প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/১২১) : কোন কোন সময় সালাম দেওয়া বা নেওয়া নিষিদ্ধ?

-সজল*, হারুপুর, রাজশাহী।

উত্তর : সালাম সর্বাবস্থায় আদান-প্রদান করা যায়। রাসূল (ছাঃ) ছালাতরত অবস্থাতেও হাতের ইশারায় সালামের উত্তর দিতেন (আবুদাউদ হা/৯২৬, তিরমিযী হা/৩৬৭, মিশকাত হা/৯৯১)। কেবল পেশাব-পায়খানার সময় তিনি সালামের উত্তর দিতেন না, বরং বের হয়ে উত্তর দিতেন (যদি সেই ব্যক্তি মওজুদ থাকত) (বুখারী হা/৩৩৭, আবুদাঊদ হা/১৭, মিশকাত হা/৪৬৭, ৫৩৫)

*[আরবীতে ইসলামী নাম রাখুন ও সেই নামে ডাকুন (স.স.)]

প্রশ্ন (২/১২২) : মুসলিম মৃতব্যক্তির কাফন-দাফন কার্যে কোন হিন্দু অংশগ্রহণ করতে পারবে কি?

-আব্দুল মুত্তালিব

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : মুমিনের কাফন-দাফন সম্পন্ন করা অত্যন্ত নেকীর কাজ। মুসলমানগণ নেকীর আশায় উক্ত কাজে শরীক হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলিম মাইয়েতকে গোসল করাল। অতঃপর তার গোপনীয়তাসমূহ গোপন রাখল, আল্লাহ তাকে চল্লিশ বার ক্ষমা করবেন। যে ব্যক্তি মাইয়েতের জন্য কবর খনন করল, অতঃপর দাফন শেষে তা ঢেকে দিল, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত পুরস্কার দিবেন জান্নাতের একটি বাড়ীর সমপরিমাণ, যেখানে আল্লাহ তাকে রাখবেন। যে ব্যক্তি মাইয়েতকে কাফন পরাবে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামতের দিন জান্নাতের মিহি ও মোটা রেশমের পোষাক পরাবেন’ (বায়হাক্বী ৩/৩৯৫; ত্বাবারাণী, ছহীহ আত-তারগীব হা/৩৪৯২, সনদ ছহীহ)। কিন্তু হিন্দু বা অমুসলিমদের উক্ত নিয়ত থাকে না। তবে সাধারণভাবে তারা ছোট-খাট যেকোন সহযোগিতা করতে পারে।

প্রশ্ন (৩/১২৩) : আমাদের মসজিদের ইমাম জুম‘আ ব্যতীত কোন ছালাত আদায় করে না এবং সিগারেট-জর্দা-গুল ব্যবহার করে। তাকে সরিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়। এক্ষণে আমাদের করণীয় কি?

-আব্দুল্লাহ

মাটিয়ানী, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ইমাম যদি জুম‘আ ব্যতীত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত তরককারী হয়, তবে তার পিছনে ছালাত সিদ্ধ হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘মুমিন ও কাফির-মুশরিকের মধ্যে পার্থক্য হ’ল ছালাত’ (মুসলিম হা/১৩৪, মিশকাত হা/৫৬৯)। প্রশ্নে উল্লিখিত অবস্থায় ইমামকে নছীহত করতে হবে অথবা এড়িয়ে যেতে হবে। আর ঐ ইমামের ছালাত কবুল হয় না মুছল্লীরা যাকে শারঈ কারণে অপসন্দ করে (তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১১২২, ২৮)

প্রশ্ন (৪/১২৪) : অনেকে বলে থাকে যে, রাতের অন্ধকারে ছালাত আদায় করা ঠিক নয়, বরং আলো জ্বালিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। এ বক্তব্য সঠিক কি-না জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুহসিন আলম, ছোট বনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : বক্তব্যটি ভিত্তিহীন। আলো ছালাতের কবুল হওয়ার কোন শর্ত নয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় গৃহে অনেক সময় অন্ধকারে ছালাত আদায় করেছেন (বুখারী হা/৩৮২; মুসলিম হা/৫১২, মিশকাত হা/৭৮৬, ‘সুৎরা’ অনুচ্ছেদ)। তবে মসজিদে আলোর ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। যাতে সাপ-বিচ্ছু বা অন্য কিছুর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং মুছল্লী সহজে জামা‘আতে শরীক হ’তে পারে।

প্রশ্ন (৫/১২৫) : মহিলারা ছালাত অবস্থায় পায়ের পাতা ঢেকে রাখবে কি?

-রায়হানা, পাবনা।

উত্তর : পর্দার মধ্যে মহিলা পরিবেশে প্রয়োজন নেই। অন্য সময়ে যথাসাধ্য ঢেকে রাখবে। কেননা দু’হাতের তালু ও চেহারা ব্যতীত মহিলাদের সর্বাঙ্গ সতরের অন্তর্ভুক্ত (আবুদাঊদ হা/৪১০৪; মিশকাত হা/৪৩৭২)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহ্কে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)

প্রশ্ন (৬/১২৬) : কথা কাটাকাটির কারণে এবং পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে ৬/৭ মাস যাবৎ বান্ধবীর সাথে কথা বলিনি। এক্ষণে এর জন্য কি আমি গোনাহগার হচ্ছি?

-রাশীদা, নাটোর।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তিন দিনের বেশী কোন মুসলমানের জন্য অপর মুসলিম হ’তে সম্পর্ক ছিন্ন রাখা হালাল নয়। তাদের উভয়ের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম করে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০২৭ ‘সালাম’ অনুচ্ছেদ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে এবং ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৫০৩৫)। অতএব মন থেকে দূরত্ব পরিহার করতে হবে এবং সম্ভবপর যেকোন মাধ্যমে দ্রুত তার সাথে যোগাযোগ করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নিতে হবে।

প্রশ্ন (৭/১২৭) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, কোন ব্যক্তি ওয়ায মাহফিলে যাওয়ার ইচ্ছা করে সামনের পা বাড়িয়ে পিছনের পা তোলার আগেই সকল গোনাহ মাফ হয়ে যায়। একথার কোন সত্যতা আছে কি?

-মাহবূব, শঠীবাড়ী, রংপুর।

উত্তর : এইরূপ শব্দে হাদীছ পাওয়া যায় না। তবে নেকীর উদ্দেশ্যে পূর্ণ ইখলাছের সাথে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক কোন আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করলে অসংখ্য নেকী পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা নেকী ও পাপ লিখেন। অতএব যে ব্যক্তি কোন নেকী করার ইচ্ছা করে তা বাস্তবায়ন করতে পারে না, আল্লাহ তার পূর্ণ নেকী লিখে থাকেন। আর যে ব্যক্তি তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তার আমলনামায় ১০ থেকে ৭শ’র অধিক নেকী লেখা হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৩৭৪ ‘আল্লাহর রহমত প্রশস্ত’ অনুচ্ছেদ, ‘দো‘আ’ অধ্যায়)। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য রাস্তায় বের হ’ল, আল্লাহ তাঁর জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দিবেন (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৪)। তিনি বলেন, ‘যখন কোন কওম আল্লাহ্কে স্মরণ করার জন্য একত্রিত হয়ে বসে, তখন ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে নেন, আল্লাহর রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে এবং তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর পাশের ফেরেশতাগণের সামনে তাদের প্রশংসামূলক আলোচনা করেন’(মুসলিম হা/২৭০০; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৫০৯; মিশকাত হা/২২৬১)

প্রশ্ন (৮/১২৮) : জনৈক দানশীল ধার্মিক ব্যক্তি কিছু স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার পর মারা গেছেন। বর্তমানে সেগুলিতে নাচ-গানসহ বিভিন্ন অনৈসলামিক কর্মকান্ড হয়ে থাকে। এক্ষণে এসব পাপের ভার কি কেবল বর্তমান পরিচালকদের না উক্ত প্রতিষ্ঠাতার আমলনামাতেও যুক্ত হবে?

-আব্দুল্লাহ

সোহাগদল, নেছারাবাদ, পিরোজপুর।

উত্তর : যেহেতু প্রতিষ্ঠাতা মারা যাওয়ার পর এসব কার্যকলাপ শুরু হয়েছে, সেহেতু তিনি এর জন্য দায়ী হবেন না। বরং বর্তমান পরিচালকগণ এর জন্য গুনাহগার হবে। আল্লাহ বলেন, ‘একজনের পাপের বোঝা আরেকজন বইবে না’ (আন‘আম ৬/১৬৪)। তবে যদি এগুলির পিছনে প্রতিষ্ঠাতার সমর্থন ছিল বলে প্রমাণিত হয়, তবে তিনিও দায়ী হবেন।

প্রশ্ন (৯/১২৯) : আমার জানা মতে, হিন্দুরা যেমন সিঁদুর ব্যবহার করে স্বামীর মঙ্গলের জন্য, মুসলিমদের মাঝেও নাকফুল পরিধানের নীতি এরূপ কারণেই এসেছে। এক্ষণে মহিলাদের জন্য এটা ব্যবহার করা শরী‘আত সম্মত হবে কি?

-হাফীযুর রহমান

মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভুল। কোন মুসলিম মহিলাই স্বামীর মঙ্গলের জন্য নাকফুল পরে না। বরং এটি নারীদের অলংকার বিশেষ। যা তারা তাদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিধান করে থাকে। অতএব নাকফুল ব্যবহারে শরী‘আতে কোন বাধা নেই (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২৪/৩৬)। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় আমার উম্মতের নারীদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৫৯৫, আবুদাঊদ হা/৪০৫৭, মিশকাত হা/৪৩৯৪)। উল্লেখ্য, মেয়েদের কান ফুটানোর বিষয়টিও জায়েয আছে। জাহেলী যুগে এটা করা হ’ত। কিন্তু ইসলামী যুগে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এটাতে কোন আপত্তি করেননি (ফিক্বহুস সুন্নাহ পৃঃ ২/৩৪)

প্রশ্ন (১০/১৩০) : মৃত্যুবরণ করার পর মানুষের কোন আমল কি জারী থাকে?

-মান্না সরকার

পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।

উত্তর: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কেবল তিনটি আমল ব্যতীত। (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ। (যেমন  মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, অনাবাদী জমিকে আবাদকরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল স্থাপন বই ক্রয় করে বা ছাপিয়ে বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি)। (২) ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। (যা মানুষকে নির্ভেজাল তাওহীদ ও ছহীহ সুন্নাহর পথ দেখায় এবং যাবতীয় শিরক ও বিদ‘আত হ’তে বিরত রাখে। উক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাদান করা, ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে সহযোগিতা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমল সম্পন্ন বই-প্রবন্ধ লেখা, ছাপানো ও বিতরণ করা এবং এজন্য অন্যান্য স্থায়ী প্রচার মাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনা করা ইত্যাদি)। (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’। (মৃতের জন্য সর্বোত্তম হাদিয়া হ’ল সুসন্তান, যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ছাদাক্বা করে, তার পক্ষ হ’তে হজ্জ করে ইত্যাদি)। (মুসলিম হা/১৬৩১, মিশকাত হা/২০৩)

অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় বান্দার সাতটি আমল জারী থাকে। (১) দ্বীনী ইলম শিক্ষা দান করা (২) নদী-নালা প্রবাহিত করা (৩) কূপ খনন করা (৪) খেজুর তথা ফলবান বৃক্ষ রোপণ করা (৫) মসজিদ নির্মাণ করা (৬) কুরআন বিতরণ করা (৭) এমন সন্তান রেখে যাওয়া, যে পিতার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে’ (মুসনাদ বাযযার হা/৭২৮৯; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৬০২)। এটি পূর্বের হাদীছের ব্যাখ্যা স্বরূপ।

প্রশ্ন (১১/১৩১) : যে উদ্দেশ্য পূরণের জন্য মানত করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। এক্ষণে মানত আদায় করতে হবে কি? আর যে বস্ত্ত দান করার মানত করা হয়েছিল তার পরিবর্তে সমমানের বস্ত্ত দান করা যাবে কি?

-মি‘রাজুল ইসলাম, কানাডা।

উত্তর : উদ্দেশ্য পূরণ না হ’লে মানত আদায় করতে হবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ৭৬৪২)। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপরে নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই হবে, যার সে নিয়ত করবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১)। দ্বিতীয়তঃ যে জিনিসের মানত মেনেছে সেটাই আদায় করতে হবে, যদি তা আল্লাহর আনুগত্যপূর্ণ কাজ হয়ে থাকে (বুখারী, মিশকাত হা/৩৪২৭)। সমমানের অন্য বস্ত্ত দ্বারা আদায় করা যাবে না। না পারলে কাফফারা দিতে হবে। তা হ’ল দশজন   অভাবগ্রস্তকে মধ্যম মানের খাদ্য অথবা বস্ত্র দান করা অথবা একজন (মুমিন) ক্রীতদাস মুক্ত করা অথবা তিনদিন (একটানা) ছিয়াম রাখা (মায়েদাহ ৮৯, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪২৯)

প্রশ্ন (১২/১৩২) : গোসল কি ওযূর বিকল্প হ’তে পারে? কেউ যদি ভুলবশতঃ কেবল গোসল করে ছালাত আদায় করে, তবে তা কবুল হবে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

চরকুড়া, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : ছালাত কবুল হওয়ার জন্য ওযূ শর্ত (মায়েদাহ ৫/৬)। অতএব গোসল ওযূর বিকল্প হবে না। ওযূ না করে গোসল করলে ছালাতের জন্য পুনরায় ওযূ করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, বায়ু নিঃসরণের পর ওযূ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের ছালাত কবুল করবেন না (বুখারী হা৬৯৫৪/, মুসলিম হা/২২৫)। এছাড়া ওযূ করার পর সর্বাঙ্গ ধৌত করাই গোসলের সুন্নাতী নিয়ম (বুখারী হা/২৪৮, মুসলিম হা/৩১৬, মিশকাত হা/৪৩৫)। অতএব ওযূ ব্যতীত স্রেফ গোসল করে ছালাত আদায় করলে পুনরায় ওযূ করে তা আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন (১৩/১৩৩) : যাকাত ফান্ডের অর্থ ছহীহ আক্বীদা আমলের প্রচারের স্বার্থে নির্মিত মসজিদের সম্প্রসারণ, ইমাম ও মুওয়াযযিনের বেতন ইত্যাদি খাতে ব্যয় করা যাবে কি?

-ডা. মানছূর আলী

তাহেরপুর, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন যাকাত বণ্টনের যেসব খাত উল্লেখ করেছেন, মসজিদ তার অন্তর্ভুক্ত নয় (তওবা ৯/৬০)। অতএব যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ সম্প্রসারণ করা যাবে না (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৭৬, ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, মাসআলা নং ৩৬৮)। ইমাম বা মুওয়াযযিন অভাবগ্রস্থ হ’লে তাদেরকে দেওয়া যাবে। কিন্তু বেতন হিসাবে দেওয়া যাবে না। স্মর্তব্য যে, ইমাম-মুওয়াযযিন হচ্ছেন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তাদের দায়-দায়িত্ব সমাজের উপর ন্যস্ত। সুতরাং সমাজের লোকদের উচিত সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মানজনক ভাতা বা বেতনের ব্যবস্থা করা (আবুদাঊদ হা/৩৫৮৮, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৩৭৪৮)

প্রশ্ন (১৪/১৩৪) : আল্লাহ তা‘আলা একদিন জিবরীল (আঃ)-কে কয়েকটি শহর ধ্বংস করতে বললে তিনি ঘুরে এসে বললেন, শহরগুলির একটিতে একজন আল্লাহভীরু ব্যক্তি রয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁকে সহই শহরটি ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাটির সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুস্তাফীযুর রহমান, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ, যা বিভিন্ন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে (শু‘আবুল ঈমান হা/৭১৮৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১২১৫৬; মিশকাত হা/৫১৫২)। এর সনদে উবায়েদ বিন ইসহাক্ব ও আম্মার বিন সাইফ নামক দু’জন দুর্বল রাবী রয়েছেন (বিস্তারিত দ্রঃ আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/১৯০৪; হায়ছামী ও হাফেয ইরাক্বীও বর্ণনাটিকে যঈফ বলেছেন)

প্রশ্ন (১৫/১৩৫) : আযানের সময় বিভিন্ন মসজিদের আযান শোনা যায়। এক্ষণে যেকোন একটির উত্তর দিলেই যথেষ্ট হবে, না সবগুলিরই উত্তর দিতে হবে?

-মূসা, সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : একটির উত্তর দিলেই যথেষ্ট হবে। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুওয়াযযিন যা বলে তদ্রূপ বল’... (মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৭)। অন্যত্র তিনি এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মুওয়ায্যিনের পিছে পিছে আযানের বাক্যগুলি অন্তর থেকে পাঠ করে..., সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৮)। উল্লেখ্য যে, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ বলার পরে ‘ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলা যাবে না।

প্রশ্ন (১৬/১৩৬) : বিধর্মীদের সাথে অংশীদারী ভিত্তিতে ব্যবসা করা যাবে কি?

-আযীম সরকার, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : নিজ ধর্ম যথাযথভাবে পালন সাপেক্ষে বিধর্মী কোন ব্যক্তির সাথে হালাল ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে না এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে না, তাদের সাথে সদাচরণ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না’ (মুমতাহিনা ৬০/৮)। তিনি বলেন, ‘তোমরা ভাল ও তাক্বওয়াশীল কাজে পরস্পর সহযোগিতা কর। পাপ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৪/২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খায়বারের জমি ও বাগান সেখানকার ইহূদীদেরকে নির্দিষ্ট অংশ প্রদানের শর্তে চাষাবাদ করার জন্য দিয়েছিলেন (বুখারী, মিশকাত হা/২৯৭২)। খেয়াল রাখতে হবে যেন উক্ত ব্যবসায় কোনভাবে সূদ-ঘুষ বা লেনদেনের কমবেশী ও কোনরূপ প্রতারণার আশ্রয় না নেওয়া হয়। কেননা এগুলি ইসলামী ব্যবসানীতির ঘোর বিরোধী।

প্রশ্ন (১৭/১৩৭) : মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফনের সময় আগত আত্মীয়-স্বজনের আপ্যায়নের জন্য মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার ব্যবস্থা করা বা টাকা-পয়সা দিয়ে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে ব্যবস্থা করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-কামরুল হাসান

আটগ্রাম, আত্রাই, নওগাঁ।

উত্তর : মৃত ব্যক্তির বাড়ীতে আত্মীয়-স্বজনের আপ্যায়নের জন্য রান্না-বান্না করা যাবে না। বরং প্রতিবেশীরা বা আত্মীয়-স্বজন উক্ত পরিবারের জন্য রান্না করে খাওয়াবে। মুতার যুদ্ধে জা‘ফর বিন আবু তালেব (রাঃ)-এর মৃত্যু খবর আসলে রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা জা‘ফরের পরিবারের জন্য খাদ্য তৈরী কর। কারণ তার পরিবার এখন শোকে কাতর (তিরমিযী, মিশকাত হা/১৭৩৯, ১৭৪৩)। প্রত্যেক মুসলিম সমাজে এ সুন্নাতী আমল জারী রাখা অবশ্য কর্তব্য। উল্লেখ্য যে, সমাজে মৃতব্যক্তির জানাযায় আগত সকলকে খাওয়ানোর রীতি চালু আছে, যা সুন্নাত পরিপন্থী। অতএব তা পরিত্যাজ্য।

প্রশ্ন (১৮/১৩৮) : কুল, লিচু, আঙ্গুর ইত্যাদি ফল পাকার সময় পাখিরা ক্ষতি করায় চাষীরা সুরক্ষার জন্য জাল টাঙিয়ে রাখে। কিন্তু তাতে পাখি বসে আটকা পড়ে এবং মারা যায়। এক্ষণে এরূপ জাল ব্যবহার করায় শরী‘আতে বাধা আছে কি?

-আব্দুছ ছবূর, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : সম্পদ রক্ষার উপকরণ ব্যবহার করাতে ক্ষতিকারক যে কোন কীট-পতঙ্গ বা পশু-পাখী মারা গেলে তাতে তারা দায়ী হবে না। কেননা প্রত্যেকেরই নিজের সম্পদ রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে ডাকাত বা ছিনতাইকারীকে হত্যা করা হ’লে নিহত ব্যক্তি জাহান্নামী হবে। আর মালিক মারা গেলে সে শহীদ হবে (মুসলিম হা/১৪০; মিশকাত হা/৩৫১৩)

প্রশ্ন (১৯/১৩৯) : বাঘ বা এরূপ কোন হিংস্র প্রাণীর চামড়ার তৈরী জ্যাকেট ব্যবহার করা যাবে কি?

-তাজুল ইসলাম, গাছবাড়ী, সিলেট।

উত্তর : এরূপ পোষাক ব্যবহার করা যাবে না। মিক্বদাম (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) হিংস্র জন্তুর চামড়া পরতে এবং তার উপর বসতে নিষেধ করেছেন (আবুদাঊদ হা/৪১৩১, মিশকাত হা/৫০৫)। তিনি বলেন ‘তোমরা রেশমী কাপড় এবং বাঘের চামড়ার তৈরী গদির উপর সওয়ার হয়ো না (আবুদাঊদ হা/৪১২৯; নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৩৫৭, সনদ ছহীহ)। অতএব সকল প্রকার হিংস্র প্রাণীর চামড়া পোষাক বা বসার স্থান হিসাবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন (২০/১৪০) : শরী‘আতে বার্ধক্যের কোন চিকিৎসা আছে কি?

-মাহতাবুদ্দীন, ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

উত্তর : বার্ধক্যের কোন চিকিৎসা বা ঔষধ নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ঔষধ ব্যবহার কর কেননা আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন রোগ দেননি, যার আরোগ্যের কোন ব্যবস্থা দেননি। তবে একটি রোগ ব্যতীত। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, সে রোগটি কি? তিনি বললেন, বার্ধক্য’ (আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৫৩২, সনদ ছহীহ)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়ে অতি বার্ধক্য হ’তে পানাহ চেয়েছেন, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল জুব্নে ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল বুখ্লে ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন আরযালিল ‘উমুরে; ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ ফিৎনাতিদ দুন্ইয়া ওয়া ‘আযা-বিল ক্বাবরে। অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা হ’তে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হ’তে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি নিকৃষ্টতম বয়স হ’তে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিৎনা হ’তে ও কবরের আযাব হ’তে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৯৬৪)।

প্রশ্ন (২১/১৪১) : তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআন নামক তাফসীরটি কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে প্রণীত কি?

-আব্দুল্লাহিল কাফী, ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : এ তাফসীরে কিছু ভ্রান্ত আক্বীদা ও আমল এবং বহু স্থানে ভুল তাফসীরের সমাবেশ ঘটেছে। ফলে একে বিশুদ্ধ তাফসীর বলা যায় না। এর মধ্যে উল্লেখিত ভুলগুলোর কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করা হ’ল : (১) ‘নবী’ বা ‘ওলী’র বরাত দিয়েও আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য প্রার্থনা করা কুরআনের নির্দেশ ও হাদীছের বর্ণনায় বৈধ প্রমাণিত হয়েছে’ (পৃঃ ৯, ৩২৭)। অথচ মৃত নবী বা অন্য কারুর অসীলা দিয়ে প্রার্থনা করা স্পষ্ট শিরক (মুসলিম হা/২০৪; মিশকাত হা/৫৩৭৩) (২) ‘সৃষ্ট জগতের মাঝে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে’... এক হাদীছে বলা হয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন’ (পৃঃ ৪২৮)। অথচ এটি সম্পূর্ণ ভুল আক্বীদা এবং হাদীছটি জাল (ছহীহাহ হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। (৩) ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর পবিত্র রওজা শরীফে জীবিত আছেন।... এ কারণই তাঁর পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করা হয়নি এবং এর ভিত্তিতেই তাঁর পত্নীগণের অবস্থা অপরাপর বিধবা নারীদের মত হয়নি’ (পৃঃ ১০৯৩)। অথচ ‘হায়াতুন্নবী’-র এই আক্বীদা পরিষ্কার শিরকী আক্বীদা (যুমার ৩০) (৪) ‘কোন না কোন একজন মুজতাহিদ ইমামের তাক্বলীদ করা অপরিহার্য। সকল মুজতাহিদ ইমামই সত্য’  (পৃঃ ৭৪৩)। অথচ কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণই কেবল অপরিহার্য এবং মুজতাহিদ ইমামগণ ভুলের ঊর্ধ্বে নন (৫) ‘আল্লাহ তা‘আলার কোন আকার নেই’ (পৃঃ ১৪৬৫)। অথচ কুরতুবী স্বীয় তাফসীরে অন্যের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এভাবে যে, ‘আমরা মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছি’। এর অর্থ অনেকে করেছেন علي صورة الرحمن ‘আল্লাহর আকৃতিতে’। অথচ আল্লাহর বাস্তব আকার (صورة مةشخصة) কোথায় আছে ভাবার্থ ব্যতীত? (ঐ, ২০/১১৪)’। এ বিষয়ে সঠিক আক্বীদা হ’ল এই যে, আললাহর আকার আছে। কিন্তু তার তুলনীয় কিছুই নেই (শূরা ১১)। (৬) ‘এলমে তাছাউফও ফরযে আইনের অন্তর্ভুক্ত’ (পৃঃ ৫৯৬)। অথচ দ্বীনী ইলম হাছিল করা ফরয। ইসলামের সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হ’ল তাযকিয়ায়ে নাফ্স বা আত্মশুদ্ধি। পৃথকভাবে ইলমে তাছাউওফের কোন অস্তিত্ব শরী‘আতে নেই। বরং কথিত ছুফীবাদের চোরাগলি দিয়েই মুলমানদের মধ্যে অধিকাংশ শিরক প্রবেশ করেছে (৭) অনুরূপভাবে সূরায়ে ‘মুহাম্মাদ’ ৩৮ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম  সৈয়ূতীর বরাতে বলা হয়েছে যে, ‘আলোচ্য আয়াতে ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর সহচরদেরকে বুঝানো হয়েছে। কেননা তাঁরা পারস্য সন্তান। কোন দলই জ্ঞানের সেই স্তরে পৌঁছেনি, যেখানে আবু হানীফা ও তাঁর সহচরগণ পৌঁছেছেন’ (পৃঃ ১২৬৩)। এমনিভাবে অসংখ্য শিরকী আক্বীদা ও বিদ‘আতী আমলের প্রচারণা চালানো হয়েছে অত্র তাফসীর গ্রন্থে। অতএব কেউ পড়তে চাইলে জ্ঞান-বিবেক জাগ্রত রেখেই এ তাফসীর পড়তে হবে। কেননা তার মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় ও রয়েছে।

প্রশ্ন (২২/১৪২) : মাওলানা ইলিয়াস ছাহেব লিখিত মালফূযাত গ্রন্থের ২৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে, ‘যাকাতের দরজা হাদিয়ার নিম্নে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর ছাদাক্বা হারাম ছিল, হাদিয়া হারাম ছিল না।’ এর সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আব্দুল আলীম

কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : উল্লিখিত মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ ইসলামী শরী‘আতে যাকাত ‘ফরয’। যে পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে, তার অন্যতম হচ্ছে যাকাত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ছালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর ও রাসূলের আনুগত্য কর। অবশ্যই তোমরা রহমত প্রাপ্ত হবে’ (নূর ২৪/৫৬)। পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে ছালাতের পরেই যাকাতের নির্দেশ এসেছে। ছহীহ হাদীছে যাকাতকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ বলা হয়েছে। অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য হাদিয়ার কথা বলেছেন মাত্র। পারস্পরিক ‘হাদিয়া’ প্রদান করা সুন্নাত। কাজেই যাকাতের ‘ফরয’ দরজা হাদিয়ার নিম্নে উল্লেখ করা নিতান্ত অন্যায়। দ্বিতীয়তঃ যাকাত হ’ল ছাদাক্বা বা ফরয অনুদান। যা গ্রহণ করা বিশ্বনবী হিসাবে রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর পরিবারের জন্য মর্যাদাকর নয়। পক্ষান্তরে ‘হাদিয়া’ হ’ল উপঢৌকন। এতে মর্যাদা হানিকর কিছু নেই। সম্ভবতঃ সেকারণে রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য ‘হাদিয়া’ হারাম করা হয়নি।

প্রশ্ন (২৩/১৪৩) : ছালাত শেষে সালাম ফিরানোর সময় যে দু’বার সালাম দেওয়া হয় তা কাকে দেওয়া হয়?

-আনোয়ারুল ইসলাম

বামনগ্রাম, লালপুর, নাটোর।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ছালাত আদায়কারী তার ডানে এবং বামে থাকা ভাইদেরকে সালাম প্রদান করবে (মুসলিম হা/৪৩১; ছহীহুল জামে‘ হা/৪০১৯)। অতএব সালাম ফিরানোর সময় ডানে এবং বামে থাকা ভাইদেরকে সালাম প্রদানের নিয়ত করবে। আর যদি একাকী ছালাত আদায় করে, তাহ’লে ডানে ও বামে থাকা ফেরেশতাদের সালাম প্রদানের নিয়ত করবে (ইমাম নববী, আল-মাজমূ‘ ৩/৪৫৬, ৪৬২; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ১/৩২৬, ৩২৭; শায়খ ওছাইমীন, শারহুল মুমতে‘ ৩/২০৮)। সর্বোপরি রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত অনুসরণে এটা করা হয়। যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা সম্ভব।

প্রশ্ন (২৪/১৪৪) : প্রস্রাব শেষে দু’এক কদম হাঁটার পর সবসময়ই দু’এক ফোঁটা প্রস্রাব নির্গত হ’তে দেখা যায়। এক্ষণে টয়লেটের মধ্যেই টিস্যু নিয়ে দু’এক কদম হাঁটায় কোন বাধা আছে কি?

-এম. এ. রহমান

রাণীবাজার, ঘোড়ামারা, রাজশাহী।

উত্তর : এটা এক প্রকার রোগ। এর জন্য চিকিৎসা নিতে হবে। এক্ষত্রে সর্বশেষ ফোঁটা বের হয়ে আসা পর্যন্ত বসে থেকে পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর উঠবে। আর পানি না থাকলে ঢিলা অথবা টিস্যু ব্যবহার করবে (তিরমিযী হা/১৬, ইবনু মাজাহ হা/৩১৬, সনদ ছহীহ)। এরপরেও দু’এক ফোঁট নির্গত হ’তে দেখলে টয়লেটের ভিতরে থেকে প্রস্রাব হ’তে পবিত্র হওয়ার জন্য যে কোন উপায় গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রশ্ন (২৫/১৪৫) : সূরা ফাতিহার ‘ওয়ালাযযাল্লীন’ পাঠে ক্বারীগণের মতভেদ রয়েছে। এক্ষণে এরূপ উচ্চারণগত মতপার্থক্যের কারণে ছালাত বিনষ্ট বা গুনাহ হওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে কি?

-আব্দুল লতীফ, বগুড়া।

উত্তর : বিশুদ্ধভাবে কুরআন পাঠকারী ক্বারীদের মাঝে ‘ওয়ালাযযাল্লীন’ পাঠের ক্ষেত্রে কোন মতভেদ নেই। প্রতিটি আরবী অক্ষরের মাখরাজ বা নির্দিষ্ট উচ্চারণস্থল রয়েছে। আরবী অক্ষর মাখরাজ অনুযায়ী উচ্চারণ করতে হবে।  ‘যোয়াদ’-কে অন্য অক্ষরের ন্যায় উচ্চারণ করা হ’লে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যাবে। ফলে ছালাত বাতিল না হ’লেও ত্রুটিপূর্ণ হবে। অতএব আরবী হরফের মাখরাজ অনুযায়ী বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করে পড়া যরূরী। তবে ভুলক্রমে বা চেষ্টা করা সত্ত্বেও উচ্চারণ করতে না পারলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রশ্ন (২৬/১৪৬) : জামা‘আতবদ্ধ ছালাতে ইমাম অধিকহারে ভুল করলে মুক্তাদীদের করণীয় কি? এরূপ ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে কি?

-আব্দুল হাদী নাসীম

আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।

উত্তর : ছালাতে ইমাম ভুল করলে মুক্তাদীদের কর্তব্য হ’ল লোকমা দিয়ে ভুলটি শুধরিয়ে দেওয়া (আবুদাঊদ হা/৯০৭, সনদ হাসান)। আর শুধরানো সম্ভব না হ’লে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ছালাত বাতিল হবে না। আর ইমাম উদাসীনতার কারণে বার বার ভুল করলে এর গুনাহ তার উপরে বর্তাবে, মুক্তাদীর উপরে নয়। ছালাতে ভুলক্রমে কোন ‘ওয়াজিব’ তরক হয়ে গেলে শেষ বৈঠকের তাশাহ্হুদ শেষে সালাম ফিরানোর পূর্বে ‘সিজদায়ে সহো’ দিতে হয়। শাওকানী বলেন, ওয়াজিব তরক হ’লে ‘সিজদায়ে সহো’ ওয়াজিব হবে এবং সুন্নাত তরক হ’লে ‘সিজদায়ে সহো’ সুন্নাত হবে (আস-সায়লুল জাররা-র ১/২৭৪ পৃঃ)। কিন্তু ছালাতে ক্বিরাআত ভুল হ’লে বা সের্রী ছালাতে ভুলবশত ক্বিরাআত জোরে বা তার বিপরীত হয়ে গেলে সহো সিজদার প্রয়োজন নেই।

স্মর্তব্য যে, ছালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য (মা‘আরিজ ৭০/৩৪)। আর ছালাতে উদাসীনদের জন্য রয়েছে ‘দুর্ভোগ’ (মাউন ১০৭/৫)। অতএব ইমামদের কর্তব্য হ’ল পূর্ণ সচেতনতার সাথে ইমামতির দায়িত্ব পালন করা।

প্রশ্ন (২৭/১৪৭) : তাশাহহুদে বসা অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার স্থানের দিকে না আঙ্গুল নাড়ানোর দিকে রাখতে হবে?

-যাকারিয়া হাবীব, বগুড়া।

উত্তর : তাশাহহুদে বসা অবস্থায় দৃষ্টি রাখতে হবে আঙ্গুলের ইশারার দিকে। রাসূল (ছাঃ) যখন তাশাহহুদে বসতেন, তখন ...তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন এবং তাঁর দৃষ্টি আঙ্গুলের ইশারা বরাবর থাকত তার বাইরে যেত না। (আবুদাউদ হা/৯৮৮, ৯৯০; নাসাঈ হা/১২৭৫; মিশকাত হা/৯১২)। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, তাশাহহুদের সময় দৃষ্টি আঙ্গুলের উপর রাখাই সুন্নাত (নববী, শারহ মুসলিম হা/৯১০, নায়লুল আওতার ২/৩১৭)

প্রশ্ন (২৮/১৪৮) : মসজিদে মুরগী, টাকা-পয়সা ইত্যাদি মানতকৃত বস্ত্ত জমা হ’লে এর হকদার ইমাম ছাহেব হবেন কি?

-মুহাম্মাদ সুলতান, সিঙ্গাপুর।

উত্তর : মানতকৃত বস্ত্ত মানতকারীর নিয়ত অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। এতে ইমাম ছাহেবের হক থাকার প্রশ্নই আসে না।

প্রশ্ন (২৯/১৪৯) : আমি পেনশন হিসাবে যে অর্থ পেয়েছি তা দ্বারা আমার জন্য হজ্জের ফরযিয়াত আদায় করা যরূরী না স্ত্রী-সন্তানদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করা যরূরী হবে? সঠিক সিদ্ধান্ত জানতে চাই।

-কামাল হোসাইন, পাংশা, রাজবাড়ী।

উত্তর : খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এগুলি মানুষের মৌলিক চাহিদা। এক্ষণে যদি পরিবারের জন্য থাকার উপযোগী নিজস্ব কোন বাসস্থান না থাকে, তাহ’লে প্রথমে বাসস্থান নির্মাণ করবে। অতঃপর সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করবে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, একজন লোক তাকে জিজ্ঞেস করল, আমরা কি দরিদ্র মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত নই? আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার কি স্ত্রী আছে, যেখানে তুমি শান্তি পেতে পার? লোকটি বলল, হ্যাঁ। তোমার বাসস্থান আছে কি যেখানে তুমি আশ্রয় নিতে পার? লোকটি বলল, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহ’লে তুমি ধনী (মুসলিম হা/২৯৭৯, মিশকাত হা/৫২৫৭)

প্রশ্ন (৩০/১৫০) : জনৈক ধার্মিক ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে পরবর্তীতে মারা গেছেন। তার মেয়েরাও ধার্মিক। এক্ষণে তার কোন মেয়েকে বিবাহ করা জায়েয হবে কি?

-মাহফূযুর রহমান, জেদ্দা, সঊদী আরব।

উত্তর : এরূপ মেয়েদের বিবাহ করায় কোন দোষ নেই। বরং ধার্মিক মনে করলে তাদেরকেই বিবাহ করতে হবে (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩০৯০)। অবৈধ সম্পদ উপার্জনের জন্য পিতা দায়ী হবেন, সন্তানরা নয় (আন‘আম ৬/১৬৪)

প্রশ্ন (৩১/১৫১) : আমার ছোট বোন জনৈক লম্পট ছেলেকে পিতার সম্মতি ছাড়াই বিবাহ করে বাড়ি ছেড়েছে। এক্ষণে আমাদের করণীয় কি? তার দৈনিক খরচ নির্বাহের জন্য প্রদত্ত অর্থ এবং পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে কি? অথচ তা প্রদান করলেও উক্ত লম্পট ছেলেটি তা হারাম কাজে ব্যবহার করবে। এক্ষণে আমাদের করণীয় কি?

-আমীনুল সরকার

ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : ধর্মত্যাগ ও হত্যাকারী ব্যতীত সন্তানকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার কোন বিধান শরী‘আতে নেই (বুখারী, মুসলিম, আবুদাঊদ মিশকাত হা/৩০৪৩, ৩৫০০)। পিতা-মাতা একাজ করলে সন্তানের হক নষ্ট করা হবে, যা পরকালে নিজের নেকী থেকে তাকে পরিশোধ করতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১২৭)। এক্ষণে পিতার জন্য করণীয় হ’ল, দ্রুত সমাঝোতা করে নতুনভাবে বিবাহের ব্যবস্থা করা অথবা মেয়েকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনা। কারণ অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত নারীদের বিবাহ জায়েয নয় (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১৩১)। অথবা মেয়ে স্বামীর সাথে ‘খোলা’ করে ফিরে আসবে। কারণ এভাবে একত্রে অবস্থান করা যেনার শামিল।

প্রশ্ন (৩২/১৫২) : রাসূল (ছাঃ) ঋতুবতীদের ঈদের ছালাতে অংশগ্রহণ না করে দো‘আয় শরীক হ’তে বলেছেন। এটা দ্বারা কি উক্ত ছালাতে সম্মিলিত মুনাজাত প্রমাণ হয় না?

-এ. কে. এম. আব্দুল খালেক

৮নং উপশহর, সদর, দিনাজপুর।

উত্তর: এখানে দো‘আয় শরীক হওয়ার অর্থ হ’ল, খুৎবা শ্রবণ করা, তা থেকে নছীহত গ্রহণ করা, উক্ত সমাগমে শরীক হয়ে তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ ও তাসবীহে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি। সেকারণ ঊক্ত হাদীছের বর্ণনাকারী উম্মু আতিয়া (রাঃ) বলেন, আমাদের পর্দানশীন কুমারী হায়েযা মহিলারা ঈদের ময়দানে বের হ’তেন। অতঃপর লোকদের পিছনে অবস্থান করে তাদের সাথে তাকবীরে অংশগ্রহণ করতেন (মুসলিম হা/৮৯০; ছহীহাহ হা/৬০০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘অতঃপর মহিলারা পুরুষদের পিছনে থাকত, তারপর তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর ও তাদের দো‘আর সাথে দো‘আ করত এবং এই দিনের বরকত ও পবিত্রতার প্রত্যাশা করত’ (বুখারী হা/৯৭১)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় মিশকাতের ভাষ্যকার ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী বলেন, ‘মুসলিমদের দো‘আ বলতে সকলকে শামিল করে। উক্ত কথা দ্বারা ঈদের ছালাতের পরে দো‘আ করা বুঝানো হয়, যেমনটি পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের শেষে করা হয়। অথচ তা ত্রুটিপূর্ণ। কারণ ঈদায়েনের ছালাতের পর দো‘আ করা রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত নয়। আর কেউ তা বর্ণনাও করেনি। বরং তাঁর থেকে প্রমাণিত আছে যে, ছালাতের পরে খুৎবা ছাড়া দ্বিতীয় কোন কাজ করতেন না। সুতরাং ‘দা‘ওয়াতুল মুসলিমীন’ দ্বারা উক্ত অর্থ গ্রহণ করা ঠিক হবে। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হ’ল- যিকির-আযকার-দো‘আ, বক্তব্য-নছীহত। কারণ দাওয়াত শব্দটি ব্যাপক’ (মির‘আতুল মাফাতীহ ৫/৩১)

প্রশ্ন (৩৩/১৫৩) : নবী করীম (ছাঃ)-এর দেহে খাতমে নবুঅতের চিহ্ন কোথায় ছিল এবং তা কেমন ছিল? কোন কোন ছাহাবী তা চুমু দিয়েছিলেন বলে যা প্রচলিত রয়েছে। এর সত্যতা আছে কি?

-আতাউর রহমান, বান্দাইখাড়া, নওগাঁ।

উত্তর : নবী করীম (ছাঃ)-এর খাতমে নবুঅতের চিহ্ন তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যস্থলে ছিল। আর তা ছিল কবুতরের ডিমের মত (মুসলিম হা/২৩৪৪; তিরমিযী হা/৩৬৪৪; মিশকাত হা/৫৭৭৯; ছহীহাহ হা/৩০০৫)। ছাহাবী সালমান ফারেসী (রাঃ) সেটা দেখেই তাকে আখেরী নবী ও সত্যনবী হিসাবে চিনেছিলেন এবং তাতে চুমু খেয়েছিলেন (আহমাদ হা/২৩৭৮৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৮৯৪)

প্রশ্ন (৩৪/১৫৪) : ক্বিয়ামতের দিন জিন জাতি কি মানুষের মতই বিচারের সম্মুখীন হবে? তাদের নবী কে?

-খন্দকার আব্দুল মালেক

টুনিরহাট, পঞ্চগড়।

উত্তর : মানবজাতির ন্যায় জিন জাতিকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জিন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি’ (যারিয়াত ৫১/৫৬)। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি জিন ও মানুষ দিয়ে জাহান্নামকে পূর্ণ করব’ (সাজদাহ ৩২/১৩)। তিনি আরো বলেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বরগণ আগমন করেননি, যাঁরা তোমাদেরকে আমার বিধানসমূহ বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এ দিনে সাক্ষাতের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করতেন? (আন‘আম ৬/১৩০)। উল্লি­খিত আয়াতসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জিন জাতি বিচারের সম্মুখীন হবে, তারা জান্নাতী বা জাহান্নামী হবে। সূরা আহক্বাফের ৩১ আয়াতের আলোকে ইবনু কাছীর (রহঃ) একথাকেই প্রধান্য দিয়েছেন (ইবনু কাছীর আহক্বাফ ৩১ আয়াতের তাফসীর দ্রঃ)। আর মুহাম্মাদ (ছাঃ) মানব ও জিন সহ সমস্ত সৃষ্টির নিকটে নবী হিসাবে প্রেরিত হয়েছেন (মুসলিম হা/৫২৩; তিরমিযী হা/১৫৫৩; মিশকাত হা/৫৭৪৮)। এছাড়া অন্যান্য নবীগণের সময়ে জিনেরা তাঁদের অনুসারী উম্মত ছিল। 

প্রশ্ন (৩৫/১৫৫) : ‘আত-তাহরীক’ শব্দের অর্থ কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-কামারুযযামান, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : ‘তাহরীক’ (تحريك) অর্থ আন্দোলন। ‘আত-তাহরীক’ অর্থ বিশেষ আন্দোলন। ইংরেজীতে যাকে বলা যাবে The Movement অথবা That very Movement। অতএব ‘আত-তাহরীক’ বিশেষ একটি আন্দোলনের লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে। সে আন্দোলন পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক জীবন গড়ার আন্দোলন। সে আন্দোলন আললাহ প্রেরিত সর্বশেষ অহি ভিত্তিক সমাজ গড়ার আন্দোলন। সে আন্দোলন বিশ্ব মানবতার প্রকৃত মুক্তি আন্দোলন। যে মানুষ নিজের জ্ঞানকে অহি-র জ্ঞানের সামনে বিনা দ্বিধায় সমর্পণ করে দিবে, যে মানুষ পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নির্দেশকে সানন্দে মাথা পেতে মেনে নিবে, দুনিয়ার চাইতে আখেরাতকে সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিবে ‘আত-তাহরীক’ ইনশাআল্লাহ তাদেরই মুখপত্র।

প্রশ্ন (৩৬/১৫৬) : জানাযার ছালাতের সময় লাশ সামনে রেখে মৃতের ঋণ ও অছিয়ত ছাড়াও একজন পরিচালকের মাধ্যম সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়। এরূপ কর্মকান্ড শরী‘আতসম্মত কি?

-আব্দুল লতীফ

রাজপুর, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : এরূপ করা শরী‘আতসম্মত নয়। রাসূল (ছাঃ) এবং ছাহাবায়ে কেরাম থেকে এ ব্যাপারে কোন আমল পাওয়া যায় না। যিনি ইমামতি করবেন, তিনি উপস্থিত জনসাধরণের উদ্দেশ্যে ঈমান বর্ধক সংক্ষিপ্তভাবে কিছু নছীহত করতে পারবেন। যাতে উপস্থিতগণ নিজেদেরকে মৃত্যুর জন্য প্রস্ত্তত করতে পারেন (বুখারী হা/৪৯৪৯; আবুদাউদ হা/৪৭৫৩; মিশকাত হা/১৬৩০)।

প্রশ্ন (৩৭/১৫৭) : মাসবূক ব্যক্তি ইমাম হ’তে পারবে কি?

-শরীফুল ইসলাম, মহেশপুর, ঝিনাইদহ।

উত্তর : মসজিদে প্রবেশ করে যদি কেউ দেখেন যে, মুছল্লীগণ ছালাত আদায় করে নিয়েছেন ও মাসবূক তার বাকী ছালাত আদায় করছেন। এমতাবস্থায় তিনি জামা‘আতের নেকীর আশায় মাসবূককে ইমাম করতে পারেন মর্মে বহু বিদ্বান মত প্রকাশ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন আমল পাওয়া যায় না।

শায়খ ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন, এটি ছহীহ নয়। কেউ বলেছেন, এটা ছহীহ। তবে উত্তমের বিরোধী’। (তিনি বলেন,) এটি ছহীহ হ’লেও সুন্নাতের চাইতে বিদ‘আতের অধিক নিকটবর্তী। কেননা ছাহাবায়ে কেরাম এমনটি করেননি। কোন ব্যক্তির যখন জামা‘আতের কিছু অংশ ছুটে যায়, তখন তিনি বাকীটা একাকী দাঁড়িয়ে আদায় করেন। অতঃপর যদি মাসবূকের ইমামতি ছহীহ ধরা হয়, তাহ’লে এটাতে ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হ’তে পারে। ফলে পরে যিনি প্রবেশ করবেন তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তির, তারপর যিনি প্রবেশ করবেন তিনি তৃতীয় ব্যক্তির, অতঃপর চতুর্থ ব্যক্তির, এভাবে জামা‘আত চলতেই থাকবে... (ওছায়মীন, মুহাযারাতুল মাক্বরূআহ, লিকাউল বাবিল মাফতূহ-১২)

প্রশ্ন (৩৮/১৫৮) : সূদ গ্রহণ না করে কেবল হেফাযতের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে কি?

- জাহাঙ্গীর আলম, নীলফামারী।

উত্তর : নিরুপায় অবস্থায় হেফাযতের উদ্দেশ্য ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আল্লাহ যা তোমাদের উপর হারাম করেছেন, তা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। তবে তোমরা নিরূপায় হয়ে পড়লে তা স্বতন্ত্র কথা... (আন‘আম ১১৯) তবে অন্য কোন নিরাপদ ব্যবস্থা থাকলে না রাখাই কর্তব্য। কেননা এরূপ রাখার মাধ্যমে পাপের সহযোগিতা করা হয়। আর আল্লাহ পাপের সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (মায়েদাহ ৫/২)

প্রশ্ন (৩৯/১৫৯) : আদম (আঃ) আরশের পায়ায় লেখা কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ দেখে বলেন, আল্লাহ তুমি আমাকে ‘মুহাম্মাদ’ নামের অসীলায় মাফ করে দাও, তখন আল্লাহ তাকে মাফ করেন। একথার কোন সত্যতা আছে কি?

- আমানুল্লাহ

কাকিয়ার চর, বুড়িচং, কুমিল্লা।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘মওযূ‘ বা জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/২৫; হাকেম হা/৪২২, তাহকীক যাহাবী, সনদ জাল)

প্রশ্ন (৪০/১৬০) : রাসূল (ছাঃ)-কে তাঁর চাচা আবু ত্বালেব যে দুশমনদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এর বিনিময়ে কি তিনি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন? তার অবস্থা কি হবে?

-রবীউল ইসলাম

বোয়ালিয়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : জান্নাতবাসী হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর চাচা আবু ত্বালেব এর মৃত্যু মুশরিক অবস্থায় হয়েছিল। তবে রাসূল (ছাঃ)-এর কারণে জাহান্নামীদের মধ্যে তার শাস্তি সর্বাপেক্ষা সহজতর হবে। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘জাহান্নামীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সহজতর শাস্তি হবে আবু ত্বালেবের। তাঁর দু’পায়ে দু’খানা আগুনের জুতা পরানো হবে। এতে তার মাথার মগজ ফুটতে থাকবে’ (বুখারী হা/৬৫৬২, মুসলিম হা/২১২, মিশকাত হা/৫৬৬৮)। তিনি বলেন, যদি আমি না হ’তাম (অর্থাৎ শাফা‘আত না থাকত), তাহ’লে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন। অতঃপর আমি তাকে নিম্নস্তর থেকে টাখনু পর্যন্ত উঠিয়ে আনি’ (মুসলিম হা/২০৯)। নিঃসন্দেহে এটি ছিল রাসূল (ছাঃ)-এর বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা (আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/৫৫)

 

 

HTML Comment Box is loading comments...