প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৩২১) জনৈক আলেম বলেন, সকলে একত্রিত ইফতার করা বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত। এব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত কি?

-আশরাফ আলী

শাজাহানপুর, বগুড়া।

উত্তর : ইফতারের জন্য একত্রিত হওয়া শরী‘আতসম্মত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ছায়েমকে ইফতার করালো, সে ব্যক্তি ঐ ছায়েম-এর ন্যায় ছওয়াব পেল। অথচ উক্ত ছায়েম-এর নিজের নেকী থেকে কিছুই কম করা হবে না’ (তিরমিযী হা/৮০৭, ইবনু মাজাহ হা/১৭৪৬)। এতে বুঝা যায় ছায়েম একজনও হতে পারে দশজনও হতে পারে। পৃথকভাবেও হতে পারে, একত্রিতভাবেও হতে পারে। উপরন্তু রাসূল (ছাঃ) যে কোন খাদ্য একত্রে খাওয়াকে উৎসাহিত করে একে খাদ্যে বরকত লাভের কারণ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন একদল ছাহাবী এসে রাসূল (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খাই, কিন্তু পরিতৃপ্ত হইনা। জবাবে রাসূল (ছাঃ) বললেন, সম্ভবতঃ তোমরা পৃথক পৃথক খাও। তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমরা একত্রিতভাবে খাও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। এতেই তিনি তোমাদের মধ্যে বরকত প্রদান করবেন’ (আবুদাঊদ হা/৩৭৬৪, ইবনু মাজাহ হা/৩২৮৬; ছহীহাহ হা/৬৬৪; মিশকাত হা/৪২৫২)। অতএব একত্রে ইফতার বিদ‘আত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

প্রশ্ন (২/৩২২) রামাযান মাসে দিনের বেলা পুকুরে ডুব দিয়ে গোসল করা বা সাতার কাঁটা যাবে কি?

-ছাদেকুল ইসলাম

মোল্লাহাট, বাগেরহাট।

উত্তর : এরূপ করায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। পিপাসা এবং গরমের কারণে নবী করীম (ছাঃ)-এর উপর একবার পানি ঢালা হয়েছিল (আবুদাঊদ হা/২৩৬৫)। তবে কোন অবস্থায় যেন পানি পেটের মধ্যে না যায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ১৯/২১১)

প্রশ্ন (৩/৩২৩) ফরয ছালাত আদায়ের পর মাসনূন দো‘আসমূহ দেখে পড়া যাবে কি? এতে নেকীর কোন কমবেশ হবে কি?

-প্রকৌশলী মোবারক হোসেন

টিএসসি, নওগাঁ।

উত্তর : মুখস্ত না থাকলে যে কোন দো‘আ দেখে পড়তে বাধা নেই। এতে নেকীরও কোন ঘাটতি হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর সাধ্যমত’ (তাগাবুন ১৬)। তবে মুখস্ত করার জন্য অবশ্যই চেষ্টা করে যেতে হবে।

 

প্রশ্ন (৪/৩২৪) কুনূতে বিতর হিসাবে ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা’ দো‘আটি পাঠ করা যাবে কি?

-হুমায়ূন কবীর

পরীবাগ, বাংলামটর, ঢাকা।

উত্তর : এ দো‘আটি বিতর ছালাতের কুনূতে পাঠ করা মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘মুরসাল’ বা যঈফ (বায়হাক্বী ২/২১০; মিরক্বাত ৩/১৭৩-৭৪; মির‘আত ৪/২৮৫)। উপরন্তু এটি কুনূতে নাযেলাহ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে, কুনূতে রাতেবাহ হিসাবে নয়। আলবানী বলেন যে, এ দো‘আটি ওমর (রাঃ) ফজরের ছালাতে কুনূতে নাযেলাহ হিসাবে পড়তেন। এটাকে তিনি বিতরের কুনূতে পড়েছেন বলে আমি জানতে পারিনি (ইরওয়া হা/৪২৮-এর আলোচনা দ্রঃ ২/১৭২ পৃঃ, বিঃদ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১৬৯)

প্রশ্ন (৫/৩২৫) ‘বিদ্বানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে উত্তম’ বক্তব্যটির কোন ভিত্তি আছে কি?

-যহূরুল হক

বিরামপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : হাদীছটি একাধিক দুর্বল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যার কোনটি জাল, কোনটি যঈফ (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৮৩২-এর আলোচনা দ্রঃ)

প্রশ্ন (৬/৩২৬) সালাম প্রদানের পর বুকে হাত রাখার ব্যাপারে শরী‘আতে কোন নির্দেশনা আছে কি?

-তারেক সাইফুল্লাহ

বিরামপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : মুছাফাহা করার পরে বুকে হাত দেয়া, হাতে চুমু দেয়া বা মাথা ঝুঁকানো কোনটিই ইসলামী রীতি নয়। বরং এগুলি বিদ‘আতী আমল। ছহীহ হাদীছে পরস্পরের ডান হাত মিলানোর মাধ্যমে মুছাফাহা করার পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। এর অতিরিক্ত সবকিছুই পরিত্যাজ্য (বিঃদ্রঃ ছালাতুর রাসূল ২৭৬ পৃঃ)

প্রশ্ন (৭/৩২৭) ছিয়াম অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন গ্রহণের বিধান কি? বিশেষতঃ যাদের দিনে কয়েকবার গ্রহণের প্রয়োজন হয়।

-আব্দুল হাদী, চকউলী, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : ইনসুলিন গ্রহণ করা ছিয়াম ভঙ্গের কারণ নয়। কেননা এটা কোন খাদ্য নয়। তবে রাতে তা গ্রহণ করলে যদি কোন দৈহিক ক্ষতির আশংকা না থাকে, তবে সেটা করাই উত্তম (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/২৫২; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৬/২৫২-৫৪)

প্রশ্ন (৮/৩২৮) আমাদের এলাকায় কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার গোসল দেওয়া স্থানটি পরবর্তী কয়েদিন যাবৎ ঘিরে রাখা হয় এবং সন্ধ্যার পর আগরবাতি জ্বালানো হয়। এগুলি কি শরী‘আতসম্মত?

-আল-ছানী, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : এসব ধর্মের নামে কুসংস্কার মাত্র। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে এরূপ কোন আমল প্রমাণিত নয়। অতএব এগুলি অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

প্রশ্ন (৯/৩২৯) ছালাতে প্রথম তাশাহহুদ ছুটে গেলে কেবল সহো সিজদা দিলেই যথেষ্ট হবে কি?

-আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ, বাড্ডা, ঢাকা।

উত্তর : প্রথম তাশাহহুদ ছুটে গেলে সালামের পূর্বে সহো সিজদা দিলেই যথেষ্ট হবে। আব্দুল্লাহ বিন বুহায়না (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যোহরের ছালাতে দু’রাক‘আত পর না বসেই দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর সালামের পূর্বে দু’টি সহো সিজদা দিলেন (বুখারী হা/১২২৫, ইবনু মাজাহ হা/১২০৬; মিশকাত হা/১০১৮ ‘সহো’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (১০/৩৩০) ওযর বশতঃ ছালাতের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে মসজিদে গিয়েই তা আদায় করতে হবে না বাড়িতে আদায় করলেও চলবে?

-বণী আমীন মন্ডল

জেটে, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

উত্তর : ফরয ছালাত সর্বাবস্থায় মসজিদে আদায় করাই উত্তম। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, যদি তোমরা তোমাদের বাড়ীতে ছালাত আদায় কর যেমন এই পিছনে পড়া ব্যক্তি তার বাড়ীতে আদায় করে থাকে, তাহ’লে তোমরা অবশ্যই তোমাদের নবীর সুন্নাত থেকে বিচ্যুত হবে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত পরিত্যাগ কর, তাহ’লে তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে।’ তিনি বলেন, ‘যখন কোন মুছল্লী সুন্দরভাবে ওযূ করে ও স্রেফ ছালাতের উদ্দেশ্যে ঘর হ’তে বের হয়, তখন তার প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহর নিকটে একটি করে নেকী হয়, একটি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত হয় ও একটি করে গোনাহ ঝরে পড়ে’। তিনি বলেন, আমি আমাদের সাথী ছাহাবীদের দেখেছি, তাঁরা কখনও জামা‘আত থেকে পিছনে থাকতেন না। কেননা ছালাতের জামা‘আত থেকে দূরে থাকে কেবল প্রকাশ্য মুনাফিক অথবা রোগী। আমি দেখেছি যে, এক ব্যক্তি দুই ব্যক্তির মধ্যখানে (তাদের সাহায্যে) পথ চলছে। অবশেষে মসজিদে এসে তাকে কাতারে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে (মুসলিম হা/৬৬৬, মিশকাত হা/১০৭২)। তবে শারঈ ওযরবশতঃ বাড়ীতেও ফরয ছালাত আদায় করা যাবে (ইবনু মাজাহ হা/৭৯৩; দারাকুৎনী, মিশকাত হা/১০৭৭ ‘জামা‘আত ও তার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (১১/৩৩১) জুম‘আর ফরয ছালাতের আগে ও পরে সুন্নাত পড়ার বিশেষ কোন গুরুত্ব আছে কি?

-আব্দুল্লাহ, কামদেবপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : অবশ্যই গুরুত্ব আছে। কেননা আগে-পরে সুন্নাত আদায়কারীর জন্য হাদীছে বিশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুম‘আ মসজিদে আসে, অতঃপর সাধ্যমত ছালাত আদায় করে। অতঃপর খুৎবা শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকে এবং ইমামের সাথে ছালাত আদায় করে, তার জন্য পরবর্তী জুম‘আ সহ আরো তিনদিনের গোনাহ মাফ করা হবে (মুসলিম হা/৮৫৭, মিশকাত হা/১৩৮২ ‘জুম‘আর ছালাত’ অনুচ্ছেদ)

আর জুম‘আ পরবর্তী সুন্নাত হিসাবে চার বা দুই কিংবা দুই ও চার মোট ছয় রাক‘আত সুন্নাত ও নফল পড়া যায় (মুসলিম, মিশকাত হা/১১৬৬ তিরমিযী হা/৫২৩)

প্রশ্ন (১২/৩৩২) দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শয়তানের পেশাব পান করা হয়। একথার কোন সত্যতা আছে কি?

-মীযান, বাটরা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর: উল্লেখিত বক্তব্যটি ভিত্তিহীন। যেকোন ধরনের পানাহার বসে করাই সুন্নাত (মুসলিম হা/২০২৪, মিশকাত হা/৪২৬৬, ৬৭)। রাসূল (ছাঃ) একাধিক হাদীছে দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম হা/২০২৫-২৬, তিরমিযী হা/১৮৮০) তবে প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে পান করাও জায়েয (আহমাদ হা/৭৯৫, বুখারী হা/৫৬১৫, ইবনু মাজাহ হা/৩৩০১, মিশকাত হা/৪২৭৫)।  

প্রশ্ন (১৩/৩৩৩) মসজিদের চারিদিকে ঘোড়ার ছবিযুক্ত টাইলস লাগানো হয়েছে। এক্ষণে উক্ত মসজিদে ছালাত হবে কি? এক্ষেত্রে করণীয় কি?

আব্দুস সাত্তার

চষুডাঙ্গা, লালপুর, নাটোর।

উত্তর : এরূপ মসজিদে ছালাত আদায় করা শরী‘আতসম্মত হবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি (টাঙানো) থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না’ (বুখারী হা/৩২২৫, মুসলিম হা/২১০৬, মিশকাত হা/৪৪৮৯)। এছাড়া মুছল্লীকে অমনোযোগী করতে পারে, এরূপ কোন বস্ত্তও মুছল্লীর সম্মুখে রাখা নিষেধ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৭;আবুদাঊদ হা/২০৩০; ছহীহুল জামে‘ হা/২৫০৪)। সুতরাং এরূপ মসজিদে ছালাত আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে। এমতাবস্থায় উক্ত টাইল্সগুলি ঢেকে দিতে হবে অথবা পরিবর্তন করতে হবে।

প্রশ্ন (১৪/৩৩৪) আল্লাহর বাণী ‘কেবল আলেমগণই আল্লাহকে ভয় করেন’। এখানে আলেম দ্বারা উদ্দেশ্য কি? বিস্তারিত জানতে চাই।

-আব্দুল আউয়াল

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে কেবল আলেমগণই আল্লাহকে ভয় করেন (ফাতির ২৮)। এর ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, আলেম যিনি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেন না। আল্লাহ্কৃত হালালকে হালাল মনে করেন এবং হারামকে হারাম মনে করেন। তার আদেশ যথাযথভাবে পালন করেন। আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন এবং বিশ্বাস রাখেন যে তার আমলের হিসাব হবে’ (ইবনু কাছীর)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, বেশী হাদীছ জানার নাম ইলম নয়। বরং বেশী আল্লাহভীরুতাই হ’ল ইলম (ইবনু কাছীর)। কা‘ব বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইলম শিখে এজন্য যে, তার দ্বারা সে আলেমদের সাথে বিতর্ক করবে ও মূর্খদের সঙ্গে ঝগড়া করবে কিংবা মানুষকে তার দিকে আকৃষ্ট করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন (তিরমিযী হা/৩১৩৮, মিশকাত হা/২২৫)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইলম শিক্ষা করেছে, যার দ্বারা আল্লাহর সন্তোষ লাভ করা যায়, অথচ সে কেবল দুনিয়া হাছিলের উদ্দেশ্যে শিক্ষা করে, সে ক্বিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না’ (আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২২৭)। অতএব উপরোক্ত নষ্ট স্বভাবের ও কপট উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত প্রকৃত আল্লাহভীরু আলেমগণই কেবল উক্ত আয়াতে বর্ণিত আলেমগণের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য যে, আলেম ও জাহিল প্রত্যেক মুমিনই আল্লাহভীরু হ’তে পারেন। কিন্তু আলেমদের আল্লাহভীতি হয় জেনেশুনে। তারা আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী এবং তার সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন। ফলে যিনি যত বেশী জ্ঞানী তাঁর তাক্বওয়ার গভীরতা তত বেশী হয়। এদিক দিয়ে আলেমগণের মর্যাদার স্তরে কম বেশী হয়। আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।  

প্রশ্ন (১৫/৩৩৫) ছিয়ামরত অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে কি?

-হাফেয আব্দুল লতীফ

বিরামপুর, দিনাজপুর।

উত্তর: ছিয়ামরত অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহারে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। কেননা এটি খাওয়া বা পান করার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এতে খাদ্যের চাহিদাও পুরণ হয় না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ২৬৯১, ১০/২৭১)

প্রশ্ন (১৬/৩৩৬) দুই ঈদের রাতে নির্দিষ্ট কোন ইবাদত আছে কি? এছাড়া ঈদের রাতে ইবাদত করলে হৃদয় জীবিত থাকে কি?

-সোহেল, কাযীপুর, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : এ ব্যাপারে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। ঈদের রাত্রি জাগরণকারীর অন্তর কখনো মারা যাবে না মর্মের বর্ণনাটি  মওযূ‘ বা জাল (ইবনু মাজাহ হা/১৭৮২; সিলসিলা যঈফাহ হা/৫২০)। এ মর্মে আরো একটি জাল বর্ণনা এসেছে, যে ব্যক্তি চারটি রাত তথা- তারবিয়াহ, আরাফাহ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত্রি জাগরণ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫২২)

প্রশ্ন (১৭/৩৩৭) ছিয়াম অবস্থায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে পেটের খাবার বেরিয়ে আসলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?

-আব্দুল কাইয়ূম, বানেশ্বর, রাজশাহী।

উত্তর: এমতাবস্থায় ছিয়াম ভঙ্গ হবে না। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, সাধারণভাবে বমি হ’লে ছিয়াম ক্বাযা করতে হবে না। তবে ইচছাকৃতভাবে বমি করলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে এবং তদস্থলে একটি ছিয়াম ক্বাযা করতে হবে (তিরমিযী হা/৭২০, মিশকাত হা/২০০৭)

প্রশ্ন (১৮/৩৩৮) অবহেলাবশতঃ গত তিনবছর রামাযানের ছিয়াম পালন থেকে বিরত ছিলাম। এক্ষণে বোধোদয় হওয়ার পর আমার করণীয় কি?

-যাকিউল ইসলাম, রূপগঞ্জ, ঢাকা।

উত্তর : রামাযানের ছিয়াম ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। যা অবহেলাবশতঃ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে ব্যক্তি কবীরা গোনাহে পতিত হয়। অতএব উক্ত তিন বছর ছিয়াম ত্যাগের জন্য অনুতপ্ত চিত্তে তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোন দিন তা পরিত্যাগ করব না বলে প্রতিজ্ঞা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ (যুমার ৫৩-৫৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রামাযান পেল অথচ নিজের পাপকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে (ছহীহ ইবনে হিববান হা/৯০৭, ছহীহ আত-তারগীব হা/৯৯৭)। 

প্রশ্ন (১৯/৩৩৯) বিদ‘আতী ও অহংকারী ব্যক্তির পরিণতি কি?

-আফযাল

মাটিয়ানী, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর: শিরকের পরে বিদ‘আত শরী‘আতের দৃষ্টিতে সর্বাধিক নিন্দনীয় আমল (মুসলিম হা/৮৬৭, নাসাঈ হা/১৫৭৮)। জেনেশুনে বিদ‘আতকারীর কোন আমল গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না সে তওবা করে ফিরে আসে’ (বুখারী হা/৩১৭২; মুসলিম হা/১৩১৭; মিশকাত হা/২৭২৮, ত্বাবারাণী, ছহীহ আত-তারগীব হা/৫৪)। এছাড়া হাশরের দিন বিদ‘আতীকে হাউয কাউছার থেকে ‘দূর হও’, ‘দূর হও’ বলে রাসূল (ছাঃ) তাড়িয়ে দিবেন’ (বুখারী হা/৬৫৮৪, মুসলিম হা/২২৯১, মিশকাত হা/৫৫৭১)

অহংকার করা মহাপাপ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অন্তরে কণা পরিমাণ অহংকার রয়েছে। ...আর ‘অহংকার’ হ’ল ‘সত্যকে দম্ভের সাথে পরিত্যাগ করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা’ (মুসলিম হা/৯১, মিশকাত হা/৫১০৮)। অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) তিনটি ধ্বংসকারী বস্ত্ত থেকে মানুষকে সাবধান করেছেন (১) প্রবৃত্তি পূজারী হওয়া (২) লোভের দাস হওয়া এবং (৩) আত্ম অহংকারী হওয়া। তিনি বলেন, এটিই হ’ল সবচেয়ে মারাত্মক (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, মিশকাত হা/৫১২২)। অতএব বিদ‘আতী ও অহংকারী উভয়েরই পরিণাম জাহান্নাম।

প্রশ্ন (২০/৩৪০) ‘আসসালামু ‘আলা মানিত্তাবা‘আল হুদা’ বাক্যটি কেবল অন্যধর্মের লোকদের প্রতি সালাম প্রদানের সময় বলতে হবে কি?

-গোলাম সারওয়ার, ধানমন্ডি, ঢাকা।

উত্তর: উক্ত বাক্যটি রাসূল (ছাঃ) কেবল অমুসলিম শাসক ও নেতাদের নিকট পত্র লেখার সময় ব্যবহার করতেন (বুখারী হা/৭, মিশকাত হা/৩৯২৬)

প্রশ্ন (২১/৩৪১) খতম তারাবীহ কি সুন্নাত? ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারা দেশে একই নিয়মে খতম তারাবীহ করার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছে, এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কি?

-আব্দুল আউয়াল, সাপাহার, নওগাঁ।

উত্তর : খতম তারাবীহ বলে কোন কিছু শরী‘আতে নেই। বরং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কোন ব্যক্তি ইমামতি করলে সে যেন ছালাত সংক্ষিপ্ত করে। কারণ জামা‘আতে অনেক অসুস্থ, দুর্বল ও বৃদ্ধ মানুষ থাকেন। তবে কোন ব্যক্তি একা ছালাত আদায় করলে ইচ্ছামত ছালাত দীর্ঘায়িত করতে পারে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১১৩১ ‘ইমামের কর্তব্য’ অনুচ্ছেদ)। উল্লেখ্য যে, ক্বিরাআত দীর্ঘ হৌক বা সংক্ষিপ্ত হৌক ছালাতে খুশূ-খুযূই হ’ল প্রধান বিষয়। আজকাল খতম তারাবীহর ভয়ে অনেকে তারাবীহর জামা‘আতেই আসেন না। তাছাড়া ছালাত সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে হাফেযগণ ক্বিরাআত এমন দ্রুত পড়েন, যা কুরআনের অবমাননার শামিল। মুছল্লীরা যা বুঝতে সক্ষম হয় না। অথচ আল্লাহ বলেছেন, যখন কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোন ও চুপ থাক’ (আ‘রাফ ২০৪)

ইবনুল ‘আরাবী বলেন, আমি ২৮ জন ইমামকে দেখেছি যারা রামাযান মাসে তারাবীহতে স্রেফ সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাছ দিয়ে তারাবীহ শেষ করেছেন মুছল্লীদের উপর হালকা করার জন্য এবং সূরা ইখলাছের ফযীলতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য। কেননা রামাযানে তারাবীহতে কুরআন খতম করা সুন্নাত নয়’ (কুরতুবী, তাফসীর সূরা ইখলাছ)

অতএব মুছল্লীদের আগ্রহ বুঝে হাফেয ছাহেবগণ তারাবীহর কিরাআত দীর্ঘ অথবা সংক্ষিপ্ত করবেন। কোন অবস্থাতেই খতম তারাবীহতে বাধ্য করা বা একে অধিক ছওয়াবের কাজ মনে করা যাবে না। কারণ এটি সুন্নাত নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না।

প্রশ্ন (২২/৩৪২) যে ব্যক্তি ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী’ পড়ে তার আমলনামায় নাকি এক লক্ষ চবিবশ হাযার নেকী লেখা হয়। একথা কি সঠিক?

- আমানুল্লাহ, কুমিল্লা।

উত্তর : উক্ত বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। বরং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় একশ’বার ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’ পড়বে ক্বিয়ামতের দিন এর  অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আমল নিয়ে কেউ উপস্থিত হ’তে পারবে না। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তা অনুরূপ অথবা উক্ত ব্যক্তির চেয়ে অধিকবার পাঠ করবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২২৯৭)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি একশ’বার উক্ত বাক্য পাঠ করবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে, যদিও তার গোনাহ সমুদ্রের ফেণা সমতুল্য হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২২৯৬)

প্রশ্ন (২৩/৩৪৩) সাহারী খেতে বসেছে, কিন্তু খাওয়া শুরু করেনি, এমতাবস্থায় আযান শুরু হ’লে সাহারী খেতে পারবে কি?

-শামীম আখতার

হরিহর পাড়া, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : এমতাবস্থায় সে তার খাওয়া সম্পন্ন করবে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ খাবার পাত্র অথবা পানির পাত্র হাতে নেয়, আর এমতাবস্থায় আযান শুনে, তখন সে যেন তা রেখে না দেয়; বরং খাওয়া শেষ করে’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৯৮৮ ‘ছওম’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (২৪/৩৪৪) মুসাফিরকে জুম‘আর ছালাত আদায় করতে হবে কি? না যোহরের ক্বছর করাই যথেষ্ট হবে?

-আশরাফ হোসাইন

বালিয়াপুকুর, রাজশাহী।

উত্তর : মুসাফিরের জন্য জুম‘আর ছালাত আদায় করা যরূরী নয়। সে চাইলে জুম‘আ পড়তে পারে, চাইলে যোহরের ক্বছর করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে হজ্জ-এর সফর করেন, কিন্তু তাদের কেউ জুম‘আর ছালাত আদায় করেননি (ইরওয়া হা/৫৯৪)। অন্য হাদীছে এসেছে গোলাম, রোগী, মুসাফির, শিশু ও মহিলাদের উপরে জুম‘আ ফরয নয় (আবুদাঊদ, দারাকুৎনী, মিশকাত হা/১৩৭৭, ১৩৮০; ইরওয়া হা/৫৯২)। জাবের (রাঃ) বর্ণিত হাদীছেও অনুরূপ প্রমাণ রয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/২৫৫৫)

প্রশ্ন (২৫/৩৪৫) ব্যাংকে চাকুরী করে উপার্জিত সকল অর্থই কি হারাম হবে?

-মাইদুল হোসাইন

চাঁদকুঠি আঠারদোন, রংপুর সদর। 

উত্তর : সূদী ব্যাংকের বিষয়টি স্পষ্ট। ইসলামী ব্যাংকগুলিও সূদমুক্ত নয়। তাই উভয়টি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা সূদকে হারাম করেছেন এবং সূদখোরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন (বাক্বারাহ ২/২৭৮-৭৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, সূদগ্রহীতা, সূদ দাতা, সূদের দলীল লেখক এবং সূদের সাক্ষী সকলের উপর আল্লাহর লা‘নত। আর (পাপের দিক দিয়ে) তারা সকলে সমান (মুসলিম হা/১৫৯৮, মিশকাত হা/২৮০৭)। অতএব সূদী ব্যাংকে চাকুরীজীবি সূদ ভক্ষণকারীর ন্যায় পাপী হবে এবং তার যাবতীয় উপার্জন হারাম হবে। কিয়ামতের দিন পাপীদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, আর আমরা তাদের কৃতকর্মসমূহের দিকে অগ্রসর হব। অতঃপর সেগুলিকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব’ (ফুরক্বান ২৫/২৩)

প্রশ্ন (২৬/৩৪৬) মসজিদ উদ্বোধনকালে কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির পূর্ণ নাম-পরিচয় সম্বলিত ফলক মসজিদে লাগিয়ে তা উন্মোচন করা কতটুকু শরী‘আতসম্মত?

-হাবীবুল ইসলাম

ধানমন্ডি, ঢাকা।

উত্তর : এরূপ আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করা থেকে বিরত থাকা যরূরী। কারণ এতে এটি রিয়া বা লোক দেখানো আমল হিসাবে গণ্য হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। রাসূল (ছাঃ) ‘রিয়া’-কে ‘ছোট শিরক’ বলে সবচেয়ে বড় পাপ হিসাবে বেশী ভয় করেছেন (আহমাদ হা/২৩৬৮০, মিশকাত হা/৫৩৩৪, ছহীহাহ হা/৯৫১)। তবে মসজিদে যে কোন পরিচিতি মূলক নাম ব্যবহার করা শরী‘আতসম্মত (বুখারী হা/৪২০; মিশকাত হা/৩৮৭০ ‘জিহাদ’ অধ্যায়)।

প্রশ্ন (২৭/৩৪৭) মাদরাসাগুলিতে বিপদাপদ বা মানত পূরণের জন্য যে ছাদাক্বা করা হয়, তার প্রকৃত হকদার কে? সকলেই কি তা খেতে পারবে?  

-আমীরুল হক, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : মানত মানুষের নিয়তের উপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে সকল মানুষকে খাওয়ানোর নিয়ত করলে সকলেই তা খেতে পারবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪১৬)। আর ছাদাক্বা মূলত গরীব-মিসকীনদের জন্য। তবে এযুগে বেসরকারী মাদরাসা ও ইয়াতীমখানাগুলি, যাদের পর্যাপ্ত আয়-রোজগার নেই, সেগুলি ছাদাক্বা বণ্টনের ‘ফী সাবীলিল্লাহ’ খাতের অন্তর্ভুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (২৮/৩৪৮) ই‘তেকাফ অবস্থায় মসজিদে কুরআন শিক্ষা বা বক্তব্য প্রদান করা যাবে কি?

-আব্দুল্লাহিল কাফী

ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : ই‘তেকাফ অবস্থায় মসজিদে কুরআন শিক্ষা দেওয়া যায় (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৪৩৭ পৃঃ ‘ই‘তেকাফকারীর জন্য যা করা পসন্দনীয়’ অনুচ্ছেদ)। তবে অর্থোপার্জনের স্বার্থে ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদে ছাত্র পড়ানো বা প্রাইভেট টিউশনী হিসাবে কুরআন-হাদীছ পড়ানো যাবে না। কারণ তাতে ই‘তিকাফের মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।

প্রশ্ন (২৯/৩৪৯) কোন অমুসলিম যদি তার বৈধ উপার্জন থেকে রামাযান মাসে কোন মুসলমানের ইফতারের ব্যবস্থা করে, তবে তা খাওয়া জায়েয হবে কি?

-রেজওয়ানুল ইসলাম

মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : অমুসলিমদের বৈধ উপার্জন থেকে মুসলমানগণ খেতে পারে। সে হিসাবে তাদের বৈধ উপার্জন দ্বারা রামাযানের ইফতারীর ব্যবস্থাও করা যায়। তবে গায়রুল্লাহর নামে তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত ভক্ষণ থেকে বিরত থাকতে হবে (মায়েদাহ ৩)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যেসব মুশরিক তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে না এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করে দেয় না, তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ কর এবং তাদের ব্যাপারে ন্যায় বিচার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনছাফকারীকে ভালবাসেন’ (মুমতাহানা ৮)

প্রশ্ন (৩০/৩৫০) অপবিত্র অবস্থায় সকাল হয়ে গেলে ছিয়াম পালন করা যাবে কি?

-আয়েশা সিদ্দীকা, ধানমন্ডি, ঢাকা।

উত্তর : করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঘুম ভাঙলে গোসল করে ছালাত (ফজর) আদায় করে মনে মনে ছিয়ামের নিয়ত করবে। কোন কিছু খাবে না। হযরত আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে সহবাসের পর অপবিত্র অবস্থায় সকাল করতেন এবং ছিয়াম রাখতেন’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০০১ ‘ছিয়াম’ অধ্যায় ৩ অনুচ্ছেদ)। উল্লেখ্য, অপবিত্র অবস্থায় ঘুম থেকে উঠে শুধু সাহারী খাওয়ার সময় অবশিষ্ট থাকলে বিনা গোসলেই সাহারী খাবে। অতঃপর গোসল করে ফজরের ছালাত আদায় করবে (হাইআতু কিবারিল ওলামা ১/৪২৬ পৃঃ)

প্রশ্ন (৩১/৩৫১) মুসাফির ব্যক্তি মুক্বীমের ইমামতি করতে পারেন কি?

-আব্দুল্লাহ নাছের, কাজলা, রাজশাহী।

উত্তর : মুসাফির ব্যক্তি মুক্বীমের ইমামতি করতে পারেন। হযরত ওমর (রাঃ) মক্কায় আসলে তাদেরকে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করাতেন এবং বলতেন, ‘হে মক্কাবাসী! তোমরা তোমাদের ছালাত পূর্ণ কর, আমরা মুসাফির’ (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৫০৪, ১৫০৬, মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৮৮৪, নায়ল ৩/১৭৭ পৃঃ হাইআতু কিবারিল ওলামা ১/৩১৩ পৃঃ)

প্রশ্ন (৩২/৩৫২) সিজদার সময় মহিলারা স্বীয় পেটকে রানের সাথে মিলিয়ে রাখবে মর্মের বর্ণনাগুলির সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই।

-সুরাইয়া আখতার, মাগুরা।

উত্তর : এ মর্মে তিনটি জাল ও যঈফ হাদীছ পাওয়া যায় (বায়হাক্বী হা/৩৩২৪, ৩৩২৫, সিলসিলা যঈফাহ হা/২৬৫২, ত্বাবারাণী কাবীর হা/১৭৮৭৯, যঈফাহ হা/৫৫০০)। অতএব এভাবে সিজদা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৩৩/৩৫৩) টিভিতে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা দেখা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-ছাদেকুল ইসলাম

রাণীনগর, নওগাঁ।

উত্তর : নিম্নোক্ত কারণে এগুলি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। (১) সময় ও অর্থের অপচয়। বিনোদনের নামে এসব খেলা মানুষের সময় নষ্ট করে। তাছাড়া এগুলি মানুষের পকেট ছাফ করে পুঁজিপতিদের পকেট ভর্তি করার একটা ফাঁদ মাত্র। আল্লাহ বলেন, ‘(সেই মুমিনগণ সফলকাম) যারা অনর্থক কাজ হ’তে বিরত থাকে’ (সূরা মুমিনূন ৩)। তিনি বলেন, তোমরা অপচয় করো না’। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান ছিল তার প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ’ (বনু ইস্রাঈল ২৬-২৭)। (২) এসব খেলা মূলতঃ অমুসলিমদের আবিষ্কৃত। সুতরাং অমুসলিম ও কাফেরদের খেলা দেখার মাধ্যমে প্রকারান্তরে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। যা থেকে বিরত থাকা মুসলমানের জন্য আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি যে কওমের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। (৩) এসব খেলা একদিকে যেমন মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয়, অপরদিকে সমাজে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রসার ঘটায়। (৪) এর মধ্যে জুয়ার সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা এটিকে আরো কঠিন হারামে পরিণত করেছে (মায়েদাহ ৯০)।  

প্রশ্ন (৩৪/৩৫৪) স্ত্রী থাকা অবস্থায় তার বোনের মেয়েকে বিবাহ করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

মীযানুর রহমান, কুমিল্লা।

উত্তর : হবে না। কেননা স্ত্রী উক্ত মেয়েটির খালা হচ্ছেন। আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘কোন নারীকে তার ফুফুর সথে (বিবাহ বন্ধনে) একত্র করা যাবে না। আর না কোন নারীকে তার খালার সাথে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৬০; বাংলা মিশকাত হা/৩০২৫ ‘যাদেরকে বিবাহ করা হারাম’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৫/৩৫৫) পড়াশুনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষাবৃত্তি অথবা শিক্ষাঋণ গ্রহণ করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-শামীম, তারাবাড়িয়া আলিম মাদ্রাসা, পাবনা।

উত্তর : এরূপ বৃত্তি বা ঋণ গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এটা ব্যাংক সূদ গ্রহণের মাধ্যমেই উপার্জন করে। এরূপ বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে উক্ত ব্যাংকগুলি মূলতঃ মানুষকে তাদের সূদী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে প্রলুব্ধ করে। অতএব এসব ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি বা ঋণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৩৬/৩৫৬) ফিৎরা আদায় করা কি ধনী-গরীব সকলের উপরেই ফরয? এজন্য কি ছাহেবে নিছাব হওয়া আবশ্যক?

-আব্দুল হামীদ

রাণীগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : ফিৎরা আদায় করা ধনী-গরীব সকল মুসলমানের উপর ফরয। এজন্য ছাহেবে নিছাব হওয়া শর্ত নয়। কারণ এটা মালের ছাদাক্বা নয়, বরং জানের ছাদাক্বা। সেকারণ ঈদের দিন সকালেও যদি কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তার জন্য ফিৎরা আদায় করা ফরয নয়। আবার ঈদের দিন সকালে কোন বাচ্চা জন্ম নিলে তার পক্ষে ফিৎরা আদায় করতে হবে (দ্রঃ মির‘আত ৬/১৮৫)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাকাতুল ফিৎর ফরয করেছেন মাথা প্রতি এক ছা‘ করে খেজুর, যব, অন্য বর্ণনায় খাদ্যবস্ত্ত প্রত্যেক মুসলিম ক্রীতদাস ও স্বাধীন, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় সকলের উপর। আর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন (ঈদের) ছালাতে বের হবার আগেই সেটা আদায় করা হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৮১৫)। অতএব ফিৎরা আদায়ের জন্য পূর্ব থেকেই চেষ্টা করতে হবে।

প্রশ্ন (৩৭/৩৫৭) মসজিদে দাওয়াতী কাজ, খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমানো সহ অন্যান্য কর্মকান্ড শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-গাউছুল আযম*

মিঠাপুকুর, রংপুর।

উত্তর : এসব কাজ মসজিদে করা যায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে শরী‘আতের বিভিন্ন কাজ মসজিদে করা হ’ত। যেমন মসজিদে কোন কিছু বণ্টন করা (বুখারী হা/৪২১)। মসজিদে খাওয়া (বুখারী হা/৪২২)। মসজিদে বিচার করা (বুখারী হা/৪২৩)। মসজিদে ঘুমানো (বুখারী হা/৪৩৯)। মসজিদে কবিতা পাঠ করা (বুখারী হা/৪৫৩)। মসজিদে দ্বীনী প্রশিক্ষণ দেয়া (বুখারী হা/৪৫৪) ইত্যাদি।

* [নাম পরিবর্তন করুন। কারণ ‘গাউছুল আযম’ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ হতে পারে না (স.স.)।

প্রশ্ন (৩৮/৩৫৮) প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সূরা তওবার প্রথমে বিসমিল্লাহ পড়তে হয় না। এর কোন দলীল আছে কি?

-ওমর ফারূক, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : সূরা তওবার প্রথমে বিসমিল্লাহ রাখার জন্য জিবরীল  (আঃ) কোন বিধান নিয়ে অবতীর্ণ হননি। ঐ অবস্থায় রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যু হয়ে যায়। ফলে সূরা আনফাল ও তওবাহর বিষয়বস্ত্ত কাছাকাছি হওয়ায় হযরত ওছমান (রাঃ) উভয়ের মাঝে বিসমিল্লাহ লেখেননি (ইবনু কাছীর; তিরমিযী, মিশকাত হা/২২২২)। সকল ছাহাবী সেটা মেনে নিয়েছিলেন। অতএব এটি ইজমায়ে ছাহাবা হিসাবে গৃহীত।

প্রশ্ন (৩৯/৩৫৯) জনৈক আলেম বলেন, রাসূল (ছাঃ) কবরে জীবিত থাকার প্রমাণ হল, তিনি সেখানে সকল সালামের জবাব দেন এবং সালাম তাঁর কাছে পৌছানোর জন্য একদল ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছে। উক্ত বক্তব্যের কোন ভিত্তি আছে কি?

-মঞ্জুরুল হক,

নার্সিং হোম, বগুড়া।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, কেউ আমাকে সালাম দিলে আল্লাহ তা আমার রূহের উপর ফিরিয়ে দেন। অতঃপর আমি উক্ত সালামের উত্তর দেই (আবুদাউদ হা/২০৪১; মিশকাত হা/৯২৫)। এজন্য একদল ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছে (নাসাঈ, দারেমী, মিশকাত হা/৯২৪)। অর্থাৎ ফেরেশতা মারফত তাঁর নিকট সালাম পৌঁছানো হয়। একথার অর্থ এটা নয় যে, দুনিয়ার মত তিনি কবরে জীবিত আছেন। বরং এর অর্থ হল, তাঁর রূহ ‘আলামে বারযাখে জীবিত রয়েছে। যা দুনিয়ার জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং যা কখনো দুনিয়ায় ফিরে আসবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের (মৃতদের) সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত’ (মুমিনূন ২৩/১০০)

কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মাধ্যমে রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুবরণের বিষয়টি দিবালোকের ন্যয় স্পষ্ট হয়ে গেছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল’ (যুমার ৩৯/৩০)। তিনি অন্যত্র বলেন, ‘আমরা তোমার পূর্বেও কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরজীবী হয়ে থাকবে?’ (আম্বিয়া ২১/৩৪)। তিনি আরো বলেন, ‘মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র। তার পূর্বে বহু রাসূল গত হয়ে গেছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? (আলে-ইমরান ৩/১৪৪)

রাসূল (ছাঃ) যখন মৃত্যুবরণ করেছিলেন তখন তাঁর এই মৃত্যু সংবাদ ওমর (রাঃ) কোন মতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। ফলে তিনি অশান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তখন আবুবকর (রাঃ) বলেছিলেন, ‘যারা মুহাম্মাদ-এর ইবাদত করে তারা জেনে রাখুক যে, মুহাম্মাদ মারা গেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করে তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি মরেন না’ (বুখারী হা/৩৬৬৮)। অন্য হাদীছে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুকালীন আযাব সম্পর্কে বলেন যে, তাঁর সামনে একটি পাত্রে পানি রাখা ছিল। তিনি তাতে হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন। আর মুখমন্ডল ধৌত করছিলেন এবং বলছিলেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই মৃত্যু যন্ত্রণা খুবই কঠিন। এরপর দু’হাত তুলে বলতে লাগলেন, আমাকে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বন্ধুর সাথে মিলিত কর। এ অবস্থাতেই তাঁর জান কবয হয়ে গেল এবং তাঁর হাত এলিয়ে পড়ল’ (বুখারী হা/৬৫১০; মিশকাত হা/৫৯৫৯)

প্রশ্ন (৪০/৩৬০) ইলহাম, ইলক্বা, কাশফ বলতে কি বুঝায় ? শরী‘আতে এসবের গুরুত্ব কতটুকু?

qa_17_10_01-মাহবূবুর রহমান, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : ইলহাম অর্থ প্রেরণা সৃষ্টি করা। এটি হ’ল এক ধরনের অনুপ্রেরণা, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন প্রকার বাহ্যিক উৎসের যোগসূত্রতা ছাড়াই অন্তরে অনুভব করেন।

আর ইলক্বা অর্থ নিক্ষেপ করা। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তরে কোন কিছু এমনভাবে প্রতীয়মান হওয়া যাতে তার সব সন্দেহ দূরীভূত হয়ে তিনি নিশ্চিন্ততা অনুভব করেন। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, বিগত সকল উম্মতের মাঝে কিছু ‘মুহাদ্দাছ’ বা ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিল, যদি আমার উম্মতে এরূপ কোন ব্যক্তি থেকে থাকে. তবে সে হ’ল ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) (বুখারী হা/৩৪৬৯, মিশকাত হা/৬০২৬)

ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, এ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ‘ইলহাম’ সত্য এবং এটা গোপন অহী (ফাৎহুলবারী হা/৬৯৯৩-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ ১২/৩৮৮)

‘কাশ্ফ’ অর্থ প্রকাশিত হওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ কর্তৃক তার কোন বান্দার নিকট অহী মারফত এমন কিছুর জ্ঞান প্রকাশ করা যা অন্যের নিকট অপ্রকাশিত। আর এটি কেবলমাত্র নবী-রাসূলগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী। তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না’। ‘তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। তিনি তার (অহীর) সম্মুখে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন’ (জিন ৭২/২৬-২৭)। এখানে ‘রাসূল’ বলতে জিবরীল ও নবী-রাসূলগণকে বুঝানো হয়েছে। তবে কখনও কখনও রীতি বহির্ভূতভাবে অন্য কারু নিকট থেকে অলৈাকিক কিছু ঘটতে পারে বা প্রকাশিত হতে পারে। যেমন ছাহাবী ও তাবেঈগণ থেকে হয়েছে। অতএব এরূপ যদি কোন মুমিন থেকে হয়, তবে সেটা হবে ‘কারামত’। অর্থাৎ আল্লাহ্ তাকে এর দ্বারা সম্মানিত করেন। আর যদি কাফির থেকে ঘটে, তবে সেটা হবে ফিৎনা। অর্থাৎ আল্লাহ এর দ্বারা তার পরীক্ষা নিচ্ছেন যে, সে এর মাধ্যমে তার কুফরী বৃদ্ধি করবে, না তওবা করে ফিরে আসবে।

কাশফ-কারামাত, ইলহাম-ইলক্বা শরী‘আতের কোন দলীল নয় এবং এগুলি আল্লাহর অলী হওয়ারও কোন নিদর্শন নয়। বস্ত্ততঃ মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় দলীল হ’ল কেবলমাত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ (মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/১৮৬)

 

 

HTML Comment Box is loading comments...