প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৩৬১) : বেপর্দা নারীর ছিয়াম কবুল হবে কি? পর্দা না করলে তাদেরকে ছিয়াম থেকে বিরত থাকতে বলা যাবে কি?

-আবুবকর ছিদ্দীক

উত্তর বাড্ডা, ঢাকা।

উত্তর : বেপর্দা নারীর পরিণাম জাহান্নাম (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২৪ ‘ক্বিছাছ’ অধ্যায়)। তবে ছিয়াম বাতিল হবে না। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ হবে ও নেকী হরাস পাবে (বুখারী; মিশকাত হা/১৯৯৯; ছহীহ তারগীব হা/১০৮২)। তাই গোনাহগার হওয়া সত্ত্বেও তাকে ফরয ছিয়াম থেকে নিষেধ করা যাবে না। বরং উদ্বুদ্ধ করতে হবে যেন ছিয়াম রাখে এবং যাবতীয় অন্যায় থেকে তওবা করে।

প্রশ্ন (২/৩৬২) : বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের উপর যে নির্যাতন চলছে, তার কারণ কি? এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি?

-হযরত শেখ

হলদী, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : প্রথমতঃ এটা মুসলমানদের কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের যেসব বিপদাপদ স্পর্শ করে, সেগুলি তোমাদের কৃতকর্মের ফল (শূরা ৪২/৩০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। (১) যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্য অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে প্লেগ মহামারী আকারে রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (২) যখন কোন জাতি ওযন ও মাপে কারচুপি করে, তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন দারিদ্র্য এবং শাসকদের নিষ্ঠুর নিপীড়ন। (৩) যখন কোন জাতি তাদের ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে না, তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি ভু-পৃষ্ঠে চতুষ্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকত, তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হ’ত না। (৪) যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়। (৫) যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন (ইবনু মাজাহ হা/৪০১৯, ছহীহাহ হা/১০৬-০৭)

দ্বিতীয়তঃ দলে দলে বিভক্ত হওয়া। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং পরস্পর ঝগড়া করো না, তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে (আনফাল ৪৬)

তৃতীয়তঃ মুমিন বান্দাদের উপর বিপদ-আপদ আপতিত হয় পরীক্ষা স্বরূপ। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমরা তোমাদের পরীক্ষা নেব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-শস্যাদি বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ হ’ল ধৈর্যশীলদের জন্য’ (বাক্বারাহ ২/১৫৫)

চতুর্থতঃ আমর বিল মা‘রূফ ও নাহী ‘আনিল মুনকার-এর দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যখন কোন অন্যায় হ’তে দেখে, অতঃপর তারা তা প্রতিরোধ করে না, তখন সত্বর আল্লাহ তাদেরকে ব্যাপক গযবের দ্বারা পাকড়াও করেন’ (তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৫১৪২)। মুসলমান তাদের এ দায়িত্ব যেন ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহর গযব ব্যাপকতা লাভ করছে।

সুতরাং মুসলমানদের উপর সকল নির্যাতনের মূলে রয়েছে, অহি-র বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়া। এক্ষণে মুসলমানদের একমাত্র করণীয় হ’ল, অহি-র বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং তার আলোকে ঐক্যবদ্ধ মুসলিম সমাজ গড়ে তোলা।  

প্রশ্ন (৩/৩৬৩): বখশিশ দেয়া সম্পর্কে শরী‘আতের নির্দেশনা কি?

-রাশেদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম।

উত্তর : মানুষের কোন কাজ দেখে খুশী হয়ে তাকে কিছু প্রদান করার নাম বখশিশ। এটা শরী‘আতে জায়েয। রাবী‘আ বিন কা‘ব আসলামী (রাঃ)-এর কাজের উপর খুশী হয়ে রাসূল (ছাঃ) বলেছিলেন, তুমি আমার কাছে চাও (মুসলিম হা/৪৮৯)। আমর ইবনে সালামা বিন ক্বায়েস (রাঃ) বলেন, আমাকে আমার (বাল্য অবস্থায় ইমামতিতে খুশী হয়ে) মুছল্লীরা একটি জামা উপহার দিয়েছিলেন। তাতে আমি খুব খুশী হয়েছিলাম’ (বুখারী, মিশকাত হা/১১২৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা পরস্পরকে হাদিয়া দাও ও মহববত বৃদ্ধি কর’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৩০০৪)

গ্রহীতার কামনা ব্যতীত নিয়োগকর্তা খুশী হয়ে কিছু প্রদান করলে তা প্রদান এবং গ্রহীতার গ্রহণ উভয়টিই জায়েয। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কারো নিকটে তার মুসলিম ভাইয়ের পক্ষ থেকে যদি কোন হাদিয়া আসে, অথচ তার প্রতি তার কোন কামনা নেই, এক্ষেত্রে তা ফিরিয়ে না দিয়ে সে যেন তা গ্রহণ করে। কারণ এটা এমন রিযিক, যা আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ব্যবস্থা করেছেন (আহমাদ; ছহীহাহ হা/১০০৫)

তবে যদি নিয়োগকর্তা কোন মন্দ উদ্দেশ্য হাছিলের জন্য প্রদান করে, তাহলে তা ঘুষের পর্যায়ভুক্ত হবে। রাসূল (ছাঃ) ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের উপর লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৫৩)

নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য মজুরীর উপরে কিছু কামনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, আমরা যাকে অর্থের বিনিময়ে কোন কাজে নিয়োজিত করি, তার অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করলে তা হবে আত্মসাৎ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৪৮)

রাসূল (ছাঃ) জনৈক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ করলে সে এসে বলল যে, এগুলি জমাকৃত যাকাত এবং এগুলি আমাকে দেওয়া হাদিয়া। এ ঘটনা শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে রাসূল (ছাঃ) বলেন, কর্মকর্তাদের কি হ’ল যে তারা এরূপ বলছে! সে তার পিতা-মাতার বাড়িতে বসে থেকে দেখুক তো কে তাকে হাদিয়া দেয়? যে সত্তার হাতে আমার জীবন তার কসম! যা কিছুই সে গ্রহণ করবে ক্বিয়ামতের দিন তা কাঁধে নিয়ে সে হাযির হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৭৯)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কর্মচারীর হাদিয়া গ্রহণ আত্মসাৎ স্বরূপ’ (আহমাদ, ছহীহুল জামে‘ হা/৭০২১)

প্রশ্ন (৪/৩৬৪) : বুখারী ৫৬১০ নং হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) মদ, মধু ও দুধের মধ্যে দুধ পান করেছিলেন। এ হাদীছের ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন?

-শাকীল আহমাদ, বগুড়া।

উত্তর : মি‘রাজের সফরে রাসূল (ছাঃ) পিপাসিত হন। ফলে তাঁকে দু’বার পানীয় পেশ করা হয়। একবার বায়তুল মুক্বাদ্দাসে মি‘রাজের প্রাক্কালে। দ্বিতীয়বার সিদরাতুল মুনতাহায় গিয়ে। প্রথমটিতে মদ ও  দুধ এবং দ্বিতীয়টিতে মদ, মধু ও দুধের কথা এসেছে। দু’টিতেই তিনি দুধ গ্রহণ করেছেন এবং দু’টিতেই জিব্রীল একই জবাব দিয়েছেন, اخْتَرْتَ الْفِطْرَةَ ‘তুমি স্বভাবধর্মকে পসন্দ করেছ’। এর কারণ হিসাবে ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, দুধে পিপাসা মিটে। তাতে খাদ্য ও পানীয় দু’টিই থাকে। যা মদ ও মধুতে থাকে না। আর এটাই হ’ল আসল কারণ’ (ফাৎহুল বারী হা/৫৬১০-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)

প্রশ্ন (৫/৩৬৫): মসজিদে বা রাস্তায় ঈদের বা জানাযার ছালাত আদায়ে কোন বাধা আছে কি?

-আব্দুল্লাহ

শিরোইল, রাজশাহী।

উত্তর : মসজিদ ছাড়া যে কোন নির্ধারিত স্থানে ঈদের ছালাত আদায় করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদে নববীর পূর্ব দরজার বাইরে ৫০০ গজ দূরে ‘বাত্বহান’ প্রান্তরে ঈদায়নের ছালাত আদায় করতেন (মির‘আত ২/৩২৭; ঐ, ৫/২২; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৭)। মানুষ চলাচলের রাস্তায় ঈদ বা জানাযার ছালাত আদায় করা অপসন্দনীয়। তবে চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি না হ’লে বাধা নেই। কারণ পৃথিবীর সকল মাটিই পবিত্র ও সিজদার স্থান’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪৭)

মসজিদ সহ যে কোন স্থানে জানাযার ছালাত আদায় করা যায়। সোহাইল ইবনে বায়যা (রাঃ)-এর জানাযা মসজিদে আদায় করা হয়েছিল (মুসলিম হা/৯৭৩; আবুদাঊদ হা/৩১৯০)। আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর জানাযাও মসজিদের ভিতরে হয়েছিল (বায়হাক্বী ৪/৫২ পৃঃ)। মসজিদে জানাযার ছালাত আদায় করলে নেকী হয় না মর্মে হাদীছটি যঈফ (আবুদাঊদ হা/৩১৯১; তারাজু‘আতুল আলবানী হা/৬০, ১/১০৪)

প্রশ্ন (৬/৩৬৬): আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করতে হবে। এ মর্মে কুরআন বা হাদীছের সরাসরি কোন দলীল আছে কি?

-আবুবকর, রাজশাহী

উত্তর : পবিত্র কুরআনের শুরুতেই আল্লাহকে না দেখে গায়েবে বিশ্বাসকে মুত্তাক্বীদের অন্যতম গুণ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে (বাক্বারাহ ২/৩)। তিনি অন্যত্র বলেন, নিশ্চয়ই যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় পুরস্কার (মুলক ৬৭/১২)। হাদীছে জিবরীলে ঈমান সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, ঈমান হচ্ছে আল্লাহকে বিশ্বাস, ফেরেশতাকে বিশ্বাস ইত্যাদি বলার পর ইহসান-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তুমি আল্লাহর ইবাদত কর এমনভাবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ (অর্থাৎ তিনি অদৃশ্যে আছেন, তাঁকে দেখা যায় না) (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২)

প্রশ্ন (৭/৩৬৭): কারণবশতঃ মোহর বাকী রাখা যাবে কি? জনৈক ব্যক্তি বললেন, মোহর বাকী থাকলে সন্তান অবৈধ হবে।

-নূরুল ইসলাম

নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : মোহর বাকী রাখা যায়। তবে সেটা ঋণের অন্তর্ভুক্ত। তাই তা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করা কর্তব্য। মোহর বাকী থাকলে সন্তান অবৈধ হবে একথা ঠিক নয়। কেননা বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মোহর পরিশোধ করা শর্ত নয়। রাসূল (ছাঃ) একজন ব্যক্তিকে বললেন, অমুক মহিলার সাথে তোমাকে বিবাহ দিব তুমি কি রাযী? সে বলল, হ্যাঁ। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, অমুক ব্যক্তির সাথে তোমাকে বিবাহ দিব তুমি কি রাযী? মহিলা বলল, হ্যাঁ। তিনি তাদের বিবাহ দিলেন। কিন্তু কোন মোহর নির্ধারণ করলেন না এবং মহিলাকে কিছু দিলেন না। ঐ ব্যক্তি হোদায়বিয়ার ছাহাবী ছিলেন। পরে তিনি খায়বরের গণীমতের অংশ পান। এ সময় তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হ’লে তিনি বলেন, স্ত্রীর জন্য আমার কোন মোহর নির্ধারিত ছিল না। এক্ষণে আমি আমার খায়বরের প্রাপ্ত অংশ তাকে মোহর হিসাবে দান করলাম। যার মূল্য ছিল এক লক্ষ দিরহাম’ (আবুদাঊদ হা/২১১৭)। নবী করীম (ছাঃ) একদা মোহর বাকী রেখে এক ব্যক্তির বিবাহ দেন এবং কুরআন শিক্ষাদানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তা আদায় করতে বলেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩২০২)। তবে সমাজে মৃত্যুর সময় স্ত্রীর নিকট থেকে মোহর মাফ করিয়ে নেওয়ার যে প্রচলন রয়েছে, তা চরম অন্যায় ও প্রতারণাপূর্ণ। এ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে এবং হাতে অর্থ এলেই সর্বাগ্রে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করতে হবে।

প্রশ্ন (৮/৩৬৮): দেশের অবস্থা অনুযায়ী সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন কাজে নিরুপায় হয়ে ঘুষ প্রদান করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কি?

- ইঞ্জিঃ সাইজুদ্দীন,

দিনাজপুর।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার উপর লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৫৩)। অতএব কষ্টকর হলেও ঘুষ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ঘুষ দেওয়া ছাড়া নিজের বৈধ হক আদায়ে একান্ত নিরুপায় হলে দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঘুষগ্রহীতাই পাপের বোঝা বহন করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)। ইবনু হাযম (রহঃ) বলেন, যাকে তার হক থেকে বঞ্চিত করা হয়, তার জন্য যুলুমকে প্রতিহত করার জন্য অর্থ প্রদান করা মুবাহ। তবে এক্ষেত্রে গ্রহণকারী হবে মহাপাপী (মুহাল্লা ৮/১১৮ মাসআলা নং ১৬৩৮)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, গ্রহণকারীর জন্য এটি হারাম এবং দাতার জন্য যুলুম প্রতিরোধের স্বার্থে জায়েয’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩১/২৮৬)। তবে যতদূর সম্ভব এ ব্যতীত অন্য কোন বৈধ উপায় অবলম্বন করা তাক্বওয়াশীল মুমিনের জন্য কর্তব্য।

প্রশ্ন (৯/৩৬৯) : আমাদের গ্রামের মসজিদে জুম‘আর দিন সকল মুছল্লীকে খাওয়ানো হয়। এটা অধিকাংশ মানত করেই করে থাকে। শরী‘আতে এর বিধান কি?

-মুখলেছুর রহমান, রাজশাহী।

উত্তর : মানত মানুষের নিয়তের উপর নির্ভর করে। মসজিদের মুছল্লীগণকে খাওয়ানোর মানত করলে সকলেই খেতে পারে। আর যদি কেবল ফকীর-মিসকীনকে খাওয়ানোর নিয়ত থাকে, তবে কেবল তারাই খাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কসম মানুষের নিয়তের উপর নির্ভর করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪১৬)। সুতরাং যখন যেভাবে মানত করবে তখন সেভাবে বাস্তবায়ন করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যদি কেউ আল্লাহর আনুগত্যপূর্ণ কাজের মানত করে, তবে সে যেন তা পূর্ণ করে এবং পাপের কাজে মানত করলে যেন তা পূর্ণ না করে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৩৪২৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা মানত করো না। মানত আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে না। এটি কৃপণের সম্পদ থেকে কিছু অংশ বের করে আনে মাত্র’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪২৬)

প্রশ্ন (১০/৩৭০) : একটি কিতাবে লেখা আছে যে, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) যখন ‘কাশফে’ থাকতেন, তখন তিনি ওযূর পানির সাথে গুনাহ ঝরতে দেখতেন। তাই কাশফে থাকাকালীন ওযূর পানি নাপাক বলে ফৎওয়া দিতেন। প্রশ্ন হ’ল, ‘কাশফ’ কি ? এটা কি শরী‘আতের কোন দলীল? এরূপ কথাবার্তায় যারা বিশ্বাস রাখে তারা কোন আক্বীদার অনুসারী?

-তালহা খালেদ

দাম্মাম, সঊদীআরব।

উত্তর : প্রথমতঃ ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে এরূপ ভিত্তিহীন ঘটনা উল্লেখ করে তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। কেননা তাঁর থেকে এরূপ কোন কিছুই বিশ্বস্ত সূত্রে প্রমাণিত নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কাউকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/৩০২৯; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১২৮৩)। এমনকি রাসূল (ছাঃ)-এর নিজের ব্যাপারেও অতিরঞ্জন করা নিষিদ্ধ (বুখারী হা/৩৪৪৫; মিশকাত হা/৪৮৯৭)। দ্বিতীয়তঃ কাশ্ফ অর্থ আল্লাহ কর্তৃক তার কোন বান্দার নিকট অহী মারফত এমন কিছুর জ্ঞান প্রকাশ করা যা অন্যের নিকট অপ্রকাশিত। আর এটি একমাত্র নবী-রাসূলগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী। তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না’। ‘তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। তিনি তার (অহীর) সম্মুখে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন’ (জিন ৭২/২৬-২৭)। এখানে ‘রাসূল’ বলতে জিবরীল ও নবী-রাসূলগণকে বুঝানো হয়েছে। তবে কখনও কখনও রীতি বহির্ভূতভাবে অন্য কারু নিকট থেকে অলৈাকিক কিছু ঘটতে পারে বা প্রকাশিত হতে পারে। যেমন ছাহাবী ও তাবেঈগণ থেকে হয়েছে। অতএব এরূপ যদি কোন মুমিন থেকে হয়, তবে সেটা হবে কারামত, অর্থাৎ আল্লাহ্ তাকে এর দ্বারা সম্মানিত করেছেন। আর যদি কাফির থেকে ঘটে, তবে সেটা হবে ফিৎনা। অর্থাৎ এর দ্বারা আল্লাহ তার পরীক্ষা নিচ্ছেন যে, সে তার কুফরী বৃদ্ধি করবে, না তওবা করে ফিরে আসবে। কারামাত শরী‘আতের কোন দলীল নয় এবং আল্লাহর অলী হওয়ার কোন নিদর্শনও নয়। বস্ত্ততঃ মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় দলীল হ’ল কুরআন ও সুন্নাহ। অন্য কিছু নয়।

প্রশ্ন (১১/৩৭১) : রাসূল (ছাঃ)-এর ১১টি বিবাহের পিছনে তাৎপর্য কি ছিল? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-শরীফুল ইসলাম, পাবনা।

উত্তর : প্রথমতঃ ৪টির অধিক বিবাহের অনুমতি কেবল রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য খাছ। এ অনুমতি আল্লাহ পাক স্রেফ তাঁর রাসূলকে দিয়েছিলেন। অন্য কোন মুসলিমের জন্য নয় (আহযাব ৩৩/৫০)। উম্মতের জন্য কোনরূপ প্রশ্ন ছাড়াই আল্লাহর বিধান অনুসরণ করা অবশ্যক।

দ্বিতীয়তঃ জানা আবশ্যক যে, ২৫ বছরের টগবগে যৌবনে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) প্রথম বিবাহ করেন পরপর দুই স্বামী হারা বিধবা ও চার সন্তানের মা ৪০ বছরের প্রায় বিগত যৌবনা একজন প্রোঢ়া নারীকে। এই স্ত্রীর মৃত্যুকাল অবধি দীর্ঘ ২৫ বছর তিনি তাকে নিয়েই ঘর-সংসার করেছেন। অতঃপর ৫০ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আর এক ৫০ বছর বয়সী কয়েকটি সন্তানের মা বিধবা মহিলা সাওদাকে নিতান্তই সাংসারিক প্রয়োজনে। এরপর মদীনায় হিজরতের পর মাদানী জীবনের দশ বছরে বিভিন্ন বাস্তব কারণে ও নবুঅতী মিশন বাস্তবায়নের মহতী উদ্দেশ্যে আল্লাহর হুকুমে তাঁকে আরও কয়েকটি বিবাহ করতে হয়। যেমন (১) শত্রু দমনের স্বার্থে ৪র্থ হিজরীতে উম্মে সালামাকে বিবাহ করেন। একই উদ্দেশ্যে ৫ম হিজরীতে জুওয়াইরিয়াহ বিনতুল হারেছকে বিবাহ করেন। ৭ম হিজরীতে ছাফিয়াহ বিনতে হুয়াই বিন আখত্বাবকে বিবাহ করেন। (২) ইসলামী বন্ধন দৃঢ়করণের স্বার্থে। যেমন হযরত আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর দুই মেয়েকে বিবাহ করা। (৩) সামাজিক কুপ্রথা দূরীকরণের স্বার্থে। যেমন পালিতপুত্র যায়েদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যয়নবকে বিয়ে করা প্রভৃতি  (এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা দেখুন : আত-তাহরীক মে’১২ সংখ্যায় নবীদের কাহিনী প্রবন্ধে)। সর্বোপরি বিষয়টি সম্পূর্ণ আল্লাহ তা‘আলার হুকুমেই হয়েছিল। অতএব এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই।

প্রশ্ন (১২/৩৭২) : রাজতন্ত্রের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কি? রাজার পরিবার থেকে পরবর্তীতে রাজা হতে পারবে না এরূপ কোন নিষেধাজ্ঞা শরী‘আতে আছে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

ঢাকা।

উত্তর : রাজা যদি আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করেন এবং ইসলামী শরী‘আত অনুযায়ী রাজ্যশাসন করেন, তাহ’লে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তার অনুকূলে। উক্ত নীতির অনুসরণ করলে বংশপরম্পরায় রাজা হওয়ায় কোন আপত্তি নেই। তার পরিবার থেকে রাজা হ’তে পারবে না, এরূপ কোন নিষেধাজ্ঞা শরী‘আতে নেই। অন্যদিকে পশ্চিমা গণতন্ত্রে মৌলিক ভিত্তিই হ’ল ধর্মহীনতা। যা মৌলিকভাবেই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এবং আল্লাহর বিধানসমূহকে অস্বীকার করে। ইসলামী রাষ্ট্রনীতিতে যার অনুমোদন নেই (মায়েদাহ ৫/৪৪)। সাথে সাথে সমাজের প্রত্যেককে ক্ষমতার প্রতি লালায়িত করে তোলে। অথচ ক্ষমতা চেয়ে নেওয়া শরী‘আতে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৮০, ৩৬৮৩)

প্রশ্ন (১৩/৩৭৩) : আল্লাহ তা‘আলা যে ব্যক্তিকে যে স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, তার কবর সে স্থানেই হবে। কথাটির কোন সত্যতা আছে কি?

-আব্দুর রাযযাক

কাহারোল, দিনাজপুর।

উত্তর : প্রশ্নে উল্লিখিত বক্তব্য ভিত্তিহীন। তবে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন যেখানে যার মৃত্যু নির্ধারিত আছে, আল্লাহ্ তার জন্য সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন (তিরমিযী, মিশকাত হা/১১০)

প্রশ্ন (১৪/৩৭৪) : শরীরের কোন অঙ্গহানি হলে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন বা পোকা লাগা দাঁত তুলে কৃত্রিম দাঁত সংযোজনে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান

তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : মানুষ চিকিৎসার্থে বা কোন দোষ-ক্রটি দূরীকরণার্থে এরূপ করে থাকলে তাতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। আরফাজা বিন আস‘আদ (রাঃ) (জাহেলী যুগে) কুলাব যুদ্ধে নাক হারালে তিনি সেখানে রূপার তৈরী একটি নাক লাগান। কিন্তু তাতে দুর্গন্ধ দেখা দিলে রাসূল (ছাঃ) তাকে স্বর্ণের নাক সংযোজনের নির্দেশ দেন (তিরমিযী, আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৪০০ সনদ হাসান)। ইমাম তিরমিযী বলেন, অত্র হাদীছের ভিত্তিতে অনেক বিদ্বান স্বর্ণের দাঁত লাগানো জায়েয বলেন (তিরমিযী হা/১৭৭০)

প্রশ্ন (১৫/৩৭৫) : ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী... দো‘আটি ছালাতের কোন স্থানে পড়া যাবে?

-নূর হোসাইন,

শঠীবাড়ী, লালমণিরহাট।

উত্তর : উক্ত দো‘আটি ছানা হিসাবে তাকবীরে তাহরীমার পর পড়া যাবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৮১৩)

[‘নূর হুসাইন’ অর্থ ‘হুসাইনের জ্যোতি’। এরূপ নাম রাখা ঠিক নয়। অতএব নাম পাল্টিয়ে ‘আব্দুন নূর’ রাখা উচিত (স.স.)]

প্রশ্ন (১৬/৩৭৬) : যে সকল স্ত্রী তাদের স্বামী ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে করে, শরী‘আতে তাদের বিধান কি?

-মশীউর রহমান

রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী।

উত্তর : স্বামী থাকতে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। যে নারী এরূপ করবে সে ব্যভিচারিণী হিসেবে গণ্য হবে। আর বিবাহিত ব্যভিচারী নারী বা পুরুষের বিধান হ’ল, পাথর মেরে তাকে হত্যা করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৫৫৭ ‘দন্ডবিধিসমূহ’ অধ্যায়)। যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের।

প্রশ্ন (১৭/৩৭৭) : আমার আত্মীয়-স্বজন ছালাত ছিয়াম আদায় করে না। এ ব্যাপারে কিছু বললে বিরূপ মন্তব্য করে। এমতাবস্থায় তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে কি? অথবা তাদের বিপদে সাহায্য না করলে গুনাহগার হতে হবে কি?

-আনারুল বাশীর

গল্লামারী, খুলনা।

উত্তর : সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা মুসলিম উম্মাহর উপর ফরয। আত্মীয়-স্বজন বিরূপ মন্তব্য করলেও ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং বাহ্যিক সম্পর্ক রেখে দাওয়াত দিয়ে যেতে হবে। তাদের বিপদে সাহায্য করতে হবে। সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। কারণ তাতে দাওয়াত প্রদানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। রাসূল (ছাঃ) তাঁর আত্মীয় তায়েফবাসীদের পক্ষ থেকে চরম নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি বরং তাদের মধ্যে দাওয়াত অব্যাহত রেখেছিলেন (বুখারী হা/৩২৩১, মুসলিম হা/১৭৯৫, মিশকাত হা/৫৮৪৮)। 

প্রশ্ন (১৮/৩৭৮) : তাবলীগ জামা‘আতের একটি বইতে লেখা আছে, বেহেশতে আয়না নামক একটি হূর থাকবে, যার ৭০ হাযার সেবিকা, ৭০ হাযার পোষাক ও ৭০ হাযার সুগন্ধি থাকবে। এছাড়া তার আরো অনেক বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। এর কোন ভিত্তি আছে কি?

-আরীফুল ইসলাম

ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : এ বর্ণনার কোন ভিত্তি নেই। ইমাম কুরতুবী স্বীয় কিতাবে কোন সনদ ছাড়াই আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে এর কাছাকাছি একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন (কুরতুবী, আত-তাযকেরাহ পৃঃ ৯৮৫)। তাছাড়া ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে এরূপ আরেকটি বর্ণনা বিভিন্ন হাদীছ গ্রন্থে এসেছে, যা মওযূ বা জাল (ইবনু খুযায়মা, যঈফ তারগীব হা/৫৯৬)। অতএব এসব বই পড়া থেকে নিজেকে দূরে রাখা উচিৎ।

প্রশ্ন (১৯/৩৭৯) : ছালাতের সময় টুপি বা পাগড়ী পরা কি যরূরী? না পরলে সুন্নাতের খেলাফ হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আনীসুর রহমান

ভাতগ্রাম, সাদুল্যাপুর, গাইবান্ধা।

উত্তর : যরূরী নয়। কিন্তু এটি রাসূল (ছাঃ)-এর অভ্যাসগত সুন্নাত (যাদুল মা‘আদ ১/১৩০)। আর তা না করাটা উক্ত সুন্নাতের বরখেলাফ। মস্তকাবরণ ব্যবহার করা উত্তম পোষাকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বলেন, তোমরা ছালাতের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর’ (আ‘রাফ ৭/৩১)। উল্লেখ্য যে, পাগড়ী পরা কিংবা টুপিসহ পাগড়ী পরার ফযীলত সম্পর্কে যে সব হাদীছ বর্ণিত হয়েছে সেগুলি সবই ‘যঈফ’ ও জাল (দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৪র্থ সংস্করণ পৃঃ ৪৭-৪৯)

প্রশ্ন (২০/৩৮০) : জনৈক আলেম বলছেন, স্ত্রীর দুধপান করলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সঠিক মত কি?

-আব্দুল মুমিন

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : স্ত্রীর দুধপান করলে উক্ত স্ত্রী হারাম হবে না। কেননা হারাম হওয়ার জন্য দু’বছর বয়সের মধ্যে দুধপান করা শর্ত (তিরমিযী হা/১১৫২)। তবে উক্ত দুধের প্রকৃত হকদার হ’ল সন্তান। সুতরাং স্বামী তা পান থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে।

প্রশ্ন (২১/৩৮১) : তারজী‘ আযান দেওয়ার পদ্ধতি কি? তারজী‘ সহ আযান দেওয়া উত্তম না তারজী‘ বিহীন উত্তম?

-ছিদ্দীকুর রহমান

ধানতৈড়, তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : তারজী‘ অর্থ ‘পুনরুক্তি’। আযানের মধ্যে দুই শাহাদাত কালেমাকে প্রথমে দু’বার করে মোট চারবার নিম্নস্বরে, পরে দু’বার করে মোট চারবার উচ্চৈঃস্বরে বলাকে তারজী‘ বা পুনরুক্তির আযান বলা হয় (আবুদাঊদ হা/৫০০, ৫০৩; মিশকাত হা/৬৪৫)। তারজী‘ সহ ও তারজী‘ বিহীন দু’ভাবে আযান দেওয়াই সুন্নাত। অতএব দু’টির উপরেই আমল করা যাবে (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ৭৪)

প্রশ্ন (২২/৩৮২) : সূরা রহমানের ৭২ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীর ইবনে কাছীরে  জান্নাতে ৬০ মাইল ও ৩০ মাইল প্রশস্ততা বিশিষ্ট তাঁবু থাকবে বলা হয়েছে। দু’টির মধ্যে সমন্বয় কি?

-আতীক রণি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : উক্ত তাঁবুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিমে ৬০ ও ৩০ উভয় বর্ণনা এসেছে। এর ব্যাখ্যায় মানাবী বলেন, জান্নাতে মুমিনগণের মর্যাদার কমবেশীর কারণে তাদের তাঁবুর প্রশস্ততা ও উচ্চতা কমবেশী করা হবে (ছহীহুল জামে‘ হা/২১৮২-এর ব্যাখ্যা; মানাবী, ফায়যুল ক্বাদীর শরহ জামে‘ ছাগীর হা/২৩৯০, ২/৫০২ পৃঃ)

প্রশ্ন (২৩/৩৮৩) : অনেক আলেমকে দেখা যায় তারা অন্য আলেমের ভুল-ত্রুটি জনগণের সামনে তুলে ধরেন, যাতে মানুষ তাদের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকতে পারে। তাতে অন্যেরা বলে থাকেন যে, উনি মানুষের গীবত করেন। সুতরাং ইনি নিজেই তো পাপী। এক্ষণে শরী‘আতে এরূপ গীবতের বিধান কি তা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-তালহা

দাম্মাম, সঊদী আরব।

উত্তর : ওলামায়ে কেরাম জনগণের মাঝে ধর্মীয় দিক-নির্দেশনা দানের ক্ষেত্রে মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাই তাঁদের পক্ষ থেকে কোন শিরক ও বিদ‘আতী আমল জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তা চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরূপ আলেমদের সংশোধন করা এবং তাদের থেকে জনগণকে সতর্ক করা হকপন্থী ওলামায়ে কেরামের অন্যতম কর্তব্য। এতে তিনি বরং নেকীর হকদার হবেন। এছাড়া ছয়টি ক্ষেত্রে গীবত হয় না। যার একটি হ’ল, কেউ কোন পাপ ও বিদ‘আতে লিপ্ত হলে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে(মুসলিম হা/২৫৮৯ ‘গীবত হারাম হওয়া’ অনুচ্ছেদ, নববীর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। তবে এক্ষেত্রে ভুল সংশোধনকারীর জন্য কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, (১) সমালোচনা স্রেফ ইছলাহের উদ্দেশ্যে হ’তে হবে। (২) পরস্পরের সম্মানের প্রতি খেয়াল রেখে বিনীতভাবে সুন্দর ভাষায় বলতে হবে এবং (৩) আল্লাহর নিকট ছওয়াবের আশায় খালেছ নিয়তে করতে হবে।

প্রশ্ন (২৪/৩৮৪) : ছাহাবায়ে কেরামের সকল ফৎওয়াই কি অনুসরণযোগ্য? ছাহাবায়ে কেরামের মাঝে বিভিন্ন ফৎওয়ার ক্ষেত্রে বিভক্তি দেখা যায়। সেক্ষেত্রে যে কারো মত অনুসরণ করলেই কি যথেষ্ট হবে? এছাড়া তাদের জীবনযাপন রীতিও কি অনুসরণযোগ্য?

-রফীক

নওদাগ্রাম, যশোর।

উত্তর : ছাহাবায়ে কেরামের মাঝে আক্বীদাগত কোন মতভেদ নেই। বরং সামান্য কিছু ব্যাখ্যাগত মতভেদ দেখা যায়। এক্ষেত্রে একটাই পথ হ’ল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরে যাওয়া (নিসা ৪/৫৯) এবং রাসূল (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে হাতে-দাঁতে কামড়ে ধরা (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৬৫) এবং সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী শরী‘আতের ব্যাখ্যা করা। আর তাদের মাঝে ব্যাখ্যাগত মতভেদের ক্ষেত্রে জমহূর সালাফের ব্যাখ্যা গ্রহণ করাই উচিৎ হবে। জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ)-ই কেবল অনুসরণযোগ্য। তবে সালাফে ছালেহীনের জীবন থেকে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রশ্ন (২৫/৩৮৫) : রামাযান মাসে ওমরাহ করার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? প্রতি বছর ওমরাহ করায় কোন বাধা আছে কি?

-সাইফুল ইসলাম

কাজলা, রাজশাহী।

উত্তর : রামাযান মাসে ওমরাহ করলে হজ্জের সমান নেকী পাওয়া যায় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৫০৯)। প্রতি বছর ওমরা করা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এক ওমরাহ থেকে পরবর্তী ওমরা-এর মধ্যবর্তী সকল (ছগীরা) গোনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ হয় (বুখারী; মুসলিম; মিশকাত হা/২৫০৮)। ছাহাবীগণের জীবন থেকে বছরে বহুবার ওমরাহ করার প্রমাণ পাওয়া যায় (আওনুল মা‘বূদ)। তবে নফল হজ্জ ও ওমরাহ না করে উক্ত অর্থ আল্লাহর রাস্তায় প্রচেষ্টাকারীদের এবং দরিদ্র ও অসহায় পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও ইয়াতীমদের সাহায্যে ব্যয় করা অধিক উত্তম (ফাতাওয়া ওছায়মীন, ২১/২৮ পৃঃ; মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১৬/৩৭১)

প্রশ্ন (২৬/৩৮৬) : ত্বাওয়াফরত অবস্থায় ওযূ ভেঙ্গে গেলে করণীয় কি? দলীল ভিত্তিক জবাবদানে বাধিত করবেন।

-মাহদী হাসান

ভবানীপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : এমতাবস্থায় ওযূ করে পুনরায় তাওয়াফ করা উত্তম। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছালাতের মতই। কিন্তু তাতে তোমরা কথা বলতে পারো (তিরমিযী হা/৯৬০; মিশকাত হা/২৫৭৬)। তবে ওযূ অবস্থায় ত্বাওয়াফ শুরু করে মাঝখানে ওযূ টুটে গেলে এবং ভিড়ের কারণে ওযূ করা কষ্টকর হ’লে ঐ অবস্থায় ত্বাওয়াফ শেষ করবেন, পুনরায় ক্বাযা করতে হবে না (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৭/৩০০; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৬/২১১-১৩)। এরূপ অবস্থায় শেষের দু’রাক‘আত নফল ছালাত পুনরায় ওযূ করে হারামের যেকোন স্থানে পড়ে নিবেন (দ্রঃ হজ্জ ও ওমরাহ ৪র্থ সংস্করণ পৃঃ ৬৩)

প্রশ্ন (২৭/৩৮৭) : ছিয়াম অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন গ্রহণের বিধান কি? বিশেষতঃ যাদের দিনে কয়েকবার গ্রহণের প্রয়োজন হয়।

- আব্দুল হাদী

চকউলী, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : ইনসুলিন গ্রহণ করা ছিয়াম ভঙ্গের কারণ নয়। কেননা এটা কোন খাদ্য নয়। তবে রাতে তা গ্রহণ করলে যদি কোন দৈহিক ক্ষতির আশংকা না থাকে, তবে সেটা করাই উত্তম (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/২৫২; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৬/২৫২-৫৪)

প্রশ্ন (২৮/৩৮৮) : ঈদের রাত্রিতে সারারাত ইবাদত করার কোন বিশেষ ফযীলত আছে কি?

-আব্দুর রহমান, পাংশা, রাজবাড়ী।

উত্তর : বিশেষ কোন ফযীলত ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি মওযূ‘ বা জাল (ইবনু মাজাহ হা/১৭৮২; যঈফাহ হা/৫২১, ৫১৬৩)

প্রশ্ন (২৯/৩৮৯) : ছালাতে ক্বওমা, রুকূ, সিজদা ও তাশাহহুদের সময় দৃষ্টি কোন দিকে রাখতে হবে? আশে-পাশে বা আসমানের দিকে দৃষ্টি দিলে ছালাত ত্রুটিপূর্ণ হবে কি?

-আব্দুর রাকীব

কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : ছালাতের সময় সিজদার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখাই সুন্নাত (হাকেম হা/১৭৬১, আলবানী, ছিফাতু ছালা-তিন্নবী পৃঃ ৬৯)। তবে তাশাহহুদের সময় দৃষ্টি থাকবে ইশারার দিকে (আবুদাঊদ হা/৯৯০, মিশকাত হা/৯১২)। ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিনা কারণে আশেপাশে দৃষ্টি দিলে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বান্দা (ছালাতরত অবস্থায়) যতক্ষণ পর্যন্ত আশেপাশে দৃষ্টিপাত না করে, আল্লাহ তার প্রতি মনোনিবেশ করে থাকেন। যখন আশেপাশে তাকায় তখন আল্লাহ দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন (আহমাদ, হাকেম, আবুদাঊদ হা/৯০৯-১০; ছহীহাহ হা/১৫৯৬; মিশকাত হা/৯৯৫)। তিনি বলেন, যারা ছালাতের মধ্যে দো‘আর সময় আকাশের দিকে দৃষ্টি উঠায়, তারা হয় তাদের এই কাজ থেকে বিরত হবে, না হয় তাদের চোখের জ্যোতি কেড়ে নেয়া হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৯৮৩)

প্রশ্ন (৩০/৩৯০) : রাসূল (ছাঃ)-এর মোট কতবার বক্ষবিদারণ হয়েছিল? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-সাইফুদ্দীন খালেদ

পটুয়াখালী, বরিশাল।

উত্তর : দু’বার রাসূল (ছাঃ)-এর বক্ষবিদারণের ঘটনা ঘটে। (১) দুধমা হালীমার নিকটে ৪ বা ৫ বছর বয়সে (মুসলিম হা/১৬২, আনাস (রাঃ) হ’তে; মিশকাত হা/৫৮৫২)। (২) হিজরতের পূর্বে মেরাজে গমনকালে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮৬৪)। এছাড়া আরো কিছু বর্ণনা রয়েছে, যেগুলির সূত্র দুর্বল (আকরাম যিয়া উমরী, সীরাহ নববিইয়াহ ছহীহাহ ১/১০৩)

প্রশ্ন (৩১/৩৯১) : আমরা জানি ছালাতে সতর ঢাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু গৃহে ছালাত আদায়ের সময় অনেক মহিলাকে দেখা যায় তাদের পা, মাথা, পেট ইত্যাদির কিছু কিছু অংশ অনাবৃত থাকে। এভাবে আদায় করলে ছালাত কবুল হবে কি?

-হাতেম আলী

ইংরেজী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : মহিলাদের সর্বাঙ্গ সতরের অন্তর্ভুক্ত দুই হাতের তালু ও চেহারা ব্যতীত (আবুদাঊদ হা/৪১০৪; মিশকাত হা/৪৩৭২)। গৃহকক্ষ নিজেই পর্দা। তবুও সেখানে সাধ্যমত সর্বাঙ্গ ঢেকে ছালাত আদায় করবে। অনিচ্ছাকৃত অসাবধানতা ক্ষমার্হ। আল্লাহ বলেন, তোমরা সাধ্যমত আল্লাহ্কে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)। উক্ত অবস্থায় তার ছালাত কবুল হওয়ায় কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (৩২/৩৯২) : প্রবাস থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে জানাযায় অংশগ্রহণ করা যাবে কি?

-মাযহার হোসাইন

ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক, আমেরিকা।

উত্তর : জামা‘আতে ছালাত আদায়ের জন্য স্থানিক ঐক্য থাকা যরূরী। পৃথক পৃথক স্থানে অবস্থানকারী মুছল্লীগণ একজন ইমামের নেতৃত্বে ছালাত আদায় করেছেন, এরূপ কোন প্রমাণ রাসূল (ছাঃ) থেকে পাওয়া যায় না। সুতরাং মোবাইলে প্রবাস থেকে এরূপ অংশগ্রহণ শরী‘আতসম্মত হবে না। উপরন্তু জানাযার ছালাত ফরযে কিফায়াহ। কিছু লোক আদায় করলে সকলের জন্য যথেষ্ট হয়। সুতরাং তাতে অংশগ্রহণ করতেই হবে এরূপ কোন বাধ্যবাধকতা নেই। বরং প্রবাস থেকে মৃতের জন্য প্রাণ খুলে দো‘আ করবেন, আল্লা-হুম্মাগফির লাহূ ওয়ারহামহু... (হে আল্লাহ! তুমি তাঁকে ক্ষমা কর ও তার উপর রহম কর) ইত্যাদি বলে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৬৫৫)

প্রশ্ন (৩৩/৩৯৩) : নূহ (আঃ)-এর সময়ে যে মহাপ্লাবন সংঘটিত হয়েছিল তা কি সারা বিশ্বব্যাপী হয়েছিল, না কেবল তাঁর কওমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল?

-রবীউল ইসলাম

কামারপাড়া, মাগুরা।

উত্তর : নূহ (আঃ)-এর সময়ে যে মহাপ্লাবন সংঘটিত হয়েছিল সেটি ছিল সারা বিশ্বব্যাপী। প্লাবনের পর তাঁর সাথে নৌকারোহী মুমিন নর-নারীদের মাধ্যমে পৃথিবীতে নতুনভাবে আবাদ শুরু হয়। এ কারণে তাঁকে ‘মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা’ বলা হয়। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে সাড়ে নয় শত বৎসর দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার পরও ইবনে আববাস (রাঃ) এর বর্ণনা অনুযায়ী মাত্র ৮০ জন নারী-পুরুষ ঈমান গ্রহণ করেন (কুরতুবী, ইবনু কাছীর, হূদ ৪০ আয়াতের ব্যাখ্যা)। অতঃপর তিনি আল্লাহর দরবারে এই প্রার্থনা করেন- ‘হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে বসবাসকারী কাফির কোন গৃহবাসীকে তুমি রেহাই দিয়ো না’ (নূহ ৭১/২৬)। তাঁর এ দো‘আই সমস্ত পৃথিবীব্যাপী মহাপ্লাবনের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রশ্ন (৩৪/৩৯৪) : আমার খালাতো ভাই আমাদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে শেয়ারবাজারে খাটিয়েছিল। কিন্তু তার অনেক ক্ষতি হওয়ায় এখন সে উক্ত টাকা ফেরত দিতে অক্ষম। এক্ষণে উক্ত অর্থের যাকাত দিতে হবে কি?

-আব্দুল্লাহ তাওকীর, ডেমরা, ঢাকা।

উত্তর : উক্ত অর্থ করায়ত্ত হওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলে যাকাত দিবে (মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছাইমীন, শারহুল মুমতে‘ ৬/২৭ পৃঃ)

প্রশ্ন (৩৫/৩৯৫) : ছিয়াম অবস্থায় মযী নির্গত হ’লে বা নাকে পানি প্রবেশ করলে ছিয়াম ভেঙ্গে যাবে কি?

-আব্দুল হাসীব,

গাবতলী, বগুড়া।

উত্তর : এগুলো ছিয়াম ভঙ্গের কারণ নয়। তবে রাসূল (রাঃ) ছিয়াম অবস্থায় নাকে এমনভাবে পানি নিতে নিষেধ করেছেন, যাতে ভিতরে পানি প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪০৫)। অনিচ্ছাকৃত প্রবেশে ছিয়াম ভঙ্গ হবে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০০৩)

প্রশ্ন (৩৬/৩৯৬) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁকে আয়েশা (রাঃ)-এর ঘরের একপার্শ্বে দাফন করা হয়। আর তিনি আরেক পাশে বসাবস করতে থাকেন। এর সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-ডা. বযলুর রশীদ

চন্ডিপুর, যশোর।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-কে আয়েশা (রাঃ)-এর গৃহে দাফন করা হয়েছিল তা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (তিরমিযী হা/১০১৪; মিশকাত হা/৫৯৬২)। তবে তাঁর গৃহে দুটি অংশ ছিল। একটিতে তিনি বসবাস করতেন। অপরটিতে কবর ছিল। উভয়ের মাঝে দেওয়াল ছিল (ইবনে সা‘দ, তাবাকাতুল কুবরা ২/২২৪; উমদাতুল ক্বারী ৮/২২৭)

প্রশ্ন (৩৭/৩৯৭) : রাফঊল ইয়াদায়েন মানসূখ হওয়ার কোন দলীল আছে কি?

-ইসরাফীল,

শার্শা, যশোর।

উত্তর : রুকূতে যাওয়া ও রুকূ হ’তে ওঠার সময় ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন’ করা সম্পর্কে চার খলীফা সহ প্রায় ২৫ জন ছাহাবী থেকে বর্ণিত ছহীহ হাদীছ সমূহ রয়েছে। একটি হিসাব মতে ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন’-এর হাদীছের রাবী সংখ্যা ‘আশারায়ে মুবাশ্শারাহ’ সহ অন্যূন ৫০ জন ছাহাবী (ফাৎহুল বারী ২/২৫৮) এবং সর্বমোট ছহীহ হাদীছ ও আছারের সংখ্যা অন্যূন চার শত(সিফরুস সা‘আদাত ১৫ পৃঃ)। ইমাম বুখারী বলেন, কোন ছাহাবী রাফ‘উল ইয়াদায়েন তরক করেছেন বলে প্রমাণিত হয়নি। তিনি আরও বলেন ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন’-এর হাদীছ সমূহের সনদের চেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ আর নেই’ (ফাৎহুল বারী ২/২৫৭)

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাতের শুরুতে, রুকূতে যাওয়াকালীন ও রুকূ হ’তে  ওঠাকালীন সময়ে..... এবং ২য় রাক‘আত থেকে উঠে দাঁড়াবার সময় ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন’ করতেন’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, বুখারী, মিশকাত হা/৭৯৩-৯৪)। হাদীছটি বায়হাক্বীতে বর্ধিতভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘এভাবেই তাঁর ছালাত জারি ছিল, যতদিন না তিনি আল্লাহর সাথে মিলিত হন’। অর্থাৎ আমৃত্যু তিনি রাফ‘উল ইয়াদায়েন সহ ছালাত আদায় করেছেন। হাসান বছরী ও হামীদ বিন হেলাল বলেন, সকল ছাহাবী উক্ত তিন স্থানে রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন’। (বায়হাক্বী, মা‘রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার হা/৮১৩, ‘মুরসাল হাসান’ ২/৪৭২, দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১০৮-১১১)

এক্ষণে রাফঊল ইয়াদায়েন মানসূখ হয়েছে মর্মে আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর কর্তৃক বর্ণিত যে হাদীছটি পেশ করা হয় (বুখারী, ইন্ডিয়া ছাপা, ১/১০২ পৃঃ টীকা দ্রঃ; হেদায়া ১/১১১ পৃঃ), তা কোন হাদীছ গ্রন্থে পাওয়া যায় না। মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাদের ভাষ্যকার বলেন, ‘এই আছারের সন্ধান কোন মুহাদ্দিছ কোন হাদীছ গ্রন্থে পাননি (মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাদ, তাহকীক : ড. তাক্বিউদ্দীন নাদভী, হা/১০৪-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। বরং ইমাম বুখারী তার ‘জুয্উ রাফ‘উল ইয়াদায়েন’ পুস্তকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) রুকূতে যাওয়া ও রুকূ থেকে উঠার সময় রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন’ (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ; বুখারী, জুয্উ রাফ‘উল ইয়াদায়েন হা/১৬ ও ৫৭)

প্রশ্ন (৩৮/৩৯৮) : হযরত আবুবকর (রাঃ) সন্তানাদি থাকা সত্ত্বেও তার সম্পূর্ণ সম্পদ এবং ওমর (রাঃ) তার অর্ধেক সম্পদ দান করেছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন ছাহাবীর জীবনচরিতে দেখা যায়, মৃত্যুর পর তাদের খুবই সামান্য সম্পদ ছিল। এথেকে কি প্রমাণ হয় যে, পিতা তার সম্পদ যেভাবে ইচ্ছা দান করতে পারেন?

-ইঞ্জিঃ সাইজুদ্দীন

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : জিহাদের জন্য ছাহাবায়ে কেরামের এরূপ দান (তিরমিযী; মিশকাত হা/৬০২১) তাদের অসামান্য ত্যাগ ও ছবরের দৃষ্টান্ত বহন করে। বর্তমানেও যদি কোন ব্যক্তি ও তার পরিবার পরকালীন স্বার্থে এরূপ তাক্বওয়া ও ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে পারেন, তবে ছাহাবায়ে কেরামের ন্যায় এরূপ দান করতে কোন বাধা নেই। তবে সন্তানদের মধ্যে দান করার সময় সাধ্যমত সমতা বিধান করতে হবে (আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ হা/৩৫৪২)। আর মৃত্যুকালীন অছিয়ত করতে চাইলে সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশী দান করা যাবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৭১)

প্রশ্ন (৩৯/৩৯৯) : প্রবাসীগণ দেশে তাদের ফিতরা সমূহ বিতরণ করতে পারবে কি?

-রূহুল আমীন

বাঘা, রাজশাহী।

উত্তর : পারবেন। দেশে টাকা পাঠিয়ে বিশ্বস্ত কোন ব্যক্তি বা ইসলামী সংগঠনের মাধ্যমে ফিৎরার চাউল হকদারগণের মধ্যে বিতরণ করবেন। এতে কোন বাধা নেই (আলোচনা দ্রঃ মাজমূ‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ১৮/৩১৪; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৯/৩৬৯-৭০)

প্রশ্ন (৪০/৪০০) : মহিলারা দাওয়াতী কাজে বাড়ীর বাইরে যেতে পারবে কি?

-আল-আমীন

মধ্যহাতাশ, নওগাঁ।

উত্তর : সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ বিবেচনায় এবং স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে ইসলামী পর্দা সহকারে মহিলাগণ দ্বীনের কাজে বাড়ীর বাইরে যেতে পারেন। আল্লাহ স্বীয় রাসূলকে বলেন, ‘বল, এটাই আমার পথ। আহবান করি আল্লাহর দিকে আমি এবং আমার অনুসারীগণ জাগ্রত জ্ঞান সহকারে’ (ইউসুফ ১২/১০৮)। ‘অনুসারীগণ’ বলতে এখানে মুসলিম নারী ও পুরুষ উভয়কে বুঝানো হয়েছে। হযরত আয়েশা (রাঃ) হাদীছ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, আমরা আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করে তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান হাছিল করতাম’ (তিরমিযী, সনদ ছহীহ, হা/৬১৮৫)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সময়ে মুসলিম মহিলাগণ ৫ম হিজরীতে পর্দা ফরয হওয়ার আগে ও পরে পর্দার সঙ্গে দ্বীনের কাজে ও দুনিয়ার কাজে বাড়ীর বাইরে যেতেন। তারা যেমন মসজিদে ও ঈদের জামা‘আতে যোগদান করতেন। তেমনি বাজারে, ক্ষেতে-খামারে ও জিহাদেও গমন করতেন (বুখারী হা/৫২২৪,   মুসলিম হা/১৮১০)। অতএব দ্বীনী কাজে বিশেষ করে দ্বীন শিক্ষা করা বা দ্বীন শিক্ষা দেওয়া দু’টি কাজই পুরুষের ন্যায় মেয়েরা ঘরে বসে কিংবা প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘দ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুমিনের (পুরুষ ও নারী উভয়ের) উপর ফরয’ (ইবনু মাজাহ হা/২২৪, বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২১৮)। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়’ (বুখারী, মিশকাত হা/২১০৯)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা একটি আয়াত জানলেও তা আমার পক্ষ হ’তে অন্যকে পৌছে দাও’ (বুখারী, মিশকাত হা/১৯৮)

শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন, উপরোক্ত মর্মের আয়াত (ও হাদীছ) সমূহ পুরুষ ও নারী উভয়কে শামিল করে’ (মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ৭/৩২৫ পৃঃ)। তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ইয়ামনে ও অন্যান্য বহু গোত্রে দাঈদের প্রেরণ করতেন এবং এতে কোন বাধা ছিল না যে, তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে করে নিয়ে যেতেন’ (ঐ, ৯/২৯৫ পৃঃ)। এছাড়া শায়খ উছায়মীন, শায়খ আলবানীসহ অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন (আলবানী, সিলসিলা হুদা ওয়ান নূর, অডিও ফাইল নং ১৮৯, ফৎওয়া নং ১৮; উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, ‘ইলম’ অধ্যায়)

উল্লেখ্য যে, নারীর মূল দায়িত্ব হ’ল তার ঘরে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নারী তার স্বামীর গৃহের ও সন্তানদের দায়িত্বশীল। এজন্য সে আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৮৫)

অতএব মূল পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পর সময়-সুযোগ পেলে পর্দা-পুশিদা সহকারে দ্বীনের দাওয়াত দান ও দ্বীন শিক্ষার কাজে অবশ্যই মহিলাগণ বাইরে যেতে পারবেন। আর দ্বীন শিক্ষা বলতে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক শিক্ষাকে বুঝায়। অন্য কোন উদ্দেশ্য নয়। নারীদের কণ্ঠস্বর তাদের লজ্জার অন্তর্ভুক্ত। অতএব তাদের কণ্ঠস্বর যেন পরপুরুষ শুনতে না পায় বা তাদের দৃষ্টি না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং দাওয়াতী কাজের জন্য পোষ্টারিং করা বা মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

 

দৃষ্টি আকর্ষণ
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা ভাই ও বোনেরা!

মাসিক আত-তাহরীক সূচনালগ্ন থেকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমে দ্বীনে হক প্রচারে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নিয়মিত প্রকাশনার ১৬ বছর পেরিয়ে আপনাদের প্রিয় আত-তাহরীক আগামী অক্টোবরে ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আমরা পাঠকদের সামর্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখেই পত্রিকার মূল্য নির্ধারণ করেছি। দেশের দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও আমরা দীর্ঘ দিন এর মূল্য বৃদ্ধি করিনি। এর মধ্যে কাগজ ও কালির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপকভাবে। ছাপা, বাঁধাই ও ফিল্ম খরচও বেড়েছে অনেকগুণ। সেকারণ পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে পত্রিকা সরবরাহ দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বহু বিজ্ঞ পাঠক ও লেখক ‘আত-তাহরীক’ সংরক্ষণের সুবিধার্থে হোয়াইট পেপারে (সাদা কাগজে) ছাপানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাই আগামী অক্টোবর/১৩ (১৭তম বর্ষ ১ম সংখ্যা) থেকে আপনাদের প্রিয় ‘আত-তাহরীক’ সাদা কাগজে  ছাপানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিধায় আত-তাহরীকের মূল্য ১৬/- টাকার পরিবর্তে ২০/- টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর’১৩ থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে ইনশাআল্লাহ। আত-তাহরীকে খিদমতের তুলনায় এ নতুন মূল্য বৃদ্ধি পাঠকদের মনোকষ্টের কারণ হবে না বলে আমাদের একান্ত বিশ্বাস। পাঠক, গ্রাহক ও এজেন্টদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। -সম্পাদক।

HTML Comment Box is loading comments...