স্বদেশ-বিদেশ

স্বদেশ

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০১৩’ সংশোধনী প্রস্তাব

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত

নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বাংলাদেশের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র এখন পাকাপোক্ত হ’তে চলেছে। এ ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০১৩’ সংশোধনী প্রস্তাব। এই আইনটি পাস ও কার্যকর হ’লে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত আদিবাসী বাঙালী নাগরিকরা ভূমিস্বত্ব, বাসস্থান, জানমালের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবন-জীবিকাসহ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হবে। সেই সাথে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে ফের অশান্তির দাবানল জ্বলে উঠবে। সংবিধানের সাথে বিরোধপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক এই আইন বাঙালী-উপজাতি সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এমনকি দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি ও বাঙালীদের মধ্যকার সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করবে। সাথে সাথে পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর অবস্থান ও সরকারের কর্তৃত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এহেন ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে তৎপর রয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একটি সুসংঘবদ্ধ গোষ্ঠী। তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের এক-দশমাংশ এই পার্বত্য জনপদের সকল অ-উপজাতি তথা ৮ লাখেরও বেশী বাঙালী মুসলমান বাসিন্দাদের সমূলে উচ্ছেদ করা এবং সেখানে বিস্তীর্ণ এক অঞ্চলকে নিয়ে ‘অভিন্ন খ্রিষ্টান প্রদেশ’ গড়ে তোলা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গবেষণারত একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার যে গভীর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে তার প্রভাব পড়বে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামে। একই সাথে পৃথিবীর বৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারও এ থেকে রক্ষা পাবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে দেশী-বিদেশী যে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা প্রতিহত করতে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ঐ অঞ্চলে শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন।

আত্মঘাতী প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার অনড়

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এগিয়ে চলছে

পরিবেশবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের প্রতিবাদ ও প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অনড় সরকার। এরই মধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করেছে সরকার। পাশাপাশি এখন চলছে ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন ও এর আশপাশের এলাকার জীববৈচিত্র্যে জন্য মারাত্মক হুমকি হিসাবে চিহ্নিত করে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে উদ্যোগের প্রতিবাদে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। সর্বনাশা এই প্রকল্পটির ক্ষতিকর দিকগুলি হ’ল- (১) এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পিডিবি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। অথচ নীট লাভের ৫০% পাবে ভারত। উপরন্তু ভারতীয় কোম্পানীকে তাদের মুনাফার উপর কোন কর দিতে হবে না। এছাড়া বর্তমানে যেখানে পিডিবি অধিকাংশ বিদ্যুত ৪ টাকা ইউনিট হিসাবে ক্রয় করছে, সেখানে রামপালের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা হারে। (২) ১৮৩০ একর ধানী জমি অধিগ্রহণের ফলে আট হাযার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের, ফলে উদ্বাস্ত্ত এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭৫০০ পরিবার। সাথে সাথে হারাতে হবে কোটি কোটি টাকার কৃষিজ সম্পদ। (৩) এই প্রকল্প এলাকা সুন্দরবনের ঘোষিত সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর অঞ্চল থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে। ফলে এ প্রকল্প থেকে উৎপন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য বনের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনবে। (৪) বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বছরে ৪৭ লক্ষ ২০ হাযার টন কয়লা ইন্দোনেশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণআফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে আমদানী করতে হবে। আমাদানীকৃত কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাযের মাধ্যমে মংলাবন্দরে এনে তারপর সেখান থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। অথচ সরকারের পরিবেশ সমীক্ষাতেই বলা হয়েছে, এভাবে সুন্দরবনের ভেতরদিয়ে কয়লা পরিবহনকারী জাহায চলাচল করার ফলে, কয়লা পরিবহনকারী জাহায থেকে কয়লার গুড়া, ভাঙা/টুকরো কয়লা, তেল, ময়লা আবর্জনা, জাহাযের দূষিত পানি সহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নিঃসৃত হয়ে নদী-খাল-মাটি সহ গোটা সুন্দরবন দূষিত করে ফেলবে। চলাচলকারী জাহাযের ঢেউয়ে দুইপাশের তীরের ভূমি ক্ষয় হবে। কয়লা পরিবহনকারী জাহায ও কয়লা লোড-আনলোড করার যন্ত্রপাতি থেকে দিনরাত ব্যাপক শব্দ দূষণ হবে।

দুবাইয়ে সততার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশী ট্যাক্সি ড্রাইভার

আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গাড়িতে ফেলে যাওয়া যাত্রীর নগদ দু’লাখ দিরহাম ও এক মিলিয়ন দিরহামের ডায়মন্ড (প্রায় আড়াই কোটি টাকা) পেয়েও মালিককে ফেরত দিয়ে সততা ও নিষ্ঠার অনন্য পরিচয় দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশী ট্যাক্সি ড্রাইভার আবদুল হালীম (৩১)। গত ৫ জুন দুবাই জুমাইরা আলমাস টাওয়ার থেকে এক মিশরীয় ব্যবসায়ীকে নিয়ে দুবাই গোল্ড মার্কেটে নামিয়ে আবদুল হালীম চলে যান। ডিউটি শেষে গাড়ি পরিষ্কার করার সময় তিনি গাড়িতে ছোট একটি ব্যাগ দেখতে পেয়ে খুলে দেখেন নগদ দু’লাখ দিরহামসহ মূল্যবান ডায়মন্ড। সাথে সাথে তিনি তার কর্মস্থলের প্রতিষ্ঠান রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির অফিসকে জানালে তারা পুলিশ স্টেশনকে জানান এবং তাদের মাধ্যমে পরবর্তীতে এর মালিককে তা ফেরত দেয়া হয়। আবদুল হালীমের এ বিরল সততায় খুশী হয়ে রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় এবং তাকে ‘সততার হিরো’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। উল্লেখ্য, আবদুল হালিম ৩,৫০০ দিরহাম বেতনে চাকরি করে আসছেন।

দীর্ঘ ৪০ বছর পর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈলবাহী নৌযান নির্মাণ

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর খুলনা শিপইয়ার্ড সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও নকশায় জ্বালানী তেলবাহী নৌযান নির্মাণ সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেছে। প্রায় ২২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের অয়েল ট্যাংকারটি গতকাল খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে রূপসা নদীতে ভাসানো হয়েছে। ২০১১-এর ১৯ জুন গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল-এর সাথে নৌযানটি নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ডের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নৌযানটিতে ৭২০ অশ্বশক্তির ২টি মূল ইঞ্জিনসহ প্রয়োজনীয় জেনারেটরও রয়েছে। ঘণ্টায় ১০ নটিক্যাল মাইল বেগে নৌযানটি দেড় হাযার টন জ্বালানী বহন করে দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে চলাচল করতে সক্ষম। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-৭৪ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড রাষ্ট্রীয় জাহায চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য বিভিন্ন ধরনের ৬টি অয়েল ট্যাংকার নির্মাণ করে। যা এখনো অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথ অতিক্রম করে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানী পৌঁছে দিচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে ভারতের কন্টেইনার টার্মিনাল!

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার। এরই মধ্যে দেশটির বিদেশ মন্ত্রণালয় কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণে কারিগরি ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দরপত্রও আহবান করেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর ও বিনিয়োগ বোর্ড থেকে লিখিত কোন অনুমোদন নেয়নি ভারত সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রী ও সচিব বিষয়টি সম্পর্কে জানলেও মন্ত্রণালয়টির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখাসহ বন্দর শাখাও এ বিষয়ে কোন কিছুই জানে না। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ বোর্ডের এ বিষয়ে কোন আবেদন জমা পড়েনি। নারায়ণগঞ্জে কন্টেইনার টার্মিনাল প্রসঙ্গে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মন্ডল বলেন, ভারত সরকার বা কুমুদিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন বিনিয়োগ প্রস্তাব বিনিয়োগ বোর্ডে আসেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকবৃন্দের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘনই নয়; স্বাধীন, সার্বভৌম একটি দেশের ওপর হস্তক্ষেপেরও শামিল।

ট্রানজিট চুক্তির আওতায় ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহন শুরু

ট্রানজিট চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহন শুরু করেছে ভারত। তিন হাযার টন খাদ্যশস্য বোঝাই বার্জ গত ৫ জুন পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর থেকে আশুগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৪০ হাযার টন পণ্য যাবে ত্রিপুরা ও আসামে। এতে ভারতের খরচ বাঁচবে ১৬৩ কোটি টাকা। আর এই পণ্য পরিবহনের জন্য ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার করে দেবে বাংলাদেশ। তবে এর জন্য কোন অর্থ দাবী না করার জন্য গত মাসে ভারতের স্বার্থের তদারকি করেন প্রধানমন্ত্রীর এমন একজন উপদেষ্টা নৌ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের নৌ ট্রানজিটের স্বার্থে নিজ ব্যয়ে আশুগঞ্জে বন্দরও নির্মাণ করে দেবে বাংলাদেশ। বছরে ৬০ লাখ টন পণ্য পরিবহনের উপযোগী এই অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ৪শ’ কোটি টাকা। তবে এর জন্য ভারত ২শ’ কোটি টাকা ঋণ দিবে। তবে তাও অনেক জটিল শর্তে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থায়নে আখাউড়া থেকে ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা।

ত্রিপুরা সরকারের কর্মকর্তা সমরজিৎ ভৌমিক জানান, বাংলাদেশের কাছ থেকে এই অনুমতি পেতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা খুবই বিবেচক। তারা ইতোমধ্যে এই পথে (চট্টগ্রাম-আশুগঞ্জ) পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ত্রিপুরায় ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। তারপর তারা আবারো খুবই উদারতা দেখিয়েছে। ত্রিপুরার কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাংলাদেশ পরবর্তীতে আবারো খাদ্যশস্য পরিবহনের সুযোগ দেবে।

জানা গেছে, বন্দর চালু হওয়ার প্রথম বছরেই ১০ লাখ টন পণ্য পরিবহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা ৬০ লাখ টন হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ১০ লাখ টন পণ্য পরিবহণে ভারতের সাশ্রয় হবে ৪ হাযার ৭৫ কোটি টাকা। অথচ আশুগঞ্জ বন্দর নির্মাণের ব্যয় বহনে সম্মত নয় ভারত। আশুগঞ্জ বন্দর নির্মাণে অনুদান দেয়ার জন্য ভারতকে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো এর উত্তর মেলেনি।

বিদেশ

ব্রিটেনে র‌্যালীতে হামলা পরিকল্পনার দায়ে ৬ চরমপন্থী মুসলমানের ১১০ বছর কারাদন্ড

ব্রিটেনে ইংলিশ ডিফেন্স লীগ র‌্যালীতে নৃশংস হামলা চালানোর পরিকল্পনার দায়ে ৬ জন চরমপন্থী মুসলমানকে সর্বমোট ১১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ব্রিটেনের একটি আদালত। বিচারক বলেন, তারা ‘সহজলভ্য চরমপন্থী উপাদান’ থেকে হামলা পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তিনি তাদের কারাদন্ড দেন। পরিকল্পনাকারী ৬ জন গত বছরের জুন মাসে পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের ডিউজবারীর র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করতে যায়। তাদের সঙ্গে ছিল দু’টি শর্টগান, ছুরি, বিস্ফোরক এবং একটি আংশিক তৈরী পাইপ বোমা। কিন্তু র‌্যালীটি নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গত ৩০ এপ্রিল আদালতের শুনানীকালে তারা হামলা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে নেয়।

বিশ্বের ১ ভাগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে ৩৯ ভাগ সম্পদ

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শতকরা এক ভাগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বর্তমানে বিশ্বের মোট সম্পদের শতকরা ৩৯ ভাগ। বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের গ্লোবাল ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। সম্পদ পুঞ্জিভূত হওয়ার এই হার আগামীতে আরো বাড়বে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। কারণ ধনীদের সম্পদ বিশ্বের সামগ্রিক সম্পদের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়ছে।

লন্ডনের উলউইচে সন্ত্রাসী হামলা

গত ২২ মে বুধবার দুপুরে দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনে প্রকাশ্যে রাস্তায় দুই সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাতে লি রাগবি নামের ২০ বছর বয়সী এক বৃটিশ সেনাকে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তি উলউইচ রয়েল আর্টিলারী ব্যারাকের সেনা সদস্য ছিলেন। ঘটনাস্থলের ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রক্তমাখা মাংস কাটার ছুরি উঁচিয়ে ধরে বলছে, ডেভিড ক্যামেরনের কারণে ব্রিটিশ সরকার আরব দেশগুলোয় সৈন্য পাঠিয়েছে। আমরা আল্লাহ্র নামে প্রতিজ্ঞা করছি এ লড়াই থামাব না। কারণ মুসলমানরা প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। তারা নিজেদেরকে ‘চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত’ এই মতাদর্শে বিশ্বাসী বলে জানায়। বিবিসি জানায়, হামলাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারণ করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে হামলাকারী মাইকেল এডিবলোজা (২৮) ও তার সতীর্থ দু’জনই বৃটিশ নাইজেরিয়ান মুসলিম।

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ হামলার নিন্দা করে বলেন, ইসলাম এ ধরনের ঘটনা সমর্থন করে না। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা শুধু বৃটেনের উপরই আক্রমণ নয়, এটা ইসলাম ও মুসলিম কমিউনিটির জন্য বিদ্রূপের বিষয়। এদিকে এ ঘটনার পর বর্ণবাদী ‘ইডিএল’ উলউইচ ও নিউহাম এলাকায় বিক্ষোভ করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ই জুন লন্ডনের আর-রহমাহ ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড মসজিদটি পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়। ফেইথ মেটার্স-এর তথ্য মতে বৃটিশ সেনা নিহত হওয়ার পর বৃটেনে দুই সপ্তাহের মধ্যে ২২২টি মুসলিম বিদ্বেষী ঘটনা ও ১২টি মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে।