কবিতা


সাধু

আমীরুল ইসলাম (মাষ্টার)

ভায়া লক্ষ্মীপুর, চারঘাট, রাজশাহী।

এক দেশে এক সাধু ছিল নামটি তাহার ‘সত্য’

নতুন নতুন খুশীর খবর বলতো মুখে নিত্য।

পাইক-পেয়াদা শান্ত্রি সেপাই সবাই করে নাম

আমলা-চাকর বান্দী-নফর দেয় যে কথার দাম।

ধোঁকাবাজী মিথ্যা কথা যুলুম-অত্যাচার

কস্মিনকালেও ধারে নাকো এসব কিছুর ধার।

সারা দেশে জয়জয়কার হাত তালি দেয় লোকে

কাঁদতে কেউ পারে না তাই যতই মরুক শোকে।

কোথাও কখন এলে পরে দেশের মঙ্গল তরে

লক্ষ-কোটি যায় ছুটে তাই কেউ থাকে না ঘরে।

জিহাদ করে বীর মুজাহিদ সাচ্চা বীরের ধন

ভয় করে না অন্যায় কাজে সাহস ভরা মন।

যতই মরুক দুঃখ-শোকে কাঁদা বড় ভার

কাঁদলে পরে বড় শাস্তি হাসলে পুরষ্কার।

গরীব-কাঙ্গাল আর্ত আতুর ভূখা-নাঙ্গার দল

পায় না খেতে তবুও তাদের সাধুই বুকের বল।

কৃষক-শ্রমিক তাঁতী-জেলে কামার-কুমার মাঝি

সবাইকে এক সমান রাখে নেইকো দাগাবাজী।

দিতে কিছুই নাইবা পারুক নিতে পারে যশ

সেই গুণেরই ঠেলার চোটে সবাই সাধুর বশ।

সব বলে দিব

আবুল কাসেম

গোভীপুর, মেহেরপুর।

হকের পথে চলতে গিয়ে আসছে অনেক বাধা

সঠিক আমল করব সদাই মানব না কোন বাধা।

বাপে বলে কপাল পোড়া আহলেহাদীছ ছাড়

ইমাম ছাহেব যেমন পড়ে তেমন ছালাত পড়।

ত্যাজ্যপুত্র করব তোমায় দেখবে আমার ঠেলা

নতুন ধর্ম তোমায় দিয়ে করছে ওরা খেলা।

মায়ে বলে হতচ্ছাড়া তুমিতো অবুঝ ছেলে

অল্পদিনে বেশী বুদ্ধি কোথায় তুমি পেলে।

তোমায় ভালবাসত যারা আপন পরে মিলে

এখন ওরা সবাই বলে গ্রামের দুষ্টু ছেলে।

মার খেয়েছি গাল খেয়েছি ব্যথা পেলাম কথায়

সব লেখাগুলো রইল জমা আমার মনের খাতায়।

যতই দিবে দুঃখ-জ্বালা হৃদয় ভরে নিব

ক’দিন পরে আল্লাহর কাছে সবই বলে দিব।

একতা

মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ

কলেজপাড়া, বিরামপুর, দিনাজপুর।

অম্বরে দেখি পারাবতগুলো উড়ে চলে দলে দলে

উড়ে যেতে যেতে ওরা একতার কথা বলে।

পাখির কুজনে অলির গুঞ্জনে শুনি একতার সুর

ওরা বড় ভাল নেই ভেদাভেদ হৃদয়ে আশার নূর।

মৌমাছিগুলো দল বেঁধে চলে কেউ কারো অরি নয়

আকাশে-বাতাসে বন-বনানীতে হেরি একতার জয়।

মৌমাছি দেখ একতার বলে সুখের বাসা বাঁধে

একতা অভাবে শ্রেষ্ঠ মানুষ নয়ন জলে ভাসে।

মুসলিম জাতি বড় ভাল ছিল সকলে করত ভক্তি

একতার বলে লাভ করেছিল বিশ্ব জয়ের শক্তি।

একতার বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে যারা নেপথ্যে গান গায়

তাদের কথায় খুশি হয়ে দেখ ভাইকে ওরা কাঁদায়!

হিংসার অনল জাতির পতন ভাঙ্গে সুখের ঘর

মানুষে মানুষে হানাহানি বাড়ে আত্মীয় হয় পর।

হিংসার পথে শয়তান হাসে মানবতা হয় নিঃস্ব

আর একবার এক হও সবে দেখুক চেয়ে বিশ্ব!

শফীকুল ইসলাম

মাক্বছূদ আলী মুহাম্মাদী

ইটাগাছা, বাঁকাল, সাতক্ষীরা।

শরী‘আতী সেই তেজোদীপ্ত

সুমধুর কণ্ঠের জাগরণী

ফিরে পাবে না কেউ

খুঁজলেও তামাম ধরণী।

কুপথগামীরাও পেয়েছে

হিদায়াতের আলোর সন্ধান

লক্ষ কোটি বিশ্ববাসী

ভুলবে না তাঁর অনন্য অবদান।

ইহজগতে ধৈর্যশীল হোক

আত্মীয়-স্বজন ও শোকাহত পরিবার

সকল কর্মীর প্রাণপ্রিয়

আমীরে জামা‘আতের বিশ্বস্ত সহচর।

লা-শারীকের নির্ভেজাল তাওহীদে

ছিল যার বিশ্বাস অফুরান

মনযিলে মাক্বছূদে সুরক্ষিত হোক

তাঁর সুদৃঢ় দৃপ্ত ঈমান।

ধর্ম

মুহাম্মাদ হায়দার আলী

গাংনী, মেহেরপুর।

ইসলাম হ’ল আল্লাহর মনোনীত ধর্ম

ইসলাম ছাড়া কবুল হবে না কোন কর্ম।

ধর্মের মাঝে দেখছি আজি নানান বিভক্তি

কেউবা করছে নবীর নামে উদ্ভট সব উক্তি।

ধর্মের নামে ঢুকল কেমনে চারি মাযহাব

নবীর সুন্নাত মানতে হবে ছাড়তে হবে সব।

ধর্মের মাঝে আসল কেমনে ফিকহী মতবাদ

কুরআন-হাদীছ মানতে হবে অন্য সবই বাদ।

পীর পূজা, কবরপূজা সবই শিরকী কাজ

এসব নিয়ে ব্যস্ত মানুষ বিনাশ করছে সমাজ।

শিরক-বিদ‘আত ছাড়ো সবে মানো তাওহীদ-রিসালাত

নইলে যাবে জাহান্নামে পাবে না নাজাত।