকার ছেড়ে বলেছিলেন, ‘২০২৭ সালের মধ্যে অবশ্যই ফ্রান্সে ইসলাম ধর্মকে নিষিদ্ধ করা হবে এবং কেউ এ ধর্ম পালন করতে চাইলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হবে’। তারপর দু’দিন না যেতেই তিনি নিজেই নিষিদ্ধ হওয়ার পথে রয়েছেন। তার দল ইউএমপি ইতিমধ্যে তাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে এবং মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। ইউএমপির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাথালি কসিউস্কো মরিজে বলেছেন, ‘এ ধরনের অদ্ভুত মন্তব্য কোনভাবেই ইউএমপির কর্মসূচীর মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটায় না। আমি তার বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি’। দলীয় প্রধান সার্কোজিও এ ব্যাপারে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

ডিজিটাল যুগে মানুষের মনোযোগ কমেছে

তথ্য ও প্রযুক্তির উত্থানের ফলে মানুষের মনোযোগ কমেছে। এক দশক আগেও মানুষ যেকোন বিষয়ে টানা ১২ সেকেন্ড মনোসংযোগ ধরে রাখতে পারত, এখন সেটি দাঁড়িয়েছে ৮ সেকেন্ডে। সম্প্রতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। মানুষের জীবনে প্রযুক্তির প্রভাব কতখানি এবং বর্তমানের ডিজিটাল জীবনযাপনে মনোযোগের ব্যাপ্তি কতটা কমেছে তা জানতে ৫৪ পৃষ্ঠার গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট। গবেষণায় দেখা যায়, ২০০০ সালে যেখানে মানুষের মনোযোগের ব্যাপ্তি ছিল গড়ে ১২ সেকেন্ড সেখানে তা কমে ৮ সেকেন্ডে নেমে এসেছে। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।

পশ্চিমা আগ্রাসন ও স্বেচ্ছাচারের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চরমপন্থীদের উত্থান ঘটেছে

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের আগ্রাসী ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকান্ডকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি ব্রিক্স জোটের সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিষদের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এ বৈঠকে রাশিয়া, ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনের নিরাপত্তা বিষয়ক পরিষদের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। পুতিন বলেন, জাতিসঙ্ঘের অনুমোদন ছাড়া মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সামরিক হস্তক্ষেপের আগে এ ধরনের জিহাদী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব এ অঞ্চলে ছিল না। প্রেসিডেন্ট পুতিন আরো বলেছেন, যেভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশেপাশের দেশগুলোতে জিহাদী গোষ্ঠীগুলোকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তার পরিণতি কখনোই ভালো হবে না।

আইএস’র মতো যোদ্ধাদের বিস্তারে পাশ্চাত্যের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট সমালোচনা করে প্রায় এক মাস আগেও একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। গত ২৬শে এপ্রিল প্রকাশিত ঐ ভিডিও চিত্রে বলেছেন, আমেরিকা এ অঞ্চলে তার অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাছিলের জন্য এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন এ ব্যাপারে যথেষ্ট দলীল-প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।

[আসল তথ্য এভাবেই ফাঁস হয়ে যায়। আইএস-এর উত্থান ও হঠাৎ আঞ্চলিক পরাশক্তি হয়ে ওঠা এবং সেই সাথে ইসলামী খেলাফত ঘোষণা- সবকিছুই ইহূদী-খৃষ্টান চক্রান্তেরই অংশ। এর ফলে মারছে মুসলমান ও মরছে মুসলমান। আল্লাহ বলেন, ইহূদী-নাছারারা কখনোই তোমাদের বন্ধু নয় (বাক্বারাহ ১২০)। এরপরেও কথিত জিহাদীদের হুঁশ ফিরবে কি? (স.স.)]