প্রবন্ধ


আমানত

মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
শিক্ষক, নারায়ণপুর মিছবাহুল উলূম কওমী ও হাফেযী মাদরাসা,
হাটশ্যামগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

 (২য় কিস্তি)

আমানতের কতিপয় দিক ও ক্ষেত্র :

আমানতের বিভিন্ন দিক রয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করা, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমানত রক্ষা করা ইত্যাদি। নিম্নে আমানতের কতিপয় দিক উপস্থাপন করা হ’ল।-

১. দ্বীন ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসাবে গ্রহণ করা :

এটাই হচ্ছে বড় আমানত, যা আল্লাহ তা‘আলা বান্দার উপর অর্পণ করেছেন। তিনি বলেন,

إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُوْمًا جَهُوْلاً-

‘আমরা তো আসমান, যমীন ও পর্বত মালার প্রতি এই আমানত অর্পণ করেছিলাম, তারা এটা বহন করতে অস্বীকার করল এবং ওতে শংকিত হ’ল। কিন্তু মানুষ ওটা বহন করল, সে তো অতিশয় যালিম, অতিশয় অজ্ঞ’ (আহযাব ৩৩/৭২)

ইমাম কুরতুবী (মৃত ৬৭১ হিঃ) বলেন, وَالْأَمَانَةُ تَعُمُّ جَمِيْعَ وَظَائِفِ الدِّيْنِ عَلَى الصَّحِيْحِ مِنَ الْأَقْوَالِ، وَهُوَ قَوْلُ الْجُمْهُوْرِ. ‘সঠিক কথা হ’ল আমানত ব্যাপক অর্থে দ্বীনের সমস্ত কর্ম সমূহকে এর মধ্যে শামিল করে। আর ওটাই হ’ল জমহূর বিদ্বানগণের অভিমত’।[1]

আল্লাহর একত্বকে স্বীকার করে নিয়ে ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসাবে গ্রহণ করতে মানুষ আল্লাহর সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِيْ آدَمَ مِنْ ظُهُوْرِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوْا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوْا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِيْنَ-

‘আর (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক বনু আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের উপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, হ্যাঁ। আমরা সাক্ষী থাকলাম। (এটা এজন্য) যাতে তোমরা ক্বিয়ামতের দিন বলতে না পার যে, আমরা এ বিষয়ে জানতাম না’ (আ‘রাফ ৭/১৭২)

২. তাবলীগ বা প্রচার করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছিলেন দ্বীন ইসলামের প্রচার-প্রসারের মূল, যা দীর্ঘ তেইশ বছর দাওয়াতী কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করে। তাঁর মৃত্যুর পর এ আমানত উম্মাতে মুহাম্মাদীর উপর অর্পিত হয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ ‘তোমরাই হ’লে শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে ও অন্যায় কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখবে’ (আলে ইমরান ৩/১১০)

আল্লাহ আরো বলেন,

وَالْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوْنَ الزَّكَاةَ وَيُطِيْعُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللهُ إِنَّ اللهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ-

‘আর মুমিন পুরুষ ও নারী পরস্পরের বন্ধু। তারা সৎ কাজের আদেশ করে ও অসৎ কাজে নিষেধ করে। তারা ছালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই অনুগ্রহ বর্ষণ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান’ (তওবা ৯/৭১)

আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেছি, যেখানে সর্বত্রই অনৈতিকতা, অন্যায় আর অনাচার। যেখানে সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। সঠীক দ্বীনী জ্ঞানের অভাবে সমাজের আজ এমন দৈন্যদশা। এক্ষণে বাঁচার পথ হ’ল ব্যাপকভাবে দাওয়াতী কাজ করা। যিনি বক্তৃতায় পারঙ্গম তিনি বক্তৃতার মাধ্যমে, যিনি লেখনীতে পারঙ্গম তিনি লেখনীর মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে দাওয়াতী কাজ করবেন। অন্যথায় সমাজ ধ্বংসে নিক্ষিপ্ত হবে। আল্লাহ বলেন,وَاتَّقُوْا فِتْنَةً لَا تُصِيْبَنَّ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا مِنْكُمْ خَاصَّةً وَاعْلَمُوْا أَنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ- ‘আর তোমরা ফিৎনা থেকে বেঁচে থাক, যা তোমাদের মধ্যকার যালেমদেরই কেবল পাকড়াও করবে না (বরং সকলের উপর আপতিত হবে)। জেনে রেখ আল্লাহ শাস্তি দানে অতীব কঠোর’ (আনফাল ৮/২৫)

আবু বকর ছিদ্দীক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন,

أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الآيَةَ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ) وَإِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللهُ بِعِقَابٍ مِنْهُ.

‘হে মানব সকল! নিশ্চয়ই তোমরা এ আয়াত তেলাওয়াত করে থাক যে, হে মুমিনগণ! তোমরা সাধ্যমত তোমাদের কাজ করে যাও। পথভ্রষ্টরা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, যখন তোমরা সৎপথে থাকবে’ (মায়েদাহ ৫/১০৫)। আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, ‘মানুষ যদি কোন অত্যাচারীকে অত্যাচারে লিপ্ত দেখেও তার দু’হাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করে তাহ’লে আল্লাহ তা‘আলা অতি শীঘ্রই তাদের সকলকে তাঁর ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন’।[2]

রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন,

وَالَّذِىْ نَفْسِى بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوْشِكَنَّ اللهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلاَ يُسْتَجَابُ لَكُمْ.

‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। অন্যথা আল্লাহ তা‘আলা শীঘ্রই তোমাদের উপর তাঁর শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তখন তোমরা তাঁর নিকট দো‘আ কর কিন্তু তিনি তোমাদের সেই দো‘আ কবুল করবেন না’।[3]

৩. সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা : বান্দার উপর আল্লাহর হক হ’ল সঠিক সময়ে ইবাদত করা, রুকূ-সিজদা ও অন্যান্য আহকামগুলি ধীর-স্থিরতার সাথে আদায় করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ كِتَابًا مَوْقُوْتًا ‘মুমিনদের উপরে ছালাত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে’ (নিসা ৪/১০৩)

তিনি বলেন,حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُوْمُوْا لِلَّهِ قَانِتِيْنَ ‘তোমরা ছালাত সমূহ ও মধ্যবর্তী ছালাতের ব্যাপারে যত্নবান হও এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দন্ডায়মান হও’ (বাক্বারাহ ২/২৩৮)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, الَّذِىْ تَفُوْتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ  ‘যদি কোন ব্যক্তির আছরের ছালাত ছুটে যায়, তাহ’লে যেন তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল’।[4]

তিনি আরো বলেন, مَنْ تَرَكَ صَلاَةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ  ‘যে ব্যক্তি আছরের ছালাত ছেড়ে দিল, তার আমল বিনষ্ট হয়ে গেল’।[5]

তিনি আরো বলেন,

خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللهُ تَعَالَى مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلاَّهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوْعَهُنَّ وَخُشُوْعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ لَهُ عَلَى اللهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ-

‘পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত যেগুলিকে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের উপরে ফরয করেছেন, যে ব্যক্তি এগুলির জন্য সুন্দরভাবে ওযূ করবে, ওয়াক্ত মোতাবেক ছালাত আদায় করবে, রুকূ ও খুশূ‘-খুযূ‘ পূর্ণ করবে, তাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহর অঙ্গীকার রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এগুলি করবে না, তার জন্য আল্লাহর কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন, ইচ্ছা করলে আযাব দিতে পারেন’।[6]

৪. গোপনীয়তা রক্ষা করা আমানত এবং তা প্রকাশ করা খিয়ানত :

বন্ধুত্ব বা সৎভাব থাকার ফলে মানুষ একে অপরের নিকট অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় বিষয় আলোচনা করে থাকে, সে বিষয়গুলি গোপন রাখা ঈমানের দাবী। কিন্তু কোন কারণ বশতঃ উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক শীতল হওয়ায় অনেকে অতীতের গোপন বিষয় ফাঁস করে দেয়, যেটা অন্যায় এবং আমানতের খেয়ানত। এটা মানুষের নীচুতা ও ঈমানী দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। ইসলাম গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারে  অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِىَ أَمَانَةٌ

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘কোন লোক কোন কথা বলার পর আশেপাশে তাকালে তার উক্ত কথা (শ্রবণকারীর জন্য) আমানত বলে গণ্য’।[7]

রাসূল (ছাঃ) অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার বিষয়ে বলেন, وَمَنْ سَتَرَ عَلَى مُسْلِمٍ سَتَرَ اللهُ عَلَيْهِ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللهُ فِى عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِى عَوْنِ أَخِيهِ.  ‘যে লোক দুনিয়ায় কোন মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যতক্ষণ বান্দাহ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তা‘আলাও তার সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকেন’।[8]

তিনি আরো বলেন, الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ ‘পরামর্শ দাতা হ’ল আমানতদার’।[9] সুতরাং যে কোন বিষয়ে পরামর্শ দিলে তা রক্ষা করা আমানত।

৫. দাম্পত্য জীবনের গোপন বিষয় রক্ষা করা :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِى إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِى إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا ‘ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্টতর হবে যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে শয্যা গ্রহণ করে এবং তার স্ত্রীও তার সাথে শয্যা গ্রহণ করে, অতঃপর তার (স্ত্রীর) গোপনীয়তা প্রকাশ করে দেয়’।[10]

৬. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হেফাযত করা :

আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টি প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তথা চোখ, কান, জিহবা, হাত-পা, লজ্জাস্থান ইত্যাদি আমানত স্বরূপ। এগুলোকে সর্বপ্রকার পাপ ও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে হেফাযত করা যরূরী। কেননা আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত এসমস্ত নে‘মত সম্পর্কে মানুষ জিজ্ঞাসিত হবে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا ‘নিশ্চয়ই কান, চোখ, হৃদয় ওদের প্রত্যেকে জিজ্ঞাসিত হবে’ (বনী ইসরাঈল ১৭/৩৬)

(ক) দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তির হেফাযত করা : আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُوْرُ ‘চক্ষুর অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত’ (মুমিন ৪০/১৯)

চোখে দেখা ও কান দিয়ে শ্রবণ করা বিষয় হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। চোখ ও কানের হেফাযত হ’ল ঈমান ও চরিত্র বিনষ্টকারী গান-বাজনা ও যাবতীয় অশ্লীল ভিডিও চিত্র থেকে দূরে থাকা। এগুলো এমন এক ক্ষতিকর মাধ্যম যার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে হৃদয়ে ঈমানী নূর নিভে যায় এবং মানুষকে নানারূপ অপকর্মে লিপ্ত করে। সম্প্রতি নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, শিশু-কিশোরদের প্রতি নির্যাতন সহ সামাজিক নানা অপরাধের মূলে অশ্লীল সিনেমা, গান-বাজনা এবং নীল ছবির সহজলভ্যতা অন্যতম কারণ। এগুলো দুনিয়াবী বিপর্যয়ই কেবল ডেকে আনে না, এগুলোর জন্য রয়েছে আখেরাতে ভয়ঙ্কর শাস্তি।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِيْ لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِيْنٌ-

‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ হ’তে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য ক্রয় করে নেয় এবং আল্লাহ প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি’ (লুকমান ৩১/৬)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

فِى هَذِهِ الأُمَّةِ خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَقَذْفٌ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَمَتَى ذَاكَ قَالَ إِذَا ظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُوْرُ.

‘ভূমি ধস, চেহারা বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণ স্বরূপ আযাব এ উম্মতের মাঝে ঘনিয়ে আসবে। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! কখন এসব আযাব সংঘটিত হবে? তিনি বললেন, যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র বিস্তৃতি লাভ করবে এবং মদ্যপানের সয়লাব শুরু হবে’।[11]

(খ) যবান ও লজ্জাস্থানের হেফাযত করণ :

এগুলোর হেফাযতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হ’ল অন্যের গীবত বা পরনিনদা না করা, মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষী প্রদান করা থেকে বিরত থাকা, অন্যের বিরুদ্ধে চক্রান্ত না করা, কারো প্রতি অপবাদ প্রদান না করা, ব্যভিচার ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্ম তৎপরতা থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি। কেননা পৃথিবীতে যত ফিৎনা-ফাসাদ, গোলযোগ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সহ যত অনাচার, অপকর্ম সংঘটিত হয় তার অধিকাংশই হয়ে থাকে যবান ও লজ্জাস্থানের দ্বারা, আর এ দু’টোকে সংযত রাখার জন্য ইসলাম বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করে।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ يَضْمَنْ لِىْ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ  ‘যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্ত্ত (জিহবা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্ত্ত (লজ্জাস্থান)-এর (হেফাযতের) যামিন হবে আমি তার জান্নাতের যিম্মাদার হব’।[12] অন্যত্র তিনি বলেন, مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে নতুবা চুপ থাকে’।[13]

তিনি বলেন, إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يَتَبَيَّنُ فِيْهَا، يَزِلُّ بِهَا فِى النَّارِ أَبْعَدَ مِمَّا بَيْنَ الْمَشْرِقِ ‘নিশ্চয়ই বান্দা পরিণাম চিন্তা ব্যতিরেকেই এমন কথা বলে, যে কথার কারণে সে প্রবেশ করবে জাহান্নামের এমন গভীরে, যার দূরত্ব পূর্ব (পশ্চিম)-এর দূরত্বের চেয়েও বেশী।[14] অর্থাৎ নেক আমল করার পরেও কুফরী কথার কারণে বান্দার এমন দূরবস্থা হবে।

আবু মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (ছাঃ)-কে প্রশ্ন করা হ’ল, أَىُّ الْمُسْلِمِيْنَ خَيْرٌ قَالَ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُوْنَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ. ‘কোন ব্যক্তি মুসলমানদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেন, যার জিহবা ও হাত থেকে অন্যান্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে’।[15]

তিনি আরো বলেন,وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِى النَّارِ عَلَى وُجُوْهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ- ‘মানুষকে শুধুমাত্র জিহবার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’।[16]

৭. জাগতিক বস্ত্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা ও প্রকৃত হকদারের নিকট তা হস্তান্তর করা :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوْا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللهَ كَانَ سَمِيْعًا بَصِيْرًا-

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানত সমূহকে তার যথার্থ হকদারগণের নিকটে পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সর্বোত্তম উপদেশ দান করছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (নিসা ৪/৫৮)

ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪ হিঃ) অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘উপরোক্ত আয়াত দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার সমস্ত হক আদায় করাও এর মধ্যে শামিল। যেমন ছালাত, যাকাত, ছিয়াম, কাফফারা ও মানত সম্পাদন করা ইত্যাদি। এমনিভাবে বান্দার হক পরস্পরের প্রতি যেমন গচ্ছিত সম্পদ এবং এ ব্যতীত যাকিছু আমানত স্বরূপ রাখা হয়। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ঐ (আমানতের) হক আদায়ের নির্দেশ প্রদান করেন, সুতরাং যে এর হক আদায় করবে না, ক্বিয়ামতের দিন তার থেকে তা আদায় করে নেয়া হবে।[17]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوْقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ  ‘ক্বিয়ামতের দিন প্রত্যেক হকদারকে তার হক আদায় করে দেয়া হবে। এমনকি শিং বিশিষ্ট  ছাগল  কোন শিং বিহীন  ছাগলকে মেরে

থাকলে তার প্রতিশোধও গ্রহণ করা হবে’।[18]

৮. আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ পালন করা :

আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا لَا تَخُوْنُوْا اللهَ وَالرَّسُوْلَ وَتَخُوْنُوْا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ، وَاعْلَمُوْا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيْمٌ-

‘হে মুমিনগণ! তোমরা (অবাধ্যতার মাধ্যমে) আল্লাহ ও রাসূলের সাথে খেয়ানত কর না এবং (এর অনিষ্টকারিতা) জেনে-শুনে তোমাদের পরস্পরের আমানত সমূহে খেয়ানত কর না। আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পরীক্ষার বস্ত্ত মাত্র। এর চাইতে মহা পুরস্কার রয়েছে আল্লাহর নিকট (অর্থাৎ এগুলির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জান্নাত তালাশ কর)’ (আনফাল ৮/২৭-২৮)

অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মুমিন বান্দাদের নির্দেশ প্রদান করছেন যে, তারা যেন আল্লাহ তা‘আলার আদেশ-নিষেধের আমানতকে যথাযথভাবে পালন করেন, যা তিনি আসমান-যমীন ও পাহাড়ে পেশ করেছিলেন। যে ব্যক্তি তা পালন করবে তার জন্য রয়েছে প্রতিদান এবং যে তা লঙ্ঘন করবে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর আদেশ-নিষেধের খিয়ানতকারী। আল্লাহ মুমিন বান্দাদের স্মরণ করে দেন যে, তারা যেন পৃথিবীর মোহে পড়ে অন্যের সম্পদের খেয়ানত না করে, সন্তান-সন্ততির মায়ায় পড়ে আখেরাতকে বিসর্জন না দেয়। বরং মুমিন হালাল-হারামকে যথাযথভাবে বেছে চলবে।

মক্কাবিজয়ের প্রাক্কালে বদরী ছাহাবী হাতিব ইবনু আবী বালতা‘আহ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পরিকল্পনা মক্কার কাফিরদের জানানোর জন্য জনৈকা মহিলাকে অর্থের বিনিময়ে মক্কায় চিঠি প্রেরণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল মক্কায় থাকা তাঁর পরিবার-পরিজনদের সামরিক পরিকল্পনার আগাম সংকেত জানিয়ে দিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অহী মারফত বিষয়টি জানতে পেরে চিঠিটা উদ্ধার করেন। পরে হাতেবকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে তিনি  বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! মক্কায় আমার কোন আত্মীয়-স্বজন নেই, এ সংবাদ তাদের জানালে হয়তো এর বিনিময়ে তারা আমার পরীবারকে হেফাযত করবে। তার একথা শোনার পর ওমর (রাঃ) বললেন,إِنَّهُ قَدْ خَانَ اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَالْمُؤْمِنِيْنَ، فَدَعْنِى فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ. ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর খেয়ানত করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার শিরশ্ছেদ করব। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ওমরকে বললেন, ওকে ছেড়ে দাও!

মূলতঃ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর উচ্চ মর্যাদার কারণে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে ক্ষমা করে দেন।[19]

আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ثَلاَثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلاَوَةَ الإِيمَانِ أَنْ يَكُونَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إِلاَّ لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِى الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِى النَّارِ ‘তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে : ১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার নিকট অন্য সকল কিছু হ’তে অধিক প্রিয় হওয়া, ২. কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসা, ৩. কুফরীতে প্রত্যাবর্তন করাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মত অপসন্দ করা’।[20]

তিনি আরো বলেন, لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِيْنَ ‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সকল মানুষের অপেক্ষা অধিক প্রিয় পাত্র হই’।[21]

৯. আরোপিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالإِمَامُ الَّذِى عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهْوَ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهْوَ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى أَهْلِ بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ وَهِىَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ، وَعَبْدُ الرَّجُلِ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ، أَلاَ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ-

‘জেনে রেখ! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব নেতা, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল, তিনি তার  অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল, সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার ও সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কোন ব্যক্তির দাস স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব জেনে রাখ, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’।[22]

উল্লেখিত হাদীছটি ব্যাপক অর্থে সর্বস্তরের দায়িত্বকে শামিল করে। পিতা-মাতা : তাদের দায়িত্ব হ’ল সন্তানদের আদব-আখলাকে সৎ চরিত্রবান করে গড়ে তোলা, তাওহীদ ও দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাতে ইসলামের সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারে। কেননা পিতা-মাতার দিক নির্দেশনা ও তাদের আচরণ সন্তানের ওপর দারুণভাবে প্রভাব ফেলে।

শিক্ষক : তাদের কর্তব্য হ’ল পূর্ণরূপে পড়ানোর হক আদায় করা ও এতে ফাঁকি না দেওয়া। বেতন বা পারিশ্রমিক পাওয়ার পরেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অভিভাবকদের থেকে অর্থ আদায় না করা। অথচ জাতির জন্য এটা কলঙ্ক যে, শিক্ষা বিভাগ হ’ল দুর্নীতির মধ্যে একটা বড় অংশ। এর পরে কোচিং বাণিজ্য তো আছেই।

বিচারক : তার দায়িত্ব হ’ল ন্যায় বিচার করা, নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেও হক বিচার  থেকে সরে না আসা। ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা: তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হ’ল পণ্যে ভেজাল না দেওয়া, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ না করা, ওযনে কম না দেওয়া, ক্রেতাকে প্রতারিত না করা। শ্রমিক : তার কর্তব্য হ’ল পূর্ণভাবে কাজের দায়িত্ব পালন করা, কাজে ফাঁকি না দেওয়া। মালিক পক্ষের ক্ষতি সাধন হয় এমন কোন কাজ না করা। এভাবে সকল শ্রেণীর সকল পেশার দায়িত্বশীলদের হুঁশিয়ার থাকা এবং নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা। কেননা দায়িত্ব হ’ল আমানত। আর এ আমানত সম্পর্কে আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হতে হবে। অতএব সাবধান।

দায়িত্বে অবহেলাকারী ও খেয়ানতকারীর পরিণতি :

(ক) হাসান বছরী (রহঃ) বলেন,

أَنَّ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ زِيَادٍ عَادَ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ فِىْ مَرَضِهِ الَّذِىْ مَاتَ فِيْهِ فَقَالَ لَهُ مَعْقِلٌ إِنِّىْ مُحَدِّثُكَ حَدِيْثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ مَا مِنْ عَبْدٍ اسْتَرْعَاهُ اللهُ رَعِيَّةً، فَلَمْ يَحُطْهَا بِنَصِيْحَةٍ، إِلاَّ لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ.

ওবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) মালিক ইবনু ইয়াসারের মৃত্যুশয্যায় তাকে দেখতে গেলেন। তখন মালিক (রাঃ) তাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীছ বর্ণনা করছি যা আমি নবী করীম (ছাঃ) থেকে শুনেছি। আমি নবী করীম (ছাঃ) থেকে শুনেছি যে, কোন বান্দাকে যদি আল্লাহ জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করেন, আর সে কল্যাণ কামনার সঙ্গে তাদের তত্ত্বাবধান না করে, তাহ’লে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না’।[23]

(খ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,مَا مِنْ وَالٍ يَلِى رَعِيَّةً مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ، فَيَمُوْتُ وَهْوَ غَاشٌّ لَهُمْ، إِلاَّ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ- ‘কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মুসলিম জনসাধারণের দায়িত্ব লাভ করে যদি সে তাদের সাথে ধোঁকাবাজি করে মৃত্যুবরণ করে তাহ’লে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন’।[24]

তিনি আরো বলেন, مَنْ وَلاَّهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِيْنَ فَاحْتَجَبَ دُوْنَ حَاجَتِهِمْ وَخَلَّتِهِمْ وَفَقْرِهِمُ احْتَجَبَ اللهُ عَنْهُ دُوْنَ حَاجَتِهِ وَخَلَّتِهِ وَفَقْرِهِ. قَالَ فَجَعَلَ رَجُلاً عَلَى حَوَائِجِ النَّاسِ. ‘যাকে আল্লাহ মুসলমানদের কোন কাজের শাসক ও তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন আর সে তাদের প্রয়োজন, চাহিদা ও দরিদ্রাবস্থা দূর করার প্রতি এতটুকু ভ্রূক্ষেপ না করে, আল্লাহও ক্বিয়ামতের দিন তার প্রয়োজন, চাহিদা ও দরিদ্র পূরণের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না। একথা শুনে মু‘আবিয়া (রাঃ) জনগণের প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখার ও তা পূরণ করার জন্য একজনকে নিয়োগ করেন’।[25]

১০. যোগ্য ব্যক্তির নিকট দায়িত্ব অর্পণ :

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ. قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا قَالَ إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ  ‘যখন আমানত নষ্ট হয়ে যাবে তখন ক্বিয়ামতের অপেক্ষা করবে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমানত কিভাবে নষ্ট হবে? তিনি বললেন, যখন দায়িত্ব কোন অযোগ্য ব্যক্তির উপর ন্যস্ত করা হবে, তখনই ক্বিয়ামতের অপেক্ষা করবে’।[26]

হুযায়ফাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের কাছে দু’টি হাদীছ বর্ণনা করেছেন। একটির (বাস্তবায়ন) আমি দেখেছি এবং দ্বিতীয়টির অপেক্ষা করছি। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন,

أَنَّ الأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِىْ جَذْرِ قُلُوْبِ الرِّجَالِ، ثُمَّ عَلِمُوْا مِنَ الْقُرْآنِ، ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ. وَحَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِهَا قَالَ يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ، فَيَظَلُّ أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ الْوَكْتِ، ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ الْمَجْلِ، كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ، فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا، وَلَيْسَ فِيْهِ شَىْءٌ، فَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُوْنَ فَلاَ يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِّى الأَمَانَةَ، فَيُقَالُ إِنَّ فِىْ بَنِىْ فُلاَنٍ رَجُلاً أَمِيْنًا، وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَظْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدَهُ. وَمَا فِى قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ،

‘আমানত মানুষের অন্তরের গভীরে সংরক্ষিত। তারপর তারা কুরআন থেকে জ্ঞান লাভ করে। অতঃপর তারা নবী করীম (ছাঃ)-এর সুন্নাহ থেকে জ্ঞান লাভ করে। নবী করীম (ছাঃ) আবার বর্ণনা করেছেন আমানত তুলে নেয়া সম্পর্কে, যে ব্যক্তি এক সময় নিদ্রা গেল, তার অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে, তখন একটি বিন্দুর মত চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে। আবার ঘুমাবে, তখন আবার উঠিয়ে নেয়া হবে। অতঃপর তার চিহ্ন ফোস্কার মত অবশিষ্ট থাকবে। তোমার পায়ের উপর গড়িয়ে পড়া অঙ্গার সৃষ্ট চিহ্ন, যেটিকে তুমি ফোলা মনে করবে, প্রকৃতপক্ষে তাতে কিছুই থাকবে না। মানুষ বেচাকেনা করতে থাকবে বটে, কিন্তু কেউ আমানত আদায় করবে না। তারপর লোকেরা বলাবলি করবে যে, অমুক বংশে একজন আমানতদার লোক আছে। সে ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে যে, সে কতই না জ্ঞানী, কতই না হুঁশিয়ার, কতই না বাহাদুর? অথচ তার অন্তরে সরিষা দানার পরিমাণ ঈমানও থাকবে না’।[27]

উপরে উল্লিখিত হাদীছ দু’টির তিক্ত অভিজ্ঞতা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। পৃথিবীতে যেমন মানুষের অভাব নেই, তেমনি দুনিয়া জুড়ে শিক্ষিত বা জ্ঞানীর স্বল্পতা নেই। কিন্তু কথা হ’ল জ্ঞান লাভ করার পরেও প্রকৃত জ্ঞানানুযায়ী আমল পরিলক্ষিত হয় না অনেকের মাঝেই। ফলে তার মাঝে মানবিক গুণ খুঁজে পাওয়া যায় না। হিংস্র পশুর কাছে অন্য সব পশুর যেমন নিরাপত্তা থাকে না, সুযোগ পেলেই অন্য পশুদের উপর হামলে পড়ে; ওর হিংস্র থাবায় তাদের অস্তিত্ব ছিন্ন ভিন্ন হ’তে থাকে। তেমনি বাহ্যিকভাবে কোন ব্যক্তিকে সৎ ও আল্লাহভীরু মনে হ’লেও তার অন্তরে যদি তাক্বওয়া না থাকে, তাহ’লে তার থেকে আমানতদারী আশা করা যায় না। এর ফলে তার হাতেই দেশ ও জাতির সর্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়, অন্যের অধিকার, সম্মান, সম্পদ ও ইয্যতের নিরাপত্তা বিনষ্ট হ’তে থাকে। সে হয়ে ওঠে মানুষরূপী পশু। বস্ত্ততঃ এ সমস্ত হীন ও অযোগ্য ব্যক্তিরাই জাতির নেতৃত্বের আসনে বসে যাচ্ছে, যার ফলে অশান্তি, অস্থিরতা, মানুষ ও জান-মালের অনিরাপত্তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলতঃ সমাজ ব্যবস্থা আজ ধ্বংসের পথে ধাবিত। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যোগ্য ও নীতিবান মানুষকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য বিশেষভাবে তাকীদ করেন।

১১. প্রশাসনিক কাজে বিশ্বস্ত লোককে নিয়োগ প্রদান :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَالَّذِيْنَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُوْنَ ‘যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে’ (মুমিনূন ২৩/৮)

হুযায়ফাহ (রাঃ) বলেন, ‘নাজরান এলাকার দু’জন সরদার আকিব এবং সাইয়িদ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে এসে তাঁর সঙ্গে মুবাহালা করতে চেয়েছিল। বর্ণনাকারী হুযায়ফাহ (রাঃ) বলেন, তখন তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল, এরূপ করো না। কারণ আল্লাহর কসম! তিনি যদি নবী হয়ে থাকেন আর আমরা তাঁর সঙ্গে মুবাহালা (পরস্পরকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অভিশম্পাৎ) করি তাহ’লে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী সন্তান-সন্ততি (কেউ) রক্ষা পাবে না। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলল, আপনি আমাদের নিকট হ’তে যা চাইবেন আপনাকে আমরা তাই দেব। তবে এজন্য আপনি আমাদের সঙ্গে একজন আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিন। আমানতদার ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে আমাদের সঙ্গে পাঠাবেন না। তিনি বললেন, আমি তোমাদের সঙ্গে প্রকৃতই একজন আমানতদার পাঠাবো। এ পদে ভূষিত হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণ আগ্রহান্বিত হ’লেন। তখন তিনি বললেন, হে আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ! তুমি উঠে দাঁড়াও। তিনি যখন দাঁড়ালেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, এ হচ্ছে এই উম্মতের সত্যিকার আমানতদার’।[28]

যোগ্য ও আমানতদার ব্যক্তি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর:

মিসরের বাদশাহ স্বপ্নে দেখলেন যে, সাতটি মোটা তাজা গাভী, এদেরকে অন্য সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে ফেলছে, তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। স্বপ্নটির তাৎপর্য জানার জন্য বাদশাহ রাজ্যের জ্ঞানী ও ব্যাখ্যাতাদের ডাকলেন। ঘটনাটি প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّيْ أَرَى سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنْبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِنْ كُنْتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُوْنَ، قَالُوْا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيْلِ الْأَحْلَامِ بِعَالِمِيْنَ-

‘বাদশাহ বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটা-তাজা গাভী। এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে ফেলছে এবং সাতটি সবুজ শিষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে সভাসদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দাও, যদি তোমরা স্বপ্ন ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক। তারা বলল, এটি কল্পনা প্রসূত স্বপ্ন মাত্র। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের জানা নেই’ (ইউসুফ ১২/৪৩-৪৪)

পারিষদবর্গ স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হ’লে কারামুক্ত এক ব্যক্তি যে, ইউসুফ (আঃ)-এর সাথে কারাগারে ছিল, সে ইউসুফ (আঃ)-এর গুণাবলী, জ্ঞানের গভীরতা, স্বপ্নব্যাখ্যায় অসাধারণ পারদর্শিতা এবং মযলূম হয়ে তখনও কারাগারে আবদ্ধ থাকার কথা বাদশাহর নিকট বর্ণনা করে স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বলে দেয়ার জন্য ইউসুফ (আঃ)-এর নিকট তাকে পাঠানোর অনুরোধ করে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَقَالَ الَّذِيْ نَجَا مِنْهُمَا وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ أَنَا أُنَبِّئُكُمْ بِتَأْوِيْلِهِ فَأَرْسِلُوْنِ ‘তখন দু’জন কারাসাথীর মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল, দীর্ঘকাল পরে তার (ইউসুফের কথা) স্মরণ হ’ল এবং বলল, আমি আপনাদেরকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দেব। আপনারা আমাকে (জেলখানায়) পাঠিয়ে দিন’ (ইউসুফ ১২/৪৫)

[চলবে]



[1]. কুরতুবী, তাফসীর, সূরা আহযাব ৩৩/৭২।

[2]. ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৪০০৫, তিরমিযী, হা/২১৬৮।

[3]. বুখারী ও মুসলিম, ছহীহাহ হা/২৮৬৮; ছহীহ তিরমিযী, হা/২১৬৯।

[4]. বুখারী হা/৫৫২।

[5]. আবুদাঊদ হা/৪৫১, ১২৭৬।

[6]. আহমাদ, আবুদাঊদ, মালেক, নাসাঈ, মিশকাত হা/৫৭০।

[7]. তিরমিযী, হা/১৯৫৭; আবুদাঊদ হা/৪৮৬৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৮৬; হাদীছ হাসান।

[8]. মুসলিম, তিরমিযী, হা/১৯৩০; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/১২২৫।

[9]. আবু দাউদ হা/৫১২৮; তিরমিযী, হা/২৩৬৯।

[10]. মুসলিম হা/১৪৩৭।

[11]. তিরমিযী হা/২২১২; ছহীহাহ হা/১৬০৪, হাদীছ হাসান।

[12]. বুখারী হা/৬৪৭৪।

[13]. বুখারী হা/৬৪৭৫।

[14]. বুখারী হা/৬৪৭৭; মুসলিম হা/২৯৮৮।

[15]. বুখারী, মুসলিম; ছহীহ তিরমিযী, হা/২৬২৮।

[16]. তিরমিযী হা/২৬১৬; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৭৩।

[17]. ইবনু কাছীর, তাফসীর, সূরা নিসা ৪/৫৮।

[18]. মুসলিম হা/২৫৮২; তিরমিযী হা/২৪২০; মিশকাত হা/৫১২৮।

[19]. বুখারী হা/৩৯৪৩, ৬২৫৯; ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা আনফাল ৮/২৭-২৮; আর-রাহীকুল মাখতূম, পৃঃ ৩৯৮।

[20]. বুখারী হা/১৬, ‘ঈমান’ পর্ব, ‘ঈমানের স্বাদ’ অধ্যায়; মুসলিম হা/৪৩; আহমাদ হা/১২০০২।

[21]. বুখারী হা/১৫, ঈমান পর্ব, ‘আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে ভালবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত’ অধ্যায়; মুসলিম হা/৪৪; আহমাদ হা/১২৮১৪।

[22]. বুখারী হা/৭১৩৮।

[23]. বুখারী হা/৭১৫০; মুসলিম হা/১৪২।

[24]. বুখারী হা/৭১৫১; মুসলিম হা/১৪২; আহমাদ হা/২০১৩১।

[25]. আবুদাঊদ, তিরমিযী, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/৬৫৮।

[26]. বুখারী হা/৬৪৯৬।

[27]. বুখারী হা/৬৪৯৭; মুসলিম হা/১৪৩; আহমাদ হা/২৩৩১৫; ছহীহ তিরযিমী, হা/২১৭৯।

[28]. বুখারী হা/৪৩৮০।

 

HTML Comment Box is loading comments...