স্বদেশ-বিদেশ

স্বদেশ 

মক্কায় বিশ্ব কুরআন প্রতিযোগিতায় হাবীবুল্লাহর ৩য় স্থান লাভ

সম্প্রতি  পবিত্র  কা‘বা  শরীফে  সঊদী  বাদশাহ  আব্দুল  আযীয আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ীস্থ মারকাযুত তাহফীয ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার হাফেয হাবীবুল্লাহ ৩য় স্থান লাভ করেছে। সঊদী ধর্মমন্ত্রী ছালেহ বিন আব্দুল আযীয আলে শায়খ ও কা‘বা শরীফের ইমাম আব্দুর রহমান সুদাইস বিজয়ী হাফেয হাবীবুল্লাহর হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ তুলে দেন। একই মাদরাসার ছাত্র হাফেয এমদাদুল্লাহ চলতি বছরে সঊদী আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ছোটদের বিশ্ব কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে। তাছাড়া চলতি বছর জর্দানে বিশ্ব কুরআন প্রতিযোগিতায় উক্ত মাদ্রাসার বালিকা শাখার ছাত্রী হাফেযা ফারীহা তাসনীম ৪০টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করে।

উদ্ভাবিত রঙিন আলু ঝুঁকি কমাবে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের

দেশে নতুন চার প্রজাতির রঙিন আলু উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিজ্ঞানীগণ। এসব আলুতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ যেমন রয়েছে, তেমনি এর ফলনও ভাল পাবে কৃষকরা। গোল আলু-১, ২, ৩ ও গোল আলু-৪ নামে এ আলুগুলিতে সাদা আলুর তুলনায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থোসায়ানিন ও ফেনোলিক কম্পাউন্ড রয়েছে, যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এতে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল। ফ্যাটমুক্ত এ আলু ভাতের বিকল্প হিসাবে নিয়মিত খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা যেমন পূরণ হবে, তেমনি হৃদরোগের ঝুঁকি হরাস, ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ, বয়ঃবৃদ্ধিজনিত বুদ্ধিহরাস রোধ করবে এবং মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করবে। এছাড়া উদ্ভাবিত এ রঙিন আলুতে শুষ্ক পদার্থ বেশি থাকায় সহজেই কৃষক নিজ ঘরে অনেক দিন এটি সংরক্ষণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন গবেষকগণ।

গবেষক দলের প্রধান ড. আব্দুর রহীম বলেন, ২০০৮ সালে তিনি আমেরিকান দুই অধ্যাপকের নিকট থেকে মোট ২৮টি রঙিন গোল আলুর বীজ নিয়ে আসেন। অতঃপর প্রায় ৪ বছর গবেষণা শেষে অধিক ফলন ও রোগ-বালাইমুক্ত ৪ প্রজাতির আলুর নতুন লাইন উদ্ভাবন করেন। এ কাজে তাঁকে সাহায্য করেন মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত ক’জন শিক্ষার্থী ও পিএইচডি ফেলোরা।

আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি

১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাকে অবশেষে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রীমকোর্টে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর গত ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০.০১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এ রায় কার্যকর হয়।

এর আগে ১০ তারিখ রাতে ফাঁসি কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করলেও শেষ মুহূর্তে রিভিউয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি রায় কার্যকর স্থগিত করেন। পরে দু’দিন শুনানির পর রিভিউ আবেদন খারিজ করে পূর্বের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ফলে রায় বাস্তবায়নে আর কোন বাধা ছিল না।

উল্লেখ্য, কথিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি অভিযোগের বিচার করে দু’টি অভিযোগে যাবজ্জীবন, তিনটি অভিযোগে ১৫ বছর করে কারাদন্ড এবং একটি অভিযোগ থেকে খালাস দেন। পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপক্ষ উক্ত রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করে। তাতে সুপ্রীম কোর্ট আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে তথা ৪:১ এর ভিত্তিতে একটি মামলায় যাবজ্জীবনের সাজা বাড়িয়ে আব্দুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদন্ড দেয় এবং অন্যগুলিতে ট্রাইব্যুনালের আদেশ বহাল রাখে। পাঁচজন বিচারপতির অন্যতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা আপিল বিভাগের মোট ছয়টি মামলার পাঁচটি অভিযোগ থেকে আব্দুল কাদের মোল্লাকে খালাস দেন। একটিতে যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখেন।

তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাযযাক বলেন, এই রায় আইনের শাসনের পরিপন্থী। কাদের মোল্লা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিন জায়গায় তিনরকম সাক্ষ্য প্রদানকারী একজন মহিলার অসংলগ্ন সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে। যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।

জনাব আব্দুল কাদেরের স্ত্রী ফাঁসির কয়েকদিন পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একমাত্র সাক্ষী মোমেনা বেগমের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আমার স্বামীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। সেই মোমেনা বেগম আদৌ আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেননি। ক্যামেরা ট্রায়ালের নামে গোপন বিচারে ভূয়া একজন মহিলাকে মোমেনা বেগম সাজিয়ে আদালতে বক্তব্য দেওয়ানো হয়েছে। পরবর্তীতে জল্লাদখানায় সংরক্ষিত প্রকৃত মোমেনা বেগমের ছবি দেখে আমাদের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন আদালতে সাক্ষ্য দেয়া মোমেনা বেগম প্রকৃত মোমেনা বেগম ছিলেন না। অথচ এইরূপ একজন ভুয়া সাক্ষীর তিন জায়গায় প্রদত্ত তিন রকমের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আমার স্বামীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আমরা মনে করি তা নযীরবিহীন এবং এটি একটি ভুল রায়।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তিন জায়গায় তিন রকম সাক্ষ্য দেয়া একজন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও একজন বিচারপতির ভিন্নমত পোষণ সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। অথচ সামান্য সন্দেহ থাকলেও সেখানে মৃত্যুদন্ডের মত কঠোর দন্ড দেয়া যায় না। এছাড়া রায় দানকারী পাঁচ বিচারপতির একজন শামসুদ্দীন চৌধুরী দেশে-বিদেশে চরমভাবে বিতর্কিত। মহিলার অসংলগ্ন সাক্ষ্যের বিষয়টি রিভিউ আবেদন কালে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অন্যতম বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস, কে, সিনহা) বলেন, তার সাক্ষ্য বিশ্বাস করেছি বলেই তো আমরা আসামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছি। এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়েছে, যাতে চারজন একমত হয়েছেন। সেখানে আমারটা বলা আমার জন্য বিব্রতকর। অতঃপর আদালত উঠে যান এবং আধা ঘণ্টা পর ফিরে এসে রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেন। ফলে মৃত্যুদন্ড বহাল থাকে।

আব্দুল কাদের মোল্লা ট্রাইব্যুনালে গত ১৫ নভেম্বর নিজের ডিফেন্স সাক্ষ্যে বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য দীর্ঘ ৪০ বছর পর সরকার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সাথে আমার বিন্দুমাত্র কোন সংশ্লিষ্টতা নেই এবং আমি কোনভাবেই ঐ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম না। বিগত ৪০ বছরের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে কারু পক্ষ থেকে পত্র-পত্রিকায় বা কোন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আনীত কোন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলি মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ফাঁসির আগে পরিবারের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি পূর্বেই বলেছি, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এ সরকার আমাকে হত্যা করতে চাচ্ছে। আমি মযলূম। তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর যেন ইসলামি আন্দোলনের কর্মীরা পরম ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে আমার রক্তকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে লাগায়। কোন ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে যেন শক্তি নিয়োজিত না হয়।

এদিকে কাদের মোল্লার ফাঁসিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার, এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ কয়েকটি দেশ ও প্রতিষ্ঠান নিন্দা জানিয়েছে।

[আমরা আল্লাহর কাছে যথার্থ বিচার কামনা করছি। আমরা মৃতের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ও তাদেরকে ধৈর্য ধারনের উপদেশ দিচ্ছি। একই সাথে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের প্রতি ইসলামী পথে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগের আহবান জানাচ্ছি (স.স.)]

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মুস্তাফিজুর রহমান-এর মৃত্যু

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক প্রফেসর ও চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান গত ১৮ই জানুয়ারী শনিবার সকাল ৮.০৫ মিনিটে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৫ই জানুয়ারী উত্তরাস্থ নিজ বাসভবনে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হ’লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য যে, তিনি ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব-এর অত্যান্ত প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর উপর তার কৃত ডক্টরেট থিসিসে তাঁর বাণী রয়েছে।

[আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জ্ঞাপন করছি- সম্পাদক]

বিদেশ

সমুদ্রের বুকে এক মাইল দীর্ঘ ভাসমান শহর!

বিশ্ববাসী দানব আকৃতির অট্টালিকা, সুউচ্চ টাওয়ার দেখেছে। তবে এবারই প্রথম সবাইকে হতবাক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি সংস্থা সাগরের বুকে তৈরী করতে যাচ্ছে এক মাইল দীর্ঘ ‘ফ্রিডম শিপ’ নামের ভাসমান শহর! এ ‘ফ্রিডম শিপে’ থাকবে আলাদা বিমান বন্দর, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, পার্ক, শপিং মল সহ আরও অনেক কিছু। এই জাহায তৈরীর পর সেখানে ৫০,০০০ পরিবারকে স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়া যাবে, যাদের জন্য সেখানে সকল নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হবে। ভাসমান এই জাহাযের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে নিজস্ব পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে। প্রস্তাব অনুযায়ী এই বিশাল জাহায যেহেতু কোন বন্দরে ভিড়তে পারবে না, সেহেতু সেখানে থাকা বাসিন্দাদের কোন প্রয়োজনে কোম্পানীর যাত্রীবাহী জাহায বা জাহাযের নিজস্ব বিমান বন্দরে থাকা বিমান ব্যবহার করতে পারবে। এই প্রকল্পের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার।

২১ বছর পরও বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সুবিচার হয়নি

১৯৯২ সালে সভ্য জগতকে মর্মাহত করে ভারতের উত্তর প্রদেশের ফয়যাবাদে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদের অবমাননার পর তা ধ্বংস করে দেয় একদল উগ্র হিন্দু। ভারতের মুসলমানরা মনে করেন, ২১ বছর পরও বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সুবিচার হয়নি। ষোড়শ শতকের ঐতিহাসিক এই মসজিদটির নির্মাতা ছিলেন ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা যহীরুদ্দীন মুহাম্মাদ বাবরের ইরানী মন্ত্রী মীর বাক্বী। ১৫২৮ সালে নির্মিত এই মসজিদটি ছিল অনিন্দ্যসুন্দর তিনটি গম্বুজ-শোভিত এবং চমৎকার আরবী ও ফার্সী লিপি-খচিত মোঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। তিন শতক পর এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই দাবী বা কল্পনা নথিবদ্ধ করেন যে, মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর। অযোধ্যায় শী‘আ মুসলিম রাষ্ট্রের পতনের পর এই দাবী প্রচার করে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী। অথচ হিন্দু ঐতিহাসিকদের লিখিত রাজপুত-ইতিহাসেও কখনও এমন দাবী করা হয়নি। দাঙ্গা বাঁধানোর ষড়যন্ত্রমূলক ঐ দাবী তোলার কয়েক দশক পর একদল হিন্দু গুন্ডা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার লক্ষ্যে গোপনে এই মসজিদের একটি অংশে স্থাপন করে কয়েকটি মূর্তি। এরপর আদালতের রায়ের মাধ্যমে মসজিদটিকে অন্যায়ভাবে ভাগ করে দেয়া হয় এবং আরো পরে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয় ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে। ভারতের একদল অসাধু রাজনীতিবিদের উস্কানিতে উগ্র হিন্দুরা এই দাবী তোলে যে, মসজিদটি নির্মিত হয়েছে রূপকথায় উল্লিখিত দেবতা রামের জন্মস্থানের ওপর। অবশেষে তারা ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর মসজিদটি ধ্বংস করে ফেলে। ফলে গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং এতে নিহত হয় দুই হাযারেরও বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই ছিল মুসলমান। ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানে এই মসজিদে বা তার আশপাশেও মন্দির তো দূরে থাক, অন্য কোন প্রাচীন স্থাপত্যের চিহ্ন বা নিদর্শনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতের আদালত ধ্বংস করে দেয়া বাবরী মসজিদের জমির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ স্থানের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে এবং বিতর্কিত ঐ রায়ে বাদবাকি স্থান একটি মন্দির নির্মাণের জন্য খালি রাখতে বলা হয়েছে। ভারতের ২২ কোটি মুসলমান দেশটির সুপ্রিমকোর্টের এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বাবরী মসজিদের পুরো জমি কেবল মসজিদের মালিকানায় ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানিয়ে আপিল করেছেন। যাতে সেখানে কেবল এক আল্লাহরই ইবাদত করা যায়।

ফ্রান্সে সহস্রাধিক গাড়িতে আগুন দিয়ে নববর্ষ উদযাপন!

ফ্রান্সে ইংরেজী নববর্ষ পালনের উন্মাদনায় এ বছর ১,০৬৭টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। ইংরেজি নববর্ষ পালনকে ঘিরে দেশটিতে গাড়ি পোড়ানো দীর্ঘদিনের এক ধরনের ঐতিহ্যে পরিণত হ’লেও গত বছরের তুলনায় চলতি বছর গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা  প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের  প্রতিবেশী সেইনে-সেইন্ট-ডেনিসকে দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল হ’লেও নববর্ষ পালন করতে গিয়ে গাড়ি পোড়ানোর ক্ষেত্রে এ অঞ্চলটি  শীর্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিন কেবল এ অঞ্চলেই পোড়ানো হয়েছে ৮০টি গাড়ি। ফ্রান্সে অঞ্চলভিত্তিক গাড়ি পোড়ানোর হিসাব প্রকাশ করার পর তা এক ধরনের  প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে। নববর্ষ উপলক্ষে সমগ্র ফ্রান্সে ৫৩,০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হ’লেও গাড়ি পোড়ানো সহ মোট তিনজন ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে।

৯/১১’র সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিল মোসাদ-বুশ!

মার্কিন কংগ্রেসের একটি গোপন প্রতিবেদনে পরিষ্কার ভাষায় স্বীকার করা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় চালানো নযীরবিহীন সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ছিল। বিদেশী এই গোয়েন্দা সংস্থাটি ‘মোসাদ’ বলেই বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। মোসাদ ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এ সন্ত্রাসী তৎপরতার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

৮০০ পৃষ্ঠার গোপন এ প্রতিবেদনের ২৮ পৃষ্ঠা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে মুছে ফেলা হয়েছিল। আর এ অংশটি আড়াল করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে আমেরিকান ইসরাঈল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি আইপ্যাক (।)

তবে ‘৯/১১ তদন্ত প্রতিবেদন’ নামে পরিচিত এ প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিনিধি স্টিফেন লিঞ্চ এবং রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি ওয়ালটার জোন্সকে পড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। রিপোর্টটি পড়ার পর তারা স্বীকার করেছেন, প্রতিবেদনটির মুছে দেয়া অংশগুলোতে ৯/১১-এর ঘটনার জন্য পরিষ্কার ভাষায় এক বা একাধিক বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যে কথিত সন্ত্রাসীদের কোন সম্পর্ক নেই সে কথাও স্বীকার করেছেন তারা। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ ব্যক্তিগতভাবে এসব তথ্য গোপন করায় কেবল ৯/১১-এর ঘটনায় জড়িত মূল অপরাধীদেরই আড়াল করা হয়নি, সেইসঙ্গে মার্কিন সরকার দু’টি যুক্তিহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতীয় গোয়েন্দা বিষয়ক পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার বলেছেন, ৯/১১-এর ঘটনায় জড়িতদের আড়াল করার অপরাধমূলক কাজটি যে বুশ করেছেন তা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন প্রমাণ করতে পারবে। উল্লেখ্য, ৯/১১-এর ঘটনায় অংশগ্রহণকারী হিসাবে অভিযুক্ত কথিত ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিল সঊদী নাগরিক।

[মুসলমানদের জঙ্গী প্রমাণ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সে দেশের সরকার এটা করেছিল। সেকারণ তাদের মিত্র ইহূদী কর্মচারীরা কেউ ঐ দিন টুইন টাওয়ারে তাদের কর্মস্থলে যায়নি। ইস্রাঈলী প্রধানমন্ত্রীর সেদিনকার সফরও বাতিল করা হয়। ৩০০০-এর বেশী কর্মকর্তা-কর্মচারী সেদিন নিহত হয়। আর এতে দায়ী করা হয় কয়েকজন মুসলিম তরুণকে। অতঃপর আল-কায়েদা নির্মূলের নামে ইরাক ও আফগানিস্তান হামলা চালিয়ে দু’টি দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার হয়। নিহত হয় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। এখনও সেখানে রক্ত ঝরছে। এত কিছুর পরেও তারা যুদ্ধাপরাধী নয়। বরং তারাই বিশ্বশক্তির মোড়ল। তথাকথিত গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ফেরিওয়ালা। মুসলমানদের হুঁশ ফিরবে কি? (স.স.)]