সংগঠন সংবাদ

আন্দোলন

কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ২০১৫

নওদাপাড়া, রাজশাহী ১৭ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার : অদ্য সকাল ৭-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী কমপ্লেক্সের পূর্ব পার্শ্বস্থ মিলনায়তনে ২০১৫-১৭ সেশনের নবনিযুক্ত যেলা সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রশিক্ষণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়। দেশের প্রায় সকল সাংগঠনিক যেলা থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উদ্বোধনী ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, মৃত্যুর মিছিল চলছে। গত বছর যারা এখানে এসেছিলেন, আজ তাদের অনেকে এখানে নেই। এবারে আমাদের জন্য সবচেয়ে বেদনাদায়ক হ’ল মাত্র তিনদিন আগে গত ১৪ই ডিসেম্বর সোমবার আমাদের সবার প্রিয় শফীকুলের আকস্মিক মৃত্যু। সে আমাদের কাঁদিয়ে গেছে। কিন্তু আন্দোলন-এর জন্য তার খুলূছিয়াত ও তার প্রাণোৎসারিত জাগরণীসমূহ চিরন্তন ছাদাক্বায়ে জারিয়া হিসাবে রেখে গেছে। আল্লাহ তাকে পরকালে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করুন- আমীন!

অতঃপর তিনি বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাওহীদে ইবাদত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এটি ফিরক্বা নাজিয়াহর আন্দোলন। সেকারণ দেশে প্রচলিত কোন সেক্যুলার বা কথিত ইসলামী আন্দোলনগুলির কারু সাথে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলনে’র আক্বীদাগত ঐক্যের কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রচলিত জাহেলী স্রোতকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রয়োজন একদল স্বচ্ছ আক্বীদা সম্পন্ন সাহসী কর্মী বাহিনী। সে লক্ষ্যেই আজকের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচী। আপনারা প্রশিক্ষণ নিবেন এবং সে অনুযায়ী স্ব স্ব যেলায় কর্মসূচী নিবেন, এ আশা নিয়ে আল্লাহর নামে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।

প্রশিক্ষণে নির্ধারিত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম (বিষয় : নেতৃত্বের গুরুত্ব, প্রকারভেদ ও গুণাবলী), সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম (সংগঠনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা), গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল লতীফ (‘ইহতিসাব’ পর্যালোচনা), অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম (অফিস ব্যবস্থাপনা), প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (ফিরক্বা নাজিয়াহ ও আহলেহাদীছ আন্দোলন), দফতর ও যুববিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আমীনুল ইসলাম (গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা), প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (আমরা কি চাই, কেন চাই, কিভাবে চাই?), সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক দুররুল হুদা (ইনসানে কামেলের বৈশিষ্ট্য), কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম (নেতৃত্বের সংস্কার; ইমারত ও বায়‘আত সহ) ও অধ্যাপক জালালুদ্দীন (অহংকারের কারণ সমূহ ও পরিণতি)। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন অধিবেশনে কুরআন তেলাওয়াত করেন নওদাপাড়া মাদরাসার হিফয বিভাগের প্রধান হাফেয লুৎফর রহমান, বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি হাফেয মুখলেছুর রহমান, নওগাঁ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুস সাত্তার ও নওদাপাড়া মাদরাসার ছানাবিয়া ১ম বর্ষের ছাত্র হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির। ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করে ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কর্মী হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ ও যশোর যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক আব্দুস সালাম।

বাদ এশা ‘আমরা কি চাই, কেন চাই, কিভাবে চাই’? বিষয়বস্ত্তর উপর ‘উপস্থিত বক্তৃতা’ প্রতিযোগিতা হয়। প্রত্যেকে ৩ মিনিট করে সময় পান। তাতে স্বেচ্ছায় ১৮জন অংশগ্রহণ করেন। জনাব মুছলেহুদ্দীন (সেক্রেটারী, কুমিল্লা), মাস্টার হাশীমুদ্দীন (সভাপতি, কুষ্টিয়া-পূর্ব), নাযীর খান (সাংগঠনিক সম্পাদক, কুষ্টিয়া-পশ্চিম), আওনুল মা‘বূদ (সভাপতি, গাইবান্ধা-পশ্চিম), মুয্যাম্মিল হক (সেক্রেটারী, জয়পুরহাট), মাসঊদুর রহমান (সেক্রেটারী, জামালপুর-উত্তর), আব্দুল্লাহ আল-মামূন (সেক্রেটারী, টাঙ্গাইল), ফযলুল হক (সাহিত্য সম্পাদক, ঢাকা), আব্দুল ওয়াহ্হাব শাহ (সভাপতি, দিনাজপুর-পূর্ব), রাশেদুল ইসলাম (প্রশিক্ষণ সম্পাদক, দিনাজপুর-পশ্চিম), আমীর হামযাহ (সাবেক সহ-সভাপতি, নরসিংদী), বেলালুদ্দীন (সভাপতি, পাবনা), আব্দুন নূর (পঞ্চগড়), নূরুল ইসলাম (সেক্রেটারী, বগুড়া), যুবায়ের ঢালী (সেক্রেটারী, বাগেরহাট), আফযাল হোসাইন (সভাপতি, নওগাঁ-পূর্ব), হাবীবুর রহমান (সভাপতি, নওগাঁ-পশ্চিম) ও রবীউল ইসলাম (সেক্রেটারী, ঝিনাইদহ)। অতঃপর উন্মুক্ত সুযোগ দেওয়া হ’লে তাতে অংশগ্রহণ করেন আব্দুস সালাম (যশোর), মুস্তাফীযুর রহমান (নীলফামারী) ও আলতামাসুল ইসলাম (গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা)। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন রাশেদুল ইসলাম (দিনাজপুর-পশ্চিম), ২য় স্থান অধিকার করেন আব্দুল ওয়াহ্হাব শাহ (দিনাজপুর-পূর্ব) এবং ৩য় স্থান অধিকার করেন মাস্টার হাশীমুদ্দীন (কুষ্টিয়া-পূর্ব)।

পরদিন ১৮ই ডিসেম্বর বাদ ফজর আমীরে জামা‘আতের দরসে কুরআন ও হেদায়াতী ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। এ সময় শ্রেষ্ঠ যেলা হিসাবে সাতক্ষীরা, শ্রেষ্ঠ সভাপতি হিসাবে ডা. ইদ্রীস আলী (রাজশাহী-পূর্ব), শ্রেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আলতাফ হোসাইন (সাতক্ষীরা), শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসাবে আব্দুর রহীম (বগুড়া) এবং প্রবীণ সংগঠক হিসাবে মাস্টার ইয়াকূব হোসাইন (ঝিনাইদহ), মাওলানা ছফিউল্লাহ (কুমিল্লা), মুহাম্মাদ মুসলিম (রাজশাহী), অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম (সাতক্ষীরা) ও মাহফূযুর রহমান (জয়পুরহাট)-এর নাম ঘোষণা করা হয়। অতঃপর তাদেরকে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ‘সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)’ ২য় সংস্করণটি হাদিয়া প্রদান করেন।

তাবলীগী সভা

মেকিয়ারকান্দা, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ ২০শে অক্টোবর মঙ্গলবার : অদ্য বাদ আছর যেলার ধোবাউড়া থানাধীন মেকিয়ারকান্দা বাজার আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মসজিদের মুতাওয়াল্লী জনাব আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ সফীরুদ্দীন, মেকিয়ারকান্দা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুস সাত্তার, শিক্ষক মাওলানা মুয্যাম্মেল হক, মান্দালিয়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদের খত্বীব মুহাম্মাদ ইবরাহীম, নিশ্চিন্তপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদের খত্বীব মুহাম্মাদ ইয়াকূব ও ত্রিশাল থানার চকপাঁচপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদের খত্বীব মুহাম্মাদ আব্দুস সালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন যেলা ‘সোনামণি’ পরিচালক মুহাম্মাদ আলী।

বালিগাঁও, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ ২১শে অক্টোবর বুধবার : অদ্য সকাল ৯-টায় যেলার ধোবাউড়া থানাধীন বালিগাঁও আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বালিগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব নূর হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন যেলা ‘সোনামণি’ পরিচালক মুহাম্মাদ আলী।

কর্মী ও সুধী সমাবেশ

মণিপুর, গাযীপুর, ২২শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার : অদ্য বাদ মাগরিব যেলার সদর থানাধীন মণিপুর বাজার আহলেহাদীছ জামে মসজিদে ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ গাযীপুর যেলার উদ্যোগে এক কর্মী ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি হাতেম বিন পারভেযের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাযী আব্দুল্লাহ শাহীন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ময়মনসিংহ যেলা ‘সোনামণি’ পরিচালক মুহাম্মাদ আলী।

মসজিদ উদ্বোধন

ঈশ্বরদী, পাবনা ২০শে নভেম্বর শুক্রবার : অদ্য শুক্রবার জুম‘আর ছালাতের মধ্য দিয়ে পাবনা যেলার ঈশ্বরদী থানা সদরের নিকটবর্তী চর মীরকামারী গ্রামে নব নির্মিত ‘মসজিদুত তাক্বওয়া’ মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের প্রতিনিধি হিসাবে উদ্বোধন করেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। স্থানীয় সঊদী প্রবাসী জনাব তরীকুল ইসলামের উদ্যোগে এবং প্রবাসী ও দেশী বিভিন্ন দাতা ভাইদের আর্থিক সহযোগিতায় ২০১০ সাল হ’তে ধীরে ধীরে এই নতুন আহলেহাদীছ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মসজিদটির নির্মাণকাজ এখনো অসমাপ্ত থাকলেও এলাকায় আহলেহাদীছ মুছল্লীদের দ্রুত প্রসারের ফলে ইতিমধ্যে ওয়াক্তিয়াভাবে চালু হওয়া এই মসজিদটি জুম‘আ চালুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে সকলের পরামর্শ ও সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জুম‘আ চালু হ’ল। জুম‘আর খুৎবায় সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে কেন্দ্রীয় মেহমান মসজিদ নির্মাণের চেয়ে মসজিদ আবাদের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ফাসেক-ফাজের প্রভাবশালীকে দিয়ে নয়; বরং শিরক ও বিদ‘আতী আক্বীদামুক্ত মুখলেছ কিছু দ্বীনদার মুছল্লীর দ্বারাই কেবল মসজিদ আবাদ হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, মসজিদে নিয়মিত সাপ্তাহিক তা‘লীমী বৈঠক, ফজরের ছালাতের পর তাফসীরুল কুরআন ও বাদ এশা ১টি করে হাদীছ পাঠ ইত্যাদি নানাবিধ কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে চালু রাখার মাধ্যমে এই মসজিদ একটি সংস্কারবাদী মসজিদে পরিণত হবে। এখান থেকে অত্রাঞ্চলে দ্বীনে হক-এর আলো ছড়িয়ে পড়বে। তিনি সকলকে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র পতাকাতলে সমবেত হয়ে সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এ সময়ে রাজশাহী মহানগরী ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুবীনুল ইসলাম, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ হাসান, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আফতাব হোসাইন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও ঈশ্বরদী উপযেলা সভাপতি মুহাম্মাদ ছিদ্দীকুর রহমান, যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি তারিক হাসান, সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ মা‘রূফ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাসান আলী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সলীমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ ইসরাঈল হোসাইন মন্ডল, ঈশ্বরদী উপযেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা মুছল্লী উপস্থিত ছিলেন।

জুম‘আর ছালাতের পর মেহমানগণ উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সমাজকল্যাণ সম্পাদক জনাব আব্দুর রশীদের বাসার আতিথেয়তা গ্রহণ শেষে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

যেলা কার্যালয় পরিদর্শন ও দায়িত্বশীল বৈঠক

নারাণয়গঞ্জ ৬ই ডিসেম্বর রবিবার : অদ্য বেলা ১১-টায় যেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন উত্তর বাজারে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘের’ নতুন কার্যালয় পরিদর্শন করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। তার সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি হাজী আবুল হাশেম-এর জানাযা ও দাফন শেষে তারা যেলা কার্যালয় পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সেখানে গমন করেন ও দায়িত্বশীলদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময়ে কেন্দ্রীয় মেহমান যেলার অফিস ব্যবস্থাপনা তদারকি করেন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ যেলার সাংগঠনিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্বশীলদের স্রেফ পরকালীন মুক্তির আশায় আরো দায়িত্ব সচেতন হয়ে যেলার সর্বত্র পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানান। 

যুবসংঘ

কর্মী সম্মেলন ২০১৫

আছহাবে কাহফের যুবকদের মত দৃঢ়চিত্ত হও!

-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত

নওদাপাড়া, রাজশাহী ১৮ই ডিসেম্বর শুক্রবার : অদ্য সকাল ৯-টায় রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়াস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী কমপ্লেক্স-এর পশ্চিম পার্শ্বস্থ ময়দানে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর বার্ষিক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, আছহাবে কাহফের যুবকরা তাদের জীবদ্দশায় সমাজ পরিবর্তন করতে পারেনি। কিন্তু দীর্ঘ তিনশ’ বছরের নিদ্রা শেষে জেগে উঠে তারা দেখতে পেয়েছিল যে, পুরা সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরই মত তাওহীদপন্থী হয়ে গিয়েছে। আজও জাহেলী স্রোতের উল্টা চলার মত দৃঢ়চিত্ত আল্লাহভীরু যুবশক্তির মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব যদি আল্লাহ চাহেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মের নামে প্রচলিত শিরক ও বিদ‘আতী রসম-রেওয়াজ সমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে একক ইমারতের অধীনে জামা‘আতবদ্ধভাবে তোমরা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ কর। তিনি তাদের প্রতি নৈতিকভাবে বলিয়ান হওয়ার জন্য নিয়মিত নফল ইবাদতসমূহে অভ্যস্ত হওয়ার আহবান জানান।

‘আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, অধ্যাপক জালালুদ্দীন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ তাসলীম সরকার প্রমুখ।

সম্মেলনে ‘তৃণমূল পর্যায়ে জনমত গঠনে সংগঠনের ভূমিকা’ বিষয়ে বক্তব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকে ৫ মিনিট করে সময় পান। তাতে ১৬জন অংশগ্রহণ করেন। আব্দুর রহীম (রাজশাহী-পূর্ব যেলা সভাপতি), আশরাফুল ইসলাম (রাজশাহী-পশ্চিম যেলা সভাপতি), আবুল কালাম আযাদ (জয়পুরহাট যেলা সভাপতি), আব্দুর রাযযাক (বগুড়া যেলা সভাপতি), ইয়াসীন আলী (চাঁপাই নবাবগঞ্জ-দক্ষিণ যেলা সভাপতি), সা‘দ আহমাদ (মেহেরপুর যেলা সভাপতি), আসাদুল্লাহ মিলন (ঝিনাইদহ যেলা সভাপতি), তরীকুল ইসলাম (যশোর যেলা সভাপতি), মাহমূদুল হাসান (সিরাজগঞ্জ যেলা সহ-সভাপতি), তারেক হাসান (পাবনা যেলা সভাপতি), হুমায়ূন কবীর (ঢাকা যেলা সভাপতি), মুস্তাফীযুর রহমান সোহেল (নারায়ণগঞ্জ যেলা সভাপতি), শিহাবুদ্দীন আহমাদ (রংপুর যেলা সভাপতি), হাতেম বিন পারভেয (গাযীপুর যেলা সভাপতি), আহমাদুল্লাহ (কুমিল্লা যেলা সাধারণ সম্পাদক), হারূনুর রশীদ (কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, ঝিনাইদহ)।

উক্ত আলোচকদের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে কুমিল্লা যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক আহমাদুল্লাহ, রংপুর যেলা সভাপতি শিহাবুদ্দীন আহমাদ ও গাযীপুর যেলা সভাপতি হাতেম বিন পারভেয। এছাড়া ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পরামর্শের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ যেলা, শ্রেষ্ঠ সভাপতি, শ্রেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক এবং শ্রেষ্ঠ সংগঠকের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হ’লেন শ্রেষ্ঠ যেলা জয়পুরহাট, শ্রেষ্ঠ সভাপতি শামীম আহমাদ (সিরাজগঞ্জ), শ্রেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক আহমাদুল্লাহ (কুমিল্লা), শ্রেষ্ঠ সংগঠক মুস্তাফীযুর রহমান সোহেল (নারায়ণগঞ্জ)। অতঃপর তাদের সবাইকে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আরীফুল ইসলাম। বিভিন্ন পর্যায়ে কুরআন তেলাওয়াত করেন ‘যুবসংঘ’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এহসান ইলাহী যহীর, ‘যুবসংঘ’-এর ‘কর্মী’ হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ, মারকাযের কুল্লিয়া ১ম বর্ষের ছাত্র হাফেয শাহরিয়ার আলম ও ছানাবিয়া ১ম বর্ষের ছাত্র হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির। ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন যশোর যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ জামীলুর রহমান (কুমিল্লা)।

 

মৃত্যু সংবাদ

(১) আল-হেরা প্রধান শফীকুল ইসলামের চির বিদায় : ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ জয়পুরহাট যেলার অর্থ সম্পাদক, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় ‘আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠী’র প্রধান, দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও সমাদৃত মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম (৫৮) গত ১৩ই ডিসেম্বর রবিবার দিবাগত রাত দেড়টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট এ্যাটাক করে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতী-নাতনী, আত্মীয়-স্বজন সহ বহু গুণগ্রাহী ও ভক্তকুল রেখে যান। উল্লেখ্য, বগুড়া যেলার গাবতলী থানাধীন মেন্দিপুর-চাকলা সালাফিইয়াহ হাফেযিয়া মাদরাসা ও ইয়াতীম খানার বার্ষিক জালসায় দ্বিতীয় বক্তা হিসাবে ঘণ্টাধিক সময় বক্তব্য দেওয়ার পর হঠাৎ তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গাবতলী উপযেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে বগুড়া শহরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

পরদিন বাদ আছর নিজ গ্রাম জয়পুরহাট যেলার সদর থানাধীন কমরগ্রামে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী প্রশস্ত ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব তার জানাযার ছালাতে ইমামতি করেন। অতঃপর কমরগ্রাম বড় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রথমে মাইয়েতের বাড়ীতে যান এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত্বনা দেন। তিনি তাদেরকে সদ্য প্রকাশিত ‘সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)’ দ্বিতীয় সংস্করণ ও ‘তাফসীরুল কুরআন’ উপহার দেন। 

জানাযায় অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া যেলা সভাপতি জনাব আব্দুর রহীম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য তরীকুযযামান (মেহেরপুর), ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতার (মেহেরপুর), সাবেক সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন, সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, মাওলানা রুস্তম আলী ও শামসুল আলম, রাজশাহী-পূর্ব যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডাঃ ইদরীস আলী, ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা সহকারী আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, দেশের প্রায় ২০টি যেলা হ’তে আগত ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’র বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সুধী রিজার্ভ বাস, মাইক্রো, প্রাইভেটকার এবং ট্রেন, ভটভটি ও হোন্ডা যোগে জানাযায় যোগদান করেন। এতদ্ব্যতীত জয়পুরহাটের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ এবং আলেম-ওলামা সহ হাযার হাযার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীর উপস্থিতিতে জানাযা স্থল যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রিয় মানুষটির চির বিদায়ে সকলের চক্ষু ছিল অশ্রুসিক্ত।

(২) ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ নারায়ণগঞ্জ যেলার সহ-সভাপতি আলহাজ্জ আবুল হাশেম ভূঁইয়া (৬৭) গত ৫ই ডিসেম্বর রাত্রি সোয়া ৮-টায় যেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন কালাদী গ্রামের নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনী সহ বহু গুণগ্রাহী রেখে যান। তিনি ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। পরদিন রবিবার সকাল ৯-টায় কাঞ্চন ভারতচন্দ্র হাইস্কুল মাঠে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। একমাত্র পুত্র ডাঃ আ.ন.ম. সাইফুল ইসলাম জানাযার ছালাতের ইমামতি করেন। অতঃপর কাঞ্চন চৌধুরী পাড়া সামাজিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের পক্ষে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন এবং অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক কাযী হারূণুর রশীদ, নারায়ণগঞ্জ যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র দায়িত্বশীলগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ বিপুল সংখ্যক মুছল্লী অংশগ্রহণ করেন।

(৩) মাওলানা শিহাবুদ্দীন মাদানীর মৃত্যু :

গত ২৫ নভেম্বর’১৫ আযাদ কাশ্মীর মারকাযী জমঈয়তে আহলেহাদীছের আমীর শায়খ শিহাবুদ্দীন মাদানী (৫৭) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী  এবং ৩ ছেলে রেখে গেছেন। ঐদিন বাদ আছর মুযাফফরাবাদের ইউনিভার্সিটি কলেজ ময়দানে তাঁর জানাযায় বহু আলেম-ওলামাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনূন হোসাইন, প্রধানমন্ত্রী নওয়ায শরীফ, বিরোধী দলীয় নেতা খুরশীদ শাহ এবং আযাদ কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী আব্দুল মাজীদসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন তাহরীকে আযাদিয়ে কাশ্মীরের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মাদ ইউনুস আছারী, যিনি আযাদ কাশ্মীর অঞ্চলে আহলেহাদীছ আন্দোলনের মূল উদ্গাতা ছিলেন। তিনি মুযাফফরাবাদ সরকারী পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের প্রফেসর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া মারকাযী জমঈয়তে আহলেহাদীছ, আযাদ কাশ্মীরের আমীর এবং তাহরীকুল মুজাহিদীন জম্মু-কাশ্মীরেরও প্রধান ছিলেন। বিগত আতীকুর রহমান সরকারের আমলে তিনি সরকারী ওলামা-মাশায়েখ কাউন্সিলের সভাপতি এবং ইসলামী নযরিয়াতী কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আযাদ কাশ্মীর অঞ্চলে তিনি বেশ কয়েকটি আহলেহাদীছ মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ আহলেহাদীছ আন্দোলনের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কাশ্মীরের আযাদী প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় তাঁর সাহসী পদক্ষেপসমূহ প্রশংসিত হয়েছে। ২০০৪ সালের ৮ই আগস্ট ওআইসির সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াদ আব্দুল্লাহ আমীন মাদানী কাশ্মীর সফরে এলে তিনি তাঁর সাথে নির্ধারিত বৈঠক বয়কট করেন। তিনি বলেন, ওআইসির সেক্রেটারীকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করলেও মুসলিম উম্মাহর উপর অব্যাহত নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর কোন পদক্ষেপ না থাকায় তিনি প্রতিবাদস্বরূপ বৈঠক বয়কট করছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কাশ্মীর আযাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ স্বাগত জানান।

(৪) মাওলানা ইসহাক ভাট্টির মৃত্যু :

গত ২২ ডিসেম্বর’১৫ পাকিস্তানের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ মাওলানা ইসহাক ভাট্টি (৯১) লাহোরের মেও হাসপাতালে ভোর সাড়ে ৫-টায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের সমকালীন ইতিহাস গবেষকদের অন্যতম। এই প্রবীণ ইতিহাসবিদ উপমহাদেশের ইসলামী জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারে বস্ত্তনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে বিগত অর্ধশত বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে লেখনী ও বক্তব্যের ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০টি। ইসলামী সংস্কৃতির ইতিহাস বিশেষ করে উপমহাদেশে আহলেহাদীছদের স্বর্ণালী ইতিহাস নিয়ে বিস্তর লেখালেখির মাধ্যমে তিনি এক নবদিগন্তের উন্মোচন করেছেন। যার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন ‘মুআররেখে আহলেহাদীছ’ (مؤرخ  اہلحديث ) তারা ‘আহলেহাদীছ ইতিহাসবিদ’ হিসাবে। লাহোরের বিখ্যাত নাছেরবাগ ময়দানে বেলা ২-টায় তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট আলেম দ্বীন মাওলানা হাম্মাদ লাখভী তাঁর জানাযা ছালাতে ইমামতি করেন। অতঃপর ফয়ছালাবাদে তাঁর গ্রামের বাড়িতে রাত ৮-টায় ২য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মাওলানা মাসঊদ আলম। জানাযায় শায়খ ইরশাদুল হক্ব আছারীসহ পাকিস্তানের বহু আলেম-ওলামা অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৩ কন্যা রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে মসজিদে হারামের সম্মানিত ইমাম শায়েখ সুদাইস শোক প্রকাশ করেছেন।

১৯২৫ সালে তিনি তৎকালীন ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। ভারত বিভাগের পর তিনি পাকিস্তানের ফয়ছালাবাদে চলে আসেন। অতঃপর তিনি পাকিস্তান মারকাযী জমঈয়তে আহলেহাদীছের অফিস সেক্রেটারী হিসাবে দায়িত্বপালন করেন। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর লাহোরের সুপ্রসিদ্ধ আহলেহাদীছ পত্রিকা ‘আল-ই‘তিছাম’-এর সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি লাহোরের সরকারী গবেষণা সংস্থা ‘ইদারায়ে ছাক্বাফাতে ইসলামিয়া’-এর রিসার্চ ফেলো হিসাবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ ৩২ বছর সেখানে গবেষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকে পাকিস্তানের শারঈ আদালতের উপদেষ্টা এবং ইসলামী নযরিয়াতী কাউন্সিলের সদস্যপদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হ’লে নিজের লেখালেখি বাধাগ্রস্ত হবে বলে সে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই মহান মনীষী সমকালীন আহলেহাদীছ আন্দোলনের বস্ত্তনিষ্ঠ ইতিহাস রচয়িতা হিসাবে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ রাববুল আলামীন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নছীব করুন-আমীন!

(বিঃ দ্রঃ মৃতের সাক্ষাৎকার মাসিক আত-তাহরীক, এপ্রিল ও মে’১৫ সংখ্যাদ্বয়ে প্রকাশিত হয়েছে)

(৫) মাওলানা আব্দুল্লাহ মাদানী ঝান্ডানগরীর মৃত্যু :

গত ২২শে ডিসেম্বর’১৫ নেপালের খ্যাতনামা আহলেহাদীছ আলেম এবং জমঈয়তে আহলেহাদীছ নেপালের আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ মাদানী ঝান্ডানগরী (৬১) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। নেপালে আহলেহাদীছ আন্দোলনের ঝান্ডাবাহী এই প্রখ্যাত আলেম কেবল নেপালেই নন বরং মুসলিম বিশ্বে একজন সুপরিচিত আলেম ও বাগ্মী ছিলেন। বহু আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে তিনি নেপালের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি পিসটিভি উর্দূসহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের আলোচক ছিলেন। নেপালের কপিলবস্ত্ত যেলার কৃষ্ণনগরে তিনি মারকাযুত তাওহীদ নামক একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা নেপালের মাটিতে বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমলের প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এর অধীনস্ত মহিলা শাখা এবং নেপালের একমাত্র মহিলা মাদরাসা ‘মাদরাসা খাদীজাতুল কুবরা’ও নারীদের মাঝে দ্বীনের বিশুদ্ধ দাওয়াতের প্রসারে প্রভূত ভূমিকা রাখছে। তিনি ১৯৮৮ সালের মে মাসে ‘নূরে তাওহীদ’ নামে নেপালে সর্বপ্রথম উর্দূ মাসিক ইসলামী পত্রিকা বের করেন, যা অদ্যাবধি চালু আছে। বাদ যোহর কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাযায় নেপাল ও ভারতের ১০ হাযারের অধিক মুছল্লী উপস্থিত হন। জানাযা পড়ান মাওলানা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী। মৃত্যুকালে তিনি দেশে-বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, তিনি ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন ও তাবলীগী ইজতেমায় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।  

[আমরা তাঁদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সম্পাদক]