বিজ্ঞান ও বিস্ময়

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহের সন্ধান লাভ

প্রায় পৃথিবীর মতই নতুন আরেকটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’র কেপলার টেলিস্কোপের সাহায্যে সম্প্রতি দূরবর্তী সৌরজগতে নতুন আটটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে অন্তত তিনটিকে বাসযোগ্য গ্রহ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটির এক বৈঠকে নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, এর মধ্যে একটি গ্রহের সাথে পৃথিবীর বেশ মিল রয়েছে। ৪৭৫ আলোকবর্ষ দূরের এই গ্রহটি পৃথিবীর মতই পাথুরে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া গ্রহগুলোর মধ্যে এর সাথেই সবচেয়ে বেশী মিল পাওয়া যায় পৃথিবীর। তবে এর আয়তন পৃথিবীর চেয়ে বারো ভাগ বেশী, তাপমাত্রাও খানিকটা বেশী। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন কেপলার ফোর থার্টি এইট বি। ২০০৯ সাল থেকেই পৃথিবী সদৃশ গ্রহের সন্ধান করছে নাসার কেপলার টেলিস্কোপ। এ পর্যন্ত এ ধরনের প্রায় ৫০০টি গ্রহের খোঁজ পেয়েছে টেলিস্কোপটি।

বাইসাইকেলের গতি ঘণ্টায় ৩৩৩ কি.মি.!

সম্প্রতি এক বাইসাইকেল আবিষ্কার করা হয়েছে, যার গতি প্রতি ঘণ্টায় ২০৭ মাইল বা ৩৩৩ কিলোমিটারের অধিক। ৩২ বছর বয়সী সাবেক বাসচালক জিসি ফ্রান্সের পল রিচার্ড রেসিং ট্র্যাকে এ রেকর্ড গতি অর্জন করেন। রকেটসজ্জিত বাইসাইকেলটির নাম ‘কামিকেজি-৫’।

এ বাইসাইকেলের এত গতির রহস্য হচ্ছে, এ সাইকেলের পেছনে জুড়ে দেয়া হয়েছে তিনটি রকেট ইঞ্জিন। সাইকেলে এমন অবিশ্বাস্য গতি আনতে ইঞ্জিনে ৯০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। সাইকেলের বিভিন্ন অংশ হাতেই বানিয়েছেন ফ্রান্সিস। ফ্রান্সের লা ক্যাটালেট মোটর রেসিংয়ে ঘণ্টায় ৩৩৩ কি.মি. গতিতে সাইকেল চালিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।

থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের যত সম্ভাবনা

বেশ কয়েক বছর আগে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি উদ্ভাবন হ’লেও জটিল নকশার কিছু যন্ত্রপাতি তৈরীর মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ ছিল বহুদিন। সম্প্রতি এর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিভিন্ন সূক্ষ্ম বস্ত্ত তৈরীর উদ্যোগ নেন প্রযুক্তিবিদগণ। ফলে এই প্রযুক্তিতে জৈব উপাদান বা কোষ থেকে শুরু করে অর্ধপরিবাহী বস্ত্ত পর্যন্ত তৈরী করা সম্ভব হয়েছে। সূক্ষ্ম থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের অগ্রগতি থেকে আশা করা যায়, মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং অতিসূক্ষ্ম ও উন্নত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও এই প্রিন্টারে তৈরী করা যাবে।

সূক্ষ্ম থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় রত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি তৈরী করেছেন কৃত্রিম চোখ। এই চোখের কিছু অংশের গঠন জৈবিক, আর বাকিটা যান্ত্রিক। আর কেমব্রিজের গবেষকেরা রেটিনার কোষ দিয়ে তৈরী করেছেন চোখের রক্তসহ জৈবিক কিছু জটিল কোষসমষ্টি।

অতিসূক্ষ্ম জৈবিক বস্ত্ত তৈরীতে থ্রিডি প্রিন্টারে কালি হিসাবে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের জৈবিক কোষ। আর যান্ত্রিক বস্ত্তগুলো তৈরীতে প্রিন্টারের কালি হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ধাতুসহ বিভিন্ন ধরনের পদার্থ। গবেষকরা বলেন, সূক্ষ্ম থ্রিডি প্রিন্টিংই হবে ভবিষ্যতের থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সবচেয়ে সমৃদ্ধ রূপ।