প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/১২১) : ব্রেলভীদের আক্বীদা ও আমল কি? এদের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-তৈয়বুল আলম, সিলেট।

উত্তর : ১৮৮০ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলীতে ব্রেলভী মতবাদের জন্ম হয়। হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং ছূফীবাদে বিশ্বাসী আহমাদ রেযা খান (১৮৫৬-১৯২১ খৃঃ) এই মতবাদের উদ্ভাবক। ব্রিটিশ আমলে ‘আশেকে রাসূল’ নামে এই মতবাদটি সমধিক পরিচিত ছিল। এদের বর্তমান নেতা আন-নাওয়ারীর নামানুসারে এদেরকে জামা‘আতে নাওয়ারীও বলা হয়। তারা হানাফী মাযহাবের অনুসারী হ’লেও তাদের বিশ্বাসের মূলে রয়েছে শী‘আদের ভ্রান্ত আক্বীদা ও বিশ্বাস। যার মধ্যে তিনটি হ’ল প্রধান : (ক) প্রাচ্য দর্শন ভিত্তিক মাযহাব, যা দক্ষিণ এশীয় হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিকট থেকে এসেছে। (খ) খ্রিস্টানদের নিকট থেকে আগত মাযহাব, যা হুলূল (حلول ) ও ইত্তেহাদ (اتحاد)   দু’ভাগে বিভক্ত। হুলূল (حلول) অর্থ ‘মানুষের দেহে আল্লাহর অনুপ্রবেশ’। হিন্দু মতে, নররূপে নারায়ণ। (গ) ইত্তেহাদ বা ওয়াহদাতুল উজূদ (وحدة الوجود) বলতে অদ্বৈতবাদী দর্শনকে বুঝায়। যা হুলূল-এর পরবর্তী পরিণতি হিসাবে রূপ লাভ করে। এর অর্থ হ’ল, আল্লাহর সত্তার মধ্যে বান্দার সত্তা বিলীন হয়ে যাওয়া (الفناء في الله)। তাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীতে অস্তিত্ববান সব কিছুই আল্লাহর অংশ। আল্লাহ পৃথক কোন সত্তার নাম নয় (নাঊযুবিল্লাহ)। নিম্নে এই ভ্রান্ত ফের্কাটির আক্বীদা সম্পর্কে আরও কিছু বর্ণিত হ’ল।-   

(১) তাদের বিশ্বাস মতে, রাসূল (ছাঃ) এমন ক্ষমতার অধিকারী, যার মাধ্যমে তিনি সারা দুনিয়া পরিচালনা করে থাকেন। তাদের একজন বড় নেতা আমজাদ আলী ব্রেলভী বলেছেন, ‘রাসূল (ছাঃ) হ’লেন আল্লাহর সরাসরি নায়েব (প্রতিনিধি)। সমস্ত বিশ্বজগৎ তাঁর পরিচালনার অধীন। তিনি যা খুশী করতে পারেন এবং যাকে খুশী দান করতে পারেন। যাকে খুশী নিঃস্বও করতে পারেন। তাঁর রাজত্বে হস্তক্ষেপ করা দুনিয়ার কারু পক্ষে সম্ভব নয়। যে তাঁকে অধিপতি হিসাবে মনে করে না, সে সুন্নাত অনুসরণের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে’। আহমাদ রেযা খান ভক্তির আতিশয্যে লিখেছেন, ‘হে মুহাম্মাদ (ছাঃ)! আমি আপনাকে আল্লাহ বলতে পারছি না। কিন্তু আল্লাহ ও আপনার মাঝে কোন পার্থক্যও করতে পারছি না’ (হাদায়েক বখশীশ, ২/১০৪)

(২) তাদের মতে, রাসূল (ছাঃ) গায়েবের খবর রাখেন। আহমাদ রেযা খান আরো বলেন, আল্লাহ রাববুল আলামীন কুরআনের ধারক, আমাদের সরদার এবং আমাদের মাওলা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে লাওহে মাহফূযের যাবতীয় কিছু দান করেছেন (খালেছুল ই‘তিক্বাদ, পৃঃ ৩৩)

(৩) তাদের মতে, বর্তমানে নবী করীম (ছাঃ) সৃষ্টির যাবতীয় কর্ম নিজে উপস্থিত থেকে দেখছেন। তিনি নূরের তৈরী এবং সর্বত্র হাযির (উপস্থিত) ও নাযির (দ্রষ্টা) (আহমাদ ইয়ার খান, মাওয়াইযু নাঈমিয়াহ, পৃঃ ১৪)।। আহমাদ ইয়ার খান আরো বলেন, তিনি তাঁর অবস্থানস্থল হ’তেই দুনিয়ার সবকিছু দেখেন নিজ হাতের তালু দেখার ন্যায়। তিনি নিকটের ও দূরের সব আওয়ায শুনেন। তিনি মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবী চক্কর দিতে পারেন, বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করতে পারেন এবং আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেন (জা-আল হাক্ব ১/১৬০)।

(৪) তাদের মতে, রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে অলী-আওলিয়াও দুনিয়া পরিচালনার কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আহমাদ রেযা খান বলেন, হে গাওছ (আব্দুল কাদের জীলানী)! ‘কুন’ বলার ক্ষমতা লাভ করেছেন মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর প্রভুর কাছ থেকে, আর আপনি লাভ করেছেন মুহাম্মাদ (ছাঃ) থেকে। আপনার কাছ থেকে যা-ই প্রকাশিত হয়েছে, তা-ই দুনিয়া পরিচালনায় আপনার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। পর্দার আড়াল থেকে আপনিই আসল কারিগর’।   

(৫) যেহেতু তাদের মতে রাসূল (ছাঃ) হাযির-নাযির, এজন্য প্রতি ফরয ছালাতের পর তাদের ইমাম ছাহেব সূরা আহযাবের ৫৬ নং আয়াতটি পাঠ করে ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ বলে কথিত দরূদ শুরু করেন এবং মুক্তাদীরা সমস্বরে তাতে যোগ দেন।

(৬) তারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ যেহেতু একা, সেহেতু একাই তাঁর পক্ষে পুরো বিশ্বজগত পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে তিনি তাঁর বিশ্ব পরিচালনার সুবিধার্থে আরশে মু‘আল্লায় একটি পার্লামেন্ট কায়েম করেছেন। সেই পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা মোট ৪৪১ জন। আল্লাহ তাদের স্ব স্ব কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তন্মধ্যে নাজীব ৩১৯ জন, নাক্বীব ৭০ জন, আবদাল ৪০ জন, আওতাদ ৭ জন, কুতুব ৫ জন এবং একজন হ’লেন গাওছুল আযম, যিনি মক্কায় থাকেন। উম্মতের মধ্যে আবদাল ৪০ জন আল্লাহ তা‘আলার মধ্যস্থতায় পৃথিবীবাসীর বিপদাপদ দূরীভূত করে থাকেন। তারা অলীগণের দ্বারা সৃষ্টজীবের হায়াত, রুযী, বৃষ্টি, বৃক্ষ জন্মানো ও মুছীবত বিদূরণের কাজ সম্পাদন করেন।

(৭) মৃত ব্যক্তির জন্য কুলখানি, চল্লিশা ও বার্ষিক ঈছালে ছাওয়াবের অনুষ্ঠান ও উৎকৃষ্ট ভোজের ব্যবস্থা করা ছাড়াও কুরআন খতম করা, কবরের পার্শ্বে আযান দেওয়া, মৃতের কাফনের উপরে কালেমা তাইয়েবা লেখা, শায়খ আব্দুল কাদির জ্বীলানীর মৃত্যুদিবস উপলক্ষে ফাতিহা ইয়াযদাহম বা এগারো শরীফের অনুষ্ঠান করা এবং অলীদের নামে পশু পালন ইত্যাদি শিরকী ও বিদ‘আতী কাজকে তারা পরম ছওয়াবের কার্য মনে করে থাকে।

(৮) তাদের নিকট সবচেয়ে বড় ঈদ হ’ল ‘ঈদে মীলাদুন্নবী’। এই দিন তারা মহা ধুমধামে জশনে জুলূসের আয়োজন করে এবং বিভিন্ন ভক্তিপূর্ণ গান ও আনন্দ-ফূর্তির আয়োজন করে থাকে। আর রাসূল (ছাঃ)-এর নামে মিথ্যা কাহিনী বর্ণনার জন্য এদিন তারা তথাকথিত সীরাত মাহফিলের আয়োজন করে।

(৯) অলী-আওলিয়ার মাযারে কথিত ‘ওরস শরীফ’ পালন তাদের জন্য বিরাট আনন্দের উপলক্ষ। এ উপলক্ষে তারা বাৎসরিক মাহফিলের আয়োজন করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়। এ দিনটিকে তারা পীরের নেক নযর লাভ ও অত্যন্ত ছওয়াব অর্জনের দিন বলে মনে করেন। যারা ছালাত-ছিয়াম আদায় করে না, তারা এদিনকে তাদের বাদ যাওয়া ছালাত ও ছিয়ামের জন্য কাফফারা আদায়ের দিবস বা মুক্তি লাভের দিবস হিসাবে মনে করে।

ব্রেলভী মতবাদ উপমহাদেশে পীর-মাযারী প্রথার পৃষ্ঠপোষক হিসাবে শিরক ও বিদ‘আতের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে।

জেনে-শুনে এ ধরনের শিরকী আক্বীদাসম্পন্ন লোকের পিছনে ছালাত আদায় করা জায়েয হবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ফৎওয়া নং ৩০৯০, ২/৩৯৪-৩৯৬ পৃঃ)।

(বিস্তারিত দ্রঃ আল্লামা ইহসান ইলাহী যহীর, আল-ব্রেলভিয়াহ : আক্বায়েদ ওয়া তারীখ; ড. মানে‘ আল-জূহানী, আল-মাওসূআহ আল-মুয়াসসারাহ ১/২৯৮-৩০৩ পৃঃ)

প্রশ্ন (২/১২২) : সিলসিলা ছহীহাহ ও যঈফাহ গ্রন্থদ্বয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুস্তাফীযুর রহমান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : গ্রন্থ দু’টি বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (১৯১৪-১৯৯৯ইং) কর্তৃক সংকলিত ছহীহ ও যঈফ হাদীছের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন। সিলসিলা ছহীহার মধ্যে ৪০৩৫টি হাদীছ স্থান পেয়েছে। যা তিনি বিভিন্ন হাদীছগ্রন্থ হ’তে সংকলন করে সনদের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করেছেন। এ গ্রন্থে ছহীহ, হাসান ও জাইয়িদ পর্যায়ের হাদীছসমূহ উল্লেখিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই বিষয়ে অন্যান্য হাদীছ উল্ল্রেখ করেছেন। অনুরূপভাবে সিলসিলা যঈফার মধ্যে ৭১৬২টি হাদীছ স্থান পেয়েছে। যা উছূলে হাদীছের মানদন্ডে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পূর্ববর্তী মুহাদ্দিছগণের আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যঈফ হওয়ার হুকুম প্রদান করেছেন। এতে যঈফ, মুনকার, বাতিল ও জাল হাদীছগুলো উল্লেখিত হয়েছে। তবে উভয় গ্রন্থে ফিক্বহুল হাদীছ বা হাদীছের তাৎপর্য সম্পর্কেও কিছু আলোচনা স্থান পেয়েছে।

প্রশ্ন (৩/১২৩) : জনৈক বক্তা বলেন, আব্দুল ক্বাদের জীলানী (রহঃ) ১৮ পারা কুরআন মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময় মুখস্থ করেছিলেন। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-রফীকুল ইসলাম

সুজাপুর, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর।

উত্তর : বক্তব্যটি অমূলক ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ হ’তে বের করেছেন, এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না’ (নাহল ৭৮)। উল্লেখ্য যে, আব্দুল ক্বাদের জিলানী (রহঃ)-এর নামে এ ধরনের অসংখ্য মিথ্যা কথা সমাজে চালু আছে, যা একশ্রেণীর বক্তা ও লেখকরা প্রচার করে থাকে। এগুলি থেকে সাবধান থাকা যরূরী।

প্রশ্ন (৪/১২৪) : মায়ের মৃত্যুর পর তার সম্পদ সন্তানদের মাঝে কিভাবে বণ্টন করতে হবে?

-আব্দুল আযীয, রাজনগর, সাতক্ষীরা।

উত্তর :  সম্পদ  পিতার  হৌক আর মাতার হৌক,  তা পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানের দ্বিগুণ পাবে (নিসা ১১)

প্রশ্ন (৫/১২৫) : মুছাফাহা করার সময় কোন দো‘আ পড়তে হয় কি?

-তরীকুল ইসলাম

পাথালিয়া, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : সালামের পরে মুছাফাহা করা সম্পর্কে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু দো‘আ পড়া সম্পর্কে কোন ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায় না। বারা ইবনে আযেব (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, দু’জন মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষাতে মুছাফাহা করলে তাদের পৃথক হওয়ার পূর্বেই তাদের (ছগীরা) গোনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়’ (ছহীহ আবুদাঊদ হা/৫২১২; মিশকাত হা/৪৬৭৯)। মুছাফাহার সময়  يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ  অথবাنَحْمَدُ اللهَ وَنَسْتَغْفِرُهُ পড়ার বিষয়ে মিশকাতে বর্ণিত হাদীছ যঈফ (যঈফ আবুদাঊদ হা/৫২১১; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৩৪৪)

প্রশ্ন (৬/১২৬) : মসজিদে একাকী ছালাত আদায় করার সময় অন্য মুছল্লী তার সামনে দিয়ে কিভাবে অতিক্রম করবে?

-ফারহান ছাদীক

জীবনপুর, বগুড়া।

উত্তর : উক্ত অবস্থায় যরূরী প্রয়োজনে মুছল্লীর সিজদার স্থানের বাহির দিয়ে অতিক্রম করা যাবে (বুখারী হা/৫০৯, মুসলিম হা/৫০৫)। উক্ত হাদীছে بين يدي المصلي দ্বারা মুছল্লীর সিজদার স্থান পর্যন্ত বুঝানো হয়েছে (ইবনু হাজার, ফৎহুলবারী ঐ হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রঃ; ফাতাওয়া ওছায়মীন, মাসআলা নং ৬২৪)। মসজিদ ছাড়া অন্যত্র একাকী ছালাত আদায়কারী মুছল্লী সামনে সুতরা রেখে ছালাত আদায় করবেন (আবুদাঊদ হা/৬৯৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪১)। যদি সুতরা না রেখে ছালাত আদায় করেন, তবে তার সিজদার স্থান পর্যন্ত জায়গার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা যাবে না (বুখারী হা/৫১০; মুসলিম হা/৫০৭; মিশকাত হা/৭৭৬)

প্রশ্ন (৭/১২৭) : সাদা দাড়ি রং করার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?

-অধ্যাপক আব্দুল লতীফ

নতুন বিলশিমলা, রাজশাহী।

উত্তর : সাদা দাড়ি বা চুল রং করা সুন্নাত। তবে কালো রং করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ইহূদী, নাছারারা (চুল-দাড়ি) রং করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত কর’ (বুখারী হা/৫৮৯৯; মুসলিম হা/২১০৩; মিশকাত হা/৪৪২৩)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘তোমরা সাদা চুলকে পরিবর্তন কর, তবে কালো রং থেকে বিরত থাক’ (মুসলিম হা/২১০২; মিশকাত হা/৪৪২৪)। তিনি বলেন, শেষ যামানায় একদল লোক কালো রং দ্বারা খেযাব করবে। তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না (আবুদাউদ হা/৪২১২)। আবু উমামা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) কিছু আনছার ছাহাবীর সাদা দাড়ি দেখে বললেন, হে আনছারগণ! তোমরা তোমাদের সাদা চুলগুলো লাল অথবা হলুদ রং দ্বারা পরিবর্তন কর এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা কর (আহমাদ হা/২২৩৩৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১২৪৫)। উল্লিখিত হাদীছ সমুহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাদা চুলে যে কোন রং করা সুন্নাত। তবে কালো রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন (৮/১২৮) : অসুস্থ অমুসলিম ব্যক্তিকে সুস্থতার জন্য যমযমের পানি খাওয়ানো যাবে কি?

-আব্দুল বাছীর

শ্যামলী, ঢাকা।

উত্তর : মুসলিম হৌক আর অমুসলিম হৌক, অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতার জন্য যমযম পানি খাওয়ানো সহ যে কোন চিকিৎসা করাতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। ইসলাম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহের শিক্ষা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতে নেকী রয়েছে (বুখারী হা/২৩৬৩, মুসলিম হা/৫৯৯৬)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, ছাহাবীদের একটি দলের সফর অবস্থায় কোন এক অমুসলিম গোত্রের নেতা বিচ্ছু দ্বারা দংশিত হ’লে তাকে সূরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়-ফুঁক করানো হয় (বুখারী হা/২২৭৬, মুসলিম হা/ ৫৮৬৩)

প্রশ্ন (৯/১২৯) : তওবার নিয়ম কি? এর জন্য কোন দো‘আ আছে কি?

-আবু সুফিয়ান, সিলেট।

উত্তর : গোনাহ হ’তে মুক্তি লাভের আশায় কৃত পাপগুলো স্মরণ করে আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠচিত্তে ক্ষমা প্রার্থনা করবে (তাহরীম ৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বান্দা কোন পাপ করে ফেললে যদি সুন্দরভাবে ওযূ করে দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করে আল্লাহর নিকট বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহ’লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন’ (আবূদাঊদ হা/১৫২৩)। তবে তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে- (১) একমাত্র আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই তওবা করতে হবে। (২) কৃত গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হ’তে হবে। (৩) পুনরায় সে গোনাহে জড়িত না হওয়ার প্রতিজ্ঞা করতে হবে। উল্লেখ্য, যদি পাপটি বান্দার সাথে যুক্ত থাকে, তাহ’লে উপরের তিনটি শর্ত পূরণের সাথে চতুর্থ শর্ত হিসাবে তাকে বান্দার নিকটে ক্ষমা চাইতে হবে ও তাকে খুশী করতে হবে। নইলে তার তওবা শুদ্ধ হবে না’ (নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, ‘তওবা’ অনুচ্ছেদ)। তওবার জন্য বেশী বেশী পাঠ করতে হবে     ‘আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ুম ওয়া আতূবু ইলাইহে’ (আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি বা তওবা করছি) (তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৩৫৩)

প্রশ্ন (১০/১৩০) : আমরা অবস্থানস্থল থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে নিয়মিত অফিস করে থাকি। এক্ষণে আমরা অফিসে ক্বছর আদায় করতে পারব কি?

-আবু তাহের

রাস লাফফান, কাতার।

উত্তর : উক্ত অবস্থায় ছালাত ক্বছর করা যাবে (ফাতাওয়া ওছায়মীন ১৫/২৪৬)। আল্লাহ বলেন, ‘সফর অবস্থায় ছালাতে ‘ক্বছর’ করলে তোমাদের জন্য কোন গোনাহ নেই’ (নিসা ৪/১০১)। আর কুরআন ও ছহীহ হাদীছে কোথাও সফরের দূরত্ব নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনু তায়মিয়াহ ২৪/১২-১৩)। এছাড়া এ ব্যাপারে বিদ্বানগণ এক মাইল হ’তে ৪৮ মাইল পর্যন্ত বিশ প্রকার বক্তব্য পেশ করেছেন (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৪/১২২ পৃঃ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৬৩; বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘সফরের ছালাত’ অধ্যায়)।

প্রশ্ন (১১/১৩১) : মহিষ দ্বারা কুরবানী করা যাবে কি?

-মুনীরুদ্দীন, ব্রহ্মপুর, নাটোর।

উত্তর : সূরা হজ্জের ৩৪ ও ৩৬ নং আয়াতে البدن الأنعام শব্দদ্বয় উল্লিখিত হয়েছে, যা উট, গরু বা গরু জাতীয় পশুকে বুঝায়। আর মহিষ ও গরু যে একই জাতীয় পশু এ ব্যাপারে সকল বিদ্বান একমত। হাসান বাছরী বলেন, ‘মহিষ গরুর স্থলাভিষিক্ত’ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা হা/১০৮৪৮; মির‘আত ৫/৮১ ‘কুরবানী’ অনুচ্ছেদ)। অতএব মহিষ কুরবানী দেওয়াতে কোন দোষ নেই (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওছায়মীন ২৫/৩৪, ‘কুরবানী’ অধ্যায়)।

প্রশ্ন (১২/১৩২) : খরগোশের গোশত খাওয়া জায়েয কি?

-আমজাদ, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : খরগোশের গোশত খাওয়া জায়েয। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘মাররূয যাহরান’ নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ ধাওয়া করলাম। সাথের লোকজন অনেক চেষ্টা করে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। অবশেষে আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং আবু ত্বালহার নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি সেটিকে যবহ করলেন ও তার রান দু’টি কিংবা তার সামনের পা দু’টি নবী করীম (ছাঃ)-এর জন্য হাদিয়া স্বরূপ পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন’ (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪১০৯)

প্রশ্ন (১৩/১৩৩) : মসজিদে দুই পিলারের মাঝে ছালাতের কাতার করা যাবে কি?

-মুহসিন, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : জামা‘আতবদ্ধভাবে ছালাত আদায় করার সময় দুই পিলারের মাঝে কাতার করা যাবে না। এতে কাতারে বিছিন্নতা আসে। মু‘আবিয়া বিন কুর্রা তার পিতা হ’তে বর্ণনা করেন, রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে আমাদেরকে দুই পিলারের মাঝে কাতার করতে নিষেধ করা হ’ত এবং পিলার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হ’ত (ইবনু মাজাহ হা/১০০২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৩৫)। তবে একাকী ছালাত আদায়ের সময় দুই পিলারের মাঝে দাঁড়ালে কোন সমস্যা নেই (বুখারী হা/৫০৪)

প্রশ্ন (১৪/১৩৪) : হানাফী মাযহাবের মূল গ্রন্থ কি কি?

-কবীর, আরামবাগ, ঢাকা।

উত্তর : ইমাম আবু হানীফা (৮০-১৫০হিঃ) কোন গ্রন্থ রচনা করে যাননি। যদি ‘ফিক্বহে আকবর’ ও ‘মুসনাদে আবু হানীফা’-কে তাঁর কিতাব হিসাবে গণ্য করা হয়, তাহ’লে বলা হবে যে, প্রথমোক্ত ছোট পুস্তকটি ছিল আক্বায়েদের উপর লিখিত এবং শেষোক্তটি ছিল হাদীছের সংক্ষিপ্ত সংকলন (আহলেহাদীছ আন্দোলন (থিসিস), পৃঃ ১৭১)। পরবর্তীকালে যেসব ফিক্বহ ও উছূলে ফিক্বহ রচিত হয়েছে, সবই পরবর্তীগণের রচিত (দিরাসাতুল লাবীব, পৃঃ ১৫৬)। শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) এগুলোকে ইমাম আবু হানীফার দিকে সম্বন্ধ করার বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ১/১৬০)। এক্ষণে যেসব গ্রন্থসমূহকে হানাফী মাযহাবের মূল ফৎওয়া গ্রন্থ হিসাবে গণ্য করা হয়, সেগুলি হ’ল- (১) কুদূরী, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বাগদাদী (মৃঃ ৪২৮ হিঃ)। সংকলনকাল : ৫ম শতাব্দী হিঃ। (২) হেদায়াহ, বুরহানুদ্দীন মারগীনানী (মৃঃ ৫৯৩ হিঃ)। সংকলনকাল : ৬ষ্ঠ শতাব্দী হিঃ। (৩) কানযুদ দাক্বায়েক্ব, হাফেযুদ্দীন নাসাফী (মৃঃ ৭১০ হিঃ)। সংকলনকাল : ৮ম শতাব্দী হিঃ। (৪) শরহ বেকায়াহ, ওবায়দুল্লাহ বিন মাসঊদ (মৃঃ ৭৪৫ হিঃ)। সংকলনকাল : ৮ম শতাব্দী হিঃ। (৫) দুর্রে মুখতার, মুহাম্মাদ আলাউদ্দীন (মৃঃ ১০৭১ হিঃ)। সংকলনকাল : ১১শ শতাব্দী হিঃ। (৬) ফাতাওয়া আলমগীরী, পাঁচশত আলেম। সংকলনকাল ১১১৮ হিঃ। (৭) মা লা বুদ্দা মিনহু, কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী (মৃঃ ১২২৫ হিঃ)। সংকলনকাল : ১৩শ শতাব্দী হিঃ। এগুলো উপমহাদেশে সর্বাধিক প্রচলিত।

এছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে। যেমন : (৮) আলাউদ্দীন কাসানী (মৃত্যু ৫৮৭ হিঃ) কর্তৃক রচিত গ্রন্থ ‘বাদায়ে‘উস সানায়ে‘। (৯) যাফর ইবনু আহমাদ ইবনু লতীফ উছমানী (মৃঃ ১৩৯৪ হিঃ) প্রণীত ‘ই‘লাউস সুনান’। তবে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পরে রচিত উক্ত কিতাব সমূহের সাথে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর কোন সম্পর্ক নেই।

প্রশ্ন (১৫/১৩৫) : বর্তমানে রাসূল (ছাঃ)-এর কবরটি সবুজ গম্বুজ দ্বারা সুশোভিত করে রাখা আছে। এটা কি শরী‘আতসম্মত?

-মেহেদী আরিফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : যেকোন কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ করা শরী‘আত বিরোধী কাজ (মুসলিম হা/২২৮৭ ও ২২৮৯)। গম্বুজটি ১২৭৯ খ্রীষ্টাব্দে সর্বপ্রথম নির্মাণ করেন মামলূক সুলতান কালাউন। অতঃপর ১৪৮১ খ্রীষ্টাব্দে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর সুলতান আশরাফ কায়েতবায়ী পুনরায় একটি কালো পাথরের গম্বুজ নির্মাণ করেন। পরবর্তী শাসকদের আমলে তাতে সাদা এবং নীল রঙের প্রলেপ দেয়া হয়েছিল। ৯৪৬ হিজরীতে গম্বুজের উপর তুর্কী খেলাফতের প্রতীকবাহী চন্দ্রাকৃতি স্থাপন করেন মক্কার শাসক ওয়াছেল। অতঃপর ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে তুর্কী সুলতান মাহমূদ খান গম্বুজের উপর সবুজ রঙের প্রলেপ দেন। তখন থেকে এটি ‘কুববাতুল  খাযরা’ (সবুজ গম্বুজ) নামে পরিচিতি লাভ করে এবং তা আজও অক্ষত আছে। ১৮০৫ খ্রীষ্টাব্দে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের অনুসারী সংস্কারবাদীগণ মদীনার বাকী‘ কবরস্থানের সকল কবরের উপর থেকে গম্বুজ ভেঙ্গে ফেলে দেন। কিন্তু বৃহত্তর ফিৎনার আশংকায় এবং গম্বুজটির বিশ্বব্যাপী পরিচিতির কারণে এটি ভাঙ্গেননি (শায়খ রশীদ রেযা, আল-ওয়াহহাবিয়্যূন ওয়াল হিজায পৃ. ৬৯-৭১)। এর বিরুদ্ধে সঊদী ওলামায়ে কেরাম সোচ্চার হওয়া সত্ত্বেও কেবল ফিৎনার আশংকায় সরকার এটা রেখে দিয়েছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১/২৭০)

প্রশ্ন (১৬/১৩৬) : মাসজিদুল হারামের পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে হারামের ছালাতের জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-মাসঊদ রানা

মক্কা, সঊদী আরব।

উত্তর : হারামের পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বা দোকানে বা অনুরূপ স্থানে সকলে একত্রিত হয় না এবং কাতারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সম্ভব হয় না। ফলে এভাবে ছালাত শুদ্ধ হবে না (দ্রঃ ফাতাওয়া ওছায়মীন, ফৎওয়া নং ৪১১; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ১৭৫৯)

প্রশ্ন (১৭/১৩৭) : যেসব সূরার শেষ আয়াতে সিজদা দিতে হয় সেগুলি পাঠ করার পর কি প্রথমে সিজদায়ে তেলাওয়াত অতঃপর রুকূতে যেতে হবে?

-এবাদুল শেখ

ধুলিয়ান, পঃ বঙ্গ, ভারত।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) সিজদার আয়াত পাঠ করার সাথে সাথেই সিজদায় যেতেন (বুখারী হা/১০৭৭)। অতএব সিজদায়ে তেলাওয়াত আদায় করে দাঁড়ানোর পর কিছু তেলাওয়াত করে রুকূতে যেতে হবে। যেমন সূরা ‘আলাক্ব শেষে সিজদা করার পর উঠে সূরা ক্বদর পাঠ করে রুকূতে যাওয়া। যাতে তেলাওয়াতের সিজদা ও পরবর্তী রুকূর মধ্যে কিছু পার্থক্য করা যায়।

প্রশ্ন (১৮/১৩৮) : ছালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে শুরু করে ছালাত শেষে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত কি কি আদব রক্ষা করা মুছল্লীদের জন্য আবশ্যক?

-শহীদুর রহমান

সাবেক প্রিন্সিপ্যাল, মহিষখোচা ডিগ্রী কলেজ,

 লালমণিরহাট।

উত্তর : মসজিদে প্রবেশ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত যে সকল আদব রক্ষা করা যরূরী তা হ’ল, (১) রাক‘আত ছুটে যাওয়ার অশংকা থাকলেও ধীরে-সুস্থে মসজিদে গমন করা (বুখারী হা/৯০৮; মুসলিম হা/৬০২; মিশকাত হা/৬৮৬)। (২) মসজিদে যাওয়ার সময় স্বাভাবিকভাবে যাওয়া এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলোকে পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করানো (আবূদাঊদ হা/৫৬২)। (৩) মসজিদে প্রবেশের সময় ও বের হওয়ার সময় দো‘আ পাঠ করা (মুসলিম হা/৭১৩, আবুদাঊদ হা/৪৬৫)। (৪) ডান পা আগে দিয়ে প্রবেশ করা এবং বাম পা আগে দিয়ে বের হওয়া (হাকেম হা/৭৯১, ছহীহাহ হা/২৪৭৮)। (৫) কাঁচা পেয়াজ, রসুন বা যে কোন দুর্গন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে প্রবেশ না করা (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪১৯৭)। (৬) অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, গল্প-গুজব, হৈচৈ থেকে বিরত থাকা। এমনকি উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ না করা (তাবারাণী, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭১৪)। (৭) যে কোন সময় মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাক‘আত তাহিয়াতুল মসজিদ ছালাত আদায় করা (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭০৪)

প্রশ্ন (১৯/১৩৯) : বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-সুলতান আহমাদ

মুরাদপুর, চট্টগ্রাম।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) মসজিদে নববীর বাইরে ৫০০ গজ পূর্বে ‘বাত্বহান’ সমতলভূমিতে খোলা ময়দানে ঈদের ছালাত আদায় করতেন (ইবনু মাজাহ হা/১৩০৪;যাদুল মা‘আদ ১/৪২৫ পৃঃ; মির‘আত ৫/২২ পৃঃ)। মসজিদে ঈদের ছালাত আদায়ের প্রমাণে কোন ছহীহ হাদীছ নেই। বৃষ্টির কারণে একবার রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদের ছালাত মসজিদে পড়িছিলেন মর্মের হাদীছটি যঈফ’ (মিশকাত হা/১৪৪৮, যঈফ আবুদাঊদ হা/২১৩; যঈফ ইবনে মাজাহ হা/২৭০)। তবে বৃষ্টি বা অন্য যেকোন বাধ্যগত কারণে মসজিদে পড়া যেতে পারে (আলবানী, ছালাতুল ঈদায়েন ফিল মুছল্লা, পৃঃ ৩৫)

প্রশ্ন (২০/১৪০) : দাঁড়িয়ে খাওয়া ও পান করা সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান কী?

-আব্দুল্লাহ আল-মামূন

 ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : যেকোন ধরনের পানাহার বসে করাই সুন্নাত (মুসলিম হা/২০২৪, মিশকাত হা/৪২৬৬, ৬৭)। তবে কোন কারণ বশতঃ কখনো দাঁড়িয়েও পানাহার করা যায় (ইবনু মাজাহ হা/৩৩০১, মিশকাত হা/৪২৭৫)

প্রশ্ন (২১/১৪১) : অত্যাচারের শিকার এমন ব্যক্তি প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দিলে সে কেমন প্রতিদান লাভ করবে?

-নাজমুছ ছাক্বিব

কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।

উত্তর : (১) আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন (মুসলিম হা/২৫৮৮; মিশকাত হা/১৮৮৯; ছহীহ তারগীব হা/৮১৪)। (২) রাগ প্রয়োগ না করে ধৈর্যধারণ করলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে পসন্দমত হূর গ্রহণের স্বাধীনতা প্রদান করা হবে (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫০৮৮, সনদ হাসান) এবং (৩) মাযলূম যালেমের প্রতিবাদ না করে ধৈর্যধারণ করলে আল্লাহ তাকে ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেন (আহমাদ, মিশকাত হা/৫১০২, ছহীহাহ হা/২২৩১)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ক্রোধ দমন করাকে সর্বাধিক বীরত্ব হিসাবে উল্লেখ করেছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫১০৫)

প্রশ্ন (২২/১৪২) : মুসলিমের (মুসলিম হা/১৮২৭) একটি হাদীছে বলা হয়েছে, আল্লাহর উভয় হাতই ডান। অন্য হাদীছে (মুসলিম হা/২৭৮৮) তাঁর বাম হাতের কথা এসেছে। উভয় হাদীছের বৈপরিত্যের সমাধান কি?

-আব্দুল বারী, যশোর।

উত্তর : আল্লাহর হস্তদ্বয় মানুষের হাতের মত নয়। বরং তাঁর উভয় হাতই ডান, যা বিভিন্ন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। মুসলিমের একটিমাত্র বর্ণনায় (মুসলিম হা/২৭৮৮) তাঁর বাম হাতের কথা এসেছে, যা অন্য বর্ণনায় ‘বাম হাতে’র বদলে ‘অন্য হাত’ বলা হয়েছে (আবুদাঊদ হা/৪৭৩২)। এটি স্রেফ মানুষকে বুঝানোর জন্য। অতএব এর অর্থ হবে ‘অন্য হাত’ (আলবানী, মাজাল্লা ইছালা, ৪র্থ সংখ্যা ৬৮ পৃঃ)। এছাড়া বান্দার ক্ষেত্রে ডান হাতের চেয়ে বাম হাতের মর্যাদা কম। যা আল্লাহর ক্ষেত্রে শোভা পায় না (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ২৫/১২৬)

প্রশ্ন (২৩/১৪৩) : স্বামী স্ত্রী থেকে তিন মাসের অধিক দূরে থাকার পর তালাক প্রদান করলে স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে কি?

-আফযাল হোসাইন

মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : করতে হবে। কারণ ইদ্দত তালাকের সাথে সম্পর্কিত, মিলনের সাথে নয়। অতএব উক্ত স্ত্রীর ইদ্দতকাল তালাক প্রদানের পর থেকে ধর্তব্য হবে (বাক্বারাহ ২/২২৮) তবে বিবাহের পর মিলনের পূর্বে তালাক প্রদান করলে সেক্ষেত্রে এক তালাক বায়েন হিসাবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে কোন ইদ্দত পালন করতে হবে না (আহযাব ৩৩/৪৯) 

প্রশ্ন (২৪/১৪৪) : বড় ভাই হারিয়ে যাওয়ায় তার সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ছোট ভাই তার স্ত্রীকে বিবাহ করে। কিন্তু পরবর্তীতে বড় ভাই ফিরে এসেছে। এক্ষণে করণীয় কী?

-সেলিম রেযা

চৌমুহনী বাজার, রাজশাহী।

উত্তর : নিখোঁজ স্বামীর জন্য স্ত্রী চার বৎসর অপেক্ষা করার পর অন্যত্র বিবাহ করতে পারে (বায়হাক্বী হা/১৫৩৪৫; মুহাল্লা ৯/৩১৬ পৃঃ)।  এক্ষণে যদি সময়ের পূর্বেই বিবাহ করে থাকে, তবে উক্ত স্ত্রী পূর্বের স্বামীর নিকটে ফিরে যাবে। আর যদি নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর বিবাহ করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার এখতিয়ার রয়েছে। সে দ্বিতীয় স্বামীকে মোহর ফেরত দিয়ে ‘খোলা’ করে প্রথম স্বামীর নিকটে বিবাহের মাধ্যমে ফিরে আসবে (মুছান্নাফ আব্দুর রায্যাক হা/১২৩২৫; বায়হাক্বী হা/১৫৩৪৭, ১৫৩৪৮)

প্রশ্ন (২৫/১৪৫) : স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের বিবাহ কি নতুনভাবে পড়াতে হবে?

-সোহাগ, যশোর।

উত্তর : নতুন করে বিবাহ পড়ানোর প্রয়োজন হবে না। রাসূল (ছাঃ)-এর মেয়ে যয়নাব (রাঃ) ইসলাম কবুল করে মদীনায় হিজরতের তিন বছর পর তার স্বামী ‘আছ বিন ওয়ায়েল মুসলমান হয়ে মদীনায় আসেন। রাসূল (ছাঃ) উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখেন। নতুনভাবে তাদের বিবাহ পড়াননি (আবুদাঊদ হা/২২৪০, তিরমিযী হা/১১৪৩, ইরওয়া হা/১৯২১)

প্রশ্ন (২৬/১৪৬) : ‘মুমিনের ক্বলবই আল্লাহর আরশ’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

 -সোহেল, কাযীপুর, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত মর্মের বর্ণনাটি জাল (ছাগানী, কিতাবুল মাওযূ‘আত হা/৭০; আবুল ফযল মাকদেসী, তাযকিরাতুল মাওযূ‘আত হা/৭০)

প্রশ্ন (২৭/১৪৭) : বিদ‘আতী ইমামের পিছনে ঈদায়নের ছালাত আদায়ের সময় ‘আমীন বলা’ ও ‘রাফউল ইয়াদায়নে’র ন্যায় অতিরিক্ত তাকবীর সমূহ একাকী আদায় করলে তাতে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? 

-সুলতান আহমাদ

মুরাদপুর, চট্টগ্রাম।

উত্তর : একাকী পৃথকভাবে তাকবীর দেওয়া যাবে না। কেননা হাদীছে বর্ণিত ইমামের অনুসরণ দ্বারা তার ছালাতের তাকবীরসমূহ অনুসরণের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। একদা রাসূল (ছাঃ) ছালাতরত অবস্থায় ময়লা থাকার কারণে জুতা খুলে ফেললে ছাহাবায়ে কেরামও জুতা খুলে ফেলেন। পরবর্তীতে রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে বললেন, ময়লা থাকার কারণে আমি খুলে ফেলেছি (আহমাদ, ইবনু হিববান হা/২১৮৫)। এছাড়া বসে ছালাত আদায়কারীর পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা জায়েয (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৪০)। এ হাদীছগুলি প্রমাণ করে যে, ইমামের তাকবীর ব্যতীত অন্য কিছু অনুসরণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন (২৮/১৪৮) : সূরা তাকাছুর একবার পড়লে এক হাযার আয়াত পড়ার সমান ছওয়াব হয় এবং উক্ত সূরা পাঠকারীকে আল্লাহর রাজত্বে শুকরিয়া আদায়কারী হিসাবে গণ্য করা হয়। হাদীছটি কি ছহীহ?

-আফযাল, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : উক্ত বর্ণনার প্রথমাংশ বায়হাক্বীর শু‘আবুল ঈমানে আর দ্বিতীয়াংশ দায়লামীর মুসনাদুল ফেরদাউসে বর্ণিত হয়েছে। উভয় বর্ণনাই যঈফ (যঈফ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/৮৯১; মিশকাত হা/২১৮৪; যঈফুল জামে‘ হা/৪০৩৮)

প্রশ্ন (২৯/১৪৯) : একই ইমাম একাধিক তারাবীহর জামা‘আতে ইমামতি করতে পারেন কি?

-আকবর হোসাইন, যশোর।

উত্তর : ফরয ছালাতে এরূপ করার হাদীছ রয়েছে। যেমন মু‘আয (রাঃ) করতেন (বুখারী হা/৭০১)। নফল ছালাতের ক্ষেত্রে এরূপ কোন দলীল পাওয়া যায় না। ইমাম অন্যত্র পুনরায় তারাবীহ পড়ালে তার রাক‘আতের সংখ্যাসীমা থাকবে না। অতএব তারাবীহর ইমামতি পৃথক ব্যক্তি করবেন, যদিও সেটা স্রেফ সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাছ দিয়ে হয়। কেননা একই সূরা প্রতি রাক‘আতে বার বার পড়ায় কোন বাধা নেই (বুখারী হা/৫০১৫; আলোচনা দ্রঃ তাফসীরুল কুরআন সূরা ইখলাছ পৃঃ ৫৪৩)

প্রশ্ন (৩০/১৫০) : কাঁকড়া খাওয়া ও এর ব্যবসা করা যাবে কি?

-মাযহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

উত্তর : যাবে। সামুদ্রিক প্রাণী যা পানিতে থাকে, তা কাঁকড়া হোক বা অন্য প্রাণী হোক তা হালাল (আল-মুকনে‘ ২৭/২৮২ মাসআলা নং ৪৬২৬)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল’ (আবুদাঊদ, বুলূগুল মারাম, ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়, হা/১)

প্রশ্ন (৩১/১৫১) : জনৈক আলেম বলেন, ছালাতে ‘হুযূরে ক্বলব’ না থাকলে ছালাত কবুল হবে না। আর এর অর্থ হ’ল, ‘ছালাতের মাঝে পীরের ধ্যান করা’।  উক্ত দাবী কি সঠিক?

-কাওছার, কাযীপুর, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : ‘হুযূরে ক্বলব’ ভাষাটি ছূফী নামধারী মা‘রেফাতীদের তৈরী। এর অর্থ ‘পীরের ধ্যান’ বলে যে দাবী করা হয়েছে তা মূলতঃ শয়তানী কুমন্ত্রণা। কারণ ‘হুযুরে ক্বলব’-এর অর্থ হ’ল- অন্তরের উপস্থিতি। উল্লেখ্য, ছালাতে খুশূ-খুযূ বা একাগ্রতা আবশ্যক (মুমিনূন ১-২)। তবে এর কিছু ঘাটতি থাকলে ছালাত বাতিল হবে না (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৫)। বরং ছালাত ত্রুটিপূর্ণ হবে এবং নেকীতে কম-বেশী হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, মুছল্লী ছালাত আদায় করে, কেউ পায় দশভাগ নেকী, কেউ নয়ভাগ, আটভাগ, সাতভাগ, ছয়ভাগ, পাঁচভাগ, চারভাগ, তিনভাগ আবার কেউ অর্ধেক নেকী পায়’ (আহমাদ হা/১৮৯১৪, ছহীহুল জামে‘ হা/১৬২৬)

প্রশ্ন (৩২/১৫২) : ক্বদরের রাত্রিগুলিতে ইবাদত করার নিয়ম কি? মহিলারা কি এ ইবাদতে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

-ইসহাক

কাঁঠালপাড়া, পবা, রাজশাহী।

উত্তর : (১) এশা ও ফজর ছালাতের মাঝে দীর্ঘ কিরাআত, দীর্ঘ রুকূ ও সিজদার মাধ্যমে বিতরসহ ১১ রাক‘আত ছালাত আদায় করা (বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮)। (২) একই সূরা, তাসবীহ, দো‘আ বারবার পড়ে ছালাত দীর্ঘ করা (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২০৫, সনদ হাসান; আবুদাঊদ হা/৮১৬; মিশকাত হা/৮৬২)। (৩) ছালাতের মধ্যে কিরাআত দীর্ঘ করতে সক্ষম না হ’লে ছালাতের বাইরে তেলাওয়াত করা (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৩)। (৪) একনিষ্ঠ চিত্তে দো‘আ-দরূদ ও তওবা-   ইস্তেগফার করা এবং বিশেষতঃ ক্বদরের রাতে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দো‘আ ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউভুন তোহেববুল ‘আফ্ওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী’ (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর) (তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৯১) বেশী বেশী পাঠ করা। (৫) এছাড়া এ রাতগুলিকে অধিকহারে দান-ছাদাক্বা করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, তারাবীহ’র ৮ রাক‘আত ছালাত জামা‘আতে বা একাকী আদায় করা যায়। তবে জামা‘আতে আদায় করাই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমামের সাথে জামা‘আতে কিয়ামকারী সারা রাত্রি ছালাত আদায়ের নেকী লাভ করে (তিরমিযী হা/৮০৬, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১২৯৮)। (৬) এ রাতে মসজিদে জামা‘আতের সাতে ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়া। অতঃপর খানাপিনা ও তাসবীহ-তেলাওয়াত শেষে ঘুমিয়ে যাওয়া। অতঃপর শেষ রাতে উঠে তাহিয়াতুল মসজিদ, তাহিয়াতুল ওযূ ইত্যাদি শেষে ৩ অথবা ৫ রাক‘আত বিতর পড়া। তবে সময়ের অভাবে বিতর ব্যতীত অন্যগুলি বাদ দেওয়া যেতে পারে।

মহিলাদের মসজিদে ই‘তিকাফ করায় কোন বাধা নেই। রাসূল (ছাঃ)-এর স্ত্রীগণ মসজিদে ই‘তিকাফে বসতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২০৯৭)। তাঁর জীবদ্দশাতেও অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা কারণবশতঃ বাস্তবায়ন হয়নি (বুখারী হা/২০৪১; মির‘আত ৭/১৪৩-৪৪, হা/২১১৭ আলোচনা দ্রঃ)

প্রশ্ন (৩৩/১৫৩) : নফল ছালাতের কি কোন সংখ্যা-সীমা আছে? না যত খুশী আদায় করা যায়?

-মুজীবুর রহমান

মুহাম্মাদপুর, ঢাকা।

উত্তর : সকল আমলই পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের অনুমোদনের মুখাপেক্ষী। যা সুনির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট। তাই রাসূল (ছাঃ) যতটুকু আমল করেছেন, করতে বলেছেন বা সমর্থন করেছেন, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। একদা তিন ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর ইবাদতকে কম মনে করে বিরতিহীন ছিয়াম, সারারাত্রি ছালাত এবং অবিবাহিত জীবন যাপন করতে চাইলে রাসূল (ছাঃ) বললেন, আমি ছিয়াম পালন করি আবার পরিত্যাগও করি, রাত জেগে ছালাত আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই এবং বিয়েও করি। এটাই আমার সুন্নাত। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত পরিত্যাগ করবে, সে আমার দলভুক্ত নয় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৫)। তাঁর নির্দেশিত আমলের ক্ষেত্রে সামান্যতম কম-বেশী না করার ঘোষণা দেওয়ায় জনৈক বেদুঈনকে রাসূল (ছাঃ) জান্নাতী হিসাবে আখ্যায়িত করেন (বুখারী হা/১৩৯৭; মুসলিম হা/১৪; মিশকাত হা/১৪)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করল যাতে আমার নির্দেশনা নেই তা প্রত্যাখ্যাত (মুসলিম হা/১৭১৮)। অতএব হাদীছে যে নফল ইবাদত যেভাবে করতে বলা হয়েছে, সেভাবেই করতে হবে। বাড়তি করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।

প্রশ্ন (৩৪/১৫৪) : মসজিদে কবর দেয়া নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবর মসজিদের ভিতরে হওয়ার কারণ কি?

-মেহেদী আরিফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : প্রথমতঃ মসজিদে কবর দেয়া হয়নি। বরং তাঁকে মসজিদে নববীর পাশে অবস্থিত তাঁর বাসঘরে দাফন করা হয়েছে (তিরমিযী হা/১০১৮)। কেননা নবীগণ যেখানে মৃত্যুবরণ করেন সেখানেই কবরস্থ হন (ইবনু মাজাহ হা/১৬২৮, ছহীহুল জামে‘ হা/৫৬৭০)। ৯৪ হিজরীতে মসজিদ সম্প্রসারণের সময় কবরটি মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এ সময় জীবিত ছাহাবী ও তাবেঈগণ এর বিরোধিতা করেন। তাছাড়া মসজিদ আর বাড়ীর জায়গা যেহেতু পৃথক, তাই কবর উঁচু বাউন্ডারির মাঝে থাকার কারণে কোন সমস্যা নেই। আর উক্ত কবর স্থানান্তরও করা যাবে না। কারণ নবী-রাসূলগণের বিষয়টি খাছ (শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালেহ্ ওছায়মীন, আল-কাওলুল মুফীদ ‘আলা কিতাবিত তাওহীদ ১/৩৯৮; মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/১৮০-১৮১ ও ৯/৩২১)

প্রশ্ন (৩৫/১৫৫) : তারাবীহর ছালাতে কুরআন দেখে পড়া যাবে কি?

-দীদার বক্স

মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : নফল ছালাতে কুরআন দেখে পড়া যায়। আয়েশা (রাঃ)-এর গোলাম যাকওয়ান রামাযান মাসে কুরআন দেখে আয়েশা (রাঃ)-এর ইমামতি করেছেন (বুখারী, ‘আযান’ অধ্যায়, ৫৪ অনুচ্ছেদ; বায়হাক্বী হা/৩১৮৩; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৯৯)। তবে ছালাতে কুরআন মুখস্থ পড়াই উত্তম। কেননা এতে ছালাতে খুশূ-খুযূ বিঘ্নিত হয় না।

প্রশ্ন (৩৬/১৫৬) : নখ লম্বা করে রাখার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?

-হাবীবুর রহমান, গাইবান্ধা।

উত্তর : নখ লম্বা রাখা যাবে না। নখ লম্বা রাখা নবীগণের সুন্নাতের বিরোধী। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, বৈশিষ্ট্যগত আমল হচ্ছে ৫টি (১) নাভির নীচের লোম পরিষ্কার করা (২) খাৎনা করা (৩) গোফ কেটে ফেলা (৪) বগলের লোম উঠিয়ে ফেলা (৫) নখ কাটা (বুখারী হা/১২৫৭)

প্রশ্ন (৩৭/১৫৭) : বিবাহের খুৎবা ঈজাব-কবুলের পরে হবে না আগে হবে? সম্মতি নেওয়ার জন্য পিতা ও সাক্ষীদেরকে মেয়ের কাছে যাওয়া  কি শরী‘আতসম্মত?

-খায়রুল আনাম

পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : আগে খুৎবা হবে, পরে ঈজাব কবুল। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে ছালাতের তাশাহহুদ যেভাবে শিখাতেন, হাজতের তাশাহহুদ সেভাবে শিখাতেন। তারপর তিনটি আয়াত পড়তেন। অতঃপর প্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলতেন (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩১৪৯)। অত্র হাদীছের প্রয়োজনীয় বিষয় হ’ল ঈজাব কবুল। মেয়ের কাছে গিয়ে বিবাহ পড়ানোর পদ্ধতি সঠিক নয়। পিতা বা অভিভাবক আগেই সাবালিকা মেয়ের সম্মতি নিবেন (বুখারী হা/৫১৩৬)। নইলে বিবাহ সিদ্ধ হবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩১২৭-২৮)

বিবাহের সুন্নাতী তরীকা হল, প্রথমে বিবাহের খুৎবা হবে। অতঃপর দু’জন সাক্ষীর সামনে মেয়ের পিতা বা অভিভাবক বলবেন, আমি আমার মেয়েকে তোমার সাথে বিবাহ দিলাম। আর ছেলে বলবে, আমি কবুল করলাম। এভাবে বিবাহ সম্পন্ন হবে। বিবাহের খুৎবা মেয়ের অভিভাবক নিজেও পড়তে পারেন। আগেই আলোচনার মাধ্যমে মোহরানা ঠিক করবে এবং তা নগদ পরিশোধ করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের ফরয মোহরানা পরিশোধ কর’ (নিসা ৪)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, বিবাহের সবচেয়ে বড় শর্ত হ’ল মোহর’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৪৩)। বাধ্যগত অবস্থায় মোহর কিছু বাকী রেখে বিবাহ করা জায়েয (বু:মু: মিশকাত হা/৩২০২)। তবে কিছু মোহর পরিশোধ করে বাকীটা মৃত্যু পর্যন্ত দেরী করার রেওয়াজ অবশ্যই পরিত্যাজ্য।  

প্রশ্ন (৩৮/১৫৮) : পেশাব-পায়খানা ও স্ত্রী সহবাস ব্যতীত বস্ত্রহীন হওয়া যাবে না মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?

-মশিউর রহমান

চককানু, নওগাঁ।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী হা/২৮০০; মিশকাত হা/৩১১৫; সিলসিলা যঈফাহ হা/৬০০৬)।তবে পেশাব-পায়খানার বিষয়টি যরূরী। স্ত্রী মিলনের বিষয়টিও অনুরূপ। যা অন্য ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমার গোনাহ ঢেকে রাখ। তবে তোমার স্ত্রী ও তোমার দাসীর বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত নয় (বুখারী, মিশকাত হা/৫৭০৭;  ইবনে মাজাহ, মিশকাত হা/৩১১৭)

প্রশ্ন (৩৯/১৫৯) : সমাজে প্রচলন আছে, মানুষ মারা গেলে লাশ ঘরের বাইরে রাখা হয়। শরী‘আতে এমন কোন বিধান আছে কি?

-হিরণ, নরসিংদী।

উত্তর : শরী‘আতে এধরনের কোন বিধান নেই। এমন মনে করাটা কুসংস্কার।

প্রশ্ন (৪০/১৬০) : ঈদের ছালাতের পূর্বে গযল গাওয়া বা বক্তব্য দেওয়া যায় কি?

-সাখাওয়াত, ঢাকা।

উত্তর : ঈদের ছালাতের পূর্বে গযল গাওয়া বা বক্তব্য দেয়া যাবে না। কারণ এটা শরী‘আতে নতুন কাজ, যা পরিত্যাজ্য (মুসলিম হা/২০৮৬; মিশকাত হা/১৪০)। ঈদের মাঠে এসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সর্বপ্রথম ছালাত আদায় করতেন। তারপর ছাহাবীগণের মুখোমুখী হয়ে খুৎবা দিতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪২৬)। ঈদের দিন সুন্নাত হ’ল, তাকবীর পাঠ করা। রাসূল (ছাঃ) উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর দিতে দিতে ঘর হ’তে ঈদগাহ অভিমুখে রওয়ানা দিতেন (বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল হা/৬৫০, ৩/১২৩ পৃঃ)। তাবেঈ বিদ্বান ইবনু শিহাব যুহরী বলেন, লোকেরা ঈদের দিন সকালে তাকবীর ধ্বনি করতে করতে ঈদগাহে আসত। অতঃপর ইমাম এলে তাকবীর বন্ধ করত। এ সময় ইমামের সাথে তারাও তাকবীর দিত (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, ইরওয়া ৩/১২১ পৃঃ; দারাকুৎনী হা/১৬৯৬, ১৭০০)

 

 

HTML Comment Box is loading comments...