হাদীছের গল্প

হালাল রুযী নবীগণের সুন্নাত

আব্দুল মালেক, ঝিনাইদহ।

শাদ্দাদ ইবনু আওসের বোন উম্মে আব্দুল্লাহ হ’তে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে তাঁর ইফতারের সময়ে এক পেয়ালা দুধ পাঠালেন। কারণ তখন ছিল বড় দিন ও প্রচন্ড গরমের সময়। এতে তিনি তার (উম্মে আব্দুল্লাহর) দূতকে তার কাছে ফেরত পাঠালেন (একথা জিজ্ঞেস করার জন্য যে,) এ দুধ তুমি কোথায় পেয়েছ? তিনি বলে পাঠালেন, আমার বকরীর দুধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আবার দূতকে তার নিকটে ফেরত পাঠালেন একথা বলে যে, তুমি এ বকরী কোথায় পেয়েছ? তিনি উত্তরে বলে পাঠালেন, আমি আমার অর্থ দিয়ে এটা ক্রয় করেছি। তখন তিনি উক্ত দুধ পান করলেন। পরের দিন উম্মে আব্দুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি আপনার প্রতি বড় দিন ও প্রচন্ড গরমের কষ্টের সমবেদনা প্রকাশ করে উক্ত দুধটুকু আপনার নিকটে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি এতে আমার দূতকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন (এর কারণ কি?)। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আমার পূর্বের রাসূলগণকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা পবিত্র খাদ্য ভক্ষণ করবে এবং কেবল সৎ আমল করবে’ (হাকেম হা/৭১৫৯; ছহীহুল জামে‘ হা/১৩৬৭; মু‘জামুল কাবীর হা/৪২৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১৩৬)

নেতৃত্ব হ’তে বঞ্চিত হ’লে ধৈর্যধারণ করতে হবে

আছেম বিন সুওয়াইদ বিন ইয়াযীদ বিন জারিয়াহ আল-আনছারী হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট আনাস বিন মালেক (রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন। তিনি (আনাস) বলেন, বনু আব্দুল আশহাল গোত্রের নেতা উসাইদ বিন হুযায়ের রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আসল। অতঃপর বনু যাফার গোত্রের পরিবার-পরিজন সম্পর্কে কথা বলল। তাদের অধিকাংশ ছিল নারী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদের (বনু যাফার) জন্য কিছু মাল দিলেন। যা তিনি লোকদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, হে উসাইদ! তুমি তো আমাদেরকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে (অর্থাৎ প্রথমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করনি)। এমনকি আমাদের হাতে যা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। তুমি যখন শুনবে যে, আমাদের নিকট খাবার (শস্য) এসেছে, তখন তুমি এসে আমাকে ঐ পরিবার-পরিজন সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিবে বা ঐ বিষয়ে অবগত করাবে। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন তিনি তথায় অবস্থান করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে খায়বার থেকে খাদ্যদ্রব্য তথা যব ও খেজুর আসল। নবী করীম (ছাঃ) তা লোকদের মাঝে বিতরণ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আনছারগণের মাঝে বণ্টন করলেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ দিলেন। রাবী বলেন, অতঃপর ঐ আহলে বায়তের মাঝে বণ্টন করলেন এবং পূর্ণ মাত্রায় দিলেন। তখন উসাইদ তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আল্লাহ আপনাকে উত্তম ও উৎকৃষ্ট প্রতিদান দান করুন। রাবী বলেন, অতঃপর নবী করীম (ছাঃ) তাঁকে বললেন, হে আনছার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদেরকেও উত্তম ও উৎকৃষ্ট প্রতিদান দান করুন। কেননা আমি যতটুকু জানি, তোমরা সৎ ও ধৈর্য ধারণকারী। তোমরা অচিরেই আমার পরে বণ্টন ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে স্বার্থপরতা দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সাথে হাওযে কাওছারে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে (ইবনু হিববান হা/৭২৭৭; মুস্তাদরাক হাকেম হা/৬৯৭৪; বুখারী হা/৩৭৯২; মুসলিম হা/১৮৪৫; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০৯৬)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর একটি মু‘জিযা

আছেম বিন ওমর বিন কাতাদা তার পিতা হ’তে তার দাদা কাতাদা বিন নু‘মান (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, এক ঘোর অন্ধকার ও বৃষ্টির রাতের কথা। আমি বললাম, যদি আমি এই রাতে নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে এশার ছালাতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারতাম (তাহ’লে কতই না ভাল হ’ত)! আমি তাই করলাম। (ছালাত শেষে) নবী করীম (ছাঃ) যখন ফিরে যাচ্ছিলেন তখন আমাকে দেখতে পেলেন। তাঁর হাতে ছিল একটা খেজুরের শুকনো ডাল, যাতে ভর দিয়ে তিনি হাঁটছিলেন। তিনি বললেন, কাতাদা! তোমার কি হয়েছে? এ সময় তুমি এখানে? আমি বললাম, হে আল্ল­াহর রাসূল (ছাঃ)! আপনার সাথে জামা‘আতে ছালাত আদায়ের সুযোগ গ্রহণ করেছি। তিনি খেজুরের ডালটা আমাকে দিয়ে বললেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার বাড়িতে প্রবেশ করেছে। তুমি এই ডালটা নিয়ে যাও। তোমার বাড়িতে পৌঁছা পর্যন্ত এটা ধরে রাখবে। (বাড়িতে পৌঁছার পর) বাড়ির পিছন দিক দিয়ে গিয়ে তাকে পাকড়াও করবে এবং খেজুর ডালটা দিয়ে তাকে পিটাবে। অতঃপর আমি মসজিদ থেকে বের হ’লাম। খেজুর ডালটা তখন মোমবাতির মত আলো ছড়াতে লাগল। আমি সেই আলোতে আমার পরিবারের নিকট উপস্থিত হ’লাম। এসে তাদেরকে ঘুমন্ত পেলাম। অতঃপর ঘরের এক কোণায় দৃষ্টি দিতেই হঠাৎ একটা শজারু দেখতে পেলাম। আমি খেজুরের ডাল দিয়ে তাকে প্রহার করতে থাকলাম। অবশেষে সে পালিয়ে গেল (তাবারানী, মু‘জামুল কাবীর হা/৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/২১৫৪; আহমাদ হা/১১৬৪২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০৩৬)

-আব্দুল মালেক, ঝিনাইদহ।

HTML Comment Box is loading comments...