মুসলিম জাহান

মুসলিম জাহান

গাম্বিয়াকে ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণা    

বিশে^র বুকে আরেকটি নতুন ইসলামী রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটল। পশ্চিম আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়া জামেহ গত ১০ই ডিসেম্বর তাঁর দেশকে ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেছেন। গাম্বিয়ার উপকূলীয় শহর ব্রুফুতে এক জনসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট জামেহ বলেন, ‘গাম্বিয়ার ভাগ্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর হাতে। আজ থেকে এটি ইসলামী রাষ্ট্র। আমরা এখানে নাগরিক অধিকারকে সম্মান করব’। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে কি কি পরিবর্তন হবে, তা স্পষ্ট করেননি গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি বলেছেন, দেশটিতে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং পোশাকের ব্যাপারে কোন বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে গাম্বিয়ার সুপ্রিম ইসলামী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইমাম মোমোদু লামিন তোরে বলেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণার ব্যাপারে আমরা এখনো কোন আলোচনায় মিলিত হইনি। 

জামেহ অপর এক বিবৃতিতে বলেন, তার দেশ রোহিঙ্গা উদ্বাস্ত্তদের আশ্রয় দেবে। তিনি বলেন, নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের দুর্দশা লাঘব করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। তার সরকার এ অঞ্চলের দেশগুলোকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্ত্তদের তার উপকূলে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে এবং বলেছে তাদের আশ্রয় শিবিরে রাখা হবে।

দারিদ্র্য পীড়িত সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ গাম্বিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তাদের ৯০% মুসলিম। বাকি ৮% খ্রিষ্টান এবং ২% উপজাতি। সামরিক কর্মকর্তা ও সাবেক কুস্তিগীর ইয়াহিয়া জামেহ ১৯৯৪ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। সেই থেকে তিনি কঠোর হাতে দেশ পরিচালনা করছেন।

নাস্তিকদের সন্ত্রাসী ঘোষণা সঊদী আরবের

নাস্তিকদের সন্ত্রাসী হিসাবে আখ্যা দিয়েছে সঊদী আরব। দেশটিতে নাস্তিকদের সন্ত্রাসী হিসাবে গণ্য করে বেশ কয়েকটি আইনও জারী করা হয়েছে। সম্প্রতি সঊদী আরবে উদারপন্থী লেখক-কর্মী রায়েফ বাদাউইকে আটকের পর থেকেই সঊদীতে মুক্তমতের উত্থান নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এর পরিপেক্ষিতে ইসলামের মৌলিক বিষয় নিয়ে কোনরকম সমালোচনা এবং সঊদী রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে যেকোন রকম কর্মকান্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হিসাবে বিবেচনা করতে ডিক্রি জারী করেছে দেশটির সরকার।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সঊদী আরবের নেতৃত্বে  নতুন সামরিক জোট গঠন

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন সামরিক জোট গঠন করেছে সঊদী আরব। এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়া ও আফ্রিকার ৩৪টি দেশ রয়েছে। তবে জোট থেকে সিরিয়া, ইরাক ও ইরানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক অভিযান সমন্বয় ও তাতে সহায়তা করতে সঊদী নেতৃত্বাধীন এ জোট গঠন করা হয়েছে। এ জোট হবে রিয়াদভিত্তিক। বাংলাদেশ ছাড়াও জোটের অন্যান্য সদস্য দেশগুলো হ’ল- সঊদী আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, বাহরাইন, বেনিন, তুরস্ক, চাদ, টোগো, তিউনিসিয়া, জিবুতি, সেনেগাল, সুদান, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, গ্যাবন, গিনি, ফিলিস্তীন, কমোরস, কাতার, আইভরিকোস্ট, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মালয়েশিয়া, মিসর, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া ও ইয়ামেন।

সঊদী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ জোট সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি ইসলামী বিশ্বের সমস্যা মোকাবেলা করবে এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে অংশীদার হবে। ইন্দোনেশিয়াসহ আরো ১০টিরও বেশী মুসলিম দেশ এই জোটকে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

[৫৬ জাতি জোটটি ওআইসির মত শক্তিহীন হবে না তো! কারণ সঊদী আরবসহ প্রায় সকল মুসলিম দেশই পরাশক্তিগুলির ইঙ্গিতে চলে (স.স.)]