প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/১৬১) : জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ২ বছর পূর্বে তালাক দিয়েছে, কিন্তু এখনো তার বিবাহ হয়নি। এক্ষণে ঐ ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পূনরায় বিবাহ করতে পারবে কি?

-আব্দুল আলীম

শৈলেরকান্দা, জামালপুর।

উত্তর: যদি সে তালাকে রাজঈ অর্থাৎ এক তালাক অথবা দুই তালাক দিয়ে থাকে, তবে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে পারবে। যদি এক সঙ্গে তিন তালাক দেয় তবুও। কারণ এক সঙ্গে হাযার তালাক দিলেও এক তালাকই গণ্য হয় (আবুদাঊদ হা/২১৯৬; মুসলিম হা/১৪৭২)। তবে যদি তিন মাসে তিন তালাক দেয় তাহলে ফিরিয়ে নিতে পারবে না। যতক্ষণ স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ না হবে এবং সেখান থেকে স্বেচ্ছায় তালাক না হবে (বাকারাহ ২২৯-২৩০; বুখারী হা/৫২৬৫; মিশকাত হা/৩২৯৫)। উল্লেখ্য যে, প্রচলিত হিল্লা প্রথা একটি জাহেলিয়াত। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) এদের লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ হা/২০৭৬; মিশকাত হা/৩২৯৬)(বিস্তারিত দ্রঃ ‘তালাক ও তাহলীল’ বই)

প্রশ্ন (২/১৬২) : জেনে-শুনে সুদ-ঘুষ গ্রহীতা, মদ বিক্রেতা ইত্যাদি হারাম উপার্জন কারী ব্যক্তিদের অর্থ মসজিদ নির্মাণের জন্য গ্রহণ করা যাবে কি?

-রেজওয়ান

আদিতমারী, লালমণিরহাট।

উত্তর : গ্রহণ করা যাবে। কারণ হারাম উপার্জনের জন্য দাতা দায়ী হবে; গ্রহীতা নয়। রাসূল (ছাঃ) অমুসলিমদের হাদিয়া গ্রহণ করেছেন (বুখারী ২/১৯৫ পৃঃ, ‘মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করা’ অনুচ্ছেদ)। এছাড়া পবিত্র কা‘বা ঘরও মুশরিকদের দান দ্বারা নির্মিত হয়েছিল (আর-রাহীকুল মাখতূম, পৃঃ ৬১, ‘কা‘বা ঘর নির্মাণ’ অনুচ্ছেদ)। তবে হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ দান করলে তা আল্লাহর নিকটে কবুল হয় না (মুসলিম হা/২২৪, মিশকাত হা/৩০১)।

প্রশ্ন (৩/১৬৩) : মাহরাম ব্যক্তির সামনে একজন মহিলাকে কি পরিমাণ পর্দা করতে হবে?

-কামরুযযামান সোহাগ

বুয়েট, ঢাকা।

উত্তর : মাহরাম ব্যক্তিদের সামনে নারীগণ স্বীয় সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবে (নূর ৩১)। এখানে সৌন্দর্যের অর্থ হ’ল, মাথা, গলা, হাত, পা এবং যেসব অঙ্গে সাজ-সজ্জার জন্য অলংকার ইত্যাদি পরিধান করা হয় সেগুলিকে বুঝায় (ইবনু কাছীর)। এই অঙ্গগুলি মাহরামের সামনে প্রকাশ করা বৈধ। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন দেহের গোপন ও বাহ্যিক সৌন্দর্য এমনভাবে প্রকাশ না পায়, যা শালীনতা বিরোধী এবং অন্যকে আকৃষ্ট করে। তাছাড়া মাহরাম পুরুষদেরও তাদের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট তার মায়ের কাছে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তুমি তার অনুমতি নাও। তুমি কি তোমার মাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে চাও? (মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/৪৬৭৪)। 

প্রশ্ন (৪/১৬৪) : হাদীছ অনুযায়ী কোন মুসলিমের সাথে তিন দিনের বেশী কথা বন্ধ রাখা জায়েয নয়। কিন্তু জনৈক মাযহাবী বিদ‘আতী ভাইয়ের সাথে আমার বহুদিন যাবৎ সম্পর্ক নেই। এক্ষেত্রে উক্ত হাদীছের বিধান কি হবে?

-আল-আমীন

কাউনিয়া, রংপুর।

উত্তর: উক্ত হাদীছটি কোন দ্বীনী কারণ ব্যতীত পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু দ্বীনের ত্রুটির কারণে শিক্ষা দেয়ার স্বার্থে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাবুকের যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে থাকা তিন ব্যক্তির সাথে পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে রেখেছিলেন (বুখারী হা/৪৪১৮; মুসলিম হা/৭১৯২)। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) তাঁর ছেলে বেলালের সাথে হাদীছ প্রত্যাখ্যান করার কারণে আজীবন কথা বন্ধ রেখেছিলেন (মুসলিম হা/১০১৭, মিশকাত হা/১০৮৪; সনদ ছহীহ, আহমাদ হা/৪৯৩৩)। তবে সাক্ষাতে অবশ্যই সালাম ও কুশল বিনিময় এবং সম্ভবপর উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তি বিদ‘আত ছেড়েও দিতে পারে। ইসলাম সর্বদা মানবীয় সম্পর্ককে উজ্জীবিত করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা মানুষকে সুসংবাদ দাও, তাড়িয়ে দিও না। মধ্যপন্থী হও ও আল্লাহর নৈকট্য অনুসন্ধান কর’ (বুখারী হা/৩৯, ৬৯)

প্রশ্ন (৫/১৬৫) : একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য কতটুকু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরয? আশপাশের সকল স্কুলেই সেক্যুলার শিক্ষাপদ্ধতি। এক্ষেত্রে সন্তানকে মাদরাসায় পড়ানো কি আবশ্যক?

-আব্দুর রহমান

মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাস, বিধি-বিধান, হালাল-হারাম ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা সকল মুসলিম ব্যক্তির উপর ফরয (ইবনু মাজাহ হা/২২৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৯১৩, ৩৯১৪)। তাই সন্তানকে ঐ প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি করাতে হবে, যেখানে সে ইসলামী আদর্শে গড়ে উঠতে পারে। কারণ দুনিয়াবী সফলতা কখনোই প্রকৃত সফলতা নয়। বরং পরকালীন সফলতাই প্রকৃত সফলতা।

প্রশ্ন (৬/১৬৬) : আমানতের খেয়ানতকারীর পরিণাম কি? কারু বলা গোপন কথা প্রকাশ করে দিলে তা কি খেয়ানতের অন্তুর্ভুক্ত হবে?

-সফিউদ্দীন আহমাদ

পাঁচদোনা, নরসিংদী।

উত্তর: আমানতের খেয়ানত করা এবং কারো গোপন কথা প্রকাশ করা কবীরা গুনাহ এবং তা মুনাফিকের আলামত। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে এবং নিজেদের পারস্পরিক আমানতের খেয়ানত করোনা (আনফাল ২৭)। যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে সতর্ক থাকে তারাই প্রকৃত মুমিন (মুমিনুন ৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আমানতের খেয়ানত করা মুনাফিকদের চারটি স্বভাবের অন্যতম (বুখারী হা/৩৩, মুসলিম হা/২১৯)। তবে দ্বীনের ও অন্যের জন্য ক্ষতিকর কোন গোপন কথা প্রকাশ করা যাবে। যেমন হাদীছের শুদ্ধাশুদ্ধি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

প্রশ্ন (৭/১৬৭) : ওযূ করার পর কাপড় বা লুঙ্গি হাঁটুর উপর উঠে গেলে ওযূর কোন ক্ষতি হবে কি?

-আব্দুর রশীদ

বুড়িমারী, লালমণিরহাট।

উত্তর : হাঁটুর উপর কাপড় ওঠা অযূ ভঙ্গের কারণ সমূহের অন্তুর্ভুক্ত নয়। বরং প্রয়োজন বোধে হাঁটুর উপর কাপড় উঠানো যায় (বুখারী হা/৩৭১, মুসলিম  হা/২৪০১)। তবে সতরের অংশ হিসাবে সর্বাবস্থায় তা ঢেকে রাখা কর্তব্য (তিরমিযী হা/২৭৯৬, আহমাদ হা/২২৫৪৮, ইরওয়াউল গালীল ১/২৯৭)

প্রশ্ন (৮/১৬৮) :মহিলারা আযান ও ইক্বামত দিতে পারে কি?

-আফরোজা, তেজগাঁও, ঢাকা।

উত্তর : মহিলারা মহিলাদের জামা‘আতে আযান ও ইক্বামত  দিতে পারে। আয়েশা (রাঃ) আযান ও ইক্বামত দিয়ে মহিলাদের জামা‘আতে ইমামতি করেছেন (বায়হাক্বী কুবরা হা/১৭৮১. তামামুল মিন্নাহ পৃঃ ১৫৩, সনদ ছহীহ)। ইবনে ওমর (রাঃ)-কে একদা জিজ্ঞেস করা হল যে, ‘মহিলাদের উপর আযান আছে কি? তিনি রেগে গিয়ে বলেন, আমি আল্লাহর যিকর করতে মানা করব কি? হাফছা (রাঃ) যখন ছালাত আদায় করতেন, তখন ইক্বামত দিতেন’ (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা হা/২৩৩৮ ১/২২৩ পৃঃ)। তবে তা নিম্নস্বরে দিতে হবে (ভূপালী, আর-রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/৩২২ পৃঃ)

প্রশ্ন (৯/১৬৯) :হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি? কিছু ইসলামী সংগঠন বলছে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এরূপ জিহাদ ব্যতীত অন্য কোন পথ খোলা নেই। এক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

-সোহরাব, রিয়াদ, সঊদী আরব।

উত্তর : হরতাল, অবরোধ ইত্যাদি ডেকে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা জায়েয নয়। কারণ এতে মানুষের চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটে, তেমন দেশও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি রাস্তায় পতিত একটি গাছের ডালের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বলল, অবশ্যই আমি এ ডাল রাস্তা হ’তে সরিয়ে ফেলব। যাতে এটা তাদের কষ্ট না দেয়। অতঃপর সে সেটা সরিয়ে ফেলল। ফলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হ’ল’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৮০৯)। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মানব রচিত একটি জাহেলী পদ্ধতি, যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। আর অবৈধ কোন পদ্ধতিকে অবৈধ কোন বস্ত্তর মাধ্যমে দূর করা যায় না। তাছাড়া প্রচলিত এ পদ্ধতি দ্বারাই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে এই দর্শন ভুল। কারণ রাসূল (ছাঃ) যখন ইসলামী বিধান চালু করেন তখন জাহেলী কোন রীতির সাথে তিনি আপোষ করেননি। তাই ইসলামী দলগুলোর উচিত পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের রাজনৈতিক দর্শনের অনুকূলে জনমত গঠন করা এবং ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া (দ্রঃ ‘ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন’ বই)।

প্রশ্ন (১০/১৭০) : আমার বন্ধু একটি মেয়েকে ভালবেসে বিয়ে করেছে। কিন্তু বন্ধুর বাবা-মা কোনভাবেই মেয়েটিকে মেনে নিবে না। বাবা-মায়ের দিকে তাকিয়ে যদি আমার বন্ধু বাধ্য হয়ে মেয়েটিকে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করে তালাক দেয়া শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-মাহবুব হাসান

আরাপপুর, ঝিনাইদহ।

উত্তর : ‘পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি’ (তিরমিযী হা/১৮৯৯)। বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ছেলের জন্য পিতা-মাতার সম্মতি শর্ত নয়। যদিও তাঁদের সন্তুষ্টি যরূরী (আহমাদ হা/২২১২৮; মিশকাত হা/৬১)। মেয়ে তার পিতা বা বৈধ অভিভাবকের সম্মতি নিয়ে বিয়ে করে থাকলে সে বিয়ে হয়ে গেছে (তিরমিযী হা/১১০২; মিশকাত হা/৩১৩১)। অতএব শারঈ কোন কারণ ছাড়া তালাক দেয়া বৈধ হবে না। এক্ষণে পিতা-মাতার কর্তব্য হবে ছেলে-বৌকে সাদরে গ্রহণ করা। আল্লাহ বলেন, তোমরা কোন বস্ত্তকে অপসন্দ কর, অথচ সেটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর কোন বস্ত্তকে তোমরা ভাল মনে কর, অথচ সেটি তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। (প্রকৃত বিষয়) আল্লাহ জানেন। তোমরা জানো না’ (বাক্বারাহ ২/২১৬)।

প্রশ্ন (১১/১৭১) : মহিলাদের জন্য কুরবানীর পশু যবেহ করতে কোন বাধা আছে কি?

-আব্দুল করীম, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : মহিলারা কুরবানী সহ যেকোন পশু যবেহ করতে পারে (বুখারী হা/৫৫০৫ ‘মহিলা ও দাসী কর্তৃক যবেহ করা’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (১২/১৭২) :মহিলারা যত সন্তান জন্ম দিবে ততটি কবুল হজ্জের নেকী পাবে। উক্ত হাদীছের সত্যতা আছে কি?

-আলতাফ হোসেন মুকুল

হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য বানাওয়াট। যেমন গর্ভধারণের ফযীলত হিসাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘গর্ভধারিণী নারী ছিয়াম পালন কারিনী ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কারীর সমান নেকী অর্জন করে’। উক্ত হাদীছ জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/২০৫৫)।

প্রশ্ন (১৩/১৭৩) :জনৈক ব্যক্তি বলেন, শুক্রবার আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাজ একত্রে জমা হয়েছিল বলে এই দিনটিকে জুম‘আ বলা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

-তোফায়েল, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। ইবনু কাছীর বলেন, মুসলিমরা প্রতি সপ্তাহে এই দিনে মসজিদে একত্রিত হয়ে থাকে বলে জুম‘আ নামকরণ করা হয়েছে (ইবনু কাছীর ৮/১১৯)। কেননা ইতিপূর্বে আরবরা এদিনটিকে ‘আরূবা’ (العروبة) বলত।

প্রশ্ন (১৪/১৭৪) : আমরা দুইভাই নওমুসলিম। আমি নিঃসন্তান। আমার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পদে স্ত্রী, ভাই, মা ও বোনদ্বয় অংশ পাবে কি?

-আব্দুল্লাহ, তেরখাদিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : তারা সবাই অমুসলিম হ’লে কেউ ওয়ারিছ হবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৪৩)। আর যদি মুসলিম হয়, তাহ’লে আপনার মোট সম্পদকে ২৪ দিয়ে ভাগ করে ৬ ভাগ পাবে স্ত্রী, মা ৪ ভাগ এবং বাকী ১৪ থেকে ভাই পাবে ৭ ভাগ আর দু’বোন সাড়ে তিন করে ৭ ভাগ পাবে।

প্রশ্ন (১৫/১৭৫) : ইসলামী ব্যাংকে নিছাব পরিমাণ টাকা ৫ বছর মেয়াদের জন্য রাখা হয়েছে। উক্ত অর্থের লভ্যাংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। এক্ষণে যাকাত কি মূল অর্থ না লভ্যাংশসহ মোট অর্থের উপর দিতে হবে?

-ফারুক, উপশহর, রাজশাহী।

উত্তর : প্রথমতঃ টাকা ব্যাংকে রেখে লভ্যাংশ ভোগ করা যাবে না। কারণ উক্ত লভ্যাংশ সূদের অন্তর্ভুক্ত। ব্যবসায় যুক্ত মূল টাকার সাথে লভ্যাংশ যদি একত্রিত হয়, আর একবছর গচ্ছিত থাকে, তাহ’লে লভ্যাংশসহ যাকাত দিতে হবে। অথবা খরচ করার পর লভ্যাংশের যে পরিমাণ অর্থ মূল টাকার সাথে গচ্ছিত থাকবে, তার যাকাত দিতে হবে। আর প্রতি মাসে লভ্যাংশ খরচ হয়ে গেলে তার যাকাত দিতে হবে না। কেবল মূল টাকার যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্ন (১৬/১৭৬) : জনৈক আলেম সূরা মায়েদাহ ৩৩ আয়াত এবং আবুদাঊদ হা/৪৩৫৩ উল্লেখ করে ৪ প্রকার দন্ডের কথা উল্লেখ করেন। আমরা জানি মুরতাদের শাস্তি কেবল মৃত্যুদন্ড। এক্ষণে এ ব্যাপারে সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

-শায়খুল ইসলাম, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

উত্তর : মুরতাদের জন্য একমাত্র শাস্তি হ’ল মৃত্যুদন্ড। রাসূল (ছাঃ)-এর বলেন, مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ ‘যে ব্যক্তি স্বীয় দ্বীনকে পরিবর্তন করল, তাকে হত্যা কর (বুখারী হা/৩০১৭, মুসলিম হা/১৭৭৬; মিশকাত হা/৩৫৩৩) তবে অবশ্যই তা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইসলামী রাষ্ট্রীয় আদালতের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন হবে। যে কেউ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর তাঁর রাসূলের ও তোমাদের মধ্যকার শাসন কর্তৃপক্ষের’...(নিসা ৪/৫৯)। সূরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতে মুসলিমদের মধ্য হ’তে ডাকাত, ছিনতাইকারী প্রভৃতি সমাজবিরোধী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি- কারীদেরকে বুঝানো হয়েছে। জমহূর মুফাসসিরগণ এ ব্যাখ্যাই প্রদান করেছেন। পরবর্তী ৩৪ নং আয়াত থেকেই তা স্পষ্ট বুঝা যায়। আবূদাঊদে বর্ণিত হাদীছটিও একই অর্থবোধক। 

প্রশ্ন (১৭/১৭৭) :জনৈক আলেম বললেন, সমস্ত মাখলূক আল্লাহর পরিবারের ন্যায়। অর্থাৎ তার সন্তানতুল্য। উক্ত হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-এস. এম. ইসলাম

সরিষাবাড়ী, জামালপুর।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (যঈফাহ হা/১৯০০, মিশকাত হা/৪৯৯৯)। এখানে عِيَالُ اللهِ ‘আল্লাহর পরিবার’ বলতে সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর প্রতিপালন বুঝানো হয়েছে। যেভাবে পিতা-মাতা তার সন্তানদের প্রতিপালন করে থাকেন। ‘আল্লাহর পরিবার’ কথাটি এখানে গৌণ অর্থে এসেছে, প্রকৃত অর্থে নয়। অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, কুরআনের ধারকগণ আল্লাহর আপনজন ও তাঁর খাছ বান্দা (আহমাদ হা/১২৩১৪, ইবনু মাজাহ হা/২১৫ সনদ ছহীহ)। এখানে আল্লাহর আপনজন বলতে কুরআনের হাফেয ও তার একনিষ্ঠ অনুসারী আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

প্রশ্ন (১৮/১৭৮) : জনৈকা মহিলা তার স্বামীকে তালাক দিয়ে কাউকে না জানিয়ে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। এরূপ তালাক ও বিবাহ শরী‘আত সম্মত হয়েছে কি?

-আবুল কালাম

আলিপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : হয়নি। কেননা স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে না। বরং স্বামীর নিকট থেকে ‘খোলা’ করে নিতে পারে। বৈধ অভিভাবকের মাধ্যমে স্বামীকে জানিয়ে ‘খোলা’ করে একমাসের ইদ্দত গণনা শেষে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে (বুখারী হা/৫২৭৩, মিশকাত হা/৩২৭৪, আবুদাঊদ হা/২২২৯-৩০)। মহিলা তার বৈধ অভিভাবককে না জানিয়ে বিবাহ করলে, তা বাতিল বলে গণ্য হবে (আবূদাঊদ হা/২০৮৩, ইবনু মাজাহ হা/১৮৭৯)। অতএব দ্রুত বিচ্ছিন্ন হয়ে তওবা করতে হবে।

প্রশ্ন (১৯/১৭৯) : কোন কোন দেশে ৬ মাস রাত ও ৬ মাস দিন। তাহ’লে সেদেশের মানুষ কিভাবে ছালাত ছিয়াম পালন করবে?

-হামীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল

উত্তর : রাত-দিন হিসাবে ২৪ ঘণ্টার সময় ভাগ করে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের সাথে মিলিয়ে ছালাত ও ছিয়াম পালন করবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা দিনে ও রাতে মোট ৫ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করেছেন। এছাড়া দাজ্জালের আবির্ভাবের সময়ে তার প্রথম দিন বর্তমানের এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন একমাসের, এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। বাকী ৩৭ দিন বর্তমানের দিনের সমান হবে মর্মে রাসূল (ছাঃ) হাদীছ বর্ণনা করলে ছাহাবীগণ সেদিনের ছালাত কিভাবে পড়তে হবে তা জানতে চাইলে তিনি উক্ত সমাধান প্রদান করেন (মুসলিম হা/২৯৩৭, তিরমিযী হা/২২৪০, আবুদাঊদ হা/৪৩২১)। তবে সম্পূর্ণরূপে কোন দেশই এর আওতায় পড়ে না। যেমন কানাডা, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের উত্তরাংশে এরূপ অবস্থা পরিদৃষ্ট হয়।

প্রশ্ন (২০/১৮০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, ছাহাবীগণ দাওয়াতী কাজের জন্য দীর্ঘ সফরে বের হতেন। আর এখান থেকেই ইলিয়াসী তাবলীগের নিয়ম-পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

-তামীমুল ইসলাম, বিরল, দিনাজপুর।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) ছাহাবীগণকে সঠিক ইসলামী তা‘লীম দিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য প্রেরণ করতেন। পক্ষান্তরে প্রচলিত তাবলীগে স্বপ্নে পাওয়া মিথ্যা কল্প-কাহিনী দিয়ে লোকদের প্রেরণ করা হয়। রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীগণের দাওয়াতে তিন দিন বা চল্লিশ দিনকে ফরয করে নেয়ার কোন বানোয়াট পদ্ধতি ছিল না। ছাহাবীগণের দাওয়াতে কোন বানাওয়াট হাদীছ আর শির্ক-বিদ‘আত মিশ্রিত মিথ্যা কাহিনী ছিল না। উক্ত দলটির কার্যক্রম রাসূল (ছাঃ) নির্দেশিত সেই দলের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাদের থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, শেষ যামানায় একদল মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, যারা এমনসব হাদীছ শুনাবে, যা কখনোই তোমরা বা তোমাদের বাপ-দাদারা শুনেননি। তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকো। যেন তারা তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে ও ফিৎনায় ফেলতে না পারে’ (মুসলিম হা/৭; মিশকাত হা/১৫৪)। অতএব আল্লাহভীরু ও বিজ্ঞ দাঈদের কর্তব্য হ’ল কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক জীবন গঠনের প্রতি জনগণকে দাওয়াত দেয়া। দ্বিতীয়তঃ যাবতীয় কুসংস্কার ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মানুষকে সাবধান করা।

প্রশ্ন (২১/১৮১) : রাসূল (ছাঃ)-এর বংশতালিকা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আশরাফুল ইসলাম

চাপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর বংশধারাকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। ১ম ভাগে মুহাম্মাদ (ছাঃ) হ’তে ঊর্ধ্বতন পুরুষ আদনান পর্যন্ত ২২টি স্তর। যে ব্যাপারে কারু কোন মতভেদ নেই। এর উপরে ২য় ভাগে আদনান থেকে ইবরাহীম (আঃ) পর্যন্ত ৪১টি স্তর এবং তার উপরে তৃতীয় ভাগে ইবরাহীম (আঃ) হ’তে আদম (আঃ) পর্যন্ত ১৯টি স্তর। যেখানে নাম ও স্তরের ব্যাপারে বিদ্বানগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এখানে আদনান পর্যন্ত বংশধারা উল্লেখ করা হ’ল, যাতে সবাই একমত।- (১) মুহাম্মাদ বিন (২) আব্দুল্লাহ বিন (৩) আব্দুল মুত্ত্বালিব বিন (৪) হাশেম বিন (৫) আবদে মানাফ বিন (৬) কুছাই বিন (৭) কিলাব বিন (৮) মুররাহ বিন (৯) কা‘ব বিন (১০) লুওয়াই বিন (১১) গালিব বিন (১২) ফিহর (লকব কুরায়েশ) বিন (১৩) মালেক বিন (১৪) নাযার বিন (১৫) কিনানাহ বিন (১৬) খুযায়মা বিন (১৭) মুদরেকাহ বিন (১৮) ইলিয়াস বিন (১৯) মুযার বিন (২০) নাযার বিন (২১) মা‘দ বিন (২২) আদনান (বুখারী, মানাক্বিবুল আনছার অধ্যায়, ২৮ অনুচ্ছেদ)। এর মধ্যে পরদাদা হাশেম-এর নামে হাশেমী গোত্র এবং দ্বাদশতম পুরুষ ফিহর যার উপাধি ছিল কুরায়েশ, তার নামানুসারে কুরায়েশ বংশ প্রসিদ্ধি লাভ করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় বংশ সম্পর্কে বলেন, ‘আল্লাহ ইবরাহীমের সন্তানগণের মধ্য থেকে ইসমাঈলকে বেছে নিয়েছেন। অতঃপর ইসমাঈলের সন্তানগণের মধ্য থেকে বনু কিনানাহকে বেছে নিয়েছেন। অতঃপর বনু কিনানাহ থেকে কুরায়েশ বংশকে বেছে নিয়েছেন। অতঃপর কুরায়েশ থেকে বনু হাশেমকে এবং বনু হাশেম থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন (মুসলিম হা/২২৭৬, মিশকাত হা/৫৭৪০)(বিস্তারিত দ্রঃ আর-রাহীকুল মাকতূম পৃঃ ৭৪)

প্রশ্ন (২২/১৮২) : সূরা নিসা ১১৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুহাম্মাদ ফরীদ, গাযীপুর, ঢাকা।

উত্তর : অনুবাদ : ‘তারা (মক্কার মুশরিকরা) আল্লাহ্কে ছেড়ে শুধু কতকগুলো দেবীরই পূজা করে, তারা কেবল আল্লাহদ্রোহী শয়তানের পূজা করে (নিসা ১১৭)। এ আয়াতে বর্ণিত ‘ইনাছা’ শব্দের ব্যাখ্যায় ছাহাবী উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, مَعَ كُلِّ صَنَمٍ جِنِّيَّةٌ প্রত্যেক মূর্তির সাথে একজন করে মাদী জিন থাকে’ (আহমাদ হা/২১২৬৯, সনদ হাসান)। অতএব উক্ত আয়াতে তাদের দেবীদের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাছাড়া আরবদের সকল দেব-প্রতিমা নারীদের নামেই ছিল।

প্রশ্ন (২৩/১৮৩) : ছালাতের মধ্যে ওযূ ভেঙ্গে গেলে, ছালাত ছেড়ে দিয়ে বাইরে এসে পুনরায় ওযূ করতে হবে কি? না ওযূবিহীন অবস্থায় ছালাত শেষ করলে পরে তা আদায় করতে হবে কি?

-রবীউল ইসলাম

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : ছালাত ছেড়ে দিয়ে পুনরায় ওযূ করে শুরু থেকে পূর্ণ ছালাত আদায় করতে হবে (মুসলিম হা/৩৬২; মিশকাত হা/৩০৬)।

প্রশ্ন (২৪/১৮৪) :ভাটা মালিকরা ভাটা চালু হবার ৪ মাস পূর্বে জনগণের কাছে অগ্রিম ইট বিক্রয় করে। ইট যখন বের হয় তখন ক্রেতাদেরকে ইট সরবরাহ করে। এতে ইটের দাম প্রতি হাযারে তিন হাযার টাকা কম লাগে। এই ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে কি?

-রবীউল ইসলাম, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : এভাবে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ। ইসলামী শরী‘আতের ভাষায় এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়কে বাইয়ে সালাম বা বাইয়ে সালাফ বলা হয় (আবুদাউদ হা/৩৪৬৪, তিরমিযী হা/১৩১১)। যার পদ্ধতি হ’ল, পণ্যের অনুপস্থিতিতে মূল্য গ্রহণ করে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ে কোন প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়া চুক্তিভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ধরণ ও প্রকারের পণ্য সরবরাহ করা।

প্রশ্ন (২৫/১৮৫) :বৈমাত্রেয় বোনের নাতনীকে বিবাহ করা যাবে কি? দুই সন্তানের জনক এমন বিবাহিত দম্পতির ক্ষেত্রে করণীয় কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

কাপাসিয়া, গাযীপুর।

উত্তর : বৈমাত্রেয় বোনের নাতনীকে বিবাহ করা হারাম। কারণ সে মাহরামের অন্তুর্ভুক্ত (নিসা ৪/২৩)। এছাড়া সহোদরা, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন, তাদের কন্যা এবং এ ধারাগুলি যত নিম্নের হউক না কেন তাদের বিয়ে করা হারাম (তাফসীর ফৎহুল ক্বাদীর ১/৪৪৫; কুরতুবী ৫-৬/৭১; ফৎহুল বারী ৯/১৯২)। অজ্ঞতাবশতঃ এরূপ করে থাকলে উক্ত বিবাহ বিচ্ছেদ হবে। এ ক্ষেত্রে মেয়েটি মোহর পাবে। সন্তান তাদেরই সন্তান বলে গণ্য হবে। যদি তারা জেনে বুঝে এরূপ কাজ করে থাকে, তাহ’লে তাদের সন্তানরা জারজ সন্তান এবং অপরাধটিও হত্যাযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে (আবূদাঊদ হা/৪৪৫৭, নাসাঈ হা/৩৩৩২)। তবে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের (নিসা ৪/৫৯)

প্রশ্ন (২৬/১৮৬) :জৈবিক চাহিদা কমে গেলে তা বৃদ্ধির জন্য যে সমস্ত ঔষধ পাওয়া যায় সেগুলি সেবন করা শরী‘আত সম্মত কি?

-আশিক

তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : স্বাভাবিক ও সুস্থ মানুষের জন্য এসব সেবন করা হারাম। তাছাড়া এগুলি স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। রাসূল (ছাঃ) জৈবিক চাহিদাকে অবদমিত রাখতে যুবকদের নফল ছিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮০)। অতএব এই চাহিদা বৃদ্ধির জন্য কোন কিছু  সেবন বা ব্যবহার করা আদৌ শরী‘আতসম্মত নয়। বরং এগুলি সমাজে যেনা-ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

প্রশ্ন (২৭/১৮৭) : স্ত্রী স্বামীর ভাইদের সাথে পর্দার মধ্যে থেকে গল্প-গুজব ও খাদ্য পরিবেশন করতে পারবে কি? এছাড়া তাদের সাথে ভ্রমণ করার অনুমতি শরী‘আতে আছে কি?

-নাজমুল হক,

আদিতমারী, লালমণিরহাট।

উত্তর : গল্প-গুজব নয়; বরং পর্দার মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবে এবং খাদ্য পরিবেশনও করতে পারবে। কিন্তু তা যেন নির্জনে না হয়। ফেতনায় পড়ার সম্ভাবনা থাকলে এগুলো থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। আর মাহরাম ছাড়া অন্য কারো সাথে ভ্রমণ বা সফর করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (বুখারী হা/৩০০৬; মুসলিম হা/১৩৪১; মিশকাত হা/২৫১৩)

প্রশ্ন (২৮/১৮৮) : ছালাতে কোন কোন সময় চোখ বন্ধ রাখলে মনোযোগ বিঘ্ন হওয়া থেকে বাঁচা যায়। এক্ষণে চোখ বন্ধ রেখে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-আব্দুল মুমিন

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর

উত্তর : ছালাতের সময় সিজদার দিকে তাকিয়ে থাকাই সুন্নাত (হাকেম হা/১৭৬১, আলবানী, ছিফাতু ছালা-তিন্নবী পৃঃ ৬৯)। তবে ছালাতের খুশু-খুযূ বিনষ্টকারী কোন বস্ত্ত কিবলার দিকে থাকলে কিংবা কোন কারণবশতঃ সাময়িকভাবে চোখ বন্ধ রাখা যেতে পারে। কেননা ছালাতে খুশু-খুযূ বজায় রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর সম্মুখে দন্ডায়মান হও বিনীতভাবে’ (বাক্বারাহ ২/২৩৮)। তিনি বলেন, ঐ সকল মুমিন সফলকাম, যারা ছালাতে বিনয়াবনত’ (মুমিনূন ২৩/১-২)। তবে সর্বাবস্থায় চোখ বন্ধ রেখে ছালাত আদায় করা সিদ্ধ নয়।

প্রশ্ন (২৯/১৮৯) :সম্প্রতি ‘মিলাদ ও কিয়ামের অকাট্য প্রমাণ’ নামে জনৈক মুফতী একটি বই বের করেছেন। সেখানে আপনাদের প্রকাশিত ‘মীলাদ প্রসঙ্গ’ বইয়ের ও তার বিজ্ঞ লেখকের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করা হয়েছে। উক্ত বইয়ে কুরআন-হাদীছের মাধ্যমে মীলাদ-কিয়াম প্রমাণ করা হয়েছে। তাতে মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি?

-আব্দুল্লাহ

পাটগ্রাম, লালমণিরহাট।

উত্তর : ৪৪ পৃষ্ঠার উক্ত বইটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। গালি-গালাজের বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি এবং আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছি। বইয়ে বর্ণিত প্রমাণগুলি অতীব ভ্রমাত্মক। কেননা প্রচলিত মীলাদের আবিষ্কারই হয়েছে ৬০৫ মতান্তরে ৬২৫ হিজরীতে। যা বিদ‘আত হওয়ার ব্যাপারে চার মাযহাবের প্রায় সকল বিদ্বান একমত। এমনকি উপমহাদেশের মুজাদ্দিদে আলফে ছানী, আল্লামা হায়াত সিন্ধী, রশীদ আহমাদ গাংগোহী, আশরাফ আলী থানভী, মাহমূদুল হাসান দেউবন্দী, আহমাদ আলী সাহারানপুরী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম সকলে এক বাক্যে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদ‘আত ও গুনাহের কাজ বলেছেন। সেখানে বর্তমান যুগের কিছু লোক মীলাদকে প্রকারান্তরে ফরয (?) প্রমাণ করার জন্য গলদঘর্ম হচ্ছেন। যেমন উক্ত বইয়ে কুরআন থেকে মীলাদের পক্ষে ৮টি ও কিয়ামের পক্ষে ৪টি আয়াত ও আয়াতাংশ পেশ করা হয়েছে। যথাক্রমে মীলাদের পক্ষে ৩/১৬৪, ৩৩/৯, ৯৩/১১, ৯/১২৮, ৯৪/৪, ৬১/৬, ১০/৫৮ এবং কিয়ামের পক্ষে ৪৮/৯, ৯৪/৪, ৩/১৯১, ২/১১৪। এছাড়াও তিনি প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে, (১) ফেরেশতাগণ (২) পূর্বের নবী-রাসূলগণ (৩) আমাদের নবী স্বয়ং (৪) খুলাফায়ে রাশেদীন (৫) ছাহাবায়ে কেরাম এবং (৬) ইমাম ও মুজতাহিদগণ সকলে মীলাদ করেছেন বা তার পক্ষে ফৎওয়া দিয়েছেন।

বস্ত্ততঃ এগুলি সবই কুরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা বৈ কিছুই নয়। রাসূল (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনীই বড় প্রমাণ যে, সেযুগে মীলাদ-কিয়ামের কোন অস্তিত্ব ছিল না। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীগণের সময়ে যে সব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত ছিল না, বর্তমান কালেও তা ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি ধর্মের নামে ইসলামে কোন নতুন প্রথা চালু করল, অতঃপর তাকে ভাল কাজ বা ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’ বলে রায় দিল, সে ধারণা করে নিল যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) স্বীয় রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন’ (আল-ইনছাফ, পৃঃ ৩২)।  

প্রশ্ন (৩০/১৯০) : রামাযান মাসে ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে তার কাফফারা কি? রামাযানের বাইরে ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলেও কি কাফফারা ওয়াজিব? মিসকীনকে খাদ্য দানের পদ্ধতি জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আব্দুল্লাহ

রূপগঞ্জ, কাঞ্চন, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত ছিয়াম কাযা আদায় করতে হবে এবং কাফফারা দিতে হবে। তা হ’ল, ১- একজন দাস মুক্ত করবে। এতে তার সামর্থ্য না থাকলে ২- দু’মাস একটানা ছিয়াম পালন করবে। তাতেও সক্ষম না হলে ৩- ষাটজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য দান করবে। (বুখারী হা/১৯৩৬; মুসলিম হা/১১১১; মিশকাত হা/২০০৪ ‘ছওম’ অধ্যায়)। রামাযান ব্যতীত অন্য কোন মাসে ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব নয়। কেননা তা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। উপরোক্ত দলীলে শুধুমাত্র রামাযান মাসকে খাছ করা হয়েছে। মিসকীনকে খাদ্য দানের দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। ১- খাদ্য রান্না করে ষাট জন মিসকীনকে এক ওয়াক্ত খাওয়াবে। অথবা ২- প্রত্যেক মিসকীনকে দৈনিক আধা ছা অর্থাৎ সোয়া এক কেজি করে চাউল দান করবে (বুখারী হা/১৮১৬)

প্রশ্ন (৩১/১৯১) : তাওহীদে আসমা ওয়াস ছিফাত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার উপকারিতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুঈনুল হক

হরিহরা, পাকুড়, ভারত।

উত্তর : আল্লাহর একত্ব সম্পর্কে জানার জন্য যে তিন প্রকার তাওহীদ সম্পর্কে জানা আবশ্যক তার মধ্যে তাওহীদে আসমা ওয়াছ ছিফাত অন্যতম। এর অর্থ আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। যার মাধ্যমে মানুষ বিবিধ কল্যাণ লাভ করতে পারে। যেমন- ১-মানুষ যখন আল্লাহ্কে ‘রাযযাক’ বা একমাত্র রিযিকদাতা বলে বিশ্বাস করে, তখন সে রুযী নিয়ে চিন্তিত হয় না। ২- মানুষ যখন জানবে যে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোন শরীক নেই। তখন মানুষ শিরকমুক্তভাবে ইবাদত করবে। ৩- মানুষ যখন জানবে যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তখন স্বাভাবিকভাবেই আল্লাহর প্রতি তার ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে। ৪- মানুষ যখন জানবে যে, আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তখন সে কোন অন্যায় কাজ করতে ভয় পাবে। ৫- মানুষ যখন জানবে যে, আল্লাহ হায়াত ও মঊতের মালিক, তিনি সন্তানদাতা এবং রোগ ও আরোগ্যদাতা, তখন সে এসব নিয়ে কোনরূপ দুশ্চিন্তায় ভুগবে না। এভাবে মানুষ যখন আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে জানবে তখন সে বুঝতে পারবে যে, তার জন্য এসব কিছু শোভা পায় না। মনে রাখা অবশ্যক যে, অধিকাংশ বাতিল ফেরকারই জন্ম হয়েছে এই তাওহীদ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে। একই বিভ্রান্তির শিকার হয়ে অনেক তাফসীরবিদ তাদের তাফসীর গ্রন্থসমূহে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে অবমাননাকর ও ঈমানবিধ্বংসী আকীদাসমূহ প্রচার করেছেন।

প্রশ্ন (৩২/১৯২) : বর্তমানে অধিকাংশ বক্তা ওয়াযকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত হয়েছেন। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত?

-মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ

রাজপাট, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।

উত্তর : ওয়াযকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।   রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আলেমগণ নবীদের ওয়ারিছ (আবুদাঊদ হা/৩৬৪১, ইবনু মাজাহ হা/২২৩)। ওয়াযের উদ্দেশ্য হবে দ্বীনের দাওয়াত মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়া। কোন নবীই এলাহী দাওয়াতের বিপরীতে মানুষের নিকট থেকে কোন বিনিময় গ্রহণ করেননি। বরং তারা সকলেই বলেছেন আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল বিশ্বপালকের কাছেই রয়েছে’ (শো‘আরা ২৬/১০৯; সাবা ৩৪/৪৭; যুমার ৩৯/৮৬) অতএব প্রত্যেক আলেমের কর্তব্য হ’ল সাধ্যমত মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে আল্লাহর পথে আহবান করা এবং উপার্জনের জন্য ভিন্ন কোন বৈধ পথ তালাশ করা।

এক্ষণে যদি কোন আলেম কেবল দাওয়াতের জন্য নিযুক্ত হন, তাহ’লে তার বিনিময়ে পারিতোষিক গ্রহণ করা শরী‘আতসম্মত হবে। যেমন অন্য সকল কাজে নিযুক্তির বেলায় হয়ে থাকে। নিজের এলাকা ব্যতীত অন্য এলাকায় দাওয়াতের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। তাঁর জন্য ভদ্রোচিত যাতায়াত খরচ এবং সম্মানী গ্রহণ করা জায়েয। তবে এ ব্যাপারে তাক্বওয়া, পরহেযগারিতা এবং উন্নত মর্যাদাবোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনরূপ ব্যবসায়িক মনোভাব দেখা দিলে নেকী থেকে বঞ্চিত হ’তে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যাকে আমরা কোন কাজে নিযুক্ত করি, তার রিযিকের ব্যবস্থাও করে থাকি। তার বাইরে নিলে সেটা খেয়ানতে পরিণত হবে (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৪৮)

প্রশ্ন (৩৩/১৯৩) :সন্তানের নাম রাখার ব্যাপারে শরী‘আতের কোন দিক-নির্দেশনা আছে কি? আমার ‘বিপ্লব’ নামের ব্যাপারে কোন পরামর্শ আছে কি?

-কামরুল ইসলাম বিপ্লব

মালে, মালদ্বীপ।

উত্তর : সন্তানদের সুন্দর নাম রাখার ব্যাপারে শরী‘আতে দিক নির্দেশনা আছে। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় নাম হলো আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান (বুখারী হা/৪৯৪৯)। রাসূল (ছাঃ) মন্দ নাম পরিবর্তন করে দিতেন (তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৭৭৪; ছহীহাহ হা/২০৭-৯)। অমুসলিমদের সাথে সামঞ্জস্যশীল ও শিরক-বিদ‘আতযুক্ত নাম বা ডাকনাম রাখা যাবে না। তাছাড়া অনারবদের জন্য আরবী ভাষায় নাম রাখা উচিৎ। কেননা অনারব দেশে এটাই মুসলিম ও অমুসলিমের নামের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। আজকাল এ পার্থক্য ঘুচিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তাই নাম রাখার আগে সচেতন ও যোগ্য আলেমের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। আপনার ‘বিপ্লব’ নামটি বাংলা নাম। এতে আপনার ধর্মীয় পরিচয় নেই বিধায় পরিবর্তনযোগ্য (বিস্তারিত দ্রঃ মাসায়েলে কুরবানী ও আকীকা’ বই)

প্রশ্ন (৩৪/১৯৪) :ফজর, মাগরিব এবং এশার ক্বাযা ছালাত অন্য সময় পড়লে সেখানে ক্বিরাআত সরবে না নিরবে পড়তে হবে। ক্বাযা ছালাতের এক্বামত দিতে হবে কি?

-আলী হাসান

বড়ইকান্দী, সারিয়াকান্দী, বগুড়া।

উত্তর : জেহরী ছালাতের ক্বাযা আদায়ের সময় জামা‘আতবদ্ধভাবে হ’লে সরবে এবং একাকী হলে নিরবে পড়াই উত্তম। এ সময় ইক্বামত দিতে হবে (মুসলিম হা/৬৮০, আবুদাউদ হা/৪৩৫)।     

প্রশ্ন (৩৫/১৯৫) :বর্তমানে অনেক মসজিদে সতর্কতার জন্য ফজরের আযান ছুবহে ছাদিকের পূর্বে দেওয়া হয়। এরূপ করা জায়েয হবে কি? উক্ত আযানে ছালাত আদায় করা শুদ্ধ হবে কি?

-আলমগীর, বাড্ডা, টাংগাইল।

উত্তর : শরী‘আত নির্ধারিত সময়ের পূর্বে আযান দিলে তা ছালাতের আযান বলে গৃহীত হবে না; বরং ছালাতের সময় হ’লে পুনরায় আযান দিতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই ছালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরয করা হয়েছে’ (নিসা ১০৩)। তবে পুনরায় আযান না দিয়ে ছালাত আদায় করলেও তা শুদ্ধ হবে। কিন্তু আযান যেহেতু ফরযে কেফায়াহ, সেহেতু তা অনাদায় থেকে যাওয়ার গোনাহ উক্ত মসজিদের মুছল্লীদের সকলের উপরে বর্তাবে (আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাবরীন, আহকামুল আযান, পৃঃ ১৭-১৮)। উল্লেখ্য যে, ওয়াক্তের পূর্বে আযান দেওয়া যাবে না, এ মর্মে সকল বিদ্বান একমত। তবে ফজরের আযান ওয়াক্তের পূর্বে দেওয়া যাবে বলে ইমাম মালেক, শাফেঈ, আহমাদ, আবু ইউসুফ প্রমুখ বিদ্বানগণ মত প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ ফজরের পূর্বে আযান দিলে ওয়াক্ত হওয়ার পরে তা পুনরায় দিতে হবে না। বরং ওয়াক্তের পূর্বে দেওয়া আযানই যথেষ্ট হবে। তাঁদের দলীল হ’ল বেলাল (রাঃ)-এর সাহারী ও তাহাজ্জুদের আযান এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রাঃ)-এর ফজরের আযান দেওয়া প্রসঙ্গে বুখারী, নাসাঈ প্রভৃতিতে বর্ণিত হাদীছ। যেখানে বলা হয়েছে, উভয় আযানের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। একজন নামতেন, অন্যজন উঠতেন (মুসলিম হা/১০৯২; মির‘আত ২/৩৮০)। ইমাম নববী বলেন, ‘বিদ্বানগণ এর অর্থ করেছেন এই মর্মে যে, বেলাল ছুবহে ছাদিক-এর পূর্বেই আযান দিতেন। অতঃপর ফজর উদিত হওয়ার পর মিনার থেকে অবতরণ করে আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূমকে জাগাতেন। অতঃপর ইবনে উম্মে মাকতূম পেশাব-পায়খানা, ওযূ-গোসল সেরে এসে ফজরের ওয়াক্তের শুরুতেই আযান দিতেন’ (তানক্বীহ শরহ মিশকাত ১/১৩০ পৃঃ, ‘ছালাত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৬ হা/৬৮০-এর ব্যাখ্যা)। ছাহেবে মির‘আত বলেন ফজরের আযান ওয়াক্তের সামান্য পূর্বে (بِزَمَانٍ يَسِيْرٍ) দেওয়া যেতে পারে এবং তা পুনরায় দেওয়া ওয়াজিব নয়’ (মির‘আত ২/৩৮২)। তবে এ বিষয়ে আবুদাঊদে বর্ণিত হাদীছই যথেষ্ট বলে অনুমিত হয়। যেখানে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বেলালকে নির্দেশ দেন যে, لاَ تُؤَذِّنْ حَتَّى يَسْتَبِينَ لَكَ الْفَجْرُ هَكَذَا، وَمَدَّ يَدَيْهِ عَرْضًا ‘তুমি আযান দিয়ো না যতক্ষণ না তোমার নিকটে ফজর স্পষ্ট হয়ে যায়। এ বলে তিনি স্বীয় দুই হাত বিস্তৃত করে দেখালেন’ (ছহীহ আবুদাঊদ হা/৫০০; নায়লুল আওত্বার ২/১১৮ পৃঃ)। অতএব ফজরসহ সকল ছালাতের ওয়াক্তের পরেই আযান দেওয়া কর্তব্য, পূর্বে নয়।

প্রশ্ন (৩৬/১৯৬) :কোন ব্যক্তি বিবাহের পর সহবাসের পূর্বে মারা গেলে উক্ত স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে কি?

-নযরুল ইসলাম

পাইকপাড়া, কুষ্টিয়া।

উত্তর : উক্ত স্ত্রীকে শোক পালনের জন্য শরী‘আত নির্ধারিত সময় ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে (বাক্বারাহ ২৩৪)। তা সহবাসের পূর্বে বা পরে হউক তাতে কোন পার্থক্য নেই (বুখারী ৮০৩ পৃঃ)। উক্ত স্ত্রী তার মোহর পাবে এবং স্বামীর সম্পদের ওয়ারিছ হবে। কারণ স্বামী-স্ত্রীর কোন একজন মারা গেলে বিবাহের সম্পর্ক ছিন্ন হয়না যতক্ষণ না সেই স্ত্রী ইদ্দত পালনের পর অন্যত্র বিবাহিতা হয় (মাজমু‘আ ফাতাওয়া, শেখ ছালেহ আল-ফাওযান ২/৬২৮) তবে সহবাসের পূর্বে স্বামী তালাক দিলে সেই স্ত্রীর জন্য কোন ইদ্দত নেই (আহযাব ৪৯)

প্রশ্ন (৩৭/১৯৭) :হাত উঁচু করে ইশারার মাধ্যমে সালাম দেওয়া বা নেওয়া যাবে কি?

-নো‘মান, পোরশা, নওগাঁ।

উত্তর : স্বাভাবিক অবস্থায় হাত উঁচু করে ইশারায় সালাম দেয়া যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা ইহুদী-নাছারাদের ন্যায় সালাম বিনিময় করো না। তারা হাত, মাথা এবং ইশারার মাধ্যমে সালাম বিনিময় করে থাকে (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, ছহীহাহ হা/১৭৮৩)।  তবে দূরবর্তিতার কারণে অথবা কেউ বধির হলে সেক্ষেত্রে মুখে সালামের শব্দগুলি উচ্চারণপূর্বক হাত দ্বারা ইশারার মাধ্যমে সালাম বিনিময় করা যাবে (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০৪৭, আলবানী, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (৩৮/১৯৮) :জনৈক ব্যক্তি বললেন, সম্পদ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ছালাত ও দো‘আ রয়েছে। উক্ত ছালাত ও দো‘আ সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুহাম্মাদ আব্দুছ ছাদেক

সোনাপুর, বাংলা হিলি, জয়পুরহাট।

উত্তর :  কেবল সম্পদ বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং যে কোন বৈধ হাজত পূরণের জন্য দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করা মুস্তাহাব (ইবনু মাজাহ হা/১৩৮৫)। এক্ষেত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর সালাম ফিরানোর পূর্বে প্রয়োজনীয় বিষয়টির কথা নিয়তের মধ্যে এনে নিম্নোক্ত সারগর্ভ দো‘আটি পাঠ করবেন-اَللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ- ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে মঙ্গল দিন ও আখেরাতে মঙ্গল দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হ’তে রক্ষা করুন’।

প্রশ্ন (৩৯/১৯৯) : আমি কিছু টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করতে চাচ্ছি এই মর্মে যে, উক্ত ব্যাংক ও একটি মাদরাসার মধ্যে চুক্তি হবে যে, উক্ত অর্থের বার্ষিক লভ্যাংশ মাদ্রাসার শ্রেষ্ঠ ছাত্রকে স্কলারশীপ হিসাবে দেওয়া হবে। এভাবে আমার মৃত্যুর পরও উক্ত অর্থ দিয়ে স্কলারশীপ প্রদান চলমান থাকবে। এক্ষণে বিষয়টি শরী‘আত সম্মত হবে কি?

-শারমিন সুলতানা

ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর : বর্তমানে প্রচলিত কোন ব্যাংকই ১০০% সূদমুক্ত নয়। তাই এরূপ না করে বরং মূল অর্থ থেকে স্কলারশীপ প্রদান করতে হবে। কারণ সূদী কর্মকান্ডে সাহায্য করার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট নেকীর বদলে গুনাহ অর্জিত হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্ত্ত ব্যতীত কবুল করেন না (মুসলিম হা/ ১০১৫, মিশকাত হা/২৭৬০)

প্রশ্ন (৪০/২০০) : সম্প্রতি ‘যুগে যুগে শয়তানের হামলা’ নামে সশস্ত্র জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে বাজারে বই ছাড়া হয়েছে। সেখানে আপনাদের প্রকাশিত কিছু বই যেখানে মুসলিম সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদের বিপক্ষে বক্তব্য রয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করে আপনাদেরকে এ যুগের শয়তান, ইহুদীদের এজেন্ট ইত্যাদি বলা হয়েছে। অমনিভাবে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে জনৈক তরুণ মুফতীর গরম গরম বক্তৃতায় ও লেখনীতে উৎসাহিত হয়ে অনেক আহলেহাদীছ ছেলে ঐ দলে ভিড়ে যাচ্ছে। তারা বলছে আপনারা ছহীহ হাদীছ মানেন ঠিক আছে, কিন্তু ইসলাম বিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন না। অনেকে বলছে, আপনাদের আক্বীদা ভাল, কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের জন্য আপনাদের কোন পদক্ষেপ নেই। এ বিষয়ে আপনাদের জবাব কি?

-নাজমুল হাসান, লালবাগ, ঢাকা।

উত্তর : ভুয়া নাম ও ঠিকানা সম্বলিত সুদৃশ্য মলাটে মোড়ানো ২২৪ পৃষ্ঠার উক্ত বইটি সম্প্রতি আমাদের কাছে এসেছে। পুরো বইটিতে যে প্রচণ্ড হিংসা ও বিদ্বেষের বিষ ছড়ানো হয়েছে, তাতে পরিচয়হীন এই লেখকের অসৎ উদ্দেশ্য পরিষ্কার। যদিও তার লেখনীর মধ্যেই তার দাবীর বিরুদ্ধে জওয়াব বিদ্যমান। যেমন তিনি সূরা তওবা ৫ আয়াত দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন যে, ভূপৃষ্ঠের যেখানে মুশরিকদের পাও, তাদেরকে বধ কর, পাকড়াও কর’ হারাম শরীফ ব্যতীত’ (পৃঃ ৯২)। অতঃপর তিনি হাদীছ পেশ করে বলেছেন, রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি আদিষ্ট হয়েছি গোটা মানব সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই...’। তিনি যেহেতু শেষনবী, অতএব এই নির্দেশ কিয়ামত পর্যন্ত চলবে’। এরপর তিনি উপসংহার টেনে বলেছেন, আমরা উপরের কয়েকটি আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে প্রথমে মক্কায় ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর মদীনায় হিজরতের পর জিহাদ ও ক্বিতাল ফরয করে দেন। এই ফরয আদায়ের জন্য তিনি ও সাহাবাগণ আমরণ জিহাদে লিপ্ত ছিলেন। এই জিহাদের মাধ্যমেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয় (পৃঃ ৯৪)। অর্থাৎ লেখকের দাবী মতে, এখন দেশের যেখানেই অমুসলিম পাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করবে এবং এখুনি সেটা করতে হবে। আমরা যেহেতু সেটা করছি না, সেহেতু আমরা ‘শয়তান’ এবং ‘ইহুদীদের এজেন্ট’। বস্তুতঃ সংস্কারমুখী আন্দোলনের কারণে ১৯৮০ সাল থেকেই আমাদের নেতৃবৃন্দ ঘরে-বাইরে এরূপ গালি খেয়ে আসছেন। যেহেতু আমরা এগুলি নই, তাই হাদীছ অনুযায়ী এগুলি অপবাদ দানকারীদের উপরেই বর্তাবে (মুসলিম হা/৬০)। শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (রহঃ)-এর ভাষায় ‘এসবই আহলেহাদীছ-এর বিরুদ্ধে বিদ‘আতীদের ক্রোধাগ্নি ও হঠকারিতার বহিঃপ্রকাশ ব্যতীত কিছুই নয়’ (কিতাবুল গুনিয়াহ ১/৯০)।

উল্লেখ্য যে, উক্ত হাদীছে ‘উক্বাতিলা’ (পরস্পরে যুদ্ধ করা) বলা হয়েছে, ‘আক্বতুলা’ (হত্যা করা) বলা হয়নি। ‘যুদ্ধ’ দু’পক্ষে হয়। কিন্তু ‘হত্যা’ এক পক্ষ থেকে হয়। যেটা বোমাবাজির মাধ্যমে ক্বিতালপন্থীরা করতে চাচ্ছে। অত্র হাদীছে বুঝানো হয়েছে যে, কাফির-মুশরিকরা যুদ্ধ করতে এলে তোমরাও যুদ্ধ করবে। কিংবা তাদের মধ্যকার যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করবে। কিন্তু নিরস্ত্র, নিরপরাধ বা দুর্বলদের বিরুদ্ধে নয়। কাফির পেলেই তাকে হত্যা করবে সেটাও নয়। তাছাড়া উক্ত হাদীছে ‘যারা কালেমার স্বীকৃতি দেবে, তাদের জান-মাল নিরাপদ থাকবে ইসলামের হক ব্যতীত এবং তাদের বিচারের ভার আল্লাহর উপর রইল’ বলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, আমাদের দায়িত্ব মানুষের বাহ্যিক আমল দেখা। কারু অন্তর ফেড়ে দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। অতএব সরকার যদি বাহ্যিকভাবে মুসলিম হয় এবং ইসলামী দাওয়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়, তাহ’লে তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদের সুযোগ কোথায়?

আমরা বলি, লেখক যদি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদের দাবীতে সত্য হন, তাহ’লে তিনি নিজে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জিহাদ ও ক্বিতালে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন না কেন? তার বীরত্ব দেখে অন্যেরাও ঝাঁপিয়ে পড়ত। সরকারও গদি ছেড়ে পালাতো। তিনিও সহজে ক্ষমতা দখল করে দ্বীন কায়েম করতে পারতেন! কেবল বইয়ের পাতা ও ইন্টারনেট গরম করে কি জিহাদ হয়? মূলতঃ জিহাদের নামে এই সকল অতি উৎসাহী মুফতীরা যে অর্থহীন হম্বি-তম্বি করে থাকেন, তার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। এই শ্রেণীর বায়বীয় আবেগপ্রবণ ব্যক্তিদের কাজে লাগিয়ে মুসলিম দেশগুলিতে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করছে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী চক্র ও তাদের দোসররা। উল্লেখ্য যে, ২০০৫ সালের ফেব্র“য়ারীতে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের পূর্বে আমাদের প্রকাশিত ‘দাওয়াত ও জিহাদ’ বইয়ের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে ভুয়া নাম-ঠিকানাধারী জনৈক লেখক সশস্ত্র জিহাদ ও ক্বিতালের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়ে বই লিখে আমাদের মারকাযে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমান তৎপরতা তারই ধারাবাহিকতা হওয়াটা বিচিত্র নয়।

জেনে রাখা উচিৎ যে, মানুষ হত্যা করা ইসলামের মিশন নয়। কোন নবী মানবহত্যার দায়িত্ব নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হননি। আল্লাহ প্রেরিত ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের প্রতিরোধের মাধ্যমে মানবজাতিকে দুনিয়াবী কল্যাণের পথ দেখানো ও পারলৌকিক মুক্তির পথ প্রদর্শনই ছিল তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তারা অত্যাচারী কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন মূলতঃ আত্মরক্ষার জন্য এবং অন্যায়কে প্রতিরোধের জন্য। মুশরিকদের হত্যা করাই যদি আল্লাহর নির্দেশ হ’ত, তাহ’লে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) কেন মদীনায় গিয়ে ইহুদীদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করলেন? কেন ইহুদী বালককে তাঁর বাড়ীতে গোলাম হিসাবে রাখলেন? এমনকি মৃত্যুকালেও খাদ্যের বিনিময়ে জনৈক ইহুদীর কাছে তাঁর বর্মটি বন্ধক ছিল। বস্তুতঃ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী ব্যতীত অন্য কারু প্রতি অস্ত্র ধারণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনাদর্শই বাস্তব প্রমাণ হিসাবে যথেষ্ট। অতএব জিহাদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ না করেই যারা চটকদার কথা বলে জিহাদের নামে জঙ্গীবাদকে উসকে দিচ্ছে, তারা ইসলামের বন্ধু তো নয়ই, বরং ইসলামের শত্র“ এবং খারেজী চরমপন্থীদের দলভুক্ত। যাদের ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) বহুপূর্বেই মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করে গিয়েছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৮৯৪; মিশকাত (বঙ্গানুবাদ) হা/৫৬৪২)।

২য় প্রশ্নের জবাব এই যে, রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ মোতাবেকই আমরা কোন মুসলিম সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ সমর্থন করি না (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭১; মিশকাত (বঙ্গানুবাদ) ৭/২৩৩ পৃঃ, বিস্তারিত দ্রঃ ‘ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি’ বই)। ৩য় প্রশ্নের জবাব এই যে, নবীদের হেদায়াত অনুযায়ী মানুষের আক্বীদা ও আমল সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের সার্বিক সংস্কার সাধনই আহলেহাদীছ আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য। সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বনিু পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সর্বত্র ইসলামী আইন ও বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য এ আন্দোলন সংঘবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর ইচ্ছা হ’লে এর মাধ্যমেই একদিন ‘খেলাফাত আলা মিনহাজিন নবুওয়াত’ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। বড় কথা হ’ল অমুসলিম বা কপট মুসলিম সবাইকে যদি হত্যাই করে ফেলা হয়, তাহ’লে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে কোথায়? আমাদের রাসূল (ছাঃ) এসেছিলেন জগদ্বাসীর জন্য রহমত হিসাবে (আম্বিয়া ১০৭)। তিনি মানুষ হত্যার মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করেননি; বরং কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে মানুষের আক্বীদা ও আমল সংশোধন ও পরিশুদ্ধ করেছেন (জুম‘আ ২)। আর তাদের হাতে গড়া সেই সোনার মানুষগুলোর মাধ্যমেই ইসলামের চূড়ান্ত সামাজিক বিপ্লব সাধিত হয়েছিল। আমরাও সে লক্ষ্যে সাধ্যমত আন্দোলন পরিচালনা করে যাচ্ছি।

জানা আবশ্যক যে, কেবল ‘রাফঊল ইয়াদায়েন’ করলেই তাকে ‘আহলেহাদীছ’ বলা হয় না। বরং ছহীহ আক্বীদা ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক আমলের মাধ্যমেই প্রকৃত ‘আহলেহাদীছ’ হওয়া যায়। অতএব আহলেহাদীছ তরুণরা সাবধান!

***